ফুলতলায় বাল্য বিয়ে বন্ধ করলেও ইউএনও’র মানবিকতায় এলাকাবাসি মুগ্ধ!

তাপস কুমার বিশ্বাস, ডেক্স রিপোর্টঃ সোমবার বেলা ১টায় ফুলতলার ছাতিয়ানী দিঘিরবাজার এলাকায় মোঃ জাকির মোল্যার বাড়িকে ঘিরে চলছে আনন্দ উৎসব ও রংয়ের ছড়াছড়ি। তার কলেজ পড়ূয়া মেয়ে জাকিয়া খাতুন (১৭) এর গায়ে হলুদের ছোঁয়া সম্পন্ন। নিকটাত্মীয় ও এলাকবাসির ভুড়ি ভোজের আয়োজনও ছিল পর্যাপ্ত। সবাই বর পক্ষের প্রতিক্ষায়, বিপত্তি ঠিক তখনই। কনের বিয়ের বয়স পূর্ণ হয়নি অর্থাৎ বাল্য বিয়ে হচ্ছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে ইউএনও সাদিয়া আফরিন হাজির। কিশোরী কন্যা জাকিয়া খাতুন পার্শ্ববর্তী জামিরা বাজার আসমোতিয়া স্কুল এন্ড কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী। রেজিষ্টেশন অনুযায়ী তার জন্ম তারিখ ১০ নভেম্বর ২০০৩ইং অর্থাৎ প্রায় ১৭ বছর। অপর দিকে বর মোঃ তরিকুল ইসলাম বিএল কলেজের অনার্স পড়ুয়া ছাত্র। তার বাড়ি খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার আড়ুয়া গ্রামে।

একদিকে আত্মীয় স্বজন রান্না বান্না কনের গায়ে হলুদসহ বিয়ের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন। অন্যদিকে বাল্য বিবাহ নিরোধ আইনানুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। চৌকস ও মানবিক ইউএনও সাদিয়া আফরিন এর নির্দেশে বাল্য বিয়ে বন্ধ হয়। ১৮ বছরের পূর্বে তাকে বিয়ে দেয়া হবে না এবং বয়স পূর্তির সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট ছেলে তরিকুল ইসলামের সাথেই তার বিয়ে হবে এমন অঙ্গিকার নামায় স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়। এ সময় উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফারহানা ইয়াসমিন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মাওঃ সাইফুল ইসলাম, বি এম শাহাদাৎ হোসেন, ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম, মোঃ আফছার আলীসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এত আয়োজনের মধ্যেও বিয়ে সম্পন্ন হয়নি বটে তবে ইউএনও সাদিয়া আফরিনের মানবিকতায় কনের পিতা জাকির মোল্যাসহ এলাকাবাসি মুগ্ধ।

চট্টগ্রাম ডিএনসি’র অভিযানে ইয়াবাসহ আটক ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মাদক বিরোধী পৃথক অভিযান চালিয়ে ১০ হাজার পিস ইয়াবা সহ ৪জনকে আটক করেছেন। আটককৃতরা হচ্ছে মোঃ সরোয়ার (২৮), মোঃ আবছার উদ্দিন(২৪), মোঃ করিম(২৭) এবং মোঃ কায়সার (২০)। সোমবার (৯ নভেম্বর) বিকেল থেকে চট্টগ্রামে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করেন।
চট্টগ্রাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সূত্র মতে, সোমবার বিকেল ৫টায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মেট্রো কার্যালয়ের উপ পরিচালক মোঃ রাশেদুজ্জামান এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে পাহাড়তলী সার্কেল পরিদর্শক এ এস এম মঈন উদ্দিন ও ডবলমুরিং সার্কেল পরিদর্শক লোকাশীষ চাকমা এর নেতৃত্বে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শাহ আমানত সেতুর সংযোগ সড়ক ও কোতোয়ালি থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় মৃত ইজ্জত আলীর পুত্র মোঃ সরোয়ার এবং দানু মিয়ার পুত্র মোঃ আবছার উদ্দিনকে ৯ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে পাহাড়তলী সার্কেল উপ পরিদর্শক মোঃ জাহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ অনুযায়ী একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন। অপর অভিযানে আব্দুর নবীর পুত্র মোঃ করিম এবং মো: ছাবেরর পুত্র মোঃ কায়সারকে ১,০০০(এক হাজার) পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করেন। ডবলমুরিং সার্কেল পরিদর্শক লোকাশীষ চাকমা বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।

চট্টগ্রাম ডিএনসি’র অভিযানে ইয়াবাসহ আটক ১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মাদক বিরোধী পৃথক অভিযান চালিয়ে ২ হাজার পিস ইয়াবাসহ মোট ১৮ জনকে আটক করেছেন। এদের মধ্যে ১৭ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও অর্থদন্ড করা হয়। সোমবার (৯ নভেম্বর) চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন জায়গায় দিনব্যাপী অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করেন। ভ্রম্যমান আদালত পরিচালনা করেন বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রট মারজান হোসাইন।
চট্টগ্রাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সূত্র মতে, সোমবার সকাল ১০টার দিকে চট্টগ্রাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর মেট্রো কার্যালয়ের উপ পরিচালক মোঃ রাশেদুজ্জামান এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে সহকারী পরিচালক মোঃ এমদাদুল হক এর সমন্বয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারজান হোসাইন এর নেতৃত্বে চট্টগ্রাম মেট্রো কার্যালয়ের সকল সার্কেলর সমন্বয়ে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১৭ জন মাদক ব্যবসায়ী ও সেবন কারীকে গ্রেফতার করে। বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রট মারজান হোসাইন ধৃত আসামীদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড ও অর্থ দন্ড প্রদান করেন।
অপর দিকে পাহাড়তলী সার্কেল পরিদর্শক এ এস এম মঈন উদ্দিন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সকালে কোতয়ালী থানাধীন নুর আহম্মেদ সড়কে টাইলস সেনেটারী মার্কেটের সামনে অভিযান পরিচালনা করে ফরিদ আহমেদ এর পুত্র নুরুল আলম (২৭) কে ২ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে কোতোয়ালি থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ অনুযায়ী একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।

মোংলায় তেল ব্যবসায়ীকে হত্যার চেষ্টা ও নারীর শ্লীলতাহানী

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি : মোংলা পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো: মাহবুবুর রহমান মানিকের নেতৃত্বে আঁখি সিনেমা হল সংলগ্ন একটি বাড়ীতে ঢুকে এক নারীকে মারধর, শ্লীলতাহানীর চেষ্টা ও সোনা গহনাসহ বিভিন্ন মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে। ওই নারীকে রক্ষায় এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীদেও বেদম মারপিটের আঘাতে গুরুতর আহত হন তার নিকট আত্মীয় বাজারের তেল ব্যবসায়ী শহিদুল গাজী। এ ঘটনায় মোংলা থানায় এজাহারের জন্য অভিযোগ দেয়ার দুইদিন পরও মামলা গ্রহণ না করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।
এজাহারভুক্ত করার জন্য থানায় দাখিলকৃত অভিযোগ ও সন্ত্রাসী হামলায় আহত শহিদুল গাজীর স্ত্রী মুক্তা বেগম জানান, গত ৭ নভেম্বর পৌর শহরের আঁখি সিনেমা হল সংলগ্ন তার ভগ্নিপতির পৈত্রিক বাড়িতে অবস্থান করছিলেন তার অপর দুইবোন শিরিন আক্তার ও নাজমা বেগম। ওইদিন দুপুর দুইটার দিকে পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক ও তার সহযোগীরা মিলে তাদের ঘরে জোরপূর্বক প্রবেশ করে। এ সময় তারা শিরিন ও নাজমার শ্লীলতাহানীর চেষ্টা চালায়। জোরপূর্বক তাদের গলায় থাকা সোনা গহনা ও ঘরের মুল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। মুক্তা বেগম বলেন, তার দুই বোনের ডাক-চিৎকার শুনে সেখানে ছুটে যান তার স্বামী শহিদুল গাজী। এরপর সন্ত্রাসীরা তার স্বামী ও তার দুইবোনকে দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র দিয়ে বেদড়ক মারপিট কওে তাদের মাথা পাঠিয়ে দেয় এবং শরিরের বিভিন্ন অংশে মারাত্মক জখম করেন। পরে স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ সরোয়ার হোসেন, মোঃ ইউছুব, রিনা বেগম ও গোলাম রব্বানী তাদেরকে সন্ত্রাসীদের কবল থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।
মোংলা পৌর শহরের ৫ নং ওয়ার্ডের বিএলএস সড়কের বাসিন্দা মরহুম আঃ সালাম ফকিরের একটি সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে কয়েক মাস যাবৎ। আঃ সালামের দুই স্ত্রী, ৫ ছেলে ও এক মেয়ে ওই জায়গাটি দীর্ঘদিন সমহারে ভোগদখল করে আসছিলেন। তবে ওই সম্পত্তিটি মরহুম সালামের এক স্ত্রী এককভাবে দাবী করায় তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। ওই সম্পত্তি মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ থেকে বরাদ্দ নিয়ে ছিলেন মরহুম আঃ সালাম। আর ওই বিরোধকে পুজি করে বিএনপি নেতা মানিক চুক্তির মাধ্যমে সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে সেখানে লুটপাট, হামলা আর শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করে। এমন ঘটনায় ৭ নভেম্বর রাতে মোংলা থানায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করে এজাহার করতে একটি অভিযোগ দাখিল করেন সন্ত্রাসী হামলায় আহত শহিদুলের স্ত্রী মুক্তা বেগম। কিন্তু দুইদিন পরও মামলা না নেয়ার অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে মাহবুবুর রহমান মানিক বলেন, ওই ঘটনার সাথে তার কোন সম্পৃক্ততা নেই। তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার বলে দাবী করেন।
এর আগে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে মোংলা বন্দরে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগ উঠে মাহবুবুর রহমান মানিকের বিরুদ্ধে। তখন এ নিয়ে একটি মামলাও হয় তার বিরুদ্ধে। কিন্তু ওই সময় পুলিশ তাকে আটক না করে জামিন নেয়ার সুযোগ করে দেয়ার অভিযোগও রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে মোংলা থানার অফিসার ইনচার্জের মুঠোফোনে ফোন দিলে অপর প্রান্তে ফোনটি রিসিভ করেন থানার সেকেন্ড অফিসার মোঃ জাহাঙ্গাীর আলম। তিনি বলেন, তারা অভিযোগ পেয়েছেন। দুই পক্ষকে নিতেয় একটি সমঝোতার চেষ্টা করছেন।
এদিকে হামলা ও নারীর শ্লীলতাহানীর চেষ্টার ঘটনায় মামলা না নেয়া আর পুলিশের কর্মকার্ন্ড নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

পৌর নির্বাচন কে সমনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন আ’লীগের মেয়র প্রার্থীরা

মোঃ আসাদুল ইসলাম, পাইকগাছা : পাইকগাছায় উপজেলা পরিষদ উপ-নির্বাচনের (চেয়ারম্যান পদ) রেশ কাঁটতে না কাঁটতেই পাইকগাছা পৌরসভার নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন মেয়র পদপ্রার্থীরা। চলছে লবিং গ্রুপিং। কেন্দ্র থেকে শুরু করে জেলা নেতাদের কাছে ধর্না দিচ্ছেন এসব নেতারা।

সব ঠিক থাকলে আগামি ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে পাইকগাছা পৌরসভার নির্বাচন।সে অনুযায়ী চলতি মাসের যে কোন দিন হতে পারে নির্বাচনী তফসিল। নির্বাচনে দলীয় প্রতিক পেতে নেতাদের ব্যস্ততা বেড়েছে বহুগুন। কেউ কেউ ছুটে চলছে এক নেতা থেকে অন্য নেতার দ্বারে দ্বারে। আবার এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে স্বদলবলে জোগ দিয়ে নিজের অবস্থান জানান দিতে দেখা যাচ্ছে।

আওয়ামীলীগের তিন নেতাকে দেখা যাচ্ছে মনোনয়ন দৌড়ে। কে পাবেন সেই সোনার হরিণ নামক দলীয় প্রতিক “নৌকা”। চলছে জল্পনাকল্পনা কার হাতে উঠছে সেই নৌকা। আ’লীগের তিন নেতার মধ্যে আছেন পরপর দু’বারের মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর, অপারদিকে আছেন উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক, জেলা পরিষদ সদস্য,দুবারের সাবেক পৌর কাউন্সিলর শেখ কামরুল হাসান টিপু। এবার কি পারবে দু’ভাইয়ের কেউ মনোনয়ন ছিনিয়ে নিতে। ২০১৫ সালের পৌর নির্বাচনে শেখ কামরুল হাসান টিপু ও শেখ আনিসুর রহমান মুক্ত মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন চাইলেও দল সেলিম জাহাঙ্গীরকে মনোনয় দেন। দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নির্বাচনী মাঠ থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেন দু’সহদর।

দু’বারের পৌর মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর বলেন, আমি আশাবাদী দল আবারো আমাকে মুল্যায়ন করবে। আমি সরকারের পক্ষে দীর্ঘদিন পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়নমুলক কাজ করছি। অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজ শেষ করার সুযোগ পাবো বলে আমি বিশ্বাস করি।

পাইকগাছা পৌর নির্বাচনের বিষয়ে শেখ কামরুল হাসান টিপু বলেন, দলীয় মনোনয়নের বিষয়ে আমি শতভাগ আসাবাদী। দল এবার আমাকে মুল্যায়ন করবে বলে বিশ্বাস করি।

শেখ আনিছুর রহমান মুক্ত বলেন, আমি ১৯৮৮ সাল থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতির মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে দীর্ঘদিন ধরে দল করছি এবং তিনবার ৫ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়। আমি মনে করি দল এবার আমাকে দলীয় প্রতিক নৌকার মনোনয়ন দিয়ে মেয়র পদে নির্বাচন করার সুযোগ দিবে।

কে পাচ্ছেন দলীয় মনোনয়ন? সেই প্রতিক্ষায় প্রহর গুনছে দলীয় নেতা-কর্মিরা।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সমৃদ্ধির বলয় -প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব

চট্টগ্রাম ব্যুরো:প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমেদ কায়কাউস বলেছেন, চট্টগ্রাম শুধুমাত্র বাংলাদেশর অর্থনৈতিক হৃদপিন্ড নয়, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার নবজাগতি ও সমৃদ্ধির সৃষ্টিশীল বলয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই স্বপ্ন ও প্রত্যাশার প্রাপ্তি যোগের বিষয়টি নিজের মেধা, মনন, চিন্তা-চেতনা ও পরিকল্পনা ধারণ করে কর্ণফুলীর তলদেশ দিয়ে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার একমাত্র ট্যানেল নির্মাণ, একাধিক অর্থনৈতিক জোনসহ মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের কর্মযজ্ঞ শুরু করেছেন। কারণ এই চট্টগ্রাম থেকে রিজিওনাল কানেক্টিভিটি কর্মপরিকল্পনা ঘুনধুম হয়ে মিয়ানমার ছুঁয়ে চীনের কুর্মিং সিটি পর্যন্ত আন্তঃদেশিয় সড়ক যোগাযোগ, চট্টগ্রাম বন্দর ও মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর ব্যবহার করে ভারতের পূর্বাঞ্চলের ৭টি রাজ্যসহ নেপাল ও ভূটানের সাথে ট্রানিজিট লিংক, অর্থনৈতিক অঞ্চলে ১২টি দেশের বিনিয়োগ প্রস্তাব প্রধানন্ত্রী শেখ হাসিনার মিশন-বিভশন ২০৪০ পূরণের বাস্তবায়নে সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। তাই চট্টগ্রাম এখন আঞ্চলিকতার গন্ডি পেড়িয়ে আন্তর্জাতিকতার অভিধায় অভিষিক্ত। আজ সকালে ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের কার্যালয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজনের সাথে সাক্ষাতকালে তিনি একথা বলেন। এই সময় খোরশেদ আলম সুজন চট্টগ্রামের সামগ্রিক উন্নয়ন ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সক্ষমতা বৃদ্ধিকল্পে বেপজা, বন্দর ও কাস্টমস্ থেকে বাৎসরিক আয়ের একটি নির্ধারিত অংশ পরিশোধ এবং চসিকের শিক্ষা-স্বাস্থ্যসহ সেবাখাতগুলোর কর্মক্ষমতার পরিধি প্রসারে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে তাঁর দেয়া চাহিদা পত্রে উত্থাপিত দাবীগুলো তুলে ধরেন। ড. কায়কাউস আহমেদ এর সাথে সহমত পোষণ করে বলেন, এই মাটির সন্তান হিসেবে আমি চট্টগ্রামের মানুষের চাওয়া-পাওয়ার কথা বুঝি। এই চাওয়া-পাওয়া পূরণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজের করনীয় দায়িত্ব কাঁদে তুলে নিয়েছেন। তিনি চসিক প্রশাসককে তাঁর চাহিদা পত্র অনুযায়ী দাবী গুলো পূরণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রাখতে সহায়তা করবেন বলে আশ্বাস প্রদান করেন।

এদিকে ঢাকায় আজ চসিক প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন কর্মব্যস্ত দিন অতিবাহিত করেন। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এমপি. স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিষয়ক সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন, স্বাস্থ্য সচিব মোঃ আবদুল মান্নানের সাথ্যে তাদের নিজ নিজ দপ্তরে সাক্ষাত করেন।
স্বরাস্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এমপি’র সাথে স্বাক্ষাতকালে চসিক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন বলেন, চট্টগ্রাম নগরীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই রয়েছে। তবে মাদক, নারী নির্যাতন ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে শতভাগ জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করতে হবে। অপরাধী সনাক্ত করণে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার ও পুরো নগরীকে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার আওতায় আনতে হবে। স্বরাস্ট মন্ত্রী এই বিষয়গুলো বিবেচনা করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিষয়ক সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিনের সাথে সাক্ষাতকালে চসিক প্রশাসক মোহাম্মদ খোশেদ আলম সুজন বলেন, চট্টগ্রামের সন্তান হিসেবে আপনার ভালো ধারণা আছে। চট্টগ্রামে কভিড-১৯ মোকাবেলায় গঠিত তদারকী কমিটির প্রধান সমন্বয়ক হিসিবে আপনার ইতিবাচক ভূমিকায় চট্টগ্রাম নগরবাসী উপকৃত হয়েছে। করোনার দ্বিতীয় ডেউ মোকাবেলায় চসিক প্রস্তুত। স্বাস্থ্য বিধি মানা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে জনসচেতনতা সৃষ্টির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন এব্যাপারে সহযোগিতার আম্বাস দেন এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বন্দর, বেপজা ও কাস্টমস থেকে তাদের আয়ের একটি অংশ দেয়ার ব্যাপারে করণীয় পদক্ষেপ নেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন।
স্বাস্থ্য সচিব মোঃ আবদুল মান্নানের সাথে স্বাক্ষাতকালে চসিক প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেন, আমাদের স্বাস্থ্য খাত দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হলেও বর্তমানে গতি হারিয়েছে। সরকারি ভাবে এই নগরীতে স্বাস্থ্য সেবা অপ্রতুল। ষাট লাখের বেশি নগরবাসীকে স্বাস্থ্যসেবা দিতে যে আর্থিক সক্ষমতা প্রয়োজন তা চসিকের নেই। তাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রণোদনা খুবই প্রয়োজন। এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য সচিব মোঃ আবদুল মান্নান বলেন, চসিক ইপিজেড এলাকয় মাতৃসদন ও হাসপাতাল নির্মাণের জন্য মন্ত্রণালয়ে যে চাহিদা পত্র দিয়েছিল তা বিবেচনায় আজই মন্ত্রণালয়ে সভা হয়েছে এবং সভায় এর অনুকূলে অনুমোদন দেয়া হয়।

চট্টগ্রাম নগরীতে লাইসেন্সবিহীন ওষুধ বিক্রি; ৩ ফার্মেসিকে জরিমানা

চট্টগ্রাম ব্যুরো: নিত্য জরুরি পণ্য ও অত্যাবশকীয় পণ্য হিসেবে মানসম্মত ও সঠিক ঔষধ প্রাপ্তি নিশ্চিতকরণে ধারাবাহিকতার সাথে কাজ করছে জেলা প্রশাসন। তারই ধারাবাহিকতায় আজ লালখান বাজারের চানমারী রোডে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে ৩ টি মামলায় ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন কোম্পানীর ফিজিশিয়ান স্যাম্পল ও বিদেশী অননুমোদিত ঔষধ জব্দ করা হয়। জব্দকৃত স্যাম্পল ও বিদেশী অননুমোদিত ঔষধ বিনষ্ট করা হবে।

আজ রবিবার ০৮ নভেম্বর সকাল ১১ টা হতে দুপুর ১ টা পর্যন্ত লালখান বাজারের চানমারী রোডে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আলী হাসান নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। উক্ত মোবাইল কোর্টে ঔষধ প্রশাসন এর ঔষধ তত্ত্বাবধায়ক মোঃ কামরুল হাসান ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যরা অংশ নেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আলী হাসান জানান, আজকের অভিযানে প্রথমে মেসার্স পপুলার মেডিসিন সেন্টারে গিয়ে দেখা যায়, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে প্রস্তুত ঔষধের প্যাকেটের মধ্যে ফিজিশিয়ান স্যাম্পল রেখে বিক্রি করছে প্রতিষ্ঠানটি। মূলত ঔষধ প্রশাসন কর্তৃক ইস্যুকৃত লাইসেন্সে স্পষ্ট উল্লেখ আছে ফিজিশিয়ান স্যাম্পল বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করা যাবে না। তারা এইভাবে মানুষের সাথে প্রতারণা করছেন। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটি থেকে বিদেশী অননুমোদিত ঔষধ ও বিপুল পরিমানে ফিজিশিয়ান স্যাম্পল জব্দ করা হয়। প্রতিষ্ঠানটিকে ঔষধ আইন অনুযায়ী ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

তিনি জানান, অপরদিকে একই এলাকায় অবস্থিত মাঝুরী মেডিসিন এ গিয়ে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি খুচরা বিক্রির উদ্দেশ্যে লাইসেন্স গ্রহণ করলেও পাইকারী কার্যক্রম অনেক দিন ধরেই পরিচালনা করছে, এছাড়াও ঔষধ রিজার্ভের জন্য দুইটি আলাদা গুদাম রয়েছে। গুদামের জন্য ঔষধ প্রশাসন এর কোনো অনুমতি প্রতিষ্ঠানটি নেয়নি। উল্লেখ্য, খুচরা কার্যক্রমের জন্য সরকারকে ৯০০ টাকা বার্ষিক রাজস্ব দিতে হয় এবং পাইকারী কার্যক্রমের জন্য ১০,০০০ টাকা রাজস্ব দিতে হয়। মূলত রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যেই খুচরা বিক্রির লাইসেন্স গ্রহণ করেও পাইকারী বিক্রি করছিলো প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানটি থেকে বিদেশী অননুমোদিত ঔষধ ও ফিজিশিয়ান স্যাম্পল জব্দ করা হয়। প্রতিষ্ঠানটিকে ঔষধ আইন অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে আলম মেডিকেয়ারে গিয়ে দেখা যায়, লাইসেন্স ব্যতীত প্রতিষ্ঠানটি ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। লাইসেন্স না থাকায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা কর হয় এবং লাইসেন্স করার জন্য ২০ দিন সময় নির্ধারন করে দেওয়া হয়।

জনস্বার্থে ভেজাল ঔষধ, বিদেশী অননুমোদিত ঔষধের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আলী হাসান।