ইয়াবাসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

চট্টগ্রাম ব্যুরো: কক্সবাজারের চকরিয়ায় অভিযান চালিয়ে ২৪ হাজার ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৭। মঙ্গলবার (১০ নভেম্বর) চকরিয়ার হারবাং থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন লোহাগাড়া থানার উত্তর হরিণা গ্রামের মো. আবুল কাশেমের ছেলে মো. বেলাল উদ্দিন (২১) ও মো. হেলাল উদ্দিন (২২), চরম্বা অহিদেরপাড়ার আবদুল বারির ছেলে নুরুল আমিন (৩৩)।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মাহমুদুল হাসান মামুন।

র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামে ইয়াবা আসছে এমন খবর পেয়ে চকরিয়ার হারবাং স্টেশন এলাকায় কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি চেকপোস্ট বসানো হয়। এ সময় কক্সবাজার থেকে আসা তিনটি মোটরসাইকেলের তেলের ট্যাংকে লুকানো অবস্থায় ২৪ হাজার ৪৫৫টি ইয়াবা পাওয়া যায়। পরে তিন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনজনকে চকরিয়ায় থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

উদ্ধারকৃত এসব ইয়াবার আনুমানিক মূল্য এক কোটি ২২ লাখ ২৭ হাজার টাকা বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রামের উন্নয়নে শেখ হাসিনার সদিচ্ছার মূল্য রাখতে হবে : রেজাউল করিম চৌধুরী

চট্টগ্রাম ব্যুরো:আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর সাথে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন শ্রমিক ও কর্মচারী লীগ সিবিএ নেতৃবৃন্দ মঙ্গলবার ১০ নভেম্বর সন্ধ্যায় তাঁর বহদ্দারহাটস্থ বাসভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন।

এসময় তিনি সমবেতদের উদ্দেশ্যে বলেন, সিটি কর্পোরেশনের সকল কর্মকর্তা কর্মচারীরা একটি মহৎ কার্যে নিযুক্ত। সিটি কর্পোরেশনকে নগরবাসীর সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে হবে। নগরকে পরিস্কার, পরিচ্ছন্ন ও পরিকল্পিতভাবে পরিপাটি করে রাখতে হবে। এ নগরীতে আমাদের পূর্বপুরুষের বসবাস ছিল। পাহাড়, সমুদ্র, নদী, সমতল মিলে গড়া প্রকৃতির দান চট্টগ্রামকে তারা আমাদের হাতে দিয়ে গেছেন। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পরিকল্পিত, সুন্দর ও সমৃদ্ধ নগর রেখে যেতে আমাদেরকে কাজ করতে হবে। এখানে সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা কর্মচারীরা মূখ্য ভূমিকা রাখতে হবে। চট্টগ্রামের ব্যাপক উন্নয়নে প্রতি প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সদিচ্ছার মূল্য আমাদেরকে রাখতে হবে।

মতবিনিময় সভায় অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সিবিএ-এর সভাপতি ফরিদ আহমদ, সহ-সভাপতি জাহেদুল ইসলাম, সহ -সভাপতি রূপন কান্তি, সহ- সভাপতি ইয়াছিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক রতন দত্ত, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল মাসুদ, অর্থ সম্পাদক তারেক সুলতান, প্রচার সম্পাদক রতন শীল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক খোরশেদ আলম, দপ্তর সম্পাদক সোহেল, সদস্য বাবুল সেন, মোস্তফা কামাল, হারুনুর রশীদ, পুলক দে, শফিকুর রহমান প্রমুখ।

ফুলতলায় মাস্ক না পরায় ৭ ব্যক্তির দন্ড

ফুলতলা (খুলনা) প্রতিনিধিঃ নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও ইউএনও সাদিয়া আফরিনের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালদত মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বর এলাকা থেকে মাস্ক ব্যবহার না করার অপরাধে ৭ ব্যক্তিকে আটক ও প্রত্যেককে ১শ’ টাকা করে জরিমানা ধার্য ও আদায় করেন। দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন আপন রায়, দিপঙ্কর পাল, সহিদুল সরদার, আল আমিন সরদার, আজিমুল হক, সুকান্ত মজুমদার, রাজীব মোল্যা। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সমাজ সেবা কর্মকর্তা মোঃ শাহীন আলম, বিআরডিবি কর্মকর্তা মোঃ আফরুজ্জামান, নির্বাচন কর্মকর্তা কল্লোল বিশ্বাস, রিসোর্স কর্মকর্তা মোঃ রবিউল ইসলাম রনি, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফারহানা ইয়াসমিন, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুহা. আবুল কাশেম, আইসিটি কর্মকর্তা পুষ্পেন্দু দাস, সহকারী শিক্ষা অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান, এসআই দর্জি আবু জাফর প্রমুখ।

এদিকে ইউএনও সাদিয়া আফরিন বেলা ২টায় তার অফিস কক্ষে স্থানীয় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করেন। এ সময় প্রেসক্লাব ফুলতলা সভাপতি তাপস কুমার বিশ্বাস, সিনিয়র সাংবাদিক শেখ মনিরুজ্জামান, উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি শামসুল আলম খোকন, সাংবাদিক মোঃ নেছার উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

হচ্ছে না রাস মেলা,স্বাস্থ্যবিধি মেনে করা যাবে পুণ্যস্নান

বাগেরহাট প্রতিনিধি : হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পূজা অর্চনা ঘিরে সুন্দরবনের দুবলার চরে প্রায় প্রতি বছরই রাস মেলা হয়। এ মেলায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি সারাদেশ থেকেই নানা ধর্মের হাজারো মানুষ ভিড় করেন। এছাড়া ভারতসহ অন্যান্য দেশ থেকেও অনেকে রাস মেলায় অংশ নেন। গেল বছর ২০১৯ সালে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে কারণে রাস পূজা ও পুণ্যস্নান উপলক্ষে কোনো মেলা হয়নি। আর এবার হচ্ছে না করোনার কারণে। তবে বন বিভাগের নির্ধারিত বিভিন্ন শর্ত মেনে শুধুমাত্র সনাতন ধর্মাবলম্বীরা রাস পূর্ণিমার পূজা ও পুণ্যস্নানে অংশ নিতে পারবেন।
২৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় সুন্দরবনের দুবলার চরে রাস পূজা ও ৩০ নভেম্বর সকালে দূবলার চর সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে পুণ্যস্নানের মাধ্যমে এবারের রাস উৎসব শেষ হবে।
সোমবার (৯ নভেম্বর) বিকেলে বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত রাস পূর্ণিমার পূজা ও পুণ্যস্নান উপলক্ষে রাস উৎসব ও পূজা উদযাপন আয়োজনের জন্য সমন্বয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বাগেরহাট জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদের সভাপতিত্বে সভায় বাগেরহাটের পুলিশ সুপার পঙ্কজ চন্দ্র রায়, সুন্দরবন বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোহাম্মাদ বেলায়েত হোসেন, সহকারী বন সংরক্ষণ কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন, দুবলা ফিশার ম্যান গ্রুপ ও রাস মেলা উদযাপন কমিটির সভাপতি এস এম কামাল হোসেন, সহ-সভাপতি বাবুল সরদার, সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ বসু শন্তু, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব), কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। করোনা পরিস্থিতিতে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে রাস পূজা উপলক্ষে রাস মেলার আয়োজনের সুবিধা-অসুবিধা ও সংক্রমণের আশঙ্কা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আলোচনা শেষে শর্ত সাপেক্ষে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজা ও পুণ্যস্নানে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
শর্তগুলো হচ্ছে- ২৮ নভেম্বর রাস পূজা ও পুণ্যস্নানের উদ্দেশে যাত্রা শুরু হবে। ২৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় রাস পূজা এবং ৩০ নভেম্বর সকালে পুণ্যস্নানের মাধ্যমে এবারের পূজা শেষ হবে। সুন্দরবনে প্রবেশ থেকে শুরু করে সার্বক্ষণিক মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। রাস পূজায় যেসব জলযান যাবে, সেগুলোতে এবং পূজা স্থলে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী (হ্যান্ড স্যানিটাইজার, হ্যান্ডওয়াশ) রাখতে হবে। শুধুমাত্র সনাতন ধর্মাবলম্বীরা প্রবেশ করতে পারবেন। এক্ষেত্রে অনুষ্ঠানের অন্তত সাতদিন আগে সংশ্লিষ্ট বন বিভাগের অফিসে ভক্তদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও লঞ্চের কর্মচারীদের তালিকাসহ আবেদন করতে হবে। যারা সুন্দরবনে রাস পূজার জন্য প্রবেশের অনুমতি পাবেন, তাদের সবাইকে জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে। শুধুমাত্র সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রবেশ নিশ্চিত করতে বন বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সবার জাতীয় পরিচয়পত্র পরীক্ষা করবেন। কোনো ট্রলার বা লঞ্চে ৫০ জনের বেশি যাত্রী বহন করা যাবে না।
প্রত্যেক ভক্তের ক্ষেত্রে তিনদিনের জন্য ৫০ টাকা, নিবন্ধনযুক্ত ট্রলারকে দুশ’ টাকা এবং নিবন্ধনবিহীন ট্রলার প্রতি আটশ’ টাকা সরকারি রাজস্ব নির্ধারণ করা হয়েছে।
রাস মেলায় প্রবেশের জন্য পাঁচটি রুট নির্ধারণ করা হয়েছে। রুটগুলো হচ্ছে বুড়িগোয়ালিনি, কোবাদক থেকে বাটুলা নদী-বল নদী-পাটকোষ্টা খাল হয়ে হংসরাজ নদী অতঃপর দুবলার চর। কয়রা, কাশিয়াবাদ, খাসিটানা, বজবজা হয়ে আড়ুয়া, শিবসা নদী মরজাত হয়ে দুবলার চর। নলিয়ান স্টেশন হয়ে শিবসা-মরজাত নদী হয়ে দুবলার চর। ঢাংমারী-চাঁদপাই স্টেশন-তিনকোনা দ্বীপ হয়ে দুবলার চর। বগী-বলেশ্বর-সুপতি কচিখালী-শেলার চর হয়ে দুবলার চর। তবে শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রবেশ নিশ্চিত করতে রুটের সংখ্যা কমানো হতে পারে বলেও সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এবারের রাস পূজায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে বনরক্ষীদের পাশাপাশি র‌্যাব-৬ খুলনা, কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন মোংলা, বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটও নিয়োজিত থাকবেন।
রাস উৎসবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ছাড়া কেউ আগ্নেয়াস্ত্র বহন করতে পারবেন না।
এবারের রাস পূজা উপলক্ষে পরিবেশ দূষণ রোধেও ব্যবস্থা নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পূজায় আগত ভক্ত ও সংশ্লিষ্ট সবার খাবারের উচ্ছিষ্ট, প্যাকেটসহ বিভিন্ন দ্রব্য সাগর, নদী বা চরে ফেলা যাবে না, ট্রলারে রাখা নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে ফেলতে হবে।

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে জাহাজে আগুন

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে ‌‘এমভি গ্যাগসন জোহর’ নামের একটি জাহাজে রান্না করার সময় গ্যাস সিলিন্ডারের বিস্ফোরণে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার (৯ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পতেঙ্গা সী-বিচ এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, আইনি জটিলতায় ‘এমভি গ্যাগসন জোহর’ নামের জাহাজটি আট বছর ধরে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) অধীনে আটক রয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চট্টগ্রাম বন্দরের জাহাজ আগুন নিয়ন্ত্রণকারী জাহাজ কান্ডারী-১০ ও কান্ডারী -১২ চট্টগ্রাম বন্দর ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় দুপুর একটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। অগ্নিকাণ্ডে জাহাজটির তিনটি রুম পুড়ে যায়। তবে কেউ হতাহত হয়নি এবং জাহাজটির তিনটি রুমের ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ এখনো পর্যন্ত জানা যায়নি।

চট্টগ্রাম বন্দরে কর্মরত গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে জানা যায়, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আইনি জটিলতার কারণে জাহাজটি ২০১২ সাল থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে আটক রয়েছে। বর্তমানে জাহাজটি অব্যবহারযোগ্য।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ওমর ফারুক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘পতেঙ্গায় একটি আটক জাহাজে আগুন লাগে। ওটার কেবিনে রান্না করার সময় এ আগুনের সূত্রপাত ঘটে। এতে কোনো ক্ষয়-ক্ষতি হয়নি। আমাদের ফায়ার ফাইটিং কান্ডারী জাহাজ ১০ ও ১২ ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।