যোগাযোগ-সুবিধা পেলে বিনিয়োগে আগ্রহী : ব্রিটিশ হাই কমিশনার

চট্টগ্রাম ব্যুরো:চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আলহাজ্ব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন পৃথিবীর অন্যতম প্রাকৃতিক বন্দর এর অবস্থান ও বহুমাত্রিক বৈশিষ্ট্যপূর্ণ ভৌগলিক অবস্থানগত কারণে চট্টগ্রাম দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আন্ত:দেশীয় গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে গড়ে ওঠার শতভাগ সম্ভাবনার আশাবাদ ব্যক্ত করে চট্টগ্রামে শিল্প-বাণিজ্য-পর্যটন খাতে যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগকে স্বাগত জানাতে চান।

তিনি আজ সকালে টাইগারপাসস্থ নগর ভবনে তাঁর অফিস  ব্রিটিশ হাই কমিশনার রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসনের সাথে সাক্ষাতকালে তাঁকে বলেন, চট্টগ্রাম ব্রিটিশ সু-সভ্যতার স্পর্শে ধন্য হয়ে যথেষ্ট আলোকিত। শিক্ষা, সংস্কৃতি, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অনেক ক্ষেত্রে ব্রিটিশ সভ্যতার ছাপ সুস্পষ্ট। রেলের পূর্বাঞ্চলীয় সদর দপ্তরসহ অনেকগুলো ভিক্টোরিয়াল স্থাপত্য রীতি তারই সাক্ষাত বহন করে। একাধিক ব্রিটিশ কোম্পানী এখানে ব্যবসা-বাণিজ্যের ভিত্তি সোপান তৈরী করে দিয়েছে।

চা’য়ের বাগান ও এই শিল্পের বিকাশ ব্রিটিশদের হাত ধরেই অত্তন হয়েছে এবং চট্টগ্রামের বাগান থেকে উৎপাদিত চা বিশ্ব সেরা। এগুলো এখন বাঙালি মালিকানাধীন। সব মিলিয়ে ব্রিটিশের সাথে চট্টগ্রামের সুমধুর বন্ধনের স্মৃতি জ্বলজ্বল করে।
তিনি চট্টগ্রামের সাথে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যেও বন্ধনের কথা উল্লেখ করে বলেন, হাজার বছর ধরে চট্টগ্রাম প্রাকৃতিক বন্দর সমুদ্র পথে প্রাচ্য, প্রতীচ্য ও পাশ্চাত্যের প্রবেশ দ্বার। তাই চট্টগ্রাম এতদঞ্চলের অর্থনৈতিক হৃদপিণ্ড। পৃথিবীর নানান প্রান্ত থেকে আসা বণিক ও পর্যটকরা এখানে এসে মুগ্ধ হয়েছেন, কেউ কেউ থেকেও গেছেন। তারা আমাদের সমাজ-সভ্যতা-অর্থনৈতিক ক্ষেএে উর্বর করে গেছেন।

ব্রিটিশদের অবদান এ ক্ষেত্রে আরো বেশি। তাঁরা দু’শ বছর এদেশ শাসন করেছে। তাই অনেক ক্ষেত্রে ব্রিটিশ আইন ও রীতি-নীতি এখনও বহাল আছে। চসিক প্রশাসক দক্ষিন-পূর্ব এশিয়ায় চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক গুরুত্বের কথা তুলে ধরে বলেন, বে-টার্মিনাল ও মহেশখালীর মাতারবাড়িতে গভীর সমুদ্র বন্দর হয়ে গেলে চট্টগ্রাম আন্ত: দেশিয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠবে এবং এর ভবিষ্যত সিঙ্গাপুরের চেয়েও উজ্জ্বল।

কক্সবাজার থেকে মিরসরাই পর্যন্ত সরকারের পরিকল্পিত উপকূলীয় মেরিন ড্রাইভ নির্মাণ হলে এ বিশাল বেল্টে শিল্প ও পর্যটনের বিশাল অর্থনৈতিক জোন গড়ে উঠবে। এ বিশাল সম্ভাবনার সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য প্রশাসক ব্রিটিশ হাইকমিশনারের প্রতি আহবান জানান। ব্রিটিশদেরই গড়ে তোলা ফয়’সলেক যথাযথ পরিচর্যায় হয়ে উঠতে পারে পর্যটকদের জন্য চমকপ্রদ চারণভূমি।

এখান থেকে ভাটিয়ারী পর্যন্ত ক্যাবল কার এর সংযোগ স্থাপন করে, একপাশে স্যাটেলাইট কটেজ নির্মাণ ও এংলিং (বড়শি দিয়ে মাছ ধরা) এর ব্যবস্থা করে হলে এটি উপমহাদেশের ভ্রমণ পিপাসুদের অন্যতম ভ্রমণ কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। এছাড়া কর্ণফুলীর তলদেশ দিয়ে ট্যানেলটি হয়ে গেলে নদীর দক্ষিন তীরে একাধিক শিল্পজোন গড়ে ওঠার সম্ভাবনা উজ্জ্বল।

তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রামের অর্থনেতিক অঞ্চলগুলোতে বিদেশি বিনিয়োগ আসা শুরু হয়েছে। চীন, কোরিয়া, জাপানসহ বিদেশি বিনিয়োগকারী সাড়া দিয়েছে। সবমিলিয়ে ১২টি দেশ থেকে এখানে বিনিয়োগের প্রস্তাব এসেছে।

ফুলতলায় চুরি ও প্রতারণা মামলায় আটক ৩ চোরাই ব্যাটারী ও টাকা উদ্ধার

ডেক্স রিপোর্টঃ পুলিশ ফুলতলা থানার চুরি ও প্রতারণার পৃথক দুটি মামলায় ৩ আসামীকে আটক করে মঙ্গলবার জেল হাজতে প্রেরণ করে। আটককৃতরা হলো বাঘারপাড়ার দক্ষিণ লক্ষ্মীপুর গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস মোল্যার পুত্র মেহেদী হাসান হৃদয় (২০), ফুলতলার দামোদর ভুঁইয়া পাড়ার কামরুজ্জামান নান্নুর পুত্র খায়রুজ্জামান সবুজ (২৯) এবং দামোদর মল্লিকপাড়ার মোঃ শফিউদ্দিন মেহেদীর পুত্র আব্দুর রহিম মেহেদী (৪৩)।

ওসি মাহাতাব উদ্দিন বলেন, সোমবার দুপুরে থানার পার্শ্ববর্তী একটি তেল পাম্পে থেমে থাকা পিকআপ থেকে দুটি ব্যাটারী চুরি হয়। পরে ফুলতলার জামিরা সড়কের আল হেরা সাইকেল ষ্টোরে চুরিকৃত ঐ ব্যাটারী বিক্রিকালে এলাকাবাসী মেহেদী হাসান হৃদয়কে ব্যাটারীসহ হাতেনাতে ধরে ফেলে। এ সময় সাথে থাকা অপর চোর ডুমুরিয়ার মিক্সিমিল গ্রামের ওয়াজেদ আলী ভুঁইয়ার পুত্র জাহিদুল ইসলাম ভুইয়া (৪০) পালিয়ে যায়। এ ব্যাপারে পিকআপ চালক আলকা গ্রামের সাখাওয়াত খানের পুত্র রাশেদ খান বাদি হয়ে ফুলতলা থানায় মামলা (নং-১২, তারিখ-১৬/১১/২০২০) দায়ের করেন। অপরদিকে, বাঘারপাড়ার দক্ষিণ লক্ষ্মীপুর গ্রামের মেহেদী হাসান হৃদয় ফুলতলায় পিকআপের ব্যাটারী চুরি করতে গিয়ে আটক রয়েছে। তাকে ছাড়াতে গেলে ১০ হাজার টাকা দিতে হবে বলে তার পিতা আব্দুল কুদ্দুস মোল্যার কাছে মোবাইল করা হয়। আটক পুত্রের মুক্তির জন্য আব্দুল কুদ্দুস মোল্যা ফুলতলা বাজারের হাজী মার্কেটস্থ থ্রিজি টেলিকমের বিকাশ নম্বরে টাকা প্রদান করেন। বিকাশে প্রেরণকৃত সাড়ে ৯ হাজার টাকা ফুলতলার দামোদর ভুঁইয়া পাড়ার কামরুজ্জামান নান্নুর পুত্র খায়রুজ্জামান সবুজ (২৯) এবং দামোদর মল্লিকপাড়ার মোঃ শফিউদ্দিন মেহেদীর পুত্র আব্দুর রহিম মেহেদী (৪৩) উত্তোলন করে। এ ব্যাপারে ব্যাটারী চোর হৃদয়ের পিতা আব্দুল কুদ্দুস মোল্যা বাদি হয়ে খায়রুজ্জামান সবুজ ও আব্দুর রহিম মেহেদীসহ অজ্ঞাত আরও ২ জনকে আসামী করে থানায় মামলা (নং-১৩, ১৭/১১/২০২০) দায়ের করেন। পুলিশ প্রতারণা মামলার আসামী সবুজ ও আব্দুর রহিমকে আটক করে এবং তাদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক বিকাশে পাওয়া টাকার মধ্য থেকে পুলিশ ২ হাজার টাকা উদ্ধার করে। আটককৃত আসামীদের মঙ্গলবার আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।

চট্টগ্রাম ডিএনসি’র অভিযানে ইয়াবাসহ আটক ১

নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি)’র পৃথক অভিযান চালিয়ে লাইসেন্সবিহীন বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র ‘মন’ নামক প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হয়। অন্যদিকে এক হাজার ৩৫০ পিস ইয়াবাসহ এক ইয়াবা ব্যবসায়ীকে আটক করেছেন। আটককৃত হচ্ছে মোঃ নাসির উদ্দিন(১৯)। মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) দিনব্যাপী চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়অ
চট্টগ্রাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি)’র সূত্র মতে, মঙ্গলবার দিনব্যাপী পৃথক মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মেট্রো কার্যালয়ের উপ পরিচালক মোঃ রাশেদুজ্জামান এর নেতৃত্বে আগ্রাবদ সিডিএ আবাসিক এলাকার ২৯ নং রোডে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় লাইসেন্স বিহীন বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র “মন” সিলগালা করা হয়। এ সময় কেন্দ্রের মালিক ইমরান অনুপস্থিত ছিলেন। ওই সময় কেন্দ্রে ১২জন রোগী পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৩ জন রোগীর অভিভাবক নিজ জিম্মায় তাদের রোগীকে নিয়ে জান। বাকী নয় জন রোগীকে সরকারি বিভাগীয় মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র, নাসিরাবাদ, চট্টগ্রামে ভর্তি করা হয়। অপরদিকে সকাল ১০ টায় ডবলমুরিং সার্কেল পরিদর্শক লোকাশীষ চাকমা কোতোয়ালি থানাধীন ৩৫-সি/১ ইকবাল মার্কেট শহীদ সোরোওয়ার্দী রোডে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় মো: আবুল হোসেনের পুত্র মোঃ নাসির উদ্দিনকে ১ হাজার ৩৫০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে ডবলমুরিং সার্কেল পরিদর্শক লোকাশীষ চাকমা বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ অনুযায়ী কোতোয়ালি থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন ।

পাইকগাছায় লিগ্যাল এইড কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

পাইকগাছা প্রতিনিধি : পাইকগাছায় জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন পর্যায়ে আইনগত সহয়তা প্রদান কমিটির সদস্যদের নিয়ে (লিগ্যাল এইড কমিটি) অর্ধ বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে পাইকগাছা উপজেলা পরিষদ মিলোনয়তনে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান লিপিকা লালীর সভাপতিত্বে ও রুপন্তরের পিপিজে প্রকল্পের সমন্নয়কারী অনুপ রায়ের সঞ্চালনায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী, সিনিয়র সহকারী জর্জ প্রবির কুমার দাশ রুপন্তরের নির্বাহী পরিচালক স্বপন কুমার গুহ, সমাজ সেবা কর্মকর্তা সরদার আলী আওসান, সমবায় কর্মকর্তা বেনজির আহম্মেদ, লস্কর চেয়ারম্যান কে এম আরিফুজ্জামান তুহিন, গদাইপুর ইউপি চেয়ারম্যান গাজী জুনায়েদুর রহমান, প্যানেল চেয়ারম্যান জাকির হোসেন লিটন, রুপান্তরের জি এম মোস্তাক হোসেন,টুকু বিশ্বাস প্রমুখ।

পাইকগাছায় ৭ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে সেফ ইসলামী গ্রুপ উধাও

মোঃ আসাদুল ইসলাম, পাইকগাছা : খুলনার পাইকগাছায় সেফ ইসলামী গ্রুপ লিমিটেড উপজেলার দেলুটি ইউনিয়নের ১৮ অসহায় ব্যক্তির নিকট থেকে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে চম্পট দিয়েছে! হাতিয়ে নেয়া টাকা আদায় ও প্রতারকদের শাস্তির দাবীতে এলাকায় বিক্ষোভ হয়েছে।বিভিন্ন তথ্য উপত্তে জানা যায়, উপজেলার দেলুটি ইউপিতে ২০১৫ সালে সেফ নামে একটি এনজিও ঋণ কার্যক্রম শুরু করে। মোঃ মোক্তার হোসেন, আল মামুন, রাজু আহম্মেদ ও ইসমাইল হোসেনের যৌথভাবে কার্যক্রম শুরু করেন। যার ব্যাবস্থাপক মোঃ মোক্তার হোসেন। বাৎসরিক ও মাসিক হিসেবে ব্যাপক লোভনীয় লাভে গ্রাহক বানিয়ে প্রতিজনের নিকট থেকে লাখ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানে দেয়া পাশ বই, চেক ও প্রমানপত্রে দেখা যায়। মাঠ কর্মী আঃ সালাম জানায়, তিনি মাঠ কর্মী হিসেবে নিয়োগ পেয়ে কার্যক্রম শুরু করি। এলাকার ১৮ ব্যক্তির কাছ থেকে বাৎসরিক ও মাসিক টাকা আদায় করি। ১৯ ডিসেম্বর ২০১৫ থেকে ১৩ অক্টোবর ২০১৯ সাল পর্যন্ত আদায়কৃত ৭ লাখ ২১ হাজার ৭শ টাকা কপিলমুনি শাখা ব্যবস্থাপক রবিউল ইসলামের কাছে জমা প্রদান করি। প্রথম কয়েক বছর লোভনীয় লভ্যাংশ প্রদান করলেও হঠাৎ কোম্পানির কর্মকর্তারা ২০১৯ সালে রাতে পালিয়ে যায়। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে অফিসের সামনে শ’শ’ লোকের সমাগম ঘটে ও বিক্ষোভ করে। স্থানীয় প্রশান্ত রায়ের ছেলে প্রতাপ রায় জানায়, তার নিজ সহ পরিবারে ২ লাখ টাকার ৪ টি শেয়ার রয়েছে ও সবুর সানার স্ত্রী খালেদা বেগম জানান, তিনি গরু, ছাগল ও জায়গা জমি বিক্রি করে লাভের আশায় ১ লাখ টাকা জমা দিয়েছি। তিনি কাঁদতে কাঁদতে আরো বলেন, তার ডানে বায়ে আর কিছু নেই, এখন তারা মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। তৎকালিন শাখা ব্যবস্থাপক রবিউল ইসলাম জানান, কর্মকর্তারা মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করায় তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে তাদের প্রতিষ্ঠানের নামে যে সম্পদ সম্পত্তি রয়েছে তা দিয়ে গ্রাহকের টাকা পরিশোধ করার কথা তিনি স্বীকার করেন। এদিকে মঙ্গলবার গ্রাহকের টাকা আদায় ও প্রতারকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবীতে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অর্থাভাবে জীবনযুদ্ধে হেরে যাচ্ছেন অভয়নগরের অদম্য মেধাবী আলামিন!

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি : যশোরের অভয়নগর উপজেলার মধ্যপুর গ্রামের বাসিন্দা, একসময়ের নামকরা অদম্য মেধাবী ছাত্র মো. আলামিন মোল্যা (২৯) দীর্ঘ একযুগ অর্থাৎ ১২বছর ধরে বাড়িতে বন্দি থেকে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করে চলেছেন। মেনিনজাইটিস্ রোগে আক্রান্ত হয়ে ঘরে বন্দি থেকে অনর্গল ইংরেজিতে কথা বলে তার জীবন কাটছে। অভাবী পিতা-মাতা ১২বছর ধরে তার চিকিৎসা করে চলেছেন টাকা পয়সা ধার-দেনা করে। তবুও সুস্থ অবস্থায় ফিরতে পারছেন না আলামিন। সরেজমিনে অদম্য মেধাবী আলামিন মোল্যার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, আলামিন তার বাড়ির বারান্দায় বসে অনর্গল ইংরেজীতে কথা বলে চলেছেন। তার মনে নেই কোন দু:খের ছাপ। তাকে দেখতে আসা অগনিত মানুষের সাথে বকবক করে কথা বলেই চলেছেন তিনি। বিশেষ করে পুরানো দিনের কথা বলে চলেছেন দেদারছে। তার কথা শুনে মনে হয়, সে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় রয়েছে। উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নওয়াপাড়া শংকরপাশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২০০৯সালের এসএসসি ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন এই আলামিন। ওই সময় তিনি টিবি মেনিনজাইটিস্ রোগে আক্রান্ত হন। রোগে আক্রান্তের পর মাথায় সমস্যা দেখা দেয়ায় পাগলের মতো বকাবকি শুরু করেন। নিজের ইচ্ছায় খেয়াল-খুশি মতো অনর্গল ইংরেজীতে কথা বলতে থাকেন। ২০০৭সালের জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তিনি প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। টিবি মেনিনজাইটিস্ রোগে আক্রান্তের পর পিতা-মাতার বোঝা হয়ে দাঁড়ান তিনি। অদম্য মেধাবী হওয়ায় বাড়িতে তিনি সর্বদা ইংরেজী ডিকশনারি বই পড়েই চলেছেন। এলাকাবাসী তার ইংরেজীতে কথাবার্তা বলা শুনতে তার বাড়িতে ভীড় জমান। তার অসহায় পিতা আবু হানিফ মোল্যা জানান, তিনি বর্তমানে অসুস্থ অবস্থায় থেকে স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে মধ্যপুর গ্রামে বসবাস করেন। দুই ছেলের মধ্যে আলামিন তার বড় ছেলে। ছেলেটি অসুখে পড়লে সংসার চালানোর জন্য ছোট ছেলে রাব্বি মোল্যাকে আকিজ জুট মিলে শ্রমিকের চাকুরি দেয়া হয়েছে। দীর্ঘ ১২বছর ধরে অসুস্থ আলামিনকে সেবা দিতে গিয়ে অর্থাভাবে হিমশিম খাচ্ছেন অসহায় পিতা আবু হানিফ মোল্যা। উপজেলার নওয়াপাড়া পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে এসএসসি ভোকেশনাল বিভাগে পড়ুয়া আলামিনের একমাত্র বোন আফসানা মিম জানান, তার বড় ভাই ছিল অদম্য মেধাবী। তার শরীর খারাপ করায় তাদের সংসারে অভাব অনটন দেখা দেয়। তিনি আরও জানান, তার পিতার মেরুদন্ডের হাড়ে ব্যথা দেখা দেয়ায় কোন কাজকর্ম করতে পারেন না তিনি। আলামিনের মা তাসলিমা বেগম জানান, তার স্বামীর ৫শতক ভিটেমাটি ছাড়া কিছুই নেই তাদের। একচালা টিনের ঘরে বসবাস করে চলেছেন ছেলে-মেয়েদের নিয়ে। তিনি আরও জানান, তার স্বামীর মেরুদন্ডের হাড়ে ব্যথার জন্য ইতোমধ্যে ধারদেনা করে আড়াই লাখ টাকা খরচ করা হলেও চিকিৎসার কোনো উন্নতি হয়নি। স্বামীর চিকিৎসার অপারেশনের জন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। স্বামীর পাশাপাশি ছেলেটিকেও উন্নত চিকিৎসাসেবা দেয়া প্রয়োজন। ছেলেটির জন্য প্রতি সপ্তাহের ওষুধের জন্য খরচ হয় ১হাজার ৮শত টাকা। চিকিৎসার টাকা জোগাড় করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এলাকাবাসীদের সাহায্য সহযোগিতায় চলছে তাদের চিকিৎসাসেবা। অদম্য মেধাবী আলামিনের পিতা সমাজের বিত্তবানদের কাছে সাহায্য কামনা করেছেন, সাহায্য পাঠানোর জন্য তার ব্যবহৃত মোবাইলের বিকাশের হিসাব নং ০১৯২৫-৪২৭২৬৯। অদম্য মেধাবী আলামিনের অসুখের বিষয়ে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এসএম মাহমুদুর রহমান রিজভী জানান, মেধাবী শিক্ষার্থী আলামিন টিবি মেনিনজাইটিস্ রোগে ভূগছেন। এই রোগে আক্রান্তের পর তার মাথায় বড় ধরণের সমস্যা দেখা দিয়েছে। উন্নতমানের ব্যয়বহুল চিকিৎসাসেবা দেয়া গেলে, হয়তবা তাকে সুস্থ করে তোলা সম্ভব হবে।

বরিশালগামী লঞ্চের ছাদে যুবকের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার

মোঃনজরুল ইসলাম, ঝালকাঠি : বরিশাল-ঢাকা নৌরুটের যাত্রী পরিবহনকারী বিলাসবহুল লঞ্চ সুন্দরবন-১১ এর ছাদে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। লঞ্চটি আজ মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) ভোর রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা থেকে বরিশালে এসে পৌঁছায়। খবর পেয়ে সকালে শামীম হাওলাদার নামের ওই যুবকের লাশটি উদ্ধার করে বরিশাল পুলিশ। ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার কুকিলা গ্রামের বাসিন্দা যুবক শামীম রাজধানীতে গার্মেন্টস শ্রমিক ছিলেন।

সুন্দরবন লঞ্চে দায়িত্বরত আনসার ও নৌ পুলিশ জানায়, লঞ্চটি বরিশাল নৌ ঘাটে পৌঁছার পরে যাত্রী নামিয়ে দিয়ে ভোর ৬টার দিকে লঞ্চ ধোয়া মোছার কাজ শুরু করেন স্টাফরা। এ সময় তারা ছাদে সাইলেন্সারের পাশে এক যুবককে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। যুবকের পরনে কালো প্যান্ট আর খয়েরি রংয়ের শার্ট ছিল। যুবকটির বুকে ও পেটে ধারলো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। স্টাফরা সুপারভাইজার ও সিকিউরিটিকে খবর দেন। পরে নৌ পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে।

লঞ্চের সুপারভাইজার সিরাজুল ইসলাম জানান, ছাদে যাত্রী ওঠা নিষেধ। এ জন্য ছাদে ওঠার গেটও বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু এই যুবক কীভাবে ছাদে উঠলেন তা জানা যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, যুবকের পেটে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। এতে তার নাড়িভুঁড়ি বেরিয়ে গেছে।

বরিশাল নৌ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, যুবকের পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি। কে বা কারা হত্যা করেছে তার ক্লু উদঘাটন হয়নি। লাশের সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলছে। লঞ্চটি ঘাটে ভেড়ার আগে-পরে যে কোনও সময় এ হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে। ছাদের বিভিন্ন স্থানে রক্তের দাগ রয়েছে। নৌ পুলিশ, কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ লাশ শনাক্তের চেষ্টা করছে।

গতকাল সোমবার রাত ৯টার দিকে এমভি সুন্দরবন লঞ্চটি প্রায় সাড়ে ৩শ’ যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে বরিশালের উদ্দেশে ঢাকার সদরঘাট ছাড়ে।’

পাইকগাছায় ভ্রাম্যমান আদালতের জরিমানা আদায়

মোঃ আসাদুল ইসলাম, পাইকগাছা : খুলনার পাইকগাছায় ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে পাঁচ ঔষধ ব্যবসায়ীকে ১৫ হাজার টাকা ও দু’মোটরসাইকেল আরোহীকে মুখে মাক্স ব্যবহার না করার দ্বায়ে চারশত টাকা জরিমানা আদায় করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নিবাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী।
মঙ্গলবার দুপুরে পাইকগাছা বাজারে এস কে ফার্মা ২ হাজার, রোহিত ফার্মা ২ হাজার , তাসিন ফার্মা২ হাজার,পাইকগাছা ইউনানী দাওয়াখানা ৪ হাজার, তোফেল ঔষধালয় ৫ হাজার ও দু’মোটরসাইকেল আরোহীকে চার শত টাকা সহ মোট ১৫ হাজার ৪ শত টাকা জরিমানা করেন এবং মেয়াদউত্তিন্ন ঔষধ ও অনুমোদিত বিভিন্ন ঔষধ পাইকগাছা থানার সামনে মাঠে নিয়ে ধংশ করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী, এসময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন খুলনা ঔষধ প্রশাসনের মোঃ মনিরউদ্দিন আহম্মেদ, ভূমি অফিসের পেশকার দিপঙ্কর, এ এস আই পলাশ হোসেন।