ফুলতলার কালি মন্দিরের প্রতিমা থেকে স্বর্ণালংকার চুরি

ফুলতলা (খুলনা) প্রতিনিধিঃ ফুলতলার শিকিরহাট কেওড়াতলা সার্বজনীন কালি মন্দিরের কালি মূর্তির শরীর বিভিন্ন অঙ্গ থেকে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা মূল্যবান স্বর্ণালংকার চুরি করে নিয়ে যায়। চুরিকৃত স্বর্ণালংকারের পরিমান অন্ততঃ আড়াই ভরি এবং বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় পৌনে ২ লাখ টাকা বলে মন্দির কমিটির সভাপতি দিপ্তী দত্ত’র দাবি।

শিকিরহাট কেওড়াতলা সার্বজনীন কালি মন্দিরের পুরোহিত উদয় চক্রবর্তী বলেন, অন্যান্যদিনের মতো গতকাল বুধবার দুপুরের দিকে তিনি নিত্য পূজার জন্য মন্দিরে ডুকে দেখতে পান কালি প্রতিমার শরীরের বাসন এলোমেলো দেখতে পান। পরে খেয়াল করে দেখেন প্রতিমার কপালের টিকলি, গলার নেকলেস, কানের দুল ও নাকের নোলকসহ স্বর্ণালংকার চুরি গেছে। পরে তিনি মন্দির কমিটিকে বিষয়টি অবহিত করেন। খবর পেয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহাতাব উদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

বাগেরহাটের সাবেক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যাপক দূর্নীতির অভিযোগ 

কানাই মন্ডল : বাগেরহাটের সাবেক জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো: কবির উদ্দিন বিভিন্ন খাতে অনিয়ম ও দূর্নীতির মাধ্যমে অর্ধকোটিরও অধিক টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।জেলা শিক্ষা অধিদপ্তরকে ঘিরে কবির উদ্দিনের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি দূর্নীতিবাজ চক্র তাকে এই ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতিতে সহযোগীতা করেছেন।জেলার মোরেলগঞ্জ, রামপালসহ বিভিন্ন উপজেলার একাধিক শিক্ষক, মিডিয়া কর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, মন্ত্রনারয়ের সচিব, বিভাগীয় উপপরিচালক ও বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি বদলী হয়ে যাওয়ার পর কবির উদ্দিন ও তার অনিয়ম ও দূর্নীতিতে সহযোগীতাকারী এবং সুবিধাভোগী বিভিন্ন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের নাম বেরিয়ে আসছে।কবির উদ্দিন বাগেরহাট থেকে বদলী হলেও তার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা অনিয়ম ও দূর্নীতিবাজ চক্র এখনও সক্রিয় রয়েছেন বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।ইতিমধ্যেই সাবেক এই জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার অনিয়ম ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে সরকারের প্রথিমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।সম্প্রতি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক নবুয়াত হোসেন সরকার বাগেরহাটে এসে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে গেছেন।তবে তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগ সংশ্লিষ্ঠ সব উপজেলায় না যাওয়া এবং সবার সাথে কথা না বলায় ক্ষোভ জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।তবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানিয়েছেন অনিয়ম-দূর্নীতির সত্যতা পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং প্রাথমিক ও গনশিক্ষা মন্ত্রনারয়ের সচিবের কাছে দেয়া অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, জেলা শিক্ষা অফিসার মো: কবির উদ্দিন বাগেরহাটে থাকাকালে ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তার বিরুদ্ধে মোরেলগঞ্জ উপজেলায় ২০১৯-২০ সালের ৫০টি সাবক্লাসটার প্রশিক্ষন(দ্বিতীয় পর্যায়) না করিয়ে ভুয়া বিল-ভাউচার করে বরাদ্ধকৃত কয়েক লাখ টাকা অর্থ আত্নসাত করেছেন।একাজে তাকে মোরেলগঞ্জের উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন সহায়তা করেছেন। তবে প্রশিক্ষণ না হওয়ায় সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা অসীম কুমার সরকার উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশ অমান্য করে সরকারী কোষাগারে একলাখ ৫০হাজার টাকা ফেরত দিয়েছেন।এছাড়া স্কাউটিংয়ের নামে চিঠি দিয়ে জেলার একহাজার একশত স্কুল থেকে প্রায় আড়াইলাখ টাকা আদায় করে আত্নসাত করেন।জেলার একহাজার একশত স্কুলে সরকারী নীতিমালা লংঘন করে স্লিপের টাকা থেকে শিক্ষকদের কাছে ৪৯লাখ ৫০হাজার টাকার বই কিনতে বাধ্য করে বিরাট অংকের কমিশন বাগিয়ে নিয়েছেন।এ নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ থাকলেও দাপ্তরিক শাস্তি এবং দূর্নীতিবাজ চক্রের সহযোগী তৎকালীন সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার শহিদুল ইসলাম,  সদরের সহকারী শিক্ষা অফিসার মোস্তাকিম বিল্লাহ, প্রভাত কুমার হালদার, বিকাশ চন্দ্র, মুজিবর রহমান, মোরেলগঞ্জের উপজেলা শিক্ষা অফিসার জালাল উদ্দিন, শরণখোলার সহকারী শিক্ষা অফিসার বিধান কুমার, মংলা উপজেলা শিক্ষা অফিসার সুমন্ত পোদ্দার, সহকারী শিক্ষা অফিসার শাহিনুর রহমান, মোল্লাহাটের উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো: কামাল হোসেনসহ দূর্নীতিবাজ অফিসারদের কারনে কেউ মুখ খুলতে পারেনি।

একইভাবে কবির উদ্দিন প্রতিটি উপজেলা থেকে ইনোভেশনের নামে দুই দফায় ৮হাজা্র টাকা করে প্রায় লাখ টাকা, জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দেওয়া পত্র ছাপার ভুয়া বিল-ভাউচার দেখিয়ে প্রতিটি উপজেলা শিক্সা অফিসারের কাছ থেকে চারলাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এক্ষেত্রে কচুয়া উপজেলা শিক্ষা অফিসার বিদ্যুৎ কুমার রায়, মোরেলগঞ্জের জালাল উদ্দিন, শরণখোলা শিক্ষা অফিসার মো: আশরাফুল ইসলাম ও সদরের শিক্ষা অফিসার শহিদুল ইসলামসহ একটি চক্র দূর্নীতিতে সহায়তা করেছেন।

অন্যদিকে, বাগেরহাটে যোগদান করার পর থেকে নিজে অফিসের তৃতীয় তরায় ভিআইপি রেষ্ট হাউজে তিনটি কক্ষে বসবাস করলেও তিনি তার কোন ভাড়া সরকারী কোষাগারে জমা দেননি। উল্টো তিনি ভুয়া বিল-ভাউচার দিয়ে কয়েক লাখ টাকা বাড়ীভাড়া উত্তোলন করে আত্নসাত করেছেন।তার এ কাজে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের প্রধান সহকারী আ: হালিম ও কর্মচারী রুহুল আমীন তাকে সহযোগীতা করেছেন। এছাড়া অফিস কম্পাউন্ডে সরকারীভাবে অনুমতি না নিয়ে বসবাসের জন্য পাকা ঘর তৈরী করেছেন।সেখানে অফিসের বিদ্যুত ও পানি ব্যবহার করে অন্যদের ভাড়া দিয়ে কয়েক লাখ টাকা আত্নসাত করেছেন।

সম্প্রতি এসব অভিযোগ পেয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলমগীর মোহাম্মদ মনসুরুল আলম একজন উপপরিচালককে বাগেরহাটের সাবেক জেলা শিক্ষা অফিসার কবির উদ্দিনের অনিয়ম ও দূর্নীতির তদন্তের নির্দেশ দেন। তার প্রেক্ষিতে উপপরিচালক মো: নবুয়াত হোসেন সরকার গত সোমবার বাগেরহাটে তদন্তে আসেন।এদিন তিনি জেলা শিক্ষা অফিসে কচুয়া, মোল্রাহাটসহ বিভিন্ন উপজেলা শিক্ষা অফিসারের সাতে কথা বলেন। এছাড়া তিনি মোরেলগঞ্জ উপজেলা শিক্সা অফিসে গিয়ে তদন্ত সংশ্লিষ্ঠদের সাথে কথা বলেন। তিনি সেখান থেকে একাধিক ডকুমেন্ট সংগ্রহ ও সহকারী শিক্ষা অফিসারবৃন্দের বক্তব্য গ্রহন করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা নাবুয়াত হোসেন সরকার জানান, তিনি সরেজমিনে তদন্ত করতে বাগেরহাটে যান।তদন্তের কাজ চলছে। অবিযোগের সবকিছুই আমলে নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। সব উপজেলাতে না গেলেও এবং সবার সাথে কথা না বললেও অভিযোগের সকল বিষয়ে খতিয়ে দেখে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। তবে তিনি তদন্তে গাফিলতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ অস্বীকার করেন।

অভিযোগ সম্পর্কে সাবেক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কবির উদ্দিন জানান, যেসব অভিযোগ করা হয়েছে তা সবই মিথ্যা। তবে যেহেতু তদন্ত চলছে তাই তিনি এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে, কবির উদ্দিনের ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতিতে সহযোগী হিসেবে যারা কাজ করেছেন তারা এখনও বহাল তবিয়তে তাদের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। সাবেক জেলা শিক্ষা অফিসারের সহযোগীতার বিষয়ে বাগেরহাট সদরের সহকারী শিক্ষা অফিসার মোস্তাকিম বিল্লাহ জানান, তদন্ত কর্মকর্তা তাকে কোন কিছুই জিজ্ঞাসা করেননি।তিনি সাবেক জেলা শিক্ষা অফিসারের ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতির কাজে জড়িত নন। জেলা শিক্ষা অফিসারের নির্দেশে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শহিদুল ইসলামের কাছে বই এসেছিল তারা সেই বইগুলো শিক্ষকদের কাছে বিক্রি করেছেন। টাকা আত্নসাত ও কমিশন বানিজ্যের বিষয়ে তার জানা নেই।সহকারী শিক্ষা অফিসার প্রভাত হালদার জানান, জেলা শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নির্দেশেই তিনি কাজ করেছেন। সেখানে অনিয়ম ও দূর্নীতি হলে তার দায়িত্ব তার নেই। সহকারী শিক্ষা অফিসার বিকাশ চন্দ্র জানান, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষ্যে বিদ্যালয়েল ছাত্রছাত্রীদের দেয়ার বিষয়ে ভুায়া বিল ভাউচার করে টাকা আত্নসাত করার বিষয়ে তিনি জানেন না।তবে তিনি এরকম পত্র দিতেও দেখেননি। শরনখোলার সহকারী শিক্ষা অফিসার বিধার চন্দ্র রায় জানান, তিনি উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও জেলা শিক্ষা অফিসারের কথা অনুযায়ী কাজ করেছেন।শরনখোলায় সাবক্লাসটারের প্রশিক্ষণ হয়েছে তবে সবগুলো হয়েছে কিনা বা অনিয়ম হয়েছে কিনা তা উপজেলা শিক্ষা অফিসার আশরাফুল ইসলাম বলতে পারবেন।আমি যাকিছু করেছি তার পরামর্শ ও নির্দেশনা অনুসারেই করেছি। মংরা উপজেলা শিক্ষা অফিসার ‍সুমন্ত পোদ্দার জানান, বিভিন্ন সময়ে জেরা শিক্ষা অফিসারকে উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও সহকারী শিক্ষা অফিসাররা সহায়তা করেছেন। কিন্তু সেটি কি বাবদ নিয়েছেন তা তিনি জানেন না।ইনোভেশনের কোন কাজই হয়নি।

এদিকে, অভিযোগকারী মোরেলগঞ্জের মো: নাসির উদ্দিন ও শামীম মল্লিক এবং রামপালের বেলায়েত হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তারা সাবেক জেলা শিক্ষা অফিসার কবির উদ্দিনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দূর্নীতির বিসয়ে সুনিদিষ্ট অভিযোগ দিলেও অধিদপ্তরের তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিচালক নাবুয়াত হোসেন সরকার সহযোগী ও অবিযোগকারীদের কোন বক্তব্য না নিয়েই চলে গেছেন। তিনি তদন্তে অবহেলা করেছেন বলে দাবী করেন অভিযোগকারীরা। এ বিষয়ে মহাপরিচালক ও মন্ত্রনালয়ের সচিবের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ধর্মীয় চর্চা আলোকিত মানুষ হতে সাহায্য করে

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন বলেন, ধর্মীয় চর্চা মানুষের মনকে পরিশুদ্ধ করে, আলোকিত মানুষ হতে সাহায্য করে, কুসংস্কার হতে দূরে রাখে। ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চললে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে হিংসা, বিদ্বেষ, হানাহানি দূরীভূত হয়, মানুষে মানুষে ভেদাভেদ থাকে না। আজ ১৮ নভেম্বর, ২০২০ আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইস্কন) চট্টগ্রাম আয়োজিত নন্দনকানন রাধামাধব মন্দিরে অন্নকূট উৎসব ও ইস্কন প্রতিষ্ঠাতা আচার্য শ্রীল অভয়চরণাবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদের তিরোভাব তিথিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। উৎসবের উদ্বোধকের বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী এম. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন- অসাম্প্রদায়িক চট্টগ্রামে জাতি-ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে যার যার ধর্মীয় উৎসব সবার উৎসব হিসেবে অন্তরে ধারণ করে পালন করে আসছে। ধর্মের নামে জঙ্গিবাদী কর্মকা- ইসলাম কখনোই সমর্থন করে না, ইসলাম শান্তির ধর্ম, বিশ্ব মানবতার প্রতীক। দেশ সমৃদ্ধিশালী করার লক্ষ্যে ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। অন্নকূট মহোৎসবে মহান আর্শিবাদক ছিলেন ইস্কন বাংলাদেশের সিনিয়র সহ-সভাপতি শ্রীল ভক্তিপ্রিয়ম গদাধর গোস্বামী মহারাজ, ইসকন বাংলাদেশের সহ-সভাপতি শ্রীল ভক্তি অদ্বৈত নবদ্বীপ স্বামী মহারাজ, পুন্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ ও চট্টগ্রাম ইস্কনের বিভাগীয় সম্পাদক চিন্ময়কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী। নন্দকানন ইস্কন মন্দিরের অধ্যক্ষ প-িত গদাধর দাস ব্রহ্মচারী’র সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এড. রানা দাশগুপ্ত। আরো উপস্থিত ছিলেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এড. নিতাই প্রসাদ ঘোষ, নন্দনকানন ইস্কন মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক তারণ নিত্যানন্দ দাস, নন্দনকানন মন্দিরের যুগ্ম সম্পাদক মুকুন্দ ভক্তি দাস, মহানগর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নির্বাহী সদস্য সুমন চৌধুরী, নন্দনকানন ইস্কনের অপূর্ব মনোহর দাস ব্রহ্মচারী, শেষরূপ দাস ব্রহ্মচারী, জগনানন্দ দাস ব্রহ্মচারী, রূপানুগ অনুপম দাস ব্রহ্মচারী প্রমুখ। উৎসবে বক্তারা বলেন, শ্রীল প্রভুপাদ ৭০ বছর বয়সে ১৯৬৫ সালে প্রথম আমেরিকা পদাপর্ণ করে বৈদিক সংস্কৃতি প্রাচাত্য দেশে প্রচার করেন। শ্রীল প্রভুপাদ আমেরিকায় ১৯৬৬ সালে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইস্কন) প্রতিষ্ঠা করেন। বারো বছরে সারা পৃথিবী ১৪ বার পরিভ্রমণ করে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশে ইস্কন মন্দির ও প্রচারকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করে সারাবিশ্বে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মহিমা প্রচারের নিমিত্তে ১০৮টি বড় মন্দির সহ বৈদিক গুরুকূল, ফার্ম কমিউনিটি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭৭ সালে শ্রীল প্রভুপাদ এই পবিত্র দিনে নিত্যধাম গমন করেন। প্রভুপাদের তিরোভাব তিথি ও পরমেশ্বর ভগবান গিরি গোবর্ধন পূজা, অন্নকূট মহোৎসব সারাবিশ্বে সমাদৃত। শ্রীল প্রভুপাদ সারাবিশ্বে দিকভ্রান্ত যুব গোষ্ঠী ও সর্বস্তরের মানুষদের বৈদিক সংস্কৃতির আলোকে উদ্ভাসিত করে সঠিক পথে পরিচালিত করার প্রয়াস করেছেন। তাই তিনি বিশ্বে বরেণ্য ব্যক্তিত্বে পরিচিত হয়েছেন। এমন নিরমৎসর ব্যক্তি ও তাঁর প্রতিষ্ঠিত বিশ্বনন্দিত আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন্)কে নিয়ে কিছু সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী উদেশ্যমূলক বিভিন্ন মিথ্যাচারের জন্য ইসকন সন্ন্যাসীবর্গ ও বক্তাগণ তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেন। অনুষ্ঠানে প্রায় দশ সহস্রাধিক ভক্তদের প্রসাদ বিতরণ করা হয়।

পাইকগাছায় প্রতারক ও মানব পাচার মামলায় স্বামী-স্ত্রী আটক

পাইকগাছা প্রতিনিধি : খুলনার পাইকগাছায় বিদেশে লোক পাঠানোর কথা একাধিক যুবকের কাছ থেকে লক্ষ-লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে মাবব পাচার আইনে মামলা হয়েছে। গড়ইখালী ইউপি’র মৃত ইছহাক সরদারের ছেলে মোনায়েম হোসেন বাদী হয়ে থানায় এ মামলাটি করেছেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে এ মামলার আসামী আখিনুর (স্বপন) ও শিল্পী দম্পতিকে গ্রেফতার করেছেন। এদের বাড়ী মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার কালীনগর গ্রামে।
মামলা ও ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার সুত্রে জানা গেছে, আখিনুর ইসলাম স্বপন ও খুলনার মুসলমান পাড়া হাবিবুর রহমান নাদিম (বিদেশে অবস্থানরত) সহ একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র বিদেশে চাকুরী দেবার কথা বলে কৌশলে কয়েজজন বেকার যুবকের কাছ থেকে লক্ষ-লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রতারক চক্রটি সরাসরি নগদ, এসএ পরিবহন, খুলনা ডাচবাংলা শাখা, অনলাইন ও পোস্ট অফিস সহ বিভিন্ন মাধ্যমে পর্যায় ক্রমে ৩০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত গড়ইখালীর ইছহাক সরদারের ছেলে মোস্তফা সরদার মোবাইলে জানান,পরিচয়ের সুত্র ধরে আখিনুর-হাবিবুর এ প্রতারক চক্রটি বেলজিয়াম যাবার কথা জাল ভিসা দিয়ে আমার কাছ থেকে কয়েক লক্ষ টাকা নিয়ে নেয়। এরপর আবারও কয়েক লাখ টাকা নিয়ে আমাকে নদী পথে মালয়েশিয়ায় নিয়ে যাবার প্রস্তাব দিলে রাজি না হওয়ায় পরবর্তীতে আমাকে ৭-৪- ১৭ সালে বিমানে মালয়েশিয়ায় নিয়ে যান। মোস্তফা অভিযোগ করেন এ চক্রটি বন্দিশালায় ফেলে আমাকে মারপিট করে পাসপোর্ট কেড়ে নেয়। এক সময় আমি এদের বন্দিশালা থেকে পালিয়ে এসে সমস্ত ঘটনা পরিবারকে খুলে বলি। এ ছাড়া প্রতারক চক্রটি বাঁকার সেলিম রেজা, শামিম গাজী সহ একাধিক শিক্ষিত যুবকের কাছ থেকে কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এ ঘটনায় মোস্তফার ভাই মোনায়েম সরদার বাদী হয়ে আখিনুর মোল্লা, (পিতা খেলাফত মোল্লা) তার স্ত্রী শামিমা আফরিন শিল্পী, হাবিবুর রহমান,আহাদ বিল্লা, আব্দুল্লাহ আল মামুন, নাছির উদ্দীন, ফারুক, সাগর আহম্মেদ সহ ৯ জনের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার থানায় মামলা করেছেন,যার নং ১৬। এদের বাড়ী খুলনা,মাগুরা,কুমিল্লা সহ বিভিন্ন স্থানে। এদিকে সোমবার রাতে অভিযান চালিয় ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মোঃ আশরাফুল আলম মাগুরা থেকে এ মামলার ১ ও ৩ নং আসামী আখিনুর দম্পতিকে গ্রেফতার করেছেন। থানায় মামলা ও দু’জন গ্রেফতারের কথা বলে ওসি মোঃ এজাজ শফী বলেন প্রতারক চক্রের কবলে পড়ে ভিকটিম সহ কয়েকটি পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

ডুমুরিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১ : আহত ৩

ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি : খুলনার ডুমুরিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় হেলপার নিহত এবং গুরুতর আহত হয়েছেন সুপার ভাইজারসহ ৩জন। বুধবার ভোর সাড়ে ৪টায় চুকনগর-যশোর সড়কের নরনিয়া নামক স্থানে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা গেছে, ঢাকা-পাইকগাছা রুটের ঠিকানা পরিবহন যার নং-ঢাকা মেট্রো ব ১৩-১৫৭০ যাত্রীসহ পাইকগাছা অভিমুখে ফিরছিল। পথিমধ্যে নরনিয়া নামক স্থানে এসে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পরিবহনটি রাস্তার পাশে থাকা আমগাছের সাথে ধাক্কা লেগে সামনের অংশ দুমড়ে মুচড়ে যায়। এ সময় পরিবহনের হেলপার রুবেল হোসেন (৩২) ঘটনাস্থলে মারা যান। আর গুরুতর আহত হয়েছেন সুপার ভাইজার মনিরামপুরের মনিরুল ইসলাম রাসেল (৩০), যাত্রী আশাশুনির হান্নান গাজী (২০) ও পাইকগাছার তানভীর হোসেন (৪০)। আহতরা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
এ বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন কর্মকর্তা তানভীর হাসান জানান, আমরা দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে একজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করি এবং গুরুতর আহত অবস্থায় ৩জনকে খুমেক হাসপাতালে প্রেরণ করি।

ডুমুরিয়ায় গৃহবধু’কে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

সুজিত মল্লিক, ডুমুরিয়া : ডুমুরিয়া উপজেলার দেডুলি গ্রামে এক গৃহবধ’ুকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গা ঢাকা দিয়েছে স্বামী-শ্বশুরসহ অন্যরা। থানা পুলিশ মঙ্গলবার রাতে লাশের সুরোতহাল রির্পোট শেষে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছে। এ ঘটনায় ডুমুরিয়া থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে যার নং-৬০।
পুলিশ ও স্বজনদের সুত্রে জানা গেছে, প্রেমজ সম্পর্কে জড়িয়ে প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে বিয়ের পিঁড়িতে বসে মিজান-এ্যানি। কিন্তু তাদের দাম্পত্য জীবন সুখের হয়নি। স্বামীর অন্যত্র প্রেম, যৌতুকের চাপ ও অমানুসিক নির্যাতনে মরতে হয়েছে এ্যানী’র। পুলিশ মঙ্গলবার রাতে তার মরদেহ উদ্ধারের পর ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছে।
এ বিষয়ে মৃত এ্যানি’র বাবা রুদাঘরা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক সরদার বলেন, এ্যানী’র (২০) সাথে একই উপজেলার দেড়ুলি গ্রামের শহীদ শেখের ছেলে লিটন শেখের (মিজান) বিবাহ হয়। কিছু দিন যেতে না যেতেই মিজান টাকা চাওয়া শুরু করে। আমিও মেয়ের সুখের কথা ভেবে সাধ্যমত টাকা দেওয়ার চেষ্টা করতাম। কিন্তু দিনে দিনে তার মাত্রা বেড়েই যাচ্ছিল। যা আমার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে। কিন্তু মিজান তখন টাকা না পেয়ে হয়ে যায় অন্য রকমের। কারণে অকারণে মারধোর করতো এ্যানীকে। কোন সময়ের জন্য ভাল ব্যবহার করতো না। সংসারের কেনা-কাটা, বাজার-ঘাট সবকিছু বন্ধ করে দিতো। আবার আমি টাকা দিলে ভালো হয়ে যেত। তাদের সংসারে ফয়সাল হোসেন রাজ’র (৮মাস) নামের একটি সন্তানও জন্ম হয়েছিল। তাই তো ছেলে রাজ’র মুখ পানে চেয়েই সবকিছু নীরবে সহ্য করতো এ্যানী। এরই মধ্যে মিজান গোপনে এক নার্সের সাথে গড়ে ওঠে প্রেমজ সম্পর্ক। যা জেনে ফেলে এ্যানী। আর এই নিয়েই তাদের মধ্যে চলে কলহ। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঝগড়ার এক পর্যায়ে এ্যানিকে মেরে গলায় ওড়না দিয়ে ঝুলিয়ে রাখে। খবর পেয়ে আমরা রাতে গিয়ে দেখি এ্যানির দেহ উঠানে পড়ে আছে। আর বাড়িতে কেউ নেই। আমি নিশ্চিত মিজান ও তার বাবা শহীদসহ তার পরিবারের লোকজন এ্যানীকে মেরে ফেলেছে।
এ বিষয়ে ডুমুরিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম বিপ্লব জানান, গৃহবধুর মৃত্যু নিয়ে গুঞ্জনের খবর শুনে আমি নিজেই ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। আমরা প্রাথমিক ভাবে লাশের সুরোতহাল রির্পোট শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছি। এ ঘটনায় অভিযোগের ভিত্তিতে একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু হয়েছে যার নং-৬০। তবে স্বামী মিজান ও শ্বশুর শহীদ শেখসহ অন্যরা গা ঢাকা দেওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে ঘটনাটি রহস্যজনক।

পাইকগাছায় ২ কেজি গাজাসহ আটক ২

পাইকগাছা প্রতিনিধি : পাইকগাছায় নলিয়ান কোস্টগাড অভিযান চালিয়ে ২ কেজি গাজা, মটরসাইকেলসহ দু’মাদক ব্যবসায়ী আটক করেছে। আটককৃতদের নামে পাইকগাছা থানায় মামলা হয়েছে।
জানা যায়, নলিয়ান কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের এসসিপিও সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ডিউটি করা কালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার আলমতলার বালির আড়ৎ নামকস্থানে অভিযান চালায়। এসময় সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া থানার কাকড়াডাঙ্গা গ্রামের রবিউল গাজীর স্ত্রী সাথী বেগম (২৬) ও পাইকগাছা থানার কুমখালী গ্রামের আইয়ুব গাজীর ছেলে মটরসাইকেল চালক আরিফুল ইসলামকে আটক করে। আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছে থাকা ব্যাগ থেকে ২ কেজি গাজা উদ্ধার করে। কোস্টগার্ড এসসিপিও কবির হোসেন জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা এ এলাকায় মাদক বিক্রি করে আসছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদেরকে আটক করে, মটরসাইকেল, নগদ টাকা ও মোবাইল সেট জব্দ করে পাইকগাছা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। ওসি এজাজ শফী জানান, তাদের নামে থানায় মাদক আইনে মামলা হয়েছে।

মোংলায় ধান চাষে নারী কৃষকদের ভাগ্য বদলে দিয়েছেন লজিক

মোংলা (বাগেগরহাট) প্রতিনিধি : মোংলায় ধান চাষে নারী কৃষকদের ভাগ্য বদলে দিয়েছেন লজিক। লজিক’র (লোকাল গভর্ণমেন্ট ইনিশিয়েটিভ অন ক্লাইমেট চেঞ্জ) আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি প্রশিক্ষণ, সার, বীজ বিতরণ, সার্বক্ষনিক তদারকি ও পরামর্শেই নারী কৃষকেরা তাদের বর্গা নেয়া জমিতে ধানের বাম্পার ফলন ফলিয়েছেন। মাঠ জুড়ে পাকা সোনালী ধান কাটা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে মাঠে উপস্থিত হয়ে সেই ধান কাটার উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকারের (বাগেরহাট) উপ-পরিচালক দেব প্রসাদ পাল। সেই সাথে মাঠে উপস্থিত নারী কৃষকেরাও একসাথে কাটতে শুরু করেন ধান। ধান কাটা নিয়ে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন ওই নারী কৃষকেরা। পাকা ধান কেটে ঘরে তুলবেন তাই আনন্দের শেষ নেই তাদের মাঝে। তারা বললেন, লজিক আমাদেরকে নগদ টাকা দিয়ে অন্যের জমি বর্গা নেয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। সেই জমিতে চাষাবাদ করে আমরা ধানের বাম্পার ফলন পেয়েছি। এখন কেটে তা কাড়াই করে ঘরে তুলবো। নতুন ধানের চালে পায়েস, পিঠা খাবো। লজিক আমাদের পাশে না দাঁড়ালে কোনভাবেই আমরা এভাবে ফসল ফলিয়ে লাভবান হতে পারতাম না। কখন চিন্তাও করিনি এই লবণ পানি ও মাটিতে এত সুন্দর ধান হবে। লজিকের সার্বিক সহায়তার কারণেই এবার আমরা প্রথম নারীরা মাঠে চাষ করে ধান ফলিয়ে সেগুলো নিজেরাই কেটে ঘরে নিচ্ছি। আগামীতে লজিক আমাদের পাশে থাকবেন এবং আমরা যাতে জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে সাথে বিভিন্ন কর্মকান্ডের মধ্যদিয়ে জীবনযাপন করতে পারি সেই দাবীই জানাচ্ছি লজিকের কাছে।
লজিক প্রকল্পের আওতায় মোংলা উপজেলার সোনাইলতলা ইউনিয়নের ৪৫ জন নারী দলীয় কার্যক্রমমে মাধ্যমে জমি লিজ নিয়ে ৪৩ বিঘা জমিতে লবণাক্ত সহনশীল ধান চাষের মাধ্যমে জলবায়ু সহনশীল জীবিকা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। লজিক’র কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যাচাই বাছাই করেই জলবায়ু জনিত বিপদাপন্ন এ সকল নারী পরিবারদেরকে চিহ্নিত করে দলে দলে বিভক্ত করে কার্যক্ষম করে তুলেছেন। ৪৩ বিঘা জমিতে ধান চাষের জন্য ৪৫ জন নারীর প্রত্যেককে ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ২৯ হাজার ৪৮০ টাকা করে দিয়েছেন লজিক। সেই টাকা দিয়েই জমি লিজ নিয়ে চাষাবাদ করে তারা সোনার ফসল ফলিয়েছেন।
লজিকের সহায়তায় ধান চাষাবাদ শেষে পাকা ধান কাটা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লজিক প্রকল্পের ডিস্ট্রিক ক্লাইমেট চেঞ্জ কোআরডিনেটর মো: মজিবর রহমান, ডিস্ট্রিক গ্রান্ট মনিটর এন্ড ফ্যাসিলিটেটর ফেরদৌসী শারমিন ও উপজেলা কৃষি অফিসার অনিমেষ কুমার বালা।
লজিক মুলত স্থানীয় সরকার, ইউএনডিপি, ইউএনসিডিএফ, ইইউ ও সিডা’র সহযোগীতামূলক সমন্বিত প্রকল্প। এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো জলবায়ু জনিত বিপদাপন্ন ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী, স্থানীয় সরকার ও সুশীল সমাজ সংগঠন সমূহের জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানো বিষয়ক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং অর্থায়নে সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। আর এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন স্থানীয় সরকার বিভাগ।

কালিগঞ্জে ওয়ারেন্ট ভুক্ত ১৪ জন আসামী আটক

হাফিজুর রহমান শিমুল, কালিগঞ্জ : কালিগঞ্জ থানা পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তারী পরোয়ানা ভুক্ত ১৪ জন আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। সোমবার(১৬ নভেম্বর) রাতে কালিগঞ্জ থানার চৌকস অফিসার ইনচার্জ মোঃ দেলোয়ার হুসেনের নেতৃত্বে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ মিজানুর রহমান, এস, আই তরিকুল ইসলাম, এস,আই সেলিম রেজা, এ,এস,আই রাসেল মাহমুদ, এ,এস,আই আলিমুজ্জামান, এ,এস,আই ফেরদাউস সহ পুলিশ কালিগঞ্জ থানার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে আসামীদের আটক করতে সক্ষম হন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন উপজেলার কাশেমপুর গ্রামের শেখ ইব্রাহীমের ছেলে শেখ দাওয়াত আলী (৩৩), বাজারগ্রামের মালেক শেখের ছেলে খায়রুল ইসলাম শেখ (৪৫), মলেঙ্গা গ্রামের আমের আলীর ছেলে আশরাফুল ইসলাম (২৪), উজিরপুর গ্রামের সিদ্দিক গাইনের ছেলে এমদাদ হোসেনের গাইন (৩২), কিবরিয়া হোসেন খোকন (৪০), মাহমুদুল হাসান গাইন (২৭), বদির হোসেন গাইন (৩৪) ও মৃত ইয়াহিয়া গাইনের ছেলে সিদ্দিকুর রহমান গাইন (৬০), মৌতলা গ্রামের ময়না মীরের ছেলে মোঃ ফারুক হোসেন মীর ( ৬টি ওয়ারেন্টে ভুক্ত আসামী)। তাদের কে গ্রেপ্তার করে সাতক্ষীরা বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলা হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এদিকে কালিগঞ্জ থানার চৌকস অফিসার ইনচার্জ দেলোয়ার হুসেনের নেতৃত্বে থানা পুলিশ মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) সকাল থেকে কার্লিগঞ্জ তারালী মোড়ে হেলমেট বিহিন মটরসাইকেল চালানোর অভিযোগে ১০টি মটরসাইকেল আটক করে। এছাড়া যাত্রীবাহী বাসে ও ট্রাকে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন হাইড্রিং ২৪টি হর্ণ খুলে জব্দ করেন। এছাড়া একটি বাস একটি ট্রাক আটক করেন। জানা গেছে, কাগজ পত্র ও হেলমেট না থাকায় তাদের কে আটক করে মামলা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কালিগঞ্জ পাইলট বালিকা বিদ্যালয় থেকে অষ্টম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীর বাই সাইকেল চুরি হলে বিষয়টি কালিগঞ্জ থানায় অফিসার ইনচার্জের কাছে লিখিত অভিযোগ করলে থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ দেলোয়ার হুসেন সাইকেল চুরির অভিযোগে হৃদয় নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে অভিনব কৌশলে ২৪ ঘন্টার মধ্যে চুরি যাওয়া বাইসাইকেল উদ্ধার করেছেন।

বটিয়াঘাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের শোক

বিজ্ঞপ্তি : জা‌তির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মু‌জিবুর রহমান এর ছোট ভাই শহীদ শেখ আবু না‌সের এর সহধ‌র্মিনি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচি, জননেতা শেখ হেলাল উ‌দ্দিন এম‌পি, শেখ সালাহউ‌দ্দিন এম পি, বি‌সি‌বি প‌রিচালক শেখ সো‌হেল, শেখ রুবেল, শেখ বেল্লাল উদ্দিন বাবু এর মাতা ঢাকার এক‌টি হাসপাতা‌লে চি‌কিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহ ওয়া ইন্না ইলাই‌হি রাজিউন)।
মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিবৃতি প্রদান করেছেন খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।
প্রদত্ত বিবৃতিদাতারা হলেন বটিয়াঘাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আশরাফুল আলম খান, সাধারণ সম্পাদক, জেলা পরিষদের সদস্য দিলীপ হালদার, আওয়ামী লীগনেতা অধ্যাপক ফিরোজুর রহমান, মৃন্ময় পাল, আকরাম হোসেন, প্রদিপ বিশ্বাস, মীর মোহাম্মদ আলী, পলাশ রায়, রবীন দত্ত, অনুপ গোলদার, বিবেক বিশ্বাস, চঞ্চলা মন্ডল, বিএম মাসুদ রানা, শেখ অহিদুর রহমান, প্রসাদ রায়, মোশারফ হোসেন, কার্তিক রায়, গোবিন্দ রায়, স্বপন সরকার, সুধাংশু রায়, মোঃখলিলুর রহমান, নারায়ন সরকার, জাকির হোসেন লিটু, শেখ মোঃ হাদি উজ জামান হাদী, মশিবুর রহমান, পংকজ রায়, নাসির উদ্দীন শেখ, মোল্লা মিজানুর রহমান বাবু, মানস পাল, তুলসি রায়, রবীন্দ্রনাথ সরকার, আবুল কালাম আজাদ, মোক্তার হোসেন, আসলাম তালুকদার, জিএম মিজানুর রহমান মিলন, তরিকুজ্জামান সুমন, অহিদুল ইসলাম, মুজিবুর রহমান খোকন, গৌরদাস ঢালী, তপতি বিশ্বাস, রুনা লায়লা, মোস্তাফিজুর রহমান, হুমায়ুন কবির, অরিন্দম গোলদার, মিজানুর রহমান মিজানসহ সকল পর্যয়ের নেতৃবৃন্দ। শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।