রামপালে ১১ বছরের শিশু ধর্ষণের শিকার : ধর্ষক গ্রেফতার

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি : বাগেরহাটের রামপালে ১১ বছরের শিশু ধর্ষণের ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। রামপাল থানা পুলিশ তাৎক্ষনিকভাবে অভিযান চালিয়ে ধর্ষক গোলাম শেখ (৫৫) ওরফে পাল গোলামকে আটক করেছে।

রামপাল থানার ওসি মোঃ মনজুরুল আলম জানান, উপজেলার পেড়িখালী ইউনিয়নের সিকিরডাঙ্গা আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর জনৈক দিন মজুরের ১১ বছরের শিশু কন্যাকে একই এলাকার মৃত আমীন উদ্দিন শেখের পুত্র গোলাম শেখ গত মঙ্গলবার সকাল ১০ টার সময় পার্শ্ববর্তী একটি ডোবায়/ নিচু জায়গায় নিয়ে ধর্ষণ করে। ওই শিশুটি ভয়ে বিষয়টি পরিবারকে দেরীতে জানায়। জানার পর শুক্রবার বিকেলে ওই শিশুটির মা শিশুকে রামপাল থানায় নিয়ে আসেন। এরপর শিশুটির মা বাদী হয়ে রামপাল থানায় একটি মামলা দায়ের করে। এরপর পুলিশ তাৎক্ষনিকভাবে অভিযান চালিয়ে সন্ধ্যার একটু আগে ধর্ষক গোলামকে বড়দিয়া গ্রাম থেকে গ্রেফতার করে । ধর্ষণ ও ধর্ষণের ঘটনায় মামলা এবং ধর্ষক গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওসি মনজুরুল আলম।

ডুমুরিয়ায় তারেক রহমানের জন্মদিন পালিত

ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি : বিএনপির কেন্দ্রীয় সংসদের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক জিয়া’র ৫৬তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ডুমুরিয়া উপজেলা বিএনপির আয়োজনে গতকাল শুক্রবার দুপুরে উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মোল্ল্যা মোশাররফ হোসেন মফিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিথ সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি, বিএম এর সাবেক মহাসচিব ডাঃ গাজী আব্দুল হক। সভায় আরও বক্তৃতা করেন শেখ সরোয়ার হোসেন, গাজী আব্দুল হালিম, শেখ দিদারুল হোসেন, মাস্টার আমিরুল ইসলাম হালদার, শেখ শাহীনুর রহমান, মোল্যা কবির হোসেন, বিমে জহুরুল হক, শহিদুল ইসলাম মোড়ল, শাহাদাৎ হোসেন, আহম্মদ আলী ফকির, শেখ মাহাবুর রহমান, খান শফিকুল ইসলাম, মোল্যা মশিউর রহমান, সরদার আব্দুস ছালাম, মাস্টার আয়ুর আহমেদ, দেলোয়ার হোসেন, সাইদুজ্জামান বাবু, ডাঃ হংসপতি বৈরাগী, মাস্টার সেলিম হালদার, আফসার শেখ, শেখ আব্দুল গফফার, মতিয়ার রহমান, আবুল কালাম আজাদ, শফি জোয়ার্দ্দার, পারভেজ গাজী, জাহাতাপ গাজী, আছাবুর রহমান হবি, আজিজ মোড়ল, স্বপন মিস্ত্রি, আয়ুব আহমেদ, হামিদুর রহমান বাবু, শনিরুল ইসলাম, কামরুল ইসলাম, আনিচুর রহমান, হাফিজ বাগাতী, ছাত্রদলের আবরার হোসেন সৈকত, আমজাদ গাজী, রিয়াজুল ইসলাম সাহেদ, রিপন সানা, কৃষ্ণ বিশ্বাস, ইমন সরদার, দিগন্ত মল্লিক, ইয়াছিন গাজী, সাব্বির রহমান, আতাউর রহমান প্রমুখ।

ডুমুরিয়ায় রাজিয়া নাসেরের দোয়া ও স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত

ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচী, শেখ হেলাল উদ্দীন এমপির মা রাজিয়া নাসেরের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল ও স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ডুমুরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজনে গতকাল শুক্রবার বিকেল ৪ টায় দলীয় কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোন্তফা কামাল খোকন। বক্তৃতা করেন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শাহনেওয়াজ হোসেন জোয়াদ্দার, অধ্যক্ষ এবিএম শফিকুল ইসলাম, সরদার আবু সাঈদ, শেখ নাজিবুর রহমান, আলহাজ্ব শেখ হেফজুর রহমান, সরদার আবু সালেহ, শোভা রানী হালদার, জি এম ফারুক হোসেন, গোপাল চন্দ্র দে, খান আবু বক্কার, গাজী তৌহিদ, মোল্লা সোহেল রানা, সাংবাদিক এস এম জাহাঙ্গীর আলম, খান নজরুল ইসলাম, আছফার হোসেন জোয়াদ্দার, মাসুদ রানা নান্টু, গোবিন্দ ঘোষ, শেখ ইকবাল হোসেন, খান রবিউল ইসলাম আন্টু, খান হাফিজুর রহমান, প্রভাষক আমিনুর রহমান, রবিন্দ্রনাথ তরফদার, শেখ জাকির হুসাইন, মেহেদী হাসান বিপ্লব, মেহেদী হাসান রাজা, শিমু আকতার, খান আবুল বাসার, শেখ মাসুদ রানা, সরদার রাসেল। দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা আব্দুল গফুর মোড়ল।

পাইকগাছায় যত্রতত্র বিক্রি হচ্ছে দাহ্য পদার্থ

মোঃ আসাদুল ইসলাম, পাইকগাছা :  সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই খুলনার পাইকগাছায় উপজেলার রাস্তাঘাট, হাটবাজার এবং সড়কের মোড়ে মোড়ে যত্রতত্র বিক্রি হচ্ছে দাহ্য পদার্থ অকটেন, পেট্রোল, ডিজেল ও এলপি গ্যাস সিলিন্ডার। এতে যে কোনো সময় অগ্নিকাণ্ড ঘটে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণনাশের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। অথচ প্রশাসন এ ব্যাপারে নির্বিকার।

পৌর শহরের বাসিন্দারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দুর্বৃত্তরা খুব সহজেই ছোট বোতল ভর্তি এসব অতি দাহ্য পদার্থ কিনে নিয়ে বড় ধরনের নাশকতা ঘটাতে পারে। বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তার স্বার্থে খোলা বাজারে এসব অতি দাহ্য পদার্থ বিক্রি বন্ধ করা উচিত।

সোলাদানা, লস্কর, চাঁদখালী বাজারের কয়েকজন গ্যাস সিলিন্ডার ও খুচরা অতি দাহ্য পদার্থ বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আইন-কানুন সম্পর্কে তারা কিছুই জানেন না। অথচ প্রতিদিন সিলিন্ডার অকটেন, পেট্রোল বিক্রি করে থাকেন তারা।

বিস্ফোরক পরিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সরকারি বিধি মোতাবেক গ্যাস সিলিন্ডার, পেট্রল, মবিল বিক্রির জন্য কমপক্ষে ফ্লোর পাকাসহ আধপাকা ঘর, ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপণ লাইসেন্সসহ অগ্নিনির্বাপণ সিলিন্ডার, মজবুত ও ঝুঁকিমুক্ত সংরক্ষণাগার থাকতে হবে। একজন ব্যবসায়ী ওই সব শর্ত পূরণ করলেই কেবল বিস্ফোরক লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্য। বিস্ফোরক লাইসেন্স ছাড়া কোনো দোকানে দাহ্য পদার্থ বিক্রি করা যাবে না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী বলেন, দাহ্য পদার্থ বিক্রির সুনির্দিষ্ট বিধিমালা আছে। যথাযত কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত লাইসেন্স ছাড়া যত্রতত্র অকটেন, পেট্রোল ও ডিজেল কিংবা এলপি গ্যাস বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। জড়িতদের বিরুদ্ধে অচিরেই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মোংলা বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য চিকিৎসা সেবা কেন্দ্রের উদ্বোধন

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি : খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক বলেছেন, মোংলা বন্দরসহ তার চারপাশে যে উন্নয়ন হয়েছে এবং হচ্ছে তার সবকিছুরই অবদান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। তিনিই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসে মোংলা বন্দরকে ঘিরে নানা উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ ও তা বাস্তবায়ন করেছেন। মোংলা বন্দরের আউটারবারের ড্রেজিং হওয়ার কারণেই এখন বন্দরে সরাসরি বড় বড় জাহাজ আসছে। এছাড়া বন্দর জেটিও জাহাজে পরিপূর্ণ থাকছে। এটা সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর স্বদিচ্ছার কারণেই। তিনি আরো বলেন, এ বন্দরকে আরো ব্যস্ততম করার উদ্দেশ্যে তার আমলেই তিনি এখানে ইপিজেড নির্মাণ করেছেন। বর্তমানে চলছে অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়ন কর্মকান্ডও। পাশাপাশি বন্দরকে অধিকতর গতিশীল করতে মোংলা-রামপালে মাঝামাঝি স্থানে ফয়লায় খান জাহান আলী বিমান বন্দরের কাজও এগিয়ে যাচ্ছে। দ্রুত গতিতে চলছে খুলনা-মোংলা রেল লাইনের কাজও। এছাড়া পদ্মা সেতুতে আর মাত্র তিনটি স্পান বসানো বাকী রয়েছে। বাকী স্পান বসানোর পর এ সেতু চালু হলো এ বন্দরের কর্মচাঞ্চ্যতা আরো বেড়ে যাবে। মোংলা বন্দর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যৎতে অর্থনীতিকে আরো বেশি সমৃদ্ধ করবে এ বন্দর। তাই তিনি বন্দর কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও শ্রমিক-কর্মচারীদেরকে আন্তরিকভাবে কাজ করার আহবাণ জানান।
বৃহস্পতিবার দুপুরে মোংলা বন্দর শ্রমিক কল্যাণ চিকিৎসা কেন্দ্রের উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি পৌর শহরের পুরাতন বন্দর এলাকার বিলুপ্ত ডক শ্রমিক পরিচালনা বোর্ড কম্পাউন্ডের ভিতরে শ্রমিক-কর্মচারীদের চিকিৎসার জন্য নির্মিত নতুন চিকিৎসা কেন্দ্রের নাম ফলক উম্মোচন করেন। এ সময় বন্দর কর্তৃপক্ষে চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম শাহজাহান, পরিচালক (প্রশাসন) গিয়াস উদ্দিন, উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তাহের হাওলাদার, মোংলা বন্দর শ্রমিক-কর্মচারী সংঘের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক সেন্টু, বন্দর ব্যবহারকারী মশউর রহমানসহ বন্দর সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বন্দর ব্যবহারকারী ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।
বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম শাহজাহান বলেন, এই চিকিৎসা সেবা কেন্দ্রটি উদ্বোধনের কারণে মোংলা বন্দরে আগত জাহাজের পণ্য বোঝাই ও খালাস কাজে নিয়োজিত শ্রমিক-কর্মচারীরা নিয়মিত চিকিৎসা সেবা পাবেন। বন্দরে কর্মরত শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও চাওয়া ছিল তাদের জন্য এটি হাসপাতালের, শ্রমিক কল্যাণ চিকিৎসা কেন্দ্রটি উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে আমরা তাদের সেই প্রত্যাশা ও স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছি।
উল্লেখ্য, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ডক শ্রমিক পরিচালনা বোর্ড বিলুপ্তির পর ২০১০ সাল থেকে বন্ধ থাকে শ্রমিকদের হাসপাতালটিও। শ্রমিক-কর্মচারীদের দাবীর প্রেক্ষিতেই পুনরায় দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর পর হলেও আবারো শ্রমিকদের চিকিৎসা সেবার জন্য নতুন এই সেবা কেন্দ্রটি চালু করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

বটিয়াঘাটায় সাবেক আ’লীগ নেতা বিধান বিশ্বাসের স্মরন সভা অনুষ্ঠিত

বটিয়াঘাটা প্রতিনিধি : বটিয়াঘাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থ বিষয়ক সম্পাদক বিধান চন্দ্র বিশ্বাসের আত্মার শান্তি কামনায় এক স্মরন সভা বৃহস্পতিবার বিকাল চারটায় স্থানীয় বাজার নাট মন্দির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় ।স্মরন সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন মহান জাতীয় সংসদের হুইপ পঞ্চানন বিশ্বাস (এমপি) । অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা মনোরঞ্জন মন্ডল,ডাঃ তারিনী কান্ত মন্ডল ,সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা বীরমুক্তিযোদ্ধা কার্তিক চন্দ্র বিশ্বাস,এমপি তনয় পল্লব বিশ্বাস রিটু, উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক মনোরঞ্জন মন্ডল, উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইন্দ্রজিৎ টিকাদার, প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ধীমান মন্ডল, জাতীয় পার্টির উপজেলা সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস,শিক্ষক ননী গোপাল গোলদার,মলয় রায়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার মোঃ আজিজুর রহমান, সাংবাদিক পরিতোষ রায়,রেখা রানী বিশ্বাস, অর্চনা ঘোষ,বাজার কমিটির সভাপতি রঞ্জন মিস্ত্রী, সাধারণ সম্পাদক সমীর রায়,সাবেক ইউপি সদস্য খোকন মল্লিক, ইউপি সদস্যা রমা মন্ডল,অলোক মল্লিক, মানবাধিকার সংরক্ষণ কমিশনের উপজেলা সম্পাদক সরদার হাফিজুর রহমান, সমাজ সেবক সত্যেন্দ্র নাথ রায় প্রমূখ ।  স্মরন সভা শেষে স্বাস্থ্য বিধি মেনে রাম নাম অনুষ্ঠিত হয় ।

পাইকগাছা সন্দেহভাজন ৩ যুবক আটক

পাইকগাছা প্রতিনিধি : পাইকগাছা থানাপুলিশ সন্দেহভাজন ৩ যুবককে আটক করে আদালতে প্রেরণ করেছে। তাদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। বুধবার গভীর রাতে উপজেলার কপিলমুনির হাসপাতাল মোড়ের পাশে ৩ যুবক সন্দেহভাজন ঘোরা ফেরা করছিল। টহল পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের আটক করে থানায় আনে। আটকৃতরা হলেন, উপজেলার নাসিরপুর গ্রামের আব্দুল্লাহ মোড়লের পুত্র শাহিনুর ও ইমরান এবং রেজাকপুর গ্রামের নেছার শেখের পুত্র ফিরোজ শেখ। ওসি এজাজ শফী জানান, থানার পিসিপি পর্যালোচনা করে শাহিনুর ও ইমরানের নামে থানায় একাধিক মামলা পাওয়া গেছে।

রেল কর্মচারীর অবৈধ দখলে পূর্বাঞ্চল রেলের কোটি টাকার ভূমি!

রিটন দে লিটন, চট্টগ্রাম:  পূর্বাঞ্চল রেলের কোটি টাকার ভূমি দখল করে বাসা ভাড়া বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে রেলের কর্মচারী।

জানা যায় পূর্বাঞ্চল রেলওয়ে পাহাড়তলী কারখানা শাখায় ২০০৫ সালে খালাসী পদে যোগদান করেন মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম শফিক নামের এই কর্মচারী, অভিযোগ রয়েছে অষ্টম শ্রেনীর জাল সনদ দিয়ে চাকুরীতে যোগদান করেন এই শফিকুল। যোগদানের পর কারখানা শাখা শ্রমিকদলে যোগদিয়ে করেন নানা অপকর্ম। দখল করেন পাহাড়তলী আমবাগান ভাঙ্গারপুল রেলওয়ে কলোনীর বিশাল জায়গা। আর সে জায়গাতে ১৫ বছর ধরে বাসা ভাড়া দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে খালাসি শফিকুল।

জানা যায়, পূর্ব রেলের টিকেট কালোবাজারির বড় সিন্ডিকেট প্রধান এই শফিকুল। তার নেতৃত্বে রয়েছে আবার রেল কেন্দ্রীক বিশাল চোর সিন্ডিকেটও। সম্প্রতি কয়েকশ টিকেটসহ শফিকুল ও তার এক সহযোগীকে হাতে নাতে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তখন পাহাড়তলী মডেল থানায় এই ব্যাপারে একটি মামলাও হয়, সে মামলায় শফিকুলসহ তার একসহযোগি পাঁচ মাস জেল খাটেন। পরে জামিনে বেরিয়ে এসে ফের নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছেন এই শফিকুল।

আরও জানা যায়, রেল কেন্দ্রীক বিভিন্ন মামলা চলমান থাকায় দীর্ঘ ১০ বছর তার কোন প্রমোশন ও বাৎসরিক বেতন বৃদ্ধি না হলেও বর্তমানে তিনি রেলের জায়গায় বাসা বরাদ্দ নিয়ে আশপাশের রেলওয়ের প্রায় ১ একর জায়গা দখল করে নেন। এতেই দখলবাজ শফিকুল প্রায় অর্ধশত ঘর বানিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। আবার এসব ঘরে অবৈধভাবে নেয়া হয়েছে গ্যাস লাইন, বিদ্যুৎ লাইন ও পানির লাইনের সংযোগও।

কম বেতনের চাকুরী ওয়ালা শফিকুল রেলের জায়গা দখলে নিয়ে বাণিজ্য করে আসলেও তার এই অপকর্মের জন্য রেল কর্তৃপক্ষের কোন মাথা ব্যাথা নেই। সে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে এমন কাণ্ড ঘটালেও নিরব ভুমিকা পালন করছেন রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এতে করে শফিকুল নামে-বেনামে গড়ে তুলেছেন কোটি-কোটি টাকার সম্পত্তির পাহাড়।

সূত্র জানায়, ২০০৯ সালে আওয়ামিলীগ ক্ষমতায় আসার পর পর শ্রমিকদলের চামড়া পাল্টিয়ে যোগ দেন রেলওয়ে শ্রমিকলীগে। তখন রেল শ্রমিকলীগের ব্যানারে টিকেট কালোবাজারি, বাসা বানিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্য, রেলওয়ে জায়গা দখল করে বিক্রি, ঘর ণির্মাণ, সরকারি পরিত্যক্ত বাসা দখল করে ভাড়া দেওয়া, চাকুরীর ক্ষেত্রে অনুপস্থিত থেকে বেতন তোলা সহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

আরও জানা যায়, গত খালাসী নিয়োগে চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ শ্রমিক ও গ্রামের বাড়ির লোকজন থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। আর চাকুরীর আশায় দেওয়া টাকা ফেরত চাওয়ায় শফিকুল তাদেরকে বিভিন্ন ধরণের হুমকি-ধমকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, শফিকুল ইসলাম ২০০৫ সালে রেলওয়ের পাহাড়তলী কারখানায় ওয়ার্কসপ খালাসি হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। চাকরিতে যোগদানের সময় তিনি চালাকি করে জমা দেন ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল রোড় উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার নকল সার্টিফিকেট। তার এই অনিয়মের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন রেলওয়ে শ্রমিকলীগ।

জানা যায়, শ্রমিকলীগ নেতা সিরাজুল ইসলামের হাত ধরে বাংলাদেশ রেলওয়ে ঋনদান সমিতির (সীমিত) পরিচালক হওয়ার পর বেপরোয়া হয়ে উঠে খালাসি শফিকুল। তখন প্রতিটি লোন বাবদ শ্রমিকের ন্যায্য টাকা থেকে ৮/১০ হাজার টাকা করে বাধ্যতামূলক দিতে হয় এই শফিকুলকে। এত অভিযোগের পরও সেই রেল প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বুক ফুলিয়ে রেলে চাকুরী করছে অনায়াসে।

এ বিষয়ে জানার জন্য খালাসী শফিকুল ইসলামের মোঠোফোনে একাদিকবার কল দেয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

তবে এ বিষয়ে রেলওয়ে শ্রমিকলীগে একাংশের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, খালাসি শফিকুলের বিরুদ্ধে আমার কাছে বিভিন্ন অভিযোগ আসলে তখন আমরা তাকে শ্রমিকলীগ থেকে বের করে দিই। পরে সে রেলওয়ে শ্রমিকলীগের আরেকটি গ্রুপে যোগদিয়ে বিভিন্ন অপকর্ম করছে বলে বারবার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

এ বিষয়ে রেলওয়ে শ্রমিকলীগের অপর অংশের নেতা শেখ লোকমান হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি অসুস্থ বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে পাহাড়তলী ওয়ার্কশপে নানা রকম দালালি ও কারসাজি করে খালাসি শফিকুল। শফিকুলের নানা অপকর্মের কারণে পূর্ব রেলের সাধারণ কর্মচারীদের মাঝে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। তারা রেল কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্তপূর্বক শফিকুল সিন্ডিকেটকে শাস্তির আওতায় এনে পাহাড়তলী রেল কারখানাকে কলংকমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানার জন্য পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) সরদার শাহাদাত আলী গণমাধ্যমকে জানান, শফিকুলের ব্যাপারে খোজ-খবর নেয়া হচ্ছে। সে যদি রেলের জায়গা দখল করে ঘর-ভাড়া বাণিজ্য করে তাহলে তাকে ছাড় দেয়া হবে না। অপরাধী যেই হোক তাকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।