মজেছি তোমারই প্রেমে’ বইটির মোড়ক উন্মোচন

চট্টগ্রাম ব্যুরো:‘মজেছি তোমারই প্রেমে স্বর্গ সুখ চাই না’ গ্রন্থটিতে কবিতার মাধ্যমে ঐশী প্রেমবাদের কথা প্রকাশ করা হয়েছে। অর্গলমুক্ত ঐশী প্রেমবাদ বিশ্বমানবতার জন্য হযরত গাউসুল আযম মাইজভান্ডারী (ক.)-এর একটি দুর্লভ অবদান। প্রভূর একত্বে সম্মিলিত হওয়াই হচ্ছে সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্য। হযরত গাউসুল আযম মাইজভান্ডারী (ক.) মহাপ্রভূর একত্বে মিলনের পথ আবিস্কার করেছিলেন এবং সে পথ অর্জনের পন্থা নির্দেশ করেছিলেন। মহা প্রভুর এ একত্বে মিলনের পথ হচ্ছে অর্গলমুক্ত ঐশী প্রেমবাদের পথ। ‘মজেছি তোমারই প্রেমে স্বর্গ সুখ চাই না’ গ্রন্থটিতে কবিতার মাধ্যমে ঐশী প্রেমবাদের কথা প্রকাশ করার চেষ্টা করা হয়েছে। সম্প্রতি ফটিকছড়ির হাইদচকিয়া সূর্যগিরি আশ্রম মিলনায়তনে লায়ন ডা. বরুণ কুমার আচার্য বলাইয়ের সূর্যগিরি আশ্রম কর্তৃক প্রকাশিত ‘মজেছি তোমারই প্রেমে স্বর্গ সুখ চাই না’ বইটির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফটিকছড়ির উপজেলা চেয়ারম্যান হোসেন মো. আবু তৈয়ব উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। উক্ত বইটি বাবা ভাণ্ডারীর খোশরোজ শরীফ উপলক্ষে প্রকাশিত। উৎসর্গ করা হয় মজজুবে সালেক, মাহবুবে খালেক, ফানাফিল্লাহ বাকাবিল্লাহ, মোকতাদায়ে আহলে কাবা, গাউসুল আযম বিল বেরাসত হযরত মাওলানা শাহসুফি সৈয়দ গোলামুর রহমান মাইজভাণ্ডারী প্রকাশ বাবা ভাণ্ডারী কাদ্দাসাল্লাহু সিররাহু এর পবিত্র করকমলে। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন হযরত মাওলানা শাহসুফি অধ্যক্ষ সৈয়দ খাইরুল বশর হক্কানী, মোহাম্মদ আলী, ফজলুল হক ফজু, কামাল উদ্দিন, ওমর ফারুক, সৈয়দ নুরুল আলম, মোহাম্মদ ইদ্রিস, অধ্যাপক এন এম রহমত উল্লাহ, মনজুরুল আলম মনজু, খোরশেদ আলম, মোহাম্মদ সাইফুল, ইমাম হোসেন, হাফেজ আবুল কাশেম, আনিস সোহেল, আলী নেওয়াজ, মাস্টার কবীর আহমদ, মোহাম্মদ আলমগীর আলম, মাস্টার দিদারুল আলম, মো. মাহবুবুল আলম, আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর, মাস্টার মো. নাছির উদ্দিন, মো. দিদারুল আলম, নুরুল হুদা, শিমুল ধর, দৈনিক পূর্বকোণের ফটিকছড়ি প্রতিনিধি সাংবাদিক বিশ্বজিৎ রাহা, সাংবাদিক মোহাম্মদ রফিক, মোহাম্মদ সেলিম, মোহাম্মদ আলমগীর নিশান, মোহাম্মদ সোহান, তরুণ কুমার আচার্য কৃষ্ণ, রুবেল শীল, ধীমান দাশ, বিপ্লব চৌধুরী কাঞ্চন, প্রবোধ পাল, সোমা চৌধুরী সুমি, দীপন ভট্টাচার্য, মোহাম্মদ আবু সাদাত সায়েম সুমন, সৈয়দ গোফরান উদ্দিন।

সাগরদাঁড়ী মধুপল্লীর দর্শনার্থীরা মানছে না স্বাস্থ্যবিধি

রাজীব চৌধুরী, কেশবপুর : যশোরের কেশবপুরে মহাকবি মাইকেল মধূসুদন দত্তের জন্মভূমি সাগরদাঁড়ীতে গড়ে উঠেছে প্রত্নস্তল ও জাদুঘর।করোনা ভাইরাসের কারনে এই প্রত্নস্থল ও জাদুঘর বন্ধ ছিল।কিন্তু সম্প্রতি এটি দর্শনার্থীদের জন্য কিছু শর্তসাপেক্ষে খুলে দেওয়া হয়েছে।কোভিড-১৯ মহামারীর মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হলেও সাগরদাঁড়ী মধুপল্লীর প্রত্নস্থল ও জাদুঘরে প্রবেশের ক্ষেত্রে মাস্ক পরিধান করাসহ নানাবিধ সচেতনতামূলক নির্দেশনার লিফলেট প্রবেশ পথে লাগানো থাকলেও সেই নির্দেশনা মানছে না বিভিন্ন স্থান থেকে আগত দর্শনার্থীরা। ইতিমধ্যে সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে এমনকি কেশবপুরেও মাস্ক পরিধান করা নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে জরিমানা করা হয়েছে। বর্তমানে করোনার দ্বিতীয় ধাপ এসেছে বলা হলেও করোনাকালীন সতর্কতা অবলম্বন করছে না প্রত্নস্হল সাগরদাঁড়ী মধুপল্লীর দর্শনার্থীরা। এ বিষয়ে সাগরদাঁড়ী মধুপল্লীর কর্তব্যরত কাষ্টোডিয়ান মোঃ যায়েদ এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন প্রবেশ গেটে মাস্কব্যতীত প্রবেশ নিষেধ উল্লেখ থাকলেও দর্শনার্থীরা মাস্ক পরে ভিতরে প্রবেশ করে পরবর্তীতে মাস্ক খুলে ফেলছেন।দর্শনার্থীদের মাস্কপরিধান সহ স্বাস্থ্য বিভাগের জারীকৃত স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে বলে জানান তিনি।

করোনাকালীন সময়ে প্রতিবন্ধীদের মাঝে রেড ক্রিসেন্টের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

চট্টগ্রাম ব্যুরো:করোনাকালীন সময়ে প্রতিবন্ধীদের পাশে মানবতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে রেড ক্রিসেন্ট চট্টগ্রাম। ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আজ ২১ নভেম্বর বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি চট্টগ্রামের উদ্যোগে যুব রেড ক্রিসেন্ট, চট্টগ্রামের বাস্তবায়নে খাদ্য সামগ্রী নগরীর মির্জাপুলস্থ চুন্নমিয়া লেইনে প্রতিবন্ধীদের মাঝে বিতরণ করা হয়। উক্ত খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ম্যানেজিং বোর্ড সদস্য ও জেলা রেড ক্রিসেন্টের ভাইস চেয়ারম্যান ডাঃ শেখ শফিউল আজম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব মোঃ ফিরোজ সালাহ্ উদ্দিন। যুব রেড ক্রিসেন্ট, চট্টগ্রামের যুব প্রধান মোঃ ইসমাইল হক চৌধুরী ফয়সাল এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি রেড ক্রিসেন্টের কার্যকরী পর্ষদ সদস্য আনোয়ার আজম, চট্টগ্রাম জেলা ইউনিটের ইউনিট লেভেল অফিসার আব্দুর রশিদ খান, সিটি ইউনিটের ইউনিট লেভেল অফিসার মুহাম্মদ ইয়াহইয়া বখতিয়ার, যুব রেড ক্রিসেন্ট চট্টগ্রামের ক্রীড়া ও প্রচার প্রকাশনা বিভাগীয় প্রধান কৃষ্ণ দাশ, কার্যকরী পর্ষদের সদস্যবৃন্দ ও যুব স্বেচ্ছাসেবকরা। নগরীর ষোলকবহর, মুরাদপুর, দুই নাম্বার গেইট, বহদ্দারহাট, চকবাজার এলাকার প্রতিবন্ধীদের চাউল, ডাল, চিনি, সুজি, লবণ, তৈল উপকরণ সমূহ বিতরণ করা হয়। খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে সোসাইটির মহাসচিব মোঃ ফিরোজ সালাহ্ উদ্দিন বলেন, ‘‘রেড ক্রিসেন্ট মানবতার সেবায় প্রতিনিয়ত কাজ করে থাকে। প্রতিবন্ধীদের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ সত্যিই প্রশংসনীয়।’’

এছাড়াও মির্জাপুলস্থ ডাঃ শেখ শফিউল আজমের বাসভবনে তিন মাস ব্যাপী চলমান ফøু কর্ণার ও ইনভেস্টিগেশন সেল কার্যক্রমে চিকিৎসা সেবা পরিদর্শন ও সেবা প্রাপ্তিদের মাঝে বিনামূল্যে ঔষধ বিতরণ করেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব মোঃ ফিরোজ সালাহ্ উদ্দিন।

ফুলতলায় তারেক রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে সবজি বীজ বিতরণ

ফুলতলা (খুলনা) প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫৬তম জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে ফুলতলা উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে শনিবার বিকালে আইডিয়াল মোড়ে প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে সবজি বীজ বিতরণ অনুষ্ঠান সাবেক এমপি ডাঃ গাজী আব্দুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা জেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাড. শফিকুল আলম মনা। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ন সম্পাদক আবু হোসেন বাবু, রুম্মন আজম। অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন বিএনপি নেতা সেলিম সরদার, ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আবুল বাশার, শেখ লুৎফর রহমান, ওয়াহিদুজ্জামান নান্না, শেখ আঃ সালাম, কাজী আনোয়ার হোসেন বাবু, আলহাজ্ব শেখ হারুন অর রশিদ, আঃ হালিম, শফিক আহম্মেদ মেজবা, ইদ্রিস আলী মোল্যা, জামাল হোসেন ভুইয়া, মহিউদ্দিন শেখ, মোঃ আক্তার হোসেন, নজরুল ইসলাম মোল্যা, তুষার মোল্যা, গোলাম বকতিয়ার, সিরাজ মোড়ল প্রমুখ। এ সময় উপজেলার ৪ ইউনিয়নের শতাধিক প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে সবজি বীজ বিতরণ করা হয়।

চট্টগ্রামে বিপুল পরিমান ইয়াবাসহ আটক ৮

নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিপ্তরের (ডিএনসি)’র মাদক বিরোধী পৃথক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান ইয়াবাসহ ৮ জন ইয়াবা ব্যবসায়ীকে আটক করেছেন। আটককৃতরা হচ্ছে মোঃ রিফাত(২০), মোছঃ শাহিদা বেগম (৪২), মোঃ হাশিম(২৭), মোঃ আলাল খান (২৫), মোঃ সাজিদ আকন্দ(২৮), ছব্বির আহমেদ (২৫), ফাতেমা বেগম (৩০) এবং মোঃ সাইফুল ইসলাম (২৫)। আটককৃতদের কাছ থেকে মোট ২৫ হাজার ২১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার (২০ নভেম্বর) দিনব্যাপী চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করেন।
চট্টগ্রাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিপ্তরের (ডিএনসি)’র সূত্র মতে, ২০ নভেম্বর দিনব্যাপী চট্টগ্রাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর মেট্রো কার্যালয়ের উপ পরিচালক মোঃ রাশেদুজ্জামান এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে ডবলমুরিং, বন্দর, কোতোয়ালি ও পাচলাইশ সার্কেল পরিদর্শক এর নেতৃত্বে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় মো: বাবুল এর পুত্র ইয়াবা ব্যবসায়ী মোঃ রিফাত, আব্দুর শুক্কুরের স্ত্রী মোছঃ শাহিদা বেগম এবং লাল মিয়ার পুত্র মোঃ হাশিমকে ২০ হাজার পিস ইয়াবাসহ ১৫ নং ঘাট এলাকা ও হাটহাজারী ইলাকা এলাকা হতে গ্রেফতার করে। পরবতীতে কর্ণফুলী থানায় ডবলমুরিং সার্কেল পরিদর্শক লোকাশীষ চাকমা বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ অনুযায়ী একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।
অপরদিকে বন্দর সার্কেল পরিদর্শক মোঃ সিরাজুল ইসলাম বাকলিয়া থানাধীন নতুন ব্রীজ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে মৃত আব্দুল খালেকের পুত্র ইয়াবা ব্যবসায়ী মোঃ আলাল খান এবং মো: হারুন রশীদের পুত্র মোঃ সাজিদ আকন্দকে ১ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করেন। পরে বন্দর সার্কেল পরিদর্শক মোঃ সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ অনুযায়ী বাকলিয়া থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।
এছাড়া কাতয়ালী সার্কেল পরিদর্শক জনাব মোঃ মোজাম্মেল হক এর নেতৃত্বে বাকলিয়া থানাধীন শাহ আমানত সেতু এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। সেখানে মৃত মকবুল আহমেদ এর পুত্র ছব্বির আহমেদকে ৯শ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে বাকলিয়া থানায় কোতোয়ালি সার্কেলের সহকারী উপপরিদর্শক মোঃ লুৎফর রহমান বাদী হয়ে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।
অন্যদিকে পাচলাইশ সার্কেল পরিদর্শক জনাব মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান বাকলিয়া থানাধীন শাহ আমানত সেতু এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আব্দুল বক্কর এর কন্যা ফাতেমা বেগমকে ১ হাজার ২শ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করেন। পরে বাকলিয়া থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন। একই টিম বাকলিয়া থানাধীন মেরিনার্স রোডে অভিযান পরিচালনা করে মো: সোনামিয়ার পুত্র মোঃ সাইফুল ইসলামকে ৮৬০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করেন। পাচলাইশ সার্কেল পরিদর্শক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।

পাইকগাছায় মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান

পাইকগাছা প্রতিনিধি : পাইকগাছার ঐতিহ্যবাহী গজালিয়া উদয়ন সংঘের নব-নির্বাচিত কমিটির আয়োজনে মুজিব শত বর্ষ উৎযাপন উপলক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা, আলাচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার বিকেলে উপজেলার চাঁদখালী ইউপির গজালিয়া উদয়ন সংঘের মাঠে অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে ক্লাবের সভাপতি প্রভাষক দেলয়ার হুসাইন এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন উদয়ন সংঘের প্রতিষ্ঠতা বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক সংসদ সদস্য এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান স ম বাবর আলী, বিশেষ অতিথি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব অধ্যাক্ষ আবুল কালাম আজাদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আমিনুল ইসলাম, মিসেস শাহিনা বাবর, হাজী অলিয়ার রহমান বিশ্বাস, আলী আকবার,বীর মুক্তিযোদ্ধা সরদার নাজিম উদ্দিন, সবুর সরদার, মুজিবর রহমান, শফিকুল ইসলাম গাজী, বীর মুক্তিযোদ্ধা কামরুল ইসলাম, মোকসেদ আলী, রফিকুল ইসলাম, সছেদ আলী, সোহবান গোলদার, ভবেনন্দ্র নাথ সানা, জি এম শাহদাৎ আলী, মাহবুবর রহমান, জি এম ইকরামুল ইসলাম, ডাঃ রফিকুল ইসলাম, জি এম আজহারুল ইসলাম, এড. শফিকুল ইসলাম কচি, এড. মোজাপ্ফার হাসান, গাজী শিফকুল ইসলাম শফি, অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন উদয়ন সংঘের সাধারণ সম্পাদক আঃ মান্নান ফিলিপ এবং প্রভাষক বজলুর রহমান।

পোর্ট কানেক্টিং সড়ক রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এই সড়টিকে কাউকে জিম্মি করতে দেয়া হবে না

চট্টগ্রাম ব্যুরো:চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন আজ বিকেলে পোর্ট কানেক্টিং রোডের নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করেন। তিনি এই সময় ঠিকাদারদের কাজের গুণগত মান রক্ষা করে আগামী ডিসেম্বরের মাসের ৩০ তারিখের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, এ সড়কটি নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করতে গিয়ে দীর্ঘসূত্রিতা মানুষের বড় ধরণের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এখন বর্ষা মৌসুম যেহেতু শেষ বৃষ্টির সম্ভাবনাও নেই। তাই কাজে কোন ধরণের প্রতিবন্ধকতা থাকারও কথা নয়। তিনি কাজে নিয়োজিত প্রকৌশলীদের সার্বক্ষণিকভাবে কাজের উপর দৃষ্টি রাখার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, পোর্ট কানেক্টিং রোড চট্টগ্রামের লাইফ লাইন এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সড়ক স্থাপনা। এই সড়কটির উপর দেশের অর্থনৈতিক গতি ও অগ্রগতি নির্ভরশীল তাই সড়কটির নির্মাণকাজ নিয়ে টালবাহানা বা একে জিম্মি করা চলবে না। চট্টগ্রাম বন্দর মুখী এই সড়ক দিয়ে সকল আমদানী-রফতানী পণ্য পরিবহন চলাচল করে। এ ছাড়া ইপিজেড’র মালামাল পরিবহনগুলোও এ রাস্তার উপর দিয়ে চলাচল করে। ফলে এর ধারণ ক্ষমতার উপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়। অদূর ভবিষ্যতে বে-টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর বাস্তবায়ন হলে এ সড়কটির গুরুত্ব বৃদ্ধি পাবে এবং সড়কটির উপর চাপও বাড়বে। আন্ত: দেশীয় রিজিওনাল কানেক্টিভিটি কার্যক্রম এই রাস্তাটির উপর অনেকাংশ নির্ভরশীল। তিনি এ প্রসঙ্গে উল্লেখ বলেন, গুরুত্ব বিবেচনায় এই চট্টগ্রাম নগরীর এটা একমাত্র সড়ক যার উপর নিভরশীল আমদানী-রফতানী খাত। তাই এর দায়-দায়িত্ব ও রক্ষণাবেক্ষণের বিষয় শুধু সিটি কর্পোরেশনের একার নয়। তাই এ জন্যে বন্দর, কাস্টমস ও ইপিজেডগুলোর আয়ের একটি অংশ সার্ভিস চার্জ হিসেবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রাপ্য। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চট্টগ্রাম বন্দর, ইপিজেড সহ যে সকল সরকারী সংস্থা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সড়কগুলোর উপর চলাচল করে সে-গুলোর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য চসিককে সার্ভিস চার্জ প্রদানের প্রস্তাবনা আমলে আনবেন। তিনি আরো বলেন, পোর্ট কানেক্টিং রোডে ৩টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। যে ঠিকাদার যেখানে কাজ করছে সেখানে সে ঠিকাদারের সাইট অফিস রাখতে হবে। তিনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের কাজের কর্ম পরিকল্পনা এবং অগ্রগতির তথ্য সম্বলিত বোর্ড জনসম্মুখে টাঙিয়ে রাখার নির্দেশনা দেন এবং ধুলোবালিতে যাতে মানুষের দুর্ভোগ না হয় সেজন্য প্রতিদিন ৩ বেলা পানি ছিটানোর নির্দেশনা দেন। এ সময় প্রশাসকের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবুল হাশেম, প্রকৌশলী মির্জা ফজলুল কাদের, উপ-সহকারী প্রকৌশলী সুমন সেন ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারাসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

এখনও কাঁদছেন মা চার বছরেও বিচার হলো না দিয়াজ হত্যার

চট্টগ্রাম ব্যুরো:কি কারণে মেধাবী ছাত্র দিয়াজকে খুন হতে হলো? কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সাবেক ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজ ইরফান চৌধুরী চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের আসল রহস্য উন্মোচন না হওয়ায় জনমনে এমন প্রশ্ন আজও ঘুরপাক খাচ্ছে।

যদিও পরিবার এবং দিয়াজের অনুসারী ছাত্রলীগ কর্মীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন নির্মাণকাজের দরপত্র নিয়ে সৃষ্ট কোন্দলের সূত্র ধরেই পরিকল্পিতভাবে দিয়াজকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু বহুল আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের আজ ২০ নভেম্বর চার বছর পূর্ণ হলেও হত্যার আসল রহস্য উন্মোচন করতে পারেননি মামলার তদন্ত কর্মকর্তরা।

এই হত্যার ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে প্রতিবছরই তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়েছে, হয়নি শুধু মামলার অগ্রগতি। প্রকাশ্যে দাপিয়ে বেড়ালেও অধরা রয়ে গেছে হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত আসামিরা।

এদিকে সন্তানহারা দিয়াজের মা জাহেদা আমিন চৌধুরী সুষ্ঠু বিচারের আশায় এখনও ধুকে ধুকে কাঁদছেন। ছেলে হত্যার বিচারে চেয়ে বেশ কয়েকবার গায়ে কাফনের কাপড় জড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে অনশনেও বসেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার দিয়াজের বড়বোন জুবাঈদা ছরওয়ার চৌধুরী নিপা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘কোনো নতুন আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। দুজন আসামি জামিনে আছেন। বাকিরা পলাতক। আমরা সিআইডি অফিসে যাচ্ছি। কিছুদিন আগে তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হয়েছে। ওনাকে নতুন করে সব ডকুমেন্ট ও স্বাক্ষী দেখাতে হচ্ছে, বুঝাতে হচ্ছে’।
মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরলেও তাদের গ্রেপ্তার করছে না পুলিশ। চার বছরের মধ্যে প্রতিবছর নতুন একজন সিআইডি কর্মকর্তা আসে, আবার বদলি হয়। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। ছেলে হত্যার সুষ্ঠু বিচারের আশায় এখনও ধুকে ধুকে কাঁদছেন আমার মা।’

দিয়াজ হত্যার তদন্তকারী কর্মকর্তা চট্টগ্রাম ও জেলার সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার অবদুস সালাম মিয়া গণমাধ্যমকে বলেন, ‘তদন্ত চলছে। আমি সবেমাত্র এ মামলার তদন্তের দায়িত্বে এসেছি। কিছুদিন আগে আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছি। সাক্ষ্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। বাদিপক্ষ যেসব তথ্য দিয়েছে তা আমরা সংগ্রহ করছি। নিরপেক্ষ জবানবন্দি নেওয়া হচ্ছে’।

আসামিদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্তকারী কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আসামি দুজনকে ধরার পর রিমান্ডেও আনা হয়েছিল। পরবর্তীতে তারা জামিনে বেরিয়ে গেছে। যারা পলাতক আছে তাদের বিরুদ্ধে হাটহাজারী থানায় ওয়ারেন্ট আছে।’

দিয়াজ ইরফানের অনুসারী ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মো. মামুন বলেন, ‘চার বছরেও দিয়াজ হত্যা মামলার কোনো অগ্রগতি নেই। কি কারণে এতো সময় লাগছে আমারা তা বুঝতে পারছি না। খুব শিগগিরই এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক, এটাই আমাদের একমাত্র দাবি’।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ২০ নভেম্বর রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন উত্তর ক্যাম্পাসে নিজ বাসা থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক দিয়াজের লাশ। ঘটনার পর দিন প্রথম দফা ময়নাতদন্ত করা হয়। তিন দিন পর (২৩ নভেম্বর) ‘আত্মহত্যা’ উল্লেখ করে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন দেয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ।

 তবে দিয়াজের পরিবার এ ঘটনাটিকে ‘পরিকল্পিত হত্যা’ বলে দাবি করে আসছিল। দিয়াজের লাশ উদ্ধারের চার দিন পর চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে দিয়াজের মা জাহেদা আমিন চৌধুরী পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেন। এসময় তিনি ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেন। পরে ২৪ নভেম্বর দিয়াজের মা জাহেদা আমিন চৌধুরী বাদি হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন এক সহকারী প্রক্টর, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এবং সংগঠনটির ১০ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়। দিয়াজের মায়ের আপত্তির ফলে আদালত সিআইডিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেয়। এরপর দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্ত করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসকরা। তদন্তের স্বার্থে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সোহেল মাহমুদের নেতৃত্বে একটি টিম দিয়াজের বাসা পরিদর্শন করেন। পরে ২০১৭ সালের ৩০ জুলাই দেওয়া দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে দিয়াজের শরীরে হত্যার আলমত রয়েছে বলা হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের পর দিয়াজের মায়ের করা এজাহার হত্যা মামলা হিসেবে নিতে হাটহাজারী থানার ওসিকে নির্দেশ দেন আদালত।