ফুলতলায় উপকূলীয় অঞ্চলের সাড়ে ৫শ’ নারীর ১৫ দিনের কর্মশালার উদ্বোধন

ফুলতলা (খুলনা) প্রতিনিধিঃ উপকূলীয় অঞ্চলের নারীদের জীবন যাত্রার মান উন্নয়নে ১৫দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন বুধবার দুপুরে ফুলতলা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ নজির আহমেদ ওয়েল ফেয়ার ফাউন্ডেশন আয়োজিত এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনায়ণের ব্যবস্থাপনায় কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ইউএনও সাদিয়া আফরিন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শেখ আকরাম হোসেন।

বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুলী বিশ্বাস, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান কে এম জিয়া হাসান তুহিন, ফারজানা ফেরদৌস নিশা, ওসি (তদন্ত) মোস্তফা হাবিবুল্লাহ, ইউপি চেয়ারম্যান শরীফ মোহাম্মদ ভুইয়া শিপলু, ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপক ইকবাল হোসেন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফারহানা ইয়াসমিন, প্রধান শিক্ষক তপতী দত্ত। স্বাগত বক্তৃতা করেন ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক নাহিদা আক্তার ইলা। শরিফুল ইসলাম কাজলের পরিচালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ইনসাদ ইবনে আমিন, সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ শাহিন আলম, বিআরডিবি কর্মকর্তা মোঃ আফরুজ্জামান, রিসোর্স কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম রনি, ফাউন্ডেশনের চীফ কো-অর্ডিনেটর রিশাদুল ইসলাম, প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর শিরিনা আক্তার, প্রেসক্লাব সভাপতি তাপস কুমার বিশ্বাস, উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি শামসুল আলম খোকন, সিনিয়র সাংবাদিক শেখ মনিরুজ্জামান, কাজল রায় প্রমুখ। ৬টি ট্রেডে ৫৪০ নারী এ প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।

 

ফুলতলায় স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের আলোচনা সভা

ফুলতলা (খুলনা) প্রতিনিধিঃ মুজিব শতবর্ষে শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয় করণের দাবিতে স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ (স্বাশিপ) আয়োজিত প্রাতিষ্ঠানিক কমিটি গঠনের লক্ষে এক আলোচনা সভা বুধবার দুপুর ১২টায় ফুলতলা রি-ইউনিয়ন স্কুল অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়।

অধ্যক্ষ অজয় কুমার চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাশিপ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও বিভাগীয় সমন্বয়ক প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন যশোর জেলা সম্পাদক মোঃ নজরুল ইসলাম বুলবুল, পরিষদের খালিশপুর থানা সভাপতি আলহাজ্ব জাহিদুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম, মনিরুল ইসলাম, আবু দারদা আরিফ বিল্লাহ। কনক কুমার মন্ডলের পরিচালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন প্রধান শিক্ষক মনিরা পারভীন, কাউস আলী, বিমান নন্দী, প্রেসক্লাব সভাপতি তাপস কুমার বিশ্বাস, প্রেমচাঁদ দাস, দেলোয়ার হোসেন, মোঝাফ্ফর হোসেন, আলী আকবর ফারাজী প্রমুখ। সভায় স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ কর্তৃক প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ৯ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠিত হয়।

একটি অধিক ফলনশীল জাতের বোরো ব্রিধান ৮৮

মোঃ আবদুর রহমান : ধান বাংলাদেশের প্রধান খাদ্য শস্য । আমাদের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় ক্যালরির শতকরা প্রায় ৮০ ভাগই আসে ভাত থেকে । এ দেশের মাটি ও আবহাওয়া ধান চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী । তাই করোনা পরবর্তী খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বোরো মৌসুমে উচ্চ ফলনশীল ও হাইব্রিড জাতের ধানের চাষ সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা বোরো মৌসুমে চাষের জন্য কয়েকটি উচ্চফলনশীল জাতের ধান উদ্ভাবন করেছেন। এদের মধ্যে ব্রিধান-৮৮ নয়া জাতের একটি উচ্চফলনশীল বোরো ধান। এজাতের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো শিষ থেকে ধান ঝরে পড়ে না এবং অধিক ফলনশীল। উপযুক্ত পরিচর্যা পেলে ব্রিধান-৮৮ চাষে হেক্টর প্রতি ৮.৫ টন (প্রায় ২২৭ মণ) পর্যন্ত ফলন পাওয়া যেতে পারে।

ব্রিধান-৮৮ এর বৈশিষ্ট্যঃ
এ জাতের ধানের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো শিষ থেকে ধান ঝরে পড়ে না এবং অধিক ফলনশীল। পূর্নবয়স্ক ধান গাছ প্রচলিত ব্রিধান-২৮ এর চেয়ে খাটো (ব্রিধান-২৮ এর গড় উচ্চতা ৯০ সে. মি.) এবং ঢলে পড়া সহিষ্ণু। ব্রিধান-৮৮ জাতের ধান গাছের ডিগপাতা খাড়া ও লম্বা এবং ধান পাকার সময় সবুজ থাকে। এর জীবনকাল ১৪০-১৪৩ দিন। হেক্টর প্রতি সাধারণত ৭.০ টন ফলন পাওয়া যায়। তবে উপযুক্ত পরিচর্যা পেলে ব্রিধান-৮৮ জাতটি প্রতি হেক্টরে ৮.৫ টন পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম।

এ ধানের চালের আকার ও আকৃতি মাঝারি চিকন ও সাদা এবং ভাত ঝরঝরে। একহাজার পুষ্ট ধানের ওজন প্রায় ২২.১ গ্রাম। চালে অ্যামাইলোজের পরিমাণ ২৬.৩% এবং প্রোটিন ৯.৮% ।

চাষাবাদ পদ্ধতিঃ
উপযোগী জমি ও মাটি ঃ মাঝারি উঁচু ও মাঝারি নিচু প্রকৃতির এঁটেল, এঁটেল দো-আঁশ, দো-আঁশ ও পলি দো-আঁশ মাটি এজাতের ধান চাষের জন্য নির্বাচন করতে হবে।
জমি তৈরিঃ ধানের চারা রোপণের জন্য জমি কাদাময় করে উত্তমরূপে তৈরি করতে হবে। এজন্য জমিতে প্রয়োজন মতো পানি দিয়ে মাটি একটু নরম হলে ১০-১৫ সেঃমিঃ গভীর করে সোজাসুজি ও আড়াআড়ি ভাবে ৪/৫ টি চাষ ও মই দিতে হবে যেন মাটি থকথকে কাদাময় হয়। প্রথম চাষের পর অন্ততঃ ৭ দিন জমিতে পানি আটকে রাখা প্রয়োজন। এর ফলে জমির আগাছা, খড় ইত্যাদি পচনের ফলে গাছের খাদ্য বিশেষ করে এ্যামোনিয়াম নাইট্রোজেন জমিতে বৃদ্ধি পায়। উত্তমরূপে কাদা করা তৈরি জমিতে আঙুলের সাহায্যে ধানের চারা রোপণ সহজ হয়। তাই শেষ চাষের পর বারবার মই দিয়ে জমি সমতল করে নিতে হবে, যাতে সেচের পানি জমিতে সমানভাবে দাঁড়াতে পারে।

সার ব্যবহারঃ বোরো মৌসুমে ধানের আশানুরূপ ফলন পেতে জমিতে পরিমাণ মতো জৈব ও রাসায়নিক সার ব্যবহার করা দরকার। ব্রিধান-৮৮ জাতের বোরো ধান চাষের জন্য বিঘা প্রতি ৩৩ কেজি ইউরিয়া, ১৫ কেজি টিএসপি, ২০ কেজি এমওপি, ১৫ কেজি জিপসাম ও ১.৫ কেজি জিংক সালফেট সার প্রয়োগ করতে হয়। জমি শেষ চাষের সময় সবটুকু টিএসপি, জিপসাম ও জিংক সালফেট এবং অর্ধেক এমওপি সার একসাথে মিশিয়ে প্রয়োগ করা উচিত। ইউরিয়া সার সমান তিন কিস্তিতে যথা: চারা রোপণের ১০-১৫ দিন পর ১ম কিস্তিতে ৫০%, ২৫-৩০ দিন পর ২য় কিস্তিতে ৩০% এবং ৪০-৪৫ দিন পর ৩য় কিস্তিতে ২০% উপরি প্রয়োগ করতে হবে। আর বাকি অর্ধেক এমওপি সার শেষ কিস্তি ইউরিয়ার সাথে ছিটিয়ে মাটির সঙ্গে হাত দিয়ে ভালভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। এতে সারের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায় এবং মাটিতে দূষিত বাতাস থাকলে তা বের হয়ে যাবে।

চারা রোপণঃ ব্রিধান-৮৮ জাতের ধান ১৫ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর অর্থাৎ ০১ অগ্রহায়ণ হতে ১৬ অগ্রহায়ণ এর মধ্যে বীজ বপণ করে বীজতলা থেকে ৩০-৩৫ দিন বয়সের চারা সাবধানে তুলে এনে সারি করে রোপণ করতে হবে। এ মৌসুমে সারি থেকে সারি ২০-২৫ সেঃমিঃ এবং চারা থেকে চারা ১৫-২০ সেঃমিঃ দূরত্বে লাগাতে হবে। প্রতি ৮-১০ লাইন বা সারির পর এক সারি অর্থাৎ ২৫-৩০ সে.মি. ফাঁকা জায়গা রেখে পুনরায় পূর্ববর্তী নিয়ম অনুসারে চারা রোপণ করতে হবে। এভাবে লাইন ও লোগো পর্যায়ক্রমে বজায় রেখে জমি রোপণ শেষ করতে হয়। জমির উর্বরতা ও জাতের কুশি ছড়ানোর উপর ভিত্তি করে এ দূরত্ব কম বা বেশি হতে পারে। প্রতি গোছায় ২/৩ টি সুস্থ ও সবল চারা ২.৫-৩.৫ সেঃমিঃ গভীরে রোপণ করতে হবে। খুব গভীরে চারা রোপণ করা ঠিক নয়। এতে কুশি গজাতে দেরি হয়, কুশি ও ছড়া কম হয়। কম গভীরে রোপণ করলে তাড়াতাড়ি কুশি গজায়, কুশি ও ছড়া বেশি হয় ও ফলন বাড়ে। তাই কম গভীরে চারা রোপণের জন্য জমিতে ১.২৫ সেঃ মিঃ এর মতো ছিপছিপে পানি রাখা ভাল। কাদাময় অবস্থায় রোপণের গভীরতা ঠিক রাখার সুবিধা হয়। রোপণের পর জমির এক কোনায় কিছু বাড়তি চারা রেখে দিতে হয়। এতে রোপণের ১০-১৫ দিন পরে যে সব জায়গায় চারা মরে যায়, সেখানে বাড়তি চারা থেকে শূন্যস্থান পূরণ করা যায়। এর ফলে জমিতে একই বয়সের চারা রোপণ করা হয়।

সেচ ব্যবস্থাপনাঃ গাছের প্রয়োজন মাফিক সেচ দিলে সেচের পানির পূর্ণ ব্যবহার হয়। বোরো ধানের জমিতে সব সময় পানি ধরে রাখতে হবে এমন কোন নিয়ম নেই। বোরো মৌসুমে সাধারণত ধানের সারা জীবনকালে মোট ১২০ সেঃ মিঃ পানির প্রয়োজন হয়। তবে কাইচ থোড় আসার সময় থেকে ধানের দুধ হওয়া পর্যন্ত পানির চাহিদা দ্বিগুণ হয়। এ সময় জমিতে দাঁড়ানো পানি রাখতে হয়। কারণ থোড় ও ফুল অবস্থায় মাটিতে রস না থাকলে ফলন কমে যায়।

ধান কাটার ১০-১২ দিন আগে জমির পানি পর্যায়ক্রমে বের করে দিতে হবে। এছাড়া খেত থেকে মাঝে মাঝে পানি বের করে দিয়ে জমি শুকিয়ে নিতে হবে। এতে মাটিতে জমে থাকা দূষিত বাতাস বের হয়ে যাবে এবং চারাগুলো মাটির জৈব পদার্থ থেকে সহজে খাবার গ্রহণ করতে পারবে। তবে জমির মাটি যেন ফেটে না যায়। সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। জমিতে চুল ফাটা দেখা দেয়া মাত্র পুনরায় সেচ দিতে হবে। মাটি শুকিয়ে গেল জমি ফেটে যাবে এবং সেচের পানিও ফাটল দিয়ে চুইয়ে বিনষ্ট হবে।

আগাছা দমনঃ সাধারণতঃ বোরো ধানের বেলায় চারা রোপণের পর থেকে ৪০-৪৫ দিন পর্যন্ত জমি আগাছামুক্ত রাখতে হবে। এ সময়ের মধ্যে অন্ততঃ ২-৩ বার জমির আগাছা পরিষ্কার করা দরকার। খেতের আগাছা পরিষ্কার করেই ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ করা উচিত। অন্যথায় আগাছার উপদ্রব বেড়ে যায়।

বিভিন্ন ভাবে আগাছা দমন করা যেতে পারে। যেমন- পানি ব্যবস্থাপনা, জমি তৈরি পদ্ধতি, নিড়ানি যন্ত্রের ব্যবহার, হাত দিয়ে টেনে উঠানো ইত্যাদি। নিড়ানি যন্ত্র ব্যবহারের জন্য ধান সারিতে লাগানো দরকার। এ যন্ত্র ব্যবহারের ফলে কেবলমাত্র দুই সারির মাঝের আগাছা দমন হয়। কিন্তু দু’গুছির মাঝের যে আগাছা বা ঘাস থেকে যায় তা হাত দিয়ে টেনে তুলে পরিষ্কার করতে হবে। সংগৃহীত ঘাসে যদি পরিপক্ক বীজ না থাকে তবে তা পায়ের সাহায্যে মাটির ভেতরে পুঁতে দিলে পঁচে জৈব সারে পরিণত হবে।

পোকামাকড় ও রোগবালাই দমনঃ ব্রিধান-৮৮ জাতের ধানে পোকামাকড় ও রোগবালাইয়ের আক্রমণ প্রচলিত জাতের চেয়ে অনেক কম হয়। তবে, বোরো মৌসুমের শুরুতে শীতের প্রকোপ বেশি থাকায় পোকামাকড়ের আক্রমণ বেশ কম থাকে। কিন্তু তাপমাত্রা বৃদ্ধির সাথে সাথে পোকার আক্রমণের তীব্রতাও বাড়তে থাকে। বোরো ধানে সাধারণতঃ মাজরা, থ্রিপস্, বাদামি গাছ ফড়িং, গান্ধি পোকা, শীষকাটা লেদা পোকা, সাদা পিঠ গাছ ফড়িং ও পাতা মোড়ানো পোকার আক্রমণ হতে পারে।

তাছাড়া বোরো ফসলে টুংরো, ব্লাস্ট, ব্যাকটেরিয়াজনিত পাতা পোড়া ও গোড়াপঁচা, ছত্রাকজনিত কান্ড পঁচা, খোলপোড়া, খোলপঁচা, পাতার বাদামি দাগ ও বাকানি রোগ দেখা দিতে পারে। ধানের এসব রোগ ও পোকা দমনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

ধান কর্তনঃ বোরো ধান সঠিক সময়ে কাটা ও মাড়াই করা উচিত। চৈত্র-বৈশাখ মাসে বোরো ধান পাকে। পাকার সঙ্গে সঙ্গে ধান কেটে বাড়ি নিয়ে আসতে হয়। কারণ যে কোন মুহূর্তে ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাছাড়া নিচু জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হলে এবং কাটতে দেরি করলে বৃষ্টির পানিতে অনেক সময় পাকা ধান তলিয়ে যেতে পারে। তাই পাকা ধান মাঠে না রেখে সময়মতো কেটে নিলে ফলনের ক্ষয়ক্ষতি অনেকটা কমানো যায়।

ফলনঃ হেক্টর প্রতি সাধারণত ৭.০ টন ফলন পাওয়া যায়। তবে উপযুক্ত পরিচর্যা ও অনুকূল পরিবেশে হেক্টরপ্রতি সর্বোচ্চ ৮.৫ টন পর্যন্ত ব্রিধান-৮৮ এর ফলন পাওয়া যেতে পারে।

লেখক উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা উপজেলা কৃষি অফিস রূপসা, খুলনা।

ডুমুরিয়ায় গাঁজাসহ আটক ২

ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি : ডুমুরিয়া থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২৫গ্রাম গাঁজাসহ দুইজনকে আটক করেছে। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে ডুমুরিয়া থানায় মাদক আইনে একটি মামলা হয়েছে যার নং-২৭।
পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে উপজেলার শোভনা পশ্চিমপাড়ায় রেজাউল ডাক্তারের বাড়ির পাশে একই এলাকার মৃত আবু তালেব সরদারের ছেলে হজরত আলী সরদার (৪০) ও খর্ণিয়া গ্রামের আছাদুল সরদারের ছেলে সোহাগ সরদার (২২) ঘুরাঘুরি করছে। এ সময় পুলিশের একটি টীম যাওয়ার সময় তাদের গতিবিধি সন্দেহ হলে দেহ তল্লাশি করে। তখন দু’জনের নিকট থেকে ২৫গ্রাম গাজা উদ্ধার হয়। এ ঘটনায় ডুমুরিয়া থানার এসআই রজত কুমার বলেন, তাদের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলার পর আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পেরণ করা হয়েছে।

ডুমুরিয়ায় নবাগত ইউএনও ’র যোগদান

ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি : ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে মোঃ আবদুল ওয়াদুদ বুধবার দুপুরে যোগদান ও দায়িত্বভার করেছেন। নবাগত এ ইউএনও খুলনার দাকোপ উপজেলা থেকে ডুমুরিয়ায় এসেছেন। যোগদান কর্মসুচী হিসেবে তিনি প্রথমে সাবেক মৎস্য ও প্রানিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এমপি’র সাথে তার বাস ভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। পরে উপজেলা প্রশাসন কার্যালয় ও অফিসার্স ক্লাব মিলনায়তনে গিয়ে সকল অফিসার-কর্মচারীদের সাথে পৃথক পৃথক ভাবে মতবিনিময় করেন। এরপর ডুমুরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী এজাজ আহমেদের সাথে তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন। এ সময় নবাগত ইউএনও’কে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান ডুমুরিয়া উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট ডাঃ সঞ্জীব দাস, ভাইস চেয়ারম্যান গাজী আব্দুল হালিম, উপজেলা প্রকৌশলী বিদ্যুৎ কুমার দাস, কৃষি অফিসার মোছাদ্দেক হোসেন, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সেখ ফিরোজ আহমেদ, নির্বাচন অফিসার শেখ জাহিদুর রহমান, পল্লী দারিদ্র বিমোচন কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র দাস, সমবায় কর্মকর্তা সেলিম আখতার, উপজেলা প্রকল্প ও ত্রাণ কর্মকর্তা আশরাফ হোসেন, ত্রাণ শাখার প্রকৌশলী রাসেল আহমেদ, উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল হাই, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা এসএম কামরুজ্জামান, মহিলা ও শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা রীনা মজুমদার, পল্লী উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তা মিসেস নিসা, কৃষি ব্যাংকের ম্যানেজার মোশারফ হোসেন, আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা শিশু দে প্রমুখ।

যশোরে সড়ক দুর্ঘটনায় সাবেক চেয়ারম্যান নিহত

যশোর প্রতিনিধি : যশোরের ঝিকরগাছায় সড়ক দুর্ঘটনায় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান (৫২) নিহত হয়েছে। এসময় আহত হয়েছেন হাবিল আহম্মেদ (৫২) নামে এক ব্যক্তি। তিনি যশোর সদর উপজেলা রামনগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ওই গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, যশোর আদালতের কাজ সেরে বুধবার (২৫ নভেম্বর) ১১টার দিকে মোটরসাইকেল যোগে রেজাউল হাসান ও হাবিল আহম্মেদ ঝিকরগাছায় যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে কীত্তিপুর এলাকায় পৌছুলে মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি গাছের সাথে ধাক্কা লাগে। ঘটনাস্থলে রেজাউল হাসানের মৃত্যু হয়। আহত হাবিল আহমেদকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের ডা. এম আব্দুর রশিদ জানিয়েছেন, আহতের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ঝিকরগাছা থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমি যশোরে একটি প্রেগ্রামে রয়েছি। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা একজন নিহত ও একজন আহত হয়েছেন বলে শুনেছি।

রূপসায় বৃদ্ধের ঝুলন্ত লাশ লাশ উদ্ধার

খুলনা অফিস : খুলনা জেলার রূপসার রাজাপুরে আনন্দ মোহন ঘোষ (৬২) নামে এক বৃদ্ধের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
জানা যায়, বুধবার (২৫ নভেম্বর) সকালে উপজেলার আইচগাতী ইউনিয়নের রাজাপুর বাজার সংলগ্ন সমীর চন্দ্র বিশ্বাসের বাড়ি থেকে গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। সে ওই বাড়ির ভাড়াটিয়া। আনন্দ মোহন ঘোষ সাতক্ষীরা জেলার পাটকেলঘাটা থানার মৃত সুশীল চন্দ্র ঘোষ এর ছেলে।

রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোল্লা জাকির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দাকোপে নবাগত নির্বাহী কর্মকর্তার যোগদান

দাকোপ প্রতিনিধি : খুলনা জেলার দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে মিন্টু বিশ্বাস আজ বুধবার যোগদান করেছেন।
জানা গেছে, খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের গত ৫ নভেম্বর এক পত্রে দাকোপ উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে মিন্টু বিশ্বাসকে গোপালগঞ্জ কাশিয়ানী সহকারী কমিশনার (ভুমি) থেকে বদলীর আদেশ দেন। বুধবার তিনি দায়িত্বভার গ্রহণ করে কর্মস্থলে যোগদান করেন।

দাকোপ উপজেলা বিদায়ী নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আবদুল ওয়াদুদ ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে বদলীর আদেশ দেয়া হয়। নব নিযুক্ত ইউএন মিন্টু বিশ্বাস কর্মস্হলে যোগদান করেন।

সাতক্ষীরায় অন্তঃস্বত্বা গৃহবধুেক শ্বাসরোধ করে হত্যা : স্বামী আটক

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার রাজনগরে পরকিয়ার জেরে স্বামী কর্তৃক সাত মাসের অন্তঃস্বত্বা স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় বিক্ষুদ্ধ জনতা স্বামীকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে। বুধবার ভোরে সদর উপজেলার লাবসা ইউনিয়নের রাজনগর গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।
নিহতের নাম পারভিন আক্তার (২৪)। তিনি সদর উপজেলার রাজনগর গ্রামের জামাইপাড়া এলাকার আব্দুল খালেকের স্ত্রী ও একই গ্রামের আব্দুর রহিম ওরফে বাবুর মেয়ে।
নিহতের ভাই ভ্যানচালক রফিকুল ইসলাম ও ইটভাটা শ্রমিক তরিকুল ইসলাম জানান, তাদের বোন পারভিন আক্তারের সঙ্গে হাজীপুর গ্রামের মোজাম্মেল হকের ছেলে ভাটা শ্রমিক আব্দুল খালেকের আট বছর আগে বিয়ে হয়। বর্তমানে ফারজানা নামে তাদের ৫ বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। বোন পারভিন বর্তমানে সাত মাসের অন্তঃস্বত্বা। অভাবের কারণে তারা তিন বছর যাবৎ জামাইপাড়া এলাকার নদীর চরভরাটি জমিতে বসবাস করতো। সম্প্রতি খালেক একই এলাকার এক নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে এক সপ্তাহ যাবৎ তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে বুধবার ভোর রাতের কোন এক সময় পারভিনকে নির্যাতনের পর তার স্বামী তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর তার শরীরে কাঁথা চাপা দিয়ে বাইরের দিক থেকে দরজায় তালা লাগিয়ে পার্শ্ববর্তী ভাটপাড়া এলাকার একটি ইটভাটায় কাজ করতে যান। বুধবার সকালে তাদের মেয়ে ফারজানার কান্না শুনে স্থানীয়রা বাইরের দিক থেকে তালা ভেঙে ঘরে ঢোকেন। এ সময় পারভিনকে কাঁথা মোড়ানো মৃত অবস্থায় দেখতে পান। পরে ঘটনাস্থলে তারা গিয়ে দেখেন তার বোনের গলায় দড়ির চিহ্নও রয়েছে। যা দিয়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা হয়েছে। তারা আরো জানান, বিক্ষুদ্ধ জনতা এ সময় ওই ইটভাটা থেকে তার স্বামী খালেককে ধরে এনে পুলিশে সোপর্দ করেন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান জানান, বুধবার দুপুরে পারিভন আক্তারের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামী আব্দুল খালেককে আটক করা হয়েছে।

চালনা পৌর নির্বাচনে নৌকা-ধানের শীষের একক প্রার্থী চুড়ান্ত

আজগর হোসেন ছাব্বির, দাকোপ : আগামী ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া চালনা পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সাম্ভব্য মেয়র কাউন্সিলর প্রার্থীদের জোর তৎপরতা চলছে। এবারের নির্বাচনে মেয়র পদে নৌকা ধানের শীষের পাশাপাশি স্বতন্ত্র হিসাবে সাবেক মেয়র অচিন্ত্য মন্ডল প্রতিদ্বন্দিতায় থাকছেন।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষনা অনুযায়ী আগামী পহেলা ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিল এবং ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে চালনা পৌরসভার ভোট গ্রহন। ২০০৪ সালের ১৩ নভেম্বর প্রতিষ্ঠিত চালনা পৌরসভায় ৩য় বারের মত ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ৯ দশমিক ৪৯ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে গঠিত পৌরসভাটি ইতিমধ্যে ২য় শ্রেনীতে উন্নীত হয়েছে। ৩০ হাজারের অধীক জনসংখ্যার পৌরসভায় এবারের নির্বাচনে ১৩০৫৮ ভোটার প্রথম বারের মত ইভিএম পদ্ধতিতে তাদের ভোটাধীকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন। এবারের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের প্রার্থী মনোনয়নে থাকছেনা কোন নতুন চমক। গত নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থী চালনা পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সনত কুমার বিশ্বাসের নাম একক প্রার্থী হিসাবে দাকোপ উপজেলা ও চালনা পৌর আ’লীগের যোৗথ সভায় তৃনমূলের সমর্থনে অনুমোদন হয়েছে। সে আলোকে নৌকার মনোনয়নের জন্য জেলার মাধ্যমে তার নামটি কেন্দ্রে যাচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি আলহাজ্ব শেখ আবুল হোসেন। গত নির্বাচনে তিনি নৌকা প্রতিকে ৪৯৩৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন। অপরদিকে দাকোপ উপজেলা বিএনপির যৌথ সভায় দলের উপজেলা সভাপতি ও সাবেক পৌর প্রশাসক আবুল খায়ের খানকে একক প্রার্থী হিসাবে ঘোষনা করা হয়েছে। এ ছাড়াও মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দিতায় থাকছেন সাবেক মেয়র ড. অচিন্ত্য কুমার মন্ডল। তিনি স্থানীয় আ’লীগের বিদ্রোহী গ্রুপ সাবেক সাংসদ ননী গোপাল মন্ডলের অনুসারী। সঙ্গত কারনে ভোটের রাজনীতিতে তিনি নৌকার শক্ত প্রতিদ্বন্দি। মেয়র পদের এই ৩ প্রার্থীই নিজেদের অনুসারী কর্মি সমর্থক নিয়ে গনসংযোগ অব্যহত রেখেছেন। এ ছাড়া প্রতিটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থীরা গনসংযোগ প্রচার প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। সাধারণ ভোটাররা নির্বাচনকে সামনে রেখে সাম্ভব্য প্রার্থীদের অতীত বর্তমান কর্মকান্ডের চুলচেরা বিশ্লেষন করছেন। অনেকে আবার নির্বাচনে অবৈধ অর্থের ছড়াছড়ির আশংকা করছেন। যেটি যোগ্য প্রার্থীর বিজয়ে অনেক সময় অন্তরায় হিসাবে কাজ করে। অপর দিকে বিএনপি ঘরানার ভোটাররা অবাধ সুষ্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে কিছুটা শংকায় আছেন। ভোট নিয়ে জানতে চাইলে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন জুয়েল এখন সেভাবে প্রচারনা জমে উঠেনি দাবী করে বলেন সৎ যোগ্য নিষ্ঠাবান প্রার্থীকেই বেছে নেবেন। আছাভূয়া এলাকার আনিসুর রহমান সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকেই ভোট দেওয়ার কথা বলেন। এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন ভোটের পরিবেশ নিয়ে বলার সময় এখন আসেনি। কলেজ ছাত্র কিশোর বিশ্বাস উন্নয়নে সম বন্টন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপোষহীন প্রার্থীকেই সমর্থনের কথা বলেন।
সব মিলে বলা যায় এখন পর্যন্ত নির্বাচন নিয়ে সাধারণ ভোটাররা আশাবাদী। প্রার্থীরাও মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ মূহুর্তের প্রস্তুতির পাশাপাশি ভোটারদের পক্ষে টানার চেষ্টা করছেন।