অবশেষে দেশের এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে

ঢাকা অফিস: সব বাধাবিপত্তি পেরিয়ে অবশেষে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম নির্ধারণে গণশুনানি কর‍তে যাচ্ছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

আগামী ১৪ জানুয়ারি বিয়াম ফাউন্ডেশনের শহীদ একেএম শামসুল হক খান মেমোরিয়াল হলে শুরু হতে যাচ্ছে এই শুনানি। একদিনে যদি আলোচনা শেষ করা না যায় তাহলে আরও দুই দিন, অর্থাৎ ১৭ এবং ১৮ জানুয়ারিও রাখা হয়েছে শুনানির তারিখ। কমিশন চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল বলেন, ‘আমরা অনেক আগে থেকেই চেষ্টা করছিলাম এলপিজির দাম নির্ধারণ নিয়ে কাজ করতে। কিছু কিছু কাজও করা হচ্ছিল। এলপিজির মালিকদের সংগঠনের সঙ্গে আমরা সভাও করেছিলাম। কিন্তু নানা জটিলতায় এগোতে পারছিলাম না। সবশেষে হাইকোর্ট আমাদের যে নির্দেশ দিয়েছেন আমরা এখন সে অনুযায়ী কাজ করছি।

আগামী ১৪ জানুয়ারির শুনানির পর সবার মতামত এবং আমাদের গঠন করা কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির মূল্যায়নের মাধ্যমে আমরা সারাদেশের গ্রাহকদের জন্য এলপিজির একটি নির্দিষ্ট দাম নির্ধারণ করতে পারবো বলে আশা করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘অনেকদিন ধরেই কমিশনের কাছে অভিযোগ আসছিল নানা এলাকায় এলপিজির নানা দাম নেওয়া, বেশি দাম রাখা, একেক কোম্পানির একেক দাম রাখা হচ্ছে। আশা করছি এর মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান হবে। আমরা চেষ্টা করবো সবার ন্যায্যতার ভিত্তিতে দাম নির্ধারণ করতে।’ প্রসঙ্গত, গত ২৯ নভেম্বর গণশুনানির মাধ্যমে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে প্রতিবেদন দাখিল না করায় কমিশনের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

১৫ ডিসেম্বর এ মামলার পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়। সেই শুনানিতে কমিশনকে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দিয়েছেন আদালত। ১১ জানুয়ারি আবার শুনানির দিন ঠিক হয়েছে। এর পরপরই আদালত অবমাননার রুল থেকে বাঁচতে এলপিজির দাম নির্ধারণের উদ্যোগ নেয় কমিশন। আগামী ১৪, ১৭ ও ১৮ জানুয়ারি গণশুনানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। এর আগে কাজের জন্য একটি শিডিউলও তৈরি করা হয়। গণশুনানির বিষয়ে আজ (৫ জানুয়ারি) সংশ্লিষ্ট সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি দিয়েছে বিইআরসি। কমিশনের নির্দেশে সরকারি ও বেসরকারি কোম্পানিগুলো গত ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে তাদের দামের প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেয়। এতে সরকারি কোম্পানি বিপিসির অধীন এলপি গ্যাস লিমিটেড সাড়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৭০০ টাকা করা এবং বেসরকারি কোম্পানিগুলোর পক্ষে এলপিজি অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব) কমিশনের কাছে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম এক হাজার ২৬৯ টাকা করার প্রস্তাব দেয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা শামসুল আলম বলেন, ‘বিইআরসি আইন ২০০৩ অকেজো হয়ে গিয়েছিল। এর মধ্য দিয়ে আইনটি আবার প্রতিষ্ঠিত হলো। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কমিশনকে আরও শক্তিশালী ভূমিকা নিতে হবে।’তিনি বলেন, ‘জ্বালানি বিভাগ এলপিজি লাইসেন্সিং নীতিমালা ২০১৭ করে, যা বিইআরসি আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এই সমস্যা যখন তৈরি হয়, তখন আমরা রিট করি। এতে হাইকোর্ট আদেশ দিয়েছেন। এটি কেবল শুরু। আমরা আরও কাজ করতে চাই। শুধু দাম নির্ধারণ নয়, লাইসেন্সও কমিশনকে দিতে হবে। সেখানে এখনও দুর্নীতি হচ্ছে।’কমিশন জানায়, ১৪ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে এই শুনানি। শুনানির পর আগামী ২৪ জানুয়ারি লাইসেন্সি ও স্বার্থসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে শুনানি পরবর্তীতে লিখিত মতামত প্রদান করা যাবে বলে তারা জানিয়েছেন।

বাংলাদেশে কারা পাবে করোনা ভ্যাকসিন

ঢাকা অফিস: পর্যায়ক্রমে দেশের ১৩ কোটি ৭৬ লাখ মানুষকে করোনা টিকার আওতায় আনা হবে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের প্রথমে টিকা দেওয়া হবে। বিশেষ কারণ ছাড়া ১৮ বছরের নিচে কাউকে টিকার আওতায় আনা হবে না।

মঙ্গলবার (৫ জানুয়ারি) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি-একনেক বৈঠক শেষে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) আবুল কামাল আজাদ (আর্থসামাজিক অবকাঠামো বিভাগ) সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে চলমান প্রকল্পের আওতায় করোনার ভ্যাকসিন কেনা, সংরক্ষণ ও সরবরাহের জন্য চার হাজার ২৩৬ কোটি ৪৩ লাখ টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের বিস্তারিত প্রকল্পের বিষয়াদি তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে রাজস্ব তহবিল থেকে ১২০০ কোটি টাকা দিয়েছেন উল্লেখ করে আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এই টাকা থেকে আমরা ৯ শতাংশ মানুষের জন্য (দেড় কোটি মানুষ) সেরাম ইনস্টিটিউটের তৈরি তিন কোটি ভ্যাকসিন আনার উদ্যোগ নিয়েছি। ওই টাকা ছাড়করণও করা হচ্ছে। এর বাইরে এ প্রকল্পের আওতায় দেশের ৩১ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনা হবে। তাদের টিকা দেওয়ার পর বাকি আরও ৪০ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনা হবে।’

অনুমোদিত প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘প্রকল্পের আওতায় ভর্তুকি মূল্যে কোভাক্স থেকে ভ্যাকসিন কিনে দেশের মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশ, অর্থাৎ ৩ কোটি ৪৪ লাখ মানুষকে ২ ডলার ডোজ মূল্যে দুই ডোজ করে দেওয়া হবে। এর জন্য ব্যয় হবে এক হাজার ১৭৫ কোটি ১০ লাখ টাকা। প্রাপ্যতা সাপেক্ষে কোভাক্স অথবা অন্য কোনও প্রতিষ্ঠান থেকে সরাসরি কিনে ১১ শতাংশ অর্থাৎ এক কোটি ৫৪ লাখ ৮০ হাজার মানুষকে প্রতি ডোজ ৬ দশমিক ১০ ডলার মূল্যে দুই ডোজ করে দেওয়া হবে। এর জন্য ব্যয় হবে দুই হাজার ২৬২ কোটি ৮ লাখ টাকা। এছাড়া ভ্যাকসিন পরিবহনে শিপিং খরচ হবে ৬৭ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। পরিবহন ও অপারেশনের জন্য ৩৮৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা, সংরক্ষণ, কোল্ডচেইন ও সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থাপনা ব্যয় হবে ৩৪৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে ভ্যাকসিন কেনার জন্য ব্যয় হবে চার হাজার ২৩৬ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।

যারা পাবেন ভ্যাকসিন

দেশের আপামর জনগোষ্ঠীর মধ্যে কারা করোনার টিকা পাবেন, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য আবুল কালাম আজাদ তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘এর কিছু ব্যক্তিশ্রেণির নাম এসেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে। এর বাইরে পরিকল্পনা কমিশনও কিছু শ্রেণির জনগোষ্ঠীর নাম প্রস্তাব করেছে। প্রস্তাবিত জনগোষ্ঠী হলো—কোভিড-১৯ সংক্রমণের সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে থাকা সম্মুখ সারির স্বাস্থ্যকর্মী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিভিন্ন স্তরের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মজীবী, সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী, জনপ্রতিনিধি, জরুরি সেবায় নিয়োজিত কর্মী, ধর্মীয় প্রতিনিধি, বন্দরগুলোতে দায়িত্বরত কর্মী, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত কর্মী, ব্যাংককর্মী, স্বল্প বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাহীন জনগোষ্ঠী, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের যারা কোভিডের সঙ্গে সম্পৃক্ত, শ্রমঘন প্রতিষ্ঠানের কর্মী (গার্মেন্ট), পরিবহন শ্রমিক, শ্রমঘন হাটবাজার-ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মী, এতিমখানা এবং বিদেশগামী ও বিদেশফেরত সব ব্যক্তিবর্গ।’

প্রকল্প প্রসঙ্গে আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘গত এপ্রিলে একনেকে পাস হওয়া মূল প্রকল্প ছিল এক হাজার ১২৭ কোটি টাকা। এখন বেড়ে হয়েছে ছয় হাজার ৭৮৬ কোটি টাকা। এরমধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১৭২ কোটি টাকা। বাকি টাকা বিদেশি অর্থায়নে হবে। এপ্রিল ২০২০ থেকে জুন ২০২৩ মেয়াদে এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। চলতি অর্থবছরে এই প্রকল্পে ৪৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও খরচ হবে চার হাজার কোটি টাকার মতো। কারণ, আমরা কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন নিতে চাই।’

ভারত থেকে টিকা আসা নিয়ে অনিশ্চয়তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছি। এটা কীভাবে কোত্থেকে আসবে, তা দেখার দায়িত্ব স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের। তারা এ বিষয়টি বলতে পারবে।’

১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেন ডিএসইতে

‌‌‌দেশ প্রতিবেদক, ঢাকা: টানা আট কার্যদিবস সূচকের উত্থানের পর মঙ্গলবার (৫ জানুয়ারি) পুঁজিবাজারে সূচকের পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে, এদিন দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন বেড়েছে।
মঙ্গলবার ডিএসইর লেনদেন আড়াই হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে, যা ১০ বছরের মধ্যে ডিএসইতে সর্বোচ্চ লেনদেন। ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, মঙ্গলবার ডিএসই প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ৪২ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৬০৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইর শরীয়াহ সূচক ১৯ পয়েন্ট এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৩২ পয়েন্ট কমে যথাক্রমে ১২৭৮ ও ২০৫৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
মঙ্গলবার ডিএসইতে ২ হাজার ৫৪৬ কোটি ৮২ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে, যা ডিএসইতে ১০ বছর ২৯ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০১০ সালের ৬ ডিসেম্বর ডিএসইতে এর চেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছিল। ওইদিন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ২ হাজার ৭১০ কোটি টাকার।
সোমবার (৪ জানুয়ারি) ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ২ হাজার ১৯৩ কোটি ১ লাখ টাকার, যা মঙ্গলবারের চেয়ে ৩৫৩ কোটি টাকা কম।
মঙ্গলবার ডিএসইতে ৩৬০টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। এগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ১১৩টি কোম্পানির, কমেছে ১৯৭টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৫০টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দর।

এদিন লেনদেনের শীর্ষে থাকা ১০ প্রতিষ্ঠান হলো— রবি, বেক্সিমকো ফার্মা, বেক্সিমকো লিমিটেড, আইএফআইসি ব্যাংক, লার্ফাজহোলসিম, লংকাবাংলা, সিটি ব্যাংক, এনবিএল, কেপিসিএল ও একটিভ ফাইন।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই এদিন ১৩৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ২৩৭ পয়েন্টে। এদিন সিএসইতে হাত বদল হওয়া ২৯৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ার দর বেড়েছে ১১৫টির, কমেছে ১৪৯টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৪টির কোম্পানির শেয়ার দর।

মঙ্গলবার সিএসইতে ১৫৫ কোটি ৪৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে ৭৪ কোটি টাকা বেশি। আগের দিন সিএসইতে ৮১ কোটি ৫০ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছিল।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের মামলায় জামিন পেলেন হাজী সেলিমের ছেলে

ঢাকা অফিস: ঢাকার সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের (বরখাস্ত) কাউন্সিলর ইরফান সেলিম ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেওয়া দুই মামলায় জামিন পেয়েছেন। ঢাকার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তার জামিন মঞ্জুর করেন। মঙ্গলবার (৫ জানুয়ারি) ইরফান সেলিমের আইনজীবী শ্রী প্রাণনাথ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজার বিরুদ্ধে আপিল করেছিলাম। মাদক সংক্রান্ত অভিযোগের সাজায় আজ জামিন দিয়েছেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং ওয়াকিটকি রাখার দায়ে দেওয়া সাজায় ৩ জানুয়ারি একইবাবে তিনি জামিন পেয়েছেন। মদ্যপান ও অবৈধ ওয়াকিটকি ব্যবহার করার দু’টি অভিযোগে গত ২৬ অক্টোবর ইরফান সেলিম ও তার দেহরক্ষী মো. জাহিদকে এক বছর করে কারাদণ্ড দেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। মদ্যপান ও অবৈধ ওয়াকিটকি ব্যবহারের দায়ে ইরফান সেলিম ও তার দেহরক্ষী জাহিদকে র‌্যাব সদর দফতরের তৎকালীন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলম এই সাজা দেন। এদিকে ইরফান সেলিমকে অব্যাহতির সুপারিশ করে সোমবার অস্ত্র ও মাদক মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে পুলিশ। গত ২৫ অক্টোবর রাতে ধানমন্ডিতে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা লেফট্যানেন্ট ওয়াসিম খানকে মারধর করেন সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের গাড়িতে থাকা লোকজন। পরদিন ধানমন্ডি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী ওই নৌবাহিনীর কর্মকর্তা। মামলায় ইরফান সেলিমসহ চারজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা এখন কারাগারে রয়েছেন।

নতুন ৩০ ধরনের করোনার বিষয়ে জানালেন শাবিপ্রবির গবেষকরা

দেশ প্রতিবেদক, সিলেট: শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) জেনেটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োটেকনোলজি (জিইবি) বিভাগের গবেষকরা বলছেন তারা সিলেট বিভাগে পরিবর্তিত ৩০ ধরনের করোনা ভাইরাসের সন্ধান পেয়েছেন। পরিবর্তিত এই ভাইরাসগুলো মধ্যে ৬টি বিশ্বের কোথাও পাওয়া যায়নি। বাকি ২৪টি বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে একেবারে নতুন। তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশে এই ভাইরাসগুলো রয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ জানুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি করেন শাবিপ্রবির গবেষকরা।
সংবাদ সম্মেলনে গবেষক দলের সদস্য বিশ্ববিদ্যালয়ের জিইবি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জি এম নূরনবী আজাদ জুয়েল বলেন, আমরা সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে করোনা ভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ করে তাদের জিনোম সিকুয়েন্স করি। সেখান থেকে আমরা করোনার জিনোমে নতুন একটা মিউটেশন (Genome: 27862 : Del : ATCAT) পাই যা পূর্বে বিশ্বের কোথাও পাওয়া যায়নি। এছাড়া সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জে করোনার ১০টি নমুনার জিন বিশ্লেষণ করে প্রোটিন লেবেলে ৪৭টি পরিবর্তন পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৩০টি পরিবর্তিত করোনা ভাইরাস বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে একেবারে নতুন।

জি এম নূরনবী আজাদ জুয়েল বলেন, মূলত বাংলাদেশে করোনার গতিপ্রকৃতি ও বৈচিত্র্য উদঘাটনের লক্ষ্যে শাবিপ্রবির জিইবি বিভাগ এই মিউট্যান্টগুলো নিয়ে কাজ করছে। ফলে আমাদের দেশে কোন ভ্যাক্সিন কার্যকর হবে সেটার একটি ডিজাইন আগে থেকেই আমরা এ গবেষণাগুলোর মাধ্যমে বুঝতে পারব।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম, লাইফ সায়েন্স অনুষদের ডিন ড. এস এম আবু সায়েম, জিইবি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. শামসুল হক প্রধান, সহকারী অধ্যাপক জি এম নূরনবী আজাদ জুয়েল, পিএইচডি রিসার্চ ফেলো নাজমুল হাসান প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অর্থায়নে আমরা করোনা ল্যাব চালু করি। আমরা করোনা ভাইরাসের প্রকৃতি ও বিস্তার নিয়ে গবেষণাও করছি, যা শাবিপ্রবির এক অনন্য অর্জন।

কেশবপুরে বছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

এস আর সাঈদ, কেশবপুর (যশোর): যশোরের কেশবপুর উপজেলা ছাত্রলীগের বর্ণাঢ্য আয়োজনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৭৩ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার সকালে উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় চত্বরে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ও প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পন, আলোচনা সভা এবং কেক কাটা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কাজী আজাহারুল ইসলাম মানিকের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে দলীয় কার্যালয়ে কেক কাটেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম রুহুল আমিন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গাজী গোলাম মোস্তফা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এইচ এম আমির হোসেন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-আহবায়ক হাবিবুর রহমান খান মুকুল, যুগ্ম-আহবায়ক ভাইস চেয়ারম্যান পলাশ মল্লিক, যুগ্ম-আহবায়ক জাকির হোসেন মুন্না, উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা শাহরিয়ার হাবিব, শারাফাত হোসেন সোহান, আল মামুন, পৌর ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম, রোকননুজ্জামান রোকন, ত্রিমোহিনী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহবায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন, বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের আহবায়ক মুস্তাফিজুর রহমান, যুগ্ম-আহবায়ক মুন্নাফ হোসেন, গৌরিঘোনা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম-আহবায়ক এম এম রাসেল পারভেজ, ছাত্রলীগনেতা মুরাদ, নাছিম, সাদিকুল, আরিফুল, আমিনুর, বাদশা প্রমুখ। অনুষ্ঠানে উপজেলা, পৌর ও বিভিন্ন ইউনিয়ন ছাত্রলীগের নেতা কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

কেশবপুরে ইউনিয়ন কৃষক লীগের কমিটি গঠন

এস আর সাঈদ, কেশবপুর (যশোর): যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন কৃষক লীগের কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি আলহাজ্ব সৈয়দ নাহিদ হাসানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক রমেশ চন্দ্র দত্তের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এস এম রুহুল আমিন। প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গাজী গোলাম মোস্তফা। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন যশোর জেলা কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান, উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক, সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সামসুদ্দীন দফাদার, সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক জি এম হাসান, যুগ্ম-আহ্বায়ক খলিলুর রহমান ও সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগনেতা জি এম মিজানুর রহমান মিল্টন। আরো বক্তব্য রাখেন সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন কৃষকলীগনেতা নওশের আলী ও সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রী তহমিনা খাতুন। সম্মেলনে নওশের আলীকে সভাপতি ও জাহিদুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করে সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন কৃষক লীগের কমিটি গঠন করা হয়।

কেশবপুরে ভ্রাম্যমান আদালতের অর্থদন্ড

এস আর সাঈদ, কেশবপুর (যশোর): যশোরের কেশবপুরে মৎস্য ও পশু খাদ্য বিক্রির বৈধ কাগজপত্র না থাকার অপরাধে দুই ব্যবসায়ীকে অর্থদন্ড প্রদান করেছেন ভ্রাম্যমান আদালত । রবিবার বিকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এম এম আরাফাত হোসেন ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এম এম আরাফাত হোসেন রবিবার বিকালে উপজেলার আওয়ালগাঁতী বাজারে মৎস্য ও পশু খাদ্য বিক্রির বৈধ কাগজপত্র না থাকার অপরাধে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে মৎস্য ও পশু খাদ্য ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানকে দশ হাজার এবং আবুল কালামকে পাঁচ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করেন।

কেশবপুরে কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

রাজীব চৌধুরী, কেশবপুর : যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার ০১ নং ত্রিমোহিনী ইউনিয়নের বরণডালী গ্রামে সোমবার কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে।বৃহত্তর কুষ্টিয়া ও যশোর অঞ্চল কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় তেল জাতীয় ফসলের উৎপাদন প্রযুুক্তি বিস্তারে(বারি সরিষা-১৪) উপজেলা কৃষি অফিস, কেশবপুর, যশোর এর বাস্তবায়নে কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়।০১ নং ত্রিমোহিনী ইউনিয়নের ০৬ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃআব্দুুর রাশেদ সরদারের সভাপতিত্বে ও উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বিকাশ কুমার মন্ডলের সঞ্চালনায় কৃষক মাঠ দিবসে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেশবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মহাদেব চন্দ্র সানা।বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোঃমনির হোসেন।আরও বক্তব্য রাখেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃআলিমুর রহমান, কৃষকদের মধ্য থেকে বক্তব্য রাখেন আব্দুুল লতিফ গাজী,জামাল উদ্দীন প্রমুখ।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মহাদেব চন্দ্র সানা কৃষক মাঠদিবসে উপস্থিত সকল কৃষকদের বারি সরিষা-১৪ এর উপকারী দিকগুলো সম্পর্কে আলোচনা করেন এবং তার এই আলোচনা শুনে কৃৃষকরা বারি সরিষা-১৪ চাষাবাদের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেন।