চট্টগ্রাম ডিএনসি’র পৃথক অভিযানে গাজাসহ আটক ১১

নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি)’র পৃথক অভিযান চালিয়ে ২ কেজি ৪৫০ গ্রাম গাজাসহ ১১ জনকে গ্রেফতার করেন। পরে তাদেরকে ভ্রম্যমান আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদ- ও অর্থদন্ড প্রদান করা হয়। ভ্রম্যমান আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গালিব চৌধুরী । ৬ জানুয়ারি চট্টগ্রাম মহানগরীতে বিভিন্ন এলাকায় দিনব্যাপী অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করেন।
চট্টগ্রাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি)’র সূত্র মতে, ৬ জানুয়ারি  দিনব্যাপী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মেট্রো কার্যালয়ের উপ পরিচালক মোঃ রাশেদুজ্জামান এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গালিব চৌধুরী  এর নেতৃত্বে চট্টগ্রাম মেট্রো কার্যালয়ের সকল সার্কেলর সমন্বয়ে মহানগরীর পাহাড়তলী, বিআরটিসি, লালদীঘি, কদমতলী, স্টেশন  এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১০ জন মাদক  সেবন কারীকে ১ কেজি গাঁজা সহ  গ্রেফতার করেন। বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রট গালিব চৌধুরী  ধৃত আসামীদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড ও অর্থ দন্ড প্রদান করেন। অপর দিকে ডবলমুরিং  সার্কেলর উপ পরিদর্শক মোঃ  আব্দুল মতিন  গোপন সংবাদের ভিত্তিতে  সকাল ১১.০০ ঘটিকায় পাহাড়তলী  থানাধীন ইসলামপুর নয়াপাড়া নজু মিয়ার কলোনির রেললাইনের পশ্চিম পাশের ৩ নং কক্ষে  অভিযান পরিচালনা করে মো: আব্দুর রহিমের পুত্র মোঃ মনির হোসেনকে ১ কেজি ৪৫০গ্রাম গাঁজা সহ  গ্রেফতার করে পাহাড়তলী  থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ অনুযায়ী  একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।

আটোয়ারীতে ট্রাক্টর চাপায় ব্যবসায়ীর মৃত্যু

আটোয়ারী,পঞ্চগড়ঃ পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় বালুবাহী ট্রাক্টরের চাপায় জীবন সেন (২৪) নামে এক টাইলস্ ও থাই এ্যালুমেনিয়াম ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (০৬ জানুয়ারী) সকালে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের পঞ্চগড়-রুহিয়া সড়কের আটোয়ারী কলেজ মোড় এলাকায় এ দূর্ঘনাটি ঘটে। নিহত জীবন সেন উপজেলার রাধানগড় ইউনিয়নের রসেয়া সেনপাড়া এলাকার ভোলানাথ সেনের ছেলে।

নিহতের পরিবারের বরাত দিয়ে রাধানগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো আবু জাহেদ জানান,জীবন সেন আটোয়ারী উপজেলা শহরে টাইলস্ ও থাই এ্যালুমেনিয়ামের দোকান করতো। বেশ কিছুদিন আগে সে নতুন দোকান চালু করেছে। বুধবার সকালে সে বাড়ি থেকে বের হয়ে আটোয়ারী উপজেলা শহরের দিকে যাচ্ছিল। ট্রাক্টরটি বালু নিয়ে পঞ্চগড়-রুহিয়া সড়ক দিয়ে যাচ্ছিল। এসময় জীবন মির্জাপুর ইউনিয়নের পঞ্চগড়-রুহিয়া সড়কের আটোয়ারী কলেজ মোড়ে একটি বালুবাহী ট্রাক্টরটি জীবনের মোটর সাইকেলটিকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তবে ঘাতক ট্রাক্টরের চালক ও সহকারীরা এসময় পালিয়ে যায়।
আটোয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো ইজার উদ্দীন সড়ক দূর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আমরা ঘাতক ট্রাক্টরটিকে জব্দ করে থানায় নিয়ে এসেছি। তবে ট্রাক্টর চালক ও তার সহকারীদের আটক করা সম্ভব হয়নি। তারা ঘটনার পরেই পালিয়ে গেছে। এ ব্যাপারে নিহতের পরিবারের সদস্যরা কোন মামলা বা অভিযোগ করলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবো

পাইকগাছায় আয়া পদে দশ লাখ টাকায় নিয়োগের অভিযোগ

পাইকগাছা প্রতিনিধি : পাইকগাছায় এক মাধ্যমিক স্কুলে আয়া পদে ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিক্ষার আগেই বিষয়টি ফাঁস হওয়ায় ১২ পরিক্ষার্থী মধ্যে ৮ জন প্রার্থী পরিক্ষা বর্জন করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সোলাদানা ইউপির দক্ষিণ কাইনমূখীর আদর্শ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের আয়া পদের নিয়োগে।

জানা গেছে, গত ৪ জানুয়ারী সোমবার সকালে আদর্শ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের আয়া পদে নিয়োগের জন্য পাইকগাছা সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে নিয়োগ পরিক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ১২ জন নিয়োগ পরিক্ষার্থী পরিক্ষা দেয়ার কথা থাকলেও পরিক্ষা দেন মাত্র ৪ জন। বাকি ৮ জন পরিক্ষার্থী ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে মিনাক্ষী রায় নামে একজন কে নিয়োগ চুড়ান্ত হওয়ার কথা জানতে পেরে নিয়োগ পরিক্ষা বর্জন করে।

নিয়োগ পরিক্ষা বর্জনকারী ৮ জন সকলের অভিযোগ প্রধান শিক্ষক হরেন্দ্র নাথ রায় সভাপতি ব্রজেন্দ্র নাথকে ম্যানেজ করে ১০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে মিনাক্ষী রায় কে নিয়োগ দিয়েছেন। তার মধ্যো নিয়োগ পরিক্ষার্থী সতী রানী বলেন, প্রধান শিক্ষক হরেন্দ্র নাথ রায় আমার সাথে নয় লক্ষ টাকায় নিয়োগ চুড়ান্ত হয় কিন্তু তিনি একই স্কুলের মনোষা মান্টারের বৌমা অনার্স পড়ুয়া মিনাক্ষী কে দশ লক্ষ টাকার বিনিময়ে নিয়োগ চুড়ান্ত হওয়ার কথা জানতে পেরে আমরা নিয়োগ পরিক্ষায় অংশগ্রহণ না করে বর্জন করি।

কাকুলী রানী মন্ডল নামে আরো একজন নিয়োগ পরিক্ষার্থী বলেন, প্রধান শিক্ষক আয়া পদে নিয়োগের জন্য তার কাছেও দশ লক্ষ টাকা দাবী করে কিন্তু তিনি সাত লক্ষ টাকা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি আরো বলেন, আমরা জনি মোট ১০ জন প্রার্থী নিয়োগ পরিক্ষা দিবে। কিন্তু আমরা যখন জানতে পারলাম যে মিনাক্ষী নামে একজনকে ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে চাকরি চুড়ান্ত হয়েছে তখন আমরা ৮ জন পরিক্ষার্থী নিয়োগ পরিক্ষা বর্জনের সিদ্ধান্ত নেই। পরিক্ষা বর্জনের খবর জানতে পেরে প্রধান শিক্ষক নতুন করে ব্যাক ডেটে দুজনের নিয়োগ পরিক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেন। ফলে মোট ৪ জন পরিক্ষার্থী নিয়োগ পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।

প্রধান শিক্ষক হরেন্দ্র নাথ রায় আয়া পদে নিয়োগের ব্যাপারে বলেন, আয়া পদে নিয়োগ পরিক্ষায় ৪ জন অংশগ্রহণ করলেও বাকিরা আসেনি। কোন টাকার বিনিময়ে আয়া পদে নিয়োগ দেয়া হয়নি।

স্কুলের সভাপতি ব্রজেন্দ্র নাথ বলেন, নিয়োগ পরিক্ষার কোন টাকা পয়সার লেনদেন হয়নি।