৬২ আরোহী নিয়ে ইন্দোনেশিয়ায় যাত্রীবাহী বিমান নিখোঁজ

মানস বিশ্বাস, আন্তর্জাতিকঃ ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা থেকে বোয়িংয়ের একটি উড়োজাহাজ উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর সংযোগ হারিয়ে ফেলে বলে জানা গেছে। জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলের এক প্রতিবেদনে আজ শনিবার বিকেলে এ তথ্য জানানো হয়েছে। শ্রীবিজয়া এয়ার কোম্পানির বোয়িং ৭৩৭ ফ্লাইটটি জাকার্তা থেকে ওয়েস্ট কালিমান্তান প্রদেশের রাজধানী পনতিয়ানাক যাচ্ছিল।

ইন্দোনেশিয়ার সংবাদমাধ্যম রিপাবলিকার বরাত দিয়ে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ফ্লাইটে ছয় শিশুসহ ৬২ আরোহী ছিলেন। এর মধ্যে দুজন পাইলট ও চারজন কেবিন ক্রু ছিলেন। উড়োজাহাজটি জাকার্তার সুকর্ণ-হাট্টা বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে গিয়েছিল। এটি পশ্চিম কালিমানতান প্রদেশের রাজধানী পন্টিয়ানাকের দিকে যাচ্ছিল।

ফ্লাইট ট্র্যাকার ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪ জানায়, উড়োজাহাজটি ১০ হাজার ফুটের বেশি উচ্চতায় অবস্থান করছিল। সেখানে এক মিনিটের কম সময় অবস্থানের পর হঠাৎ করেই সেটি রাডার থেকে হারিয়ে যায়। পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিখোঁজ উড়োজাহাজটির সন্ধানে চেষ্টা চলছে। এরই মধ্যে টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু ধ্বংসস্তূপের ছবি দেখতে পাওয়া গেছে। কন্ট্রোল টাওয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নের সময় উড়োজাহাজটি যে এলাকার আকাশসীমায় ছিল, সেখানকার স্থানীয় লোকজন বিবিসি ইন্দোনেশিয়ান সার্ভিসকে বলেন, তাঁরা অনেক কিছু পড়ে থাকতে দেখেছেন। তাঁদের ধারণা, এগুলো সেই উড়োজাহাজের।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সিন্দোনিউজের বরাত দিয়ে ডয়েচে ভেলে আরো জানিয়েছে, এর আগে দুটি ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হওয়া বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স সিরিজের উড়োজাহাজ ছিল না এটি। নিখোঁজ উড়োজাহাজটি বোয়িং ৭৩৭-৫০০ সিরিজের।

স্থানীয় বিমান সংস্থা শ্রীবিজয়া এয়ার উড়োজাহাজটির মালিক। সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা নিখোঁজ উড়োজাহাজের ব্যাপারে সব ধরনের তথ্য সংগ্রহ করছে। এর আগে ২০১৮ সালের অক্টোবরে ইন্দোনেশিয়ার লায়ন এয়ারের একটি বিমান সমুদ্রে বিধ্বস্ত হয়ে ১৮৯ যাত্রী নিহত হয়।

আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকার ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪ জানিয়েছে, উড়োজাহাজটি উড্ডয়নের এক মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সংযোগ হারায়।

স্বাধীনতা দিবসে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে

দেশ প্রতিবেদক গাজীপুর: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হবে। এ বিষয়ে কারও আপত্তি আছে কি-না তা যাচাই করার জন্য ৩০ দিনের সময় দেয়া হবে। কোন আপত্তি না থাকলে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে খসড়া চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে । পরে ২৬ মার্চ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করবো। তবে কারো যদি তদন্তাধীন কোনো বিষয় থাকে তাহলে সেগুলো বাদ থাকবে। পরবর্তীকালে তারা বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বিবেচিত হলে তালিকায় তাদের নাম সংযুক্ত হবে। শনিবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কালাকৈর এলাকায় সামিটের অর্থায়নে ৩৮ নম্বর কালাকৈর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নবনির্মিত তিনতলা বিশিষ্ট ভবন উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। মোজাম্মেল হক বলেন, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কালাকৈর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। সেটিকে সামিটের অর্থায়নে তিনতলা ভবন করা হয়েছে। আমরা এখন এ প্রাথমিক বিদ্যালয়টিকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে উন্নীত করবো। সামিটের মতো অন্যদেরও এলাকাবাসীর উন্নয়নে কাজ করা উচিত। অনুষ্ঠানে সামিট গাজীপুর-২ পাওয়ার ও এইস অ্যালায়েন্স পাওয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. মোজাম্মেল হোসেন জানান, সামিট গ্রুপের অর্থায়ন ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় পাঁচ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে শূন্য দশমিক আট একর জমির উপর নতুন তিনতলা ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে। বিদ্যালয়ে আগে ৩০৪ বর্গফুটের চারটি শ্রেণি কক্ষ ছিল, এখন ৫৪০ বর্গফুটের দশটি শ্রেণি কক্ষ করা হয়েছে। সাইন্স ল্যাব ও কম্পিউটার ল্যাবের জন্য নির্ধারিত কক্ষ করা হয়েছে। একটি গ্রন্থাগার করা হয়েছে। স্কুলে অভিভাবকদের জন্য বিশ্রামাগার, শিক্ষকদের জন্য দু’টি কক্ষ ও একটি সভা কক্ষ ছাড়াও পুরো স্কুলে সীমানা দেয়াল নির্মাণ করা হয়েছে।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর খোরশেদ আলম সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, সামিট গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান লতিফ খান, গাজীপুর সিটি কপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোফাজ্জল হোসেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারজানা আক্তার প্রমুখ।
এ সময় গাজীপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও মহানগর যুবলীগ নেতা হিরা সরকার, সামিট গ্রুপের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

মাগুরখালীতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন যুদ্ধে ৩জন

দেশ প্রতিবেদক, ডুমুরিয়া : আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে ডুমুরিয়া উপজেলার ১৪নং মাগুরখালী ইউনিয়নেও বইছে প্রচার-প্রচারণার হাওয়া। চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এই ইউনিয়নে বিরোধী দল বিএনপির তেমন কোন জোরালো প্রার্থী না থাকলেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মধ্যে মনোনয়ন প্রতিযোগিতায় রয়েছে বর্তমান চেয়ারম্যানসহ ৩ প্রার্থী। জানা গেছে, উপজেলার সর্বশেষ ইউনিয়নটিই হল ১৪নং মাগুরখালী। উপজেলার এই অঞ্চলটি হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত। তাই এখানকার অধিকাংশ ভোট আওয়ামী লীগ পক্ষেই থাকে সবদিন। তবে এবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কিছুটা ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকায় সরব হয়ে উঠেছে নেতৃত্ব। ব্যক্তিগত মত-আদর্শ, নেতৃত্বের বিকাশ ও উন্নয়ন ভাবনায় অনেকেই এখন ওই চেয়ারটির দাবিদার। আর ওই চেয়ারটি বিজয়ের অন্যতম পথ হল দলীয় মনোনয়ন। যা প্রত্যাশায় মাঠে রয়েছেন তিন প্রতিযোগী। এ বিষয়ে বর্তমান চেয়ারম্যান বিমল কৃষ্ণ সানা বলেন, আমি ও আমার পরিবার এই ইউনিয়ন বাসীর সাথে নিবিড় ভাবে মিশে আছি। এইবারসহ তিন পিরিয়ড আমি এখানকার চেয়ারম্যান। এখানকার উন্নয়ন, অগ্রগতি যা কিছু সবই বর্তমান সরকারের আসলে এবং আমার প্রচেষ্টায় করা হয়েছে। এক সময়ের ডাউন মাগুরখালী আজ টাউন মাগুরখালীতে পরিনত হয়েছে। সরকারি ভাবে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে মানুষের ভাগ্যে’রও পরিবর্তন হয়েছে। এক সময়ে স্কুল কলেজ রাস্তাঘাট কিছুই ছিল না। মানুষের কস্টের সীমা ছিল না। আজ তার অনেক পরিবর্তন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা’র নীতি আদর্শকে আমি সব সময় স্মরণ করে চলি। চলার পথে অনেক হয়রানী নির্যাতনের শিকার হয়েছি। তারপরও মানুষের পাশে থেকে তাদের ভালোবাসায় এগিয়ে যাচ্ছি। দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী অপর প্রার্থী প্রভাষক ব্রজেন সরকার বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতি করে আসছি। বর্তমানে ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। সব সময় মানুষের কল্যাণে কাজ করি। বর্তমান পেক্ষাপটে উন্নয়নের মাধ্যম হল জনপ্রতিনিধিত্ব। এলাকা বা মানুষের জন্য উন্নয়নমুলক কিছু করতে হলে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হতে পারলে অনেক সুবিধা হয়। যে কারণে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নেমেছি মাঠে। ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছি। আর ইউনিয়ন বাসীও আমার সঙ্গে রয়েছে। মনোনয়ন প্রত্যাশী অপর প্রার্থী সুজিত কুমার মন্ডল বলেন, আমার প্রায়ত দাদা স্বর্গীয় কার্তিক চন্দ্র মন্ডল ছিলেন এই ইউনিয়নের সাবেক সফল চেয়ারম্যান। এই ইউনিয়ন বাসীর সাথে তার ছিল নাড়ির সম্পর্ক। তার মৃত্যু’র পরে তারই অনুসারী ও আপনজনরা আমাকে উৎসাহিত করে। সেই থেকে মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছি। দলীয় ভাবে বড় কোন পদ-পদবি নেই। তারপরও ইউনিয়ন জুড়েই আমার নিজস্ব কর্ম-সমার্থক রয়েছে। বিশেষ করে নির্যাতিত ও বঞ্চিত মানুষগুলো আমার পক্ষেই কাজ করছে। ইউনিয়নের বিএনপি নেতা অরুণ কুমার গোলদার বলেন, এখানে আওয়ামী লীগের ভোট বেশি। তাছাড়া দীর্ঘদিন ঘরে দল ক্ষমতায় নেই। তারপরও দলীয় প্রতীক পেলে অবশ্যই নির্বাচন করবো। কারণ আওয়ামী লীগের মধ্যে চরম বিরোধ। সেক্ষেত্রে বিদ্রোহী প্রার্থী মাঠে থাকলে পরিস্থিতি অনুকুলে আসার সম্ভবনা রয়েছে।

একই জমিতে একাধিক ফসল সবজি চাষে স্বপ্ন দেখছেন চাষিরা

শেখ হেদায়েতুল্লাহ, ডুমুরিয়া : সমন্বিত সবজি চাষে স্বপ্ন দেখছেন খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার চাষিরা। উপপেজেলার হোগলাডাঙ্গা গ্রামের কৃষক আব্দুল ওয়াদুদ ৩৩ শতক জমিতে হলুদের চাষ করেছেন। একই জমিতে তিনি রোপণ করেছেন মরিচের চারাও। একসঙ্গে একই জমিতে রোপন করেছেন বেগুন গাছও। দুই ধরনের সবজি চাষ করলেও কোনটারই ফলনে প্রভাব পড়েনি। বেগুন আর মরিচ দুটোরই ফলন ভাল হয়েছে। প্রতিদিনই বাজারে বিক্রি করছেন সেই সবজি। আব্দুল ওয়াদুদ ছাড়াও খর্নিয়া গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন, পাশখালী রহিমা বেগম, হাজিবুনিয়া গ্রামের জগদীশ মন্ডল, খামারবাড়ি গামের সুব্রত মন্ডলসহ বেশ শতাধিক কৃষক সমন্বিত সবজির আবাদ করেছেন। জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার হোগলাডাঙ্গা গ্রামের কৃষক আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, অন্যান্য সবজির চেয়ে মশলা জাতীয় ফসল হলুদ আবাদ রাভজনক। তাছাড়া একই সাথে বেগুনের বাজারমূল্যও বেশি। মরিচের দামও কম নয়। ৩৩ শতক জমিতে সবমিলিয়ে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। মেটে আলু বিক্রি করেছি ২৫ হাজার টাকা, মরিচ বিক্রি হয়েছে ৩৫ হাজার টাকা। বেগুণ বিক্রি করেছি ৩৫ হাজার টাকার মত। এছাড়া আশা করছি হলুদ বিক্রি হবে প্রায় ১ লাখ টাকা। কৃষি অফিস ষূত্রে জানা যায়, মরিচের সঙ্গে ফুলকপি কিংবা বাঁধাকপি, বেগুনের সঙ্গে মরিচ, আলুর সঙ্গে মরিচ, মুলা, পালংক শাক ও ধনিয়া পাতা ইত্যাদি একযোগেই চাষাবাদ করছে এসব অঞ্চলের কৃষক। অপরদিকে আলুর ক্ষেতে মাচায় শিম বা লাউ চাষও করা হচ্ছে।
একসঙ্গে একাধিক সবজি চাষের দিকে ঝুঁকেছেন কৃষকরা। এতে একটা ফসলে লোকসান হলেও দ্বিতীয় ফসলে লাভ হবেই। এ কারণে কৃষকের লোকসানের সম্ভাবনা নেই। খর্নিয়া গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ২/৩ বিঘা জমিতে হলুদসহ ফুলকপি ও বাঁধাকপি একসঙ্গে আবাদ করেছি। এছাড়াও বেগুন-মরিচ, আলু, লাউ, মিস্টি কুমড়া চাষ করেছি। বেশ কয়েকদিন আগেই বেশিরভাগ ফসল বিক্রি শুরু করেছি। খামারবাড়ি গ্রামের চাষী সুব্রত মন্ডল জানান, কৃষি অফিসের পরামর্শ মতে এক বিঘা জমিতে উচ্চ হলুদের সাথে ফলনশীল বেগুন চাষ করেছিলাম। মৌসুমের শুরুতেই বেগুন বিক্রি করতে পেরেছি। উচ্চ ফলনশীল বেগুন চাষে বেশ লাভ হয়েছে। একই জমিতে মরিচও চাষ করেছি। তাও পরিপক্ক হতে শুরু করেছে। স্থানীয় কৃষকেরা জানান, জমিকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে জানলে চাষাবাদে লাভ আসবেই। আগের দিনে কৃষকেরা এক ধরনের ফসল চাষে অভ্যস্ত ছিল। বর্তমানে সেটা আর নেই। বেশিরভাগ চাষিই একাধিক ফসল চাষে লাভবান হচ্ছে। ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার মো: মোছাদ্দেক হোসেন জানান, শীতকালীন সবজির মৌসুমে ডুমুরিয়ার অধিকাংশ চাষী একইসঙ্গে একাধিক ফসল চাষ করছে। একাধিক ফসল চাষে কৃষকের যেমন বেশি মুনাফা হয় তেমনি জমির উর্বরতা শক্তিও বাড়ে। আমরা তাদের উৎসাহ ও সহযোগিতা করছি। তিনি বলেন ডুমুরিয়ায় এবার ৬০ হেক্টর ( ১ হেক্টর= ২.৪৭ একর) অর্থাৎ ৪২০ বিঘা জমিতে হলুদসহ অন্যান্য সবজির সমন্বিত ফসলের আবাদ হয়েছে।

 

বঙ্গবন্ধু স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে খুলনা প্রেসক্লাবের কর্মসূচি

বিজ্ঞপ্তি : হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে খুলনা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে নিন্মোক্ত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আজ রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় প্রেসক্লাব চত্বরে অবস্থিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন। পরপরই দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে ক্লাব চত্বরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। খুলনা প্রেসক্লাবের সকল সদস্য ও ইউজার সদস্যদের উক্ত কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বঙ্গোপসাগর থেকে ১৮ জেলে উদ্ধার

বিজ্ঞপ্তি : বঙ্গোপসাগরে ইঞ্জিন বিকল হয়ে ২২ দিন ভাসমান থাকার পর ফিশিং বোট “এফ বি আল হাসান’ থেকে ১৮ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। গত ০৮ জানুয়ারি ২০২১ সকালে নৌবাহিনীর জাহাজ নির্মূল ও অতন্দ্র গভীর সমুদ্রে টহলরত অবস্থায় সেন্টমার্টিনের ৮৩ নটিক্যাল মাইল দূরে ভাসমান অবস্থায় ফিশিং বোটটিকে জেলেসহ উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত জেলেরা হলেন কাশেম কেরানী (৬০), বাবুল (৩২), আল আমিন (২০), হোসেন (২৭), তোফাজ্জল (৫০), খলিল (৩৬), শাকিল, আজিজ (৬৭), নজরুল (৫৯), শামীম সিকদার (২৬), আবুল কাশেম (৪৫), কবির উদ্দিন (৪২), জগন্নাথ (৪৫), ইউসুফ (৩৬), রমজান (৫০), হাফিজ (৩৫), শাহ আলম (৪০) ও বাবলু (৩৪)। জেলেরা জানায়, গত ০৯ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখ ফিশিং বোটটি ১৮ জন মাঝি নিয়ে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে সমুদ্রে গমন করে। ১৭ ডিসে¤¦র ২০২০ তারিখ পায়রা বন্দর বয় এর কাছে ফিশিং বোটটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ায় ২২ দিন যাবত ধরে তারা সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় থাকে। এসময় জেলেরা শুকনো চাল ও শুটকি খেয়ে বেঁচে ছিল। পরে নৌবাহিনী জাহাজ নির্মূল ও অতন্দ্র গভীর সমুদ্রে টহলরত অবস্থায় ফিশিং বোটটিকে উদ্ধার করে। তীব্র পানি ও খাদ্য সংকটে শারীরিক ও মানসিকভাবে দুর্বল অবস্থায় নৌবাহিনী তাদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় খাদ্য ও বস্ত্র প্রদান করে। পরবর্তীতে তাদের নৌকাটির ক্রটিযুক্ত ইঞ্জিন মেরামত করে নৌকা ও মাঝিদেরকে নিরাপদে পটুয়াখালীতে পাঠানোর লক্ষ্যে নৌবাহিনীর সেন্টমার্টিন ঘাঁটিতে হস্তান্তর করা হয়।