সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের পরিচয় একটাই ওরা সন্ত্রাসী ওরা চাঁদাবাজ -নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এমপি

ফুলতলা (খুলনা) প্রতিনিধিঃ সাবেক মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এমপি বলেছেন, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের কোন দল নেই। ওদের পরিচয় একটাই, ওরা সন্ত্রাসী ওরা চাঁদাবাজ। ওদেরকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে সব ধরনের সুবিধা দেয়ার পরেও সুযোগ পেলে আবারও পূর্বের কর্মকান্ডে ফিরে যায়। সন্ত্রাসীরা যে দল ও যে মতেরই হোক না কেন, তাদেরকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্ঠান্তমুলক শাস্তি দিতে হবে।

বুধবার দুপুরে ফুলতলার তাজপুর গ্রামে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত মোল্যা হেমায়েত হোসেন লিপুর বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের খোজ খবর নেন ও মতবিনিময় করেন। এ সময় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শেখ আকরাম হোসেন, ওসি মাহাতাব উদ্দিন, ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আবুল বাশার, আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ আসলাম খান, মৃনাল হাজরা, শিল্পপতি আলহাজ্ব ইমামুল হক ভুইয়া, নিহতের লিপুর বৃদ্ধ মাতা দোলেনা বেগম, স্ত্রী হিরা বেগম, কন্যা মিথিলা, পুত্র রায়হান, রোহান ও জিসান এবং বড় ভাই মোল্যা হেমায়েত হোসেন লিটু, চাচাত ভাই মোল্যা আলমগীর হোসেনসহ এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। লিপুর মাতা দোলেনা বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে ছেলে হত্যাকারীদের দৃষ্ঠান্তমুলক শাস্তি এবং তার শিশু সন্তানদের সহায়তার দাবি জানান। সাবেক মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এমপি অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি নির্দেশ প্রদান করেন। প্রসঙ্গতঃ গত ১৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ফুলতলার বাজারের গরুহাট এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে লিপু মোল্যা নিহত হন।

মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী গৃহহীনদের গৃহ নির্মানের ব্যবস্থা করেছেন -নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এমপি

ফুলতলা (খুলনা) প্রতিনিধিঃ সাবেক মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এমপি বলেছেন, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী ও বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত সমাজ বিনির্মান এবং জনগনের মৌলিক চাহিদা পুরণ করা। তারই অংশ হিসাবে বঙ্গবন্ধুর তনয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে দেশের সকল ভ‚মিহীন ও গৃহহীনদের জন্য গৃহনির্মানের ব্যবস্থা করেছেন।

বুধবার দুপুরে ফুলতলার উত্তরডিহি মৌজায় ৯ গৃহহীনদের জন্য নির্মানাধীন গৃহ পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব শেখ আকরাম হোসেন, ইউএনও সাদিয়া আফরিন, সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) রুলী বিশ্বাস, ওসি মোঃ মাহাতাব উদ্দিন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ইনসাদ ইবনে আমিন, মৎস্য কর্মকর্তা রনজিত কুমার, অধ্যক্ষ মোঃ মিজানুর রহমান, সমাজসেবা কর্মকর্তা শাহীন আলম, বিআরডিবি কর্মকর্তা মোঃ আফরুজ্জামান, আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ আসলাম খান, মৃনাল হাজরা, প্রেসক্লাব ফুলতলা সভাপতি তাপস কুমার বিশ্বাস, উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি শামসুল আলম খোকন, সিনিয়র সাংবাদিক শেখ মনিরুজ্জামান, সহকারী অধ্যাপক মোঃ নেছার উদ্দিন, আলহাজ্ব শেখ আশরাফ হোসেন, রবিউল ইসলাম মন্টু প্রমুখ। উপজেলার উত্তরডিহি মৌজার খাস খতিয়ানের এসএ ৩৬৪নং দাগে ১৯ শতাংশ জমিতে ভ‚মিহীন ও গৃহহীন ৯ পরিবারের জন্য গৃহ নির্মান করা হয়। এ পর্যায়ে গৃহহীন তাসলিমা বেগম, আবু বক্কার মিনা, আব্দুল্লাহ আল মামুন, আঃ জব্বার ফারাজি, মোঃ রবিউল ইসলাম, সেকেন্দার, মিলি বেগম, শোভা রানী কর ও মোঃ শাহ আলম শেখ এর জন্য গৃহ বরাদ্দ হয়।

মুক্তিযোদ্ধা হারুন আল জাফর চৌধুরীর নামে সড়ক নামকরণের ঘোষণা করলেন সরকার

মো: ওমর ফারুক (বাবু): চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার খানহাট-ধোপাছড়ি-বান্দরবান সড়কটির হাশিমপুর অংশে বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন আল জাফর চৌধুরী সড়ক নামে নামকরণ করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়।

১১ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ গোলাম জিলানী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে সড়কের নামকরণ করেন।

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার উত্তর হাশিমপুর গ্রামের ঐতিহ্যবাহী চৌধুরী পরিবার বীর মুক্তিযোদ্ধা আল জাফর চৌধুরী ১৯৩৪ সালের ১লা জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন । তার পিতা আব্দুল জলিল চৌধুরী ও মাতা মজলিস খাতুন । তিনি গাছবাড়িয়া নিত্যানন্দ গৌরচন্দ্র সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় হইতে ১৯৫৫ সালে মেট্রিক পাস করে বোয়ালখালী কানুনগোপাড়া স্যার আশুতোষ কলেজ স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন।

ছাত্রজীবনে তিনি বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। কলেজের দেন কালীন সময়ে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ ও নির্যাতনের প্রতিবাদে পাকিস্তানী শাসকদের বিরুদ্ধে তিনি আন্দোলন সংগ্রামে শরিক থেকে ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালে ৬ দফা আন্দোলন ও ১৯৬৯এর গণঅভ্যুত্থান সহ পাকিস্তানি সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে স্থানীয় পর্যায়ে জনমত গড়ে তোলার নেতৃত্বে অগ্রণী সৈনিক হিসেবে কাজ করেন ‌।

পাকিস্তানি স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রামের অংশ হিসেবে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের পর হতে এলাকার ছাত্র-যুবকদের সংগঠিত করে মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েন, এসময় তিনি মেজর রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম এর নেতৃত্বে গঠিত ১ নং সেক্টরের অধীনে চট্টগ্রামের কালুরঘাট, মিলিটারি পুল, পটিয়া শান্তিরহাট কুসুমপুরা ও চন্দনাইশের দোহাজারী ব্রিজ সহ বিভিন্ন স্পটে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন আল জাফর চৌধুরী ( লাল মুক্তিবার্তা নং ০২০২০৭০০৮৯, সাময়িক সনদ নং- ম- ৬২৯১ তারিখ ০২/১০/২০০২, গেজেট নং- ৪৩৭৫ তারিখ-২২/০৬/২০০৬ ) ১৯৭১ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে দেশের গৌরবময় স্বাধীনতা অর্জনে অসামান্য অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে বর্তমান সরকার তার নামে চন্দনাইশ উপজেলার খানহাট-ধোপাছড়ি-বান্দরবান হাশিমপুর অংশের সড়কটির বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন আল জাফর চৌধুরী সড়ক নামে নামকরণ করেন।