চট্টগ্রাম বন্দরের নতুন চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান

মোঃ ওমর ফারুক (বাবু), চট্টগ্রাম: সমৃদ্ধির স্বর্ণদ্বার ও দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি চট্টগ্রাম বন্দরের নতুন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিলেন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান।

বুধবার (১৩ জানুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে । এই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বর্তমান চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস আবুল কালাম আজাদকে নৌবাহিনীতে প্রত্যাবর্তনের জন্য তাঁর চাকরি সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে এবং তার পরিবর্তে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহানকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান ১২ এপ্রিল ২০২০ সালে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন।

রিয়ার এডমিরাল এম শাহজাহান (এনবিপি, এনডিসি, পিএসসি) ফেনী সদরের ১২ নং ফাজিল পুর ইউনিয়নের কৃতি সন্তান তিনি। ১৯৮৪ সালের ২৪ জুলাই বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগদান করেন। এবং ১৯৮৭ সালের ২৪ জুলাই কমিশনপ্রাপ্ত হন, মিরপুরে জাতীয় ডিফেন্স কলেজ ও ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ থেকে স্নাতক ১৯৮৭ সালের ১ জানুয়ারি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন। তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্টাডিজ ডিফেন্সে স্নাতকোত্তর এবং স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

এম শাহজাহান ‘পোর্ট অফ শিপিং এবং শিপিংয়ের বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বিকাশ’ বিষয়ক থিসিস নিয়ে গবেষণা করেন। তার কর্মজীবনে দেশে এবং বিদেশে বেশ কয়েকটি পেশাদার কোর্স করেন ও বেশ কয়েকটি যুদ্ধজাহাজের কমান্ড দিয়েছিলেন। তিনি নৌ সদর দফতরে ডিরেক্টর ব্লু ইকোনমি, ডেপুটি ড্রাফটিং কমান্ডার, স্টাফ অফিসার (নৌ নিয়োগ) -১ এবং নৌ সদর দফতরে বিভিন্ন অধিদফতরে কর্মচারী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ডেপুটেশন ছাড়াও তিনি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন), জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রনালয়ে ব্লু ইকোনমি সেলের সদস্য এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোস্টগার্ড সদর দফতরে বঙ্গদেশ কোস্ট গার্ডের উপ-মহাপরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

এ ছাড়াও জাতিসংঘ মিশনের অধীনে সামরিক পর্যবেক্ষক দলের টিম লিডার এবং হাইতিতে জাতিসংঘ মিশনে ব্যানসন -২ এ জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী কর্মকর্তা হিসাবে কাজ করেছেন।

সুনামগঞ্জে সাংসদ ও তাঁর দুই ভাইয়ের নামে আদালতে মামলার আবেদন

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ধরমপাশা সাংসদ মোয়াজ্জেম হোসেন ওরফে রতনসহ ৬৩ জনকে আসামি করে ধরমপাশা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার আবেদন করা হয়েছে। মামলার আবেদনে সাংসদের ছোট ভাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন ওরফে রোকন ও তাঁর বড় ভাই উপজেলা আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মোবারক হোসেন ওরফে মাসুদকে আসামি করা হয়েছে। এক বৃদ্ধকে গলা কেটে হত্যা, ঘরে অগ্নিসংযোগ ও হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এই মামলার আবেদন করা হয়।

গত শনিবার নিহত ব্যক্তির ছেলে সুনই মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি চন্দন বর্মণ ধরমপাশা থানায় মামলা করতে ব্যর্থ হন । তিনি বাদী হয়ে আজ বৃহস্পতিবার ধরমপাশা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার আবেদন করেন।

আদালতে মামলাটি দাখিল করার পর বিচারক মিছবাহ উদ্দিন আহমদ বাদীর জবানবন্দি শোনেন। এ ঘটনা নিয়ে থানায় আর কোনো মামলা হয়েছে কি না, বিচারক জানতে চান। একই ঘটনায় থানায় একটি মামলা চলমান থাকায় থানা থেকে আদালতে প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত আদালতে দাখিল করা মামলাটি স্থগিত এবং থানা থেকে প্রতিবেদন আসার পর এ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে মর্মে আদেশ দেওয়া হয়। এ তথ্য বিবাদীপক্ষের আইনজীবী আবদুল হাই তালুকদার ও আরফান আলী জানিয়েছেন।

তবে বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. রুহুল আমিন তালুকদার বলেন, ‘আমি আদালত থেকে আদেশের কপি পাওয়ার জন্য আবেদন করেছি। এটি হাতে না পাওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাবে না।’

উপজেলা প্রশাসন, থানা-পুলিশ ও এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার মনাই নদের সুনই জলমহালটি জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনাধীন। ছয় বছরের জন্য এটি ইজারা পায় সুনই মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড। সমিতির সভাপতি চন্দন বর্মণ যথারীতি জলমহালটির খাজনা পরিশোধ করেন। তিনি তাঁদের সমিতির সদস্যদের বসবাস ও অন্যান্য কাজের জন্য জলমহালের পাড়ে খলাঘরসহ পাঁচটি ঘর নির্মাণ করেন। একই সমিতির সভাপতি দাবি করে স্থানীয় সাংসদের ছোট ভাই উপজেলা চেয়ারম্যান রোকনের অনুসারী সুবল বর্মণ (৩০) খাজনা সরকারি কোষাগারে জমা দেন। তিন মাস আগে তিনি তাঁর লোকজন নিয়ে জলমহালটির পাড়ে দুটি ঘর নির্মাণ করেন। জলমহালটি নিয়ে একই সমিতির দুটি পক্ষের উচ্চ আদালতে মামলা থাকায় আদালতের আদেশে এটিতে স্থিতাবস্থা রয়েছে।

আদালতে দাখিল করা মামলায় বলা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সাংসদ রতনের হুকুমে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রোকন ও তাঁর দুই ভাইয়ের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আসামিরা সংঘবদ্ধ হয়ে জলমহালটিতে যান। খলাঘরে আগুন দেওয়াসহ সেখানে থাকা ১৫-২০ মণ জাল আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেন। অন্যদের মারধর করেন। এতে সুনই মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সদস্য শ্যমাচরণ বর্মণ (৬৫) বাধা দিলে তাঁকে গলা কেটে হত্যা করা হয়।

নিহত ব্যক্তির ছোট ভাই মনীন্দ্র চন্দ্র বর্মণ অভিযোগ করেন, সাংসদের নাম বাদ না দেওয়ায় থানা মামলা নেয়নি।
সাংসদ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘যে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করা যায়। অভিযোগ করলেই কেউ দোষী হয়ে যায় না। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আমাকে জড়িয়ে একটি পক্ষ ফায়দা নেওয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত। ঘটনার তদন্তে যাঁদের নাম বেরিয়ে আসবে, তাঁদেরই যেন আইনের আওতায় আনা হয়।’

ধরমপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে করা মামলায় গতকাল বুধবার তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ সকালে আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনার রাতে ২৩ জনকে আটক করা হয়। পরে দুজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকি ২১ জনকে ঘটনার পরের দিন আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে ৪ জনকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

পাইকগাছায় শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ

পাইকগাছা প্রতিনিধি : পাইকগাছায় অসহায় শীতার্তদের মাঝে প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে উপজেলা আ’লীগের দলীয় কার্যালয়ে শীতবস্ত্র প্রদান উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা আ’লীগ সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ার ইকবাল মন্টুর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আক্তারুজ্জামান বাবু। সাধারণ সম্পাদক শেখ কামরুল হাসান টিপুর পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন, সমীরণ সাধু, আনন্দ মোহন বিশ্বাস, মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শিয়াবুদ্দীন ফিরোজ বুলু, প্রভাষক ময়নুল ইসলাম প্রমুখ। এ সময় প্রধান অতিথি বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভা আ’লীগ নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে শীতবস্ত্র প্রদান করেন।

মোংলায় বিএনপির মেয়র প্রার্থীর ৫৬ দফা ইশতিহার ঘোষণা

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি : মোংলা পোর্ট পৌরসভার বর্তমান মেয়র ও আগামী ১৬ জানুয়ারী অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী আলহাজ্ব মো: জুলফিকার আলী নির্বাচনী ৫৬ দফা ইশতিহার ঘোষণা করেছেন। বুধবার দুপুরে পৌর শহরের মাদ্রাসা রোডস্থ ধানের শীষ প্রতীকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার এই নির্বাচনী ইশতিহার ঘোষণা করেন। তার ঘোষিত ইশতিহারের মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য রয়েছে, পৌরসভার চলমান স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়ন করে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দিয়ে ফ্রি চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা, পৌরসভা হতে নদীর এপার-ওপার ২৪ ঘন্টা এ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু, পৌর কর্তৃপক্ষের অধীনে ফ্রি/নামমাত্র ফি নিয়ে উন্নতমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু, বেকারত্ব দূরীকরণে বিভিন্ন ধরণের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা, পৌর এলাকার মসজিদের ইমাম/খতিবদের বেতন পৌরসভা হতে মাসিক হারে প্রদাণ, এলাকাভিত্তিক পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োগ ও প্রত্যেক বাড়ী হতে ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার, বিবাহ, জন্মদিনসহ সভা-সেমিনারের জন্য শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আধুনিক সভাকক্ষ করা, পৌর কিচেন মার্কেট, মৎস্য মার্কেট, উন্নতমানের কসাইখানা নির্মাণ, মোংলা নদীর পাড়ে সাংস্কৃতিক চর্চায় রবীন্দ্র সরোবরের ন্যায় উম্মুক্ত মঞ্চ তৈরি, প্রতিটি ষ্ট্যান্ডে খাবার পানি সরবরাহ, শহরের নিরাপত্তায় প্রতিটি মহল্লা সিটি ক্যামেরার আওতায় আনা, পৌর মন্দির ও শ্বশ্মানঘাট নির্মাণ, নদীর ওপারে বাসষ্ট্যান্ডে সুন্দরবন জাদুঘর নির্মাণ, আধুনিক পৌর ভবন নির্মাণ, বুড়িরডাঙ্গা এরাকায় রাস্তা, কবরস্থান করা, হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট তৈরি করে পৌরবাসীকে বিনিয়োগে উৎসাহিত করে শহরকে আধুনিক করা এবং পর্যটনবান্ধব পৌর শহর গড়ে তোলা। ইশতিহার ঘোষিত সংবাদ সম্মেলনে তার সাথে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় তিনি বলেন, দীর্ঘ ১০ বছর মোংলা পোর্ট পৌরসভার মেয়র হিসেবে পৌরবাসীর সেবক হয়ে সেবা প্রদাণ করেছি। ব্যক্তি জীবনের সুখ-শান্তি বিসর্জন দিয়ে সর্বদা দলমত ও ব্যক্তি স্বার্থের উর্ধে থেকে জরাজীর্ণ এবং জোয়ারের পানিতে তলিয়ে থাকা পৌরসভাকে সকলের সহযোগীতায় একটি স্মার্ট সিটিতে উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছি। মেয়র হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণকালে দুই কোটি নয় লাখ বাষট্টি হাজার চারশত একাত্তর টাকা দেনা ছিল পৌরসভা। সেই সকল দায় দেনা পরিশোধ করে পৌরসভাকে প্রথম শ্রেণীতে উন্নীত করা হয়েছে। পৌর তহবিলে এখন তিন কোটি টাকার উর্ধে রিজার্ভ রয়েছে।
সর্বশেষ পৌরবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, নির্বাচন একটি উৎসবমুখর পরিবেশ। কিন্তু বর্তমানে সেই পরিবেশ নেই। নির্বাচনের সুবাদে সকলের ঘরে ঘরে যাওয়া সম্ভব হয়নি বিভিন্ন বাধার কারণে। এজন্য আমি সকলের কাছে আন্তুরিকভাবে মর্মাহত ও দু:খ প্রকাশ করছি। পৌরসভার সকল ভোটারদের কাছে তাদের মূল্যবান ভোট চেয়ে তাকে বিজয়ী করার আহবাণ জানান তিনি।

পাইকগাছায় পল্লী সঞ্চয়ী ব্যাংক কার্যালয়ে রহস্যজনক চুরি

পাইকগাছা প্রতিনিধি : পাইকগাছায় আমার বাড়ী আমার খামার ও পল্লী সঞ্চয়ী ব্যাংকের কার্যালয় থেকে রহস্যজনকভাবে দিনে-দুপুরে প্রায় দেড় লাখ টাকা চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠণ করা হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বেলা ৩টায় পাইকগাছা উপজেলা আমার বাড়ী আমার খামার ও পল্লী সঞ্চয়ী ব্যাংকের আদায়কৃত ঋণের টাকা ক্যাশিয়ারের টেবিলের ড্রয়ার থেকে চুরি হয়েছে। ড্রয়ার ভিতরে আদায়কৃত ৫ লাখ ৯ হাজার টাকার মধ্যে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৬৮৫ টাকা চুরি হয়। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, এক যুবক অফিসে ঘোরা-ফেরা করছিল এবং মাঠ সহকারী আরতী রাণীর সাথে কথা বলতে দেখা যায় বলে কম্পিউটার অপারেটর আরিফা খাতুন জানান। ক্যাশিয়ার রবিউল ইসলাম জানান, আদায়কৃত টাকা ড্রয়ারে রেখে পাশের রুমে একটি কাগজে সীল মারতে গেলে এরই মধ্যে এ চুরির ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে উপজেলা সমন্বয়কারী ও শাখা ব্যবস্থাপক জয়া রাণী রায় জানান, সিসি ক্যামেরায় মাস্ক পরিহিত এক ব্যক্তিকে টাকা নিতে দেখা গেলেও তাকে চেনা যাচ্ছে না। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে থানায় মামলা করেছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী বলেন, মৎস্য কর্মকর্তার নেতৃত্বে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠণ করে একদিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মাঠ সহকারী আলমগীর জোয়াদ্দার ও নিলুফা ইয়াসমিনকে থানা হেফাজতে নেয়া হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিএসআই আরিফুর রহমান জানায়, ২জনকে জিজ্ঞাসাবাদের থানায় আনা হয়েছে। উল্লেখ্য, ইতোপূর্বে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে উপজেলা সমন্বয়কারী জয়া রাণী সহ ৪জনের নামে মামলা হলে তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে আদালত গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারী করে। বিষয়টি তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার কবির উদ্দীন আহমেদ সমাধান করেন।

ডুমুরিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে স্বাভাবিক উপায়ে সন্তান প্রসব ব্যবস্থা চালু

সুজিত মল্লিক, ডুমুরিয়া (খুলনা) : ডুমুরিয়া উপজেলার সাহস ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে অতিরিক্ত সেবা হিসেবে সংযুক্ত হয়েছে স্বাভাবিক উপায়ে সন্তান প্রসব ব্যবস্থা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির যৌথ সহায়তায় ২০২০ সালের মার্চ মাস থেকে শুরু হয় এর কার্যক্রম।
ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার সাহস ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে অতিরিক্ত সেবা হিসেবে শুরু করা হয়েছে স্বাভাবিক উপায়ে সন্তান প্রসাব (নরমল ডেলিভারি) ব্যবস্থা। আনুষ্ঠানিক ভাবে ২০২০ সালের মার্চ থেকে শুরু হয়েছে এর কার্যক্রম। এখানে জনবল হিসেবে নিযুক্ত আছেন ধাত্রীবিদ্যায় (মিড ওয়াইফ) পারদর্শী ৪ স্বাস্থ্যকর্মী। স্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রথম ফ্লোরের দুইটি কক্ষ জুড়েই এটা বিস্তৃত। যার মধ্যে রক্ষিত আছে ডেলিভারির কাজে ব্যবহৃত সকল প্রকারের উন্নত সরঞ্জামাদি। সারাক্ষণ খোলা থাকে এ বিভাগ। গর্ভকালীন সময়ের শুরু থেকে সন্তান প্রসাব পর ৪২ দিন পর্যন্ত রয়েছে সেবা গ্রহনের সুযোগ। এলাকার ১১০জন গর্ভবর্তী মা অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন এ সেবার তালিকায়। তারা সকলেই নিচ্ছেন নিয়মিত ব্যবস্থাপত্র। আর এ সেবা গ্রহনে কোন প্রকার পয়সা লাগছে না। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে চিকিৎসা।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্যকর্মী পারুল আক্তার জানান, ২০২০ সালের মার্চ মাস থেকে এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে ধীরগতিতে চলছিল। মুলতঃ গত মাসের অর্থাৎ ডিসেম্বরের ৭ তারিখ থেকে আমরা সম্পূর্ণ ভাবে কার্যক্রম শুরু করেছি। এখানে আমিসহ মোট ৪জন মহিলা নিযুক্ত রয়েছি। কেউ যেন এসে ফিরে না যাই, সেই জন্য দিনের সারাক্ষণ এ বিভাগ খোলা থাকে। এছাড়া প্রতিদিন ওয়ার্ড ও পাড়া-মহল্লায় আমাদের ভিজিটি চলছে। এ পর্যন্ত ১১০জন সংগ্রহ হয়েছে। এরমধ্যে গর্ভাবস্থায় আছেন ১০৬ জন এবং প্রসাব পরবর্তী পরিচর্যায় আছেন ৪জন। তবে সুবর্ণ দিন হল ১০ জানুয়ারি। এই দিনে আমরা সুন্দর ও সফল ভাবে এক প্রসুতির ডেলিভারী ঘটাতে সক্ষম হয়েছি। ওই প্রসুতি ছিলেন সাহসের কুমারঘাটা গ্রামের আবু রায়হানের স্ত্রী তাসলিমা বেগম। সেদিন তাসলিমার একটি পুত্র সন্তানের জন্ম হয়েছিল। দিন যতই যাচ্ছে ততই আমাদের এখানে গর্ভবতীর সংখ্যা বাড়ছে।
এ বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাঃ বিএম দীন মোহাম্মদ খোকা (মা ও শিশু বিভাগ) বলেন, গ্রামীণ জনপদে মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার ব্যাপক কাজ করছে। তারমধ্যে অন্যতম হল গর্ভকালীন সময়ে মা’র পরিচর্যা ও স্বাভাবিক উপায়ে সন্তান প্রসাব (নরমল ডেলিভারী) ঘটানো। আর এটা স্থাপিত হয়েছে ডুমুরিয়ার সাহস ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে। এখানে কোন প্রকার অপারেশন বা সিজার এ ধরনের কিছুই হয় না। সম্পূর্ণ সাধারণ, স্বাভাবিক এবং ধাত্রীবিদ্যায় প্রশিক্ষিত মহিলা স্বাস্থ্যকর্মীরা এটা করে থাকেন। সরকার প্রাথমিক ভাবে দুটি স্থানে এ সেবা ব্যবস্থা চালু করেছে। যার একটি হল দেশের উত্তরাঞ্চলে আর অন্য একটি হল এখানে। সেক্ষেত্রে এই অঞ্চলের মানুষ অনেক সৌভাগ্যবান বলা যেতে পারে। কারণ এখানে অনেক সুযোগ-সুবিধা। এখানে বিনা-খরচে গর্ভকালীন পরিচর্যা দেওয়া হবে। গর্ভাকালীন সময়ে যত সেবা সবই এখানে পাওয়া যাবে। ডুমুরিয়া উপজেলা ছাড়াও আশপাশের উপজেলা ও জেলার মানুষও নিতে পারবেন এ স্বাস্থ্য সুবিধা।
ডুমুরিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গাজী এজাজ আহমেদ বলেন, সিজার অপারেশন এখন প্রথায় পরিনত হয়ে গেছে। যা গরীব ও সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত কঠিন ও কস্টকর। টাকার অভাবে অনেক প্রসুতি মা ও শিশু মারা যাচ্ছে। আশাকরি এই সেবা ব্যবস্থার মাধ্যমে এই উপজেলা বাসী অনেক সুবিধা পাবে।

বটিয়াঘাটা ইউপি চেয়ারম্যানকে সম্বর্ধনা প্রদান

বটিয়াঘাটা প্রতিনিধি : সদ্য ঘোষিত জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে বটিয়াঘাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সিঃ সহ-সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান মনোরঞ্জন মন্ডল শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক পদে মনোনীত হওয়ায় বুধবার বিকাল ৩টায় ২নং বটিয়াঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে স্থানীয় পরিষদ সন্মেলন কক্ষে এক সম্বর্ধনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন ইউপি সদস্য যথাক্রমে রবীন্দ্রনাথ বৈরাগী, সুভাষ গাইন, গোবিন্দ বাছাড়, অলোকেশ সরকার, প্রসেনজিৎ গোলদার, কিশোর বিশ্বাস, বিউটি মন্ডল, রমা রানী মন্ডল, সচিব শামীমুজ্জামান সেখ, রেজওয়ানা বেগম, প্রিয়ংকা বিশ্বাস সহ গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

বটিয়াঘাটায় খাদ্যের নিরাপত্তা শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

বটিয়াঘাটা প্রতিনিধি : “জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরাপদ খাদ্য” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মুজিব বর্ষে কোভিক ১৯ এর স্বাস্থ্যবিধি অনুসরন করে উপজেলা পর্যায়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বটিয়াঘাটা উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কতৃর্পক্ষ খুলনা জেলা শাখার যৌথ আয়োজনে বুধবার বেলা ১১ টায় স্থানীয় জ্যোতিষ্ক সম্মেলন কক্ষে খাদ্যের নিরাপত্তা শীর্ষক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নজরুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে ও জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার সুরাইয়া সাইদুন নাহার এর স্বাগত বক্তৃতার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই গাইন, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ অপর্ণা বিশ্বাস, প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ বঙ্কিম চন্দ্র হালদার, কৃষি কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নারায়ন চন্দ্র মন্ডল, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা নারায়ন সরকার, খাদ্য কর্মকর্তা মোঃ জাকির হোসেন, খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা অসীম কুমার মন্ডল, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি প্রতাপ ঘোষ, সাধারন সম্পাদক ইন্দ্রজিৎ টিকাদার, অধ্যক্ষ আরিফুল ইসলাম, ইউপি চেয়ারম্যান মনোরঞ্জন মন্ডল ও হাদীউজ্জামান হাদী, ইউপি সদস্য নুর আলম ভূঁইয়া, দোকান মালিক জয়ন্ত মন্ডল, লিটন ঘোষ, মৎস্যচাষী সুব্রত মন্ডল প্রমূখ।

কেশবপুরে প্রশিক্ষণ কর্মসূচীর উদ্বোধন

রাজীব চৌধুরী, কেশবপুরঃ যশোরের কেশবপুরে বেকার যুবকদের দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক ও কর্মসংস্থানের জন্য ড্রাইভিং,মোবাইল সার্ভিসিং ও ইলেকট্রিক সার্ভিসিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচীর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।বৃহস্পতিবার কেশবপুর উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে উপজেলা পরিষদ,কেশবপুর, যশোর এর আয়োজনে ও উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্প স্থানীয় সরকার বিভাগ ও জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো- অপারেশন এজেন্সী ( জাইকা) এর সহযোগিতায় এটি অনুষ্ঠিত হয়।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম. এম. আরাফাত হোসেনের সভাপতিত্বে ও উপজেলা সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা সুজন কুমার চন্দ্রের সঞ্চালনায় উক্ত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেশবপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব কাজী রফিকুল ইসলাম।বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেশবপুর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসিমা সাদেক, ভাইস চেয়ারম্যান পলাশ কুমার মল্লিক, উপজেলা ডেভেলপমেন্ট ফ্যাসিলিটেটর( ইউজিডিপি জাইকা) আসমাউল হুসনা।আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা সুলতানা নাছরীন,উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পুলক কুমার সিকদার সহ প্রশিক্ষক ও প্রশিকনার্থীবৃন্দ।ড্রাইভিং,মোবাইল সার্ভিসিং ও ইলেকট্রিক সার্ভিসিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচীর শুভ উদ্বোধন ঘোষনা করেন কেশবপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব কাজী রফিকুল ইসলাম।

এম পি আব্দুস সালাম মূশেদী’র জন্মদিন উৎযাপন

দিঘলিয়া প্রতিনিধি : দিঘলিয়া উপজেলা প্রেসক্লাব এর প্রধান উপদেষ্টা খুলনা -০৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মূশেদী এম পি এর জন্মদিন এর কেক কাটা অনুষ্ঠান উপজেলা মোড়স্থ প্রেসক্লাব এর অস্থায়ী কাযালয়ে সন্ধা ৬: ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা উপজেলা আওয়ামিলীগ এর সভাপতি খান নজরুল ইসলাম। প্রেসক্লাবের সভাপতি হাবিবুর রহমান তারেক এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মল্লিক মোকশেদুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহ- সভাপতি এম ফরহাদ কাদির, কাযনিবাহী সদস্য এস এম রফিকুল ইসলাম, যুগ্মসম্পাদক গাজী জামশেদ সৌরভ, সহ- সম্পাদক মোঃ আশরাফ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ ওয়াসিক রাজিব, দপ্তর সম্পাদক কে এম আসাদুজ্জামান, প্রচার সম্পাদক কিশোর কুমার দে,ক্রীয়া সম্পাদক সালাউদ্দিন মোল্লা, তথ্য প্রযুক্তি সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মোড়ল।