খুলনায় বিরল রোগ লেপটোস্পাইরোসিসে আক্রান্ত রোগীর সন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক: খুলনায় লেপটোস্পাইরোসিস নামের বিরল রোগে আক্রান্ত রোগীর সন্ধান মিলেছে । সম্প্রতি এই রোগে আক্রান্ত হন খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরিদ আহমেদ। কিন্তু সময় মতো রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা নেয়ায় তিনি এখন অনেকটা সুস্থ।

নিজ বাসায় চিকিৎসারত অবস্থায় অ্যাডভোকেট ফরিদ আহমেদ খুলনা গেজেটকে জানিয়েছেন, গত ৩০ ডিসেম্বর জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু ধীরে ধীরে জ্বরের তীব্রতা বৃদ্ধি ও শরীরে অস্বাভাবিক নানা লক্ষণ দেখা দেয়। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে বেসরকারি একটি হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানেও শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হলে খুলনা জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের কনসালটেন্ট পার্থ ঘোষের পরামর্শে ওই হাসাপাতালে ভর্তি হন। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষায় তাঁর শরীরে লেপটোস্পাইরোসিস নামের বিরল এই রোগে সংক্রমিত হওয়ার বিষয়টি চিকিৎসকরা নিশ্চিত হন। পরে ওই ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিয়ে ১২ জানুয়ারিতে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়ে আবারও বাসায় অবস্থান করছেন অ্যাডভোকেট ফরিদ আহমেদ। তিনি এখন অনেকটা সুস্থ।

এ ব্যাপারে খুলনা জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিষেশজ্ঞ পার্থ ঘোষ মুঠোফোনে খুলনা গেজেটকে বলেন, ‘ওই ব্যক্তির শরীরে লেপটোস্পাইরোসিস নামক ব্যাকটেরিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে সেভাবেই তাকে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করা হয়েছে। এ ব্যাকটেরিয়া থেকে মুক্ত পাওয়ার জন্য অ্যান্টিবায়োটিক ঔষুধ যথেষ্ট। এটি নিয়ে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। এ রোগে আক্রান্ত হলে সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলেই সুস্থ্ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।’

জানতে চাইলে খুলনা সিভিল সার্জন নিয়াজ মোহাম্মদ খুলনা গেজেটকে বলেন, ‘কয়েকদিন হল খুলনাতে যোগদান করেছেন তিনি। তবে এই রোগে আক্রান্ত ওই ব্যক্তিকে তিনি হাসপাতালে দেখতে গিয়ে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শও দেন। তিনি আরও বলেন, সবেমাত্র যোগদান করার কারণে এর আগে আর কেউ এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে কিনা তা-তাঁর জানা নেই।’

২০১৬ সালের ৩১ জানুয়ারি বিবিসি বাংলা বাংলাদেশে লেপটোস্পাইরোসিস রোগ সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। উক্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ইঁদুর এবং অন্যান্য কিছু গবাদি পশুর মূত্র থেকে ছড়িয়ে পড়া এই রোগে বহু মানুষ আক্রান্ত হবার তথ্য মিলেছে।

তখন সারাদেশে চিকিৎসকদেরকে এই রোগটির অস্তিত্বের ব্যাপারে সচেতন করার কথা জানায় বাংলাদেশের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট বা আইইডিসিআর। যদিও এর আগে বাংলাদেশে এই রোগের খুব একটা প্রাদুর্ভাবের খবর ছিল না।

রোগটি নিয়ে আইইডিসিআরের তৎকালীন প্রধান ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘জ্বরের রোগী তো সবসময়ই থাকে। এ ধরনের রোগীদের বিষয়ে আমরা অন্য অনেক রোগের কথা ভাবি। কিন্তু লেপটোস্পাইরোসিসকেও এখন চিন্তায় আনতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “কোন এলাকায় জ্বরে আক্রান্ত রোগীর ১২ শতাংশ এ নতুন রোগে আক্রান্ত হওযার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। সারাদেশে দশটি এলাকায় অন্তত সাত শতাংশ জ্বরে আক্রান্ত রোগীর এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য মিলেছে।’

মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘রোগটা মূলত ইঁদুরের রোগ। তবে গরু, ছাগল ও ভেড়ার মাধ্যমেও হতে পারে। মূলত: এসব প্রাণীর মূত্র থেকে এ রোগ ছড়ায়। এ রোগে মৃত্যুর হার ৩০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। কারণ কিডনিসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোকে আক্রান্ত হতে পারে।’

নরসিংদীসহ ঢাকার আশেপাশের এলাকায় গবেষণায় এ ধরনের রোগী পাওয়া যায় তখন। যদিও এ রোগের চিকিৎসা রয়েছে এবং যথাযথ ঔষধ সেবনে এ রোগ ভালো হয় বলে জানান ড. মাহমুদুর রহমান।

বিশেষজ্ঞদের মতে লেপটোস্পাইরোসিস হল এক প্রকার সংক্রমণ যা লেপটোস্পাইরা নামক একটি স্পাইরাল আকৃতির ব্যাকটেরিয়াম (স্পাইরোচেট)-এর দ্বারা হয়। এই সংক্রমণের ফলে বিভিন্ন প্রকৃতির বহু উপসর্গ দেখতে পাওয়া যায়, যা অন্যান্য সংক্রমণের উপসর্গগুলোর সঙ্গে সাদৃশ্য বহন করে। সুতরাং এই রোগের নিশ্চিত নির্ণয়করণের জন্য মূত্র বা রক্ত পরীক্ষার প্রয়োজন হয়। এই সমস্যার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য জটিলতাগুলো হল কিডনির ক্ষতি, শ্বাসের সমস্যা, লিভার ফেলিওর এবং মেনিনজাইটিস (মস্তিষ্কের রক্ষাকারী আবরণ মেনিনজেস-এর ফুলে যাওয়া)।

লেপটোম্পাইরোসিস রোগে সাধারণত যেসব উপসর্গ দেখতে পাওয়া যায় তার মধ্যে রয়েছে ; জ্বর, গায়ে কাঁটা দেওয়া, মাথা যন্ত্রণা, বমি, জন্ডিস, রক্তবর্ণ চোখ, পেশীর ব্যথা, ফুসকুড়ি, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, প্লীহা বড় হয়ে যাওয়া ও পেটখারাপ।

ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থেকে অসুস্থতার বহিঃপ্রকাশের মধ্যে দুই দিন থেকে চার সপ্তাহ পর্যন্ত ব্যবধান থাকতে পারে, যে সময়ে প্রাথমিক উপসর্গ থাকে জ¦র। লেপটোস্পাইরোসিসের দু’টি লক্ষ্যণীয় পর্ব দেখা যায়। প্রথম পর্বে জ¦র, মাথা যন্ত্রণা, বমি ও পেশীর যন্ত্রণা থাকে। আর দ্বিতীয় পর্বে মেনিনজাইটিসের পাশাপাশি কিডনি বা লিভারের ক্ষতি, আইরিস-ফুলে যাওয়া বা প্রদাহ বা স্নায়ুরোগ। অন্তঃস্বত্তাদের জন্য লেপটোম্পাইরোসিস মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে, এর ফলে গর্ভপাতেরও সম্ভাবনা থাকে।

এর প্রধান কারণ কি?
আক্রান্ত পশুর মূত্র থেকে এর সংক্রমণ ঘটে। কুকুর, গবাদি পশু, ঘোড়া, বেড়াল ও অন্যান্য গৃহপালিত পশুর মূত্রে এই রোগের ব্যাকটেরিয়াম পাওয়া যায়। এমনকি ইঁদুরদের মধ্যেও লেপটোস্পাইরা থাকে। এই মূত্রের সঙ্গে যেকোন প্রকার সরাসরি সংস্পর্শ বা তার দ্বারা দূষিত খাদ্য বা জলগ্রহণের মাধ্যমে এই সংক্রমণ ছড়াতে পারে। চোখ বা নাক অথবা ত্বকের ক্ষতের মিউকোসাল স্তরের মধ্যে দিয়ে এই ব্যাকটেরিয়া শরীরে প্রবেশ করে। মানুষের পক্ষে এই রোগের বাহক হওয়া বিরল ঘটনা, সুতরাং মানুষ থেকে মানুষে এটি সংক্রমিত হয় না।

এটি কিভাবে নির্ণয় এবং চিকিৎসা করা হয়?
এই রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে দেহ তরল থেকে ব্যাক্টেরিয়া নিয়ে তার কালচারের মাধ্যমে এটি নির্ণয় করা যেতে পারে। প্রথমদিকে সাধারণত মস্তিষ্কসুষুম্না তরল বা সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড (মস্তিস্ক ও সুষুম্নাকান্ডকে ঘিরে যে তরল থাকে) পরীক্ষা করা হয়ে থাকে, পরবর্তী পর্যায়ে রোগ-নির্ণয়ের জন্য ইউরিন কালচারের সাহায্য নেওয়া হয়। রক্ত ও ইমিউন সিস্টেমের কোষ ও এর জন্য পরীক্ষা করা যেতে পারে। পেনিসিলিন, ডক্সিসাইক্লিন, সট্রেপ্টোমাইসিন ও এরিথ্রোমাইসিন-এর মত কিছু এন্টিবায়োটিক এই রোগের বিরুদ্ধে কার্যকরী। শ্বাসের সমস্যার ক্ষেত্রে কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্র বিশেষ সাহায্য করে। লিভার ও কিডনি ফেলিওর-এর ক্ষেত্রে এন্টিবায়োটিকের সাথে পেরিটোনিয়াল ডায়ালিসিস ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

প্রতিরোধ :
আক্রান্ত পশুর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে। এছাড়া গৃহপালিত পশুকে পরিষ্কার করার সময় সুরক্ষাকারী পোশাক পরা, পশুর মূত্র দ্বারা দূষিত জল পান করা বা তাতে স্নান করা থেকে বিরত থাকলে এই সংক্রমণের সম্ভাবনা কমানো যায়।

খুলনা মহানগর আ’লীগের উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদন

বিজ্ঞপ্তি: খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদন দিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রিয় নির্বাহী পরিষদ। গত ৩ জানুয়ারি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি ২৯জন সদস্যের নামের তালিকায় স্বাক্ষর করে অনুমতি প্রদান করেছেন বলে দলীয় সূত্রে এ তথ্য জানানো হয়।

উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা হলেন, মোস্তজাবুল হক মোস্তফা (২৯ নং ওয়ার্ড), শেখ আব্দুল কাদের (২৯ নং ওয়ার্ড), আবুল কাশেম (সদর), নাসির উদ্দিন দেওয়ান (২১ নং ওয়ার্ড), মাষ্টার মাহাবুবুর রহমান (৩০ নং ওয়ার্ড), এ্যাড. সোহরাব হোসেন (২২নং ওয়ার্ড), এ্যাড. বিরেন্দ্র নাথ (২৭ নং ওয়ার্ড), আলহাজ্ব শেখ আবুল হোসেন (৩১নং ওয়ার্ড), ডা. হারুন অর রশীদ (৩১ নং ওয়ার্ড), জিন্নাহ্ মাষ্টার (১৪নং ওয়ার্ড), সৈয়দ আরব আলী (১১নং ওয়ার্ড), শিকদার মোজাফফর মাষ্টার (১২নং ওয়ার্ড), আব্দুল জলিল মাষ্টার (১০নং ওয়ার্ড), আবু বক্কর সিকদার (৭নং ওয়ার্ড), মো. নাসির উদ্দিন (১৪নং ওয়ার্ড), বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ মনিরুল ইসলাম (১৪নং ওয়ার্ড), প্রফেসর আব্দুর রশীদ (৫নং ওয়ার্ড), আব্দুল মালেক মোড়ল (৪নং ওয়ার্ড), হায়দার আলী (১নং ওয়ার্ড), নারায়ণ চন্দ্র সরদার (৩২নং ওয়ার্ড), মোহাম্মদ হোসেন বন্দ (৫নং ওয়ার্ড), আলহাজ্ব হাবিবুর রহমান (৩৩নং ওয়ার্ড), বেগ আব্দুল মান্নান (৩৫নং ওয়ার্ড), গোলাম মোস্তফা (২নং ওয়ার্ড), আরাজুল ইসলাম আরজু (২০নং ওয়ার্ড), মো. লোকমান হোসেন (১৭নং ওয়ার্ড), গাউসুল আজম গাউস (২৫নং ওয়ার্ড), এ্যাড. হারুন অর রশীদ (১৮নং ওয়ার্ড), শেখ আকতার হোসেন সল্টু (১৬নং ওয়ার্ড)।

উপদেষ্টাদের দলীয় কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার আহবান জানিয়েছেন খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সিটি মেয়র আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক এবং খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এমডিএ বাবুল রানা।

চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বিএনপি নেতা শামসুল

দেশ প্রতিবেদক, যশোর : রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন যশোর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল হুদা। বৃহস্পতিবার আসরবাদ যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে জানাজাপূর্বে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এরপর বিপুল সংখ্যক মুসল্লির অংশগ্রহণে নামাজে জানাজা শেষে শহরের কারবালা সরকারি কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর আগে বেলা তিনটায় জেলা বিএনপি কার্যালয়ে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের ফুলেল শ্রদ্ধায় সিক্ত হয় মরহুম শামসুল হুদার লাশের কফিন। বুধবার রাতে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সাদা মনের রাজনীতিক মুক্তিযোদ্ধা শামসুল হুদা। মস্তিস্কে রক্তক্ষরণের কারণে তিনি বেশ কয়েকদিন ধরে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আহবায়ক মিজানুর রহমান খান জানান, বুধবার রাত ১০ টার দিকে ঢাকা থেকে একটি ফ্রিজার অ্যাম্বুলেন্সে মরহুম শামসুল হুদার লাশ নিয়ে যশোরের উদ্দেশ্যে রওনা হন তার স্বজনরা। এরপর বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে শহরের ঘোপ সেন্ট্রাল রোডস্থ বাসভবনে এসে মরদেহ বোঝাই অ্যাম্বুলেন্স এসে পৌঁছায়। মরদেহ বাসায় পৌঁছানোর পর সেখানে স্বজনদের কান্নায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতরণ হয়। সকাল থেকেই মরহুমের বাসায় রাজনৈতিক, সামাজিক, পেশাজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ এসে জড়ো হন। সকালে বাসায় যান বিএনপির যশোর জেলা শাখার আহবায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগম, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, আহবায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট জাফর সাদিক, গোলাম রেজা দুলু, আব্দুস সালাম আজাদ, আলহাজ মিজানুর রহমান খান, নগর বিএনপির সভাপতি মারুফুল ইসলাম, জাসদ নেতা অ্যাড. রবিউল আলম, অশোক রায়, জাপা নেতা শরিফুল ইসলাম সরু চৌধূরীসহ দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা। এসময় তারা মরহুমের স্বজনদের পাশে দীর্ঘক্ষণ সময় দেন। বেলা তিনটার দিকে মরহুমের লাশ নিয়ে আসা হয় শহরের লালদীঘিপাড়ের বিএনপির কার্যালয়ে। এসময় সেখানে আগে থেকে অপেক্ষমান নেতাকর্মীরা তাকে শেষ বারের মতো দেখার জন্য লাশের কফিনের সামনে ভিড় করেন। এরপর দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা একে একে তার কফিনে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান। জাতীয় ও দলীয় পতাকায় আচ্ছাদিত বীর এ মুক্তিযোদ্ধার কফিনে প্রথমে জেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগমের নেতৃত্বে দলটির জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এসময় সেখানে অন্যান্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, আহবায়ক কমিটির সদস্য গোলাম রেজা দুলু, এড. মোহাম্মাদ ইসহক, আব্দুস সালাম আজাদ, আলহাজ মিজানুর রহমান খান, নগর বিএনপির সভাপতি মারুফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মুনীর আহম্মদ সিদ্দিকী বাচ্চু, আনিছুর রহমান মুকুল সহ আরও অনেকে। এরপর ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তারা। দলীয় কার্যালয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিকেল সাড়ে তিনটার দিক নিয়ে যাওয়া হয় শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে। সেখানেও জানাজার পূর্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে মরহুমকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। এসময় কেন্দ্রীয় বিএনপির পক্ষ থেকে দলটির খুলনা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান জাসদ নেতা অ্যাড. রবিউল আলম, অশোক রায়, মুক্তিযোদ্ধা মুজহারুল ইসলাম মন্টু, জাপা নেতা শরিফুল চৌধূরী সরু, জাগপার প্রেসিডিয়াম সদস্য নিজামদ্দিন অমিতসহ যশোরের বিভিন্ন থানার বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠন সমূহের নেতাকর্মীরা। নেতাকর্মীদের ফুলেল শ্রদ্ধা শেষে প্রয়াত এই মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্মাননা প্রদান করা। এসময় একদল চৌকস পুলিশ সদস্যর অংশগ্রহণে গার্ড অব অনার পরিচালনা করেন যশোর সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জাকির হোসেন। রাষ্ট্রীয় নিয়ম কানুন শেষে মরহুমের জানাজার প্রস্তুতি নেয়া হয়। জানাজাপূর্ব উপস্থিত ধর্মপ্রাণ মুসল্লীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন দলের খুলনা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু ও মরহুমের জামাতা মাসুদ করিম। জানাজা শেষে তাকে শহরের কারবালায় সরকারি কবরস্থানে দাফন করা হয়। জানাজার নামাজ পড়ান মুফতি মো. ইলিয়াস হোসেন। এদিকে বিএনপির নেতা শামসুল হুদার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জাতীয় পাটির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাইদুর রহমান টেপা, যশোর জেলা জাতীয় পার্টিও নেতা আজিজুর রহমান, মুফতি নূরুল আমিন, মুফতি ফিরোজ শাহ, নজরুল ইসলাম, শরিফুল ইসলাম সরু চৌধূরী, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি এমএ কাশেম, সিনিয়র সহসভাপতি সিদ্দীক হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।

৫২ পৌরসভায় বিএনপির মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক: নির্বাচন কমিশন চতুর্থ ধাপে দেশের ৫৬টি পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠানের তফসিল ঘোষণা করেছে । বিএনপি চতুর্থ ধাপের ৫৬টি পৌরসভার মধ্যে ৫২টিতে মেয়র পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। বাকি চারটি পৌরসভায় এখন পর্যন্ত প্রার্থী দেয়নি দলটি।

আজ শুক্রবার বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সই করা একটি প্রার্থী তালিকা গণমাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। দলীয় প্রার্থীদের প্রত্যায়নপত্র ঢাকা কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

কোন বিভাগের প্রার্থী তখন প্রত্যায়নপত্র নেবেন, তা–ও জানানো হয়েছে। বিএনপি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, কাল ১৬ জানুয়ারি বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুর; দুপুর ১২টায় রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল এবং বেলা ২টায় ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের পৌরসভা নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীরা প্রত্যায়নপত্র নিতে পারবেন।

চট্টগ্রামের প্রকৌশলী কায়কোবাদের সনদ জালিয়াতিঃ জাল সনদে নয় বছর ধরে চাকরি!

চট্টগ্রাম ব্যুরো: সনদ জালিয়াতি ও ভুয়া অভিজ্ঞতা সনদ দিয়ে চাকরি নেওয়ার নয় বছর পর অপসারণ করা হয়েছে চট্টগ্রামের প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের উপ-প্রধান প্রকৌশলী কায়কোবাদ আল মামুনকে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১৪ জানুয়ারি) ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মো. রইছ উদ্দিন স্বাক্ষরিত অপসারণের আদেশ চট্টগ্রামে পৌঁছে। এর আগে জালিয়াতি করে চাকরি নেওয়ার তদন্ত শেষে বোর্ডসভায় অভিযুক্ত কায়কোবাদ আল মামুনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করে সংস্থাটি।

বিএসইসি সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামের প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড কারখানায় ২০১৭ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করছেন উপপ্রধান প্রকৌশলী কায়কোবাদ আল মামুন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তাঁর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম জমা পড়ে সংস্থায়। এসব অনিয়ম তদন্তে করতে গিয়ে বের হয়ে আসে তাঁর নিয়োগটি হয়েছিল জালিয়াতির মাধ্যমে।

বিএসইসির দীর্ঘ তদন্ত শেষে জানানো হয়, মামুন ডিপ্লোমা পরীক্ষায় পাস না করে চাকরি নিয়েছেন। ২০১১ সালে বিএসইসির নিয়োগের শর্ত ছিল প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) পদে আবেদনের জন্য ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিসহ ১০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। তিনি ফরিদপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ২০০৬ সালে প্রকৌশল ডিপ্লোমা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। কিন্তু চাকরির আবেদনপত্রে ২০০১ সালে পাশের সন উল্লেখ করে ১০ বছরের ভুয়া অভিজ্ঞতা সনদ ব্যবহার করে প্রকৌশলী পদে চাকরি নেন।

পুলিশের তদন্তে উল্লেখ করা হয়, মামুন চাকরির আবেদনের সময় অভিজ্ঞতা ছিল মাত্র তিন বছর ৯ মাস ১৬ দিন। তিনি ভুয়া অভিজ্ঞতা ১০ বছর উল্লেখ করে চাকরি লাভ করেন।

এর আগে গত বছরের ১০ আগস্ট প্রতারণার অভিযোগে কায়কোবাদ আল মামুনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। মামুন তদন্ত কমিটির কাছে কারণ দর্শানো নোটিশের জবাব ও আত্মপক্ষ সমর্থিত রিপোর্ট জমা দেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের কাছে সন্তোষজনক বিবেচিত না হওয়ায় বিএসইসির প্রধান প্রকৌশলী মো. নাজমুল হক প্রধানকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে সর্বশেষ বিএসইসির বোর্ডসভায় মামুনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাসহ অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিএসইসির সচিব মো. নাজমুল হক প্রধান বলেন, ‘অভিযুক্ত কায়কোবাদ আল মামুন ডিপ্লোমা পরীক্ষা পাস না করে চাকরি নিয়েছেন। অভিজ্ঞতার সনদও ভুয়া। বিএসইসির চাকরি প্রবিধামালায় তাঁর নিয়োগ অবৈধ এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাসহ অপসারণ করা হয়েছে।

চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারনা গ্রেপ্তার ২৩

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তিনটি প্রতিষ্ঠানের ২৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব– ৪। র‌্যাব বলছে, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা প্রতারণা করে মানুষের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। নিজেদের পুরো প্রক্রিয়াকে তাঁরা এমনভাবে সাজিয়েছেন যে অনেক চাকরিপ্রার্থীও একসময় তাঁদের প্রতারণার অংশ হয়ে যাচ্ছেন।

তিনটি প্রতিষ্ঠান হলো বিজবন্ড আইটি লিমিটেড, লাইফ গার্ড সিকিউরিটি অ্যান্ড সাপ্লাই লিমিটেড এবং ডিজিট-৪ সিকিউরিটি অ্যান্ড লজিস্টিকস সার্ভিসেস লিমিটেড। প্রতিষ্ঠান তিনটি দীর্ঘদিন ধরে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে, এমন মামলার পরিপ্রেক্ষিতে র‌্যাব তাঁদের গ্রেপ্তার করে।

র‌্যাব–৪–এর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজধানীর পল্লবী, ফার্মগেট এবং খুলনায় বিজবন্ড আইটি লিমিটেডের তিনটি কার্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে পল্লবীর কার্যালয় থেকে ৩ জন এবং ফার্মগেটের কার্যালয় থেকে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর প্রতিষ্ঠাতা মো. আবদুল হামিদ (৩৮)। তাঁর বাড়ি সিরাজগঞ্জে।

চাকরিপ্রার্থীও একসময় প্রতারণার অংশ হয়ে পড়তেন

র‌্যাব–৪–এর উপ–অধিনায়ক মেজর মো. কামরুল হোসেন বলেন, বিজবন্ড নিজেদের ফেসবুক পেজ এবং চাকরির বিজ্ঞাপনদাতা বিভিন্ন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে চাকরি দেওয়ার কথা বলে লোকজনকে আকৃষ্ট করে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আউটসোর্সিংয়ে পারদর্শী করা এবং কাজ পাইয়ে দেওয়ার কথা উল্লেখ থাকে সেসব বিজ্ঞাপনে। বিজ্ঞাপন দেখে চাকরিপ্রার্থীরা যখন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, তখনই শুরু হয় প্রতারণার ধাপ।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, প্রথমেই নিবন্ধিত হওয়ার জন্য টাকা নেয় তারা। এই টাকা মুঠোফোনের মাধ্যমেও দেওয়া যায়, আবার তাদের কার্যালয়ে গিয়ে সশরীরেও দেওয়া যায়। যাঁরা নিবন্ধন ফি হিসেবে দুই হাজার দেন, তাঁদের ছয় হাজার টাকা মাসিক বেতন; যাঁরা তিন হাজার দেন, তাঁদের সাত হাজার টাকা মাসিক বেতন এবং যাঁরা পাঁচ হাজার দেন তাঁদের আট হাজার টাকা মাসিক বেতনের চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। নিবন্ধনের টাকা দিয়ে যখন প্রার্থীরা চাকরি চান, তখনই নতুন ফাঁদ পাতেন প্রতারকেরা। চাকরি আপাতত নেই বলে জানিয়ে তাঁদের কার্যালয়েরই বিপণন বিভাগে কাজ শুরু করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। যাঁরা রাজি হন, তাঁদেরকে ৫টি করে ভুয়া ফেসবুক ও টুইটার অ্যাকাউন্ট খুলে চাকরি প্রার্থীদের প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে বলা হয়। যে যত বেশি লোককে উদ্বুদ্ধ করতে পারবেন, তাঁকে তত বেশি কমিশন দেওয়া হবে, এমনটাই চুক্তি হয়। কিন্তু চুক্তিও মানা হয় না। একপর্যায়ে যাঁরা কাজে যুক্ত হন, তাঁরাও হতাশ হয়ে চলে যান।

বিজবন্ডের প্রতিষ্ঠাতা আবদুল হামিদসহ গ্রেপ্তার অন্য ব্যক্তিরা হলেন মো. আবদুল জব্বার (৩৬), গাজিউর রহমান (২২), মো. আবদুস সালাম (৩৬), মাহামুদা খাতুন (৩০), মাসুম কবির (২৯), মো. ফরিদ ইমরান (২৬), এনামুল হক (২৭), মাহমুদা খাতুন (৩০), সুমনা খাতুন (১৯), মো. সোহেল ফরাজি (২৯) ও মোছা. শামীমা আক্তার (২৮)। তাঁদের কাছ থেকে ৬৫টি টাকা প্রাপ্তির রসিদ, ৩০১টি ভর্তি ফরম, ৬৫টি অঙ্গীকারনামা, ৭০টি চাকরির নিয়োগ ফরম, ২১৫টি কমিশন ভাউচার, ৭টি রেজিস্টার, ১টি প্যাড, ৪টি মানি রিসিট, ১টি ভর্তি ফরম বই, ৫টি চুক্তিপত্র, ১টি সিল, ৫০টি ভিজিটিং কার্ড, ৪৫টি আইডি কার্ড এবং ১৫টি জীবনবৃত্তান্ত জব্দ করা হয়েছে।

প্রশিক্ষণপর্ব থেকেই পালাতেন চাকরিপ্রার্থীরা

র‌্যাব কর্মকর্তারা বলছেন, যে দুটি সিকিউরিটি কোম্পানিতে অভিযান চালানো হয়েছে, তাদের পুরো প্রক্রিয়াটি এমনভাবে সাজানো ছিল যে প্রশিক্ষণপর্ব থেকেই অধিকাংশ চাকরিপ্রার্থী পালিয়ে যেতেন। মাঝখান থেকে ভর্তি ফরম ফি এবং প্রশিক্ষণ ফি হিসেবে দেওয়া পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হতো।

র‌্যাব–৪–এর উপ–অধিনায়ক মেজর মো. কামরুল হোসেন বলেন, টাকা দেওয়ার পর চাকরিপ্রার্থীদের একটি মুঠোফোন নম্বর ধরিয়ে দিয়ে সাত দিনের প্রশিক্ষণের জন্য ঢাকার আশপাশের এলাকার ঠিকানা দেওয়া হতো। সেখানে গিয়ে তাঁরা খালি প্লটের মধ্যে টিনশেডের ঘর দেখতে পেতেন। যেখানে রাতে থাকার জন্য চাটাই পাতা থাকত। অবসরপ্রাপ্ত বৃদ্ধ সেনাসদস্যদের প্রশিক্ষক হিসেবে রাখা হতো। এসব দেখে প্রথম দিনই অধিকাংশ লোক চলে যেতেন। যাঁরা থাকতেন, তাঁদেরকে নিয়মিত খাবার দেওয়া হতো না। এতে দু–এক দিনের মধ্যেই সবাই পালিয়ে যেতেন।

র‌্যাব শাহ আলীর লাইফ গার্ড সিকিউরিটি অ্যান্ড সাপ্লাই লিমিটেড নামের একটি কোম্পানি থেকে এমন প্রতারণার অভিযোগে তাসলিমা সুলতানা (৩০), সায়মা ইসলাম (২৪), মৌসুমী আক্তার (২৮), মো. সাইফুল ইসলাম (৩০) ও মো. রাকিব হোসেনকে (২০) গ্রেপ্তার করেছে। তাঁদের কাছ থেকে ১০০টি জীবনবৃত্তান্ত ফরম, ১৫টি চাকরির আবেদন ফরম বই, ৪টি রেজিস্টার, ৪টি সিলমোহর, ৭টি মুঠোফোন, ২০০টি ভিজিটিং কার্ড এবং ৫ হাজার ৫০০ টাকা জব্দ করেছে।

এ ছাড়া কাফরুলে ডিজিট-৪ সিকিউরিটি অ্যান্ড লজিস্টিকস সার্ভিসেস লিমিটেডে অভিযান চালিয়ে মো. কামরুজ্জামান (৩৩), মো. মশিউর রহমান (২৭), সোহাগ (১৯), মো. রুবেল (২৮), মোছা. মমতাজ নায়রী (৪৪) ও মোছা. শাহীনূর আক্তারকে (২৭) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে ১০টি প্রচারপত্র, ৫টি আইডি কার্ড, ১০টি মনোগ্রাম এবং ৪০টি ভর্তি ফরম জব্দ করা হয়েছে।

শনিবার শুরু হচ্ছে সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে প্রথম পরীক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক সিলেট: সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (এসএমইউ) এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন প্রথম পরীক্ষা গ্রহণের মধ্য দিয়ে নতুন অভিযাত্রা শুরু করছে। দীর্ঘ দাবির পর প্রতিষ্ঠা, স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার পর শনিবার শুরু হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে প্রথম পরীক্ষা। একযোগে তিনটি নার্সিং কলেজে শুরু হচ্ছে প্রথম বর্ষ বিএসসি ইন পোস্ট বেসিক নার্সিং পরীক্ষা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের দপ্তর জানায়, প্রথম বর্ষ বিএসসি ইন পোস্ট বেসিক নার্সিং পরীক্ষা ২০২০ সালের জুনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে তা এ বছরের জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সিলেটের নর্থ ইস্ট নার্সিং কলেজ, বেগম রাবেয়া খাতুন চৌধুরী নার্সিং কলেজ ও আল-আমিন নার্সিং কলেজের প্রথম বর্ষের মোট ১৫০ জন শিক্ষার্থী নিজ নিজ কেন্দ্রে এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি অনুষদে ডিন নিয়োগের পাশাপাশি পরীক্ষা কমিটি গঠনের মাধ্যমে পরীক্ষক নিয়োগের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম পরীক্ষা গ্রহণ হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, দেশের চিকিৎসাক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও সেবার মান এবং সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ ও উন্নয়নে জাতীয় সংসদে ২০১৮ সালের ১ অক্টোবর অনুমোদন হয় সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১৮। ওই বছরের ২০ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য হিসেবে যোগদান করেন সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ ও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মোর্শেদ আহমেদ চৌধুরী।

উপাচার্য নিয়োগের পর সিলেট নগরীর চৌহাট্টায় স্থাপিত অস্থায়ী কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের লক্ষ্যে নগরীর উপকণ্ঠে দক্ষিণ সুরমার গোয়ালগাঁও মৌজায় ৫০ দশমিক ২২ একর এবং হাজরাই মৌজার ৩০ দশমিক শূন্য ৯ একরসহ মোট ৮০ দশমিক ৩১ একর ভূমি অধিগ্রহণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের দপ্তর সূত্র জানায়, প্রথম ভর্তি পরীক্ষার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট গঠন করে দুটি সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ছাড়া অন্য সব বিধিবদ্ধ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াও শেষ পর্যায়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা, মাস্টার প্ল্যান, ফিজিবিলিটি স্টাডি তৈরি করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই ডিপিপি একনেকে অনুমোদন হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য অবকাঠামো তৈরির কাজও শুরু হবে।

সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোর্শেদ আহমেদ চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই সিলেটবাসীর দাবি ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের। উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার সব রকম চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। এতে করে শুরু থেকেই চিকিৎসা শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা ও উদ্ভাবনের দ্বার উন্মোচন করবে বিশ্ববিদ্যালয়টি। এই অগ্রযাত্রার অংশ হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে প্রথম পরীক্ষা। এই অভিযাত্রাও একটি ঐতিহাসিক ক্ষণ।

সাতক্ষীরায় মসজিদ কমিটি গঠন নিয়ে মারামারি, নিহত ১

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:  মসজিদ কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলায় মারামারিতে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অপর তিনজন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার বেলা তিনটার দিকে উপজেলার নলতা ইউনিয়নের দক্ষিণ কাশিবাটি জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ পাওয়া গেছে, ওই ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

নিহত ব্যক্তির নাম নজরুল ইসলাম পাড় (৫৮)। তিনি কালীগঞ্জ উপজেলার পাইকাড়া গ্রামের বাসিন্দা। এতে আহত হয়েছেন আবদুল কালাম (৩০) ও আবদুস ছাত্তার (২৪) ও শাহাজাহান মোড়ল (৩৫)। তাঁদের ভর্তি করা হয়েছে কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আজ শুক্রবার ছিল দক্ষিণ কাশিবাটি জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটি গঠন করার দিন। সেই অনুযায়ী বেলা তিনটার দিকে কমিটি গঠন করার জন্য স্থানীয় মানুষ মসজিদে আসেন। কে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হবেন, তা নিয়ে মসজিদ কমিটির সভাপতি ফজলুর রহমান মোড়লের সঙ্গে দক্ষিণ কাশিবাটি গ্রামের বজলুর মোড়ল ও খায়রুল ইসলাম সরদারের বিরোধ লাগে। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। ধাক্কাধাক্কি ও মারপিটের একপর্যায়ে নজরুল ইসলাম পড়ে গিয়ে সেখানেই মারা যান।
নলতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান বলেন, দক্ষিণ কাশিবাটি জামে মসজিদের কমিটির গঠন করা নিয়ে ধাক্কাধাক্কি ও মারপিটের একপর্যায়ে নজরুল ইসলাম পড়ে গিয়ে স্ট্রোক করে মারা গেছেন বলে তিনি শুনেছেন।

কালীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান বলেন, নজরুল ইসলাম নামের একজন মারা গেছেন। তবে তিনি কীভাবে মারা গেলেন, তা তিনি বলতে পারছেন না। এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগও করেননি।

পাইকগাছা এ্যাড. সোহরাব আলী সানাকে সংবর্ধনা প্রদান

মোঃ আসাদুল ইসলাম, পাইকগাছা: পাইকগাছায় সাবেক এমপি এ্যাডঃ সোহরাব আলী সানা খুলনা জেলা আ’লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় পাইকগাছা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে সমিতির সভাপতি এ্যাডঃ জিএম আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সুশান্ত রায়ের সঞ্চালনায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, সিনিয়র আইনজীবী ও সংবর্ধিত অতিথি সোহরাব আলী সানা, জিএ সবুর, শেখ লোকমান হোসেন, কিশোর মোহন মন্ডল, অজিত কুমার মন্ডল, শফিকুল ইসলাম কচি, শেখ বারিকুল ইসলাম, অরুন জ্যোতি মন্ডল, দীপংকর কুমার সাহা, শেখ তৈয়ব হোসেন নূর, রেখা রানী বিশ্বাস, প্রশান্ত কুমার ঘোষ, আব্দুল মজিদ গাজী, সাইদুর রহমান মিঠু, শংকর ঢালী, অনাদি কৃষ্ণ মন্ডল, শেখ আব্দুর রশিদ, সেলিনা আক্তার ও জান্নাতুল ফেরদৌস রাখি।

পাইকগাছায় মৎস্য সমবায় সমিতিকে অটো ভ্যান প্রদান

পাইকগাছা প্রতিনিধি : পাইকগাছা উপজেলা মৎস্য দপ্তরের উদ্যোগে সিআইজি মৎস্য সমবায় সমিতিকে অটো ভ্যান প্রদান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল টেকনোলজি প্রোগ্রাম ফেজ \ এনএটিপি-২ প্রকল্পের আওতায় মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য সহজে বাজারজাত করার লক্ষে উপজেলার দেলুটির রাধানগর সিআইজি মৎস্য সমবায় সমিতির অনুকূলে দুইটি অটো ভ্যান প্রদান করা হয়। সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা পবিত্র কুমার দাশের সভাপতিত্বে বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী। উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সরদার আলী আহসান, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সমীরণ সাধু, ইউসুফ সরদার, মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা অসিত কুমার সরকার ও ক্ষেত্র সহকারী সুমন কুমার সেন।