অভয়নগরে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেফতার

যশোর প্রতিনিধি: যশোরের অভয়নগরে পাঁচ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আব্দুল জলিল মোল্লা (৬৫) নামে এক বৃদ্ধকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জলিল মোল্লা সদর উপজেলার রামনগর গ্রামের রহিম বক্স মোল্লার ছেলে। তিনি উপজেলার চেঙ্গুটিয়া এলাকায় একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন।

রোববার (১৭ জানুয়ারি) আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া নির্যাতিত শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন আদালত। এর আগে শনিবার (১৬ জানুয়ারি) রাতে শিশুটির মা বাদী হয়ে অভয়নগর থানায় মামলা করলে বৃদ্ধকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজুল ইসলাম দেশ সংযোগকে বলেন, গত ১১ জানুয়ারি সোমবার সকাল ৯টার দিকে নির্যাতিত শিশুটি অপর এক শিশুর সঙ্গে বাড়ির পাশে রাস্তায় খেলা করছিল। এ সময় আব্দুল জলিল মোল্লা পাঁচ টাকা দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে তার বাসায় ডেকে নিয়ে যান। এরপর তিনি শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। শিশুটি বাসায় ফিরে তার মাকে ঘটনাটি জানায়। এরপর এ ঘটনার চারদিন পর শনিবার রাতে ওই শিশুর মা অভয়নগর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরে অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আব্দুল জলিল মোল্লাকে গ্রেফতার করা হয়।

ওসি আরও জানান, রোববার আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া নির্যাতিত শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন আদালত।

তিন প্রতিষ্ঠানের তিন তথ্য, এসপি-সিভিল সার্জনকে হাইকোর্টের তলব

নিজস্ব প্রতিবেদক: হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে শিশু ধর্ষণের এক ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর তিনটি মেডিকেল রিপোর্ট ও একটি ছাড়পত্রে অসামঞ্জস্যতার পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন ।

বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ রোববার এ আদেশ দেন।

পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে দেওয়া ছাড়পত্রে বলা হয়েছে, তিন দিন আগে (৩ সেপ্টেম্বর) শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়। সেখান থেকে দেওয়া আরেক রিপোর্টে বলা হয়, শিশুটির বাহ্যিক কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে সদর হাসপাতালের মেডিকেল রিপোর্টে বলা হয়েছে, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। তাদেরই আরেকটি তথ্য বলছে, জোরপূর্বক যৌন নির্যাতন হয়েছে।

এজাহার ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে আদালত বলেছেন, গত ৪ সেপ্টেম্বর ঘটনা ঘটে।ঘটনার পর ৬ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভুক্তভোগী শিশুটি নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। চার সদস্যের চিকিৎসকের মেডিকেল বোর্ডের রিপোর্ট অনুযায়ী, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে যৌন নির্যাতন হয়েছে, বিষয়টি প্রশ্নবোধক।

আদালত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ও পুলিশ সুপারসহ মোট ১২ জনকে তলব করেছেন। অন্য ১০ জন হলেন সদর হাসপাতালের পাঁচ চিকিৎসক এবং নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তিন চিকিৎসক, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)। তাঁদের ১৮ ফেব্রুয়ারি আদালতে হাজির হতে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

আদালত এই মামলায় ভুক্তভোগীর (শিশুর) ডাক্তারি পরীক্ষায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে স্বাস্থ্যসচিবকে বলা হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা, নাসিরনগর থানার ওসি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপারের কোনো অনিয়ম আছে কি না, সে জন্য তদন্ত করে এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে পুলিশের মহাপরিদর্শকে (আইজিপি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালতে আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত শিশুটির পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. শাহ পরান চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মনিরুল ইসলাম।

নথিপত্র থেকে জানা যায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর বেলা তিনটায় প্রথম শ্রেণিতে পড়ুয়া শিশু (৭) ধর্ষণের শিকার হয়। প্রথমে শিশুটিকে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা গত ১১ সেপ্টেম্বর নাসিরনগর থানায় এক শিশুর (১২) বিরুদ্ধে মামলা করেন। এই মামলায় শিশুটি হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট গত নভেম্বর শিশুটিকে আট সপ্তাহের আগাম জামিন দেন। একই সঙ্গে তদন্তকাজ শেষে এক মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে তদন্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন আদালত।

এর ধারাবাহিকতায় তদন্ত প্রতিবেদন ও মামলার সিডি (কেস ডকেট) আদালতে দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা। এসবের ওপর শুনানি নিয়ে এই আদেশ দেওয়া হয়।

আদেশের পর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী শিশুটির ভিন্ন ভিন্ন মেডিকেল রিপোর্ট তিন ধরনের তথ্য এসেছে। নথি পর্যালোচনা করে হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত রুলসহ ওই আদেশ দেন। রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নাসিরনগর থানায় করা মামলাটির কার্যক্রমও স্থগিত করেছেন আদালত।

নোয়াখালীতে গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন

নোয়াখালী প্রতিনিধি: নোয়াখালীর হাতিয়ায় ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে সন্তানদের সামনে তিন সন্তানের জননী এক গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। অপরাধীরা যার ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করে ভাইরাল করা হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এ ঘটনায় গত ৫ জানুয়ারি নির্যাতিতা নারী আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন লোক বিবস্ত্র অবস্থায় ওই গৃহবধূকে নির্যাতন করে টেনে-হিঁচড়ে একটি কক্ষে ঢুকিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। অপর একজন লাঠি দিয়ে ওই নারীর ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করছে।

আদালতে দায়ের করা মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১ জানুয়ারি হাতিয়ার চানন্দি ইউনিয়নে ওই গৃহবধূর স্বামীর অনুপস্থিতিতে স্থানীয় জিয়া ওরফে জিহাদ, ফারুক, এনায়েত, ভুট্টু মাঝি ও ফারুক বাহিনী ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এতে ব্যর্থ হয়ে তারা ওই গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন চালায় এবং মুঠোফোনে সেই ভিডিও ধারণ করে এবং পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।

এ সময় ওই নারী ও তাঁর ছেলে-মেয়েদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হতে থাকলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে রাতেই স্বামী এসে তাঁকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

হাসপাতালে দুদিন চিকিৎসা নিয়ে গত ৪ জানুয়ারি থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। ৫ জানুয়ারি জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন তিনি। পরে আদালত হাতিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেন।

এ বিষয়ে হাতিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোলাম ফারুক জানান, আদালতের নির্দেশনা হাতে পাওয়ার পর গতকাল শনিবার তিনি নিজে ঘটনাস্থলে যান। আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

এর আগে গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নে এক গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে শ্লীলতাহানি করে স্থানীয় একদল যুবক। ঘটনার ৩২ দিন পর ৪ অক্টোবর বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে দেশব্যাপী সমালোচনার ঝড় ওঠে।

খুলনা নগরীতে সড়ক ও জনপদ বিভাগের উচ্ছেদ অভিযান

মো. শহিদুল হাসান: নগরীর ময়লাপোতা মোড় এলাকার রাস্তার দু’পাশে উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করছে সড়ক ও জনপদ বিভাগ খুলনা। রবিবার (১৭ জানুয়ারি) উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করেন সড়ক ও জনপদ বিভাগ খুলনার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী তাপসী দাষ। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন সড়ক ও জনপদ বিভাগ খুলনার সিনিয়র সহকারী সচিব ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অনিন্দিতা রায় ও উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আনোয়ার পারভেজ।

উচ্ছেদ অভিযানের শুরুতে উপস্থিত ছিলেন খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক ও খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন। নগরীর শেরে বাংলা রোড ফোর লেনে উন্নীত কর‌তে এই উ‌চ্ছেদ অ‌ভিযান পরিচালনা করা হয়।

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগ খুলনার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী তাপসী দাশ বলেন, শেরে বাংলা রোড চার লেনে উন্নতিকরণ প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ ছাড়া ময়লাপোতা মোড়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। তাই এ উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ৯ থেকে ১০টা দোকান, সান্ধ্য বাজার ও খুলনা হোমিওপ্যাথিক হাসপাতাল ও কলেজের কিছু অংশ উচ্ছেদ করা হয়েছে। উচ্ছেদ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তবে শাহাজাহান ফার্মেসি ভবন অপসারণে ২৪ তারিখ পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।

ফুলতলা ৪৮ বোতল ফেনসিডিলসহ দু’মাদক ব্যবসায়ী আটক

ফুলতলা (খুলনা) প্রতিনিধিঃ থানা পুলিশ রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় ফুলতলা বাজারের আলেয়া ফার্মেসীর গলি থেকে ৪৮ বোতল ফেনসিডিলসহ দু’মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে। আটককৃতরা হলো বেনাপোলের রাজাপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের স্ত্রী মোসাঃ কাজল রেখা ওরফে রুমা (৪০) এবং মনিরামপুরের চাকলা গ্রামের গোলাম বারীর পুত্র আসাদুজ্জামান আসাদ (৪২)। এসআই তাপস কুমার দত্ত বাদি হয়ে ফুলতলা থানায় মামলা (নং-১৪, তারিখ-১৭/০১/২১ইং) দায়ের করেন।

পাইকগাছায় গ্রাম পুলিশদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ

পাইকগাছা প্রতিনিধি : বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভানেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে খুলনা জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. সুজিত অধিকারী কর্তৃক উপহার শীতবস্ত্র চাঁদখালী ইউনিয়ন গ্রামপুলিশ ও দফাদারদের মাঝে কম্বল বিতরণ হয়েছে।

রবিবার বিকেলে পাইকগাছার চাঁদখালী ইউপির গজালিয়া উদয়ন সংঘ সংলগ্ন আ’লীগ নেতা ইকরামুল ইসলামের রাজনৈতিক কার্যালয়ে গ্রামপুলিশ ও দফাদারদের মাঝে শীতবস্ত্র কম্বল বিতরণ হয়েছে। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ( ভারপ্রাপ্ত) ও উপজেলা আ’লীগের সাবেক আহবায়ক কমিটির সদস্য জি এম ইকরামুল ইসলাম, উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য গাজী শফিকুল ইসলাম শফি, পাইকগাছা পৌর যুব লীগের সাধারণ সম্পাদক জগদিশ রায়, পৌর আ’লীগের সাবেক সভাপতি জি এম মিজানুর রহমান, উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগ নেতা বাশারুল ইসলাম, গজালিয়া উদয়ন সংঘের সভাপতি প্রভাষক দেলয়ার হোসেন মনঞ্জুরুল ইসলাম ছাত্রলীগ নেতা শাহিন আলম।
দফাদার ও গ্রামপুলিশদদের মধ্য উপস্থিত ছিলেন দলনেতা মোঃ আফসার আলী, মিজারুল ইসলাম, শংকর কুমার মন্ডল, দিলিপ কুমার রায়, সিরাজুল ইসলাম, কামরুল ইসলাম, গনেশ চন্দ্র মন্ডল, আব্দুল আজিজ সানা, ফিরোজ আহম্মেদ।

খুমেক হাসপাতালে সর্বস্তরের মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব : ডা: এটি এম মোর্শেদ

খুলনা অফিস : খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের সকল সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে এই হাসপাতালকে স্বাস্থ্য সেবা আরো উন্নয়নের মধ্যে দিয়ে সর্বস্তরের মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব। সাধারণ রোগী যাতে এই হাসপাতাল থেকে কোন ধরণের স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত না হয় সেই উদ্দেশ্যে কাজ করে যাবো। সেক্ষেত্রে একার পক্ষে সম্ভব না। এ জন্য হাসপাতালের সকল চিকিৎসক-নার্স, কমকর্তা-কর্মচারিদের সহযোগিতা প্রয়োজন। শনিবার (১৬ জানুয়ারি) খুমেক হাসপাতালের খুমেক হাসপাতালের প্রথম পরিচালক ডা: মঞ্জুর মোর্শেদ এ সব কথা তুলে ধরেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৮ জুন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে প্রথম দায়িত্ব গ্রহণ করেন ডাঃ এটিএম মঞ্জুর মোর্শেদ। এর পর থেকে রোগীদের সেবার মান বৃদ্ধিতে একে একে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করতে শুরু করেন। ভর্তি রোগীদের পরিমান মতো খাবার না পাওয়া ও খাবারের অনিয়ম পাওয়ায় তত্ত্ববধায়ক তৎকালীন দুই জনকে শোকজও করেন। এরপর থেকে সিডিউল অনুযায়ী রোগীরা তাদের প্রাপ্য খাবার পেতে শুরু করেন। আগে নির্দিষ্ট শয্যা সংখ্যার বেশি ভর্তি রোগীর জন্য খাবার বরাদ্দ ছিল না। হাসপাতালটির জন্মলগ্ন থেকে এই নিয়মটি চালু ছিল না। ডা: এটি এম মঞ্জুর মোর্শেদ প্রচেষ্টায় ২০১৮ সালের ২৫ জানুয়ারি থেকে হাসপাতালে এই সুবিধা পেতে শুরু করেছে। এর পর হাসপাতালের পরিচালক পদ সৃষ্টি হলে তিনি প্রথম পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ওই সময় দায়িত্ব থাকাকীন পরিচালক ডা: মঞ্জুর মোর্শেদ মানসিক  রাগ বিভাগ চালুসহ ২৭টি পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য গুলো হচ্ছে হাসপাতালে নিয়মিত অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত, রোগীদের খাবারের মান বৃদ্ধি, লাশঘর স্থানান্তর করা, দালাল প্রতারক প্রতিরোধ করা, ১টার পূর্বে ওষুধ প্রতিনিধিদের ভিজিট বন্ধ করা, প্যাথলজি বিভাগে স্যাম্পল কালেকশন সময় বৃদ্ধি করা, ব্লাড ব্যাংকের পাশে নতুন করে কক্ষ নির্মান, অনুমোদিত ৫শ’ শয্যার রোগীর পরিবর্তে ২০১৮ সালের ২৫ জানুয়ারি থেকে ভর্তিকৃত সকল রোগীর খাবার ব্যবস্থা করা, ওয়ার্ড ইনচার্জদের দায়িত্ব পরিবর্তন করে নতুনদের দায়িত্ব অর্পন করা, জখমি সনদপত্র প্রদানের জন্য বোর্ড গঠনপুর্বক কেবলমাত্র থানা ও আদালত থেকে চাহিদার প্রেক্ষিতে স্বচ্ছতার সঙ্গে জখমী সনদপত্র প্রদানের ব্যবস্থা করা ইত্যাদি সবই তার অবদান।
সূত্র জানায়, করোনার শুরুতে গত ২১ মার্চ এন-৯৫ মাস্ক ও পিপিই পাঠানো হয় কেন্দ্রীয় ঔষধাগার  থেকে। কিন্তু এন-৯৫ মাস্কের প্যাকেটের ভেতরে অত্যন্ত নিম্নমানের লোকাল মাস্ক ঢুকানো ছিল। এ নিয়ে ২৯ মার্চ সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন খুমেক হাসপাতালের তৎকালীন পরিচালক ডাঃ  মোর্শেদ। এন-৯৫ এর পরিবর্তে নি¤œ মানের মাস্ক পাঠানোয় তিনি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মুন্সিগঞ্জের জেএমআই ইন্টারন্যাশনালের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তোলেন। এর দুই দিনের মাথায় তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করে পাবনায় মানসিক হাসপাতালে বদলি করা হয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে। এরপর চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি নতুন এক আদেশে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুনরায় বদলী করা হয়।
হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ এটিএম মঞ্জুর মোর্শেদ এ প্রতিবেদককে বলেন, Special Care Newborn Unit (SCANU)  সেবাটি চালু করা হয়েছে। পূর্বে এ হাসপাতালে ছিলো না। এছাড়া হাসপাতালে রোগীরা প্রায় অক্সিজেনে সংকট থাকায় রোগীরা বাইরে থেকে ভাড়া করে আনতেন এখনো অক্সিজেন  রোগিদের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া নতুন তিন ওটি চালুর জন্য সকল প্রস্তুতি ওই সময় আমি দায়িত্ব থাকাকালীণ সম্পন্ন করেছি। নতুন আঙ্গিকে বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের পুরুষ ও মহিলাদের জন্য আলাদা পৃথক ওয়ার্ড করেছি। এখন আবারও পরিচালক হিসেবে এই হাসপাতালে দায়িত্ব পাওয়ার আমার অসম্পূর্ণ কাজগুলো শেষ করে যেতে পারি এ জন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।

ছাত্রলীগ নেতা প্রান্ত ঘোষ হত্যার রহস্য উম্মোচন

খুলনা অফিস : খুলনা জেলার পাইকগাছা থানার ছাত্রলীগ নেতা প্রান্ত ঘোষ হত্যা মামলার ২নং আসামী আলমগীর মোড়ল(২৭), পিতা-মহিদুল মোড়ল, সাং-ফকিরাবাদ, থানা-পাইকগাছা, রবিবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি করেছে। সিআইডি খুলনার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোল্লা লুৎফর রহমান (জাতিসংঘ পুরস্কার প্রাপ্ত) সঙ্গীয় অফিসার ফোর্সসহ গত শনিবার ১৬ মাদারীপুর জেলা থেকে আসামী আলমগীর মোড়লকে গ্রেফতার করে। রবিবার তাকে আদালতে সোপর্দ করলে আসামী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। সিআইডি’র তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোল্লা লুৎফর রহমান বলেন, পাইকগাছার গুরাইকাঠির অচিন্ত ঘোষের ছেলে ছাত্রলীগ নেতা প্রান্ত ঘোষকে আসামিরা ২০২০ সালের ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গড়ইখালি শুকুমার ডাক্তারের মোড়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রান্ত ঘোষ মৃত্যুবরণ করলে নিহতের ভাই বাদী হয়ে পাঁচ জনকে এজাহারভুক্ত আসামী করে ১০ অক্টোবর পাইকগাছা থানায় মামলা দায়ের করেন।তিনি জানান, ঘটনার পর থেকেই আসামিরা পলাতক ছিলেন। সিআইডি খুলনা তদন্তভার গ্রহন করে শনিবার (১৬ জানুয়ারি) মাদারীপুর জেলা থেকে আসামি আলমগীর মোড়লকে গ্রেফতার করে রবিবার বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করলে আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। আলমগীর মোড়ল পাইকগাছার ফকিরাবাদের মহিদুল মোড়লের ছেলে।