জাপা নেতা কাশেম হত্যা: আগামী মঙ্গলবার থেকে সাক্ষ্য গ্রহন শুরু

বিশেষ প্রতিনিধিঃ আগামী মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) থেকে খুলনা মহানগরী জাতীয় পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ আবুল কাশেম ও তার ড্রাইভার মিখাইল হত্যা মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হবে। উচ্চ আদালতের দুই বছর আগের ভ্যাকেট আদেশ খুলনায় পৌঁছে যাবার মধ্য দিয়ে চাঞ্চল্যকর এই জোড়া হত‍্যা মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ কার্যক্রম শুরু করতে আর বাধা নেই। ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. সাইফুজ্জামান হিরোর আদালতে ২৬ জানুয়ারি থেকে সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্য দিয়ে মামলার কার্যক্রম আবার শুরু হতে যাচ্ছে।

দ্রুত অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট আরিফ মাহমুদ লিটন বলেছেন, আগামী মঙ্গলবার ২৬ জানুয়ারি চাঞ্চল্যকর শেখ আবুল কাসেম হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত বাকী সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত। প্রায় দুই বছর আগে বাদীপক্ষের আবেদন শুনানির পর উচ্চ আদালত ভ্যাকেট আদেশ দিয়ে পরবর্তী কার্যক্রম শেষ করার আদেশ দেন। এ আদেশ খুলনায় পৌঁছানোর পর সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ চূড়ান্ত করা হয়েছে।

এর মধ্য দিয়ে প্রায় দুই যুগ পর শুরু হলো মহানগর জাতীয় পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও খুলনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক সভাপতি শেখ আবুল কাশেম ও তার ড্রাইভার মিখাইল হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম।

শেখ আবুল কাশেম, খুলনার সম্ভ্রান্ত হাজি বাড়ির সন্তান। ব্যক্তিগত ব্যবহার, সামাজিকতা ও সুদর্শন চেহারার জন্য দল মত নির্বিশেষে তিনি শহর খুলনা এমনকি খুলনার বাইরেও জনপ্রিয় ছিলেন। নিহত হওয়ার সময়ে তিনি খুলনা মহানগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এর আগে খুলনা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

১৯৯৫ সালের ২৫ এপ্রিল সকালে খুলনা সদর থানার পাশেই স্যার ইকবাল রোডে বেসিক ব্যাংকের সামনে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গুলিতে শেখ আবুল কাশেম ও তার ড্রাইভার মিখাইল নিহত হন। বেসিক ব্যাংকের তৎকালীন ডিজিএম শেখ মঞ্জুর মোর্শেদের ওখানে ব্যবসায়িক আলাপ শেষ করে ব্যাংকের সামনে থাকা নিজ গাড়িতে উঠতেই মৃত্যুর মুখোমুখি হন তিনি। এই সময়ে দুই তিনজন সন্ত্রাসী এসে প্রথমে তাকে সালাম দেন, তিনি সালামের উত্তর দিতেই সন্ত্রাসীরা ব্রাশ ফায়ার করলে মুহূর্তেই শেখ আবুল কাশেম ও দরজা খুলে দাঁড়িয়ে থাকা অপেক্ষমান ড্রাইভার মিখাইল গুলিতে ঝাঁজরা হয়ে লুটিয়ে পড়েন। সন্ত্রাসীরা মৃত্যু নিশ্চিত হতেই বীরদর্পে পায়ে হেটে এলাকা ছেড়ে চলে যান।

শেখ আবুল কাশেমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তেই সারা শহর স্তম্ভিত হয়ে পড়ে, নিজ থেকেই কোনও ঘোষণা ছাড়াই অফিস, আদালত, দোকান- পাট, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, রিকশা, বেবি ট্যাক্সি, ব্যক্তিগত মটর সাইকেল, প্রাইভেট কারসহ আন্ত জেলা সকল পরিবহন বন্ধ হয়ে যায়। এমনকি শহর থেকে প্রভাবশালী অনেক রাজনৈতিক নেতা, বিত্তবান ব্যবসায়ী, ছাত্রনেতা, নিজ থেকেই খুলনা শহর ছেড়ে পালিয়ে যান।

এই ঘটনায় খুলনা থানায় মামলা করা হলেও পরে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পড়ে সিআইডির ওপর। তারা দীর্ঘ তদন্ত করে ১৯৯৬ সালের ৫ মে ১০ জনের নামে চার্জশিট দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা। চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন-প্রভাবশালী ব্যবসায়ী সৈয়দ মনিরুল ইসলাম (মৃত), হোটেল ব্যবসায়ী তরিকুল হুদা টপি, তৎকালীন জাপা নেতা ও পরিবহণ ব্যবসায়ী আব্দুল গফ্ফার বিশ্বাস, জাপা নেতা ইকতিয়ার উদ্দিন বাবলু (নিহত), খুলনা চেম্বারের বর্তমান সভাপতি কাজি আমিনুল হক, ওসিকুর রহমান (ওয়াসিক), গেলো মেয়র নির্বাচনে জাপা থেকে মেয়র প্রার্থী মোশফেকুর রহমান ওরফে মুশফেক, মফিজুর রহমান, মিল্টন ও তারেক।

চাঞ্চল্যকর মামলাটির বাদী, প্রধান সাক্ষী, তদন্ত কর্মকর্তা ও দুই আসামির ইতোমধ্যে মৃত্যু হয়েছে। উচ্চ আদালতে কয়েক দফা স্থগিত আদেশের পর মামলার বিচার কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ায় বিষয়টিকে ঘিরে প্রচন্ড আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে খুলনাবাসীর মধ্যে।

এ বিষয়ে নিহতের বড় ভাই সাবেক এমপি শেখ আবুল হোসেন গন- মাধ্যমকে বলেছেন, বিচারের ভার আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়েছি। মামলার বাদী ১৪ বছর আগে ইন্তেকাল করেছেন। প্রধান সাক্ষী আসাদুজ্জামান লিটু ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছেন। তদন্ত কর্মকর্তা এসপি খোন্দকার ইকবাল নিহত হয়েছেন।

নিহত শেখ আবুল কাশেমের স্ত্রী বেগম ঝর্না কাশেমের বরাত দিয়ে পরিবারের একটি সুত্র জানায়, এই মামলায় খুলনা চেম্বারের বর্তমান সভাপতি কাজি আমিনুল হকের নাম রাজনৈতিক বিবেচনায় ইতমধ্যেই প্রত্যাহার করা হয়েছে। অথচ চার থেকে পাঁচ জন সাক্ষীর দেয়া ১৬৪ ধারার জবানীতে কাজি আমিনের নাম এসেছে। কাজি আমিনের নাম না থাকার বিষয়টি তারা বিজ্ঞ আদালতের নজরে আনবেন। আসামীর তালিকায় কাজি আমিনের নাম যাতে আসে সেই ব্যাপারে আদালতের কাছে জোর দাবি জানাবেন। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেছেন, কাজি আমিনের নাম ছাড়া এই মামলার বিচার একটি তামাশায় পরিণত হবে। কাজি আমিনের নাম তো আমরা দেইনি, সাক্ষীদের জবানীতেই নাম এসেছে। বিষয়টি খুলনাবাসীও অবগত।

খুলনার পাইকগাছা থানার ছাত্রলীগ নেতা প্রান্ত ঘোষ হত্যার রহস্য উম্মোচন

বিজ্ঞপ্তি: খুলনার পাইকগাছা থানার ছাত্রলীগ নেতা প্রান্ত ঘোষ হত্যার রহস্য উম্মোচন উম্মোচন করেছে খুলনা জেলা সিআইডি। আসামীর বিজ্ঞ আদালতে ফৌঃকাঃবিঃ ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি প্রদান করেন।

খুলনা পাইকগাছা থানার ছাত্রলীগ নেতা প্রান্ত ঘোষ হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামী গড়ইখালি গ্রামের মোঃ জাহাঙ্গীর গাজীর ছেলে মোঃ সাইফুল ইসলাম(৩০) ও জিল্লুর রহমান গাজীর ছেলে আসামী মোঃ সাইবুর রহমান (৩৫) আজ ২০ জানুয়ারি ২০২১ খ্রিঃ দুপুর বেলা প্রান্ত ঘোষ হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বিজ্ঞ আদালতে ফৌঃকাঃবিঃ ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সিআইডি খুলনার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোল্লা লুৎফর রহমান গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সঙ্গীয় অফিসার ফোর্সসহ ১৯ জানুয়ারী ২০২১ খ্রিঃ দিবাগত রাতে আসামী মোঃ সাইফুল ইসলামকে খুলনা শহর হতে এবং আসামী মোঃ সাইবুর রহমানকে গড়ইখালি বাজার হতে গ্রেফতার করে আজ বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করলে আসামীদ্বয় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

মামলার ভিকটিম স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা প্রান্ত ঘোষ, পিতা-অচিন্ত ঘোষ, গ্রাম-গুরাইকাঠি, থানা-পাইকগাছা, জেলা-খুলনাকে এজাহার নামীয় আসামীরা গত ০৬/১০/২০২০ খ্রিঃ সন্ধা ৬.৩০ ঘটিকার দিকে গড়ইখালি শুকুমার ডাক্তারের মোড়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রান্ত ঘোষ মৃত্যুবরণ করলে নিহতের ভাই বাদী হয়ে ০৫ জনকে এজাহার নামীয় আসামী করে পাইকগাছা থানার মামলা নং-১২ তারিখ-১৬/১০/২০২০ খ্রিঃ ধারা-৩০২/৩৪২/৩৪ পেনাল কোড দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকেই আসামীরা পলাতক ছিলেন।

২৫ জানুয়ারি ইসলামী আন্দোলনের নগর সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক: আগামী ২৫ জানুয়ারি সোমবার ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ খুলনা মহানগর কমিটির নগর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। নগর সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচীব মাওঃ গাজী আতাউর রহমান। সম্মেলন সফলের লক্ষ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ খুলনা মহানগর কমিটির এক জরুরী সভা মঙ্গলবার রাত ৮ টায় পাওয়ার হাউজ মোড়স্থ কার্যালয়ে নগর সভাপতি মুফতী আমানুল্লাহ’র সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারী শেখ মোঃ নাসির উদ্দিনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সহ সভাপতি মাওঃ মোজাফ্ফার হোসাইন, মুফতী মাহবুবুর রহমান, জয়েন্ট সেক্রেটারী মাওঃ দ্বীন ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওঃ মুফতী ইমরান হোসাইন, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মোল্লা রবিউল ইসলাম তুষার, প্রচার সম্পাদক ডাঃ মাওঃ নাসির উদ্দিন, সহ প্রচার সম্পাদক গাজী ফেরদাউস সুমন, দপ্তর সম্পাদক মোঃ শরিফুল ইসলাম, সহ দপ্তর সম্পাদক মোঃ সাইফুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক মুক্তিযুদ্ধা জিএম কিবরিয়া, সহ অর্থ সম্পাদক আলহাজ্ব মোমিনুল ইসলাম, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওঃ হাফিজুর রহমান, সহ প্রশিক্ষণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল্লাহ আল নোমান, ছাত্র ও যুব বিষয়ক সম্পাদক মোঃ ইমরান হোসেন মিয়া, কৃষি ও শ্রম বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব আমজাদ হোসেন, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মাওঃ শায়খুল ইসলাম বিন হাসান, আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডভোকেট কামাল হোসেন, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক আলহাজ্ব আব্দুস ছালাম, মহিলা ও পরিবার বিষয়ক সম্পাদক হাফেজ আব্দুল লতিফ, সংখ্যালঘু বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব আবু তাহের, নির্বাহী সদস্য শেখ হাসান ওবায়দুল করীম, মাওঃ সিরাজুল ইসলাম, আলহাজ্ব জাহিদুল ইসলাম, মোঃ সরোয়ার হোসেন বন্দ প্রমুখ।

সভায় আগামী ২৫ জানুয়ারি নগর সম্মেলন সফলে এবং আগামী ২৯ জানুয়ারী চরমোনাই পীর সাহেব হুজুরের উপস্থিতিতে কর্মী সভা বাস্তবায়নসহ সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

বিচারককে ঘুষ দিতে গিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিচারককের খাস কামরায় ঘুষ দিতে গিয়ে রাজা মিয়া নামে পুলিশের এক এসআই আটক করার পর শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি পেয়েছেন।
সিলেটের জকিগঞ্জে খাস কামরায় ঢুকে বিচারককে ঘুষ দিতে যায় রাজা মিয়া। এতে বিব্রতবোধ করেন ওই বিচারক। কৌশলে ঐ পুলিশ কর্মকর্তাকে এজলাসে নিয়ে এসে আটকের নির্দেশ দেন। পরে আদালত পুলিশ ও থানা পুলিশের অনুরোধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের শর্তে রাতে তাকে মুক্তি দেয়া হয়।
আদালতে উপস্থিত থাকা আইনজীবীরা জানিয়েছেন, জকিগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নির্দেশে ৫৮/২০২০নং সিআর মামলা তদন্ত করে একজন আসামিকে বাদ দিয়ে ৩ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন জকিগঞ্জ থানার এসআই রাজা মিয়া। কেন একজনকে ছাড়া হয়েছে জানতে চেয়ে আদালত মামলার বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তার উপস্থিতিতে শুনানির দিন ধার্য করেন। গত মঙ্গলবার ধার্য তারিখের দিন অনুমতি ছাড়া এসআই রাজা মিয়া বিচারক আনোয়ার হোসেন সাগরের খাস কামরায় ঢুকে উৎকোচ প্রদানের চেষ্টা করেন।
বিচারক এসআইকে কৌশলে এজলাসে নিয়ে যান। সেখানে আইনজীবী ও উপস্থিত লোকজনদের সম্মুখে এসআই রাজা মিয়াকে গ্রেপ্তারপূর্বক জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দিলে আদালত। এসআই রাজা মিয়া কান্নাকাটি করে করজোড়ে ক্ষমা চাইলেও আদালতে রাত ৮টা পর্যন্ত তাকে আটক রাখা হয়। খবর পেয়ে জকিগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত রায় ও ওসি মীর মো. আব্দুন নাসের ও বিচারকের খাস কামরায় অবস্থান করে বিভাগীয় দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়ার শর্তে তাকে মুক্ত করেন। এ অভিযোগে বুধবার এসআই রাজা মিয়াকে সিলেট পুলিশলাইনে ক্লোজ করা হয়। ক্লোজ করার বিষয়টি নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত রায়। তিনি জানিয়েছেন, এসআই রাজার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

সাধারণ মানুষের টিকা পাওয়া নিয়ে সংশয় ফখরুলের

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর করোনাভাইরাসের টিকা সাধারণ মানুষ পাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন । তিনি বলেছেন, ‘সাধারণ মানুষ ভ্যাকসিন পাবে কি না, এ ব্যাপারে আমরা একদম নিশ্চিত নই। তবে ধনীরা টিকা পাবে, তা নিশ্চিত।’
রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মঙ্গলবার দুপুরে জিয়াউর রহমানের ৮৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন করতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা বারবার করে বলেছিলাম, টিকা নিয়ে একটা পরিকল্পনা দেওয়া হোক, একটা রোডম্যাপ (পথনকশা) দেওয়া হোক। তার কোনোটাই দেওয়া হয়নি।’

মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের কাছ থেকে টিকা আমদানিকারক বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসকে সরকার বেশি মুনাফার সুযোগ দিচ্ছে।
জিয়াউর রহমানের ৮৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল কেন্দ্রীয়ভাবে তিনটি কর্মসূচি পালন করে বিএনপি। এর একটি ছিল নয়াপল্টনে দলটির কার্যালয়ের দিনব্যাপী বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ কর্মসূচি। এর আগে বেলা ১১টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের সমাধিতে দলের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এতে সাংবাদিকদের মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকার করোনা নিয়ন্ত্রণ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। এখন তারা টিকা নিয়ে লুটপাট করছে। জনগণের কাছে সরকারের কোনো জবাবদিহি নেই। তাই তারা টিকা নিয়েও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছে।’
জিয়াউর রহমানকে একজন ক্ষণজন্মা পুরুষ উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, রণাঙ্গনে যুদ্ধ করে তিনি দেশকে স্বাধীন করেছেন। পঁচাত্তরের পর তিনি বিভক্ত জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন। গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিয়েছেন। মানুষের মৌলিক অধিকারগুলো ফিরিয়ে দিয়েছেন।

জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল বিকেলে এক ভার্চ্যুয়াল সভায় জিয়াউর রহমানকে সফল রাষ্ট্রনায়ক বলে উল্লেখ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, বাংলাদেশ যত দিন টিকে থাকবে, বিএনপিও তত দিন টিকে থাকবে। একই অনুষ্ঠানে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে সরকারকে হটিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের কথা বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য আবদুল মঈন খান বলেন, জিয়াউর রহমান উন্নয়নের রাজনীতির সঙ্গে জনগণের রাজনীতি সৃষ্টি করেছিলেন।

ভার্চ্যুয়াল এ সভায় মির্জা ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, স্থায়ী কমিটির সদস্য জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ প্রমুখ বক্তব্য দেন।

ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে দুর্ব্যবহার: এসপিকে হাইকোর্টে তলব

নিজস্ব প্রতিবেদক: কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা পৌরসভা নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকালে দায়িত্বরত সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহসিন হাসানের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা জানাতে একই জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) এস এম তানভীর আরাফাতকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ২৫ জানুয়ারি পুলিশের এই এসপি সশরীরে আদালতে উপস্থিত হয়ে এ বিষয়ে কারণ দর্শাতে বলেছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চ্যুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ বুধবার এ আদেশ দেন। ‘এসপির বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ বিচারকের’ শিরোনামে আজ একটি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন নজরে এলে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ওই আদেশ দেওয়া হয়। ওই ঘটনায় তাঁর (এসপি) বিরুদ্ধে কেন আদালত অবমাননার কার্যক্রম শুরু করা হবে না এবং আদালত অবমাননার জন্য কেন তাঁকে শাস্তি দেওয়া হবে না—এ মর্মে কারণ দর্শাতে রুল দিয়েছেন আদালত। তিন দিনের মধ্যে এসপি এস এম তানভীর আরাফাতকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

ওই আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে নিয়োজিত আছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. তাহিরুল ইসলাম। তিনি জানান, একটি দৈনিক পত্রিকায় আসা প্রতিবেদন নজরে এলে আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল ও আদেশ দিয়েছেন।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা পৌরসভা নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকালে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহসিন হাসানের সঙ্গে এসপি এস এম তানভীর আরাফাত দুর্ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। তাই এসপির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেন ওই বিচারক। আবেদনের অনুলিপি সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল কার্যালয় ছাড়াও আইন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের আইজির দপ্তর বরাবর পাঠানো হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মহসিন হাসান বলেন, কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা পৌরসভা নির্বাচনে ১৪ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রথম শ্রেণির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে তিনি দায়িত্ব পান। ১৬ জানুয়ারি দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় সকাল ১০টায় ভেড়ামারা পাইলট মডেল উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে (৫ নম্বর ভোটকেন্দ্র) অবস্থানকালে জনৈক ভোটারের অভিযোগের ভিত্তিতে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করেন। সেখানে কতিপয় ব্যক্তিকে ভোটকেন্দ্রের বুথের ভেতর বেঞ্চে পোলিং এজেন্টের সঙ্গে বসে থাকতে দেখেন। পরিচয়পত্র দেখাতে বললে তাঁরা পরিচয়পত্র না দেখিয়ে নাম-ঠিকানা লেখা একটি কাগজ দেখান। ওই কাগজে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার স্বাক্ষর দেখা যায়।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, প্রিসাইডিং কর্মকর্তার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলা শুরু করতেই কুষ্টিয়ার এসপি এস এম তানভীর আরাফাত পুলিশ ফোর্সসহ ওই ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করেন। তিনি প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে উচ্চ স্বরে তলব করেন এবং তাৎক্ষণিক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমানসহ কয়েকজন তাঁর (মহসিন হাসান) সঙ্গে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে কথা বলতে না দিয়ে তাঁকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা ও চাপাচাপি করেন।

মো. মহসিন হাসান অভিযোগে উল্লেখ করেন, তখন তিনি নিজের পরিচয় দিয়ে বলেন, প্রিসাইডিং কর্মকর্তার সঙ্গে একটি বিষয়ে কথা বলছেন, কথা শেষ হলে তাঁকে নিয়ে যেতে বলেন। এরপরও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান ধমক দিয়ে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে তাঁর (মহসিন হাসান) সামনে থেকে নিয়ে যাওয়ার সময় এসপি তাঁর দিকে অগ্রসর হন এবং জিজ্ঞেস করেন, ‘আপনি কে, কী করেন এখানে?’ নিজের পরিচয় দিলে তিনি আরও ক্ষিপ্ত স্বরে কিছু কথা বলেন। এসপি ও তাঁর সঙ্গে থাকা ফোর্সের ‘আক্রমণাত্মক চরম অসৌজন্যমূলক’ ও ‘মারমুখী আচরণে’ হকচকিত ও কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে তিনি সেখানে দাঁড়িয়ে থাকেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, এসপি সঙ্গীয় ফোর্সসহ তাঁর (মহসিন হাসান) সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় পুনরায় তাঁর উদ্দেশে একাধিকবার বলেন, ‘এখানে কাজ কী আপনার? বের হয়ে যান এখান থেকে।’ তাঁরা কেন্দ্র থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর বিষয়টি জানাতে ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে দেখা করেন তিনি।

আবেদনে বলা হয়, এসপি ও তাঁর সঙ্গীয় কর্মকর্তা ও ফোর্সের আচরণ ২০১০ সালের স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) নির্বাচন বিধিমালার ৬৯, ৭০, ৭৪, ৮০ ও ৮১ বিধির সরাসরি লঙ্ঘন।

পাইকগাছায় ট্রাক চাপায় আহত ১

পাইকগাছা প্রতিনিধি : পাইকগাছায় ট্রাক চাপায় ইব্রা‌হিম শুভ (২৮) না‌মে এক মোটর সাই‌কেল চালক মারাত্মক আহত হ‌য়ে‌ছেন। তার অবস্থা আশংকাজনক। স্থানীয় লোকজনসহ পু‌লিশ ট্রাকটি‌কে আটক ক‌রে‌ছে।

প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, মঙ্গলবার রাত পৌনে ৯ টার দিকে পৌরসভার চারা বটতলা নামক স্থানে চাঁদখালী ইউ‌পির গজা‌লিয়া গ্রা‌মের রব্বানী সরদারের পুত্র শুভ পাইকগাছা থে‌কে এ‌সে চারাবটতলায় রাস্তার পা‌শে এক‌টি দোকা‌নের সাম‌নে মোটর সাই‌কে‌ল নিয়ে দাড়িয়ে ছিল। এমন সময় কয়লা বোঝায় ট্রাক খুলনা থে‌কে পাইকগাছা সদ‌রের দি‌কে যাওয়া দ্রুত গ‌তি‌র এক‌টি ট্রাক তা‌কে চাপা দি‌য়ে পা‌লি‌য়ে যায়। স্থানীয় লোকজন ধাওয়া দিলে ড্রাইভার ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোঃ দুরে রাস্তার পাশে রেখে পালিয়ে যায়। পু‌লিশ ট্রাক‌টি‌কে আটক ক‌রে‌ছে তার (নম্বর খুলনা মে‌ট্রো-ট ১১ ১৮৮৩)। আহত যুবকের ডান পা পু‌রোটাই ভে‌ঙ্গে গে‌ছে। আশংকাজনক অবস্থায় শুভ‌কে উপ‌জেলা হাসপাতা‌লে ভ‌তি করা হ‌লে কর্তব্যরত চি‌কিৎসক উন্নত চি‌কিৎসার জন্য তা‌কে খুলনা মে‌ডি‌কেল ক‌লেজ হাসপাতা‌লে প্রেরন ক‌রে‌ছে।

পাইকগাছা থানার ও‌সি মো: এজাজ শ‌ফি ঘটনার সত্যতা স্বীকার ক‌রে ব‌লেন ট্রাক‌টি‌কে আটক করা হ‌য়ে‌ছে এবং চালক‌কে ধারার জোর চেষ্টা চল‌ছে।