দাকোপে সম্পত্তি দখল প্রচেষ্টার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

দাকোপ প্রতিনিধি : দাকোপ সদরে পৈত্রিক সম্পত্তি দখল প্রচেষ্টার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে দাকোপ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে চালনা বাজার লঞ্চঘাট এলাকার বাসিন্দা মৃত কুঞ্জ বিহারী বিশ্বাসের পুত্র কুমারেশ বিশ্বাস সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেন, চালনা পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডে অবস্থিত পানখালী মৌজার এস.এ ৫৫২ নং খতিয়ানের ৩১০১ নং দাগে ০.৩৮ একর সম্পত্তি যা আমার পৈত্রিক দীর্ঘ দিনের স্বত্ব দখলীয় সম্পত্তি। আমার পিতার জীবনকাল থেকে আমি দীর্ঘ ২৫ বছরেরও অধীককাল ধরে শান্তিপূর্ণ উক্ত সম্পত্তি ভোগ দখলে আছি। উক্ত সম্পত্তিতে চিহ্নিত আইল সীমানায় বেড়িবাঁধ নির্মানে স্থানীয় লোকদ্বারা মৎস্য ঘের পরিচালনা করে আশা অবস্থায় বহিরাগত মৃত বজলুর রহমানের স্ত্রী কাজী রেহেনা পারভীন এবং ওয়াদুদ কাজীর পুত্র বিদ্যুৎ কাজী ও বিল্টু কাজীসহ একটি কুচক্রী মহলের ইন্ধনে দখলের প্রচেষ্টায় লিপ্ত। ইতিপূর্বে কয়েকদফা স্থানীয় ভাবে সালিশ বিচারের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা হয়। সম্প্রতি প্রতিপক্ষরা সালিশীনামা অমান্য করে বহিরাগত লোজজন নিয়ে ওই সম্পত্তির আংশিক দখলের চেষ্টা করে যাচ্ছে। তিনি বলেন এ ঘটনার পর আমি বাদী হয়ে খুলনার বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ ৪র্থ আদালতে উল্লেখিত ব্যক্তিদের বিবাদী করে দেঃ ৩৮/২০২০ নং মামলা দায়ের করি। যা বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) খুলনা আদালতে রিভিশন- ৪১/২০ চলমান। তিনি সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগে আরো বলেন, গত ইং ২০ জানুয়ারী বুধবার আনুঃ সকাল ৭টায় উক্ত বিবাদীগণ সহযোগী লোকজনসহ দা, লাঠি, শাবল, কোদাল, ইট, বালি, লোহার রড নিয়ে সম্পত্তির মাটি কেটে গর্ত করে পাকা ঘর নির্মানের চেষ্টা করলে তাৎক্ষনিক ভাবে তিনি তাদেরকে বাধা প্রদান করেন। বাঁধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে ভয়-ভীতি ও মারধর করতে উদ্যত হয়। এ সময় তিনি স্থান ত্যাগ করে উক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দাকোপ থানায় একটি জিডি করেন বলে দাবী করেন। যার নং-৭৩৫, তারিখ-২০/০১/২১। তিনি এ ঘটনায় পর স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করে উল্লেখিত ব্যক্তিদের দখলের প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভূক্তভোগী কুমারেশ বিশ্বাসের স্ত্রী সন্ধ্যা রানী বিশ্বাস, কন্যা ঈশিতা বিশ্বাস।

বাংলাদেশের জন্য ভারতের বিশ লাখ করোনা ভ্যাকসিন উপহার

ইউনিক ডেস্ক : ২১ জানুয়ারি ভারত সরকার বাংলাদেশকে ভারতে উৎপাদিত কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন কোভিশিল্ডের ২০ লাখ ডোজ উপহার হিসেবে প্রদান করেছে। ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভারতীয় হাই কমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী এই ভ্যাকসিনগুলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেকের কাছে হস্তান্তর করেন। এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমানে ভ্যাকসিনগুলি যথাযথ নিয়মানুসারে বাংলাদেশে পৌঁছে দেওয়ার পরে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম এবং বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে হাই কমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যকার ভার্চুয়াল শীর্ষ সম্মেলনের আলোচনার ধারাবাহিকতায় ভারতে ভ্যাকসিন প্রদান শুরু হওয়ার (১৬ জানুয়ারি ২০২১ শুরু হয়েছিল) এক সপ্তাহের মধ্যে ভারত বাংলাদেশকে ভ্যাকসিন সরবরাহ করেছে।
তিনি বলেন, প্রতিবেশী প্রথমে নীতির অংশ হিসেবে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের প্রতি ভারত সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়। তিনি আরও বলেন যে, কোভিশিল্ডের ২০ লাখ ডোজ উপহার আসলে ভারতের দ্বারা প্রতিবেশী কোনও দেশকে দেয়া সবচেয়ে বড় পরিমাণ। কোভিশিল্ড ভ্যাকসিনের (অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিন) চালানটি ভারতের পুনেতে অবস্থিত সেরাম ইনস্টিটিউট উৎপাদন করেছে এবং উপহার দেওয়ার উদ্দেশ্যে ভারত সরকার তার নিজস্ব কোটা থেকে কিনেছে।
হাই কমিশনার বলেন, ২১ জানুয়ারি একটি যুগান্তকারী দিন – বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের নিজস্ব প্রচেষ্টাকে সমর্থন করবে এই ভ্যাকসিনগুলি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ অংশীদার হিসেবে ভারত এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে অবদান রাখতে পেরে আনন্দিত। একসাথে কোভিড-১৯ মোকাবিলায় দুই দেশ কর্তৃক ইতোমধ্যে নেওয়া অনেক পদক্ষেপের মধ্যে ভ্যাকসিন উপহার সর্বশেষ উদ্যোগ। ২০২০ সালের ১৫ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আহ্বানে কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য সার্ক নেতাদের একটি ভিডিও কনফারেন্সের আয়োজন করা হয়েছিলো। সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের সম্মিলিত ক্ষমতা, দক্ষতা এবং সংস্থান ব্যবহারের মাধ্যমে সহযোগিতার আহ্বান জানান। এর পরপরই সার্ক কোভিড-১৯ জরুরি তহবিল গঠিত হয়। বাংলাদেশ থেকে আগত স্বাস্থ্যসেবাদানকারী, প্রশাসক ইত্যাদি পেশাজীবীরা ভারতের শীর্ষস্থানীয় মেডিকেল ইনস্টিটিউট, যেমন- অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্স (এআইএমএস) দ্বারা পরিচালিত অনলাইন সক্ষমতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণগুলিতে অংশ নেয়। হাই কমিশনার বলেন, বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে আসা স্বাস্থ্যসেবা পেশাদারদের জন্য এআইএমএস, ভুবনেশ্বরে বাংলা ভাষায় আয়োজিত কোভিড-১৯ সংক্রান্ত কোর্সটি ছিল এক দুর্দান্ত সাফল্য। ভ্যাকসিন সরবরাহকে সহজতর করার জন্য ১৯-২০ জানুয়ারি ভারত সরকার ‘ট্রেইন দ্য ট্রেনার’ নামক একটি ২ দিনব্যাপী অনলাইন কোর্সও পরিচালনা করেছে।

কোভিশিল্ড ভ্যাকসিনের এই ২০ লাখ ডোজ উপহার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আব্দুল মোমেন এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেকের কাছে হস্তান্তর করার পর হাই কমিশনার আশা প্রকাশ করেন যে, দু’দেশের এই ধরনের যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে মহামারীকে পরাজিত করা হবে এবং আমাদের জনগণের সুবিধার্থে অংশীদারিত্ব অব্যাহত রাখা হবে।