পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ইউপি সদস্যকে পিটিয়ে জখম

স্টাফ রিপোর্টার : পূর্ব শত্রুতার জের ধরে অভয়নগর উপজেলার ৭নং শুভরারা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো: রফিকুল ইসলাম (৪৫)কে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা ধারলো অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে জখম করেছেন। বৃহস্পতিবার রাত অভয়নগর উপজেলায় হিদিয়া ইছামতি ব্রীজ চত্বর বাজার এলাকায় এই হামলা চালানো হয়। তাকে প্রথম ফুলতলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। তাকে ওই হাসপাতালে সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করানো হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তার মাথা ও পায়ে গুরুত্বর জখম হয়েছেন।
৭নং শুভরারা ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আব্দুর রাজ্জাক বিশ্বাস ঘটনা সত্যতা স্বীকার করে বলেন, যারা হামলা চালিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে ইউপি সদস্য রফিকুল থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন। এরই জের ধরে তার ওপর হামলা চালানো হয়।
আহত ইউপি সদস্য মো: রফিকুল ইসলাম এর ছেলে মো: রানা মোল্লা জানান, স্থানীয় সন্ত্রাসীরা হোসেন বিশ্বাস, ইয়ামিন বিশ্বাস, মেহেদী বিশ্বাস, নাসির বিশ্বাস, মহিত বিশ্বাস ও হাসান বিশ্বাসসহ অনেকে তার বাবা রফিকুলের ওপর কুড়াল, লাঠি, হকিস্টিক দিয়ে হামলা চালায়। যারা আমার বাবাকে মারছে তারা এলাকায় মাদক ব্যবসার সেল্টার দাতা হিসেবে কাজ করেন। এদের বিরুদ্ধে পূর্বে তার পিতা মামলাও করেছিলেন। মামলা তুলে নিয়ে তারা বাবাকে বিভিন্ন সময়ে হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছিলেন। এ ঘটনায় গতকাল শুক্রবার অভয়নগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। বাসমরি পুলিশ ক্যাম্পের আইসি ইকবাল জানান, ঘটনাস্থলে গেছিলাম। ইজিবাইকের করে ইছামতি বাজার দিকে যাচ্ছিলো। একদল সন্ত্রাসী তার ওপর হামলা চালায়। এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দাখিল করেছেন। আসামীদের গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ২২ কোটি টাকা মেরে দিয়ে সিঙ্গাপুরে

চট্টগ্রাম ব্যুরো: বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ঋণ নিয়েছিলেন ১৩ কোটি টাকা, সুদাসলে যা এখন ২২ কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। ১০ বছরেরও বেশি সময় আগে নেওয়া সেই ঋণ আর শোধ করেননি তিনি। দীর্ঘদিন ধরে পরিবারসহ গা ঢাকা দিয়ে রয়েছেন সিঙ্গাপুরে। দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, ঋণের এই টাকা মেরে দিয়েছে গিয়াস কাদেরের পরিবার।

চট্টগ্রামের রাউজানের বাসিন্দা গিয়াস উদ্দিন কাদের (গিকা) চৌধুরী যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসিতে ঝোলা সালাহউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর ছোট ভাই। তিনি বর্তমানে পরিবারসহ সিঙ্গাপুরে রয়েছেন। অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পরিবারসহ বিদেশে পাড়ি জমান এই নেতা।

জানা গেছে, বিএনপির এই নেতা ফ্ল্যাট কিনতে এবং নিজ কোম্পানির নামে পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড (পিএলএফসিএল) থেকে প্রায় ১৩ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। যা সুদসহ এখন প্রায় ২২ কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, এই টাকা লোপাট হয়েছে।

এই দুর্নীতির বিষয়ে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের তলব করেছিল উপপরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা গুলশান আনোয়ার প্রধান। তলবি নোটিশ অনুযায়ী তাদের হাজির হওয়া কথা ছিল ২ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু তারা ওইদিন হাজির হননি। তবে আইনজীবী পাঠিয়ে সময়ের আবেদন করেছেন তারা।

দুদক সূত্রে জানা যায়, ছেলে সামির কাদের চৌধুরী ও মেয়ে সামিহা কাদের চৌধুরীর নামে গুলশানে দুটি ফ্ল্যাট কেনার জন্য আট কোটি টাকা নেন গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী। বাকি টাকা নেন নিজের জন্য। যা পিপলস লিজিংয়ের খাতায় অনাদায়ী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়ে আছে। দুদকের অনুসন্ধানে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

জানা গেছে, ২০০৯ ও ২০১০ সালের বিভিন্ন সময়ে পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড (পিএলএফসিএল) থেকে গুলশানের দুটি ফ্ল্যাট কেনার নামে চার কোটি টাকা করে মোট আট কোটি টাকা ঋণ হিসেবে নেন গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী। ছেলে সামির কাদের চৌধুরী ও মেয়ে সামিহা কাদের চৌধুরীর নামে ওই ঋণ নিয়ে ফ্ল্যাট কিনলেও তা পরিশোধ করেননি তারা।

অন্যদিকে গিয়াস কাদের চৌধুরীর মালিকানাধীন ঢাকা ডাইং অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের নামে আরও পাঁচ কোটি টাকাসহ মোট ১৩ কোটি টাকা নেওয়া হয়। যা সুদে-আসলে এখন প্রায় ২২ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

২০১৯ সালের অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকি দেওয়ায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন চট্টগ্রামের একটি আদালত।