বোয়ালখালীতে ছেলের বউকে ধর্ষণের অভিযোগে শ্বশুর গ্রেফতার

প্রলয় চৌধুুুরী মুক্তিঃচট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে ছেলের বউকে ধর্ষণের অভিযোগে শ্বশুরকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।

বুধবার (৩ ফেব্রুয়ারি) শ্বশুর জমির উদ্দিন ড্রাইভারকে (৫৫) আদালতে সোর্পদ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবদুল করিম। জমির উপজেলার পূর্ব কালুরঘাট কামাল মেম্বারের বাড়ীর মৃত আবদুস সালামের ছেলে।

তিনি বলেন, গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে ধর্ষণের শিকার গৃহবধু বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলে আসামীকে রাতেই গ্রেফতার করা হয়।

গত ২৬ জানুয়ারি রাতে ঘরে একা পেয়ে ছেলের বউকে ধর্ষণ করেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার আগের দিন বাদীর স্বামী গাড়ি নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে বের হয়ে গিয়েছিলেন।

ফুলতলায় মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতিতে মারুফ-বিমান-নৃপেন পরিষদ পূর্ণ প্যানেলে জয়ী

তাপস কুমার বিশ্বাস, ডেক্স রিপোর্টঃ ফুলতলা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির ত্রি-বার্ষিক সাধারণ নির্বাচনে মারুফ- বিমান-নৃপেন পরিষদ পূর্ণ প্যানেলে জয় লাভ করেছে। সভাপতি পদে গাজী মারুফুল কবির (১৫০ ভোট), একমাত্র প্রতিদ্ব›দ্বী মনিরা পারভীন (১১৭ ভোট), সাধারণ সম্পাদক বিমান চন্দ্র নন্দী (১৩৮ ভোট), প্রতিদ্ব›দ্বী সন্দীপন রায় (১২৮ ভোট) এবং সাংগঠনিক সম্পাদক নৃপেন্দ্রনাথ মন্ডল (১৩৯ ভোট), প্রতিদ্ব›দ্বী অনুপম বিশ্বাস (১২৭ ভোট)। নির্বাচিত অন্যান্য নেতৃবৃন্দ হলেন সহ-সভাপতি মোঃ মহাসিন বিশ্বাস, প্রশান্ত কুমার রায়, গোলাম মোস্তফা, প্রেমচাঁদ দাস, আলহাজ্ব মাওঃ এ এইচ এম শফিউল্লাহ হাজেরী, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব ও রতন বিশ্বাস, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আহসান হাবিব ও মাওঃ জাহিদুল ইসলাম, প্রকাশনা ও প্রচার সম্পাদক মোঃ আবুল কালাম আজাদ, ক্রীড়া সম্পাদক মোঃ আশরাফ হোসেন মিয়া, দপ্তর সম্পাদক দেবদাস সরকার, সাংস্কৃতিক সম্পাদক টি এম আজিজুর রহমান, মহিলা সম্পাদিকা মমতাজ পারভীন, কোষাধ্যক্ষ নিরোদ কুমার মন্ডল, শিক্ষা গবেষনা পাঠাগার সম্পাদক মোঃ জহুরুল ইসলাম, সহ শিক্ষা গবেষনা সম্পাদক বিরেশ্বর বৈরাগী, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক মোঃ আলতাফ হোসেন, সহ সমাজ কল্যাণ সম্পাদক শেখ মুজিবর রহমান, সহ ক্রীড়া সম্পাদক রিপন কুমার মন্ডল, সহ প্রকাশনা ও প্রচার সম্পাদক শিল্পী বিশ্বাস। এ ছাড়া সদস্য পদে মোঃ আফজাল হোসেন, অসীম কুমার বিশ্বাস, শশাংক কুমার রপ্তান, দীনেশ চন্দ্র মন্ডল, প্রভাত কুমার বিশ্বাস, মোঃ তৌহিদ রেজা ও মোঃ বদর উদ্দিন নির্বাচিত হন। উপজেলা অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত ভোট কেন্দ্রে শনিবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত বিরতীহীনভাবে উপজেলার ১৭ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২৭৩ শিক্ষক ভোটারের মধ্যে ২৭০ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নির্বাচন পরিচালনা করেন খুলনা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার সাহা ও আলহাজ্ব আনোয়ারুজ্জামান মোল্যা এবং নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা বিআরডিবি কর্মকর্তা মোঃ আফরুজ্জামান, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা বেগম ও বীজ কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ার হোসেন ।

ডুুমুরিয়ায় গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ৩

ডুুমুরিয়া প্রতিনিধি : ডুমুরিয়া থানা পুলিশের মাদকবিরোধি বিশেষ অভিযানে ইং ০৫/০২/২০২১ শুক্রবার রাত্র ৮ ঘটিকার সময় ডুমুরিয়া থানাধীন পিসিএফ ফিড ইন্ডাষ্ট্রিজ এর সামনে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের উপর থেকে ৮০০ গ্রাম গাঁজা ও একটি মোটর সাইকেলসহ মাদক ব্যবসায়ী ১। মোঃ এনামুল শেখ (৩২), পিং-মৃত: আঃ মান্নান শেখ, সাং-চাচড়া, থানা-কোতয়ালী,২। মোঃ মতিয়ার সরদার (২৫), পিং-মৃত: নুর ইসলাম সরদার, সাং-কাগজ পুকুর, থানা-বেনাপোল পোর্ট, ৩। আবুল কালাম গাজী (৩৪), পিং-মোঃ কেসমত আলী গাজী, সাং-শরসকাঠি, থানা-কেশবপুর, সর্ব জেলা-যশোরগণ কে মাদকদ্রব্য গাঁজাসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। ডুুমুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি ওবাইদুর রহমান বলেন ৩ জন আসামি ও একটি মটর সাইকেল জব্দ তালিকামূলে মাদকদ্রব্য আইনে মামলা হয়েছে। শনিবার আসামিদের আদালতে প্রেরণ করা হবে।

নড়াইলের গলাকাটা ভিটা নিয়ে নানা কথা

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল : নড়াইল জেলার মঙ্গলহাটা গ্রামে গেলে দেখা মিলবে একটি ভিটার। নামে ভিটা হলেও এখন জঙ্গলই বলা চলে। সেখানে কোনো বাড়িঘর নেই। আছে শুধু গা ছমছমে পরিবেশ। আশপাশের বাসিন্দাদের কাছে প্রচলিত গল্পটা হলো, প্রায় একশ বছর আগে এখানে এক অচেনা ব্যক্তির গলাকাটা লাশ পাওয়া গিয়েছিল। এরপর বিভিন্ন সময়ে অনেকেই এ জায়গায় দেখেছে অস্বাভাবিক সব দৃশ্য। দিনে দিনে তাই নাম হয়েছে ‘গলাকাটা ভিটা’। এই ভিটা নিয়ে এলাকার মানুষজনদের মধ্যে রয়েছে নানা গল্প।

কেউ বলছে, এখনো এখানে রাতের বেলায় একটা মুন্ডহীন অবয়ব দেখা যায়। অনেকে নিছক গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন । কিন্তু বয়স্ক অনেকেই জানালেন, তারা নিজের চোখে দেখেছেন সেই অবয়ব ও অস্বাভাবিক অনেক কিছু। কেউ দাবি করলেন, তিনি নিজে না দেখলেও তাদের বাপ-দাদারা গলাকাটা ভিটার অনেক ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী।

তবিবর রহমানের বয়স সত্তরের কাছাকাছি। তিনি জানালেন, ‘না দেখে কেউ কোনো কিছু বিশ্বাস করতে চায় না। আমিও বলতাম, ওসব ফালতু কথা। মানুষ বানিয়ে বলে। কিন্তু একদিন রাতে আমি বেহুঁশ হয়ে গিয়েছিলাম। এরপর স্মৃতি হাতড়ে আবার বলা শুরু করলেন, ‘একা একা বাড়ি ফিরছিলাম। রাত খুব বেশি না হলেও অন্ধকার ছিল। ভিটার কাছে আসতেই এর ইতিহাস মনে পড়ে গেল। গা শিরশির করে উঠল আমার। ভয়ে ভয়ে সামনের দিকে এগোতে লাগলাম। হঠাৎ দেখি একটা আলোর অবয়ব। ভয়ে চিৎকার শুরু করি। কিন্তু মনে হলো, কেউ আমার চিৎকার শুনছে না। কারণ গলা দিয়ে শব্দই বের হচ্ছিল না। দেখলাম একটা গলাকাটা মানুষের শরীর। পুরো শরীরে রক্ত আর রক্ত। এ ভিটা থেকে বেরিয়ে সোজা পশ্চিমে নদীর দিকে চলে গেল। আমি দৌড় দিতে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে যাই। এরপর টানা তিন মাস জ্বরে ভুগেছি। দৃশ্যটা মনে পড়লে এখনো শিউরে উঠি।’

আরেক প্রত্যক্ষদর্শী খুশি বেগমের বয়স ৮০ বছর ছুঁই ছুঁই। তিনি জানালেন, ‘গলাকাটা ভিটার পাশে আগে অনেক খেজুরগাছ ছিল। আমার স্বামী গাছি ছিলেন। তিনি একদিন অসুস্থ থাকায় আমার বড় ছেলেকে গাছে কলস বাঁধতে পাঠালেন। তার বয়স তখন বারো-তেরো হবে। আমিও তার সঙ্গে গেলাম। ছেলে একের পর এক গাছে কলস বাঁধছে। আমি নিচে দাঁড়িয়ে দেখছি। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলো। আর পাঁচ-ছয়টি গাছ বাকি। একটি সরু খেজুরগাছে ছেলে উঠছে, আমি তাকিয়ে আছি। হঠাৎ দেখি, যে গাছে ছেলে উঠছে, সে গাছের মাথায় সাদা কাপড় পরা একটা লোক দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু তার মাথা নেই। আমি চিৎকার দিয়ে বললাম-বাবা! নেমে আয়! আর ওঠা লাগবে না। আমার চিৎকার শুনে সে নেমে এসে বলল, কী হয়েছে? আমি কিছু বলতে পারলাম না। দুজনে বাড়ি চলে আসি। পরে আমার ছেলে বলল, সে কিছু দেখেনি। কিন্তু আমি স্পষ্ট দেখেছি, সাদা কাপড় পরা গলাকাটা লোকটাকে।’

মতিউর রহমান নামের আরেক গ্রামবাসী বললেন, ‘অনেক রাত পর্যন্ত চলাফেরা করতাম। ভূত-প্রেতে বিশ্বাস করতাম না। কিন্তু একদিন রাত বারোটার দিকে ঘুরছি। গলাকাটা ভিটার কাছে কিছু বড় মরা গাছ ছিল। আমি ওই গাছগুলোর দিকে তাকিয়ে একটা কিছু ভাবছিলাম। হঠাৎ দেখি ইয়া বড় মানুষের আকৃতির মতো একটা কিছু। সে একটা গাছের ওপর পা মেলে বসে আছে। প্রথমে ভাবলাম, চোখের ভুল বা হয়তো আলোছোয়ার কারণে এমনটা মনে হচ্ছে। কিন্তুু চারিদিকে তাকিয়ে দেখি, কোনো আলোর উৎস নেই। দারুণ ভয় পেয়ে গেলাম। মানুষের মুখে শোনা গল্পগুলো মনে পড়ে যাওয়ায় ভয় বেড়ে দ্বিগুণ। তারপর দিলাম দৌড়। সেই থেকে আর রাতে ঘুরতে বের হই না, সন্ধার পরে তো ওই ভিটার দিকে ফিরেও তাকাই না।’

নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজের দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছে সুমন আহমেদ। গলাকাটা ভিটার সামনে দিয়েই বাড়িতে যেতে হয় তাকে। সে জানাল সাম্প্রতিক এক ঘটনা, একদিন রাতে সিনেমা দেখে বাড়ি ফিরছি। সঙ্গে কেউ নেই। একটু ভয়ে ভয়ে হাঁটছি। গলাকাটা ভিটার কাছে আসতেই ভয় আরো বেড়ে যায়। কিছু না দেখার ভান করে সামনে হাঁটতে থাকি। হঠাৎ একটা বিকট শব্দ। মনে হলো, ওপর থেকে একটা কিছু ভেঙ্গে পড়ছে। তাকিয়ে দেখি, বিশাল এক গাছের মধ্যে কালো একটা কিছু বসে আছে। সে আমাকে ধরার জন্যই বারবার ডালটাকে নিচের দিকে নামাতে চাচ্ছে। এটা দেখে আর কে দাঁড়ায়! দিলাম দৌড়। এরপর কয়েক দিন অসুস্থ ছিলাম।’

এলাকার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, ‘গলাকাটা ভিটা নিয়ে মানুষের নানা ভৌতিক গল্প শুনে আসছি। রাতে এটা-ওটা দেখে আর দিনে গল্প করে। আমি এ এলাকায় থাকলেও কখনো কিছু দেখিনি। আর আমার এসবে তেমন বিশ্বাস নেই। আমি মনে করি, এগুলো মনের ভুল ছাড়া কিছু নয়।’