খুলনা প্রেসক্লাবে পিঠা মেলা ও বসন্ত উৎসব শুরু

খুলনা অফিস : খুলনা প্রেসক্লাবের আয়োজনে ৩ দিনব্যাপী পিঠা মেলা ও বসন্ত উৎসব শুরু হয়েছে। আজ শুক্রবার বিকেলে ক্লাব চত্বরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কেক কেটে পিঠা মেলা ও বসন্ত উৎসবের উদ্বোধন করেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা প্রশাসক ও খুলনা প্রেসক্লাবের প্রধান পৃষ্ঠপোষক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন।

উদ্বোধনকালে খুলনা সিটি মেয়র তার বক্তব্যে বলেন, কালের বিবর্তনে হারাতে বসেছে বাংলার অনেক চিরায়ীত ঐতিহ্য। সেই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে খুলনা প্রেসক্লাবের এই আয়োজন কিছুটা হলেও ভূমিকা রাখবে। নতুন প্রজন্ম এই মেলার মাধ্যমে নানা রাকমের পিঠা-পুলির সাথে পরিচিত হবে। পিঠা মেলা ও বসন্ত উৎসব আয়োজন করার জন্য খুলনা প্রেসক্লাব ও মেলায় অংশগ্রহণকারীদের সিটি মেয়র ধন্যবাদ জানান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম জাহিদ হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হাসান আহমেদ মোল্লা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ক্লাবের সহকারী সম্পাদক (সাংস্কৃতিক সম্পাদক) মাহবুবুর রহমান মুন্না।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন মিন্টু, ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও নির্বাহী সদস্য এস এম নজরুল ইসলাম, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ মুন্সি মাহবুব আলম সোহাগ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মল্লিক সুধাংশু, কোষাধ্যক্ষ বিমল সাহা, সহকারী সম্পাদক মাকসুদুর রহমান(মাকসুদ) ও এস এম নূর হাসান জনি, ক্লাব সদস্য মুহাম্মদ আবু তৈয়ব, রকিব উদ্দিন পান্নু, দেবব্রত রায়, আনোয়ারুল ইসলাম কাজল, সুমন আহমেদ, শেখ মো: সেলিম, ক্লাবের ইউজার সদস্য মো. আজিজুল ইসলাম, এস এম বাহাউদ্দিন, মোঃ হেলাল মোল্লাসহ অন্যান্য সাংবাদিক ও অতিথিবৃন্দ।

পিঠা মেলা ও বসন্ত উৎসব চলবে রবিবার পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত স্টলগুলো দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে। স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের স্বনামধন্য ৩৬টি স্টল উৎসবে অংশ নিচ্ছে। উৎসবের স্টলগুলোতে চিতই, মালপোয়া, দুধ পুলি, ভাপা, নকশি পিঠা, মুগ পাকন, পাটিসাপটা, লবঙ্গ লতিকা, হৃদয় হরণ, ডিম সুন্দরী, বিবি খানা, চালতা পাতা, জামাই পিঠা, গোলাপসহ মজার মজার নামের প্রায় অর্ধশত পিঠার দেখা মিলছে। এছাড়াও স্টলগুলোতে রয়েছে বিভিন্ন রকমারী পণ্য।

দুই বছর তালাবদ্ধ পাইকগাছার লতা স্বাস্থ্যকেন্দ্র

পাইগাছা প্রতিনিধি : খুলনার পাইকগাছার লতা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের ভবনটি আধুনিকায়ন হলেও দুই বছর ধরে এটি তালাবদ্ধ রয়েছে। ডাক্তারসহ কোনো জনবল না থাকায় জনগণের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত এলাকাবাসী। পাইকগাছার উপজেলার লতা ইউনিয়নের কাঠামারী এলাকায় ১৯৯০ সালে লতা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠত হয়। উপজেলা সদর থেকে অনেক দূরে এলাকাটি অবস্থিত। সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা চালু করতে ইউনিয়ন পরিষদে এর দাপ্তরিক কর্যক্রম শুরু হয়। সে সময় থেকে ঢিমেতালে এর কার্যক্রম চলে বলে ইউপি সদস্য কৃষ্ণপদ মণ্ডলসহ স্থানীয়রা জানান। ২০১৮ সালে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে দৃষ্টিনন্দন দোতলা একটা ভবন নির্মিত হয়েছে। যার নিচে পাঁচটি কক্ষ ও দোতলায় দুটি পরিবারের থাকার ব্যবস্থা। চারপাশে রয়েছে উচু প্রাচীর। সেবাদানের জন্য একজন ডাক্তার, একজন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা, একজন নিরাপত্তা প্রহরী ও একজন আয়া থাকার কথা। কিন্তু নিরাপত্তা প্রহরী থেকেও না থাকার মতো অবস্থা বলে অনেকেই বলছে। মাঝেমধ্যে গিয়ে ঝাড়ু দিয়ে চলে যান তিনি। সেবাদানের জন্য সেখানে কোনো উপকরণ আসে কি-না তা জানার চেষ্টা করা হলেও সংশ্লিষ্ট কেউ বলতে পারেননি। এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান চিত্তরঞ্জন মণ্ডল বলেন, ‘সরকার স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর জন্য আধুনিক ভবনসহ অনেক কিছু করছে। কিন্তু আমার ইউনিয়নবাসী এখানকার সেবা থেকে বঞ্চিত। উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এসএম কবির হোসেন বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কর্তৃপক্ষকে বারবার লিখিতভাবে অবহিত করেছি। কিন্তু কেউ এসে কয়েকদিন থাকার পর চলে যায়।

সাতক্ষীরায় ট্রাকের ধাক্কায় নিহত ১, আহত ২

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরায় ট্রাকের ধাক্কায় ইঞ্জিনভ্যান উল্টে রাস্তার পাশে পানিতে পড়ে একজন নিহত ও দুই নারী আহত হয়েছেন। বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলাধীন সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের বিনেরপোতা এলাকায় বিসিক এর পাশে পেট্রোল পাম্পের কাছে এই ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম শেখ হাফিজুল ইসলাম (৫৫)। তিনি সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানার বড়বিলা গ্রামের শেখ আব্দুল লতিফের ছেলে। এ ঘটনায় একই গ্রামের আব্দুর রশিদের স্ত্রী তাপিলা খাতুন (৫৫) ও তাদের প্রতিবেশী ছায়রা খাতুন (৪৮) আহত হয়। এদের মধ্যে তাপিলা খাতুন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ছায়রা খাতুনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। নিহতের ছোট ভাই শেখ আজহারুল ইসলাম জানান, তার ভাই শেখ হাফিজুল ইসলাম সহ তাদের প্রতিবেশী দুই মহিলা রাতে বাড়ি থেকে সাতক্ষীরায় আসছিলেন। প্রতিমধ্যে রাত সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলাধীন সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের বিনেরপোতা এলাকায় বিসিক এর পাশে পেট্রোল পাম্পের কাছে পৌছালে একটি দ্রুত গতির ট্রাক তাদের ইঞ্জিনভ্যানটিকে পিছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে ইঞ্জিন উল্টে রাস্তার পাশে খাদের পানিতে পড়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের তিনজনকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তৃব্যরত চিকিৎসক শেখ হাফিজুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন। সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসাদুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

খুলনা প্রেসক্লাবে পিঠা মেলা ও বসন্ত উৎসব শুরু

নিজস্ব প্রতিনিধি : খুলনা প্রেসক্লাবের আয়োজনে শুক্রবার হতে ৩ দিনব্যাপী পিঠা মেলা ও বসন্ত উৎসব-২০২১। বিকাল ৩টায় ক্লাব চত্বরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পিঠা মেলা ও বসন্ত উৎসবের উদ্বোধন করবেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন খুলনা জেলা প্রশাসক ও খুলনা প্রেসক্লাবের প্রধান পৃষ্ঠপোষক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন। খুলনা প্রেসক্লাবের সকল সদস্য ও ইউজার সদস্যদের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। শুক্রবার উৎসব শুরু হয়ে চলবে ১৪ ফেব্রুয়ারি রবিবার পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত স্টলগুলো দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে। স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের স্বনামধন্য বেশ কয়েকটি স্টল উৎসবে অংশ নিচ্ছে। থাকছে নানা নাম ও স্বাদের বাহারি পিঠা ও রকমারী পণ্য।

শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে শিক্ষকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য : এমপি বাবু

পাইকগাছা প্রতিনিধি : খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মোঃ আক্তারুজ্জামান বাবু বলেছেন, শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি করতে গেলে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার মান বাড়বে শিক্ষকদের গুণে। শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে শিক্ষকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। শিক্ষকেরা জাতির বিবেক। বুধবার (দুপুর ২টায় পাইকগাছা উপজেলার দেলুটি ইউনিয়নের কালিনগর কলেজের পরিচালনা পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পাইকগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও কালিনগর কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মোঃ আনোয়ার ইকবাল মন্টু’র সভাপতিত্বে এবং কলেজের অধ্যক্ষ দিবাকর মন্ডলের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন দেলুটি আ’লীগের সভাপতি নির্মল চন্দ্র মন্ডল, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান রিপন কুমার মন্ডল, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও কালিনগর কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সমরেশ হালদার, অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন বাবু, জেলা যুবলীগ নেতা শামীম সরকার, খুলনা জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মোঃ আবু সাঈদ খান, আ’লীগ নেতা প্রভাষক মঈনুল ইসলাম, আবুল হোসেন গাজী, যুবলীগ নেতা এম এম আজিজুল হাকিম, আকরামুল ইসলাম, কেডি বাবু, দিজেন্দ্রনাথ মন্ডল, বিদ্যুৎ কুমার বিশ্বাস, রাম টিকাদার, অঞ্জন মন্ডল, মিনা রানী, দীপ্তি রানী, মশিউর রহমান, নাজমা কামাল, আব্দুল্লাহ আল মামুন, ছাত্রলীগ নেতা রায়হান পারভেজ রনি, মাজহারুল ইসলাম মিথুন, মাসুদ, অহিদুর, রাকিব হোসেন প্রমুখ।

আলজাজিরার ষড়যন্ত্রমূলক সংবাদ পরিবেশনের প্রতিবাদে কেইউজে’র মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিনিধি : আল-জাজিরা টেলিভিশনে বাংলাদেশ সরকার, প্রধানমন্ত্রী ও সেনাবাহিনী নিয়ে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করার প্রতিবাদে এবং সংবাদ পরিবেশনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ বাংলাদেশের ভাবমূর্তি প্রধানমন্ত্রী ও সেনাবাহিনীর সম্মান ক্ষুণ্ন করায় আন্তর্জাতিক আদালতে মানহানি মামলা দায়েরের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়ন (কেইউজে) এর নেতৃবৃন্দ। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় খুলনা মহানগরীর পিকচার প্যালেস মোড়ে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। ইউনিয়নের সভাপতি মো. মুন্সি মাহবুব আলম সোহাগ এর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমডিএ বাবুল রানা। ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক নেয়ামুল হোসেন কচি এবং প্রচার ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক এস এম নূর হাসান জনির পরিচালনায় আরও বক্তৃতা করেন কেইউজে’র সাবেক সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন মিন্টু, খুলনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও কেইউজে’র সাবেক সভাপতি এস এম জাহিদ হোসেন, মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার অধ্যাপক আলমগীর কবির, আ’লীগ নেতা মফিদুল ইসলাম টুটুল, নগর যুবলীগের আহ্বায়ক সফিকুর রহমান পলাশ, এ কে এম শাহজাহান কচি, সাংবাদিক নেতা আনোয়ারুল ইসলাম কাজল, মোজাম্মেল হক হাওলাদার, মল্লিক সুধাংশু, মো. হুমায়ুন কবীর, বিমল সাহা, অমিয় কান্তি পাল, আসাদুজ্জামান খান রিয়াজ, বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক, দেবনাথ রণজিৎ কুমার রণো, আবু হেনা মোস্তফা জামাল পপলু, দেবব্রত রায়, রকিব উদ্দিন পান্নু, সুনীল দাস, ওয়াহেদ উজ জামান বুলু, আলমগীর হান্নান, আমিরুল ইসলাম, মিলন হোসেন, আবু নুরাইন খন্দকার, রাশিদুল আহসান বাবলু, হাসান আল মামুন, শাহজালাল মোল্লা মিলন, মিজানুর রহমান, হাসানুর রহমান তানজির, মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মাহমুদ আলম, সাংবাদিক শেখ মো. সেলিম, হুসাইন বিল্লাহ, আসগর হোসেন, আল আমিন শিকদার, ইবনুল হাসান, রুমান আহমেদ প্রমুখ। এছাড়াও মানববন্ধনে মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ এবং আ’লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগসহ স্বাধীনতার স্বপক্ষের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ সংহতি প্রকাশ করেন।

পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না নির্বাচনী সংঘাত : সিইসি

ঢাকা : প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা বলেছেন, ‘নির্বাচনী সংঘাত পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। ’

বৃহস্পতিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন ভবনে রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্র্যাসির (আরএফইডি) নেতাদের সঙ্গে আয়োজিত এক বৈঠকে তিনি একথা বলেন।

কে এম নূরুল হুদা চলমান পৌরসভা নির্বাচনের সংঘাত প্রসঙ্গে বলেন, ‘কোথাও কোথাও ভোটে সংঘাত হয়। এগুলো চলে গেলে খুশি হবো, কিন্তু যাচ্ছে না। আজকেও আমরা চট্টগ্রাম, যশোরে কথা বলেছি। ১৪ তারিখ ভালোবাসা দিবসের নির্বাচনকেও ভালোবেসে ফেললাম। আমাদের পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ব্যবস্থাপনার দিক দিয়ে যা যা দরকার আমরা সব ঠিকভাবে দেখেছি। আশা করি, অন্তত এরপর থেকে যে নির্বাচন হবে, ভালো হবে। সুষ্ঠু হবে; সংঘাত-সংঘর্ষ হবে না। ’

বিগত নির্বাচনগুলোতে রক্তপাত, সহিংসতা কেন ঠিক করা গেলো না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এত সংঘাত হয়েছে তা না। তবে যেগুলো হয়েছে, আমাদের কাম্য নয়। এগুলো হয় প্রার্থী ও প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিদের মধ্যে। আমাদের পুলিশ থাকে, কিন্তু একটা ঘটনা ঘটে গেলে তো কিছু করার থাকে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনেক সদস্য থাকে, ম্যাজিস্ট্রেট থাকে। তারপরও এগুলো অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে যায়। প্রার্থী ও প্রার্থীদের সমর্থকদের সহনশীল থাকতে হবে। আর আমাদের প্রচেষ্টা তো আছেই। তবে এটাকে ঢালাওভাবে বলবেন না। ব্যাপকভাবে হয়েছে তা নয়। সারা নির্বাচনের মধ্যে তিন-চারটি জায়গায় এমন হয়েছে। আমরা সেটাকে সামাল দিয়েছি। আমাদের পক্ষ থেকে যেখানে অসুবিধা হয়েছে সেখানে পুলিশি মোকদ্দমা হয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা ও প্রস্তুতি থাকবে, এগুলো যাতে না হয়। এগুলো তো দুর্ঘটনা, আমাদের দেশে এগুলো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। আমাদের প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি থাকলে বলবেন। ’

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য কোনো বার্তা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘আমরা তাদের অত্যন্ত সতর্ক অবস্থায় রাখি। প্রত্যেকটি জায়গায় র‍্যাব, বিজিব, আনসার সদস্য আছে। প্রত্যেক কেন্দ্রে ১২ থেকে ১৮ জন আর্মড পুলিশ এবং আনসার নিয়োজিত থাকবে। তাদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনাররা কথা বলেছেন। তারা আরো সুষ্ঠুভাবে তদারকি করবে। আগামী ১৪ তারিখ যে নির্বাচন আছে, সেগুলো তারা মনিটর করবে। কোনো জায়গায় খারাপ খবর পেলে, কমিনাররা কথা বলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেন। ’

দেশব্যাপী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, ‘চতুর্থ ও পঞ্চম ধাপের পৌরসভা রয়েছে ১৪ ফেব্রুয়ারি ও ২৮ ফেব্রুয়ারি। মার্চে হালনাগাদের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। এরপর রমজান রয়েছে। শেষ ধাপের বাদবাকি পৌরসভা ও নির্বাচন উপযোগী কিছু ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন ৭ এপ্রিল করার প্রস্তাব এসেছে। এ জন্যে ১৭ ফেব্রুয়ারি কমিশন সভায় এ বিষয়টি চূড়ান্ত হবে। সেখানে কয়টি পৌরসভা ও ইউপিতে ভোট করা যায়, তা পর্যালোচনা হবে। ’

কবে নাগাদ ইউপি সাধারণ নির্বাচন শুরু করা যাবে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভোটার তালিকা চূড়ান্ত প্রকাশের বিষয়, সিডি তৈরি ও রমজান রয়েছে। ৭ এপ্রিল কিছু হবে। তবে ঈদের পরে মধ্য মে মাসে ইউপি নির্বাচন শুরু হবে। ’

দেশে প্রায় সাড়ে চার হাজার ইউপি রয়েছে। সর্বশেষ ২০১৬ সালে ২২ মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত ছয় ধাপে চার হাজারেরও বেশি ইউপির ভোট হয়েছিল। সেবারই প্রথম দলীয়ভাবে চেয়ারম্যান পদে ভোট হয়েছিল। এবারও দলীয় প্রতীকে হবে।

অনুষ্ঠানে আরএফইডির সদস্যরা, চার নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

খুলনায় ৫ম দিনে টিকা নিয়েছেন ৫ হাজার ৫শ’৭৩ জন

মো : আমিরুল ইসলাম : গতকাল পঞ্চম দিনে টিকা গ্রহণ করেন ৫ হাজার ৫শ’৭৩ জন। মহানগরে ১৩ কেন্দ্রে ২৯টি টিমে ও নয়টি উপজেলায় প্রতিটিতে তিনটি করে ২৭টি টিমের মাধ্যমে এই টিকা প্রদান করা হয়। খুলনা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, খুলনায় গতকাল সকাল ৮ থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত করোনা ভাইরাসের প্রতিষেধক টিকা দেওয়া হয়েছে। পঞ্চম দিনে মোট টিকা নিয়েছেন ৫ হাজার ৫শ’৭৩ জন ব্যক্তি। এর মধ্যে সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ২ হাজার ৯শ ৪৮ জনকে টিকা দেয়া হয়েছে। যার মধ্যে ২হাজার ২শ ৫২ জন পুরুষ ও ৬শ ৯৬ জন মহিলা রয়েছে। আর নয়টি উপজেলায় দেয়া হয়েছে ২হাজার ৬শ ২৫ জনকে এ টিকা দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে ১ হাজার ৭শ ২৪ জন পুরুষ ও ৯০১ জন মহিলা। এর আগে রবিবার প্রথমদিনে ৮শ ৬৩ জনকে ও সোমবার ২য় দিনে ১ হাজার ১শ ৯০ জনকে টিকা দেয়া হয়। মঙ্গলবার ৩হাজার ৩শ ১৫ জন, বুধবার ৪ হাজার ১শ ৬২ জন, বৃহস্পতিবার ৫ হাজার ৫শ’৭৩ জন মোট ৫ দিনে ১৫ হাজার ১শ’ ৩ জন টিকা নিয়েছেন। আরও জানা যায়, খুলনা জেলায় করোনাভাইরাস ভ্যাকসিন প্রদান কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে মহানগরে ১৩টি কেন্দ্রের জন্য ২৯টি টিম এবং প্রত্যেক উপজেলায় তিনটি করে মোট ২৭টি টিম কাজ করছে। প্রতিটি টিমে দুই জন করে টিকাদানকারী এবং চার জন করে ভলান্টিয়ার রয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টিকা দেওয়া হবে। খুলনায় প্রাথমিক পর্যায়ে মোট এক লাখ ৬৮ হাজার ডোজ করোনা ভ্যাকসিন দেওয়া হবে।
প্রথমে টিকা দেওয়ার বয়সসীমা ৫৫ বছর নির্ধারিত হলেও পরবর্তীতে ৪০ বছরে নামিয়ে আনা হয়েছে’
অগ্রাধিকার তালিকাভূক্ত সবাইকে জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে িি.িংঁৎড়শশযধ.মড়া.নফ ওয়েবসাইট বা গুগল প্লে স্টোর থেকে ‘সুরক্ষা অ্যাপস’ ডাউনলাডের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে হবে। তবে ৪০ বছরের উর্ধ্বে সকল নাগরিক নিবন্ধন করতে পারবেন, সেক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তালিকায় থাকার প্রয়োজন নেই। ৪০ বছরের নিম্নে যারা অগ্রাধিকার তালিকায় অন্তর্ভূক্ত কিন্তু জাতীয় পরিচয়পত্র দ্বারা নিবন্ধন করতে ব্যর্থ হয়েছেন বা হচ্ছেন তাদের প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ষরহবফরৎবপঃড়ৎ@সরং.ফমযং.মড়া.নফ মেইলে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর এর তালিকা প্রেরণ করতে হবে।

ট্রাইব্যুনালের ইতিহাসে প্রথম খালাস পেলেন : আব্দুল লতিফ

ঢাকা : মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ পর্যন্ত ৪২টি মামলায় রায় দিয়েছেন। এসব মামলায় রায়ের মুখোমুখি হয়েছিলেন মোট ১১২ জন আসামি।

এর মধ্যে ১১১ জন মৃত্যুদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ডিত হয়েছেন। আর খালাস পেয়েছেন মাত্র একজন আসামি।
খালাস পাওয়া একমাত্র আসামি হলেন ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের তোলালী গ্রামের মৃত হোসেন আলী মীর ওরফে হোসেন মুন্সীর ছেলে মো. আব্দুল লতিফ।

বৃহস্পতিবারের (১১ ফেব্রুয়ারি) দেওয়া ৪২তম রায়ে ৯ আসামির মধ্যে তিনি খালাস পেয়েছেন।

এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী প্রসিকিউটর সাহিদুর রহমান বলেন, ট্রাইব্যুনালের ইতিহাসে তিনি প্রথম খালাস পেয়েছে। পূর্ণাঙ্গ রায় পর্যালোচনা করে তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারে ২০১০ সালের ২৫ মার্চ হাইকোর্টের বিচারপতি নিজামুল হককে চেয়ারম্যান, বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীর ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ একেএম জহির আহমেদকে সদস্য করে গঠন করা হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

দুই বছর পর ২০১২ সালের ২৩ মার্চ বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরকে চেয়ারম্যান করে ট্রাইব্যুনাল-২ গঠিত হয়। পরবর্তীসময়ে ট্রাইব্যুনাল-২ নিষ্ক্রিয় করা হয়।

বিচার শেষে প্রথম রায় আসে ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি। ওইদিন ফরিদপুরের বোয়ালমারীর আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। সবশেষ বৃহস্পতিবার ৪২তম রায় দেওয়া হলো।

গফরগাঁওয়ের মামলায় ২০১৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের চারটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চারজনকে হত্যা, নয়জনকে আটক ও নির্যাতনের অভিযোগ। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার নিগুয়ারী ইউনিয়নের সাধুয়া গ্রাম ও টাঙ্গাব ইউনিয়নের রৌহা গ্রামে তারা এসব অপরাধ করেন বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে।

এ মামলায় ১১ আসামির বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের ৪ মার্চ অভিযোগ গঠন করেছিলেন আদালত। এর মধ্যে গ্রেফতার ছিলেন মো. খলিলুর রহমান মীর, মো. সামসুজ্জামান ওরফে আবুল কালাম, মো. আব্দুল্লাহ, মো. আব্দুল মালেক আকন্দ ওরফে আবুল হোসেন ওরফে আবুল মেম্বার, মো. রইছ উদ্দিন আজাদী ওরফে আক্কেল আলী ও আব্দুল লতিফ।

পলাতক ছিলেন এএফএম ফয়জুল্লাহ, আব্দুর রাজ্জাক মণ্ডল, সিরাজুল ইসলাম তোতা, আলিম উদ্দিন খান ও নুরুল আমিন শাহজাহান।

বিচার চলাকালে মো. আব্দুল মালেক আকন্দ ওরফে আবুল হোসেন ওরফে আবুল মেম্বার ও পলাতক থাকা অবস্থায় নুরুল আমিন শাজাহান মারা যান।

বৃহস্পতিবার দেওয়া রায়ে মো. সামসুজ্জামান ওরফে আবুল কালাম, এএফএম ফয়জুল্লাহ (পলাতক), আব্দুর রাজ্জাক মণ্ডলকে (পলাতক) আমৃত্যু দণ্ড দেওয়া হয়।

২০ বছর করে সাজা দেওয়া হয় মো. খলিলুর রহমান, মো. আব্দুল্লাহ, মো. রইছ উদ্দিন আজাদী ওরফে আক্কেল আলী, আলিম উদ্দিন খান (পলাতক) ও সিরাজুল ইসলাম তোতাকে। আর খালাস পান আব্দুল লতিফ।

আব্দুল লতিফের আইনজীবী আবদুস সাত্তার পালোয়ান বলেন, গফরগাওঁয়ের তোলালী গ্রামের মৃত হোসেন আলী মীর ওরফে হোসেন মুন্সীর ছেলে মো. আব্দুল লতিফ। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুসারে তার জন্ম ১৯৫৯ সালে। তিনি ২০১৭ সালের ২২ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেন এবং জামিন চান। আদালত আবেদন খারিজ করে তাকে কারাগারে পাঠান।

‘তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তিনি দারু খা নামে এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছেন। কিন্তু ১৯৭২ সালে দারু খার ছেলে আফাজ উদ্দিন একটি মামলা করেছিলেন। ওই নথি উপস্থাপন করে বলেছি- মামলায় তার নাম ছিল না। এছাড়া নথি অনুসারে ৭১ সালে তার বয়স ছিল ১১ বছর। যেহেতু প্রসিকিউশন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে সেজন্য আদালত তাকে খালাস দিয়েছেন। এ আদেশ কারাগারে পৌঁছেছে। এখন প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে তিনি মুক্তি পাবেন। ’

করোনার টিকা গ্রহণে দেশবাসীকে উৎসাহিত করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনাকালীন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করে টিকা গ্রহণে দেশবাসীকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে এবং আনসার ভিডিপির প্রতিটি সদস্যকে অনুরোধ করবো প্রতিটি মানুষ যাতে এই টিকাটা নেয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘অনেকে ভয় পায়, সুই ফোঁটাতেও ভয় পায়, কাজেই তারা যেন রোগাক্রান্ত না হয় সে ব্যাপারে আমরা পদক্ষেপটা নিয়েছি এবং সেখানে আপনাদের সহযোগিতা চাই।’
আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘আপনারাও গ্রামের মানুষকে উদ্বুদ্ধ করবেন যেন, এই মাহামারী, যেটা আজকে সমগ্র বিশ্বব্যাপী দেখা গেছে, তার হাত থেকে বাংলাদেশের মানুষ যেন মুক্তি পেতে পারে।’
প্রধানমন্ত্রী আজ সকালে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪১ তম জাতীয় সমাবেশ উপলক্ষে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।
তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গাজীপুরের সফিপুর আনসার ও ভিডিপি একাডেমির সঙ্গে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হন।
শেখ হাসিনা বলেন, টিকাদানের জন্য তাঁর সরকার যেসব ডিজিটাল সেন্টার করেছে সেখানে গিয়েই সকলে নিবন্ধন করতে পারবেন। সেখানে গিয়ে নিজে এবং পরিবারের সকলে যেন টিকা নেয় তা নিশ্চিত করার জন্য তিনি আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা মোকাবিলায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ পর্যন্ত আনসার বাহিনীর মোট ১৯ জন সদস্য মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি তাদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
তিনি বলেন, ‘আপনারা সুরক্ষিত থাকেন এবং টিকা নিয়ে নিজেদের আরো সুরক্ষিত করেন এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেন সেটাও আমরা চাই।’
অনুষ্ঠান থেকে মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রীয় সালাম জানানো হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন। আসনার ও ভিডিপি’র মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মিজানুর রহমান শামীম স্বাগত বক্তৃতা করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে ১৪০ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্যকে সাহসিকতা ও বিশেষ কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ‘সেবা’ ও ‘সাহসিকতা’ পদক প্রদান করা হয়।
বাল্যবিবাহ রোধ কল্পে আনসার সদস্যদের ভূমিকার প্রশংসা করে ভাষণে এটি অব্যাহত রাখার ও আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘একটি কাজ আপনারা করে যাচ্ছেন সেটা হচ্ছে বাল্য বিবাহ রোধ করা। যেটি আপনাদের করে যেতে হবে।’
সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির পুনরোল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদে যেন আমাদের দেশের যুব সমাজ সম্পৃক্ত না হয় এ ব্যাপারে বিশেষ ভূমিকা আপনারা রেখে যাচ্ছেন এবং এটা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। এর বিরুদ্ধে সচেতনতামূলক তথ্য ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনসহ ব্যাপক কর্মসূচি আপনারাদের পালন করে যেতে হবে। ‘যাতে ছেলে-মেয়েরা বিপথে না যায়। সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দেওয়ার জন্য আমি অনুরোধ জানাচ্ছি’ বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে অনন্য ভূমিকা পালন করছে। মৌলিক প্রশিক্ষণ ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের কারিগরি ও পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে দেশের যুব সমাজের কর্মসংস্থান তৈরিতে এ বাহিনী সার্বক্ষণিক কাজ করছে।
বিশেষ করে জাতীয় অর্থনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ এবং নারীর ক্ষমতায়নে এ বাহিনীর অবদান অনস্বীকার্য। সুবিশাল এ বাহিনীর অর্ধেক সদস্যই নারী। সমঅধিকারের ভিত্তিতে তাদের বিনামূল্যে আয়-বৃদ্ধিমূলক বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠিত ‘আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক’ দেশব্যাপী ২৫৯টি শাখার মাধ্যমে সদস্যদের মধ্যে ক্ষুদ্র ও মাঝারী ঋণ প্রদান করে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। করোনা মোকাবেলায় বাংলাদেশ ব্যাংক হতে স্বল্প সুদে তহবিল সংগ্রহপূর্বক বাহিনীর সদস্যদের মাঝে কৃষি ও ক্ষুদ্র ঋণ বিতরণ করার জন্য ইতোমধ্যে ৫০০ কোটি টাকা এ ব্যাংককে দেওয়া হয়েছে এবং তারা প্রায় আড়াইশো কোটি টাকা খরচও করেছেন।
তিনি বলেন, এখান থেকে ৫ শতাংশ সুদে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত তাঁরা ঋণ নিতে পারেন।
আনসার ও ভিডিপি’র সদস্যরা বিভিন্ন দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ায় উল্লেখ করে ২০১৩, ১৪ ও ১৫ সালে বিএনপি-জামায়াতের আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে হত্যার অগ্নিসন্ত্রাসের সময়ও তাঁদের বলিষ্ঠ ভূমিকার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সে সময় সারাদেশে জান-মাল ও রেল রক্ষায় আনসার বাহিনীকে সম্পৃক্ত করেছিলেন এবং তাঁরা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে অগ্নি সন্ত্রাস মোকাবেলা করেছেন, সেজন্য তিনি সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
তাঁর সরকারের মুজিববর্ষ উদযাপনের প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, মুজিববর্ষে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর শ্লোগান-‘মুজিববর্ষের উদ্দীপন, আনসার ও ভিডিপি আছে সারাক্ষণ’ সময়োপযোগী হয়েছে। বাহিনীর সদর দপ্তর, একাডেমি, রেঞ্জ, ব্যাটালিয়ন ও জেলা কার্যালয়সহ প্রতিটি কার্যালয়ে ‘বঙ্গবন্ধু কর্নার’ স্থাপন করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আনসার-ভিডিপি একাডেমিতে চলমান মাস্টার্স কোর্সসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণসূচিতে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্ম শীর্ষক পাঠ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর নামে কেন্দ্রীয় ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
‘সেবা’ ও ‘সাহসিকতা’ পদক প্রাপ্তদের অনুষ্ঠানে অভিনন্দন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আপনাদের কাজের প্রতি আন্তরিকতা ও দৃষ্টান্তমূলক দায়িত্বশীলতার স্বীকৃতিস্বরূপ প্রতিবছর ‘সেবা’ ও ‘সাহসিকতা’ পদক আওয়ামী লীগ সরকারই প্রবর্তন করেছে। বাহিনীর কর্মকর্তাদের নতুন সিরিমনিয়াল ড্রেস এবং কমব্যাট পোশাক প্রদান করা হয়েছে।
আনসার বাহিনীর উন্নয়নে তাঁর সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আনসার ও ভিডিপি’র স্থাপনাসমূহের ভৌত সুবিধাদি সম্প্রসারণ শীর্ষক প্রকল্পের ২৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৪টি কেন্দ্রের কাজ সম্পন্ন এবং ১১৪টি ভবন ও স্থাপনা সংস্কার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আর্থিকভাবে অসচ্ছল কিন্তু সরকারি দায়িত্ব পালনে দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী বিবেচনায় দেশের প্রতিটি রেঞ্জে একজন করে ভিডিপি সদস্যের বাড়ি বানিয়ে দেওয়ার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে একই বিবেচনায় প্রতি জেলায় ভিডিপি সদস্যকে বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়া হবে।
এ সময় মুজিববর্ষে দেশের প্রত্যেক গৃহহীন-ভূমিহীনকে ঘর করে দেওয়ার তাঁর সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে সকল ঘরে বিদ্যুতের আলো জ্বালাতেও তাঁর সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বলে প্রধানমন্ত্রী জানান।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘মুজিববর্ষে দেশের সকল ভূমিহীন-গৃহহীনের জন্য ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হবে। সবাই বিদ্যুৎ পাবে। প্রতিটি গ্রামে আমরা শহরের নাগরিক সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি।’
সকলের উন্নত জীবন নিশ্চিত করাই তাঁর সরকারের মূল লক্ষ্য, উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণ করে উন্নত-সমৃদ্ধ ও আধুনিক দেশ হিসেবে বিশ্বে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠিত করবো, ইনশাআল্লাহ।
প্রধানমন্ত্রী বক্তব্যের শুরুতেই ভাষা আন্দোলনের এই মাসে মহান ভাষা আন্দোলনের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, ১৫ আগস্টের সকল শহীদ, ভাষা শহীদ আনসার কমান্ডার আব্দুল জব্বার এবং মুক্তিযুদ্ধে আনসারের ৬৭০ জন বীর শহীদ সহ মুক্তিযুদ্ধের আত্মাহুতিদানকারী ৩০ লাখ শহীদ এবং সম্ভ্রমহারা ২ লাখ মা- বোনকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।