পাইকগাছা পৌরসভার প্রধান সড়কের ধুলাবালিতে নাকাল পৌরবাসী

মোঃ আসাদুল ইসলাম, পাইকগাছা : পাইকগাছা পৌরসভার প্রধান সড়কের নির্মান অর্ধেক কাজ করে ফেলে রাখায় জন ভোগান্তি চরমে! যেন দেখার কেউ নেই! এক বছরের বেশি সময় ধরে এভাবে ফেলে রাখায় রাস্তার ধুলা-বালি ও রাস্তার খোয়া উঠে গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় চলাচলে নাকাল পৌরবাসী। প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট বড় দূর্ঘটনা। কাজ শেষ না হওয়ায় পৌর কর্তৃপক্ষ – ঠিকাদার একে অপারকে দুষছেন।

পাইকগাছা পৌরসভা সূত্র জানা গেছে, ২০১৯ সালে “গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (২য় পর্যায়) এর আওতায় পাইকগাছা পৌরসভার বাস্তবায়নাধীন পাকেজ IUIDP-2/PAI/P-8 নাম্বারে” পাইকগাছা বাসস্টান্ড জিরো পয়েন্ট থেকে পৌর বাজার হয়ে শিববাটী ব্রিজ পর্যন্ত তিনটা প্যাকেজে ভাগ করে টেন্ডার আহবান করে। রাস্তার ধুলা-বালি থেকে বাঁচতে ব্যবসায়ীরা রাস্তায় পানি ছিটিয়ে চলেছে প্রতিনিয়ত।

প্রথম অংশে( বাসস্টান্ড জিরো পয়েন্ট থেকে পুরাতন পরিবহণ স্টান্ড পর্যন্ত) কাজ পান পারভেজ এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটার বেনজির আহম্মেদ লাল। তিনি ওয়ার্কওয়ার্ডার পাওয়ার পরপরি কাজে হাত দেন এবং কিছু দিনের মধ্যে কাজ শেষ করে পৌরসভাকে বুঝিয়ে দেন।
দ্বিতীয় অংশের কান পান মেসার্স জোহা এন্টারপ্রাইজ নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। যার মালিক জি এম জাহাঙ্গীর হোসেন। (পাইকগাছা পুরাতন পরিবহণ স্টান্ড- পাইকগাছা থানা জামে মসজিদ মার্কেটের কাঁকড়া সমিতির অফিস পর্যন্ত) তিনি ওয়ার্ক ওয়ার্ডার পাওয়ার পরও কাজ করতে গড়িমসি করেন। পৌরসভার চাপে দেরিতে কাজ শুরু করলেও রাস্তার কাজ অর্ধেক করে ফেলে রাখে! রাস্তার কাজ না হওয়ায় পৌর কর্তৃপক্ষ ঠিকাদার কে বার বার কাজ শেষ করার চাপ দিলেও যেন গায়ে মাখছেন না ঠিকাদার জাহাঙ্গীর হোসেন। এ অবস্থা ফেলে রাখায় রাস্তার খোয়া উঠে বিভিন্ন স্থানে ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে ও প্রচন্ড ধুলার কারণে যাত্রী সাধারণ ও দোকানদারদের চরম ভোগান্তির পোহাতে হচ্ছে। ঘটছে ছোট বড় দূর্ঘটনা।

রাস্তার কাজে ধীরগতি ও ফেলে রাখার বিষয়ে ঠিকাদার জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ফান্ডে টাকা না থাকার কারণে রাস্তার কাজ করতে বিলম্ব হচ্ছে। অতিদ্রুত রাস্তার কাজ শেষ করা হবে।

তৃতীয় অংশের কাজ পান আরেক ঠিকাদ্বারী প্রতিষ্ঠান মোশারফ আলম খান বাচ্চু। তিনি (শিববাটি ব্রিজ থেকে বাতিখালীর মনিন্দ্র রায়ের বাড়ি পর্যন্ত) কাজের ওয়ার্ক অর্ডার পাওয়ার পর কাজ শুরু করলেও প্রায় দু’বছরেও কাজ শেষ করতে পারেননি। রাস্তার খোয়া উঠে যাওয়ায় প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট বড় দূর্ঘটনা। প্রচন্ড ধুলা বালির কারণে রাস্তায় চলাচল করতে চরম বিপাকে পড়ছে জন সাধারণ। রাস্তার কাজের ধীর গতির বিষয়ে ঠিকাদার মোশারফ আলম খান বাচ্চুর ব্যবহাহৃত মুঠো ফোনে বার বার কল দিলেও তিনি ফোন ধরেননি।
পাইকগাছা পৌর মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর বলেন, জনভোগান্তি কমাতে রাস্তার কাজ শেষ করার জন্য বার বার সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের চাপ দেয়া হচ্ছে এমনকি তাদেরকে চিঠি দিয়ে কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে। অতিদ্রুত কাজ শেষ করবেন বলে পৌরসবাকে জানিয়েছেন দু’ঠিকাদার।

তালায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রিবাহী বাস খাদে : আহত ২০

তালা প্রতিনিধি : পাইকগাছা-খুলনা প্রধান সড়কের সাতক্ষীরা তালার ঘোষনগর এলাকায় যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে অন্তত ২০ যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছে। বুধবার (১৭ই ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে ১০ জনকে প্রথমে তালা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরমধ্যে ৪ জনকে গুরুতর অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, পাইকগাছা থেকে যাত্রবাহী বাস বরিশাল জ- ১১০০০৬ খুলনা যাওয়ার পথিমধ্যে বুধবার দুপুর তালার ঘোষনগর এলাকায় পৌছালে অপর একটি বাসকে অতিক্রম করার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের শিশু গাছসহ খাদে পড়ে যায়। এসময় কন্ড্রাকটরসহ যাত্রীদের অন্তত ২০ জন আহত হয়। যাদের ১০ জনকে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে তালা হাসপাতালে ভর্তি করলে গুরুতর অবস্থায় খুলনার কয়রা উপজেলার তরিকুল ইসলাম (৩৫), আমজেদ শেখ (৫০), তার স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (৪২) ও একই উপজেলার রেহানা খাতুনকে (২৮) খুলনা মেডিকেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাদের সকলের অবস্থা আশংকাজনক। এসময় বাসের চালক কপোতাক্ষ নদী সাঁতরে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তালা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মেহেদী রাসেল দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পাইকগাছায় ইয়াবাসহ মামুন আটক

মোঃ আসাদুল ইসলাম, পাইকগাছা : পাইকগাছা থানা পুলিশ গোপন সংবাদে অভিযান চালিয়ে ১০ পিচ ইয়াবা সহ এক মাদক বিক্রেতাকে আটক করেছে। সে উপজেলার খড়িয়া খালধার পাড়ের নুরুজ্জামান সরদারের ছেলে। থানায় মাদক আইনে মামলা হয়েছে।

মামলা সুত্র জানা যায়, উপজেলার খড়িয়া খালধার গ্ৰামের আব্দুল্লা আল মামুন দির্ঘদিন ধরে মাদক দ্রব্য বিকিকিনি করে আসছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে সাতটার দিকে কাটাখালী শিববাটি রাস্থার উপর মাদক কেনাবেচা করছিল। এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালালে দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে এ সময় পুলিশ তাড়িয়ে আব্দুল্লা আল মামুনকে আটক করে। আটক আব্দুল্লার স্বীকার উক্তি মতে তার কাছ থেকে ১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার হয়। এ সময় খড়িয়ার আজিজুলের ছেলে ফয়সাল ও সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনিয় উপজেলার গোয়ালডাঙ্গা গ্রামের রজব আলীর ছেলে শাহিন পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় পাইকগাছা থানায় অবৈধ মাদক বিক্রয়ের অভিযোগ ও নিজ দখলে রাখার অপরাধে ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইন ৩৬( ১) এর ১০ (ক)/৪১ ধারায় থানায় মামলা হয়েছে। ওসি এজাজ শফী বলেন মাদকের ব্যাপারে কাউকে ছাড় দেয়া হবেনা এবং তাদের সহযোগীদের খুজে বেরকরা হবে।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আরও ১৬ জনের মৃত্যু

ইউনিক ডেস্ক : কোভিড-১৯ মহামারিতে দেশে প্রাণহানি কিছুটা কমতে শুরু করার পর আবারও বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৪৪৩ জন।

করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর সবশেষ পরিস্থিতি নিয়ে বুধবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সেখানে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত শনাক্ত ৪৪৩ জনকে নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৫ লাখ ৪১ হাজার ৮৭৭ জনে দাঁড়িয়েছে।

আর গত এক দিনে মারা যাওয়া ১৬ জনকে নিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে মোট মৃতের সংখ্যা ৮ হাজার ৩১৪ জনে দাঁড়িয়েছে।

এছাড়া ৬৩৩ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন গত ২৪ ঘণ্টায়। এ নিয়ে সুস্থ রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে ৪ লাখ ৮৯ হাজার ২৫৪ জন হয়েছে।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল গতবছর ৮ মার্চ। প্রথম মৃত্যু হয় ১৮ মার্চ।

গত কয়দিনে দেশে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা কমে আসার খবর দিচ্ছিল স্বাস্থ্য অধিদফতর। মঙ্গলবার ১১ জনের মৃত্যুর খবর দেয়। এর আগে গত কয়েকদিনে মৃত্যু সিঙ্গেল ডিজিটে ছিল। আজ আবার সেই সংখ্যা বেড়ে গেল।

শহিদ মিনারে পাঁচ জনের বেশি গমনে নিষেধাজ্ঞা

ইউনিক প্রতিনিধি : মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২১ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে জাতীয় কর্মসূচির আলোকে খুলনায় বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

বর্তমানে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি বিবেচনায় পুষ্পমাল্য অপর্ণের ক্ষেত্রে প্রতিটি সংগঠনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ জন প্রতিনিধি এবং ব্যক্তি পর্যায়ে একসাথে দুই জনের বেশি শহিদ মিনারে গমন করতে পারবেন না। শহিদ মিনারের প্রবেশমুখে হাত ধোয়ার জন্য বেসিন ও লিকুইড সাবান রাখা হবে। মাস্ক পরিধান ব্যতিরেকে কেউ শহিদ মিনার চত্ত্বরে প্রবেশ করতে পারবেন না।

২১ ফেব্রুয়ারি প্রথম প্রহরে (০০.০১টায়) শহিদ হাদিস পার্কে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, অন্যান্য দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানসহ রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে পুষ্পমাল্য অর্পণ এবং ভাষা শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনার মাধ্যমে শহিদ দিবসের কর্মসূচির শুভ সূচনা হবে। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, সকল বেসরকারি ভবনে সঠিক নিয়মে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা এবং সূর্যাস্তের সাথে সাথে পতাকা নামানো হবে। জাতীয় পতাকা নির্ধারিত মাপ ও রং এবং মানসম্পন্ন হতে হবে। পতাকা অর্ধনমিত রাখার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ফ্লাগ রুলস অনুসরণ করতে হবে।

ঐদিন সকাল ১০টায় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে নগরভবন চত্ত্বরে সিটি কর্পোরেশনের আয়োজনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে বাদ জোহর বা সুবিধামত সময়ে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে বাদ জোহর খুলনা কালেক্টরেট জামে মসজিদসহ সকল মসজিদে ভাষা শহিদদের রুহের মাগফিরাত এবং দেশের শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হবে। সুবিধামত সময়ে মন্দির, গীর্জা ও অন্যান্য উপসনালয়ে অনুরূপ বিশেষ প্রার্থনা করা হবে।

২১ ফেব্রুয়ারি বিকেল চারটায় অমর শহিদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে বয়রাস্থ বিভাগীয় গণ-গ্রন্থাগার প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধু ও ভাষা আন্দোলন বিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

শহিদ হাদিস পার্ক এবং খুলনা জাতিসংঘ শিশু পার্কে ঐদিন সন্ধ্যায় খুলনা জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ চলচ্চিত্র প্রদর্শন ও একুশের পোস্টার প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে স্থানীয় পত্রিকাগুলো বিশেষ নিবন্ধ ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে বাংলা বর্ণমালা সম্বলিত ফেস্টুন দিয়ে সাজানো হবে।

জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে সুবিধামত সময়ে (২০ ফেব্রুয়ারির পূর্বে) প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে নান্দনিক হাতের লেখা ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। ২১ ফেব্রুয়ারি আলোচনা সভা শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হবে। এছাড়া স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে স্কুল-কলেজে স্ব-রচিত ছড়া, কবিতা, রচনা প্রতিযোগিতা এবং কলেজ-বিশ^বিদ্যালয়ে একুশে ফেব্রুয়ারি সংক্রান্ত চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। ২০ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় জেলা শিশু একাডেমি স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে আবৃত্তি ও চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর খুলনা বিভাগীয় জাদুঘরে শিশু-কিশোর, শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধী শিশুদের বিনা টিকিটে পরিদর্শনের ব্যবস্থা করবে।

প্রধানমন্ত্রীকে হত্যাচেষ্টা মামলায় ১০ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে হাইকোর্ট

ঢাকা : গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১০ জঙ্গির ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিতকরণ) এবং আসামিদের আপিলের ওপর রায় ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট।

হাইকোর্টের রায়ে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১০ আসামির সাজা বহাল রাখা হয়েছে।

বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. বদরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

১০ আসামির মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি বিচারিক আদালতে আসামি মেহেদি হাসান ওরফে আবদুল ওয়াদুদকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়াও আসামি আনিসুল ওরফে আনিস, মো. মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান এবং সরোয়ার হোসেন মিয়াকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অনাদায়ে আরও এক বছরের দণ্ড দেন বিচারিক আদালত।

তবে এসব আসামিদের ক্ষেত্রে আসামি মেহেদি হাসান ওরফে আবদুল ওয়াদুদকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বহাল, আসামি আনিসুল ইসলাম ওরফে আনিস ও মো. মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমানের ১৪ বছর সাজা খাটা হলে মুক্তি প্রদান এবং আসামি সরোয়ার হোসেন মিয়াকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এসময় আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ। অন্যদিকে আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. নাসির উদ্দিন ও মোহাম্মদ আহসান।

এর আগে, ২০১৭ সালের ২০ আগস্ট গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার মামলায় ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক মমতাজ বেগম ১০ জঙ্গির সর্বোচ্চ শাস্তি দেন। আদালত গুলি করে প্রত্যেকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দেন। এছাড়া চার আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন।

মামলায় নিম্ন আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, ওয়াশিম আখতার ওরফে তারেক হোসেন, মো. রাশেদ ড্রাইভার ওরফে আবুল কালাম, মো. ইউসুফ ওরফে আবু মুসা হারুন, শেখ ফরিদ ওরফে মাওলানা শওকত ওসমান, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, মাওলানা আবু বক্কর, হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আবদুল হাই ও মাওলানা আবদুর রউফ ওরফে আবু ওমর।

এছাড়া আসামি মেহেদি হাসান ওরফে আবদুল ওয়াদুদকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। আসামি আনিসুল ওরফে আনিস, মো. মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান এবং সরোয়ার হোসেন মিয়াকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের দণ্ড দেওয়া হয়।

পরে এ মামলার রায়সহ সব নথি ২০১৭ সালের ২৪ আগস্ট হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এরপর প্রধান বিচারপতির কাছে নথি উপস্থাপন করা হলে তিনি জরুরি ভিত্তিতে এ মামলার পেপারবুক তৈরির নির্দেশ দেন। প্রধান বিচারপতির নির্দেশে এরইমধ্যে পেপারবুক তৈরি হলে হাইকোর্টে আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি শুরু হয়। কিন্তু হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ কয়েকবার পুনর্গঠন হওয়ায় মামলাটির শুনানি পিছিয়ে যায়।

প্রসঙ্গত, ২০০০ সালের ২০ জুলাই কোটালীপাড়ায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশস্থলের পাশে ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পুঁতে রাখা হয়। শেখ লুৎফর রহমান মহাবিদ্যালয়ের উত্তর পাশের একটি চায়ের দোকানের পেছনে এ বোমা বিস্ফোরণের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এ ঘটনায় তৎকালীন কোটালীপাড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নূর হোসেন একটি মামলা দায়ের করেন।

পরে ২০০১ সালের ৮ এপ্রিল ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। পরবর্তীকালে ২০০৯ সালের ২৯ জুন আরও ৯ জনকে আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। এরপর ২০১০ সালে মামলাটি নিষ্পত্তির জন্য ঢাকা ২ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।

আল-জাজিরার প্রতিবেদন সকল অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে সরাতে হাইকোর্টের নির্দেশ

ঢাকা : বাংলাদেশে কাতারভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল আল-জাজিরায় ‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টার্স মেন’ শিরোনামে প্রচারিত ডকুমেন্টারি সকল অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে অবিলম্বে সড়াতে (রিমুভ) হাইকোর্ট আজ নির্দেশ দিয়েছে।
বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লা সমন্বয়ে গঠিত একটি ভার্চুয়াল হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ আজ এ আদেশ দেন।
বিটিআরসির আইনজীবী খন্দকার রেজা-ই রাকিব বাসসকে বলেন, এ সংক্রান্ত আনা রিট নিস্পত্তি করে আদালত আল-জাজিরায় ‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টার্স মেন’ শিরোনামে প্রচারিত ডকুমেন্টারি সকল অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে অবিলম্বে সড়াতে (রিমুভ) বিটিআরসিকে নির্দেশ দিয়েছে। অবিলম্বে এ আদেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। প্রয়োজন হলে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অনলাইন প্ল্যাটফর্ম কতৃপক্ষের সাথে বিটিআরসিকে যোগাযোগ করে পদক্ষেপ নিতে হবে।
এর আগে গত সোমবার শুনানিতে ছয় এমিকাস কিউরির মতামত নিয়েছে আদালত। এই রিটে গত ১০ ফেব্রুয়ারি ৬ জন আইনজীবীকে এমিকাস কিউরি নিয়োগ দেয় হাইকোর্ট।
বাংলাদেশে কাতারভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল আল-জাজিরার সম্প্রচার বন্ধে আনা রিটের শুনানিতে মতামত দিয়েছেন ছয় এমিকাস কিউরি সাবেক এটর্নি জেনারেল সিনিয়র আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী, ব্যারিষ্টার কামাল-উল আলম, সাবেক এটর্নি জেনারেল ফিদা এম কামাল, আব্দুল মতিন খসরু, আইনজীবী প্রবীর নিয়োগী ও ড. শাহদীন মালিক।
এমিকাস কিউরিগণ এই রিট দায়েরের যৌক্তিকতা, রিটকারীর সংক্ষুব্ধতা, বিটিআরসির এখতিয়ার, এ সংক্রান্ত বিভিন্ন আইন, রেফারেন্স, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিষয়ে নিজ নিজ মতামত তুলে ধরেন। এমিকাস কিউরিগণ তাদের লিখিত বক্তব্যও আদালতে পেশ করেন।
আজ শুনানি করেন এটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। রাষ্ট্রপক্ষে আরও ছিলেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী এবং বিটিআরসির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খন্দকার রেজা-ই রাকিব।
‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টার্স মেন’ শিরোনামে ডকুমেন্টারি প্রচারের প্রেক্ষাপটে কাতারভিত্তিক টিভি চ্যানেল আল-জাজিরার সম্প্রচার বন্ধ ও এ সংক্রান্ত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে অপসারণের নির্দেশনা চেয়ে রিটটি করা হয়েছে। গত ৮ ফেব্রুয়ারি রিটটি দায়ের করেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী মো. এনামুল কবির ইমন।
রিটকারী আইনজীবী মো. এনামুল কবির ইমন বলেন, রিটে বাংলাদেশে আল-জাজিরার সম্প্রচার বন্ধের নির্দেশনা চাওয়া হয়। পাশাপাশি ‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টারস মেন’ নামে সম্প্রচারিত প্রতিবেদনটি ইউটিউব, ফেসবুক ও টুইটার থেকে অপসারণের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। রিটে ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব, তথ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, পুলিশের আইজিসহ সংশ্লিষ্টদেরকে বিবাদী (রেসপনডেন্ট) করা হয়।
রিটকারি বলেন, আদালত আজ ওই ডকুমেন্টারিটি সকল অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে অবিলম্বে সড়াতে আদেশ দিয়েছে। তবে আল-জাজিরা বাংলাদেশে সম্প্রচার বন্ধে কোন আদেশ দেয়া হয়নি।
আল-জাজিরায় ১ ফেব্রুয়ারি রাতে ‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টারস মেন’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রচার করা হয়। ইতোমধ্যে প্রতিবেদনটিকে মিথ্যা ও মানহানিকর আখ্যা দিয়ে বিবৃতি দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এদিকে সেনা সদরের তরফ থেকে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পাঠানো এক বিবৃতিতে ওই প্রতিবেদনকে বর্ণনা করা হয় ‘সাজানো এবং দূরভিসন্ধিমূলক’ ও ‘মিথ্যা প্রতিবেদন’ হিসেবে।