সাইবার হামলার আশঙ্কায় কয়েকটি ব্যাংকের এটিএম লেনদেন বন্ধ

ঢাকা : সাইবার হামলার আশঙ্কায় দেশের কয়েকটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অটোমেটেড টেলার মেশিন (এটিএম) লেনদেন বন্ধ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়ে ডেবিট কার্ডে লেনদেন বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দিনগত রাতে ব্যাংক ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাইবার হামলার আশঙ্কায় সর্তক থাকার পরামর্শ দিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ কম্পিউটার ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিম (সিআইআরটি)।

কয়েকটি ব্যাংক থেকে গ্রাহকের মোবাইল ফোনে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়ে জানানো হয়েছে, কারিগরি উন্নয়নের জন্য ডেবিট কার্ড দিয়ে লেনদেন সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। অসুবিধার জন্য দুঃখিত।

সিআইআরটির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ পুলিশ, করোনা বিডি, ইসলামী ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, বিকাশসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ১৫ ফেব্রুয়ারি সাইবার হামলার মুখে পড়ে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

‘সাইবার থ্রেট অ্যালার্ট: নিউ ভ্যারিয়েন্টস অব কাসাব্লাংকা লোডার্যাট ইনফ্রাস্ট্রাকচার টার্গেটিং বাংলাদেশ’ শীর্ষক ওই বিজ্ঞপ্তিতে এর পেছনে ‘কাসাব্লাংকা’ নামের একটি হ্যাকার গ্রুপকে চিহ্নিত করেছে সিআইআরটির সাইবার থ্রেট গবেষণা দল।

ছাগলে ইরি ধান খাওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত ১

তেরখাদা প্রতিনিধিঃ তেরখাদা উপজেলার দশভাইয়া গ্রামে মনির তরফদার বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় ঘেরে প্রতিদিনের ন্যায় তার কাজের লোক শাহাজান (৫০) ইরি ধানের ক্ষেতে পানি সেচ দিতে যান। তখন তিনি উক্ত ধান ক্ষেতে ছাগলে ধান খাচ্ছে। তখন তিনি উক্ত ছাগল ধরতে গেলে ঘেরের পাশে উক্ত ছাগলের মালিক সেকেন্দার ও তার দুই পুত্রের সাথে তার কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে উক্ত সেকেন্দার ও তার দুই পুত্র শাহাজান কে অতর্কিতভাবে হামলা করে করে গুরুতর আহত করেন। আশপাশের লোকজন এসে শাহাজানকে তাদের কবল থেকে উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তার অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাকে সেখান থেকে শুক্রবার সকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করবেন। এ বিষয়ে সেকেন্দার এর নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, আমার বাড়ির পাশে জমি যখন তখন আমার বাড়ির গরু ছাগল ক্ষতি করতেই পারে। কিন্তু উক্ত শাহাজান ঘেরের মধ্যে বিষ প্রয়োগ করায় আমার দুটি হাস ও ছাগল মারা যায়। একারণে আমার তার সঙ্গে হাতাহাটি হয়।

খুলনায় আজ ভ্যাকসিন নিয়েছেন ৯ হাজার ৭শ ৩২জন

ইউনিক ডেস্ক : খুলনায় বৃহস্পতিবার মোট নয় হাজার সাতশত ৩২জন করোনা ভ্যাকসিন নিয়েছেন। এর মধ্যে খুলনা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় তিন হাজার পাঁচশত ৪১ জন এবং নয়টি উপজেলায় মোট ছয় হাজার একশত ৯১ জন। উপজেলাগুলোর মধ্যে বটিয়াঘাটায় এক হাজার, দাকোপ এক হাজার দুইশত ৩৩জন, দিঘলিয়া তিনশত ৫৯ জন, ডুমুরিয়া আটশত ৫৯ জন, ফুলতলা তিনশত ৯৩ জন, কয়রা তিনশত ৫০ জন, পাইকগাছা নয়শত ১০ জন, রূপসা সাতশত ১৭ জন এবং তেরখাদায় তিনশত ৭০ জন টিকা গ্রহণ করেছেন। টিকা গ্রহীতাদের মধ্যে পুরুষ পাঁচ হাজার আটশত ২১ জন এবং মহিলা তিন হাজার নয়শত ১১ জন।

কপিলমুনিতে চিংড়ি ঘের দখল চেষ্টার অভিযোগ

পাইকগাছা প্রতিনিধি : পাইকগাছার কপিলমুনিতে বেকু ম্যাশিন দিয়ে চিংড়ি ঘেরের বাঁধ কর্তন,মারপিট, বাসা ভাংচুর সহ ক্ষয়-ক্ষতি করে ঘের দখল চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ঘের মালিক মিন্টু গাজী বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ করেছেন। পুর্ব শত্রুতার জের ধরে ১৭ ফ্রেরুয়ারী রাতে এ ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার রেজাকপুর মৌজাস্থ কপিলমুনি কলেজ সংলগ্ন স্থানে।
দক্ষিন সলুয়া গ্রামের ওমর আলীর ছেলে মিন্টু গাজী জানান, রেজাকপুর মৌজায় ১৯৭, ২০২ বিআর এস খতিয়ানের ৯৩২,৯৩৩ সহ একাধিক দাগে ৪,৯৬ একর জমি ইজারাচুক্তি মুলে হারির টাকা দিয়ে ৫ বছর ধরে ঘের করে আসছি। জমি মালিকের সাথে পুর্ব শত্রুতার জের ধরে নগর শ্রীরাম পুরের সেলিম হাজরা ও আঃ হান্নান সরদার ১৪ ফ্রেরুয়ারী রাতে আমার বাড়ীতে গিয়ে হুমকি স্বরুপ আমার কাছে টাকা দাবী করে ঘেরে যেতে নিশেধ করেন। মিন্টু অভিযোগ করেন দাবীকৃত টাকা দিতে না পারায় বুধবার রাত ৯ টার দিকে দুর্বত্তরা বহিরাগত লোকজন নিয়ে বেকু ম্যাশিন দিয়ে আমার ঘেরের বাঁধ কেটে মাছের ক্ষতি সাধন,বাসা ও নেটপাটা সহ সহায় সম্পদ ভাংচুর করে নদীতে ফেলে দিয়ে ব্যাপক ক্ষতি করেন।
এ ঘটনায় ঘের মালিক মিন্টু গাজী বাদী হয়ে সেলিম হাজরা ও আঃ হান্নান সরদারের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার থানায় এজাহার দাখিল করেছেন।
ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মোঃ আশরাফুল আলম জানান,বাদীর অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের জন্য ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

খুলনায় মাদক মামলায় যুবকের পাঁচ বছরের কারাদন্ড

ইউনিক প্রতিনিধি : মাদক মামলায় সুজন বিশ্বাস (২৫) নামের এক যুবককে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ হাজার টাকা জ‌রিমানা ও অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। তি‌নি খুলনা ফুলতলা উপজেলার দ‌ক্ষিণ ডিহির সাইদুল বিশ্বাসের ‌ছেলে।

বৃহস্প‌তিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) খুলনা সি‌নিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ম‌শিউর রহমান চৌধুরী এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণাকালে আসামী সুজন আদালতে উপ‌স্থিত ছিলেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ১৯ অক্টোবর সন্ধা ৭ টা ২৫ মি‌নিটে র‌্যাব ফুলতলা দ‌ক্ষিন ডিহী আইয়ান জুট মিলের সামনে অ‌ভিযান অ‌ভিযান চ‌লিয়ে সুজন বিশ্বাসের কাছ থেকে ৯৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে। ওই দিন সি‌নিয়র ওয়ারেন্ট অ‌ফিসার মে‌াঃ গোলবর রহমান বা‌দি হয়ে ফুলতালা থানায় মাদক আইনে মামলা দায়ের করেন, যার নং ১৩। একই বছরের ২৩ নভেম্বর ফুলতালা থানার এসআই মোঃ মাহমুদ হাসান সুজন বিশ্বাসকে আসা‌মি ক‌রে আদালতে চার্জশীট দা‌খিল করেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলা‌টি প‌রিচালনা করেন এড. এনামুল হক।

প্রবাসী নারীকে বিয়ে করে ফাঁদে ফেলে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

পাইকগাছা প্রতিনিধি : পাইকগাছায় প্রবাসী নারীকে ফাঁদে ফেলে বিয়ে করে লক্ষ-লক্ষ টাকা হাতিয়ে ঐ নারীকে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আদালতে মামলা হলে প্রবাসী ঐ নারীকে হুমকিকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার লস্কর গ্রামের মৃতঃ হেকমত সানার মেয়ে প্রবাসী নারী মর্জিনা বেগম জানান, পুর্ব পরিচয়ের সুত্রধরে ভিলেজ পাইকগাছার মৃতঃ নিয়ামত গাজীর ছেলে আক্তার সানার সাথে আমার বিয়ে হয়। আক্তার পেশায় একজন রাজমিস্ত্রী। বিয়ের পুর্বে ২০০৫ সাল থেকে পর্যায় ক্রমে মর্জিনা বেগম উমান,দুবাই ও সারজায় ১৩ বছর অবস্থান করেন। মর্জিনার অভিযোগ বিভিন্ন প্রয়োজনে স্বামী আক্তার বিদেশ থেকে আমার উপার্জিত অর্থ ব্যাংক থেকে উত্তোলন করেছেন। যার পরিমান ৭ লক্ষ-৪৫ হাজার টাকা। সে আরোও জানায় আমার মেয়ে জর্ডানে থাকে। এখান থেকে মেয়েও টাকা পাঠাতো আক্তারের নামে। ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ায় এক সময় বিদেশ থেকে দেশে এসে বাপের বাড়ীতে সংসার করতাম। এখানে থাকাবস্থায় আমার টাকায় আক্তার গ্রামের বাড়ীতে জমি ক্রয় করে ঘর বাঁধেন। সংসারে বিভিন্ন টুকুটাকি বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য দেখা দিলে সুচতুর স্বামী বিয়ের কাগজ পত্র সরিয়ে ফেলে সংসার করবেনা বলে আমাকে তাড়িয়ে দেন। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে মর্জিনা বেগম বাদী হয়ে আক্তার আলীর বিরুদ্ধে পাইকগাছার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে যৌতুক আইন সিআর-২৪৮/২১ ও অর্থ আদায়ের জন্য সিআর-৪/২১ পর-পর দু’টি মামলা করেছেন। জানাগেছে দু’টি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে।

১ কোটি রুপিতে রাজস্থান রয়্যালসে মোস্তাফিজ

ক্রিড়া ডেস্ক : আইপিএল-২০২১ এর নিলামে মোস্তাফিজুর রহমানের ভিত্তি মূল্য ছিল ১ কোটি রুপি। বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসারকে তার ভিত্তিমূল্যেই কিনে নিলো রাজস্থান রয়্যালস।এর আগে বাংলাদেশের অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে ৩ কোটি ২০ লাখ রুপিতে কিনে নেয় কলকাতা নাইট রাইডার্স।
চেন্নাইয়ে বৃহস্পতিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ সময় দুপুর সাড়ে ৩টায় শুরু হয় নিলাম। নিলামে মোস্তাফিজকে নিয়ে একমাত্র রাজস্থান রয়্যালসই আগ্রহ দেখায়। শেষ পর্যন্ত ফিজকে কিনে নেয় তারাই।

২০১৬ সালে আইপিএল ক্যারিয়ার শুরু করা মোস্তাফিজের এটি তৃতীয় দল। তার অভিষেক হয় সানরাইজার্স হায়দরাবাদের জার্সিতে। ওই আসরেই ১৬ ম্যাচে ১৭ উইকেট তুলে নিয়ে দলের শিরোপা জয়েও রাখেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। পরের আসরে অবশ্য মাত্র ১ ম্যাচ খেলেই ফিরতে হয় তাকে। সর্বশেষ ২০১৮ সালের আসরে ৭ ম্যাচ খেলে ৭ উইকেট তুলে নেন তিনি।

আইপিএলের চলতি নিলামে সাকিব আল হাসানকে ৩ কোটি ২০ লাখ রুপিতে কিনেছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। তার ভিত্তিমূল্য ছিল ২ কোটি রুপি। এখনও নিলামে উঠার অপেক্ষায় মুশফিকুর রহিম, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ৭৫ লাখ রুপি ভিত্তি মূল্যে এবং ৫০ লাখের ক্যাটাগরিতে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। আর শেষ মুহূর্তে যুক্ত হওয়া মুশফিকের ভিত্তিমূল্য ১ কোটি রুপি।

নিলামে দক্ষিণ আফ্রিকার বোলিং অলরাউন্ডার ক্রিস মরিসকে নিয়ে রীতিমত কাড়াকাড়ি পড়ে গিয়েছিল। অবশেষে তাকে কিনতে রেকর্ড ভাঙতে হয়েছে রাজস্থান রয়্যালসকে।

১৬ কোটি ২৫ লাখ রুপিতে বিক্রি হওয়া মরিস এখন আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে দামি খেলোয়াড়ে পরিণত হয়েছেন। তার ভিত্তি মূল্য ছিল মাত্র ৭৫ লাখ রুপি। মরিসের আগে আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে দামি খেলোয়াড়ের তকমা ছিল সাবেক ভারতীয় অলরাউন্ডার যুবরাজ সিংয়ের দখলে। ২০১৫ সালের আসরে ২ কোটি ভিত্তি মূল্যের এই যুবরাজকে কিনতে ১৬ কোটি রুপি খরচ করেছিল দিল্লি।

এদিকে এবারের নিলামে অজি ব্যাটিং অলরাউন্ডার গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে নিয়েও কাড়াকাড়ি পড়ে যায়। তাকে কিনতে ১৪ কোটি ২৫ লাখ রুপি খরচ করেছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর। ১৪ কোটি রুপিতে রিচার্ডসনকে কিনেছে পাঞ্জাব কিংস।

একই নিলামে ৭ কোটি রুপিতে বিক্রি হয়েছেন ইংলিশ অলরাউন্ডার মঈন আলী। তাকে কিনেছে চেন্নাই সুপার কিংস। সবার আগে বিক্রি হয়েছেন স্টিভ স্মিথ। তাকে ২ কোটি ২০ লাখ রুপিতে কিনেছে দিল্লি ক্যাপিটালস। অজি ফাস্ট বোলার নাথান কোল্টার-নাইলকে ৫ কোটি রুপিতে কিনেছে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স।

ছেলের অত্যাচার থেকে রেহাই পেতে বৃদ্ধা মায়ের থানায় অভিযোগ

ফুলবাড়িগেট : নগরীর খানজাহান আলী থানাধীন শিরোমণি পুর্বপাড়ায় পুত্রের অত্যাচারের হাত থেকে রেহাই পেতে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন বৃদ্ধা মা মনোয়ারা বেগম (৭৪)। খানজাহান আলী থানায় মনোয়ারা বেগম ১৬ ফেব্রুয়ারি একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, ইতিপুর্বে বৃদ্ধার স্বামী বন্ধকৃত মহসেন জুট মিলের শ্রমিক জালাল শেখ (৯০) নিজের পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রি করে তাদের সন্তান উজ্জল এর নিকট ৪ লক্ষ ৩৭ হাজার টাকা জমা রাখে এবং টাকা রাখার সময় ষ্টাম্পে লিখিত হয় যে উজ্জল তাদের পিতা-মাতা যতদিন জীবিত থাকবে ততদিন তাদের ভরণ পোষণ এবং চিকিৎসার খরচ বহন করবে। কিন্তু বিগত ৬ মাস ধরে তাদের সন্তান উজ্জল ভরণ পোষণ দেওয়াতো দুরে থাক, পিতা- মাতার কোন খোজ খবরই নেয়না। এদিকে টাকার অভাবে চিকিৎসা করতে পারছেনা বৃদ্ধ পিতা-মাতা। চিকিৎসার জন্য পুত্র উজ্জলের নিকট টাকা চাইলেই বৃদ্ধা মা’ মনোয়ারা বেগমকে শারীরীক অত্যাচার করে। এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শেখ মনিরুল ইসলামের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, গ্রাম্য আদালতের মাধ্যমে উজ্জলকে ইউনিয়ন পরিষদে তলব করে টাকা ফেরত দেয়ার জন্য রায় প্রদান করা হয়। কিন্তু বৃদ্ধা মায়ের পাওনা টাকা ফেরত না দিয়ে তালবাহানা শুরু করলে ইউনিয়ন পরিষদ মনোয়ারা বেগমকে উচ্চ আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

ডুমুরিয়ায় চেয়ারম্যান বুলু’র বিরুদ্ধে ছয় মেম্বারের অভিযোগ

ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি : ডুমুরিয়া উপজেলার সদর ইউপি চেয়ারম্যান গাজী হুমায়ুন কবির বুলু’র বিরুদ্ধে পুরাতন কাজ দেখিয়ে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন তারই পরিষদের ছয় মেম্বার এবং ঘটনার তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট দিয়েছেন লিখিত অভিযোগ।
অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, ২০২০-’২১ অর্থ বছরের ১% ও এলজিএসপি হতে বরাদ্দ হয় ২০ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। ওই টাকায় কাজের জন্য গত ২০২০ সালের ২০ ডিসেম্বর পরিষদ ভবনে চেয়ারম্যান গাজী হুমায়ুন কবির বুলুর সভাপতিত্বে এক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সিন্ধান্ত মতে, পরিষদের মেম্বাররা এলাকায় উন্নয়নের জন্য কাজের প্রকল্প তালিকা তুলে দেন ইউপি সচিবের হাতে। কিন্তু চেয়ারম্যান গাজী হুমায়ুন কবির বুলু প্রকল্পের সকল কাগজপত্র আমলে না নিয়ে নিজের পছন্দমত প্রকল্প দেন এবং উপজেলা প্রকৌশলী অফিসের উপ-সহকারি মিজান ও মঞ্জুর মাধ্যমে কাজের নকশা করেন। আর ওই নকশা দেখিয়ে তিনি চেকের মাধ্যমে সমুদয় আত্মসাতের চেষ্টা করেন। বিষয়টি নিয়ে ইউপি সদস্য আব্দুল হামিদ সরদার, আব্দুল গফফার গাজী, রিয়াজুল ইসলাম, নিরোধ বন্ধু বিশ্বাস, সরদার জাহাঙ্গীর করিব ও শেখ ইকবাল হোসেন এই ছয় মেম্বার উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এ বিষয়ে অভিযোগ কারীরা সাংবাদিকদের বলেন, চেয়ারম্যান সাহেব উক্ত মিটিং-র সিন্ধান্ত বাদ দিয়ে নিজের মত করে সচিবের নিকট থেকে সকল রেজুলেশন খাতা ও আমাদের দেওয়া কাজের তালিকা পরিবর্তন করে প্রকল্প নিয়েছেন। এছাড়া তিনি বিগত অর্থ বছরে সাজিয়াড়ার দেলভিটা পুজা মন্দিরের ৪০ হাজার, সাজিয়াড়ার সালাম মাঝির বাড়ির সামনে মসজিদের ৪০ হাজার, মির্জাপুর মঠ মন্দিরের ৪০ হাজার ও আম্ফান ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে টিন বিতরণের নামে ৯০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন।
তবে বিষয়টি নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান গাজী হুমায়ুন কবির বুলু বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। বরং ওই মেম্বাররা কাজ না করে টাকা ভাগাভাগির প্রস্তাব দিয়েছিল। আমি তাদের সেই অন্যায় প্রস্তাব প্রত্যাখান করায় এখন তারা মিথ্যা ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।
বিষয়টি নিয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আবদুল ওয়াদুদ বলেন, এখানে সরকারি টাকা আত্মসাতের কোন সুযোগ নেই। তবে বিষয়টি নিয়ে আমি তাদেরকে নিয়ে আমার কার্যালয়ে বসেছিলাম এবং বিষয়টি মিমাংশা হতে চলেছে।

মাতৃভাষা দিবসে এবার খুলছে না সীমান্ত গেট!

বেনাপোল : করোনার কারণে এবার বেনাপোলে খুলছে না সীমান্ত গেট। ২০০২ সাল থেকে বেনাপোল চেকপোস্টের জিরো পয়েন্টে বনগাঁর কিছু সংস্কৃতিকর্মী ‘একুশে উদযাপন কমিটি’ গড়ে অনুষ্ঠান করা শুরু করেন। তখন থেকেই বছরের একদিন ২১ ফেব্রুয়ারি গেট খুলে দেওয়ার প্রথা চালু হয়। পরে সিপিএম এমপি অমিতাভ নন্দীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নেয় ‘গঙ্গা-পদ্মা মৈত্রী সমিতি’। রাজ্যে পালাবদলের পর নিয়ন্ত্রণ যায় তৃণমূল প্রভাবিত ‘দুই বাংলা মৈত্রী সমিতি’র হাতে। যার প্রধান উদ্যোক্তা পশ্চিমবঙ্গের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক এবং যশোর-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন ও বেনাপোল পৌরমেয়র আশরাফুল আলম লিটন। প্রথমদিকে স্থানীয় এমপি-মেয়রের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠান হলেও ২০১৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তাদের দ্বন্দ্বের কারণে এমপিকে বাদ দিয়ে মেয়র একাই অনুষ্ঠান করে আসছিলেন। সর্বশেষ, ২০১৯ ও ২০২০ সালে মেয়রকে বাদ রেখে এ অনুষ্ঠান করছেন এমপি অনুসারীরা। সোমবার বেনাপোল-পেট্রাপোল নোম্যান্সল্যান্ডে আয়োজিত এক সৌহার্দ্য সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন দু’দেশ (ভারত-বাংলাদেশ)’র জনপ্রতিনিধিসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। তবে, মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে এবার যথাযোগ্য মর্যাদায় ভাষা শহিদদের প্রতি সম্মান জানানোসহ স্বল্প পরিসরে উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ভৌগলিক সীমারেখা ভুলে কেবলমাত্র ভাষার টানে সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া উপেক্ষা করেই দলে দলে যোগ দেন একুশের মিলনমেলায়। ভারত-বাংলাদেশের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন অংশ নেয় এ অনুষ্ঠানে। এ সময় পেট্রাপোল ও বেনাপোল চেকপোস্টে ঢল নামে হাজার হাজার মানুষের। কিন্তু এবারের ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা দিবসে বেনাপোলে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে এই দৃশ্য আর দেখা যাবে না। এতোদিন দু’দেশের সরকারি প্রতিনিধি ও মন্ত্রীরা প্রতিবেশী দেশে গিয়ে শহীদবেদিতে পুষ্পার্ঘ দিতেন। করোনার কারণে এবার যৌথভাবে একুশের কোনো অনুষ্ঠান নোম্যান্সল্যান্ডে হবে না। তবে, ওপারে ছোট একটা অনুষ্ঠান হবে। সেখানে স্থানীয় সাংসদসহ বাংলাদেশের ১০০ জনকে তারা আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। করোনা থেকে সতর্ক থাকতে উভয় দেশের প্রশাসনও রাজি নয় করোনার মধ্যে এ অনুষ্ঠান করতে। এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে উভয়দেশের নেতৃবৃন্দের সাথে। এ ব্যাপারে দুই বাংলার একুশ উদযাপন কমিটির বেনাপোলের আহবায়ক উপজেলা চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, এবার বেনাপোল চেকপোস্ট নোম্যান্সল্যান্ডে দু‘দেশের একুশের মিলনমেলা হচ্ছে না। করোনার কারণে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখে উভয়দেশের আয়োজকরা আলোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে, পেট্রাপোল ছোট একটি অনুষ্ঠান হবে।