পাইকগাছায় অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধার পাশে সাবেক এমপি সোহরাব আলী সানা

পাইকগাছা প্রতিনিধি : পাইকগাছার গড়ইখালী ইউপির অসুস্থ আ’লীগ নেতা গোলাম রহমান বিশ্বাস , বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী নুর আহম্মদ এবং কুমখালী গ্রামের অসুস্থ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আ’লীগ নেতা মোবারেক আলী বিশ্বাসকে দেখতে স্বশরিরে তাদের বাড়িতে গেলেন পাইকগাছা কয়রার সাবেক সংসদ সদস্য এড. সোহরাব আলী সানা। এসময় তিনি অসুস্থ
আ’লীগ নেতা গোলাম রহমান বিশ্বাস , বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী নুর আহম্মদ এবং মোবারেক আলী বিশ্বাসের চিকিৎসার খোঁজ খবর নেন। এর পর তিনি ইউনিয়ন আ’লীগের বিভিন্ন স্তরের দলীয় নেতা-কর্মিদের সাথে শান্তা বাজারে এক মতবিনিময় করেন।

শুক্রুবার সন্ধায় মতবিনিময় কালে উপস্থিত ছিলেন গড়ইখালী ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আয়ুব আলী বিশ্বাস, ইউপি চেয়ারম্যান ও আ’লীগ নেতা রুহুল আমিন বিশ্বাস, জি এম ইকরামুল ইসলাম, গোলাম রহমান, গাজী মিজান, আক্তার হোসেন গাইন, জি এম শফি, গাউসুর রহমান বিশ্বাস, মহাসিনুর রহমান নিলাদ্রী সরকার, শতাব্দী সহ যুবলীগ, ছাত্রলীগ নেতা সহ বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মিরা।

পাইকগাছায় প্রতিবন্ধী নারী ধর্ষন মামলায় আটক ১

মোঃ আসাদুল ইসলাম, পাইকগাছা : পাইকগাছায় বয়স্ক প্রতিবন্ধী নারী ধর্ষনের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় পাইকগাছার থানা পুলিশ সবুর সরদার (৬৫) নামে এক আটক করেছেন। বুধবার ভোর রাতে উপজেলার গদাইপুরে এ ঘটনাটি ঘটেছে। ধর্ষিতা নারী খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি ইউনিট-১ এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

থানায় মামলার বর্ণনা দিয়ে ধর্ষিতার ভগ্নিপতি হিতামপুরের বাসিন্দা মোকছেদ মোড়ল জানান,স্বামী মৃত্যুর পর মানসিক প্রতিবন্ধী শ্যালিকা ( ভিকটিম) গদাইপুরে বাপের বাড়ীতে বসবাস করেন। প্রতিবন্ধী এ বয়স্ক নারী ১৭ ফ্রেরুয়ারী পার্শ্ববর্তী তোকিয়া গ্রাম থেকে ওয়াজ মাহফিল শুনে রাত ১০ টার পর বাড়ীতে এসে বারান্দায় ঘুমিয়ে পড়ে। ভোর বেলায় ঘুমন্ত অবস্থায় শ্যামনগর গ্রামের সবুর সরদার নামে এক ভ্যান চালক জোরপুর্বক ভাবে এ প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষন করে চলে যায়। ঘটনার পর অসুস্থ্য এ নারীর রক্তক্ষরণ হলে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। খবর পেয়েই থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ এজাজ শফী ঘটনাস্থলে পৌছিয়ে খুলনায় পাঠানোর জন্য ব্যক্তিগত উদ্যোগে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া সহ ভিকটিমের চিকিৎসার জন্য রক্তের ব্যবস্থা করেন। স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় ধর্ষিতার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে খুমেক হাসপাতালের ওসিসিতে প্রেরণ করেন। এর পুর্বে ভিকটিম ও তার পরিবারের তথ্যমতে এসআই অনিষ মন্ডল সবুর সরদারকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে আনেন। এ ঘটনায় ভিকটিমের ভগ্নিপতি মোকছেদ মোড়ল বাদী হয়ে সবুর সরদারের বিরুদ্ধে নারী-শিশু নির্যাতন দমন আইনে থানায় মামলা করেছেন,যার নং-১৮। এদিকে শুক্রবার সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দীকি ও ওসি এজাজ শফী ভিকটিমের ডিএনএ’র আলামত সংগ্রহ হয়েছে কিনা তা তদারকির জন্য হাসপাতাল পরিদর্শন করে খোজখবর নিয়েছেন।

এ বিষয়ে মামলা তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর ( অপারেশন) দিবাশীষ দাশ জানান, শুক্রবার সকালে এ মামলার আসামী সবুর সরদারকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ভিকটিমের অবস্থা ও চিকিৎসার বিষয়ে জানার চেষ্টা করা হলে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডাঃ বিধান চন্দ্র ঘোষ এ প্রতিনিধিকে বলেন চিকিৎসাধীন ভিকটিম এখন সুস্থ্য রয়েছেন। এ ছাড়া তার ডিএনএ টেস্টের ব্যবস্থা সহ ঔষধপত্র হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা করবেন।

সুন্দরবনে নিবিড় পরিচর্যায় সুস্থ্য জুলিয়েট

মোংলা প্রতিনিধি : নিভির পরিচর্যার পর অবশেষে সুস্থ্য হলেন বন্য প্রানী প্রজনন কেন্দ্রে লালিত জুলিয়েট। গত ২৩ জানুয়ারী সুন্দরবনের প্রজনন কেন্দ্রে করমজলের কুমির জুলিয়েট একটি প্রানীকে শিকার করে খাবারের চেষ্টা করলে পিছন থেকে কুমির পিলপিল জুলিয়েটকে আক্রমন করে। এতে তার শরীরে আঘাত প্রাপ্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পরে।
সুন্দরবনের করমজলের এক মাত্র বন্য প্রানী প্রজনন কেন্দ্রের একটি পুকুরে কুমির জুলিয়েট, পিলপিল ও রোমিও বসবাস করতো। এর মধ্যে পুরুষ কুমির রোমিও বয়স বেশী ও শারীরিক ভাবে অক্ষমতা হওয়ায় তাকে অন্য একটি পুকুরে আলাদা করে রাখা হয়েছে। বংশ বৃদ্ধি ও প্রজননের জন্য ২০১৮ সালে গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্ক থেকে পুরুষ কুমির আলেকজান্ডাকে আনা হয় স্ত্রী কুমির পিলপিল ও জুলিয়েট’র জন্য। এ ৩টি কুমির এক সাথে পুকুরে বসবাস করছে।
বন বিভাগের পর্যটক ষ্পট করমজলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবির বলেন, স্ত্রী কুমির পিলপিল ও জুলিয়েট তাদের বন্ধু আলেকজান্ডারকে নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে বিরোধ চলে আসছিল। এরই মধ্যে জুলিয়েটের সংঙ্গে পুরুষ কুমির আলেকজান্ডারের বন্ধুত্বের সম্পর্কটা গভীর হওয়ায় প্রায় সময়ই জুলিয়েটকে আড়াল চোখে দেখতো পিলপিল। পুকুরের মধ্যে এ দুজনের সাথে প্রায় সময়ই মারামারী লেগেই থাকতো।
২৩ জানুয়ারী সকালের দিকে জুলিয়েট একটি বানরকে শিকার হিসেবে কাছে পেয়ে পাড় থেকে টেনে পুকুরের মাঝে নিয়ে যায়। এসময় অন্য স্ত্রী কুমির পিলপিল পিছন থেকে জুলিয়েটের উপর আক্রমন করে ঝাপিয়ে পরে। এতে জুলিয়েট’র শরীরে প্রায় ১১ ইঞ্চি লম্বা এবং দেড় ইঞ্চি গভীর ক্ষতসহ বিভিন্ন স্থানে আঘাত প্রাপ্ত হয়।
তৎক্ষনিক বিষয়টি বন বিভাগের উর্ধতন কর্মকর্তাদের অনুমতিতে পুকুর থেকে কুমির জুলিয়েটকে ক্ষত-বিক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে একটি শুকনো প্যানে রেখে চিকিৎসা শুরু করে প্রানী বিশেষজ্ঞ আজাদ কবির।
তিনি আরো বলেন, দীর্ঘ ২৬ দিন নিবিড় পরিচর্যা ও চিকিৎসার পর স্ত্রী কুমির জুলিয়েটকে সুস্থ্য করে তোলা হয়েছে। ১৯ ফ্রেব্রয়ারী (শুক্রবার) বন বিভাগের কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে জুলিয়েটকে পুনরায় ওই পুকুরে অবমুক্ত করি। কিন্ত আমরা চিন্তিত ছিলাম, ভয় হচ্ছিল পুর্বের ঘটনা পুনরাবিত্তি ঘটিয়ে পিলপিল জুলিয়েটকে মেরে ফেলতে পারে। কারন পূর্বেই জুলিয়েট’র সংঙ্গে পুরুষ কুমির আলেকজান্ডার এর বেশি সম্পর্ক ছিল।
জুলিয়েট দীর্ঘ ২৬ দিন পুকুরে না থাকায় পিলপিলের সংঙ্গে আলেকজান্ডার’র সম্পর্কটা গভীর হয়েছে। তাই পিলপিল আলেকজান্ডারের সাথে জুলিয়েটের সম্পর্ক মেনে নাও নিতে পারে। ঠিক তাই ঘটলো। জুলিয়েটকে ছাড়ার সংঙ্গে সংঙ্গে পিলপিল জুলিয়েটের উপর ঝাপিয়ে পরে আক্রমণ করে।
কিন্তু মুহুর্তের মধ্যে ঘটলো নতুন ঘটনা। দুই জনের মারামারীর মধ্যে আলেকজান্ডার মাঝখানে ভেসে উঠলো এবং মাথা নাড়ার সাথে সাথে জুলিয়েট এবং পিলপিল আলাদা হয়ে দুইদিকে চলে গেল।
আলেকজান্ডার প্রথমে জুলিয়েটের কাছে কিছু সময় কাটিয়ে, পরে পিলপিলের কাছে গিয়ে সময় দিয়েছে বলে জানায় কর্মকর্তা আজাদ কবির। তবে মনে হচ্ছে দুজনকে আদর সোহাগে তাদের সংসার ভালই চলছে। বর্তমানে দুজন এক জায়গায় না থাকলেও তাদের মধ্যে কোনো গোলমাল নেই, অবমুক্ত করার পর এখন পর্যন্ত তারা সবাই ভালো আছে বলে জানায় প্রজনন কেন্দ্রের কর্মকর্তা।
উল্লেখ্য,২০০২ সালে পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের করমজলে বন বিভাগের উদ্যোগে ৮ একর জমির ওপর সরকারীভাবে গড়ে তোলা হয় দেশের একমাত্র বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রটি।
নোনা পানির কুমির সাধারণত ৬০-৬৫ বছর পর্যন্ত ডিম দিতে পারে। আর বেঁচে থাকে ৮০-১০০ বছর পর্যন্ত।

তালায় ডিজিটাল ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

সেলিম হায়দার,তালা : সাতক্ষীরার তালায় মুজিববর্ষ উপলক্ষে “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ঢাকা ম্যারাথন-২০২১” এর উদ্বোধন ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিযোগিতাটি উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে শুরু হয়ে খেজুরবুনিয়ায় বাজারে শেষ হয়।
শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯ বেংগল ল্যান্সার ব্যবস্থাপনায় ও ৫৫ পদাতিক ডিভিশন, যশোর অঞ্চলের পরিচালানায় এবং তালা উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ম্যারাথনের উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ।
জেলা পরিষদ সদস্য সাংবাদিক মীর জাকির হোসেনের পরিচালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ঘোষ সনৎ কুমার, তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ তারিফ-উল-হাসান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ নূরুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম তারেক সুলতান, সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন সরকার সানি মোহাম্মদ তালহা, তালা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী রাসেল, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও তালা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ এনামুল ইসলাম, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সরদার মশিয়ার রহমান, তালা সদর ইউপি চেয়ারম্যান সরদার জাকির হোসেন, মহিলা ডিগ্রী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মোঃ আব্দুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আলাউদ্দীন জোয়ার্দ্দার, বীর মুক্তিযোদ্ধা এম ময়নুল ইসলাম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ ওবায়দুল হক, বণিক সমিতির সভাপতি সৈয়েদ জুনায়েদ আকবার, অধ্যক্ষ বিধান সাধু, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ সাদীসহ শিক্ষক, জনপ্র্রতিনিধি, এনজিও প্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তারা, সাংবাদিক ও ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তাবৃন্দ।
অনুষ্ঠান শেষে ম্যারাথনে অংশগ্রহনকারী পুরুষ ও মহিলা প্রথম পাঁচ জন বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

ডুমুরিয়ায় ডিজিটাল ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি : জাতির পিতা বন্ধবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবর্ষ উপলক্ষ্যে ডুমুরিয়া উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এক ডিজিটাল ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার সকালে উপজেলার গফফার সড়কে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন করেন সাবেক মৎস্য ও প্রানিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এমপি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সেখ ফিরোজ আহমেদ, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শিকদার আতিকুর রহমান জুয়েল, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা এস এম কামরুজ্জামান প্রমুখ। প্রতিযোগিতার দৈর্ঘ্যতা ছিল সাবেক মন্ত্রীর বাস ভবনের সন্মুখ হতে থুকড়া আবাসন পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার। প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহন করেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারি, শিক্ষক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, প্রাক্তন খেলোয়াড়, চিকিৎসক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ। এ বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আবদুল ওয়াদুদ বলেন, মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষ্যে সব মানুষের মণ-শরীর সুস্থ্য রাখতে শারিরিক ব্যায়াম ও হাটা-চলা খুবই প্রয়োজন। তাই মানুষের মধ্যে সচেতনা বৃদ্ধিতে দেশব্যাপি ডিজিটাল ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর একটি বিশেষ টীম এটা পরিচালনা করছে।

আশাশুনিতে ট্রলার ডুবির ঘটনায় আরো একজনের মরদেহ উদ্ধার

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার কুড়িকাউনিয়াতে ট্রলার ডুবির ঘটনায় শফিকুল ইসলাম সানা নামের আরো এক শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। নিঁখোজের চতুর্থ দিনে শুক্রবার দুপুর আড়াই টার দিকে কুড়িকাউনিয়া লঞ্চঘাটের অপর পাশে কপোতাক্ষ নদে মরদেহটি ভেসে উঠলে কোর্ষ্ট গার্ডের সদস্যরা সেটি উদ্ধার করে। এনিয়ে নিখোঁজ তিন শ্রমিকের মধ্যে দুই জনের মরদেহ উদ্ধার করা হলো।
নিহত শ্রমিক মোঃ শফিকুল ইসলাম সানা (৪৮) আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের বকচর গ্রামের মৃত ফজলে সানার ছেলে। এর আগে বৃহস্পতিবার কাপসন্ডা গ্রামের মনজিল সরদারের ছেলে বাবর আলীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
প্রতাপনগর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ জাকির হোসেন জানান, নিখোঁজ বাকি দুই শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধারে কোষ্ট গার্ড ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা শুক্রবার সকাল থেকে ফের অভিযান শুরু করেন। একপর্যায় বেলা দেড়টার দিকে কুড়িকাউনিয়া লঞ্চঘাটের অপর পাশে কপোতাক্ষ নদে শফিকুল ইসলামের মরদেহটি ভেসে উঠলে কোর্ষ্ট গার্ডের সদস্যরা সেটি উদ্ধার করেন। তবে, এখনো নিখোঁজ রয়েছে আজিজ নামের অপর এক শ্রমিক। ইউপি চেয়ারম্যান এ সময় তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে নিহত দুই শ্রমিকের পরিবারকে পাঁচ হাজার টাকা করে অনুদান দেন।
এদিকে, ট্রলার ডুবির ঘটনা তদন্তের জন্য জেলা প্রশাসনের গঠিত ৭ সদস্য বিশিষ্ট্য তদন্ত কমিটি সরেজমিনে শনিবার সকাল ১০টায় ঘটনাস্থলে যাবেন। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ বদিউজ্জামানকে প্রধান করে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
প্রসঙ্গত ঃ গত মঙ্গলবার সকাল ৬টার দিকে আশাশুনির প্রতাপনগর ইউনিয়নের কুড়িকাউনিয়া লঞ্চঘাট থেকে ঘুর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত ভাঙন পয়েন্টে বালি ভর্তির জন্য খালি বস্তা ও শ্রমিকদের নিয়ে যাওয়ার সময় চালক আব্দুস সাত্তারসহ ১৪জন শ্রমিকের একটি ট্রলার কপোতাক্ষ নদের প্রবল স্রোতে ডুবে যায়। এসময় ট্রলার চালকসহ উদ্ধার হওয়া ১২ জন শ্রমিকের মধ্যে দুই জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এতে নিখোঁজ হন শ্রমিক বাবর আলি, আব্দুল আজিজ ও শফিকুল ইসলাম। ইতিমধ্যে শ্রমিক বাবর আলি ও শফিুলের মরদেহ উদ্ধার হলেও এখনও নিঁখোজ রয়েছে আব্দুল আজিজ।

মোংলায় ১৫ বোতল বিদেশী মদসহ জালিবোট জব্দ

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি : মোংলার ১ নম্বর জেটি এলাকা থেকে ১৫ বোতল বিদেশী মদসহ একটি জালিবোট জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড। শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে ওই এলাকায় কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায় পাচারকারী ও বোট মালিক বেল্লাল ওরফে খোমিনী বেল্লালসহ তার সহযোগীরা। বেল্লাল পৌর শহরের সামছুর রহমান রোড এলাকায় ভাড়াটিয়া বাসিন্দা হিসেবে বসবাস করে আসছেন। তিনি নোয়াখালীর মৃত: আজিজ ফোরম্যানের ছেলে।
কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন’র (মোংলা) গোয়েন্দা কর্মকর্তা লে: এম মাজহারুল হক জানান, মোংলা বন্দরে অবস্থানরত বিদেশী বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে বিদেশী মদ (হুইচকি) জালিবোটে (নৌযান) পাচার করে এনে বোটটি ১ নম্বর জেটি এলাকায় রাখা হয়েছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার দুপুরে ওই এলাকায় অভিযান চালায় কোস্ট গার্ড সদস্যরা। কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ১ নম্বর জেটিতে থাকা পাচারকারীরা বোটে পাচার করে আনা ৪ কার্টুন মদ তড়িঘড়ি করে নামিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে অভিযানকারীরা পাচারকারীদের বোটে তল্লাশী চালিয়ে ১৫ বোতল বিদেশী মদ উদ্ধার করে এবং বোটটি জব্দ করে। উদ্ধারকৃত মদ ও বোট মোংলা থানা পুলিশে হস্তান্তরের কথা জানিয়েছে কোস্ট গার্ড। এ ঘটনায় বিদেশী মদ বহনকারী জালিবোট ও জালিবোট মালিক এবং পাচারকারী বেল্লাল (৪৫) ওরফে খোমিনি বেল্লালসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড। এ ঘটনার পর থেকে বেল্লাল ও তার সহযোগীরা গাঁ ঢাকা রয়েছে। এদিকে বেল্লালসহ তার সহযোগী পাচারকারী একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে মোংলা বন্দরে আগত বিদেশী জাহাজ থেকে মাদক, জ্বালানী তেল ও অন্যান্য মালামালের কালোবাজারী ব্যবসা করে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে বেল্লাল চক্রের পাচারকৃত মালামাল আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটকও হয়েছে। তারপরও বেল্লাল চক্র মোংলা বন্দরে চোরাচালান কার্যক্রমে সক্রিয় রয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ফুলতলায় অপরাজিতাদের মতবিনিময় সভা

ফুলতলা (খুলনা) প্রতিনিধিঃ ফুলতলা রূপান্তরের উদ্যোগে রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সাথে অপরাজিতাদের মতবিনিময় সভা বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদ সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও খুলনা জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ফারজানা ফেরদৌস নিশার সভাপতিত্বে এবং রূপান্তরের অপরাজিতা প্রকল্পের জেলা সমন্বয়কারী খন্দকার জিলানী হোসেনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপি যুগ্ন সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আবুল বাশার, ওয়ার্কার্স পার্টি নেতা প্রভাষক গৌতম কুন্ডু, প্রেসক্লাব সভাপতি তাপস কুমার বিশ্বাস, সহকারী অধ্যাপক মোঃ নেছার উদ্দিন, আওয়ামীলীগ নেতা রবিউল ইসলাম মোল্যা, ইউপি সদস্য আঃ রহমান সরদার, ইব্রাহীম গাজী, মিসেস কেয়া, বেগম শামছুন্নাহার, কাজী কবিতা পারভীন, হাসিনা বেগম, শেফালী আক্তার, আম্বিয়া বেগম, রূপান্তরের উপজেলা সমন্বয়কারী নিশিথ মন্ডল, নারী নেত্রী শাপলা সুলতানা লিলি, সাহিদা ইসলাম নয়ন, মিতা পারভীন, নারী উদ্যোক্তা কোহিনুর জাহান, শিক্ষক নীলরতন মন্ডল, সাংবাদিক অনুপ বিশ্বাস, হালিমা খাতুন চুমকী, সেলিনা পারভীন, শায়লা ইসলাম রুমা, শরীফা বেগম, মিরা খাতুন, সুমী খাতুন, হোসনেয়ারা বেগম, মিনা খাতুন প্রমুখ।