শরণখোলায় নারীর অর্ধনগ্ন মরদেহ উদ্ধার

শরণখোলা প্রতিনিধি : বাগেরহাটের শরণখোলার গলায় ফাঁস লাগানো অর্ধনগ্ন অবস্থায় এক নারীর (৩৫) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার সন্ধ্যায় ৬টার দিকে উপজেলার রায়েন্দা ইউনিয়নের রাজেশ্বর গ্রামের বেড়িবাঁধ সংলগ্ন কলাইক্ষেত থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। রধারণা করা হচ্ছে, ওই নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ ফেলে রাখা হয়েছে। স্থানীয়রা কেউ লাশের পরিচয় সনাক্ত করতে পারেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, বিকেলে গ্রামের শিশুরা কলাই ক্ষেতে খেলতে গিয়ে প্রথমে লাশটি দেখে লোকজনকে জানায়। নারীর ডান কান সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। চোখমুখ ক্ষতবিক্ষত। গায়ে বোরখা পরিহিত। লাশের পাশে পাজামা, ছাতা ও স্যান্ডে পড়ে রয়েছে। খবর পেয়ে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ।
রায়েন্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়রাম্যান আসাদুজ্জামান মিলন জানান, অর্ধনগ্ন লাশের শরীরে ধর্ষণের আলামত রয়েছে। হয়তো ওই নারীকে সংঘব্ধ ধর্ষণের পর হত্যার করে কলাইক্ষেতে ফেলে রাখা হয়েছে। এলাকার কেউ তার পরিচয় জানাতে পারেনি।
শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুর রহমান জানান, রাজেশ্বর গ্রামের বেড়িবাঁধের পাশো কলাইক্ষেত থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যার আগে ধর্ষণের শিকার হতে পারে নারী। শুক্রবার রাতে হত্যাকান্ডটি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ময়না তদন্ত রিপোর্ট পেলে হত্যার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গাইবান্ধায় মোটর সাইকেলের চাপায় বৃদ্ধা নিহত

আশরাফুল ইসলাম, গাইবান্ধা : গাইবান্ধা সদর উপজেলার দারিয়াপুর-রূপারবাজার সড়কের ভেলুর ছিড়া নামক স্থানে মোটর সাইকেলের চাপায় পিলপিলি (৬৫) নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। নিহত পিলপিলি খোলাহাটী ইউনিয়নের উত্তর আনালেরতড়ী গ্রামের মৃত কফিল উদ্দীনের স্ত্রী। ২০ ফেব্রুয়ারী শনিবার ওই উপজেলার খোলাহাটী ইউনিয়নের উত্তর আনালেরতাড়ী গ্রামের রূপারবাজার সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, দারিয়াপুর-রূপারবাজার সড়কের পাশ দিয়ে পিলপিলি বেওয়া বাড়ীতে যাচ্ছিলো। এমন সময় পিছন দিক থেকে দ্রুত গতির একটি মোটর সাইকেল তাকে সজরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। লোকজন আশার আগেই মোটর সাইকেল আরোহী দুইজন পালিয়ে যায়। এসময় মোটর সাইকেলসহ একজনকে স্থানীয়রা আটক করে। আটককৃত মোটর সাইকেল আরোহী বোয়ালী ইউনিয়নের দক্ষিণ হরিণসিংহা গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে লিয়ন মিয়া।

বিষয়টি নিশ্চিত করে গাইবান্ধা সদর থানা অফিসার ইনর্চাজ মাহফুজুর রহমান জানান, এ দূর্ঘটনায় একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার ও একজন কে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।

মোংলায় উপমন্ত্রীর ভিজিডি কার্ড বিতরণ 

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি : মোংলায় ৬২০ টি পরিবারের মধ্যে ভিজিডি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে সোনাইলতলা ও মিঠাখালী ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে পৃথক অনুষ্ঠানে স্থানীয় সাংসদ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে স্থানীয় নারী-পুরুষদের হাতে এ কার্ড তুলে দেন। এ সময় সোনাইলতলা ইউনিয়নের ২৫০ জন ও মিঠাখালী ইউনিয়নের ৩৭০ জনের মাঝে এ কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। দুস্থদের মাঝে কার্ড বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তাহের হাওলাদার, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ইশরৎ জাহান, সোনাইলতলা ইউপি চেয়ারম্যান নাজিনা বেগম ও মিঠাখালী ইউপি চেয়ারম্যান ইস্রাফিল হাওলাদার।

পাইকগাছার নামযজ্ঞ পরিদর্শনে ডা.শেখ শহীদ উল্লাহ

মোঃ আসাদুল ইসলাম, পাইকগাছা : খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মোহা: শেখ শহীদ উল্লাহ পাইকগাছা উপজেলার লস্কর ইউনিয়নের খড়িয়ায় মিনহাজ বাজারে  নামযজ্ঞ পরিদর্শন করেছেন।
এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন পাইকগাছা সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মিহির বরণ মন্ডল,  প্রভাষক মনোরঞ্জন, আওয়ামী লীগ নেতা এড. ইদ্রিসুর রহমান মন্টু, গড়ুইখালী ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি মোঃ কামরুল ইসলাম গাইন,  ছাত্রলীগ নেতা পল্লব নাথ, জয় প্রমুখ।
নামযজ্ঞ উদযাপন কমিটির সভাপতি দীনেশ মন্ডলের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক স্বদেশ রায়ের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন এড. ইদ্রিসুর রহমান মন্টু,পাইকগাছা সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মিহির বরন মন্ডল, ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. মোহা: শেখ শহীদ উল্লাহ বলেন, বৈশ্বিক মহামারী করোনাকালে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের মানুষের সার্বিক সহযোগীতা করা হয়েছে এবং বিশ্বের অনেক দেশের আগেই আমাদের দেশে করোনা ভ্যাক্সিন   বিনামুল্যে সরবরাহের ব্যাবস্থা করা হয়েছে।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে বাংলাদেশ দুর্বার গতিতে এগিয়ে যায় এ কারণে পুনারায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনতে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করার জন্য সকলকে আহবান জানান।

পাইকগাছায় সাজাপ্রাপ্ত আসামী আটক

মোঃ আসাদুল ইসলাম, পাইকগাছা : খুলনার পাইকগাছায় ১ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামীকে আটক করেছে পাইকগাছা থানা পুলিশ। শুক্রবার দিবাগত রাতে এএসআই নাসির উদ্দিন সহ সঙ্গীয় ফোর্স তাকে সুকৌশলে আটক করে। সে উপজেলার সোলাদানা ইউপি’র আমুরকাটা গ্রামের অনিল সরকারের ছেলে। শনিবার গ্রেপ্তারকৃত নিরোধ সরদারকে আদালতে প্রেরণ করে এ বিষয়ে ওসি মোঃ এজাজ শফী জানান নিরোধ পাইকগাছা কোর্টের জিআর ১০৭/৯৪ মামলায় দঃ বিঃ ৩২৫ ধারায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে পলাতক ছিলেন।

পাইকগাছার কৃতি সন্তান আব্দুল আজিজ এর পি.এইচ.ডি ডিগ্রী অর্জন

মোঃ আসাদুল ইসলাম, পাইকগাছা : ড.মোঃ আব্দুল আজিজ দক্ষিণ কোরিয়ার ডেগু গিয়নবুক ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি থেকে পি.এইচ.ডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তার পি.এইচ.ডি ডিগ্রির বিষয় ছিল এনার্জি সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং। ড.মোঃ আব্দুল আজিজ ২০০০ সালে পাইকগাছা সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫ম শ্রেণি পাস করেন। এর পর পাইকগাছা উপজেলার সুনামধন্য বিদ্যাপীঠ পাইকগাছা সরকারি উচ্চ বালক বিদ্যালয় থেকে ২০০৬ সালে এস.এস.সি পাস করেন। তার পর ২০০৮ সালে বি এ এফ শাহিন কলেজ যশোর থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। এর পর ২০১৪ সালে যশোর বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেমিকৌশল বিষয়ের উপরে স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন। এরপর ২০১৭ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার ডেগু গিয়নবুক ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি থেকে এনার্জি সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ের উপর মাষ্টার ডিগ্রী লাভ করেন। পরে ২০২১ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি দক্ষিন কোরিযার একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ের উপরে পি.এইচ.ডি ডিগ্রি অর্জন করেন। ড.মোঃ আব্দুল আজিজ বাংলাদেশ, ইন্ডিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়ার অনুষ্ঠিত বহু সায়েন্টিফিক কনফারেন্সে অংশ গ্রহন করেছেন। এ ছাড়া ২০১৯ দক্ষিণ কোরিয়ার সব থেকে ভাল গবেষক হিসাবে সম্নান অর্জন করেন। ড.মোঃ আব্দুল আজিজ সর্ব মোট ১৩ টি উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন বিজ্ঞান ভিত্তিক প্রকাশনার উপর নিজের গবেশনার ফল প্রকাশ করেছেন। পি.এইচ.ডি করা ড. মোঃ আব্দুল আজিজ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে দেশে ফিরে এনার্জি সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ের উপর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে চান বলে জানান। ড.মোঃ আব্দুল আজিজ উপজেলার পৌর সদর এর বাতিখালির ৮নং ওয়ার্ড এর সাবেক হোটেল ব্যবসায়ী প্রয়াত আব্দুস সবুর গাজি ও মাতা মোছাঃ ছবিরুন বেগম এর সেজো ছেল। আজিজ ৪ ভাইয়ের মধ্য সেজো। তিনি সকলের কাছে দোয়া চেয়েছেন যেনো তার উপার্জিত ডিগ্রি ও মেধা দেশ ও জাতির কল্যাণে ব্যায় করতে পারেন।

জাবির হলের তালা ভেঙে অবস্থান নিয়েছেন শিক্ষার্থীরা

ঢাকা : তালা ভেঙে আবাসিক হলে প্রবেশের পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮ হলের মধ্যে ১০টিতে অবস্থান নিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হলের তালা ভেঙে ভেতরে সপ্রবেশের প্রস্তুতি নিয়েছেন।

এরআগে, শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে অবস্থান নেন। পরে তারা আল-বেরুনি ও ফজিলাতুন্নেছা হলের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন।

এরআগে, শুক্রবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী গেরুয়া গ্রামে খেলা নিয়ে বিরোধের জের ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান স্থানীয়রা। এতে অন্তত ৩৭ জন শিক্ষার্থী আহত হন। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় সাভারের এনাম মেডিক্যালে স্থানান্তর করা হয়। সংঘর্ষ চলাকালে শিক্ষার্থীদের আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। তাদের কয়েকটি মোটরসাইকেলও পুড়িয়ে দেয় স্থানীয়রা। গভীর রাত পর্যন্ত শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে সংঘর্ষ এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলতে থাকে।

এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবি জানিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে- সাত দিনের মধ্যে গেরুয়ার সন্ত্রাসীদের হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে, আবাসিক হলে শিক্ষার্থীদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা (বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস) নিশ্চিত করতে হবে, শুক্রবারের হামলায় আহত শিক্ষার্থীদের দায়ভার প্রশাসনকে নিতে হবে ও প্রক্টরের বক্তব্য প্রত্যাহার করে, ক্ষমা চাইতে হবে এবং প্রক্টরকে পদত্যাগ করতে হবে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল খুলে দেওয়ার দাবিকে স্বাগত জানিয়েছে ছাত্রলীগ। সংগঠনটির নেতাকর্মীরা মিছিল সহকারে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেছেন।

আজ বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার এলাকায় জড়ো হয়ে কয়েকশ’ শিক্ষার্থী হল খুলে দেওয়ার দাবি জানান। পরে তারা মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বর হয়ে সোজা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে এসে অবস্থান নেন। এসময় শিক্ষার্থীরা ‘এক দফা এক দাবি, আজকে হল খুলে দিবি’ স্লোগান দিতে থাকেন।

অবস্থানরত শিক্ষার্থী রাকিবুল হক রনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা হল খোলার দাবিতে অবস্থান নিয়েছি। বৃহস্পতিবার গেরুয়া এলাকার ঘটনায় আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, কোনও বিশ্ববিদ্যালয়েরই হল খোলা হয়নি। সরকারি সিদ্ধান্ত না আসলে আমরা হল খোলার সিদ্ধান্ত নিতে পারি না।

তবে শিক্ষার্থীদের আবাসিক হলে অবস্থান নেওয়ার বিষয়ে হল প্রভোস্ট কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোতাহার হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আজ শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে উপাচার্যদের বৈঠক রয়েছে। ওখান থেকে আমরা আশা করছি কোনও দিক-নির্দেশনা আসতে পারে।

খুলনায় সমকালের বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

খুলনা অফিস : ‘বিতর্ক মানেই যুক্তি, বিজ্ঞানে মুক্তি’ এই স্লোগানে বিএফএফ-সমকাল জাতীয় বিজ্ঞান বিতর্ক উৎসব-২০২১ এর খুলনা জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতা শনিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবীর বালু মিলনায়তনে সকাল ৯টায় প্রধান অতিথি হিসেবে বিতর্ক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সরকারি বিএল কলেজের প্রাক্তন বিতার্কিক ও অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মোঃ কামরুল ইসলাম, খুলনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হাসান আহমেদ মোল্লা। সভাপতিত্ব করেন সমকালের খুলনা ব্যুরো প্রধান মামুন রেজা।
প্রতিযোগিতায় সরকারি করোনেশন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন ও খুলনা জিলা স্কুল রানারআপ হয়। করোনেশন স্কুলের দলনেতা রুকছানা রহমান মলি সেরা বক্তা নির্বাচিত হন। এছাড়া প্রতিযোগিতায় বিএন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সেন্ট যোসেফস উচ্চ বিদ্যালয়, কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, খুলনা পাবলিক কলেজ, ফাতিমা উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি ইকবালনগর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক শেখ দিদারুল আলম, আযমখান সরকারি কমার্স কলেজের সহকারী অধ্যাপক এম এম কবির আহমেদ, বাংলাদেশ ব্যাংক খুলনা অফিসের যুগ্ম পরিচালক সারওয়ারে আখতার, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মনোজ কুমার মজুমদার, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলের প্রধান শিক্ষক স্বর্ণকমল রায় এবং নেভি এ্যাংকরেজ স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক মোঃ সাউদ আল ফয়সাল রাজু।
সময় নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব পালন করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৈয়ায়িক ডিবেটিং ক্লাবের সদস্য তৈয়াবুর রহমান ও আল মাহদী। উপস্থিত ছিলেন সমকালের খুলনা ব্যুরোর স্টাফ রিপোর্টার হাসান হিমালয়, ফটো সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম, বাণিজ্যিক প্রতিনিধি পলাশ দত্ত।

ফুলতলায় বাস-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে ট্রাক চালক নিহত

ফুলতলা : খুলনার ফুলতলায় বাস ও ইটবাহী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ট্রাক চালক মোঃ আবু সালেহ হোসেন (৩৭) নিহত হয়েছেন। শনিবার (২০) ফেব্রুয়ারি দুপুর দেড়টার দিকে খুলনা-যশোর মহাসড়কের ফুলতলার শেষ সীমানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ট্রাক চালক আবু সালেহ যশোর সদরের চাউলিয়া গ্রামের আবুল হোসেন মিস্ত্রির ছেলে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, খুলনা থেকে যশোর গামী একটি গড়াই পরিবহন (ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-৬৭২১) যশোর থেকে খুলনাগামী একটি ট্রাকের (ঢাকা মেট্রো-ট-১৪-৮৭৮৫) মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ট্রাক চালক গুরুতর আহত হন। উদ্ধার করে ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নওয়াপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শাহাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, এ ঘটনায় বাস ও ট্রাক আটক করা হয়েছে। ঘটনার পর বাস চালক পালিয়ে যায়।

বহুমূল্যেই বাঙালির প্রতিটি অর্জন, সেধে কেউ কিছু দেয়নি : প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভাষার পথ ধরেই আমাদের স্বাধীনতা কথাটি পুনরায় সকলকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছেন, সবকিছু বহুমূল্যেই বাঙালিকে অর্জন করতে হয়েছে। সেধে কেউ কিছুই দেয়নি।
তিনি বলেন, ‘বাঙালির মুক্তিসংগ্রাসের ইতিহাসে ভাষা আন্দোলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পাকিস্তানীরা আমাদের ওপর একটি বিজাতীয় ভাষা চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছিল। আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যদিয়েই ভাষার অধিকার এবং স্বাধীনতাসহ সবকিছু অর্জন করতে হয়েছে আমাদের। কেউ সেধে কিছু দেয়নি।’
শেখ হাসিনা আজ সকালে একুশে পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৫২ সালের আন্দোলন কেবলমাত্র ভাষাভিত্তিক আন্দোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, এ আন্দোলন ছিল সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন।’
শেখ হাসিনা একুশে পদক প্রাপ্তদের উদ্দেশে বলেন, ‘আজকে অমর ভাষা দিবসের যে স্বীকৃতি আপনারা পেয়েছেন তা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্যই পেয়েছেন। কাজেই আপনাদের কাছ থেকেই আগামী প্রজন্ম অনেক শিক্ষা নিতে পারবে।
তিনি বলেন, পুরস্কার দেশের শিল্প, সাহিত্য, বিজ্ঞান, গবেষণা, সংস্কৃতি চর্চা ও সমাজসেবাসহ বিভিন্ন কাজে অবদানের জন্যই এই সম্মাননা। সেজন্য আমি মনে করি এটা শুধু আপনাদের সম্মাননা নয়, গোটা জাতির জন্য সম্মাননা। দেশের মানুষের জন্য সম্মাননা।
প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক রাজধানীর ওসামানী স্মৃৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ২১ জন বিজয়ী বরেণ্য ব্যক্তির হাতে এ পদক তুলে দেন। প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত ছিলেন।
জাতীয় ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২১ জন বিশিষ্ট নাগরিককে এবার একুশে পদকের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। গত ৪ ফেব্রুয়ারি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে তাদের নাম ঘোষণা করা হয়।
এ বছর ভাষা আন্দোলনে তিনজন, মুক্তিযুদ্ধ ক্যাটাগরিতে তিনজন, শিল্পকলায় সাতজন, ভাষা ও সাহিত্যে তিনজন, সাংবাদিকতা, শিক্ষা, গবেষণা ও অর্থনীতিতে একজন করে মোট ২১ জনকে একুশে পদক প্রদান করা হয়।
ভাষা আন্দোলনে অবদানের জন্য এবার মরণোত্তর একুশে পদক পেয়েছেন- মোতাহার হোসেন তালুকদার (মোতাহার মাস্টার), শামছুল হক, অ্যাডভোকেট আফসার উদ্দীন আহমেদ।
শিল্পকলায় পদক পেয়েছেন- কণ্ঠশিল্পী পাপিয়া সারোয়ার, অভিনেতা রাইসুল ইসলাম আসাদ, সালমা বেগম সুজাতা (সুজাতা আজিম), আহমেদ ইকবাল হায়দার (নাটক), সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকী (চলচ্চিত্র), ড. ভাস্বর বন্দোপাধ্যয় (আবৃত্তি), ও পাভেল রহমান (আলোকচিত্র)।
মুক্তিযুদ্ধ ক্যাটাগরিতে গোলাম হাসনায়েন, ফজলুর রহমান খান ফারুক, বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দা ইসাবেলা (মরণোত্তর) পদক পেয়েছেন।
সাংবাদিকতায় অজয় দাশগুপ্ত, গবেষণায় অধ্যাপক ড. সমীর কুমার সাহা, শিক্ষায় বেগম মাহফুজা খানম, অর্থনীতিতে ড. মীর্জা আব্দুল জলিল, সমাজসেবায় প্রফেসর কাজী কামরুজ্জামান, ভাষা ও সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য কবি কাজী রোজী, বুলবুল চৌধুরী ও গোলাম মুরশিদ পদক পেয়েছেন।
পুরস্কার হিসেবে স্বর্ণ পদক, সনদপত্র এবং চার লাখ টাকার নগদ অর্থের চেক প্রদান করা হয়। এবারের ২১ জনসহ এযাবত মোট ৫২০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৩টি প্রতিষ্ঠানকে একুশে পদক প্রদান করা হয়েছে। আর ২০১৮ সাল থেকে পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২১-এ উন্নীত করা হয়।
সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
মন্ত্রি পরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম পদক বিজয়ীদের সাইটেশন পাঠ করেন এবং পুরস্কার বিতরণ পর্বটি সঞ্চালনা করেন। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো.বদরুল আরেফীন স্বাগত বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এবং সংসদ সদস্য, উচ্চ পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ, দেশ বরেণ্য ব্যক্তিত্ব, কবি, সহিত্যিক,লেখকসহ বুদ্ধিজীবী এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা রক্ত দিয়ে শুধু মাতৃভাষার দাবি প্রতিষ্ঠা নয় স্বাধীনতা অর্জনের পথ করে দিয়েছিল আমরা তাঁদের প্রতি সম্মান জানাই।
তিনি এ সময় দেশব্যাপী কোভিড-১৯ টিকা দেওয়া চলতে থাকলেও মাস্ক ব্যবহার এবং কিছুক্ষণ পর পর হাত ধোয়া এবং পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি সকলকে স্মরণ করিয়ে দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বাঙালি, বাংলা আমাদের দেশ। এই বাংলাদেশ বিশে^ মাথা উঁচু করে চলবে, সম্মানের সাথে চলবে, কারো কাছে হাত পেতে নয়, আমরা নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে আত্মমর্যাদা নিয়ে চলবো।
তিনি ভাষা আন্দোলনে জাতির পিতার ভূমিকা তুলে ধরে বলেন, ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চের ধর্মঘটে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে শেখ মুজিবসহ অনেক ভাষাসৈনিক সচিবালয়ের সামনে থেকে গ্রেফতার হন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে বার বার কারাবরণ করেছেন। ভাষা আন্দোলনকে জাতীয় আন্দোলনে রূপদান করতে তিনি দেশব্যাপী সফরসূচি তৈরী করে ব্যাপক প্রচারনায় অংশগ্রহণ করেন এবং সভা-সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।
তিনি বলেন, ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি পূর্ব-বাংলা ব্যবস্থাপক পরিষদের বাজেট অধিবেশনের জন্য নির্ধারিত ছিল। শেখ মুজিবের পরামর্শ ও নির্দেশ অনুযায়ী ঐদিন সারাদেশে সাধারণ ধর্মঘট আহ্বান করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী অমর একুশে ফ্রেব্রুয়ারি কথা স্মরণ করে বলেন, ২১শে ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমবেত ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল করে এবং পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালালে কতগুলো তাজা প্রাণ নিমেষেই ঝরে যায়, অনেকে আহত হন, অনেকে গ্রেফতার হন।
শেখ হাসিনা অমর একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার স্বীকৃতি এনে দেয়ার ক্ষেত্রে তাঁর সরকার এবং কানাডা প্রবাসী দুই বাঙালি রফিক এবং সালামের ভূমিকাও তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, আমাদের সরকারের ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে কানাডা প্রবাসী রফিক এবং সালাম নামে দু’জন বাংলাদেশীসহ কয়েকজন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সদস্য মিলে ‘মাতৃভাষা সংরক্ষণ কমিটি’ গঠন করে। ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনের জন্য জাতিসংঘে প্রস্তাব প্রেরণ করে। যেহেতু জাতিসংঘ ব্যক্তি প্রস্তাব আমলে নেয় না, তাঁরা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রস্তাবটি ইউনেস্কোতে প্রেরণ করার পরামর্শ দেয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তখন আমাদের হাতে সময় ছিল না, আমরা মাতৃভাষা সংরক্ষণ কমিটি’র সঙ্গে যোগাযোগ করি এবং ২৪ ঘন্টার মধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ১৯৯৯ সালের ৯ অক্টোবর দ্রুত ফ্যাক্স-বার্তার মাধ্যমে ইউনেস্কোকে আমাদের প্রস্তাব প্রেরণ করি।
তিনি বলেন, ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ২১শে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে এবং ২০০০ সাল থেকে তাঁরা বাংলাদেশের সঙ্গে একসঙ্গে এই দিবসটি উদযাপন করে আসছে। সেই থেকে একুশে ফ্রেব্রুয়ারি আমাদের।