টাকা দেওয়ার প্রলোভনে গৃহবধূ ধর্ষণ

যশোর : যশোরের চৌগাছায় টাকা ধার দেয়ার কথা বলে নিজ বাড়িতে ডেকে এক গৃহবধূকে (২৫) ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। গত বুধবার সকালে চৌগাছার নারায়ণপুর ইউনিয়নের বাদেখানপুর গ্রামের মিজানুর রহমান (৫৫) নামে এক ব্যক্তি তাকে ধর্ষণ করে। পরদিন এ ঘটনায় চৌগাছা থানায় মামলা হয়। অভিযুক্ত মিজানুর পলাতক রয়েছেন।

এক সন্তানের জননী ওই নারী মামলায় বলেন, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ফোনে প্রতিবেশী মিজানুরের কাছে সমিতির কিস্তি দেয়ার জন্য এক হাজার টাকা ধার চায়। সোয়া দশটার দিকে মোবাইল ফোনে কল দিয়ে তিনি টাকা নিতে তার বাড়িতে ডাকেন। সেখানে যাওয়ার পর ঘরের মধ্যে ডেকে অনেক টাকার প্রলোভন দেখিয়ে আমাকে কু প্রস্তাব দেন। রাজি না হয়ে ঘর থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে তিনি ঘরের দরজা বন্ধ করে আমাকে ধর্ষণ করেন। আমার চিৎকারে তার স্ত্রী মনিবালা বেগম (৪৫) ও ভাইয়ের ছেলে তারিফ (২০) এসে ঘটনা দেখতে পান। এরপর তারা আমাকে মারধর করেন এবং লোকজন জড়ো হলে চুরির অপবাদ দেন। লোকলজ্জা ও ভয়ে তাৎক্ষণিক বিষয়টি কাউকে বলতে পারিনি। ওই ফাঁকে মিজানুর পালিয়ে যান।
এদিকে, এ ঘটনা জানাজানি হলে ওই নারীকে তার স্বামী বাড়িতে উঠতে দেননি। পরে তিনি তার মায়ের আশ্রয়ে থেকে বৃহস্পতিবার চৌগাছায় থানায় মামলা করেন।

এ ব্যাপারে চৌগাছা থানার ইনসপেক্টর (তদন্ত) গোলাম কিবরিয়া বলেন, ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। মামলা রেকর্ড হয়েছে।

জটাধারী মুখোশ পরা নারীর ‘বালু পড়া’ খেতে মানুষের ঢল

টাঙ্গাইল : কা‌লো জামা পরা, মাথার জটা চুল ছেড়া কাপড় দি‌য়ে বাঁধা, মু‌খে অদ্ভুত ধ‌র‌নের মুখোশ। এলাকায় সবাই যার যার রোগ ও সমস‌্যা সমাধা‌নের জন‌্য তার কাছ থে‌কে ‘বালু পড়া’ নিচ্ছেন। দেদারছে খাচ্ছেনও সেই বালু। বালু পড়া খাওয়ার জন‌্য রিতিমতো ভীড় জ‌মি‌য়ে‌ছেন স্থানীয়রা।

শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়া‌রি) টাঙ্গাই‌লের ভুঞাপুর উপ‌জেলার খানুরবা‌ড়ি এলাকায় ওই নারীর দেখা পাওয়া যায়।

তবে মোবাই‌লে ছবি তুল‌তে চাই‌লে ‌তি‌নি ক্ষিপ্ত হ‌য়ে ওঠেন। কিছুক্ষণের মধ‌্যেই ওই এলাকা থেকে চলে যান। বি‌কে‌লের পর তা‌কে আর ওই এলাকায় দেখা যায়‌নি।

খানুরবা‌ড়ি গ্রা‌মের গোপাল চন্দ্র হালদার ব‌লেন, ‘এলাকায় হঠাৎ দে‌খি অদ্ভুত মুখোশ পরা এক নারী বি‌ভিন্ন জন‌কে বালু পড়া দি‌চ্ছেন। এছাড়া রাস্তার মা‌টিও খাওয়া‌চ্ছেন। আমি নি‌জেও প্রথ‌মে তার দেওয়া মা‌টি হা‌তে নি‌য়ে দে‌খি খুবই সুগ‌ন্ধি। প‌রে তিনি আমা‌কে বালু প‌ড়ে দি‌লে সেটা খাই। বালুর স্বাদ মধুর মত মি‌ষ্টি লেগেছে। প‌রে আমার হা‌তে থাকা রূপার একটি ব‌্যাচ তা‌কে দি‌য়ে দেই।’

খানুরবা‌ড়ি হালদারপাড়ার দে‌বেন হালদার ব‌লেন, ‘অন‌্যদের দেখাদেখি আমিও তারম্ওিয়া বালু পড়া হা‌তে নেই। খুব চমৎকার একটা গন্ধ বের হচ্ছিল বালু থেকে। প‌রে বালু খে‌য়ে দে‌খি অত‌্যন্ত মি‌ষ্টি। খু‌শি হ‌য়ে দুই বা‌রে তাকে ৭০ টাকা দি‌য়ে‌ছি।’

একই গ্রা‌মের আদুরী হালদার ব‌লেন, ‘ছে‌লে বিশ্বাস হালদা‌রের ক‌য়েকদিন যাবত জ্বর। নিয়‌মিত ওষুধ খা‌ওয়া‌চ্ছিলাম। কিন্তু জ্বর ভালো হচ্ছিল না। পাগ‌লের মত দেখ‌তে ওই নারী ছেলেটিকে ঝাড়-ফুঁক দেয়। পরক্ষ‌ণেই দেখি জ্বর নেই। তা‌কে ১০ টাকা দি‌য়ে‌ছি।’

স্থানীয়রা জানান, পাগ‌লের মতো দেখতে অদ্ভুত ওই নারীকে ওই এলাকায় আগে কখ‌নও দে‌খা যায়নি। কোথা থেকে এসেছেন, কী উদ্দেশ‌্যে এসেছেন তাও জানা যায়নি। অল্প সময় ছিলেন। তারপর আবার চলেও গেছেন।

টাঙ্গাই‌লের হৃদরোগ বি‌শেষজ্ঞ ডা. রা‌জিব পাল চৌধুরী ব‌লেন, ‘চি‌কিৎসা বিজ্ঞানে বালু খেয়ে রোগ ভালো হওয়ার কোনো ভি‌ত্তি নেই। বালু বা মা‌টি খে‌লে পরব‌র্তীতে মানু‌ষের পে‌টের পীড়াসহ বি‌ভিন্ন‌রোগে আক্রান্ত হ‌ওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে কিড‌নিরও সমস‌্যা হ‌তে পা‌রে।’

আম্ফানের ৯ মাস পরেও কমছেনা ভূক্তভোগীদের দূরাবস্থা

কয়রা : বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের জেলা খুলনার কয়রা ও পাইকগাছার প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা এবং উপকূলীয় বাঁধ সুরক্ষা। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবজনিত কারনে এ সমস্যা আরও দীর্ঘায়িত হচ্ছে। দীর্ঘ দিন যাবৎ জলাবদ্ধতা এবং উপকূলীয় বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়া বা উপচিয়ে এলাকা প্লাবিত হওয়ার ঘটনা এখন নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ দুটি সমস্যার তীব্রতা ক্রমশঃ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাতক্ষীরা ও খুলনা জেলার প্রায় ৪৫ লক্ষ অধিবাসী এ সমস্যা দুটি দ্বারা আজ দিশেহারা ও সর্বশান্ত হয়ে পড়েছে। অত্র এলাকায় ব্যাপকভাবে ঘটে চলেছে বা¯’চ্যুতির ঘটনা। এলাকার মানুষদের কাছে এখন প্রধান প্রশ্ন আদৌ এ এলাকায় বসবাস করা যাবে কিনা এবং কিভাবে তারা তাদের জীবিকা নির্বাহ করবে? বলা বাহুল্য এ সমস্যা দ্বারা সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্থ এবং জর্জরিত জনগোষ্ঠী হলো দরিদ্র ও দুস্থ শ্রেণি এবং নীচু এলাকায় বসবাসরত অন্ত্যজ শ্রেণির মানুষরা। এদের মধ্যে বিশেষ করে দরিদ্র মহিলা, শিশু, বৃদ্ধ এবং প্রতিবন্ধী মানুষদের ভোগান্তি এবং আহাজারীর কথা বলে শেষ করা যাবে না। ২০০৪ সাল থেকে সুনামি, সিডর, বিজলী, রেশমী, আইলা, নার্গিস, মহাসেন, বুলবুল, আম্ফান প্রভৃতি বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মূর্তিমান ভয়াল রূপ দেখে এলাকার মানুষ আতংকিত হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারনে অমাবশ্যা ও পূর্ণিমার সময় জোয়ারের উচ্চতা আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে যার ফলে অনেক এলাকা বাঁধ ভেঙ্গে বা উপচিয়ে এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। বর্ষাকালে দেখা যায় সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা স্বাভাবিকের তুলনায় ১ মিটার উচ্চ থাকে। এ সময় বিশাল উজান অঞ্চলের পানির চাপ ও বাতাসের তোড়ে নদীতে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পায়, উচ্চতার আঘাতে নদী তীরে দেখা দেয় ভাঙ্গন। ২০২০ সালের ২০ মে উপকূলের জনপদে সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস আম্ফান প্রবল বেগে আঘাত হানে। বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপকভাবে বাঁধ ভেংগে এলাকা প্লাবিত হয়। এর একমাস পর আর একটি অতি উচ্চ জোয়ারের চাপে পরিস্থতির আরো অবনতি ঘটে। পরিস্থতি সরেজমিনে দেখা এবং প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণের জন্য এলাকার নাগরিক সমাজের সংগঠন পানি কমিটির সহায়তায় একটি রিপোর্ট প্রণয়ন করা হয়। রিপোর্টে দেখা যায় খুলনা জেলার কয়রা ও পাইকগাছা এবং সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর, আশাশুনী উপজেলার মোট ১৪টি ইউনিয়নের ২০টি জায়গায় উপকূূলীয় বাঁধ ভেংগে এলাকা প্লাবিত হয়েছে এবং ৪২টি পয়েন্টে আনুমানিক ৯৫ কিমি বাঁধ অত্যন্ত ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় আছে, যে কোন সময় এ বাঁধগুলো ভেঙ্গে যেতে পারে। ভেঙ্গে যাওয়া বাঁধগুলোর আওতাভ্ক্তূ ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সংখ্যা হবে প্রায় ৪৪ হাজার পরিবার। এর মধ্যে কয়রা ও পাইকগাছায় প্রায় ১১ হাজার ৫ শত পরিবার। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারসমূহের দূর্দশা লাগবের জন্য সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে জরুরী খাদ্য, নগদ অর্থ, হাইজিন কিট, প্রয়োজনীয় ঔষধ সামগ্রী, গৃহায়নে সহায়তা করা হলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা খুবই অপ্রতুল। বর্তমানে কারিতাস বাংলাদেশ-খুলনা অঞ্চলের উদ্যোগে স্টার্ট ফান্ড ও ইউকেএইডের অর্থায়নে কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলার জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে তিনমাস ব্যাপী মানবীয় সহায়তাদান প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পের অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা হচ্ছে ১ হাজার ৯ শত পরিবার। এর মধ্যে ৭ শত ৫০ টি পরিবারের মাঝে জনপ্রতি নগদ ৯ হাজার টাকা ও ১ হাজার ১৫০টি পরিবারের ৩০দিন কর্মসংস্থানের সুযোগ দিয়ে ১১টি বাঁধ কাম রাস্তা মেরামত, দুটি সেল্টার উঁচুকরণ ও একটি পুকুর পাড় উঁচুকরনের বিনিময়ে জনপ্রতি ৯ হাজার টাকা নিশ্চিত করা; ক্ষতিগ্রস্ত ২ শত পরিবারে বেড়াসহ স্বাস্থ্যসম্মত ল্যাট্রিন প্রদান। মিঠা পানি নিশ্চিত করার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত ১১ টি পিএসএফ মেরামতকরণ। ১ হাজার ৯ শত পরিবারে স্বাস্থ্যবিধি চর্চার জন্য উপকরণ ও কোভিড-১৯ বিষয়ে সচেতনতামূলক উঠান বৈঠকের আয়োজন করা হয়। কার্যক্রমগুলো দৃশ্যমান ও প্রশংসার দাবি রাখলেও ৮ মার্চ ২০২১ তারিখে শেষ হতে যাচ্ছে প্রকল্পটি। যে সকল পরিবারগুলো এখনো সহায়তার আওতায় আসেনি এবং যে সকল বাঁধগুলো মেরামত হয়নি সেগুলোর বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার। বানভাসি মানুষের কথা চিন্তা করে দীর্ঘ মেয়াদি কর্মসূচি গ্রহণ করা যেমন, উপকূলীয় বাঁধ উঁচু ও মজবুত করার জন্য প্রকল্প গ্রহণ, নদ-নদীর নাব্যতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, জনগণ, স্থানীয় পরিষদ ও বেসরকারী সংগঠনকে যুক্ত করে বাঁধ রক্ষণাবেক্ষন কমিটি গঠন করা, দুর্যোগ মোকাবেলা সংক্রান্ত সরকারী কমিটিগুলো সক্রিয়করণ করা, দুর্যোগপ্রবন এলাকা বিবেচনা করে বছরের জলাবদ্ধতার সময়টিতে ভূক্তভোগী জনগণের জন্য সুষম খাদ্য-সামগ্রী সরবরাহ করা।

বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের ৮৫তম জন্মবার্ষিকী আজ

নড়াইল : আজ বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের ৮৫তম জন্মবার্ষিকী। ১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর যশোর জেলার গোয়ালহাটি গ্রামে শাহাদাতবরণ করেন তিনি। এদিন পাকিস্তানি হানাদারবাহিনীকে প্রতিরোধ এবং দলীয় সঙ্গীদের জীবন ও অস্ত্র রক্ষা করতে গিয়ে শহীদ হন নূর মোহাম্মদ। যশোরের শার্শা উপজেলার কাশিপুরে তাকে সমাহিত করা হয়। নূর মোহাম্মদ ১৯৩৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি নড়াইল সদর উপজেলার চন্ডিবরপুর ইউনিয়নের মহিষখোলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মোহাম্মদ আমানত শেখ ও মা জেন্নাতুন্নেছা, মতান্তরে জেন্নাতা খানম। বাল্যকালেই বাবা-মাকে হারান তিনি। সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। তবে, মতান্তর রয়েছে। মহিষখোলার নাম পরিবর্তন করে ২০০৮ সালের ১৮ মার্চ নূর মোহাম্মদ নগর করা হয়। নূর মোহাম্মদের কর্মময় জীবন থেকে জানা যায়, ১৯৫৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসে (ইপিআর) যোগদান করেন তিনি। বর্তমানে ‘বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশ’ (বিজিবি) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। এই বাহিনীতে দীর্ঘদিন দিনাজপুর সীমান্তে চাকরি করার পরে ১৯৭০ সালের ১০ জুলাই যশোর সেক্টরে বদলি হন তিনি। পরবর্তীতে ল্যান্স নায়েকে পদোন্নতি পান। ১৯৭১ সালে যশোর অঞ্চল নিয়ে গঠিত ৮নম্বর সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৮নম্বর সেক্টর কমান্ডার ছিলেন কর্নেল (অব:) আবু ওসমান চৌধুরী এবং সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মেজর এস এ মঞ্জুর। নূর মোহাম্মদ যশোরের শার্শা উপজেলার কাশিপুর সীমান্তের বয়রা অঞ্চলে ক্যাপ্টেন নাজমুল হুদার নের্তৃত্বে পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে দেশ শত্রুমুক্ত করেন। নূর মোহাম্মদের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নূর মোহাম্মদ ট্রাস্ট ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নূর মোহাম্মদ নগরে আগামীকাল (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে কোরআনখানি, শোভাযাত্রা, স্মৃতিস্তম্ভে গার্ড অব অনার প্রদান, পু®পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

আফিলগেটে ২ কেজি গাঁজাসহ আটক ২

ফুলবাড়িগেট : নগরীর আটরা শিল্প এলাকার আফিলগেট চেকপোষ্ট থেকে ২ কেজি গাজা সহ ২ মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার বেলা ২ টায় সাইকেল যোগে ফুলতলা থেকে খুলনার দিকে যাওয়ার পথে আফিলগেট চেকপোষ্টে নিয়মিত তল্লাশি চলাকালে পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ এস আই আনোয়ার হোসেন আটককৃতদের দেহ তল্লাশি চালিয়ে বুকে কসটেপ পেচিয়ে অভিনক কায়দায় ২ কেজি গাজা সহ আটক করে। আটককৃতরা হলো বেনাপোল রঘুনাথপুরের পোতারমাঠ এলাকার নুরইসলাম এর পুত্র হৃদয় (২১) ও একই এলাকার ইসলামের পুত্র আলমগির হোসেন (২৮)। খানজাহান আলী থানা অফিসার ইনচার্জ প্রবীর কুমার বিশ্বাস জানান, এ ঘটনায় থানায় মাদকদব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে।

২৮ ফেব্রুয়ারি পৌরভোট : মাঠে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী

ইউনিক ডেস্ক : আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় পঞ্চম ধাপের পৌরসভা নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতকরতে মাঠে অবস্থান নিয়েছেন পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবিসহ বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। তারা ভোটগ্রহণের পরের দিন পর্যন্ত মাঠে থাকবেন।

নির্বাচন উপলক্ষে ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন। পঞ্চম ধাপে ৩০টি পৌরসভায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে ভোটগ্রহণ করা হবে। সেই লক্ষ্যে মক ভোটিংও শেষ হয়েছে। এখন কেবল ভোটের অপেক্ষা। এছাড়া শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাত ১২টায় শেষ হচ্ছে সব ধরনের প্রচার। বন্ধ হচ্ছে মোটরসাইকেল চলাচলও।

ইসির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখা জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি ৩০ পৌরসভার ৩০টি মেয়র পদ, ৩০০টি সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ১০০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোটগ্রহণ করা হবে ৬৩৭টি ভোটকেন্দ্রের ৪ হাজার ৩২০টি ভোটকক্ষে। এতে ১৪ লাখ ১৪ হাজার ২১৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন। নির্বাচনে মেয়র পদে ১০০ জন, সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে ৩৬৬ জন এবং সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে ১ হাজার ৩১৮জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ভোটের মাঠে রয়েছে পুলিশ, এপিবিএন ও ব্যাটালিয়ন আনসারের মোবাইল টিম ১০০টি ও স্ট্রাইকিং ফোর্স ৩০টি, র‌্যাবের ১০০টি মোবাইল টিম, প্রত্যেক পৌরসভায় ২ প্লাটুন বিজিবি আর উপকূলীয় পৌরসভা প্রতি কোস্টগার্ড ১ প্লাটুন।

ভোটের দিন প্রতি সাধারণ কেন্দ্রে তিনজন পুলিশসহ ১১ জন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ৪ জন পুলিশসহ ১৩ জন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিয়োজিত থাকবেন।

নির্বাচনী আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিত করতে ৩০০ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আর নির্বাচনী অপরাধ আমলে নিয়ে সংক্ষিপ্ত বিচারকাজ পরিচালনার জন্য ৩০ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটও নিয়োজিত রয়েছেন।

যে সব পৌরসভায় ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের জন্য তফসিল ঘোষণা করেছিল ইসি এগুলোর মধ্যে রয়েছে- চট্টগ্রামের মীরসরাই, বারইয়ারহাট, রাঙ্গুনিয়া ও রাউজান, জামালপুরের জামালপুর সদর, মাদারগঞ্জ, দেওয়ানগঞ্জ ও ইসলামপুর, রাজশাহীর চারঘাট ও দুর্গাপুর, ভোলা সদর ও চরফ্যাশন, চাঁদপুরের মতলব ও শহরাস্তি।

এছাড়া অন্য পৌরসভারগুলোর মধ্যে রয়েছে- ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ ও মহেশপুর, লক্ষ্মীপুরের রায়পুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল, হবিগঞ্জ সদর, বগুড়া সদর, মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, যশোরের কেশবপুর, মাদারীপুর সদর, রংপুরের হারাগাছ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, জয়পুরহাট সদর, মাদারীপুরের শিবচর, ময়মনসিংহের নান্দাইল, যশোর সদর ও গাজীপুরের কালীগঞ্জ।

চট্টগ্রামের রাউজান পৌরসভায় সব প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। হাইকোর্টের আদেশে স্থগিত রয়েছে যশোর সদর পৌরসভা নির্বাচন। আর অন্য ধাপ থেকে যোগ হয়েছে সৈয়দপুর পৌরসভা। সব মিলিয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি ৩০টি পৌরসভায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

এদিন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৩১ নম্বর সাধারণ কাউন্সিলর পদে ও ঝিনাইদহের শৈলকুপা পৌরসভায় ৮ নম্বর কাউন্সিলর পদে ইভিএমে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া পিরোজপুর পৌরসভার ৮ নম্বর সাধারণ কাউন্সিলর ও সিরাজগঞ্জ পৌরসভার ৬ নম্বর সাধারণ ওয়ার্ডের উপ-নির্বাচন হবে ব্যালট পেপারে।

অন্যদিকে নরসিংদী পৌরসভার নির্বাচনে বন্ধ ঘোষিত চারটি কেন্দ্র, দামুড়্যার দু’টি কেন্দ্র ও সোনাইমুড়ি পৌর নির্বাচনের বন্ধ ঘোষিত একটি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণও অনুষ্ঠিত হবে।

বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটি’র মতবিনিময়

ইউনিক প্রতিনিধি : বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় কেডিএ’র চেয়ারম্যান ও কর্মকর্তা বৃন্দের সাথে বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটি’র মতবিনিময় সভা কেডিএ’র কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উন্নয়ন কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়- খুলনা সিটি কর্পোরেশন খুলনা উন্নয়নে আর একটি সেবামূলক জনপ্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠান অথচ কেডিএ সাথে কাজের সমন্বহীনতাও খুলনা উন্নয়ন অন্তরায়ের আর একটি কারণ। আমরা মনে করি, এ সমন্বহীনতা দূর হওয়া প্রয়োজন। খুলনায় অপরিকল্পিত নগরায়ন হচ্ছে, পরিকল্পিত রাস্তা, ড্রেন ছাড়া যত্রতত্র বহুতল বিল্ডিং গড়ে উঠছে। অন্যথায় আচিরেই খুলনা নগরী একটি বস্তিতে পরিণত হবে। খুলনায় এ মুহূর্তে দরকার পরিকল্পিত পরিবেশ বান্ধব আধুনিক মহানগরী গড়তে ৫০ বছরের পরিকল্পনা বিনির্মাণে। এ সকল বিষয়ে উন্নয়ন কমিটির পক্ষ থেকে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ’কে) আরো গতিশীল ও কার্যকরি করতে নিম্নোক্ত ৮টি প্রস্তাবনা উত্থাপন করা হয়-কেডিএকে একটি জনমুখী সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে পরিনত করতে কবে। ২) অপরিকল্পিত আবাসন প্রকল্প ও নিয়ম বহিভূত বহুতল ভবন নির্মান বন্ধ করতে হবে। ৩) খুলনার উন্নয়নে ডিটেল এরিয়াসহ ৫০ বছরের একটি মাষ্টার প্লান করতে হবে। ৪) প্রকল্প সমূহ বাস্তবায়নে সকল অনিয়ম, দীর্ঘসুত্রিতা ও দুর্নীতি বন্ধ করে জনভোগান্তি বন্ধ করতে হবে। ৫) খুলনা নগরীর আবাসিক এলাকায় নাগরিক সুবিধা রাড়াতে আরো নতুন নতুন সপিং কমপ্লেক্স, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিশুদের খেলাধুলার মাঠসহ মসজিদ, উপাসনালয় নির্মাণের পরিকল্পনা নিতে হবে। ৬) মংলা সমুদ্র বন্দর, বেনাপোল ¯’লবন্দর, ভোমরা ¯’লবন্দরের গুরুত্ব বিবেচনা করে খুলনা উন্নয়ন পরিকল্পনা করতে হবে। ৭) পদ¥া সেতু চালু হওয়ার পর খুলনা মহানগরির সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিবেচনায় বটিয়াঘাটা, ডুমুরিয়া, রুপসা, দিঘলিয়া তেরোখাদা উপজেলার আংশিক মহানগরের সাথে সম্পৃক্ত করে আধুনিক নগর পরিকল্পনার আওতায় নিয়ে আসতে হবে। ৮) রূপসা বাইপাস শিপইয়ার্ড রোড, নিরালা রোড, গল্লামারি থেকে রায়ের মহল, আড়ংঘাটা থেকে রায়েরমহল সড়কের কাজ দ্রুত শুরু করতে হবে। এ প্রসঙ্গে কেডিএ’র চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ মাহবুবুল ইসলাম বলেন “আমি খুলনার উন্নয়নে প্রতিটি প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে শেষ করবার চেষ্টা করবো এবং আগামী ২০২২ সালের জুনে শিপইয়ার্ড সড়ক এর কাজ শেষ হবে। আধুনিক মহানগরী গড়তে পরিকল্পিত ভাবে যা যা করনীয় সে বিষয়ে আমি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সচেষ্ট থাকবো।” মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ উজ জামান, মহাসচিব শেখ মোহাম্মাদ আলী, কেসিসির কাউন্সিলর শেখ হাফিজুর রহমান হাফিজ, খুলনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি এস এম জাহিদ হোসেন, দৈনিক সময়ের খবরের সম্পাদক মো: তরিকুল ইসলাম, উন্নয়ন কমিটির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব শেখ মোশাররফ হোসেন, মিনা আজিজুর রাহমান, এ্যাড. কুদরত-ই-খুদা, অধ্যাপক মো: আবুল বাসার, মিজানুর রহমান বাবু, মো: মনিরুজ্জামান রহিম, মিজানুর রহমান জিয়া, বিশিষ্ট সাংবাদিক এইচ এম আলাউদ্দিন, কেডিএ’র প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী মো: সাবিরুল আলম, পরিচালক প্রশাসন ড. মো: শাহানুর আলম, পরিচালক এ্যস্টেট মো: সাদেকুর রহমান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো: শামীম জেহাদ, প্রধান অর্থ ও হিসাব রক্ষণ অফিসার প্রকৌশলী জি এম মাসুদুর রহমান, স্থপতি জিনিয়া হক পিংকী, উপ-পরিচালক মো: মামুনুল আবেদীন, পরিকল্পনা অফিসার মো: তানভীর আহমেদ, সহ:প্রোগ্রামার নাজমুল হুদা, সাঈদুল হক, এম এম হোসেন আলী।

দাকোপের চিহ্নিত প্রতারক জালাল গ্রেফতার

দাকোপ প্রতিনিধি : দাকোপের চিহ্নিত প্রতারক একাধীক মামলার পরোয়ানাভুক্ত সাজাপ্রাপ্ত আসামী জালাল গ্রেফতার হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীসহ জনমনে স্বস্থির বহিঃপ্রকাশ।
নিজেকে কখন শেখ পরিবারের আত্নীয় কখন প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ঘনিষ্ঠজন এমন পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন তদ্বির বাণিজ্যসহ নানা ভাবে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া যার পেশা। প্রশাসনসহ প্রয়োজনে ক্ষমতাধর শ্রেনী পেশার মানুষকে নিজ স্বার্থে ব্যবহারের প্রচেষ্টা থাকে এই আছাদুজ্জামান জালালের। তার কথামত কাজ না হলে হয়রানীমূলক মামলায় জড়িয়ে দিয়ে থাকে। জালাল কর্ত্তৃক এমন অসংখ্য মামলার শিকার হয়েছেন দাকোপের বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ। পানখালী ইউনিয়নে জন্ম নেওয়া জালাল বেড়ে ওঠে খুলনা ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে। বর্তমানে তার নামে বটিয়াঘাটা থানার একটি মামলায় ৩ বছরের সাজাসহ দাকোপে ৩ টি, মোংলা, ফকিরহাটের একাধীক মামলায় গ্রেফতারী পরোয়ানা আছে। ধুরন্ধর জালাল প্রভাবশালী মহলের নাম ভাঙিয়ে ঢাকায় আত্নগোপানে থেকে দাকোপে তার বাহিনী দিয়ে মানুষের জমি দখল, ঘের দখলসহ নানা অপকর্ম করে আসছিল। যে কারনে খুলনা জেলা প্রশাসক মোঃ হেলাল হোসেন এবং জেলা পুলিশ সুপার মোঃ শফিউল্লাহ তাকে গ্রেফতারের উদ্যোগ নেয়। তারই ধারাবাহিকতায় দাকোপ থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতারের জন্য গত কয়েকদিন প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছিল। সর্বশেষ গত ২৫ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকার হাতিরঝিল থানা এলাকা হতে দাকোপ থানার এস আই অখিল রায় তাকে গ্রেফতার করে। এ সময় হাতিরঝিল থানা পুলিশ গ্রেফতার অভিযানে সহায়তা দেয়। তাকে গ্রেফতার করায় দাকোপে জনমনে স্বস্থির নিঃশ্বাস, থানা পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়েছে এলাকাবাসী। পানখালী ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল কাদের জালালকে চিহ্নিত প্রতারক আখ্যা দিয়ে তার উপযুক্ত শাস্থি কামনা করেছেন। অনুরুপ মন্তব্য করেছেন জালালের হয়রানীমূলক মামলার শিকার দাকোপ প্রেসক্লাবের সভাপতি শিপন ভূইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ মোজাফ্ফার হোসেন। এ বিষয়ে দাকোপ থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ সেকেন্দার আলী বলেন, খুলনা জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে পলাতক আসামী জালালকে গ্রেফতারে আমরা গত কয়েকদিন কঠোর পরিশ্রম করে আসছি। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার তাকে গ্রেফতারে সক্ষম হই। শুক্রবার সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে।

কলারোয়ায় ভাই-ভাবীর হামলায় ছোট ভাই হাসপাতালে

কলারোয়া : কলারোয়ায় পারিবারিক বিরোধের জের ধরে বড় ভাইয়ের হাতুড়ি পিটায় ছোট ভাই আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এঘটনায় কলারোয়া থানায় একটি অভিযোগ হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালে আহত উপজেলার হাটুনি মহলাদার পাড়া এলাকার আব্দুল গফুরের ছেলে রুহুল আমিন (২৭) জানান-তার ভাই রহমত আলী, আইয়ুব আলী ও ভাবী চামিলী খাতুন এর সাথে দীর্ঘ দিন ধরে টাকা পয়সা ও স্বর্ণের গহনা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। তার দুই ভাই ও ভাবী ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা, স্বর্ণের চেইন, কানের দুল কৌশলে নিয়ে আত্নসাৎ করে। এই টাকা ও স্বর্ণের গহনা চাইলে তারা বিভিন্ন ভাবে তালবাহনা করে ঘুরাতে থাকে। এনিয়ে তাদের সাথে বিরোধ রয়েছে। ২৪ তারিখ বেলা সাড়ে ৩টার দিকে রুহুল আমিনের স্ত্রী শ্রাবন্তী খাতুন তার ব্যবহৃত স্বর্ণের চেইন ও কানের দুল ফেরত চাইলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ করে। এতে প্রতিবাদ করাতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে দলদ্ধ হয়ে লোহার হাতুড়ি নিয়ে এলোপাতাড়ী ভাবে পিটিয়ে জখম করে ফেলে রেখে যায়। পরে এলাকাবাসী এগিয়ে এসে তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে কলারোয়া সরকারী হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি। এঘটনায় আহত রুহুল আমিন বাদী হয়ে ৩জনের নাম উল্লেখ করে কলারোয়া থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছে।

দিঘলিয়ায় ডোবা থেকে শিশুর লাশ উদ্ধার

দিঘলিয়া : খুলনার দিঘলিয়ার একটি ডোবা থেকে তামিম মোল্লা নামের সাত বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৪ টার দিকে উপজেলার লাখোহাটি গ্রামের একটি ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শিশুটির লাশ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, উপজেলার বারাকপুর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের লাখোহাটি গ্রামের মোঃ তরিকুল মোল্লার ছেলে বৃহস্পতিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) মাগরিবের নামাজ আদায়ের জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। তবে রাত পেরিয়ে গেলেও সে আর বাড়ি ফিরে আসেনি। এ ঘটনায় শুক্রবার সকালে স্থানীয় মসজিদ থেকে শিশুটির নিখোঁজের বিষয়ে মাইকিং করা হয়। পরে বিকেল ৪ টার দিকে স্থানীয় একটি ডোবা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশটি নারিকেল গাছের পাতা দিয়ে ঢাকা ছিল।

এ বিষয়ে দিঘলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি-তদন্ত) রিপন কুমার বলেন, শুক্রবার বিকালে ৪টার দিকে লাখোহাটি গ্রামের একটি ডোবায় হাত-পা-মুখ বাধা অবস্থায় তামিমের লাশ দেখতে পায় স্থানীয়রা। সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। তামিমের বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার দূরে ডোবাটি অবস্থিত। শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে। তবে কি কারণে শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে সে বিষয়ে এখনো কিছু জানা যায়নি। তদন্তের পর বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে।