যশোরে ৪৬ বছরেও পায়নি শহীদ পরিবারের মর্যাদা

বিজয়ের ৪৫ বছর পার যশোর শহরের ঘোপের দুই সন্তান হারিয়ে ৪৬ বছরে শহীদ পরিবারের মর্যাদা পায়নি

রবিউল ইসলাম, যশোরঃ পাকিস্তান আমলের ছোট্ট একটি শহর যশোর। সেই শহরের ঘোপ এলাকায় বাস করতেন ইব্রাহিম মোল্যা। তার নয় সন্তানের সংসারে সুখের কোন অভাব ছিল না। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালিন সময়ে সুখি পরিবারে নেমে আসে অমানিশার ছায়া। তাদের কেউ কেউ পরিবার নিয়ে অন্য কোথাও,কেউবা দুঃখ স্মৃতি বুকে নিয়ে বাস্তভিটায় বসবাস করছেন। ১৯৭১ সালের যুদ্ধ চলাকালিন সময় ঘোপ এলাকার ইব্রাহিম মোল্লার বড় ছেলে বাবর আলি মোল্লা(২৫) ওরফে বাবুকে তার নানা বাড়ি যশোরের শালথা ফুলবাড়ি এলাকা থেকে মুক্তি বাহিনি বলে পাকিস্তানি হায়েনারা ধরে নিয়ে যায়। যশোরের শালিখা থানার ব্রিজের নদীর পাড়ে গুলি করে হত্যা করে পানিতে ভাসিয়ে দেয়। খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবারের লোকজন বাবুকে খুঁজতে থাকে এবং এক পর্যায়ে জানতে পারে তাকে মেরে ফেলেছে পাক-হানাদার। মৃত্যু কালে এক সন্তান রেখে যান। স্বজন হারা পরিবার হা হা করে ঘুরতে থাকে আর লাশ খুঁজতে থাকে। তার কদিন পরেই মেজো ছেলে ইসমাইল মোল্লা (১৯)ওরফে বেটা ভাই হারাবার শোকে রওনা হয় নানাবাড়ি। এরপর বাড়ির লোকজন পরের দিন বেটাকে নানা বাড়ি না পেয়ে খুঁজতে থাকে। দুদিন পর জানতে পারে পাকহায়েনার দালালরা যশোর নিউ মার্কেট এলাকায় জবাই করে বেটাকে হত্যা করেছে। তখন পুরো পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে। পরিবারের উপার্জনক্ষম দুই ভাইয়ের শহীদ হবার খবর শুনতে পেয়ে বাবা ইব্রাহিম মোল্যা পাগল হয়ে যায়। সন্তান হারাবার শোকে দিক-বিদিক খোঁজাখুঁজি করতে থাকে। কিন্তু কোথাও দুই সন্তানের লাশ খুঁজে পায়নি। জোয়ান দুই ছেলেকে হারিয়ে পিতা একপ্রকার ১৯৭১হতে বাকি জীবনটা নিজ বাসভবনে কেঁদে কেঁদেই মারা যান। বাবু-বেটা নামে তৎকালিন সময়ে অনেকেই চিনতেন এবং বয়জৈষ্ঠরা যারা যশোরের অনেকেই এদের নাম শুনতে আফসোস করেন। বাবু যশোর মুসলিম একাডেমি স্কুল থেকে এসএসসি পরিক্ষা দিয়েছিল। তার এক ছেলে আছে। যার নাম মাছুদ মোল্যা। বেটাও যশোর মুসলিম একাডেমি বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণির ছাত্র ছিল। ইব্রাহিম মোল্লা নিজ নাম সই ছাড়া লেখাপড়া জানতেন না। ১৯৬০/৬১ সালে ঘোপগ্রামের নিজ পৈত্রিক সম্পত্তি সরকার নিয়ে নেয়। যার আংশিকে সরকাটি টিচার ট্রেনিং কলেজ, কেন্দ্রীয় কারাগার, সিএন্ডবি গ্যারেজ, ফুড অফিস, ঘোপ কবর স্থান, পিডিবি ষ্টাফ কোয়াটার নির্মাণ যাহা যশোর রেকর্ড রুমে প্রমান মেলে। এই মোল্লা পরিবার যশোর ঘোপ এলাকার আদি স্থানীয় বাসিন্দা ঘোপের সকলের কাছে সৎ পর-উপকারি ভাল মানুষ হিসাবে ইব্রামোল্লা এক নামেই পরিচিত। বাবু বেটার মা ছবিরন নেছার জানা যায়, ওই সময় যারা বাবু ও বেটাকে চিনতেন এবং তাদের শহীদ হবার ঘটনা জানতেন তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন এখনও বেঁচে আছেন। যশোর ঘোপ এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তদের অতি চেনামুখ বাবু-বেটা, এক সাথে বড়, বেড়ে ওঠা এবং যশোরের অসংখ্যক মানুষের পরিচিত মুখ ছিল এই বাবু-বেটা । তারা হলেন, শহরের ঘোপ এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত আলী রেজা রাজু, তার ছোট ভাই সাবেক জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রাজেক আহমেদ, যশোর জেলা জাসদের সভাপতি রবিউল আলম, তার ভাই সদু আলম, ঠিকাদার মোহন আহমেদ, ব্যবসায়ী আব্দুল মুন্নাফ মনু মিয়া, তার ভাই আবুল কাশেম, টুকু মিয়া, ফকু মিয়া, শেখ বাবু মোহাম্মদ, আযাহার আলি কুন্টে, আজাদ রহমান, প্রয়াত চঞ্চল আহমেদ, তোতা মোল্যাসহ যশোরের আরও অনেকে। শুধু এই পরিবারের দেখভাল করার তেমন কোন জনবল না থাকায় স্বাধীনতার ৪৬ বছর পর আজো তাদেরকে খোঁজ রাখেনি বাংলাদেশ সরকার।
সবুরন নেছা এই প্রতিবেদককে তার সন্তানদের শহীদের বর্ননা এবং লাশ পযর্ন্ত না পাবার দুঃখের কথা বলতে গিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, আমার সন্তানেরা কি দোষ করেছিল যে তাদের এভাবে বেওয়ারিশভাবে পৃথিবী থেকে চলে যেতে হলো। কিন্তু অতি দুঃখের কথা আজও আমাদের এই শহীদ পরিবারটি শহীদের মর্যাদা পায়নি । ইতোমধ্যে আমার স্বামী ইব্রাহিম মোল্যা পরলোক গত হয়েছেন। আমি দেখে যেতে পারব কিনা জানি না তবে সমস্ত যশোর বাসি হয়ত একদিন জানবে আমার সন্তানের রক্তে রঞ্জিত হয়ে এদেশের স্বাধীন পতাকার জন্ম হয়েছে। বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের প্রতি অত্যন্ত সহানুভূতিশীল। তার প্রতি আমার সন্তানের রক্তের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন হয়েছে সে দেশে দাঁড়িয়ে আমার এই অন্তিম সময়ে আকুল আবেদন আমার পরিবার কি শহীদের মর্যাদা পেতে পারেনা ? প্রধানমন্ত্রী হয়ত আমার এই অন্তিম আবেদন উপযুক্ত তদন্ত পূর্বক শহীদের মর্য়াদা দিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এবং তা আমার এই শেষ জীবনে হয়ত দেখে যেতে পারবো।
ছবুরন নেছা বর্তমান ৪ ছেলে ১ নাতি ৩ মেয়ে নিয়ে কোন রকমে সামান্য বাস্তভিটা মোল্লা বাড়ি-৫০/এ ঘোপ নওয়াপাড়া রোড, কোতয়ালি সদর যশোর বেঁচে আছেন।

আজ আমি ২য়

প্রথম হবার স্বপ্ন দেখতাম সেই ছোটবেলা থেকে।
তবে সবাই চাইত অন্তত ২০ এর মধ্যে যেন থাকি।কত চেস্টা করেছি; পারিনি কোনদিন।
খুব কস্টে ক্লাস ৯ম এ রোল হয়েছিল ১৭।
সে কি আনন্দ আমার।
ক্লাসে ২৬,৩৯,৪৬ রোল হওয়া মেয়ের সে আনন্দ কে দেখে!
আব্বা সেই ১৭ রোল হওয়া মেয়ের পাগলামী দেখে হাসতে হাসতে বলেছিল
” দেখবি একদিন ঠিক ১ম বা ২য় হবি।”
আজ খুব সেই দিনটা মনে পড়ছে।
আজ আমি ২য় হয়েছি। জীবনের পরীক্ষায়।

সেই তোমাকে বলছি ভেবেছিলাম
আমি ই তার জীবনে প্রথম না হলে ও শেষ।
সাদা মাঠা জীবনে সেই আমার প্রথম রং।
কত স্বপ্ন সে রঙে জীবন রাঙানোর।
একদিন চৈত্রের দুপুরে হঠাৎ করে কাল বৈশেখী ঝড় এসে বলে গেল
আমি শেষ নই
তার আছে আরে রঙ, রাঙানোর অনেক মানুষ।
নিমেষে হারিয়ে গেলাম আমি।
দুমড়ে মুচড়ে মুষড়ে পড়া এক জীবন।

তারপর এক নতুন যুদ্ধজয়ের গল্প।
হামাগুড়ি দিতে দিতে নতুন করে হাটতে শেখা।
নতুন চলার পথে নতুন মানুষ।
স্বপ্ন বাস্তব হতে দেখা।
তারপর সেই ঝড় এসে বলে গেল সে পিছু ছাড়েনি।
আবার নতুন করে বলে গেল
“কর তুমি প্রস্থান, নতুন কে দেও তোমার স্থান।”
সবছেড়ে নতুন করে একাকিত্বের সাথে পথচলা।

সে পথে হঠাৎ দেখা
অনেক পুরানো খুব কাছের অচেনা মানুষ।
আস্তে আস্তে তাকে নিজের করে পাওয়া।
অচেনা সেই কাছের মানুষ আমাকে ২য় স্থান করে দিল।

আজ আমার স্থান ২য়।
তবু সেই পেছনের বেঞ্চেই পড়ে রইলাম।
আমি তো ২য় হতে চাইনি
চাইনি ১ম ও হতে।
আমি চেয়েছিলাম একমাত্র হতে।
একমাত্র উত্তীর্ণ।
তবু ও জীবন আমাকে ২য় করে দিল।

– অনু…

সুন্দরবনে বন্দুকযুদ্ধে বনদস্যু গামা নিহত, ১১ জেলে উদ্ধার

বিশেষ প্রতিনিধি, খুলনাঃ সুন্দরবনে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে পলাশ ওরফে গামা মণ্ডল (৩৫) নামে এক বনদস্যু নিহত হয়েছেন।  মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সুন্দরবনের আড়পাঙ্গাসিয়া নদীর (বাটলু) ভায়রার খাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১১জন জিম্মি জেলে, দু’টি নৌকা, ২টি অস্ত্র ও ৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে। গামা মণ্ডল দস্যু মুন্না বাহিনীর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড। তার বাড়ি খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার শরাপপুর গ্রামে বলে জানা গেছে।

কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এনামুল হক বলেন, দস্যু মুন্না বাহিনীর সদস্যরা মুক্তিপণের দাবিতে ১১জন জেলেকে জিম্মি করে। এ খবর পেয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তারা সুন্দরবনের আড়পাঙ্গাসিয়া নদীর (বাটলু) ভায়রার খাল এলাকায় অভিযান শুরু করে। এ সময় দস্যুরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে পাল্টা গুলি ছুঁড়তে থাকে। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে গুলি ছুঁড়ে। এক পর্যায়ে মুন্না বাহিনী পিঁছু হটে। এ সময় ঘটনাস্থলে মুন্না বাহিনীর সেকেন্ড-ইন-কমান্ড পলাশ ওরফে গামাকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে ১১ জন জিম্মি জেলে, দু’টি নৌকা এবং ১টি শার্টার গান, ১টি টুটুবোর রাইফেল ও ৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

এছাড়া উভয়পক্ষের গোলাগুলিতে কয়রা থানার সেকেন্ড অফিসার উপ পরির্দশক (এসআই) রাজিউল আমিন এবং কনস্টেবল মো. লিটন ও হারিজ আহত হন বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

সাপ্তাহীক সোনালী দিন পএিকার ২৬ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন

রবিউল ইসলাম মিটু, যশোরঃ যশোর থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহীক সোনালী দিন পএিকার ২৬ বছর পুর্তি উপলক্ষ,ও অনলাইন সংস্করনের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান মঙ্গলবার সকালে প্রেসক্লাব যশোরের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথী হিসাবে যশোরের জেলা প্রশাসক আশরাফ উদ্দিন উপস্তিত থেকে,উক্ত মোড়ক উন্মোচন করেন। সাপ্তাহীক সোনালী দিন পএিকার প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক,এডঃ বোরহান উদ্দিন জাকিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত আলোচনা সভায় বিশষ অতিথী হিসাবে উপস্থিত ছিলেন,যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান,অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন,যশোর এম,এম, কলেজের প্রিন্সিপাল মিজানুর রহমান, দৈনিক গ্রামের কাগজ পএিকার সম্পাদক, মোবিনুল ইসলাম, দৈনিক লোক সমাজের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আনোয়ারুল কবির নান্টু, প্রেসক্লাব যশোরের সাধারন সম্পাদক,তৌহিদুর রহমান, দৈনিক স্ফুলিঙ্গ সম্পাদক মিয়া আব্দুস সাওার, শিক্ষক তারাপদ দাস,এবং কবি হুসাইন বিল্লাহ ও সাপ্তাহীক সোনালী দিন পএিকার সম্পাদক এইচ এম, সিরাজ, নির্বাহী সম্পাদক এইচএম আহসান বিপ্লব প্রমুখ।
অনষ্ঠান শেষে ৫জন গুনিজনকে বিশেষ ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

সিন্ডিকেট চক্রের সাথে বনবিভাগের আতাত

আবু হোসাইন সুমন, মোংলা প্রতিনিধিঃ মোংলায় সুন্দরবন থেকে অবৈধভাবে আহরণ করা প্রায় ২০ লাখ টাকা মূল্যের জব্দকৃত কাঁকড়া মাত্র ১ লাখ ৮০ হাজার টাকায় নিলামে বিক্রি করেছে বনবিভাগ। মঙ্গলবার পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই স্টেশনে (মোংলা) এ নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে একটি সিন্ডিকেট চক্র এ নিলাম প্রক্রিয়ায় নাম মাত্র অংশ নিয়ে রপ্তানীযোগ্য ২০৩০ কেজির কাঁকড়ার চালানটি ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছে। আর এতে কয়েক লাখ টাকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে বনবিভাগ। সাদা মাছ পরিবহনের অনুমতি পাস নিয়ে কাঁকড়া বহনের অভিযোগে বনবিভাগ ও কোস্ট গার্ড ওই কাকড়ার ট্রলার দুটি আটক করে।
বনবিভাগ জানায়, সোমবার দিনগত রাত ১২টার দিকে মোংলার পশুর নদীর জয়মনি ও চিলা এলাকায় পৃথক অভিযান চালায় বনবিভাগ ও কোস্ট গার্ডের টহল দল। অভিযানকারীদের উপস্থিতি টের পেয়ে ট্রলারের লোকজন নদীতে ঝাপ দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে ট্রলার দুটিতে তল্লাশী চালিয়ে একটি ট্রলারে থাকা ২ হাজার কেজি এবং অপরটিতে ৩০ কেজি কাঁকড়া পায় বনবিভাগ। অবৈধভাবে পরিবহনের অভিযোগে কাকড়াসহ ওই ট্রলার দুইটি আটক করা হয়। চাঁদপাই স্টেশনে কাঁকড়া বোঝাই ট্রলার দুটি আনার পর রাত থেকে সকাল পর্যন্ত নিলাম প্রক্রিয়ায় ২০ লাখ টাকার কাঁকড়া ভাগিয়ে নিতে তৎপর হয়ে ওঠে স্থানীয় সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট চক্র। শেষ পর্যন্ত সকাল ৯ টায় তড়িগড়ি করেই একটি ট্রলারে থাকা ২০৩০ কেজি কাকড়া নিলামে ওঠায় বনবিভাগ। জয়মনি ও বৈদ্যমারী এলাকার খালেক খান, ইব্রাহিম খান, শুকুর সরদার, ইউসুফ শেখ, মামুন হাওলাদার, মেহেদী জমাদ্দার ও মালেক ফরাজীসহ ১০/১৫ জনের একটি সিন্ডিকেট চক্র সরাসরি ও নেপথ্যে থেকে নিলামে অংশ নেয়। রপ্তানীযোগ্য প্রতি কেজি এ কাঁকড়ার বাজারমূল্য ১ হাজার টাকা থেকে ১২শ’ টাকা। কিন্তু নিলামে নেয়া প্রতি কেজি কাঁকড়ার (ভ্যাটসহ) মূল্য ধরা হয়েছে মাত্র ৯০ টাকা ২৫ পয়সা। সেই হিসেবে ২০ লাখ টাকা সমমূল্যের কাঁকড়া মাত্র ১ লাখ ৮০ হাজার টাকায় নিলাম প্রক্রিয়ায় ভাগিয়ে নিয়েছে সিন্ডিকেট চক্র। সূত্র জানায়, আটক দুটি ট্রলারের মধ্যে একটি ট্রলারের সাদা মাছ পরিবহনের পাস মোংলা উপজেলার বাশতলা গ্রামের রেজাউল করিম এবং অপর ট্রলারটির দাকোপ উপজেলার পাসাখালী গ্রামের শেখ মোঃ আবজালের নামে। তবে ৩০ কেজি কাঁকড়াসহ আটক রেজাউল করিমের ট্রলারটি নাম মাত্র জরিমানা ও সমঝোতার অবৈধ লেনদেনে ছেড়ে দেয় বনবিভাগ। বনবিভাগের বিধি অনুযায়ী জরিমানা ফি (রাজস্ব) দিয়ে ট্রলার মালিক কিংবা পরিবহন অনুমতিকারী কাঁকড়াসহ ট্রলারটি ছাড়িয়ে নেয়ার সুযোগ থাকলেও বনবিভাগ ও সিন্ডিকেট চক্রের অর্থ লোভের কারণে সেই সুযোগ দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি বনবিভাগের কথিত ওই নিলামে অংশ গ্রহণের সুযোগ দেয়া হয়নি ট্রলার ও কাঁকড়ার মালিক পক্ষের কেউকে। ফলে ট্রলার ও কাঁকড়ার মালিক প্রায় ৩০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন। আর বনবিভাগ নাম মাত্র রাজস্ব আদায় করলেও অসাধু বন কর্মকর্তা ও সিন্ডিকেট চক্র আর্থিকভাবে বেশ লাভবান হয়েছে। নিলামের ক্ষেত্রে মাইকিংসহ বিভিন্ন প্রচারণার বিধি বিধান থাকলেও তাও করেনি বনবিভাগ। এ বিষয় বনবিভাগের চাঁদপাই স্টেশন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আজাদ কবির জানান, ট্রলারসহ জব্দ কাঁকড়ার নিলাম প্রক্রিয়া সঠিক ভাবে সম্পুর্ণ হয়েছে। প্রকাশ্য এ নিলামে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অংশ গ্রহণ করেছে বলে দাবী তিনি দাবী করেছেন। তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মালেক ফরাজি সর্বোচ্চ দরদাতা হওয়ায় তাকে ২ হাজার কেজি কাঁকড়া বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। এ বিষয় বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো: মাহমুদুল হাসান বলেন, ওই নিলাম প্রক্রিয়ায় চাঁদপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা মেহেদীজ্জামানসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন তাই সবকিছু স্বচ্ছতার সাথেই হয়েছে। আর নিলাম প্রক্রিয়ায় কোন অনিয়ম হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। অপর একটি সূত্র জানায়, প্রায় ৩ হাজার কেজি কাঁকড়া অনুমান নির্ভর করে ২ হাজার কেজি দেখিয়ে নিলামে ওঠানো হয়। আর এ ক্ষেত্রে বনবিভাগের সঙ্গে সিন্ডিকেট চক্রের আগে ভাগেই গোপন সমঝোতা হয়।

দুই কাধে দুই কুলাঙ্গার!!!

আবুল কাশেমঃ ১. মানুষের দুই কাধে যে দুজন ফেরেস্তা চেপে আছে একথা প্রথম জানতে পারি সম্ভবত ৮ বছর বয়সে। এই গুপ্ত খবরটা দিয়েছিলেন আমার প্রিয়তমা গ্রান্ডমাদার। একথা শুনেই আমি বিশ্বাস করে নিয়েছিলাম, তখন থেকে কাধদুটো একটু করে বেশি ভারি ভারি লাগতো। তার বসার সময় তাদের ওজন কতো ছিলো জানিনা, আমার ওজন দিনে দিনে বেড়েছে, তাদের ওজনের কি অবস্থা কে জানে?
২. আমার বোন জাহেদা স্বামীর ঘরে দারিদ্র্যের থাবা থেকে মুক্তির স্বপ্ন দেখতে দেখতে দুটো বাচ্চার জননী হয়েছে, দারিদ্র তাকে ছাড়েনি। অতঃপর সে এক সুযোগ পেয়ে গেলো সৌদিআরবে গৃহকর্মী হিসেবে কাজে যাওয়ার। ৭ বছর বয়সী বড় ছেলেটা তাকে ছাড়তে চাইলো না, মাকে সে বড় ভালোবাসে। জাহেদা ছেলেকে বুঝালো, নবী সঃ এর জন্মভুমি, গেলে শুধু জীবীকা না, ফ্রি হজ পালন করে পরকালের সওয়াব কামায় হবে। সব বাধা কাটিয়ে সন্তানদের মায়ার বাধন ছেড়ে জাহেদা এক সন্ধ্যায় চলে গেলো রিয়াদ হয়ে পবিত্র ভুমি মদিনায়। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলো, একটা গাড়িতে করে জাহেদাকে তার কর্মগৃহে নিয়ে যাচ্ছে দুজন আরব শেখ। জানালা দিয়ে সোনালী শহর দেখে আনন্দে জাহেদার মন ভরে গেলো, চোখে ভেসে উঠলো অভাবক্লেষ্ট দুই ছেলেমেয়ের জ্বলজ্বলে চোখগুলো। জাহেদাকে একটা বাসায় নিয়ে যাওয়া হলো, গোসল করিয়ে একটা ড্রইং রুমে বসানো হলো, কিছুক্ষণ পর তাকে একটা রঙ্গিন কক্ষে নিয়ে যাওয়া হলো, তারপর…. রক্তাক্ত স্তন, দুচোখ বেয়ে নেমে আসা জলশ্রোত, ক্ষতবিক্ষত জননাঙ্গ, ভাঙ্গা গলার চাপা আর্তনাদ। কাধে তারর চেপে আছে দুই ফেরেশ্তা। তারা শুধু লিখেই চলেছে, কি যে লিখছে তা কেউ জানেনা। পবিত্র নগরীর মানুষদের কাধের ফেরেস্তারাও মনে হয় পবিত্র। আমার বোনের চিৎকার আর সতীত্ব রক্ষার আর্তনাদের সময় পবিত্র মানুষগুলোর কাধের ফেরেস্তারা কি লিখেছে আমি তা জানতে চাই না। আমি জানতে চাই আমার বোন জাহেদার কাধের দুজন তখন কি লিখেছে, আমার বোনের পাপ নাকি পূণ্য? আমার বোন জীবীকার টানে, সন্তানদের মুখে হাসি ফোটানোর আশায় পবিত্র নগরকে বিশ্বাস করে যদি পাপ করে থাকে, তবে যারা তাকে খুবলে খেয়েছে তারা কি তাহলে পুণ্য করেছে? কি লিখেছে দুই কাধের দুই কুলাঙ্গার? কি বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছি আমরা? জবাব চাই, হে পবিত্র নগরীর শ্রষ্টা, তোমাকে জবাব দিতেই হবে। আমার বোনের সন্মান লুন্ঠনের দৃশ্য দেখে কাধে বসে বসে তোমার দুই প্রতিনিধি মুচকি হেসেছে, এজন্য আমি তোমাকে কাঠগড়ায় দাড় করাবো, তুমি তৈরি থাকো।

পাকিস্তানপ্রীতি একটি মানসিক রোগ

আরিফ রহমানঃ বিপিএল এর আসরে পাকিস্তানী ক্রিকেটারেরা খেলছেন। একটু উন্নত দেশে কাজ করে পরিবারের জন্য দুটো পয়সা কামিয়ে নেয়ার বিষয়টাতে আমরা খুব একটা আপত্তি করতে পারি না। তবে ভয়াবহ সমস্যাটা হচ্ছে টেলিভিশনে যখন দেখতে পাচ্ছি আমাদের প্রজন্মের একটা বড় অংশ পাকিস্তানী প্লেয়ার কিংবা আফ্রিদিদের জন্য চিৎকার-চেঁচামেচি করে মাঠ গরম করে রাখছে। যখন টেলিভিশনে দেখতে পাই শুধু আফ্রিদিকে এক পলক দেখার জন্য মাঠে ললনাদের ভিড়।
এই ললনাদের উদ্দেশ্য কিছু ঘটনা তুলে ধরতে চাই-
“প্রতিটি মেয়ের মুখমণ্ডল বিষণ্ণ, বিমর্ষ ও বিষময় দেখেছি। মিলিটারি জীপে ও ট্রাকে যখন এভাবে যুবতী মেয়েদের রাজারবাগ পুলিশ লাইনে আনা হতো তখন পুলিশ লাইনে হৈচৈ পড়ে যেত, পাঞ্জাবী বিহারী ও পশ্চিম পাকিস্তানী পুলিশ জিভ চাটতে চাটতে ট্রাকের সম্মুখে এসে মেয়েদের টেনে হিঁচড়ে নামিয়ে দিয়ে তৎক্ষণাৎ দেহের পোশাক পরিচ্ছদ কাপড় চোপড় খুলে তাদেরকে সম্পূর্ণভাবে উলঙ্গ করে আমাদের চোখের সামনেই মাটিতে ফেলে কুকুরের মতো ধর্ষণ করতো। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ও অঞ্চল থেকে ধরে আনা এসকল যুবতী মেয়েদের সারাদিন নির্বিচারে ধর্ষণ করার পর বিকালে আমাদের পুলিশ হেডকোয়ার্টার বিল্ডিংয়ের উপর তাদেরকে উলঙ্গ করে চুলের সঙ্গে লম্বা রডের সাথে বেঁধে রাখা হতো। রাতের বেলায় এসব নিরীহ বাঙ্গালী নারীদের উপর অবিরাম ধর্ষণ চালানো হতো। আমরা গভীর রাতে আমাদের কোয়ার্টারে বসে মেয়েদের আর্তচিৎকার শুনে অকস্মাৎ সবাই ঘুম থেকে ছেলেমেয়েসহ জেগে উঠতাম। সেই ভয়াল ও ভয়ঙ্কর চিৎকারে কান্নার রোল ভেসে আসতো, “বাঁচাও, আমাদের বাঁচাও, তোমাদের পায়ে পড়ি, আমাদের বাঁচাও, পানি দাও, এক ফোটা পানি দাও, পানি পানি।”
-সুবেদার খলিলুর রহমান, রাজারবাগ পুলিশ লাইনস
১৯৭১ সালে ধর্ষণে লিপ্ত এক পাকিস্তানী মেজর তার বন্ধুকে লেখা চিঠির কথা- “আমাদের এসব উশৃঙ্খল মেয়েদের পরিবর্তন করতে হবে, যাতে এদের পরবর্তী প্রজন্মে পরিবর্তন আসে। তারা যেন হয়ে ওঠে ভালো মুসলিম এবং ভালো পাকিস্তানী”। ১৯৭২ সালে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে আটক এক পাকিস্তানী অফিসারের কাছে যখন জানতে চাওয়া হয় কেন তারা এরকম নির্মমভাবে ধর্ষণ করেছিলো, তার জবাবে সেই অফিসার বলে- “আমাদের কাছে টিক্কা খানের নির্দেশনা ছিলো, যে একজন ভালো মুসলমান কখনোই তার বাবার সাথে যুদ্ধ করবে না। তাই আমাদের যত বেশী সম্ভব বাঙালী মেয়েদের গর্ভবতী করে যেতে হবে।”
আপনারা কি লক্ষ্য করেছেন টিক্কা খান কতোটা সফল ছিলো, পাকিস্তানীরা হেরে গেলেও আমাদের সাচ্চা পাকিস্তানী করে রেখে গেছে। রাস্তাঘাটে আজ পাকিস্তানের পক্ষে কথা বলার লোকের অভাব হয় না, গোলাম আযমের জানাজায় লোকের অভাব হয় না। ‘সেলফি’ আর ‘ম্যারি মি আফ্রিদির’ অভাব হয় না।
পাঠক খেয়াল করে দেখুন টিক্কা খানেরা সবসময় গুড মুসলিম আর গুড পাকিস্তানী শব্দদুটো একসাথে বসায়। অর্থাৎ “গুড মুসলিম=গুড পাকিস্তানি”। ইসলাম আর পাকিস্তানকে মিলিয়ে ফেলার এই প্রবণতা দেশের একশ্রেণীর মানুষেরও আছে। এরা ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চার মত পাকিস্তানবিরোধী কথা বললেই জাত গেলো, ধর্ম গেলো ধোঁয়া তুলে জিকির চালাতে থাকে। আর সেই ধোঁয়ার ভেতর দিয়েই ধীরে ধীরে মাথা তুলতে থাকে জঙ্গিবাদের আস্ফালন।
কোনো বাঙালি যদি পাকিস্তানের পক্ষে কথা বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস সেই মানুষের মানসিক সমস্যা আছে। একমাত্র বদ্ধ উন্মাদ ছাড়া পাকিস্তানকে কোনো নিম্নশ্রেণীর পশুও পছন্দ করার কথা না। কারণ তারা যে নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিলো এই দেশে অসহায় মানুষদের প্রতি, সেটা হার মানিয়েছিলো হিটলার, মুসোলিনি, গেস্টেপোদেরও।
গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড অনুসারে পৃথিবীর সবচেয়ে নির্মমতম ৫টি গণহত্যার অন্যতম গণহত্যাটি হয়েছিলো বাংলাদেশে পাকিস্তানিদের হাতে। ওরা পৃথিবীর জঘন্যতম হত্যাকাণ্ডের পুরস্কারটা পাকিস্তানকে দেয়। যদি গিনেস কর্তৃপক্ষ ঘুণাক্ষরেও জানতো সেই নিপীড়িত জাতির মানুষরাই এখনো পাকিস্তানের জন্য আস্ফালন করে, সেইসব খুনি-রাজাকারদের মৃত্যুতে এখনো কান্নাকাটি করে— তাহলে হয়তো আমাদেরও একটা পুরস্কার দিতো; শ্রেষ্ঠতম বেহায়া, নির্লজ্জ জাতির পুরস্কার। কোন যুক্তির ভিত্তিতে দাঁড়িয়ে আজও আমরা পাকিস্তানকে ঘৃণা করি সেটা নিয়ে লিখেছিলাম “কেন আজও পাকিস্তানকে ঘৃণা করতে হয়” পাঠকদের ঘুরে আসতে অনুরোধ করবো। এতো কিছু জানা এবং মানার পরেও যারা আজও পাকিস্তানকে নির্লজ্জভাবে সমর্থন দিয়ে চলেছেন তাদের মানসিক বিকারগ্রস্ত ছাড়া তেমন কিছুই বলার নেই আমার।
আমরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছি ‘পাকিস্তানকে সমর্থন’ কিংবা ‘রাজাকারদের সমর্থন’ আদতে একটা রোগ, একটা মানসিক রোগ। মনোবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘Stockholm syndrome’। এই রোগটির উৎপত্তি এবং বিভিন্ন লক্ষণ দেখে আমার বদ্ধমূল ধারণা হয়েছে পাকিস্তানকে সমর্থন দেয়া অনেক বাঙালি এই সিনড্রোমে আক্রান্ত। মিলিয়ে দেখুন, আপনার পরিচিত কারো ভেতরে এই রোগের অস্তিত্ব খুঁজে পান কি না!
Stockholm syndrome’ এর নামকরণের ইতিহাসটা চমকপ্রদ।
১৯৭৩ সালের ২৩ আগস্ট সুইডেনের ‘Stockholm’ এ দুই সন্ত্রাসী দুটো মেশিনগান নিয়ে একটা ব্যাংকে হামলা চালায়। তারা ব্যাংকের চারজন কর্মকর্তাকে ১৩১ ঘণ্টা জিম্মি করে রাখে। কর্মকর্তাদের তিনজন ছিলেন মহিলা এবং একজন পুরুষ। সেই কর্মচারীদের ডিনামাইটসহ বেঁধে ব্যাংকের ভল্টে ফেলে রাখা হয়। ৪ দিন পর ২৮ তারিখ তাদের অসুস্থ অবস্থায় মুক্ত করা হয়।
এরপরের ঘটনা আরও বিস্ময়কর।
বিভিন্ন মিডিয়া যখন সেইসব ব্যাংক কর্মকর্তাদের কাছে এই মর্মান্তিক ঘটনার বিবরণ জানতে চায়, তখন তারা সবাই সেইসব অপরাধীদের সমর্থন দিতে শুরু করে এবং যারা তাদের উদ্ধার করতে আসে তাদের শত্রু মনে করতে থাকে। তাদের মনে থাকে, সন্ত্রাসীরা বুঝি তাদেরকে পুলিশের হাত থেকে রক্ষা করছিলো। সেই চার ব্যাংক কর্মকর্তাদের একজন পরবর্তীতে সেই সন্ত্রাসীদের একজনের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং আরেকজন ব্যাংক কর্মকর্তা সেইসব সন্ত্রাসীদের আইনী খরচ চালানোর জন্য অর্থ উত্তোলন শুরু করে।
ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট Dr. Joseph M. Carver তার “Love and Stockholm Syndrome: The Mystery of Loving an Abuser” আর্টিকেলে বলেছেন—
“In clinical practice, some of the most surprised and shocked individuals are those who have been involved in controlling and abusive relationships. When the relationship ends, they offer comments such as “I know what he/s’s done to me, but I still love him/her”, “I don’t know why, but I want him/her back”, or “I know it sounds crazy, but I miss her/him”…
এবারে একটু মিলিয়ে দেখুন আপনার আশেপাশে এসব কথা বলা লোক খুঁজে পান কি না-
“আমি জানি পাকিস্তান আমাদের সাথে কি করেছে, তবুও তাদের সমর্থন করি। কেন সমর্থন করি জানি না, তবুও সমর্থন করি। পাকিস্তান ইসলামিক রাষ্ট্র, পাকিস্তানিরা আমাদের ভাই, হয়তো কিছু খুন-ধর্ষণ করেছেই, তাই বলে সমর্থন করতে সমস্যা কোথায়?। আহ, বেচারা আফ্রদির কি দোষ!। পুরনো ঘটনা ভুলে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাই।”
মিল কি কিছু খুঁজে পাচ্ছেন? এবার আসুন জেনে নেয়া যাক এই ‘Stockholm syndrome’ রোগের লক্ষণ গুলো কি কিঃ
১) Victim having positive feelings toward the abuser.
(রোগী তার নির্যাতনকারীর প্রতি ইতিবাচক অনুভূতি অনুভব করবে)
তিরিশ লাখ শহীদ আর ছয় লাখ বীরাঙ্গনার রক্তের ওপর প্রতিষ্ঠিত যেই দেশ, যেই দেশের আজও একশ মানুষের ভেতর একজন করে একাত্তরের শহীদের বংশধর পাওয়া যায় সেই রক্তস্নাত দেশের মানুষ, সেই রক্ত যারা ঝরিয়েছিলো তাদের সমর্থন যোগায়।
২) Victim having negative feelings toward family, friends, or authorities.
(রোগী তার পরিবার, তার বন্ধুবান্ধব কিংবা তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি নেতিবাচক আচরণ করবে।)
যেই বন্ধু বা অভিবাবকটি তাদেরকে এই ঘৃণ্য সমর্থন থেকে সরে আসতে উৎসাহ দেয়, তাদের বিনা উসকানিতে অশ্রাব্য ভাষায় গালি-গালাজ করে। অথচ গালি-গালাজ করার মতো কোনো কথাই সেই বন্ধু কিংবা অভিবাবক বলেন নি।
৩) Abuser having positive feelings toward the victim
(নির্যাতনকারী যাকে নির্যাতন করেছে তার প্রতি ইতিবাচক অনুভূতি অনুভব করবে।)
পাকিস্তানের গণহত্যাকে ছোট করে দেখা, অস্বীকার করা, ‘ভারতের ষড়যন্ত্র দেশ ভাগ হয়েছে’ বলা, পাকিস্তানে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ব্যাক্ত করা। অথচ তার দেশে তার বাসার পাশেই হয়তো তখনো পাকি নির্মমতার সাক্ষ্য নিয়ে কোন বীরাঙ্গনা কাতরাচ্ছেন। কোনো মুক্তিযোদ্ধা পায়ে গুলি নিয়ে ক্র্যাচে ভর দিয়ে ভিক্ষা করছেন।
৪) Victim supporting or helping the abuser.
(রোগী তার ওপর নির্যাতনকারীকে বিভিন্নভাবে সাহায্য করবে এবং সমর্থন যোগাবে।)
রাজাকারের বিচারকে বানচাল করার প্রত্যক্ষ প্রচেষ্টা।
এবারে জেনে নেয়া যাক ‘Stockholm Syndrome’ এ আক্রান্ত রোগীদের কি কি পর্যায় রয়েছে:
১) রোগী যখন তার নির্যাতনের যন্ত্রণা/ব্যাথা থেকে ধীরে ধীরে মুক্ত হয়ে যায় তখন সে নির্যাতনের সময়কে নির্যাতকের দৃষ্টিতে দেখতে শুরু করে। রোগী তার ওপর নির্যাতনকারীর বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির সাথে একমত হতে থাকে এবং তার নিজের যন্ত্রণার সময়গুলোর স্মৃতি ধামাচাপা পড়ে যেতে থাকে।
২) এভাবে চলতে থাকলে রোগী নিজের অজান্তেই নির্যাতনকারীকে খুশি করার চেষ্টা করতে থাকে।
৩) এভাবে একসময় তার কাছে নির্যাতনকারী আর সাধারণ অন্য মানুষের আর কোনো তফাৎ থাকে না।
৪) এক পর্যায়ে এই দ্বন্দ্বমূলক অযৌক্তিক অনুভূতি রোগীর সাথে নির্যাতনকারীর একটা সম্পর্কের সূচনা করে। রোগী তার নির্যাতনকারীর উপকার করার জন্য নিজের প্রয়োজনীয়তাকে পর্যন্ত অবজ্ঞা করা শুরু করতে পারে।
তবে এই রোগের চিকিৎসাও রয়েছে। নিচের বর্ণনা অনুসারে পথ্য গ্রহণের আগে অবশ্যই কোন সার্টিফাইড ডাক্তারের কাছ থেকে প্রেস্কিপশন করিয়ে নেবেন। আমি যেহেতু চিকিৎসক নই সুতরাং ওষুধ দেয়ার ক্ষমতা আমি রাখি না। আসুন চিকিৎসা সম্পর্কে জেনে নেই-
medical-dictionary.thefreedictionary অনুসারে ‘Stockholm Syndrome’ রোগের চিকিৎসা ‘Post-traumatic stress disorder (PTSD)’র মতোই। সাধারণত ছয় মাস ব্যাপী থেরাপি দেয়া হয়ে থাকে। বিভিন্ন থেরাপি রয়েছে যেমন:
১) Group therapy
২) Brief psychodynamic psychotherapy
৩) Family therapy
এসব নিয়ে আর বিস্তারিত আলোচনায় যাচ্ছি না। তবে আমেরিকার Veterans Health Administration ডাক্তারের পরামর্শ অনুসারে কিছু ওষুধের কথা উল্লেখ করেছে, যেমন-
১) citalopram (Celexa)
২) fluoxetine (such as Prozac)
৩) paroxetine (Paxil)
৪) sertraline (Zoloft)
কিছু বাঙালির পাকিস্তানপ্রেম, রাজাকারপ্রেম যে অসুস্থ অস্বাভাবিকতার দিকে যাচ্ছে, তাতে এ ধরনের মানুষদের চিকিৎসা অত্যন্ত জরুরি। আমি আশা করবো এ বিষয়টি সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষ আমলে নেবেন!
তথ্যসূত্র:
১) counsellingresource. com/therapy/self-help/stockholm/
২) crclips. com/lib/2006/03/06/stockholm-syndrome/
৩) jewishcommunitywatch. org/stockholm-syndrome/
৪) ptsd.va. gov/public/treatment/therapy-med/treatment-ptsd.asp

সাধারণ মানুষ অনেক কষ্টে আছে মির্জা ফখরুল ইসলাম অলমগীর

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ বর্তমানে বাংলাদেশে কোন গণতন্ত্র নেই,মানুষের অধিকার নেই,সাধারণ মানুষ সাভাবিক ভাবে জীবন যাপন করতে পারেনা বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

গতকাল সোমবার সন্ধায় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির আয়োজনে তারেক রহমানের ৫৩ তম জন্মদিনের শুভেচ্ছা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে,বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে,যানবাহন-পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে স্কুলের খরচ বেড়েছে,কাপড়ের দাম বেড়েছে সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষ অনেক কষ্টে আছে। ১৯৭১ সালে যে জাতি যুদ্ধ করে স্বাধীনতা আনলো, যে জাতি ১৯৯০ সালে গণঅভ্যুথ্যানের  মধ্য দিয়ে সৈরাচারদের পরাজিত করে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনলো, সেই জাতি আজকে একটি রাজনৈতিক দলের হাতে নির্যাতিত হচ্ছে। কারন একটাই এই সরকার নির্বাচিত সরকার নয়,তারা জনগনের ভোটে নির্বাচিত নয়। বন্ধুক পিস্তল দিয়ে জোড় করে ক্ষমতা দখল করে আছে এই আ:লীগ সরকার।

মির্জা ফখরুল আরো বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শক্তি জনগনের কাছে,তারেক রহমানের শক্তি জনগনের কাছে,বিএনপির শক্তি জনগনের কাছে। সেজন্য বিএনপি কাউকে ভয় পায়না। কারন আমরা যানি আমরা সঠিক পথে আছি। ঠিক রাজনীতি করছি। জনগন আমাদের সঙ্গে আছে থাকবে ।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন, জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সল আমীন, সদর থানা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ, বিএনপি নেতা পয়গাম আলী, শরিফুল ইসলাম শরিফ, যুবলীগের সভাপতি মহেবুল্লাহ চৌধুরী আবু নুর, সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন তুহিন, ছাত্রদলের সভাপতি মো. কায়েস প্রমুখ।

পরে কেক কেটে জননেতা তারেক রহমানের ৫৩তম জন্মদিনটি উদযাপন করা হয়।

আলীগের কর্মীসভা ও গ্রামবাসীর সাথে মতবিনিময় সভা করেছেন এনামুল হক বাবুল

মাসুদ তাজ, অভয়নগর, যশোরঃ বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের ধারা অব্যহত রাখতে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে অভয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র আলহাজ্ব এনামুল হক বাবুলের পৃথক কর্মীসভা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সোমবার সন্ধ্যায় অভয়নগর উপজেলার পায়রা ইউনিয়নের দামুখালী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত কর্মী সভা ও পরে স্থানীয় জনগণের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। পৃথক দু’টি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন অভয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নওয়াপাড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র আলহাজ্ব এনামুল হক বাবুল। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক মোল্যা আনোয়ার হোসেন, অত্র ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা বাপ্পি মন্ডল, উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক রওশন কবীর টুটুল প্রমুখ। পরে প্রধান অতিথি স্থানীয় গ্রামবাসীর সাথে নৌকার বিজয় নিশ্চিত ও প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের ধারা অব্যহত রাখার লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা করেন।

তালায় সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত ১

তালা, সাতক্ষীরাঃ তালায় সড়ক দূর্ঘটনায় এক পথচারী নিহত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ২০ নভেম্বর বেলা ২:২০ মিনিটের দিকে উপজেলার ভায়ড়া চারা বটতলা এলাকায়। নিহত পথচারী উপজেলার মুড়াকুলিয়া গ্রামের ময়েজ উদ্দীন’র পুত্র মোঃ আলমগীর হোসেন(৩২)।
স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, খুলনা থেকে ছেড়ে আসা দ্রুত গতির পাইকগাছাগামী বাস (খুলনা-ব- ৩০৯০) উপজেলার ভায়ড়া চারাবটতলা নামক স্থানে পৌছালে একটি ট্রাককে পাশকাটিয়ে উঠার সময় পথচারী আলমগীর হোসেনকে চাপা দিয়ে চলে গেলে ঘটনা স্থালেই তার মৃত্যু হয়। উৎসুক জনতা কিছু সময় রাস্তা অরুদ্ধ করে রাখে পরে তালা থানা পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনা স্থলে পৌছে আবার বাস চলাচল স্বাভাবিক করে।
এব্যাপারে তালা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান হাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোন অভিযোগ না করায় ধর্মীয় বিধ মোতাবেক লাশ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।