করোনার টিকা গ্রহণে শয্যাশায়ী বাগেরহাটের বিষ্ণু প্রসাদ চক্রবর্তী

মুকুল রায়: কিছুদিন আগেও যার পদচারণায় মুখরিত হয়ে থাকত বাগেরহাটের অলি-গলি। খবর সংগ্রহে ছুটে বেড়াতেন দিন-রাত। সেই বিষ্ণুপ্রসাদ চক্রবর্তী আজ অসহনীয় যন্ত্রণা ও মানবেতর জীবন যাপন করে সময় পার করছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে স্বাভাবিক অবস্থায় তিনি করোনার টিকা গ্রহণ করার এক ঘন্টার মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েন। দেশের নামি-দামী চিকিৎসালয়ে চিকিৎসা নিয়েও গত চার মাসে সুস্থ হতে পারেন নি তিনি। বর্তমানে বাগেরহাটের শালপাড়ার নিজ বাড়িতে শয্যাশায়ী বিষ্ণুপ্রসাদ চক্রবর্তী।
বাগেরহাটের ৭১ টিভির জেলা প্রতিনিধি বিষ্ণুপ্রসাদ চক্রবর্তী গত ৭ ফেব্রুয়ারি ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের উৎপাদিত করোনা টিকা (অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেন) গ্রহণ করে মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। দেশের বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা করেও আশানারূপ ফল না পেয়ে হতাশায় ভুগছেন ভুক্তভোগী পরিবার। এ পর্যন্ত নিজ খরচে তিনি বাগেরহাট, খুলনা, ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গার নামী-দামী চিকিৎসালয়ে চিকিৎসালয়ে করিয়ে সর্বশান্ত হতে বসেছেন। এ পর্যন্ত ১০০এর অধিক প্যাথলজি রিপোট ও একাধিক স্বনামধন্য ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়েছেন। ভুক্তভোগীর পরিবার সরকারি সহযোগিতা ও বিদেশে পাঠানোর দাবি জানিয়েছেন। সর্বশেষ বিষ্ণুপ্রসাদকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে চিকিৎসা করা হচ্ছিল। বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় সর্বোচ্চ আন্তরিকতায় মেডিকেল বোর্ড গঠন করে তাকে পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু সেখানেও কোনোরূপ রোগ নির্ণয় কিংবা অবস্থার উন্নতি আশানুরূপ না হওয়ায় নিরাশা নিয়ে বিষ্ণুপ্রসাদ বাড়িতে ফিরে আসেন। বাগেরহাটের সিভিল সার্জন এ ব্যাপারে জানান, অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেন টিকার তেমন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আমাদের দেশে পরিলক্ষিত হয় নি। তার (বিষ্ণুপ্রাসাদ) ব্যাপারে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তাকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠিয়ে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তবে তিনি চিকিৎসা শেষ না করে বাগেরহাটে ফিরে আসেন। তাকে আবারও বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে যাওয়ার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। আশাকরি সেখান থেকে ভালো কোনো ফলাফল আসবে। এ বিষয়ে বাগেরহাট জেলা প্রশাসক মোঃ আজিজুর রহমান বলেন, অ্যাস্ট্রাজেন টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আমাদের দেশে একটি বিরল ঘটনা। এটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়ে হবে এবং তার বিদেশে চিকিৎসার ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় যে নির্দেশনা দিবেন সে বিষয়ে বাগেরহাট জেলা প্রশাসন সব রকম সহযোগিতা করবেন।
বিষ্ণুপ্রসাদ বলেন, জ্বর আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে। তবে খুব বেশি শারীরিক দুর্বলতা অনুভব করছি। তিনি আবারও নিজ পেশায় ফেরার আশাবাদী। তিনি সকলের দোয়া, আশীর্বাদ কামনা করেছেন।

আপনার মতামত জানানঃ