খুলনা রেলওয়ের স্টেশন মাষ্টারকে শোকজ ও পাকশীতে তলব

খুলনা রেলওয়ে স্টেশনমাস্টার মানিক চন্দ্র সরকার

ইউনিক প্রতিবেদক :

কর্তৃপক্ষের মিথ্যা অযুহাতে পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারীর নামে থানায় সাধারণ ডায়েরি করায় স্টেশন মাস্টারকে শোকজ সহ বিভাগীয় সদর দপ্তরে তলব করা হয়েছে। বুধবার রাত সাড়ে ৮টায় বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) পাকশি মো. আনোয়ার হোসেন খুলনা রেলওয়ে স্টেশন মাষ্টার মানিক চন্দ্র সরকারকে এ শোকজ করেন। শোকজে মানিক চন্দ্রকে ১৯ মে বৃহস্পতিবারে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে শোকজের জবাব দেয়ার জন্য বলা হয়েছে।
রেল সূত্র জানায়, গত ১৬ মে খুলনা রেলওয়ে স্টেশন মাষ্টার মানিক চন্দ্র সরকার উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে খুলনার ৫ কর্মকর্তা কর্মচারীর বিরুদ্ধে খুলনার রেল থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন। ডায়েরী করার পরে স্টেশনের কর্মকর্তা কর্মচারীদের রোষানলে পড়লে তখন তিনি বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেনের নাম বলেন। তখন তিনি বলেন, ‘আমি রেলের বিভাগীয় পরিবহণ কর্মকর্তার অনুমতি নিয়েই রেল থানায় সাধারণ ডায়েরী করেছি।” একই সাথে তিনি সাধারণ ডায়েরীতে উল্লেখ করেন যে, “ স্টেশনের শান্তি শৃংখলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার স্বার্থে বিভাগীয় পরিবহণ কর্মকর্তার টেলিফোন নির্দেশে আমি এই সাধারণ ডায়েরী রেল থানায় নথিভুক্ত করেছি।” তিনি আরো উল্লেখ করেন যে, “রেলওয়ের টিএক্সআর বায়তুল ইসলাম, আইডব্লিউ অফিসের মো. জাফর মিয়া, তোতা মিয়া, সহকারী স্টেশন মাস্টার মো. আশিক আহম্মেদ ও সহকারী স্টেশন মাস্টার মো. জাকির হোসেনে কালোবাজারে টিকিট বিক্রি করেন এবং তারা রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের ভূয়া নাম ব্যবহার করে টিকিটের চাহিদা প্রদান করে টিকিট গ্রহণ করেন। টিকিট না পেলে তারা বহিরাগতদের দিয়ে আমাকে নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করেন এবং স্টেশন ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও মারধরের পায়তার নীলনকসা করছে। এছাড়া আমার মোবাইল ফোনে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়েছে।” এই জিডি কপি বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তার হাতে পৌছালে তাৎক্ষনাত তিনি খুলনার স্টেশন মাষ্টার মানিক চন্দ্র সরকারকে কারন দর্শিয়ে বিভাগীয় সদর দপ্তরে স্বশরীরে এসে উত্তর প্রদানের নির্দেশ দেন।
এদিকে খুলনা রেল স্টেশনে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েক জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী জানান যে, এই স্টেশন মাষ্টার মানিক চন্দ্র সরকার এর আগে টিকিট কালোবাজারে বিক্রি করার অভিযোগে পানিষ্টমেন্ট ট্রান্সফার (শাস্তিমূলক বদলি) হয়েছিলো। এছাড়া তাকে কখনই তার চেয়ারে পাওয়া যায় না। তাকে মোবাইল করলেও তিনি ফোন রিসিভি করে না বলে কর্মকর্তা কর্মচারী সহ অসংখ্য ট্রেনযাত্রীরা অভিযোগ করেন।
এব্যাপারে রেলওয়ের টিএক্সআর বায়তুল ইসলাম বলেন, “আমরা কখনওই টিকিট কালো বাজারী করি না। স্টেশন মাষ্টারকে ট্রেন যাত্রীরা চেয়ারে না পেয়ে আমাদের কাছে আসে। তখন আমরা উপায়ান্ত না পেয়ে রেলের যাত্রী সেবার কথা বিবেচনায় নিয়ে যাত্রীদের কথা শুনি। এছাড়া আমরা খুলনায় বসবাস করি, আমাদের সাথে অনেক রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক, গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য, অনেক সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীরা টিকিট না পেয়ে আমাদের স্মরণাপন্ন হন। এমনকি আমাদের রেলের অনেক কর্মকর্তা আছেন তাদের নির্দেশ শুনতে আমাদেরকে লাইনে দাড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ করে দিতে হয়। এটি যদি আমাদের দোষ হয় তাহলে আমরা সে দোষে দোষী। আমরা প্রধানমন্ত্রীর সেবা সাধারণ মানুষের দোরগোরায় পৌছে দিতে চাই।”
সহকারী স্টেশন মাস্টার মো. আশিক আহম্মেদ বলেন, “স্টেশন মাষ্টার সাধারণ মানুষের সাথে খারাপ ব্যবহার করেন। আর তিনি ঠিকমত অফিসে বসেন না। ফলে সেবা গ্রহণকারী যাত্রীদের চাপ আমাদের উপর এসে পড়ে।” তিনি এক প্রশ্নের জবাবে দৈনিক দেশ সংযোগকে বলেন, “টিকিট আমরা কেন কালো বাজারে বিক্রি করবো? টিকিট তো কালোবাজারে মাষ্টার নিজেই বিক্রি করেন। তিনি যে কালো বাজারে টিকিট বিক্রি করে তার একটি তালিকা আমাদের কাছে রয়েছে। আর তিনি এতই উচু মাপের কর্মকর্তা যে, তিনি কোন নেতাদের হিসাবে রাখেন না। তিনি আমাদের কর্মকর্তা কর্মচারীদের সাথেও খারাপ আচরণ করেন। আমরা সব সময় তার সহযোগীতা করে আসছি। আর তার স্বার্থ ফুরিয়ে গেলেই আমাদের সাথে এ ধরনের জীবিকার উপর হুমকি নিয়ে আসেন।”
এদিকে কারন দর্শানো নোটিশের বিষয়ে খুলনা রেল স্টেশন মাষ্টারের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে তার ফোনে ঢুকলেও তিনি ফোন কেটে দেন।
এ ব্যাপারে বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেনকে ফোন করলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।