মনিরামপুরে ৫ দিনেও ধরা পড়েনি পরিমলের খুনিরা

বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিবাদ সভা অব্যাহত : সিসি ক্যামেরার ফুটেজ- নৈশ প্রহরীর তথ্য ও উদ্ধারকৃত আলামতের সূত্র ধরে এগোচ্ছে পুলিশ : গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদঘাটনের দাবি

মণিরামপুর, যশোরঃ মণিরামপুরে দুর্বৃত্তদের হাতে ধনাঢ্য ব্যবসায়ী পরিমল পাল হত্যাকান্ডের ৫ দিন পার হলেও এখনো ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। আলোচিত এ হত্যাকান্ডের ক্লু উদঘাটনের ব্যাপারে পুলিশ দাবি করলেও দৃশ্যমান কোন সফলতা দেখাতে ব্যর্থ বলে মনে করছেন সর্বস্তরের মানুষ। যে কারনে হত্যাকান্ডের ঘটনায় খুনিরা ধরা না পড়ায় ব্যাবসায়ী সমাজ, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সর্বমহলে ক্ষোভ দানা বাঁধছে। খুনিদের গ্রেফতারের দাবিতে যে কোন সময় দেয়া হতে পারে কঠোর কর্মসূচী। নৃশংস এ হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে ও খুনিদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে গতকাল বুধবারও বিভিন্ন সংগঠন প্রতিবাদ সভা করেছে। এদিকে মণিরামপুরে ধনাঢ্য ব্যবসায়ী পরিমল পাল হত্যাকান্ডের ঘটনায় খুনিদের সনাক্ত করতে এখন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বড় হাতিয়ার সেখানে লাগানো একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ। এছাড়া ওই রাতে প্রত্যক্ষদর্শী নৈশ প্রহরী ও ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া কিছু আলামতের সূত্র ধরে খুনের মোটিভ উদঘাটনে এগুচ্ছে পুলিশ। এমন দাবি মণিরামপুর থানা পুলিশের। মনিরামপুর থানা পুলিশ দাবি করেছে হত্যাকান্ডের ব্যাপারে তাদের হাতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এসেছে। তবে অধিক তদন্ত ও হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেফতারের সুবিধার্থে তথ্যগুলো প্রকাশ করতে চাননি মনিরামপুর থানা পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এ খুনের ঘটনা উদঘাটনে নিহতের পরিবারসহ সব মহল থেকে দাবি উঠেছে পরিমল হত্যাকান্ডে জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার। মণিরামপুর থানার ওসি মোকররম হোসেনের দাবি ব্যবসায়ী পরিমল হত্যার পর থেকেই খুনিদের আটকের জন্য পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। উল্লেখ্য গত শনিবার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে টাকা ভর্তি ব্যাগ লুট করতে বোমা হামলা ও কুপিয়ে নিজ বাসভনের সামনে ব্যবসায়ী পরিমলকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করার পর প্রচুর রক্ত ক্ষরণে তিন ঘন্টার ব্যবধানে তার মৃত্যু ঘটে। এদিকে পরিমলের অকাল মৃত্যুতে তার দুই শিশু কন্যা বিথিকা পাল ও রায় পাল এবং স্ত্রী রিনা পাল এখন বাকরুদ্ধ। প্রশসানের দাবি দ্রুত পরিমল হত্যাকান্ডে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে। এজন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে টাকার ব্যাগ লুট করতে আশা চক্রটি জানতো না ঘটনার দু-একদিন আগে ঘটনাস্থলের পাশের অপর এক ব্যবসায়ী ওই স্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেছেন। ফলে ওই সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে হত্যাকারিদের মধ্যে অনেকেই চিহ্নিত হবে বলে অনেকেই আশাবাদি। তা’ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু আলামত উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার সময় আবুল হোসেন নামে বাজারের এক নৈশ প্রহরী ওই রাতে তার দায়িত্ব পালনের জন্য ঘটনাস্থলের পাশে অবস্থান করছিলো। টাকার ব্যাগ নিতে ব্যবসায়ী পরিমলকে যখন সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্রদিয়ে কোপাতে থাকে তখন রক্ষা করতে ছুটে আসে ওই নৈশ্য প্রহরী। এ সময় শক্তিশালী বোমার বিস্ফরণ ঘটিয়ে খুনিরা পালিয়ে যায়। সুত্রের ধরনা নৈশ প্রহরী আবুল হোসেন খুনিদের মধ্যে কয়েকজনকে চিনতে পেরেছে বলে জানাগেছে।  পুলিশ জানায়, নৈশ প্রহরী আবুল হোসেন ঘটনার পর থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এখনো তাদের হেফাজতে রয়েছে। এ ব্যাপারে পুলিশের একটি সূত্র জানায়, টাকা লুটের জন্য ব্যবসায়ী পরিমল হত্যা মিশনে অংশ গ্রহনকারিদের ব্যাপারে ইতিমধ্যে মুটামুটি তথ্য মিললেও ঘটনার পুরো মোটিভ উদঘাটনের জন্য পুলিশের কর্মকর্তারা মুখ খুলছেন না। এদিকে নিহতের বড় ভাই রতন কুমার পাল বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়েরের পর খুনিদের আটকের জন্য ব্যবসায়ীক নেতৃবৃন্দ প্রশাসনকে ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন। সার্বিক বিবেচনায় মণিরামপুরে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকান্ডে খুনিদের গ্রেফতার পূর্বক আইনের আওতায় আনাই এখন পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় কালিবাড়ি মন্দির চত্ত্বরে উপজেলা-পৌর পূজা উদযাপন পরিষদ এবং হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের যৌথ উদ্যোগে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি তুলসী বসু। উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারন সম্পাদক সুনিল ঘোষের পরিচালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক তরুন কুমার শীল, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের আহবায়ক তপন বিশ্বাস পবন, যুগ্ম আহবায়ক অধ্যক্ষ মিলন ঘোষাল, সদস্য অজিত কুমার ঘোষ, পৌর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি গোবিন্দ কুমার ঘোষ, সাধারন সম্পাদক শিশির ঘোষ মিঠু, সাংগঠনিক সম্পাদক অভিজিৎ কুমার দত্ত, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি চিন্ময় কুমার কুন্ডু, সাধারন সম্পাদক সুমন দাস প্রমূখ। অপরদিকে বুধবার রাতে বণিক সমিতির জরুরী সভা সংগঠনটির নিজ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বণিক সমতির সভাপতি অরুণ কুমার নন্দন। এসময় উপস্থিত ছিলেন সাধারন সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, ব্যবসায়ী নেতা আকতারুল ইসলাম, তুলসী বসু, আলহাজ্ব আব্দুল খালেক, আলহাজ্ব বাবর আলী, প্রভাষক ফারুক হোসেন, রবিউল ইসলাম মিঠু প্রমূখ। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সভা চলছিল। সভা সূত্রে জানাগেছে দ্রুত খুনিদের গ্রেফতারে প্রশাসন ব্যর্থ হলে পর্যায়ক্রমে আরো কঠোর কর্মসূচী দেয়া হবে।

আপনার মতামত জানানঃ