খুলনায় নারী আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী লিপিকা সরকার

প্রকাশঃ ২০২৬-০৩-০২ - ১৫:৪৪

ইউনিক ডেস্ক : জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। আগামী ১২ মার্চ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসতে যাচ্ছে। ওই অধিবেশনেই সংসদ সচিবালয় সংরক্ষিত নারী আসনের ভোটার তালিকা প্রস্তুত করে নির্বাচন কমিশনে পাঠাবে। এরপরই তফসিল ঘোষণা করা হবে।
সাম্প্রতিক নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন জোট ২১২টি আসনে জয়লাভ করে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে জানিয়েছে, সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে বিএনপি পাবে ৩৬টি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পাবে ১২টি, ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টি (এনসিপি) পাবে ১টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পাবে ১টি আসন।
সংরক্ষিত নারী আসনে কারা মনোনয়ন পাবেন-তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তুঙ্গে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর সরকার গঠন করা দল হিসেবে বিএনপি এ আসন বণ্টনকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, যারা দীর্ঘদিন রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন, সৎ, যোগ্য, শিক্ষিত এবং নিজ নিজ এলাকায় জনপ্রিয়-তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বিশেষ করে এবারের নির্বাচনে মনোনয়ন না পাওয়া বিএনপির নারী নেত্রীদের অনেকেই সংরক্ষিত আসনের মাধ্যমে সংসদ সদস্য হওয়ার সম্ভাবনায় রয়েছেন।
খুলনা জেলা থেকেও সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য বেশ কয়েকজন নেত্রী সক্রিয় হয়েছেন। এবারের নির্বাচনে খুলনার ৬টি আসনের মধ্যে বিএনপি ৪টিতে জয় পেয়েছে। তবে মন্ত্রিসভায় খুলনা জেলার কোনো প্রতিনিধি না থাকায় রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, সংরক্ষিত নারী আসনে খুলনা থেকে একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন পেতে পারেন।
এ প্রেক্ষাপটে খুলনার সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশা করেছেন ডুমুরিয়ার কৃতি সন্তান, বিএনপি নেত্রী ও সাংবাদিক লিপিকা সরকার। তিনি খুলনার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেত্রী হিসেবে দলের হাইকমান্ডের নজরে রয়েছেন। খুলনা-৫ আসনে বিএনপির বিজয়ে সংখ্যালঘু নারী ভোটারদের কেন্দ্রে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে নারী ভোটারদের সক্রিয় করতে দিনরাত কাজ করেছেন বলে জানা গেছে।
লিপিকা সরকার প্রায় তিন দশক ধরে সাহসিকতার সঙ্গে নারী সাংবাদিকতায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ১৯৯৮ সালে দৈনিক দিনকাল-এ স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে তার সাংবাদিকতা জীবন শুরু হয়। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি পত্রিকাটির ‘মফস্বল সম্পাদক’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি দৈনিক কালের কণ্ঠ-এ সিনিয়র সাব-এডিটর হিসেবে কর্মরত আছেন। পেশাগত কারণে ঢাকায় বসবাস করলেও জন্মভূমি খুলনার সঙ্গে তার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।
তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা খুলনার বান্দা গ্রামে। ডুমুরিয়ার ঐতিহ্যবাহী বান্দা স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে তিনি এসএসসি পাস করেন। পরে ডুমুরিয়া কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ঢাকার ইডেন কলেজ থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি বিএনপির আদর্শে বিশ্বাসী।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী সংকটকাল থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিএনপির রাজপথের প্রতিটি আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ছিলেন। জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী ‘দিনকাল’ পত্রিকায় কাজ করার সুবাদে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার গভীর যোগাযোগ গড়ে ওঠে। জাতীয়তাবাদী সাংবাদিক ফোরামসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।
দীর্ঘ সাংবাদিকতা ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব তাকে সম্ভাবনাময় নারী নেত্রী হিসেবে দেখছেন বলে জানা গেছে।
সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন প্রসঙ্গে লিপিকা সরকার বলেন, “খুলনা জেলার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে আমি কাজ করতে চাই। এবারের নির্বাচনে খুলনার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ, বিশেষ করে নারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন। আমি তাদের প্রতিনিধি হয়ে সংসদে কথা বলতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “আধুনিক, প্রগতিশীল ও অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি সবসময় নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে। আমি নারীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই। বেকার নারীদের দক্ষতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে চাই। এ বিষয়ে সংসদে জোরালো ভূমিকা রাখাই হবে আমার লক্ষ্য।”
এছাড়া তিনি বলেন, “শহীদ জিয়ার আদর্শের গণমাধ্যমের মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়া ও তারুণ্যের অহংকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বার্তা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই আমার কাজ। তৃণমূলের গণমানুষের মাঝে দলের আদর্শ তুলে ধরে দলকে আরও শক্তিশালী করতে আমি সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছি।”