ফুলতলায় পূজা উদযাপন পরিষদের কম্বল বিতরণ

ফুলতলা (খুলনা) প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ফুলতলা উপজেলা শাখার উদ্যেগে অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে কম্বল বিতরণ বিতরণ অনুষ্ঠান বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলা হাবিুবর রহমান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। সুুশান্ত কুমার বৈরাগীর সভাপতিত্বে এবং পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এস মৃনাল হাজরার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা জেলা সভাপতি কৃষ্ণপদ দাস। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা সহসভাপতি এ্যাড. নিমাই চন্দ্র রায়, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিমান সাহা, রাজীব কান্তি হালদার। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তাপস কুমার বোস, প্রনব কুমার বোস, পরিমল কান্তি বিশ্বাস, বীর মুক্তিযোদ্ধা সুবোধ কুমার বসু, দীপ্তি দত্ত, বিজয়কৃষ্ণ হালদার, মনিন্দ্রনাথ মন্ডল, বিশ্বনাথ মন্ডল, চন্দন কুন্ডু, চিত্তরঞ্জন মন্ডল, প্রেমচাঁদ দাস, প্রবীর হালদার, শেখর সুর, রবীন কুন্ডু, অশোক মন্ডল, সীতা রানী রায়, অসীত মন্ডল প্রমুখ।

অনেককিছু করেও আসন পাইনি

মানস বিশ্বাস, আন্তর্জাতিকঃ ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গ থেকে খালি হাতে ফিরতে হয় তৃণমূলকে। ৮টি লোকসভা আসনের মধ্যে ৭টি আসনে বিজেপি জয়লাভ করে। আর মালদার ২ কেন্দ্রে জয়ী হন কংগ্রেস প্রার্থী।
“মালদায় অনেক কাজ করার পরেও আমাদের ঝুলি শূন্য। একটাও আসন পাইনি মালদায়।” এদিন ইংরেজবাজারের কর্মীসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) গলায় ঝরে পড়ল আক্ষেপ। পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী এও বললেন যে , “তবে এবার আর খালি হাতে ফিরব না। এই ভোটটা আমার ভোট। অন্য কারও নয়।” একইসঙ্গে ইংরেজবাজারে দাঁড়িয়েই এদিন তৃণমূল (TMC) নেত্রীর দৃপ্ত ঘোষণা, “মমতাকে হারানোর ক্ষমতা তোমাদের নেই। জীবন থাকতে বিজেপিকে আসতে দেব না। বাংলায় জিতে ভারতবর্ষকেও দেখব।”

প্রসঙ্গত, ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গ থেকে খালি হাতে ফিরতে হয় তৃণমূলকে (TMC)। একটি আসনও পায়নি ঘাসফুল শিবির। ৮টি লোকসভা আসনের মধ্যে ৭টি আসনে বিজেপি (BJP) জয়লাভ করে। আর মালদার ২ কেন্দ্রে জয়ী হন কংগ্রেস প্রার্থী। এদিন ইংরেজবাজারের সভাতে সেই সূত্র ধরেই আসন্ন বিধানসভা ভোটে (Assembly Election 2021) তৃণমূলকে জয়যুক্ত করার জন্য মালদাবাসীকে আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee)। বললেন, “আমি মালদার জন্য অনেক করেছি। কিন্তু ভোট এলেই মালদার রাজনৈতিক অঙ্কটা বদলে যায়। কিন্তু এবার খালি হাতে ফিরব না।”

কেশবপুরে নিসচা’র মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ

রাজীব চৌধুরী, কেশবপুরঃ যশোরের কেশবপুরের ত্রিমোহিনী মোড় চত্ত্বরে নিসচা কেশবপুর শাখার মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে বুধবার।নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)’র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান একুশে পদকপ্রাপ্ত চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন কে নিয়ে সাংসদ শাহজাহান খানের কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের প্রতিবাদে নিসচা কেশবপুর উপজেলা শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন নিরাপদ সড়ক চাই কেশবপুর উপজেলা শাখার আহবায়ক মোঃ হারুনার রশীদ (বুলবুল), কেশবপুর নিউজ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুর রাজ্জাক সরদার,নিসচার সদস্য সচিব মোঃ সাগর পারভেজ,নিসচা কেশবপুর শাখার যুগ্ন-আহবায়ক মোঃ আব্দুল মান্নান, সদস্য মোঃ আব্দুস সেলিম, মোঃ ওহিদুজ্জামান, গোলাম রসুল প্রমূখ।মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে উপস্থিত বক্তারা বলেন গত ৫ ই ফেব্রুয়ারী বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন রাজশাহী বিভাগীয় আঞ্চলিক কমিটির সম্মেলনে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাংসদ শাজাহান খান নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চনকে নিয়ে মিথ্যাচার, অশালীন বক্তব্য দিয়েছেন যা কখনও মেনে নেয়া যায় না।

খুলনা জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা ক্ষোভে ফুঁসছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক : সোনার গহনা তৈরিতে মজুরির পার্থক্য, সমিতির ভুল সিদ্ধান্তে ব্যবসায়িক ক্ষতি, নিবন্ধনহীন ব্যবসায় প্রতারণাসহ নানা কারণে খুলনায় জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি সমিতির পক্ষ থেকে কার্যকরী পরিষদের জরুরি সভা আহ্বান করা হয়েছে।
বুধবার সকালে নগরীর হেলাতলা রোডে সাধারণ ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ রেখে জুয়েলারি সমিতির কার্যালয় ঘেরাও করে। এক পর্যায়ে উত্যপ্ত পরিস্থিতিতে জুয়েলার্স সমিতির সভাপতি শ্যামা প্রসাদ কর্মকার ও সাধারণ সম্পাদক শংকর কর্মকার পদত্যাগে বাধ্য হন। একই সঙ্গে সভাপতির মালিকানাধীন নগরীর হেলাতলা ও নিউমার্কেট এলাকায় দুই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘শ্যামা জুয়েলার্স’ একদিন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জানা যায়, করোনাকালীন সময়ে সরকারি সিদ্ধান্ত ও বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির নির্দেশনায় খুলনা নগরী ও জেলার সব সোনার দোকান বন্ধ রাখা হয়। কিন্তু ওই সময় নিবন্ধনহীন অধিকাংশ সোনার দোকান খোলা থাকায় প্রকৃত ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া সমিতির পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সহায়তায় পদক্ষেপ না নেওয়া ও সমিতির সিদ্ধান্ত মোতাবেক গহনা তৈরির নির্ধারিত মজুরি থাকলেও সভাপতির প্রতিষ্ঠানেই তা না মেনে ব্যবসা করায় তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। সমিতির সহ-সভাপতি মাহাবুবার রহমান পিলু জানান, তদারকি না থাকায় অবৈধ ব্যবসায়ী নিজেরাই সোনার গহনায় ২১ ও ২২ ক্যারেট সিল দিয়ে বিক্রি করছে। এতে সাধারণ ক্রেতারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ছাড়া সোনার মান যাচাইয়ে ‘গোল্ড টেস্টিং মেশিন না থাকা’ অবৈধ দোকানদারদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় সভাপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা দিয়ে সমিতির কার্যালয় ঘেরাও করা হয়। পরে ক্ষোভের মুখে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদত্যাগ করেন। জানা যায়, খুলনা নগরীতে নিবন্ধিত সোনা ব্যবসায়ী রয়েছেন ১৩৭ জন। এর বাইরে হেলাতলা, নিউমার্কেট, দৌলতপুর, খালিশপুরসহ বিভিন্ন উপজেলায় শতাধিক নিবন্ধনহীন সোনার দোকানদার রয়েছেন। এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি সমিতির পক্ষ থেকে কার্যকরী পরিষদের জরুরি সভা আহ্বান করা হয়েছে। সমিতির সাধারণ সম্পাদক শংকর কর্মকার জানান, সমিতির সদস্যদের দাবি পূরণ না হওয়ায় এই পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে। কার্যকরী পরিষদের বৈঠকে পরবর্তী নির্বাচনের দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হবে।

আল জাজিরার সম্প্রচার বন্ধে নিয়োগ দিয়েছেন হাইকোর্ট

ইউনিক ডেস্ক : বাংলাদেশে কাতারভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল আল জাজিরা নেটওয়ার্কের সম্প্রচার বন্ধের বিষয়ে হাইকোর্ট আদেশ দিতে পারবেন কি না এ বিষয়ে ছয় আ্যমিকাস কিউরি (আদালত-বন্ধু) নিয়োগ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি আদালত তাদের বক্তব্য শুনবেন। আজ বুধবার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। ছয় আ্যমিকাস কিউরি হলেন- এ জে মোহাম্মদ আলী, ফিদা এম কামাল, আব্দুল মতিন খসরু, কামালুল আলম, প্রবীর নিয়োগী ও ড. শাহদীন মালিক।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করবেন ব্যারিস্টার এনামুল কবীর ইমন। বিটিআরসির পক্ষে ছিলেন খোন্দকার রেজা ই রাকিব, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ মো. রাসেল চৌধুরী।

এর আগে গত সোমবার বাংলাদেশে কাতারভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল আল জাজিরা টেলিভিশন নেটওয়ার্কের সম্প্রচার বন্ধে রিটটি দায়ের করা হয়। রিটে সংবাদমাধ্যমটির প্রচারিত ‘অল দ্য প্রাইম মিনিস্টার্স মেন’ প্রতিবেদনটি ইউটিউব, টুইটার, ফেসবুকসহ সব অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে অপসারণ করার নির্দেশনা চাওয়া হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এনামুল কবীর ইমন এ রিট দায়ের করেন।

রিটে ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব, তথ্যপ্রযুক্তি সচিব, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, পুলিশ মহাপরিদর্শকসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।

আল জাজিরায় গত ১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ নিয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন সম্প্রচারিত হয়, যা ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। প্রতিবেদনে উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়। সরকারিভাবে এ প্রতিবেদনের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন এ প্রতিবেদনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। সরকারের বিভিন্ন মহল থেকে আল জাজিরা টিভি নেটওয়ার্কের দেওয়া ওই প্রতিবেদনটিকে অসত্য-বানোয়াট বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, ‘আল জাজিরায় প্রচারিত ও প্রকাশিত প্রতিবেদনটির তীব্র ভাষায় প্রতিবাদ জানাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সদরদপ্তর।’

ডুমুরিয়ায় ধামালিয়ায় চেয়ারম্যান প্রার্থীর ছড়াছড়ি

সুজিত মল্লিক, ডুমুরিয়া : আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে ডুমুরিয়া উপজেলার ১নং ধামালিয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীর ছড়াছড়ি। দিন গেলেই বাড়ছে নৌকা প্রত্যাশীর সংখ্যা। দুই প্রার্থী আছে ধানের শীষের তালিকায়। আবার জামাতের পক্ষ্যেও দেখা যাবে প্রার্থীর আভির্বাব।
জানা গেছে, উপজেলার উত্তর অঞ্চল তথা যাশোর জেলার সিমানা ছুয়ে আছে ধামালিয়া ইউনিয়ন। রাজনৈতিক দিক দিয়ে এখানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, জামাতে ইসলামী ও বিএনপি এই তিন দলেরই আছে প্রভাব। ইউপি নির্বাচনে এই তিন দলের প্রার্থীদের মধ্যে হয় হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। বিগত নির্বাচন পর্যালোচনায় দেখে গেছে, এই ইউনিয়নের কান্ডারি হিসেবে পরপর দুইবার চেয়ারম্যান ছিলেন জামাত নেতা মাওলানা জাফর। এরপর গতবারের নির্বাচনে দলীয় নেতা-কর্মীদের কঠোর পরিশ্রম আর প্রচেষ্টায় বিজয়ী হয়েছিলেন বর্তমান চেয়ারম্যান মোল্ল্যা রেজোয়ান হোসেন। তিনি এবারও নৌকা প্রতীক প্রত্যাশী। কিন্তু তার প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে নৌকা প্রত্যাশীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এরমধ্যে চমক প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন সাবেক ইউপি সদস্য ও উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী হাসনা হেনা। এছাড়াও আছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মাস্টার শহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক গাজী আব্দুস সালাম, আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যক্ষ মতলেব সরদার, যুবলীগের খান তৌহিদুল ইসলাম রাতুল ও প্রভাষক মাসুদ রানা, ইউপি সদস্য আজম হালদার এবং আনিছুর রহমান। ইউনিয়নে বিএনপির দুই প্রার্থী হলেন হুমায়ুন কবির স্বপন ও জহুরুল হক। এছাড়াও জামাতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা জাফর ও মাওলানা মুসতাক আহমেদের নাম শোনা যাচ্ছে।
আসন্ন নির্বাচন ও দলীয় নমিনেশন নিয়ে বর্তমান চেয়ারম্যান মোল্ল্যা রেজোয়ান হোসেন বলেন, এই ইউনিয়ন এক সময়ে আওয়ামী লীগের কোন কর্তৃত্ব ছিল না। তাই বিগত নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে এত প্রতিযোগিতাও ছিল না। এক ধরনের অনিশ্চিয়তায় আমাকে প্রতীক দেওয়া হয়েছিল। তখন আমি নৌকা প্রতীক পেয়ে দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে কঠোর পরিশ্রম আর প্রচেষ্টায় আমাদের বিজয় হয়েছিল। আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে এলাকায় দলের ভাবমুর্তি উজ্জ্বল ও সমুন্নত করা হয়েছে। এলাকার রাস্তাঘাট, স্কুল, খেলার মাঠে, মসজিদ মাদ্রাসা, মন্দির-শশ্মানে অনেক উন্নয়ন করা হয়েছে। এমন কোন প্রতিষ্টান নেই সেখানে কাজ হয়নি। ইউনিয়নের সকল প্রতিষ্টানে বরাদ্দ দেওয়া হয়। তাই আমি আবারও নৌকা প্রতীক প্রত্যাশা করছি এবং বিজয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী।
এখানে আরও দলীয় প্রতীক নৌকা প্রত্যাশী হলেন উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাসনা হেনা। তিনি ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। দলীয় প্রার্থীতা নিয়ে তিনি বলেন, কলেজ লাইফ থেকে আওয়ামী রাজনীতির সাথে আমি সম্পৃক্ত। বিগত সময় থেকে আজ পর্যন্ত দলের সকল কর্মসুচীতে অংশ গ্রহন করে আসছি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নীতি আদর্শ মেনে রাজনীতি করে আসছি। তাই এবারের নির্বাচনে দলীয় প্রতীক নৌকা প্রত্যাশা করছি।
প্রার্থীতা নিয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গাজী আব্দুস সালাম বলেন, ২০০১ সালের নির্বাচনের পরে এখানে আওয়ামী লীগের মিটিং-এ কোন লোক হাজির হত না। আমি জোট সরকারের সকল হুমকি, হুলিয়া উপেক্ষা করে দলের জন্য কাজ করে আসছি। জামাত-বিএনপির জ্বালাও পাড়াও এ সময়ও আমি সামনের সারিতে থেকে তাদের বিরুদ্ধে মোকাবেলা করেছি। ইউনিয়নের সকল ওয়ার্ড ও পাড়া-মহল্লায় আমি উঠান বৈঠাক ও সর্ব শ্রেনী-পেশার মানুষের সাথে মতবিনিময় অব্যাহত রেখেছি। তাই আসন্ন ইউপি নির্বাচনে আমি নৌকা প্রত্যাশী।
মনোনয়ন প্রত্যাশী আরও একজন হলেন খান তৌহিদুল ইসলাম রাতুল। তিনি উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য ও ইউনিয়ন কমিটির যুগ্ম-আহবায়ক। এছাড়াও তিনি ওই ইউনিয়নের প্রায়ত লালু চেয়ারম্যানের ছেলে ও যশোর জেলার জনপ্রিয় আওয়ামী লীগ নেতা মরহুম খান টিপু সুলতানের ভাইপো। সেক্ষেত্রে দলের শীর্ষ-স্থানীয় নেতৃবৃন্দের তার সাথ্যতা বেশি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমার মরহুম বাবা ও চাচাদের স্বপ্ন ছিল এই এলাকা ও ইউনিয়ন বাসীর সেবা করা। আমি তাদের উত্তরসুরী হয়ে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চাই।
তবে এছাড়াও দলীয় প্রতীক নৌকা প্রত্যাশীর তালিকায় ইউনিয়নের সভাপতি মাস্টার শহিদুল ইসলাম, অধ্যক্ষ মতলেব সরদার, যুবলীগের প্রভাষক মাসুদ রানা, ইউপি সদস্য আজম হালদার ও আনিছুর রহমানের নাম শোনা যাচ্ছে।
তবে এই্ ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থীরা হলেন দুইজন। দু’জনই ধানের শীষ প্রতীক প্রত্যাশী। এরমধ্যে গতবারের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন বিএনপি নেতা হুমায়ুন কবির স্বপন। তিনি এবারও প্রতীক প্রত্যাশী। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ধামালিয়া ইউনিয়নটি হল বিএনপির ঘাঁটি। এখানে দলের একক প্রার্থী থাকলে বিজয় নিশ্চিত। গতবারের নির্বাচনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে আমি পরাজিত হয়েছিলাম। তবে এবারের নির্বাচনে আমি সম্পূর্ণ আশাবাদী। আর ইউনিয়নের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা আমার সঙ্গে আছে। ধানের শীষ প্রত্যাশী অপর প্রার্থী হলেন জহুরুল হক। তিনি ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক। তিনি বলেন, গতবারের নির্বাচন থেকে আমাদের দল পরাজয়ের বিষয়টি সম্পূর্ণ ভাবে অনুভব করতে পেরেছে। আশাকরি এবার আর দলের হাই-কমান্ড সে ভুল করবে না। তাই ধানের শীষ প্রতীক প্রত্যাশীতে আমি শতভাগ আশাবাদী।
এছাড়াও এই ইউনিয়নের পরপর দু’বার চেয়ারম্যান ছিলেন জামাতে ইসলামীর মাওলানা জাফর আহমেদ। তিনি বৃদ্ধ হলেও এলাকায় প্রচার-প্রচারণায় শোনা যাচ্ছে তিনিসহ জামাতের আরেক নেতা মাওলানা মুসতাকের নাম। স্থাণীয়দের ধারণা, নির্বাচনি পরিবেশ ও ভাবধারা অনুকুলে থাকলে হয়তঃ তাদের মধ্যে থেকে যে কেউ প্রার্থী হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

ঝিনাইদহে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত ১২ পরিবার পাবে ২০ হাজার টাকা

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : ঝিনাইদহে সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে যশোর সদর হাসপাতালে আরো একজন মারা গেছেন। তার বাড়ি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামে। এ নিয়ে ওই দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২ জনে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে কালীগঞ্জ থানার ওসি মাহফুজুর রহমান জানান, সর্বশেষ নড়াইলের আব্দুর রশিদ মোড়লের মৃত্যুর খবর আমরা পেয়েছি। এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা ১২ জনে দাঁড়িয়েছে। এদের মধ্যে পাঁচজন শিক্ষার্থী রয়েছেন। তারা মাস্টার্সের শেষ পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনায় নিহত হন। এ দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন কালীগঞ্জ উপজেলার সুন্দরপুর গ্রামের ইসাহাক আলীর ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান (২২), ভাটপাড়া গ্রামের রণজিৎ দাসের ছেলে সনাতন দাশ (২৫), চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ডিঙ্গেদহ গ্রামের আব্দুর রশিদের মেয়ে রেশমা (২৬), আলমডাঙ্গা উপজেলার নাগদাহ গ্রামের জান্নাতুল বিশ্বাসের ছেলে ওয়ালিউল আলম শুভ (২৫), শৈলকুপা উপজেলার বগুড়া গ্রামের মৃত মহরম বিশ্বাসের ছেলে আব্দুল আজিজ (৭৫), সদর উপজেলার নাথকুণ্ডু গ্রামের আব্দুল ওয়াহেদের ছেলে ইউনুস আলী (৩২), বাসচালক মাগুরা জেলার উজ্জ্বল হোসেন (৩৫), কোটচাঁদপুর উপজেলার হরিণদিয়া গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে হারুনুর রশিদ সোহাগ (২৪), কালীগঞ্জ উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের আব্দুল আজিজ (২৬), যশোরের মনিরামপুর এলাকার শিলা খাতুন (২৮), তার ভাসুরের মেয়ে খাদিজা খাতুন (৭) ও নড়াইলের আব্দুর রশিদ মোড়ল। ওসি মাহফুজুর রহমান জানান, নিহতদের মধ্যে ১২ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা হবে। জানা যায়, দুদিন আগে ছুটি নিয়ে কর্মস্থল সাতক্ষীরা থেকে এসেছিলেন মাস্টার্সের পরীক্ষা দিতে। বৃহস্পতিবার ফেরার কথা ছিল কর্মস্থলে। কিন্তু মাস্টার্স পরীক্ষা দিয়ে লাশ হয়ে ফিরতে হলো মোস্তাফিজুর রহমান কল্লোলকে। তিনি কালীগঞ্জ উপজেলার ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নের সুন্দরপুর গ্রামের ইসাহাক মণ্ডলের ছেলে। তিনি যশোর সরকারি এমএম কলেজ কেন্দ্রে মার্স্টাসের পরীক্ষা দিতে গিয়েছিলেন।
নিহত ছাত্র মোস্তাফিজুর রহমান কল্লোলের ফুফাতো ভাই মিশন আলী বলেন, কল্লোল সাতক্ষীরা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে সিপাহি পদে চাকরি করতেন। মাস্টার্স পরীক্ষা দেওয়ার জন্য বাড়িতে ছুটি নিয়ে এসেছিলেন। পরীক্ষা শেষ করে বাড়িতে ফেরার পথে বারোবাজার এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন।
নিহত রেশমার ভাই সোহেল রানা বলেন, তার বোন অনার্স শেষ বর্ষের পরীক্ষা দিয়ে ফিরছিল। হঠাৎ ফোন আসে যে বোন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে এসে বোনের লাশ শনাক্ত করেছি। শেষ পরীক্ষা দিয়ে তার বোন আর বাড়ি ফিরল না। শেষ পরীক্ষা দিয়ে বোনের ও শেষ বিদায় হয়ে গেল।
এদিকে নিহত কালীগঞ্জ উপজেলার বড় ভাটপাড়া গ্রামের সনাতন দাশের মৃত্যুতে পরিবারে চলছে শোকের মাতম। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে শোকে কাতর বাবা-মা। রাজমিস্ত্রির কাজ করে ছেলেকে পড়ালেখা করিয়েছিলেন বাবা রণজিৎ দাস। রণজিৎ দাস বলেন, খুব কষ্ট করে ছেলের পড়ালেখার খরচ চালিয়েছি। খেয়ে না খেয়ে তার খরচ দিচ্ছিলাম। একদিন সে চাকরি করে অভাব ঘুচাবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন ফিকে হয়ে গেছে।
জানা গেছে, নিহত কোটচাঁদপুর উপজেলার হারুনুর রশিদ সোহাগও মাস্টার্সের পরীক্ষার্থী ছিলেন। দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাকে স্থানান্তর করা হয়। অবস্থা গুরুতর দেখে তাকে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়। এর পর হাসপাতালে বৃদ্ধ বাবা-মা ও বোন এসে পৌঁছলে কিছুক্ষণ পরেই বাবা-মায়ের কোলে ঢলে পড়েন তিনি।

সাতক্ষীরা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক বিজয় কুমার বলেন, মোস্তাফিজুরের নিহতের কথা আমরা শুনেছি। শোনামাত্রই সেখানে অফিস থেকে দুজনকে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার তার কর্মস্থলে ফেরার কথা ছিল। মাস্টার্স পরীক্ষা দেওয়ার জন্য তিনি ছুটি নিয়ে বাড়িতে গিয়েছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার মাগুরাগামী জিকে পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো গ-১১০২১৪) ৪০-এর ঊর্ধ্বে যাত্রী নিয়ে যশোর থেকে মাগুরার দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে বাসটি বারোবাজার পার হয়ে আমজাদ আলী ফিলিং স্টেশনের সামনে পৌঁছলে বিপরীত থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে যাত্রীবাহী বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ওপর আড়াআড়ি হয়ে উল্টে পড়ে। এতে প্রাণ হারান ১২ জন। আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন।

সিরিজ বাঁচানোর লড়াইয়ে মিরপুরে ফিল্ডিং করছে বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : সিরিজ বাঁচানোর লড়াইয়ে মিরপুরে ফিল্ডিং করছে বাংলাদেশ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হয়। টস: টস জিতে ব্যাটিং নিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট। স্কোর: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৮২/৫ (৭৪ ওভার) ব্যাটিং: জশুয়া ডি সিলভা ২ ও এনক্রুমার বোনার ৫৪, আউট: জন ক্যাম্পবেল ৩৬, শেইন মোসলে ৭, ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট ৪৭, কাইল মায়ার্স ৫, জার্মেইন ব্ল্যাকউড ৩৬।
আবারও তাইজুল
ব্রেক থ্রু মানেই তাইজুল ইসলাম। উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পর এবার তাইজুল ব্রেক থ্রু এনে দিলেন পঞ্চম উইকেটে। চা-বিরতির পর বোলিংয়ে এসে তৃতীয় ওভারে তাইজুল পেলেন উইকেট। বিপজ্জনক হয়ে ওঠা বোনার ও ব্ল্যাকউডের ৬২ রানের জুটি ভেঙে বাংলাদেশকে পঞ্চম সাফল্য দিলেন বাঁহাতি স্পিনার। ব্ল্যাকউড তাইজুলের প্রায় সোজা বল খেলতে গিয়ে ফিরতি ক্যাচ দেন। একটু আগে শট খেলেছিলেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান। একটু ড্রাইভ দিলে দারুণ দক্ষতায় বল তালুবন্দি করেন তাইজুল। ৭৭ বলে ২৮ রানে ব্ল্যাকউড সাজঘরে ফেরেন। তার আউটের সময় ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান ৫ উইকেটে ১৭৮।