ফুলতলায় কারুকথা’র সেলাই মেশিন ও শীতবস্ত্র বিতরণ

ফুলতলা (খুলনা) প্রতিনিধিঃ কারুকথা নারী উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে সোমবার বিকালে দামোদরস্থ সংস্থার কার্যালয়ে সেলাই মেশিন, ক্রীড়া সামগ্রী ও শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। সংস্থার সভাপতি রাবেয়া খাতুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ খুলনার বিভাগীয় সমন্বায়ক ও প্রধান শিক্ষক মোঃ দেলোয়ার হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফারহানা ইয়াসমিন, ফুলতলা রি-ইউনিয়ন স্কুল এন্ড কলেজ অধ্যক্ষ অজয় কুমার চক্রবর্তী, প্রেসক্লাব সভাপতি তাপস কুমার বিশ্বাস। সংস্থার সাধারণ সম্পাদক কোহিনুর জাহানের পরিচালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন যুব উন্নয়ন সহকারী কর্মকর্তা মোঃ কামরুজ্জামান শেখ ও বিপুল কুমার সাহা, তরঙ্গ নির্বাহী পরিচালক এস এম বাবুল রেজা, ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম, কাজল রায় প্রমুখ।

চতুর্থ দফায় দুই হাজার রোহিঙ্গাকে ভাসানচর স্থানান্তর

চট্টগ্রাম : রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের চতুর্থ দফায় আজ সোমবার আরো ২ হাজার ১০ জন রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। আজ সকাল পৌনে ১০ টায় নৌবাহিনীর পাঁচটি জাহাজ এসব রোহিঙ্গাকে নিয়ে চট্টগ্রাম ছেড়ে যায়।
রোহিঙ্গাবাহী জাহাজের সাথে থাকা সাংবাদিকরা জানান, নৌবাহিনীর ফ্লিট কমান্ডার রিয়ার এডমিরাল আবুল কালাম আজাদ সকাল পৌনে ১০ টায় চট্টগ্রাম নৌবাহিনীর জেটিঘাট থেকে এ জাহাজ বহরকে বিদায় জানান। এসব রোহিঙ্গা উখিয়ার বালুখালীর ৮, ৯, ১০, ১১, ১২ ও ১৮ নম্বর ক্যাম্প কুতুপালং-১ ইস্ট, ২ ইস্ট এবং ২ ওয়েস্ট ক্যাম্পে ছিল। মোট ৪৭৭ পরিবারের এসব সদস্যকে নিয়ে দুপুর একটায় পর্যায়ক্রমে পাঁচটি জাহাজ ভাসানচর পৌঁছে। এটি ছিল চতুর্থ দফার প্রথম পর্বের স্থানান্তর।
জানা যায়, আগামীকাল আরো ১৮ শ’ রোহিঙ্গা নিয়ে পাঁচটি জাহাজে সকাল নয়টার পর ভাসানচর যাত্রা করবে। ইতিমধ্যে তাদেরকে নিয়ে বাস কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা করেছে। চট্টগ্রাম পৌঁছানোর পর রোহিঙ্গাদের বিএফ শাহীন কলেজে রাখা হবে। সেখানে তাদের খাবার ও রাত্রি যাপনের ব্যবস্থা রয়েছে। এদের স্থানান্তরের মধ্য দিয়ে চতুর্থ দফায় ৩৮শ’ ১০ জন রোহিঙ্গাকে ভাসানচর নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এর আগে তিন দফায় প্রায় ১১ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হয়।
উল্লেখ্য, মিয়ানমার থেকে ইতিমধ্যে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে। এরা সকলেই উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরের অবস্থান করছে। সরকারের উদ্যোগে ভাসানচরে নির্মিত আশ্রায়ন প্রকল্পে পর্যায়ক্রমে লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে স্থানান্তর করা হবে।

পদত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার

ঢাকা : জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে পদত্যাগ করলে যদি লাভ হয়, দেশের যদি কোনো উপকার হয়, তাহলে আমি যেকোনো মুহূর্তেই পদত্যাগ করতে প্রস্তুত।

নির্বাচন ভবনের নিজ দফতরে সোমবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সম্প্রতি ৪২ নাগরিকের পক্ষ থেকে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগের দাবি জানানো হয়েছে।

মাহবুব তালুকদার বলেন, এই দাবিটা সম্ভবত আমাদের কাছে নয়, এটা অন্যত্র দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে একটা কথা আছে। আমরাতো একটা প্রসেসের মধ্য দিয়ে নির্বাচন কমিশনার হয়েছি। এখন যদি সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল আমাদের ব্যাপারে গঠিত হয় আমাদের কোনোকিছু বক্তব্য তো নেই। ঠিক না? আর একটা প্রসেসের মধ্য দিয়ে নির্বাচিত হওয়ার পরে আমি পদত্যাগ করে ফেললাম, এটা কোনো বিষয় হয় না।

তিনি বলেন, আমি এই পর্যন্ত তিনবার পদত্যাগের অনুরোধ পেয়েছি। এখন কতবার পদত্যাগ করবো। সেটাও একটা প্রশ্ন।

এর আগে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার চার বছর পূর্তি উপলক্ষে তিনি একটি লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সাংবাদিকদের কাছে।

এতে মাহবুব তালুকদার বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের আজ ৪ বছর পূর্ণ হলো। পেছনের দিকে তাকিয়ে মনে হচ্ছে আমাদের আত্মবিশ্লেষণ প্রয়োজন। প্রায় সব নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে বলে আমরা তৃপ্তি বোধ করি। কিন্তু নির্বাচন বিষয়ে আমাদের সব দাবি জনগণের উপলব্ধির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। কেবল রাজনৈতিক দল নয়, নীরব জনগোষ্ঠীর অশ্রুত ভাষা শ্রবণের প্রচেষ্টা থাকা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বর্তমানে নির্বাচন এককেন্দ্রিক হয়ে যাচ্ছে। এককেন্দ্রিক নির্বাচন বহুদলীয় গণতন্ত্রের উপাদান হতে পারে না। যেহেতু নির্বাচন ছাড়া গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা যায় না, সেহেতু নির্বাচনের প্রতিটি আইনকানুন ও আচরণবিধি কঠোরভাবে পালনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রকে পরিপালন ও সংরক্ষণ করতে হয়।

মাহবুব তালুকদার তার লিখিত বক্তব্যে নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কারের প্রশ্নও তোলেন। তিনি বলেন, নির্বাচন প্রক্রিয়া যথাযোগ্য সংস্কার না করার কারণে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা এখন গভীর খাদের কিনারে। এই সংস্কার নির্বাচন কমিশনের ওপর নির্ভর করে না। এজন্য রাজনৈতিক দলগুলো এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সমঝোতা প্রয়োজন।

কমিশনের সঙ্গে বারবার দ্বি-মত পোষণ করে আলোচনায় আসা এই কমিশনার বলেন, পৌরসভা নির্বাচনের ফলাফল দেখে আমার ধারণা হচ্ছে নির্বাচন নির্বাসনে যেতে চায়। নির্বাচন অর্থ অনেকের মধ্য থেকে ভোটের মাধ্যমে বাছাই। কিন্তু সে অবস্থা আজকাল পরিলক্ষিত হয় না। প্রশ্ন জাগে, নির্বাচন কি এখন পূর্ব নির্ধারিত? নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও সর্বজন গ্রহণযোগ্য না হলে, কোনো বিতর্কিত নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র আপন মহিমায় বিকশিত হতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, আগামী মে মাস থেকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দলীয় প্রতীকে ব্যাপক পরিসরে কয়েক ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনেও সহিংসতার আশঙ্কা করি। আচরণবিধি লঙ্ঘন ও হানাহানি বর্তমানে নির্বাচনের অনুসঙ্গ হয়ে গেছে। কোনো অনভিপ্রেত ঘটনাই বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার উপায় নেই। কারণ কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা মিলে একটি অবিচ্ছিন্ন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তাই প্রাণহানীর অভিশাপ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রক্ষার পথ অবশ্যই খুঁজে বের করতে হবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আমাদের উদ্যোগ কেন কার্যকর হচ্ছে না, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ আবশ্যক।

সবশেষে তিনি নিজেকে আশাবাদী মানুষ হিসেবে উল্লেখ করে লিখিত বক্তব্যে প্রশ্ন রাখেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের কার্যকালের শেষবর্ষের প্রারম্ভে দাঁড়িয়ে একজন আশাবাদী মানুষ হিসেবে ‘যার শেষ ভালো তার সব ভালো’ এই প্রবাদবাক্যটিকে কি আশ্রয় করতে পারি?

চৌগাছার মেয়র হলেন আ’লীগের হিমেল

যশোর : চৌগাছা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নুর উদ্দীন আল মামুন হিমেল বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডের বেসরকারি ফলাফলে ছয় হাজার ৫৪২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা জামায়াতের সহসাধারণ সম্পাদক স্বতন্ত্র (জগ) প্রার্থী মাস্টার কামাল আহমেদ পেয়েছেন তিন হাজার ১৭ ভোট। বিএনপির প্রার্থী আব্দুল হালিম চঞ্চল পেয়েছেন এক হাজার ১০৯ ভোট। ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের হাতপাখার প্রার্থী শিহাব উদ্দীন পেয়েছেন ৭৪৫ ভোট। রোববার সন্ধ্যায় যশোর জেলা সিনিয়র নির্বাচন অফিসার ও পৌর নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার হুমায়ন আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে সকাল আটটায় পৌরসভা নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলে বিকেল চারটা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণের সময় কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। চৌগাছায় প্রথমবারের মতো ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ করা হয়। এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ১৭ হাজার ২৪৯। নির্বাচনে মোট ভোট কাস্ট হয়েছে ১১ হাজার ৪১৩। ভোটের শতকরা হার ৬৬.১৬। এছাড়া সাধারণ কাউন্সিলর পদে পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে আনিছুর রহমান আনিচ (পানির বোতল), ২ নম্বর ওয়ার্ডে সাইদুল ইসলাম (উটপাখি), ৩ নম্বর ওয়ার্ডে উজ্জ্বল হোসেন (উট পাখি), ৪ নম্বর ওয়ার্ডে সিদ্দিকুর রহমান (উটপাখি), ৫ নম্বর ওয়ার্ডে জিএম মোস্তফা (পানির বোতল), ৬ নম্বর ওয়ার্ডে আতিয়ার রহমান (উটপাখি), ৭ নম্বর ওয়ার্ডে রুহুল আমিন (পানির বোতল), ৮ নম্বর ওয়ার্ডে শাহিনুর রহমান (পাঞ্জাবি), ৯ নং ওয়ার্ডে আনিছুর রহমান (টেবিল ল্যাম্প) বেসরকারীভাবে বিজয়ী হয়েছেন। সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ১, ২ ও ৩ ফাতেমা খাতুন, ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড থেকে জোসনা বেগম এবং ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড থেকে জহুরা খাতুন বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন। এদিকে ধানের শীষের প্রার্থী আব্দুল হালিম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী (জগ) মাস্টার কামাল আহমেদ নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ করে বলেন, তাদের এজেন্ট ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়াসহ যেসকল এজেন্ট ছিল তাদের কে মারধর করে বের করে দিয়ে ভোটারদের হাতের ছাপ নিয়ে ভোট নিয়ে নেওয়া হয়েছে।

সাতক্ষীরায় মেয়র হলেন বিএনপি’র তাসকিন

সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরা পৌর নির্বাচনে বর্তমান মেয়র বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তাজকিন আহমেদ চিশতি বেসরকারি ফলাফলে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ২৫ হাজার ৮৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী নাসিম ফারুক খান মিঠু পেয়েছেন ১৩ হাজার ২২১ ভোট। এছাড়া সাধারন কাউন্সিলর পদে ১ নং ওয়ার্ডে কায়ছারুজ্জামান হিমেল, ২ নং ওয়ার্ডে সৈয়দ মাহমুদ পাপা, ৩ নং ওয়ার্ডে আইনুল ইসলাম নান্টা, ৪ নং ওয়ার্ডে কাজী ফিরোজ হাসান, ৫নং ওয়ার্ডে আনোয়ার হোসেন মিলন, ৬ নং ওয়ার্ডে শেখ মারুফ হোসেন, ৭ নং ওয়ার্ডে জাহাঙ্গীর হোসেন কালু, ৮ নং ওয়ার্ডে শফিকুল আলম বাবু ও ৯ নং ওয়ার্ডে শেখ শফিকউদ্দৌলা সাগর এবং সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে যথাক্রমে নুরজাহান নুরী, অনিমা রানী মন্ডল ও রাবেয়া পরভীন বেসরকারী ভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। জেলা নির্বাচন অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মোঃ নাজমুল কবির এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বাগেরহাটে পুনরায় মেয়র হলেন আ’লীগের হাবিবুর রহমান

বাগেরহাট : বাগেরহাট পৌরসভা নির্বাচনে পুনরায় মেয়র হলেন আওয়ামী লীগের খান হাবিবুর রহমান। এনিয়ে তিনি টানা ৪র্থবারের মত মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হলেন। বাগেরহাট পৌরসভার ৯ ওয়ার্ডের ১৫টি কেন্দ্রে নৌকা প্রতিকে ১৮ হাজার ৮‘শ ৯৪ ভোট পেয়ে তিনি নির্বাচিত হয়েছেন। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাইদ নিয়াজ হোসেন শৈবাল ধানের শীষ প্রতিকে ৩‘শ ৩৯ভোট পেয়েছেন। তবে এজেন্ট বের করে দেওয়া, এজেন্টদের মারধর, বিএনপির ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে ঢুকতে না দেওয়া, একজনের আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে অন্যজনকে দিয়ে নৌকা প্রতিকে ভোট দেওয়াসহ নানা অভিযোগ এনে দুপুর ২টায় ভোট বর্জন করেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাইদ নিয়াজ হোসেন শৈবাল। খান হাবিবুর রহমান যুবক বয়স থেকেই আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেন। তিনি যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক, বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকসহ আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।২০০৪ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে সর্বপ্রথম বাগেরহাট পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন খান হাবিবুর রহমান।এর পরে আরও দুইবার তিনি প্রতিদ্বন্দীতামূলক নির্বাচনে বাগেরহাট পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন। এছাড়া বাগেরহাট পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডে সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে মোসা. আসমা আক্তার, ২ নং ওয়ার্ডে তানিয়া খাতুন ও ৩ নং ওয়ার্ডে কোহিনূর বেগম নির্বাচিত হয়েছেন। সাধারণ ১ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে মোঃ শামীম আহসান, ২ নং ওয়ার্ডে মো. মনিরুজ্জামান, ৩ নং ওয়ার্ডে খানআবু বক্কর, ৪ নং ওয়ার্ডে কাজী তৌহিদুর রহমান জনি, ৮ নং ওয়ার্ডে রেজাউর রহমান মন্টু, ৯ নং ওয়ার্ডে মো. ফারুক তালুকদার নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে ৫ নং ওয়ার্ডে আবুল হাশেম শিপন, ৬ নং ওয়ার্ডে তালুকদার আব্দুল বাকি এবং ৭ নং ওয়ার্ডে শাহ নেওয়াজ মোল্লা আগে থেকেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। ১৫ দশমিক ৮‘শ ৮৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের বাগেরহাট পৌরসভায়বাগেরহাট পৌরসভা নির্বাচনে ৯টি ওয়ার্ডের ১৫টি কেন্দ্রে ৩৮ হাজার ২‘শজন ভোটার ছিলেন। এর মধ্যে ১৮ হাজার ৪‘শ ২১জন পুরুষ এবং ১৯হাজার ৭‘শ৭৯ জন নারী রয়েছেন।

র‌্যাব-৬ এর অভিযানে ৩২ টি স্বর্ণের বার আটক ২

ইউনিক প্রতিনিধি : র‌্যাব-৬ খুলনা এর একটি দল গতকাল রবিবার অভিযান চালিয়ে আনুমানিক দুই কোটি টাকা মূল্যের ৩২ টি স্বর্ণের বিস্কুটসহ ২ চোরাচালানকারী’কে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে স্বর্ণ পাচার করার অপরাধে যশোর কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা রুজু প্রক্রিয়াধীন। র‌্যাব সূত্রে জানাযায়, গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানাযায় ঢাকা থেকে সাতক্ষীরাগামী একটি যাত্রীবাহী বাসে যাত্রীবেশে কতিপয স্বর্ণ চোরাচালানকারী বিপুল পরিমান স্বর্ণ পাচারের উদ্দেশ্যে পরিবহন করছে। প্রাপ্ত সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনার সত্যতা যাচাই ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে অভিযান চালায়। এসময় আসামী মোঃ শামীম হোসেন(৪০), পিতা-মোঃ শুকুর আলী, গ্রাম-কুলতিয়া, থানা ও জেলা-সাতক্ষীরা এবং মোঃ হুমায়ুন কবির মিরাজ(২৬), পিতা-আব্দুল মান্নান, গ্রাম-দিঘা, থানা-শার্শা, জেলা-যশোরকে আটক করা হয়।

ফুলে সৌরভ ছড়াচ্ছে খুবি’র ক্যাম্পাস

ইউনিক প্রতিনিধি : খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চোখ পড়লেই এখন দেখা যাবে নানা বর্ণের ফুলের সমারোহ। ফুলের গন্ধে মাতোয়ারা ক্যাম্পাস যা এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। নানা প্রকারের গাঁদা, আকাশি সাদা স্নোবল, সালভিয়া, দোপাটি, ক্যালেন্ডোলা, দায়েনথাঁচ, ফ্লোগর্স, ইন্টালিয়াম, স্নাকড্রাগন, পেনজি, কারিয়াফছি, ভারবিনা, পিটুনিয়া, স্টার গোল্ড, মৌচন্ডা, পানচাটিয়া, অ্যালমন্ডা, গ্লাডিয়া, তালপাম্প, চন্দ্রমল্লিকা, ইনকা, ছোট চায়না গাঁদা, মোরগঝুঁঁটি, কসমস, জুঁই, চামেলি ছাড়াও আছে টগর, বেলি এবং সাইকাস, ক্রিসমাস, জবা, রঙ্গন এমনি কি কয়েকটি গাছে পলাশ ফুলও শোভা পাচ্ছে। পলাশের ডাল ভরে গেছে ফুলে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ ভবনের চারপাশ জুড়েই ফুল আর ফুল। মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে নির্মিত ম্যুরাল ‘কালজয়ী মুজিব’ এর সম্মুখভাবে শোভা পাচ্ছে অসংখ্য ফুল। যেন কার্পেটের মতো বিছানো। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইকেল মধুসূদন দত্ত অতিথি ভবন, শহিদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রশাসন ভবন, অগ্রণী ব্যাংক, পোস্ট অফিস ভবন, ওয়াকওয়ে, একাডেমিক ভবন ও আবাসিক হল, উপাচার্যের বাসভবন প্রাঙ্গণেও ফুটেছে নানা প্রকারের ফুল। করোনার মহামারীর কারণে এবার বসন্তের আগমনী দিনে কোনো অনুষ্ঠান না থাকলেও খুবি ক্যাম্পাস শোভিত নানা বর্ণের ফুলে। প্রস্ফুটিত ফুল যেন বসন্তের আবাহনে উন্মুখ, আর দর্শনার্থী তেমন না থাকলেও মনে হচ্ছে ফুল ফুটে পথ চেয়ে আছে। বসন্তের প্রথম দিনে আজ সোমবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারি অনেককেই ছবি তুলতে দেখা যায়। দুপুরের পর থেকে অনুমতি নিয়ে প্রাক্তন, শিক্ষার্থী, দর্শনার্থীরা প্রবেশ করে ব্যস্ত হয়ে যায় ছবি তোলায়। সবুজ ক্যাম্পাসের ইটপাথরে গড়া ভবনের সামনে দ্যুতি ছড়াচ্ছে রঙ-বেরঙের বাহারি ফুল। নজরকাড়া সব ফুলের মন মাতানো সৌরভ আর স্নিগ্ধতায় মুগ্ধ সবাই। সৌন্দর্য বাড়িয়েছে প্রস্ফুটিত ফুল। বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট শাখার উপ-রেজিস্ট্রার কৃষ্ণপদ দাশ জানান, গত বছরের ন্যায় এবারও ক্যাম্পাসে ফুল ফোটানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এবারও লাগানো চারায় ভালো ভাবেই ফুল ফুটেছে। তবে মাঝে একদিন বৃষ্টি হওয়ায় ফুলের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। তা সত্ত্বেও এবার ফুল আরও ১৫ দিন ভালো ভাবেই থাকবে বলে আমরা আশা করছি। ক্যাম্পাসে আরও নতুন ফুলের চারা লাগানো যায়, তবে সেক্ষেত্রে জনবল ও চারা ক্রয়সহ নার্সিংয়ে আরও বাজেট বাড়ানো দরকার।

মাদক কারবারি স্বামীকে পুলিশে দিলেন স্ত্রী

সাতক্ষীরা : রাতদিন মাদক বেচাকেনা, সেবন, চুরি আর স্ত্রীর ওপর নির্যাতন। অবশেষে সেই যন্ত্রনা সহ্য করতে না পেরে জরুরী পুলিশ সেবার হটলাইন ৯৯৯-এ ফোন করে আব্দুল্যাহ ওরফে জয়দেব (৩৭) নামের এক মাদক ব্যবসায়ী স্বামীকে গাঁজা সহ পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছেন তার স্ত্রী। আটককৃত আব্দুল্লাহ ওরফে জয়দেব আশাশুনির বুধহাটা গ্রামের সেবানন্দ দে’র ছেলে। হিন্দু ধর্ম থেকে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়ে স্ত্রী শারমিন সুলতানাকে নিয়ে গেল কয়েক বছর ধরে দেবহাটা উপজেলার মাঝ পারুলিয়ায় মাছুম খানের ভাড়া বাড়িতে থাকতো সে। শারমিন সুলতানা বেসরকারি সংস্থা সুশীলনে চাকরি করে সংসার চালাতেন। নবমুসলিম হওয়ায় এলাকার সকলের সহানুভুতি ছিল আব্দুল্যাহ ওরফে জয়দেবের প্রতিও। প্রথমদিকে দেবহাটা থানার দু’একজন পুলিশ সদস্যের সোর্স হিসেবেও কাজ করতো সে। একপর্যায়ে পুলিশের সোর্স হওয়ার পর মানুষের সহানুভুতির এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আব্দুল্যাহ ওরফে জয়দেব জড়িয়ে পড়ে মদক ব্যবসা, সেবন, চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ডে। দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ও গাঁজার ব্যবসা করে আসছিল সে। প্রতিবাদ করতে গেলে স্ত্রী শারমিনের ওপর নির্যাতন করতো সে। ইতোপূর্বে একাধিকবার ইয়াবা ও মাদকদ্রব্যসহ পুলিশের হাতে আটকও হয় আব্দুল্যাহ ওরফে জয়দেব। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে তার বিরুদ্ধে দেবহাটা থানায় রয়েছে দুটি মামলা। সর্বশেষ শুক্রবার রাত ১০টার দিকে স্বামী আব্দুল্যাহ ওরফে জয়দেবকে গাঁজাসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের জরুরী সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন তার স্ত্রী শারমিন সুলতানা। কিছুক্ষণের মধ্যেই দেবহাটা থানার ওসি বিপ্লব কুমার সাহার নির্দেশনায় পিএসআই সোলাইমানসহ পুলিশ সদস্যরা মাঝ পারুলিয়ার মাছুম খানের ভাড়া বাড়িতে অভিযান চালিয়ে গাঁজাসহ আব্দুল্যাহ ওরফে জয়দেবকে আটক করে। পরবর্তীতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর ৩৬ (১) এর ১৯ (ক) ধারায় থানায় মামলা (নং-০৮) দায়ের শেষে আটককৃত আব্দুল্যাহ ওরফে জয়দেবকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করে পুলিশ। এঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ওসি বিপ্লব কুমার সাহা বলেন, প্রত্যেকটি পরিবারে যদি আব্দুল্যাহর স্ত্রীর মতো এমন সচেতন মানুষ থাকে তাহলে মাদকসহ সকল অপরাধ কর্মকান্ড প্রতিরোধ করা সহজ হবে।

ডাক্তারকে ‘স্যার’ বলায় চিকিৎসা দেননি : রোগীর মৃত্যু

সাতক্ষীরা : সরকারি হাসপাতালে দায়িত্বরত চিকিৎসককে ‘স্যার’ না ডেকে ‘দাদা’ বলে ডাকায় ব্রেন স্ট্রোকের রোগীকে চিকিৎসা না দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। এরপর চিকিৎসার অভাবে রোগী মারা গেছেন বলে দাবি স্বজনদের। শুক্রবার রাত ১০টায় সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এ ঘটনা ঘটে। শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালীনি ইউনিয়নের পূর্ব দূর্গাবাটি গ্রামের বিশ্বজিৎ মণ্ডল জানান, আমার বাবা নিরঞ্জন মণ্ডল (৭০) ব্রেন স্ট্রোক করায় এবং শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় রাত ১০টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসি। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত ডাক্তার অমিতকে ‘দাদা’ সম্বোধন করে চিকিৎসার কথা বললে তিনি বলেন, ‘সবাই আমাকে স্যার বলে ডাকেন কিন্তু আপনি আমাকে দাদা বললেন কেন?’ তিনি আরও বলেন, ডাক্তারকে অনুরোধ করে একাধিকবার ডাকলেও তিনি আমার বাবাকে দেখেননি। এরপর সঠিক চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার সময় বাবা মারা যান। ডাক্তার অমিত বলেন, ‘প্রটোকলে আছে আমাদেরকে স্যার বলতে হবে। আমাদের প্রশিক্ষণ থেকেই বলেছে যে সাধারণ মানুষ আমাদের স্যার বলে ডাকবে। এছাড়া এ বিষয়ে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সাথে কথা বলতে বলেন। এ বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা অজয় সাহা জানান, বিষয়টি দুঃখজনক এবং ব্যাপারটি অবশ্যই খতিয়ে দেখব।