চট্টগ্রাম বন্দরে ৩২৬ কনটেইনার আমদানী নিষিদ্ধ পণ্য ধংসের নামে পাচারের প্রক্রিয়া চলছে

রিটন দে লিটন, চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানী করা পণ্য ৩০ দিনের মধ্যে খালাস না করলে আমদানিকারককে ১৫ দিনের নোটিশ দিয়ে ওই পণ্য নিলামে তোলে কাস্টম হাউস। মিথ্যা ঘোষণায় আনা পণ্যসহ বিভিন্ন আইনি জটিলতায় দীর্ঘদিন যাবৎ পড়ে থাকার কারণে নষ্ট হয়ে যাওয়া পণ্যের কনটেইনার সরবরাহকারী প্রতিষ্টান নিজ খরচে ধবংসের উদ্যেগ নিলেও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ডাম্পিং স্টেশনে কাস্টমসের বর্জ্য ধংসে অনিহা ধংস কাজে অনুমতি পাওয়া প্রতিষ্টানের মালিকদের।৩২৬টি কনটেইনারে থাকা প্রায় সাড়ে ছয় হাজার টন পণ্য ধ্বংসের নামে পাচারের চেষ্টা চালাচ্ছে একটি প্রতারক চক্র।

চট্টগ্রাম বন্দর সুত্রে জানা যায় চট্টগ্রাম বন্দরের Garbage Cleaning Contractor লাইসেন্স বিহীন একটি চক্র দীর্ঘদিন যাবৎ চট্টগ্রাম বন্দর-কাস্টমসের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যনেজ করে যত্রতত্র লোক দেখানো কয়েকটি কনটেইনার ধংস করে বাকী কনটেইনার পাচারের ফলে কোটি টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

জানা যায় সম্প্রতি ৩২৬ কনটেইনারে থাকা প্রায় সাড়ে ছয় হাজার টন পণ্য ধ্বংস করতে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে চসিক ডাম্পিং স্টেশনে বর্জ্য ধংস না করে তাদের পছন্দ মতো স্থানে ধংস কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র পাওয়ার জন্য প্রতারক চক্র তদবীর চালিয়ে যাচ্ছে। মুনতাহা এন্টারপ্রাইজ, কেডি শিপিং ও রিয়া এন্টারপ্রাইজ নামে তিনটি প্রতিষ্টান।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মহাপরিচালক পরিবেশ অধিদপ্তর, পরিচালক পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম, চেয়ারম্যান চট্টগ্রাম বন্দর, চেয়ারম্যান জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও মেয়র চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন বরাবরে “চট্টগ্রাম সচেতন নাগরিক কমিটির” কর্তৃক প্রেরিত লিখিত আবেদনে উল্লেখ করা হয় ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে Garbage Cleaning Contractor লাইসেন্স না থাকা সত্বেও কাস্টমস কমিশনার মোহাম্মদ ফখরুল আলম ও ডেপুটি কমিশনার মাজেদুল  টাকার বিনিময়ে ২০৩ টি কন্টেইনার ধংস করার জন্য মেসার্স আব্দুর রহমান শাহ ডিপো ( নাছির নগর ) উত্তর হালিশহর, টোল রোড, বারণী ঘাটা সাগর পাড়স্থ ছোট একটি ফসলী জমিতে সামান্য গর্ত করে ধংস কার্যক্রম পরিচালনা করার অনুমতি প্রদান করার কারণে প্রতার চক্রটি কয়েকটি কনটেইনার ধংস করে বাকী কনটেইনারের আমদানী নিষিদ্ধ পন্য পাচারের অভিযোগ রয়েছে। ধংসকৃত পন্য পাচারের অভিযোগে গত বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার বিকেলে রেপিড একশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) কর্তৃক ধংস করা নষ্ট পণ্য পাচারের অভিযোগে প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করে।

অভিযোগে আরো উল্লেখ রয়েছে বন্দরে দীর্ঘদিন যাবৎ আটকে থাকা প্রতিটি কনটেইনার ধংস করার জন্য এক থেকে দেড় লক্ষ টাকা কাস্টমস কর্মকর্তাদের ঘুষ প্রদান করেন কনটেইনার ধংসের অনুমোদন পাওয়া প্রতিষ্টানের মালিকেরা।

অভিযোগে আরো উল্লেখ রয়েছে দীর্ঘদিন যাবৎ আটকে থাকা আমদানী নিষিদ্ধ প্রতিটি কনটেইনার ধংস করার ফলে কাস্টমসের কোনো প্রকার রাজস্ব আয় হচ্ছে না বরং নাম সর্বস্ব প্রতিষ্টনের মালিকেরা ধংসের নামে নষ্ট পণ্য বাজারে পাচারে কারণে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

“চট্টগ্রাম সচেতন নাগরিক কমিটির” লিখিত আবেদনে আরো উল্লেখ করা হয় চসিক ডাম্পিং স্টেশনে কাস্টমসের বর্জ্য ধংসের অনুমতি প্রদান করিলে চসিকের রাজস্ব আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি কয়টি কনটেইনার ধংস হয়েছে তার প্রকৃত হিসাব লিপিবদ্ধ থাকিবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনার মোহাম্মদ ফখরুল আলম বলেন, আমাদের গরীব দেশের খেটে খাওয়া মানুষেরা ধংসকৃত পণ্য নিয়ে যাওয়ার সময় র‌্যাব আটক করেছিল বলে শুনেছি আমাদের মামলা করতে বলেছিল, পরে রেপিড একশন ব্যাটালিয়ন (‌র‌্যাব)কর্তৃক ধংস করা নষ্ট পণ্য পাচারের অভিযোগে তিন সদস্যকে ৩লক্ষ টাকা জরিমানা করেছিল, আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন কনটেইনার ধংস জন্য কাস্টমসের কোনো ব্যয় বহন করে না। একটা ধংস কমিটি করে দিয়েছি, কমিটির ত্ববধানে কনটেইনার সবরবাহ প্রতিষ্টান নিজ খরচে ধংস কমিটি সদস্যদের উপস্থিতিতে ধংস কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এতে অন্যতা হওয়ার সুযোগ নাই। চট্টগ্রাম বন্দরের Garbage Cleaning Contractor বিহীন প্রতিষ্টানের মাধ্যমে ধংস কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে তিনি বলেন ধংস কার্যক্রম পরিচালনায় কোন লাইসেন্স লাগে না চাইলে যে কেউ কাজটি করতে পারে।

এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক (মেট্রো) মোহাম্মদ নুরুল্লাহ নূরী বলেন, কাস্টমসের পণ্য ধ্বংস করতে আমাদের সাথে আলোচনা হয়েছে। সুবিধামত জায়গা দিতে না পারায় সে কাজ এখনো আটকে আছে। এ ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকা সদর দপ্তর সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। তবে আমরা চাই কাস্টমস সিটি কর্পোরেশনের ডাম্পিং স্টেশনে এ কাজ করুক। কিংবা সেই জায়গায় না হলেও সিটি কর্পোরেশনকে সঙ্গে নিয়েই কাস্টমস পণ্য ধ্বংসের কাজটি করুক।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) ডাম্পিং স্টেশনে কাস্টমসের বর্জ্য ধংসের ব্যপারে জানতে চাইলে চসিক উপ প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মোরশেদ আলম বলেন, আমরা গড়ে প্রতিদিন চট্টগ্রাম সিটির প্রায় আড়াই হাজার টন বর্জ্য অপসারণ করে ধ্বংস করি। কাস্টমসের যে বর্জ্য ধ্বংসের ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে তা চসিক’র ডাম্পিং স্টেশনে করা সম্ভব। তবে নিয়মানুযায়ী প্রতি টন বর্জ্যরে জন্য কাস্টমসকে ভ্যাটসহ ৫৭৫ টাকা পরিশোধ করতে হবে। এছাড়া কাস্টমসের তত্ত্বাবধান ও খরচেই ওই বর্জ্য ডাম্পিং স্টেশনে নিয়ে আসতে হবে।

এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর সদরের উপপরিচালক (বর্জ্য ও রাসায়নিক পদার্থ ব্যবস্থাপনা) ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন বিষয়টি নিয়ে চট্টগ্রাম অফিসের আপত্তির কারণে মহাপরিচালক পরিবেশ অধিদপ্তর বরাবরে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পূণরায় একটি চিঠি দিয়েছেন কমিটির সদস্যরা এ বিষয়ে সিন্ধান্ত নিবেন।

 

সারা দেশ টিকা নিয়েছেন ৩১ লাখ ১০ হাজার ৫২৫ জন

ইউনিক ডেস্ক : গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশে শুরু হওয়া করোনার জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা নিয়েছেন ৩১ লাখ ১০ হাজার ৫২৫ জন। তাদের মধ্যে সামান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়েছে ৭৩৩ জনের। রবিবার ( ২৮ ফেব্রুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদফতর এ তথ্য জানিয়েছে।

অধিদফতর জানায়, মোট টিকা নেওয়া ৩১ লাখ ১০ হাজার ৫২৫ জনের মধ্যে পুরুষ ২০ লাখ ১২ হাজার ১৮১ জন আর নারী ১০ লাখ ৯৮ হাজার ৩৪৪ জন।

দেশে গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া টিকাদান কর্মসূচি প্রতিদিন সকাল সাড়ে আটটা থেকে শুরু হয়ে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত চলছে।

রবিবার দেশে টিকা নিয়েছেন এক লাখ ২৫ হাজার ৭৫২ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ৭৫ হাজার ১৫৫ জন আর নারী ৫০ হাজার ৫৯৭ জন।

অধিদফতরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশে মোট টিকা নেওয়া ৩১ লাখ ১০ হাজার ৫২৫ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগের আছেন নয় লাখ ৪১ হাজার ৩৩৯ জন, ময়মনসিংহ বিভাগের আছেন এক লাখ ৩৫ হাজার ১২৪ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের আছেন ছয় লাখ ৮১ হাজার ৮০৩ জন, রাজশাহী বিভাগের আছেন তিন লাখ ৪৩ হাজার ৯১০ জন, রংপুর বিভাগের আছেন দুই লাখ ৮৪ হাজার ২৩০ জন, খুলনা বিভাগের আছেন তিন লাখ ৮৪ হাজার ৫৫৬ জন, বরিশাল বিভাগের আছেন এক লাখ ৪৭ হাজার ৪৭২ জন এবং সিলেট বিভাগের আছেন এক লাখ ৯২ হাজার ৯১ জন।

আম্ফান বিধ্বস্ত উপকূলীয় জনপদ ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ সংষ্কারের দাবি

তালা : সুপার সাইক্লোন আম্ফান তান্ডবের প্রায় ৯ মাস অতিবাহিত হয়েছে। আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ও প্রতাপনগর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় বেড়িবাঁধের উপর টোং ঘর বেধে আজও অনেক পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে। দুর্গত এসব এলাকায় খাদ্য ও চিকিৎসা সংকট দেখা দেয়ার পাশাপাশি বিধ্বস্ত রয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। সব মিলিয়ে অবর্ণনীয় দুর্ভোগের মধ্যে দিনাতিপাত করছে দুর্গত মানুষগুলো। অনেকের বসতভিটে ভেসেগেছে নদীর খরস্রোতে। সিডর, আইলা ও আম্ফানের তান্ডবে অর্থনৈতিক ভাবে মেরুদন্ড ভেঙ্গে যাওয়া এই জনপদের হাজার হাজার পরিবারে চলে নীরব বোবা কান্না। আশ্রয় ও কাজের সন্ধানে এলাকা ছাড়ছে পরিবারের সদস্যরা।
শ্রীপুর গ্রামের গৃহবধু শাহানারা বেগম (৪০)। আম্পানের তান্ডবে তাদের দুটি বসত বাড়ি আর ধানি জমি চলে গেছে বাঁধভাঙ্গা পানিতে নতুন সৃষ্টি হওয়া খালের মধ্যে। তার ও পরিবারের আশ্রয় এখন রিংবাঁেধর উপর কাঠের তৈরী মাচার উপরে। সেখানেও এখনো জোয়ার ভাটায় পানি ওঠা নামা করে। স্বামী তৌহিদ দিন মজুর। সংসারে এক ছেলে ও দুই মেয়ে। ছেলে সোহেল রানা (১২) স্থানীয় মাদ্রাসায় পড়লেও আম্পানের পরে আর মাদ্রাসায় যায়নি। বাবার সাথে নদীতে মাছ ধরে দিন কাটায়। স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী দুই মেয়ে আলিফা (৮) ও জুলিয়া (৬) কে নিরাপত্তার জন্য পানিবন্দী জীবন থেকে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে শ্যামনগরে চাচার বাড়িতে। আম্পানে বেড়িঁবাধ ভেঙ্গে নতুনকরে খাল তৈরী হওয়ায় তারা এখন গৃহহারা।
একই এলাকার শ্রীপুর গ্রামের গফফার গাজীর স্ত্রী শাহিনা খাতুন (৪০) বলেন, আম্পানের পর ধ্বসেপড়া বেঁড়িবাঁধ মেরামতের জন্য প্রায় এক সপ্তাহ তার স্বামী কাজ করেছে। কাজের বিনিময়ে সেসময় পৃথক ২টি স্লিপের মাধ্যমে স্থানীয় প্রতাপনগর ইউনিয়র পরিষদ থেকে ৮ কেজি করে মোট ১৬ কেজি চাল ছাড়া এ পর্যন্ত কোন সরকারি সাহায্য-সহায়তা তারা পাননি। এলাকায় কর্ম নেই। কাজের সন্ধানে স্বামী গফফার এলাকা ছেড়ে চলে গেছে ৪ মাস আগে। বাড়িতে ঠিক মতো টাকা পাঠায় না। এখন শুনছি রংপুর গিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করে সেখানে ঘর-সংসার পেতেছে। ২ ছেলে ১ মেয়ে নিয়ে খেয়ে না খেয়ে তাদের দিন কাটছে।
কপোতাক্ষ তীরে বসবাসরত সুকুমার দাস, সুরঞ্জন ও তৃপ্তিদাসের তিনটি বসতবাড়ি ভেসে গেছে নদীতে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘরসহ আসবাসপত্র কপোতাক্ষে তলিয়ে যায়। নতুন আশ্রয়ের জন্য তারা বাঁশ খুটি পুতে মাচা তৈরী করছে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মাথা গোঁজার জন্য। শুধু শাহানারা, তৃপ্তিদাস নয়। এমন সমস্যায় আম্পান বিধ্বস্ত সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার উপকূলীয় জনপদের গৃহহীন হাজার হাজার পরিবার। নিরাপত্তা আর কাজের সন্ধানে এলাকা ছেড়ে অন্যস্থানে চলেগেছে নুর মোহাম্মদ গাজীর ছেলে নুরুজ্জামান।
কুড়িকাউনিয়া গ্রামের বেসরকারি স্কুল শিক্ষক ওলিউর রহমান (৫০) জানালেন, তার ওয়ার্ডে ( শ্রীপুর-কুড়িকাউনিয়া) সাড়ে ১১শ’ পরিবারের বসবাস। আম্ফানের পরে ১৭৫ পরিবার এলাকা ছেলে চলে গেছে। এরমধ্যে অনেকেই স্ত্রী, সন্তান ফেলে অন্য জেলায় গিয়ে বিয়ে করে নতুন সংসার পেতেছে। স্বামীরা প্রথম স্ত্রী, সন্তানদেরকে খোঁজ-খবর নিচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, ছেলে-মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার অবস্থা নেই। গ্রামের ভিতর একস্থান থেকে অন্যস্থানে যেতে হলে একাধিক বাঁশের সাকো পার হয়ে যেতে হয়। রাস্তাঘাট বলতে কিছুই নেই। গ্রামের উপর দিয়ে এখনো জোয়ার-ভাটা বইছে। চাকলা গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ভিটেবাড়ি সবই নদীতে ভেসে গেছে। কিছুই নেই। কপোতাক্ষ নদের বেঁড়িবাঁধের উপর আম্পানের পর থেকে আমরা ২৫ জন বাসবাস করছি। সরকারি সহায়তা হিসেবে পরিবারপ্রতি ২০ কেজি চাল ছাড়া আর কিছুই পাইনি। তাও ৫ দিন বাঁধ মিরামতের কাজ করার পর চাল দেয়া হয়। অসংখ্য মানুষ তাদের বসতভিটে হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে। অনেকের পাকা বিল্ডিং, গোয়াল ঘর, রান্নাঘর, ধানের গোলা ছিল। এখন সেখানে কোন চিহ্ন নেই। তাদের বসতভিটার উপর দিয়ে তৈরী হয়েছে নদী।
আম্ফানে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগরের ৮টি জায়গায় বাঁধ ভাঙ্গে। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে ৩০ কিলোমিটার। এই ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ড প্লাবিত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা ৮ হাজারেরও বেশি। বাঁধ নিয়ন্ত্রণে না আসায় কয়েক মাস ধরে উপকূলীয় এই জনপদের প্রায় ৩৬ হাজার মানুষ পানিবন্দী জীবন কাটিয়েছে। মূল সড়কের একাংশ ভেঙ্গে ভেসে যাওয়ায় প্রতাপনগর ইউনিয়নের সঙ্গে এখনো সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে।
আম্ফানে আশাশুনি সদর, শ্রীউলা, প্রতাপনগর, শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নের প্রায় ১৩ হাজার ৩শ’৭৫ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাঁধ ভাঙ্গার কারণে প্রতাপনগর ও শ্রীউলার ৫শ’৬২ পরিবার এখনো বাড়িছাড়া। এরা এখনো বেড়িবাঁধের উপর, সাইক্লোন সেন্টারে বাস করছে। দীর্ঘমেয়াদি পানিবন্দী জীবন আর বাড়িতে ফিরতে না পারার কারণে এবং এলাকায় কাজ না থাকায় এলাকার মানুষ এলাকা ছেড়ে সাতক্ষীরা, খুলনা, ঢাকা কুমিল্লা, কোলকাতাসহ অন্যত্র চলে যাচ্ছে স্থায়ী ও অস্থ্য়ী বসবাসের জন্য। এলাকার বিপুল সংখ্যক মানুষ তাদের বসতবাড়ি, জমিজমা হারিয়েছে আম্ফানসহ জলবায়ু পরিবর্তন জনিত বিভিন্ন প্রাকিৃতিক দুর্যোগের কারণে । সাইক্লোন বুলবুল, সিডর, আম্ফানসহ এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আশাশুনি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় সাড়ে ২২ হাজার মানুষ অন্যত্র অভিবাসি হয়েছে।
আম্পান তান্ডবের দীর্ঘ ৯ মাস পরও এলাকা জুড়ে এখনো ভেড়িবাঁধ ভাঙ্গনের তান্ডব চলছে। যোগাযোগ মাধ্যম নৌকা। পায়ে হাটার রাস্তা বলতে অবশিষ্ট কিছু নেই। জোয়ার ভাটার খেলায় বিবর্ণ হয়েছে সবুজ গাছপালা। বাঁধ ভাঙ্গা পানিতে ধানি জমি আর বসতবাড়ি বিলীন হয়ে এখানে প্রায় ১ হাজার ফুট চওড়া নতুন খাল তৈরী হয়েছে। এই খাল পারাপার করতে এলাকাবাসি তৈরী করেছে বাঁশের সাকো। বিকল্প হিসাবে রয়েছে নৌকা। কুড়িকাউনিয়া ১৬ ফেব্রুয়ারি সকালে প্রবল স্রোতের মধ্যে ট্রলার ডুবিতে বাধঁ মেরামতের কাজে আসা ৩ শ্রমিকের মৃত্যু হয়।
এদিকে আম্পান বিধ্বস্ত আশাশুনি ও শ্যামনগর উপজেলার উপকূলীয় এলাকায় বসবাসরত হাজার হাজার ভুক্তভোগী জনগোষ্ঠীর জন্য দীর্ঘমেয়াদী ত্র্রাণ ও পুনর্বাাসন সহায়তা প্রদান এবং আগামী বর্ষা মৌসুমের আগেই ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় বাঁধ সংষ্কারের ও জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানের জন্য আবেদন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। ভুক্তভোগী এলাকাবাসির পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় পানি কমিটি, সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটি ও বে-সরকারী সংস্থা উত্তরণ রবিবার (২৮ ফেব্রুয়ারী) সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এই স্মারকলিপি জমা দেয়। এ সময় জেলা প্রশাসকের নিকট আশাশুনি উপজেলার সদর, শ্রীউলা, প্রতাপনগর এবং সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধূলিহর ও ব্রম্মরাজপুর ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত ১৫ হাজার ৮৮৭ দরিদ্র পরিবার সমূহের তালিকা হস্তান্তর করা হয়। এছাড়া অত্র অঞ্চলে বিশেষ বরাদ্দের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, ৬০ এর দশকে নির্মিত পোল্ডারের বাঁধগুলো সুষ্ঠুভাবে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ না করায় জলবায়ু পরিবর্তন জনিত কারণে, বাঁধের উপর ঘনঘন জলোচ্ছ্বাস ও উচ্চ জোয়ারের আঘাত এসেছে। এছাড়া অপরিকল্পিত নোনাপানির চিংড়ী চাষের কারণে বাঁধগুলো হয়ে পড়েছে দুর্বল ও ভঙ্গুর। এরই মধ্যে বিগত ১৫-২০ বৎসর যাবৎ উপকূলীয় বাঁধ ভাঙ্গা প্লাবন এখন নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিডর, সুনামী ও আইলার মতো বিধ্বংসী জলোচ্ছ্বাসের তান্ডবে বার বার বিধ্বস্ত হয়েছে এই জনপদ।
আবেদনে বলা হয়েছে শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলায় বাঁধভাঙ্গা প্লাবনে প্রায় ২৭ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় গ্রহণকারী পরিবারের সংখ্যা প্রায় ২ হাজারের বেশি । অধিকাংশ পরিবারের পুরুষ সদস্যরা সাগরে, ইটের ভাটায়, দূরবর্তী মৎস্য ঘেরে চলে গেছে কাজের সন্ধানে। অর্ধাহার-অনাহারে এসব পরিবারগুলো দুর্বিসহ জীবন যাপন করছে। এলাকাবাসির বক্তব্য ,বাঁধ বাঁধার পরেও অনেক স্থানে বিলের জমি লবণাক্ত হয়ে পড়ায় ধান চাষ করা সম্ভব হচ্ছেনা। জীবন ও জীবিকার তাগিদে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর একটা উল্লেখযোগ্য অংশ বাস্তভিটা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেয়া স্মারকলিপিতে কয়েটি দাবী তুলে ধরা হয়েছে। আম্ফান ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র ও অসহায় জনগোষ্ঠীর জন্য কমপক্ষে এক বৎসরের জন্য খাদ্য সহায়তা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি তাদের জন্য গৃহ পুনর্বাসন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা,আগামী বর্ষা মৌসুমের আগেই ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ ও প্লাবিত রাস্তাগুলো সংস্কার করা এবং কর্মসংস্থানের জন্য দরিদ্র মানুষদের এসব কাজে নিযুক্ত করার ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়েছে। এ ছাড়া জনগণ, স্থানীয় পরিষদ, প্রশাসনসহ সংল্লিষ্ট মহলকে যুক্ত করে বাঁধ সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ কমিটি গঠন করা এবং কর্তৃপক্ষের অনুকূলে আপদকালীন তহবিল সরবরাহ করা যাতে বাঁধ ভাঙ্গার সাথে সাথে কর্তৃপক্ষ কমিটির সহায়তায় ভাঙ্গাবাঁধ দ্রুততার সাথে বেঁধে দিতে পারে উক্ত দাবী জানানো হয়।
এবিষয়ে কেন্দ্রীয় পানি কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ এবিএম শফিকুল ইসলাম জানান, সাতক্ষীরা জেলার উত্তর ও উত্তর পশ্চিমাংশ বিশেষ করে কলারোয়া, সাতক্ষীরা সদর, তালা, আশাশুনি ও দেবহাটা উপজেলার প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা। দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব অংশের বিশেষ করে শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলার প্রধান সমস্যা বাঁধ ভাঙ্গা প্লাবন। উভয় এলাকায় কর্মসংস্থানের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ভেঙ্গে যাওয়া প্লাবিত এলাকা লবণাক্ত হয়ে পড়ায় এ মৌসুমে বোরো চাষ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে এবং মৎস্য চাষাবাদও করা সম্ভব হবে না। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর বিক্রি করার মতো অবশিষ্ট কিছুই নাই, তাদের আর্থিক মেরুদন্ড একেবারেই ভেঙ্গে পড়েছে। বাঁধ ভাঙ্গা প্লাবন ও জলাবদ্ধতা সাময়িক কোন সমস্যা নয়, দীর্ঘ মেয়াদী সমস্যা। এলাকায় উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু না হওয়া পর্যন্ত এ সমস্যা অব্যাহত থাকবে। এমতাবস্থায় এলাকায় টিকে থাকার জন্য কমপক্ষে এক বৎসরের জন্য খাদ্য সহায়তা, গৃহ পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা খুবই জরুরী। তা না হলে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর একটা উল্লেখযোগ্য অংশ বাস্তভিটা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়া ছাড়া তাদের সামনে আর কোন পথ থাকবে না বলে জানান তিনি।
সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আনিসুর রহিম বলেন, শিক্ষা-স্বাস্থ্য-চিকিৎসা, বাসস্থানসহ সব ধরনের নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত সাতক্ষীরা উপকূল অঞ্চলের মানুষ। দেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় সাতক্ষীরা জেলা অনেক পিছিয়ে। এ জেলায় নিরক্ষরতার হার অন্যজেলা থেকে ১৮ ভাগ বেশি। আর স্বাস্থ্যে অন্যান্য জেলা থেকে ২০ ভাগ বেশি মানুষ বঞ্চিত। এ জেলায় তেমন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। যোগাযোগ ব্যবস্থা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়ায় দিন দিন আরো পিছিয়ে পড়ছে দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের জেলা সাতক্ষীরা। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুন:বাসনে সরকারকে এখুনি নজর দিতে হবে। এ জেলার অর্থনৈতিক কর্মকান্ডকে এগিয়ে নিতে হলে অতিরিক্ত বরাদ্দের প্রয়োজন। তা না হলে সাতক্ষীরা উপকূলীয় অঞ্চলে মানুষের বসবাস অনুপযোগী হয়ে পড়বে।

মোংলার পশুর চ্যানেলে কয়লা বোঝাই কার্গোডুবি

মোংলা : মোংলা সমুদ্র বন্দরের পশুর চ্যানেলে বিপুল পরিমান কয়লা বোঝাই কার্গোডুবির ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২৭ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে পশুর চ্যানেলে এই কার্গো ডুবির ঘটনা ঘটে।কার্গোতে থাকা নাবিকদের মধ্যে ১২ জন নাবিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এই কার্গোডুবির ঘটনায় বন্দর চ্যানেলে নৌযান চলাচলে কোন ব্যাঘাত ঘটছে না বলে জানিয়েছেন বন্দর কর্তৃপক্ষ।
ডুবে যাওয়া কার্গোটির মাস্টার ওসমান জানান, শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি)রাতে পশুর নদীর হারবাড়িয়া থেকে কয়লা বোঝাই করে মোংলার দিকে আসছিলাম।এটি মোংলার বানিয়াশান্তা এলাকায় ইসমাইলের ছিলায় পৌঁছালে অন্য একটি কার্গোর সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে আমাদের কার্গোর তলা ফেটে যায়। পরে দ্রুত কার্গোটিকে আমরা নিরাপদে নেওয়ার চেষ্টা করি। এক পযায়ে একটি চরে উঠিয়ে দেই। তারপর জাহাজে থাকা সকলে সাতরে নিরাপদে উঠে আসি।জাহাজটি আস্তে আস্তে ডুবে যায়।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার ফখর উদ্দিন বলেন, সকালে চ্যানেল থেকে আমাদের একটি জাহাজ যাওয়ার সময় বিবি-১১৪৮ নামের একটি কয়লা বোঝাই জাহাজকে অর্ধ ডুবন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে আমাদের খবর দেয়। পরে আমরা খোজ নিয়ে জানতে পারি রাত ১১টার দিকে কয়লা বোঝাই জাহাজটি তলা ফেটে জাহাজের মাস্টার দ্রুত চরের দিকে উঠিয়ে দেয়। ভোর নাগাদ জাহাজটি ডুবে যায়।
তিনি আরও বলেন, মোংলা বন্দর থেকে এক কিলোমিটার দক্ষিনে এসমাইলের ছিলা নামক এলাকায় পশুর নদীতে এই জাহাজটি অর্ধ ডুবন্ত অবস্থায় রয়েছে। তবে জাহাজটি থাকার কারণে চ্যানেলে নৌযান চলাচলে কোন বিঘ্ন ঘটছে না।জাহাজে থাকা সকল নাবিক নিরাপদ ও সুস্থ্য রয়েছেন। আমরা জাহাজ মালিকদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি। জাহাজটি দ্রুত চ্যানেল থেকে সরানোর ব্যবস্থা করা হবে।
তবে জাহাজে কি পরিমান কয়লা ছির তা জানাতে পারেননি হারবার মাস্টার ফখর উদ্দিন।

সাতক্ষীরায় স্বামী হত্যার দায়ে স্ত্রীর যাবজ্জীবন

সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরায় স্বামী হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে স্ত্রীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো দু’ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সাতক্ষীরার জেলা ও দায়রা জজ শেখ মফিজুর রহমান রোববার এক জানকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন।
সাজাপ্রাপ্ত আসামীর নাম মেহেরুন্নেছা (৪০)। সে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার সরাফপুর গ্রামের জাকির হোসেন সরদার ওরফে ছোট বাবুর স্ত্রী।
মামলার বিবরনে জানা যায়, ২০০৮ সালে আশাশুনি উপজেলার জব্বর মোল্লার মেয়ে তালাকপ্রাপ্ত মেহেরুন্নেছার(২০) সঙ্গে একই উপজেলার সরাফপুর গ্রামের জহির সরদারের ছেলে মাছ ব্যবসায়ি জাকির হোসেন সরদার ওরফে ছোট বাবুর(৪৪) বিয়ে হয়। বিয়ের পরও মোবাইল ফোনে মেহেরুন্নেছা তালাক দেওয়া স্বামীর সঙ্গে কথা বলতো। এ নিয়ে মেহেরুন্নছা ও ছোট বাবুর বিরোধ চলে আসছিল। জোরালো আপত্তি করায় মেহেরুন্নেছা তার স্বামী ও শ্বশুড়ি আলেয়া বেগমকে খুন করার হুমকি দেয়। ২০১৪ সালের ৩ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বাড়িতে কেউ না থাকার সূযোগে ঘরের মধ্যে খাটের উপর শুয়ে থাকা স্বামী ছোট বাবুকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হতা করে। স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই আজাহারুল সরদার বাদি হয়ে মেহেরুন্নেছার নাম উল্লেখ করে পরদিন থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা আশাশুনি থানার উপপরিদর্শক মনোজ কুমার নন্দী ওই বছরের ১৯ ডিসেম্বর এজাহারভুক্ত মেহেরুন্নেছার নাম উল্লেখ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। জামিনে মুক্তি পেয়ে মেহেরুন্নেছা পালিয়ে যায়।
মামলার নথি ও ১২ জন সাক্ষীর জবানবন্দি পর্যালোচনা শেষে আসামী মেহেরুন্নেছার বিরুদ্ধে নিজের স্বামীকে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক রোববার বিকেল চারটার দিকে তাকে উপরোক্ত কারাদণ্ডাদেশ দেন। আদেশ প্রদানকালে আসামী মেহেরুনন্নেছা কাঠগোড়ায় ছিলো না।
আসামীপক্ষে সর্বশেষ মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাড. জিএম আবু বক্কর ছিদ্দিক।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন জজ কোর্টের পিপি আড. আব্দুল লতিফ।

খুলনা হবে বিেশ্বর পাঁচটি স্বাস্থ্যকর শহরের একটি

ইউনিক প্রতিনিধি : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (উব্লিউএইচও) উদ্যোগ ও অর্থায়ণে প্রাথমিক পর্যায়ে বিেশ্বর পাঁচটি শহরকে স্বাস্থ্যকর শহর হিসেবে গড়ে তোলা হবে। বাংলাদেশের খুলনা সেই পাঁচটি শহরের একটি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি (এনসিডিএস), খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) এবং ডব্লিউএইচও যৌথভাবে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে।
প্রকল্প বাস্তবায়নে কারিগরি কমিটি ও উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবার রাতে হোটেল সিটি ইন এ উপদেষ্টা কমিটির দ্বিতীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। কেসিসি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক সভাপতিত্ব করেন। সভায় কারিগরি কমিটির প্রস্তুতকৃত ‘স্বাস্থ্যকর শহর সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণে নগর সরকার’ শীর্ষক কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপনা এবং এর ওপর বিশদ আলোচনা করা হয়। এই আলোচনায় অংশ নিয়ে খুলনাকে স্বাস্থ্যকর নগর হিসেবে গড়ে তুলতে কী ধরণের নীতিগত পরিবর্তন আনতে হবে, নগরে সেবাদানকারী বিভিন্ন সংস্থার ভূমিকা কী হবে, কীভাবে নানা ধরণের দূষণ রোধ করা যাবে, স্বল্প মেয়াদে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়, কীভাবে সচেতনতা বাড়িয়ে নগরবাসীকে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করা যায়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কিভাবে সম্পৃক্ত করা যায়, কীভাবে সুশাসন নিশ্চিতকরা এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় সাধন করা যায় ইত্যাদি বিষয়ে উপদেষ্টা কমিটির সদস্যবৃন্দ গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ প্রদান করেন।
সভাপতির বক্তৃতায় কেসিসি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য যে কোন মূল্যে খুলনাকে আন্তর্জাতিকমানের স্বাস্থ্যকর শহর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এজন্য সর্বপ্রথম প্রয়োজন নগরিকদের মানসিকতার পরিবর্তন। নাগরিকদের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে এবং নগরে সেবাদানকারী বিভিন্ন সংস্থার সধ্যে সমন্বয়টা খুব প্রয়োজন। তিনি স্বাস্থ্যকর নগর হিসেবে গড়ে তোলার জন্য খুলনাকে বেছে নেওয়ায় বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থাকে ধন্যবাদ জানান।

সভায় কেসিসি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পলাশ কান্তি বালা, খুলনা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এনসিডিএস কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ রোবেদ আমীন, কেসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা একেএম আব্দুল্লাহ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপচার্য প্রফেসর ড. মোসাম্মাৎ হোসনে আরা, ডব্লিউএইচও বাংলাদেশ প্রতিনিধি ড. সৈয়দ মাহফুজুল হক প্রমুখ বক্তৃতা করেন। কারিগরি কমিটির প্রস্তাবিত কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন ডব্লিউএইচও’র খুলনা হেলদি সিটি প্রকল্পের কনসালটেন্ট আসিফ আহমেদ। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন স্বাস্থ্য বিভাগ খুলনার পরিচালক ড. রাশেদা সুলতানা।

সভায় সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বিশ^স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বিশ^স্বাস্থ্য সংস্থা ও খুলনা সিটি কর্পোরেশন যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

সোমবার থেকে ৫ অভয়াশ্রমে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ

ঢাকা : জাটকা সংরক্ষণে সোমবার (১ মার্চ) থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের ছয়টি জেলার পাঁচটি ইলিশ অভয়াশ্রমে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

রোববার (২৮ ফেব্রুয়ারি) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. ইফতেখার হোসেন এ তথ্য জানান।

এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় বরিশাল, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, ভোলা, শরীয়তপুর ও পটুয়াখালী জেলার ইলিশ অভয়াশ্রম সংশ্লিষ্ট নদ-নদীতে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ থাকবে।

পাঁচটি অভয়াশ্রম এলাকা হচ্ছে- চাঁদপুর জেলার ষাটনল হতে লক্ষীপুর জেলার চর আলেকজান্ডার পর্যন্ত মেঘনা নদীর নিম্ন অববাহিকার ১০০ কিলোমিটার এলাকা, ভোলা জেলার মদনপুর/চর ইলিশা হতে চর পিয়াল পর্যন্ত মেঘনা নদীর শাহবাজপুর শাখা নদীর ৯০ কিলোমিটার এলাকা, ভোলা জেলার ভেদুরিয়া হতে পটুয়াখালী জেলার চর রুস্তম পর্যন্ত তেঁতুলিয়া নদীর প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকা, শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া ও ভেদরগঞ্জ উপজেলা এবং চাঁদপুর জেলার মতলব উপজেলার মধ্যে অবস্থিত পদ্মা নদীর ২০ কিলোমিটার এলাকা এবং বরিশাল জেলার হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জ ও বরিশাল সদর উপজেলার কালাবদর, গজারিয়া ও মেঘনা নদীর প্রায় ৮২ কিলোমিটার এলাকা।

প্রতিবছর মার্চ ও এপ্রিল দুই মাস উল্লিখিত অভয়াশ্রমে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ আহরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকে। এ সময় ইলিশের অভয়াশ্রমগুলোতে ইলিশসহ সব প্রকার মাছ ধরা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। আইন অম্যান্যকারী কমপক্ষে এক বছর থেকে সর্বোচ্চ দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

নিষিদ্ধ সময়ে অভয়াশ্রম সংশ্লিষ্ট ছয়টি জেলার জাটকা আহরণে বিরত থাকা দুই লাখ ৪৩ হাজার ৭৭৮ জন জেলেদের জন্য মাসে ৪০ কেজি করে দুই মাসে ৮০ কেজি হারে মোট ১৯ হাজার ৫০২ মেট্টিক টন ভিজিএফ চাল ইতোমধ্যে বরাদ্দ করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

মিয়ানমারে বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের গুলি, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০

আন্তর্জাতিক : মিয়ানমারে সামরিক জান্তাবিরোধী বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে আরও অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। সেনাবাহিনীর অভ্যুত্থানের পর দেশজুড়ে গত এক মাস ধরে চলে আসা বিক্ষোভে একদিনে সর্বাধিক প্রাণহানির এই ঘটনা ঘটেছে রোববার।

দেশটির রাজনীতিক এবং চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, দেশজুড়ে বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ব্যাপক দমন-পীড়নে অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন।

রয়টার্স বলেছে, রোববার সকালের দিকে মিয়ানমারের বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুনে শিক্ষকদের বিক্ষোভে স্টান গ্রেনেড ছুড়েছে পুলিশ। এই বিক্ষোভে অংশ নেওয়া একজন নারী নিহত হয়েছেন। তবে তিনি কীভাবে মারা গেছেন সেবিষয়ে জানতে পাননি তার মেয়ে এবং সহকর্মীরা।

এর আগে, সামরিক শাসনের অবসানের দাবিতে রাস্তায় নেমে আসা বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের গুলিতে অন্তত তিনজনের প্রাণহানি ঘটে। এ নিয়ে দেশটিতে গত ১ ফেব্রুয়ারির অভ্যুত্থানের পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১২ জনের প্রাণহানি ঘটল।

কয়রার আকবর হত্যা মামলায় ৫ জনের যাবজ্জীবন

ইউনিক ডেস্ক : কয়রা উপজেলার নাকশা গ্রামের শেখ আকবর আলী হত্যা মামলায় আদালত পাঁচ আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছে। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। রবিবার খুলনা জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মোঃ ইয়ারব হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রাস্ট্র পক্ষের আইনজীবী মোঃ ইলিয়াস খান এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, পাইকগাছা উপজেলার ধামরাইল গ্রামের মেঃ আলী গাজীর ছেলে মামুন গাজী, কয়রা উপজেলার নাকশা গ্রামের মৃত আজিবর শেখের ছেলে শেখ মোশারেফ হোসেন, একই গ্রামের মৃত আঃ হামিদের ছেলে নুরুর রহমান জেবা ও সাজিদুর রহমান বাকু, নাকশা গ্রামের শেখ আজিবর শেখের ছেলে মতিয়ার রহমান।

আদালত সূত্রে জানা যায়, জমিজমা বিরোধের জের ধরে খুন করা হয় আকবর আলীকে। ২০১৩ সালের ২৬ জুলাই রাত আনুমানিক সোয়া তিনটার দিকে দুর্বৃত্তরা তাকে খুন করে নাকশা বাজারে তাদের দোকানের সামনে ফেলে যায়। পরে ওই ঘটনায় নিহতের ছেলে শেখ রবিউল ইসলাম বাদী হয়ে কয়রা থানায় ছয়জন আসামির নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন, যার নং ১৯। মামলা চলাকালে শেখ কামরুল ইসলাম নামের এক আসামির মৃত্যু হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সুবীর দত্ত একই বছরের ২৩ ডিসেম্বর আসামিদের নাম উল্লেখ করে আদালতে একটি চার্জশীট দাখিল করেন। মামলয় ২১ জন স্বাক্ষ্য প্রদান করেছেন।

ইউপি নির্বাচনে অংশ নেবে না বিএনপি : ফখরুল

ঢাকা : আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনগুলোতে বিএনপি অংশ নেবে না বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদসম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনো নির্বাচনই সুষ্ঠু হয় না। সেজন্য শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা আর এ সরকার ও কমিশনের অধীনে দলগতভাবে ইউপি নির্বাচনে অংশ নেবো না।

প্রেসক্লাবে পুলিশের সঙ্গে ছাত্রদলের সংঘর্ষের জন্য পুলিশকে দায়ী করে মির্জা ফখরুল বলেন, পুলিশ ইচ্ছা করে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। পুলিশের অনুমতির বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রেসক্লাবের সামনেতো সবসময় এ ধরনের সভা-সমাবেশ হয়। কে কখন অনুমতি নেয়। আমরাতো অন্যান্য সমাবেশ অনুমতি নিয়েই করি।