ফুলতলায় দৈনিক খুলনা পত্রিকার কার্যনির্বাহী সম্পাদক মাহাবুবুর রহমানের সুস্থ্যতা কামনায় দোয়া অনুষ্ঠান

ফুলতলা (খুলনা) প্রতিনিধিঃ দৈনিক খুলনা পত্রিকার কার্যনির্বাহী সম্পাদক এস এম মাহাবুবুর রহমানের আশু সুস্থ্যতা কামনায় প্রেসক্লাব ফুলতলার উদ্যোগে শনিবার বিকালে কার্যালয়ে এক দোয়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। প্রেসক্লাব সভাপতি তাপস কুমার বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি শামসুল আলম খোকন, সহকারী অধ্যাপক মোঃ নেছার উদ্দিন, প্রভাষক মোঃ আঃ মান্নান মহলদার, খুলনা জেলা যুবলীগের সদস্য মোঃ রবিউল ইসলাম মোল্যা, সাংবাদিক মাহিদুল ইসলাম, দৈনিক খুলনার ফুলতলা প্রতিনিধি অনুপ কুমার বিশ্বাস, মটর শ্রমিক ইউনিয়ন ফুলতলা শাখার সভাপতি ওয়াহিদ মুরাদ পিন্টু, শিক্ষক মুরাদুল ইসলাম, শিহাব উদ্দিন ওমর, মহাসিন বিশ্বাস, খোরশেদ আলম প্রমুখ। দোয়া অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বাসষ্টান্ড মসজিদের ইমাম বাদরুল ইসলাম।

 

মাদক-ভূমিদস্যু-সন্ত্রাসীদের যুবলীগে জায়গা নেই : শেখ সোহেল

ইউনিক প্রতিনিধি : ‘আমি শক্ত ভাষায় একটি কথা বলতে চাই। যারা পরিবেশ নষ্ট করবে তাদের যুবলীগে কোনো জায়গা থাকবে না। আর একটি বিশেষ কথা মাদক, ভূমিদস্যু, সন্ত্রাসী আগামীতে যারা নেতৃত্বে আসবে এ যুবলীগে তাদের কোনো জায়গা হবে না। খুলনাসহ বিভাগের ১০ জেলার যুবলীগ নেতাদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতাদের মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও বিসিবি পরিচালক বঙ্গবন্ধুর ভ্রাতুষ্পুত্র শেখ সোহেল উদ্দিন এ কথা বলেন। শুক্রবার দুপুরে খুলনার একটি অভিজাত হোটেলে বিভাগীয় এ সভার আয়োজন করে মহানগর ও জেলা যুবলীগ। এ সময় সভায় অংশ নেওয়া যুবলীগ নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা ঈমানের দিকে শক্ত থাকবেন। আপনাদের কোনো কার্যকলাপের জন্য আমার কিংবা এ বিভাগে যারা দায়িত্বে আছেন তাদের গায়ে দাগ যেন না লাগে। এ জায়গায় পরিষ্কার থাকবেন। সাংগঠনিক কাজে সহযোগিতা করবেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ এমপি, ইঞ্জিনিয়ার মৃণাল কান্তি জোদ্দার ও মো. আনোয়ার হোসেন। সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুব্রত পাল। সঞ্চালনা করেন সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকোট ড. মো. শামীম আল সাইফুল সোহাগ, প্রচার সম্পাদক জয়দেব নন্দী ও আন্তর্জাতিক সম্পাদক কাজী সারোয়ার হোসেন। সভার সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক সফিকুর রহমান পলাশ ও মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ শাহাজালাল হোসেন সুজন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা দেলোয়ার শাহাজাদা, অ্যাডভোকেট নবিরুজ্জামান বাবু, এনামুল হক সোহাগ, বাবলু রহমান বাবলু, কাজী বশির আহম্মেদ, ভিপি মিরান, তারিক আল মামুন প্রমুখ। যুবলীগের বিভাগীয় মতবিনিময় সভায় সংগঠন পরিচালনায় প্রতিবন্ধকতা ও উত্তোরণের পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেন কেন্দ্রীয় নেতারা। এ সময় তারা বর্তমান প্রেক্ষাপটে যুবলীগের ভূমিকা নিয়েও দিকনির্দেশনা দেন। যুবলীগকে তৃণমূলে আরও সুসংগঠিত গতিশীল করার আহ্বান জানান নেতারা। সভায় মহানগর ও খুলনা বিভগের ১০ জেলা ইউনিটের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও দপ্তর সম্পাদকরা অংশ নেন।

খুলনায় পানির জন্য হাহাকার!

ইউনিক প্রতিনিধি : টিউবওয়েলের হ্যান্ডেল চাপতে চাপতে ঘাম ঝড়ে যায় তবু পানি উঠে না। পানির জন্য অনেক পরিশ্রম করতে হয়। পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় টিউবওয়েলেও পানি পাওয়া যাচ্ছে না। আক্ষেপ করে এভাবেই কথাগুলো বলেন খুলনা মহানগরীর গগনবাবু রোডের বাসিন্দা আবু মুসা। মহানগরীর আলী ক্লাব সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন বলেন, মার্চ মাসের শুরু থেকেই সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় পানি পাই না। মাঝে মধ্যে বাসার লোকজন পানির অভাবে গোসলও করতে পারেন না। বাইতিপাড়া এলাকার বাসিন্দা হরে কৃষ্ণ বলেন, গরম শুরুর পর থেকেই হস্তচালিত নলকূপে আগের মতো পানি উঠছে না। রাতে অথবা ভোরে সামান্য পানি ওঠে। পানি নিয়ে সীমাহীন কষ্টে আছি। যা দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। ভুক্তভোগী নগরবাসীরা জানান, বাসাবাড়িতে খাবার পানি নেই, রান্নার পানি নেই, নেই গোসলের পানি। পানির জন্য অনেকেরই প্রাণ এখন ওষ্ঠাগত। ওয়াসার পানি নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহার করা হয়। এ পানি পান করা যায় না। এতোদিন নলকূপের পানি পান করেছি। এখন নলকূপে পানি উঠছে না। প্রতিবেশীদের নলকূপ (সাবমার্সিবল পাম্প) থেকে পানি আনতে হচ্ছে। কিন্তু সাবমার্সিবল পাম্পে পানি উঠাতে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে হওয়ায় অনেকে পানি দিতে চান না। বৃষ্টি না হলে পানির স্তর আরও নিচে নামবে এবং তাতে নগরীর ৯০ শতাংশ নলকূপ দিয়ে পানি না ওঠার পরিস্থিতি তৈরি হবে। আক্ষেপ করে অনেকে বলেন, অধিকাংশ এলাকায় পাইপলাইনে মধুমতি নদীর পরিশোধিত পানি সরবরাহ করছে খুলনা ওয়াসা। কিন্তু সে পানি খাওয়ার যোগ্য নয়। ওয়াসা নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেও খাবার পানির কষ্ট আগের মতোই থেকে গেছে। খুলনা ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, মহানগরীর ৩৮ হাজার বাড়িতে ওয়াসা পাইপলাইনে পানি দিচ্ছে। গ্রীষ্ম এলেই ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় অনেক এলাকার নলকূপে পানি পাওয়া যাচ্ছে না। ওয়াসার নিজস্ব নলকূপেও পানি উত্তোলনের পরিমাণ কমেছে। এতে পানির জন্য নগরবাসীকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এদিকে নগরী ছাড়াও সুপেয় পানির তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। শহর থেকে গ্রাম সবখানেই রয়েছে সুপেয় পানির সঙ্কট। পুকুর ও জলাশয় শুকিয়ে যাওয়ায় জেলার বিভিন্ন গ্রামে পানির জন্য হাহাকার শুরু হয়েছে। এতে চৈত্রের খরতাপে হাঁপিয়ে উঠছে মানুষ ও প্রাণীকূল। বিশুদ্ধ পানির অভাবে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন ধরনের রোগের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছে দাকোপ, বটিয়াঘাটা, কয়রা ও পাইকগাছায়। এসব এলাকার অগভীর নলকূপগুলো অধিকাংশই অকেজো। যে কয়েকটি সচল রয়েছে সেগুলোর পানি লবণাক্ত ও আর্সেনিকে ভরা। যার কারণে খাবার পানি আনতে দেড়-দুই কিলোমিটার দূরে যেতে হচ্ছে নারীদের। ভুক্তভোগীরা পানির জন্য আকাশের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন বলে জানান। পানি সংরক্ষণ ও নিরাপদ পানি সরবরাহে জেলা পরিষদের পুকুর/দীঘি ও জলাশয় পুনঃখনন/সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তবে পানির অভাবে চৈত্রের কাঠফাটা রোদে মাঠ, ঘাট, পথ, খাল, বিল ও প্রান্তর ফেটে চৌচির। দিনভর সূর্যতাপে নুইয়ে পড়ছে গাছের পাতাও। নেতিয়ে পড়েছে সবজি। ফসলি ক্ষেত বৃষ্টির অভাবে ক্ষতির সম্মুখীন। সেচের অভাবে বাদামী রং ধারণ করছে ইরি ধানক্ষেত। দাকোপ, বটিয়াঘাটার মহাসঙ্কটে পড়েছেন তরমুজ চাষিরা।

বন্দিদের সঙ্গে স্বজনদের সাক্ষাৎ বন্ধ

ঢাকা : করোনার প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ার কারণে ফের বন্দিদের সঙ্গে স্বজনদের দেখা সাক্ষাৎ সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়েছে। দেশের ৬৮টি কারাগারে অধিদপ্তর থেকে বিশেষ বার্তার মাধ্যমে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে।

শনিবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে এ বিষয়ে কথা হয় কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মোমিনুর রহমান মামুনের সঙ্গে।

তিনি জানান, বর্তমান করানোর পরিস্থিতির কারণে বন্দিদের সঙ্গে স্বজনদের সাক্ষাৎকার আবারো বন্ধ ঘোষণা করা হলো। এর আগে গত বছর করোনা পরিস্থিতির কারণে বন্দিদের সঙ্গে স্বজনদের সাক্ষাৎকার বন্ধ করা হয়েছিল। সেটা এক বছর বলবৎ ছিল। পরে করোনা পরিস্থিতি কিছুটা ভালো হলে এক বছর পর চলতি বছরের মার্চে আবার দেখা সাক্ষাৎ শুরু হয়।

তিনি আরো বলেন, পরিস্থিতি ভালো হলে আবারও স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারবে বন্দিরা। তবে আগের মতনই নিয়ম অনুয়াযী সাধারণ বন্দিরা তাদের স্বজনদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলতে পারবেন। সেটা ৮ থেকে বাড়িয়ে ১০ মিনিট করা হয়েছে।

মোল্লাহাটে নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত ১

মোল্লাহাট : বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার ২নং চুনখোলা ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী মোঃ মামুন শেখ (তালা) ও কিবরিয়া শরীফ (মোরগ)’র সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে আসাদ শেখ (৭০) নামের এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছে। এসময় দুই পক্ষে নারীসহ অন্তত ২০জন আহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে মোল্লাহাট উপজেলার চুনখোলা ইউনিয়নের শাসন গ্রামে এই সংর্ঘষ ও হতাহতের ঘটনা ঘটে। এঘটনায় আহতদের উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদের মাঝে সন্ধ্যায় গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে আসাদ শেখ মারা যায়। নিহতের ঘটনার পরপরই দুই প্রতিদ্বন্দি প্রার্থীর সমর্থকদের বাড়ীঘরে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় একটি সূত্র দাবি করছে, নির্বাচনী পোস্টার ছেড়াকে কেন্দ্র করে দুই ইউপি সদস্য প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ফের সংঘর্ষ এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নিহত আসাদ শেখ তালা প্রতিকের সদস্য প্রার্থী মামুন শেখের চাচা। আহতদের মধ্যে জেসমিন বেগম (৪০), সুমি (৩০), পুতুল বেগম (৩৫) কামাল ভূইয়া (৩৫), রিপন শরীফ (২৬), আরিফুল (৩০), একলাছ (৪৫), রাজা শেখ (৪৫), কেরামত ভূইয়া (৫৫), জাফর শেখ (৪০), হাফিজ শরীফ (২০), আযম শরীফ (৫০) ও ফরিদ শেখ (৫৫) নাম জানা গেছে। মোরগ প্রতীকের প্রার্থী কিবরিয়া শরীফ বলেন, ঘটনার সময় আমি বাড়িতে ছিলাম না। নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার সময় বর্তমান মেম্বর মামুনের লোকজন আমার নেতাকর্মীদের উপরে হামলা করে। পরবর্তীতে আমার নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ করলে সংঘর্ষের রুপ নেয়। এতে আমাদের অনেক লোক আহত হয়েছে। এদিকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বর্তমান ইউপি সদস্য মামুন শেখ বলেন, কিবরিয়া শরীফ ও তার লোকেরা আমার নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা ও আমার কর্মীদের হুমকী ধামকী দিয়ে আসছিল। কেন এসব করছে তা জানতে চাইলে কিবরিয়ার লোকেরা আমাদের উপর চড়াও হয়। তাদের ধারালো অস্ত্রের কোপে আমার চাচা আহত হন। হাসপাতালে নেওয়ার পরে আমার চাচা মারা যায়। আমি এর সুষ্ঠ বিচার চাই। বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মীর শাফিন মাহমুদ ঘটনা স্থল পরিদর্শন পূর্বক মুঠোফনে বলেন, দুই পক্ষের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আসাদ শেখ নামের একজন নিহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

লকডাউন যেভাবে কার্যকর করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

ইউনিক ডেস্ক : দেশজুড়ে এক সপ্তাহের লকডাউন ঘোষণার পর তা কার্যকর করার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ইতোমধ্যে পুলিশ সদর দফতর থেকে এ বিষয়ে সারা দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সমন্বয় করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, লকডাউন কার্যকর করতে তারাও প্রস্তুত রয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে যেভাবে লকডাউন কার্যকর করতে বলা হবে সেভাবেই কাজ করা হবে। একইসঙ্গে লকডাউনের সময় অসাধু ব্যক্তিরা যেন কোনোভাবেই নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিতে না পারে সে বিষয়েও গোয়েন্দা নজরদারি করা হবে।

পুলিশ সদর দফতরের এক কর্মকর্তা জানান, লকডাউন কার্যকর করতে আগের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সরকারের পক্ষ থেকে যেভাবে লকডাউন কার্যকর করতে বলা হবে সেভাবেই মাঠের পুলিশ সদস্যদের নির্দেশনা দেওয়া হবে। বিশেষ করে চলাচলে কতটা কড়াকড়ি করা হবে তা নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিপালন করা হবে। এছাড়া রাজধানীসহ সারা দেশের বিভিন্ন জেলা শহরের প্রবেশমুখ ও বের হওয়ার রাস্তাগুলোতে চেকপোস্ট বসানো হবে। যাতে শহরের ভেতরে অকারণে সাধারণ মানুষের প্রবেশ ও বের হওয়া নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, আগের মতোই সাধারণ মানুষের মুখে মাস্ক পরিধান করার বিষয়টিতে জোর দেওয়া হবে। একই সঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন শহরের দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান যথাসময়ে বন্ধ করা এবং যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ করার ওপর জোর দেওয়া হবে। তবে জরুরি পরিসেবা বিশেষ করে রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স বা অন্যান্য গাড়িসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আনা-নেওয়ার কাজে নিয়োজিত পরিবহনগুলোকে লকডাউনের আওতার বাইরে রাখা হবে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘লকডাউন কার্যকর করতে পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে। যে নির্দেশনা দেওয়া হবে তা যথাযথভাবে প্রতিপালন করা হবে।’

ডিএমপির একাধিক কর্মকর্তা জানান, সরকারের পক্ষ থেকে লকডাউন ঘোষণা করা হলেও কীভাবে তা কার্যকর করা হবে সে বিষয়ে এখনও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। মার্কেট-দোকানপাট বন্ধ রাখার কথা বলা হলেও বিভিন্ন কল-কারখানা সীমিত আকারে খোলা রাখার কথা বলা হয়েছে। কল-কারখানা খোলা রাখলে কর্মজীবীরা কীভাবে কর্মস্থলে যাবেন বা তাদের কীভাবে শনাক্ত করা যাবে তা একটি জটিল বিষয়। একারণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা পাওয়ার পর তা কার্যকর করতে কর্মপরিকল্পনা সাজানো হবে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, লকডাউনের সময় জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পণ্যের সংকট দেখিয়ে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী বেশি মুনাফা আয়ের জন্য অসৎ পরিকল্পনা করে থাকে। বিষয়টি নিয়ে তারা সতর্ক রয়েছেন। গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি বাজার মনিটরিং করে এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের কঠোর হাতে দমন করা হবে।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এক ভিডিও বার্তায় বলেছেন, ‘লকডাউন চলাকালে জরুরি সেবা দেয় এমন প্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে। আর শিল্প-কলকারখানা খোলা থাকবে। যাতে করে শ্রমিকরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং বিভিন্ন শিফটিং মাধ্যমে তারা কাজ করতে পারে।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শনিবার সন্ধ্যার মধ্যেই লকডাউনের করণীয় বা বিধি-নিষেধ সম্পর্কিত বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে একটি প্রজ্ঞাপন হতে পারে। এই প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনার ওপর ভিত্তি করেই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা লকডাউন কার্যকরের কর্মকৌশল ঠিক করবেন।

পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল বাতেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘লকডাউন কার্যকর করতে পুলিশের আগের অভিজ্ঞতা রয়েছে। ওই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে যে নির্দেশনা আসবে সেভাবেই লকডাউন কার্যকর করা হবে। মানুষকে সচেতন করে যতটা জনসমাগম সীমিত করা যায় ততটাই করা হবে।’

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বাংলা ট্রিবিউনে বলেন, ‘লকডাউন কার্যকর করতে র‌্যাব আগের মতোই কাজ করবে। মানুষের মুখে মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করাসহ পেট্রলিং ও চেকপোস্ট বসিয়ে লকডাউন কার্যকর করা হবে। এছাড়া সাধারণ মানুষকে সচেতন করার কাজটিও করা হবে।’

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, লকডাউনের সময় অনেক অসাধু ব্যবসায়ীরা নিজেদের স্বার্থের জন্য সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলতে বা পণ্যের দাম বাড়িয়ে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন করতে চায়। র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার কর্মকর্তারা বিষয়টির দিকে বিশেষ দৃষ্টি দিয়ে নজরদারি চালিয়ে যাবেন।’

মহানগর পেশাজীবী শ্রমিক লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত

ইউনিক প্রতিনিধি : খুলনা মহানগর পেশাজীবী শ্রমিক লীগের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন শুক্রবার বিকেল ৫টায় খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি মাস্টার আতাহার উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোল্লা মাহাবুবুর রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনের উদ্বোধন করেন জাতীয় শ্রমিক লীগ, খুলনা মহানগর শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ মোতালেব মিয়া। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক। বিশেষ অতিথি ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম ডি এ বাবুল রানা। প্রধান বক্তা ছিলেন জাতীয় শ্রমিক লীগ, খুলনা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক রণজিৎ কুমার ঘোষ। বিশেষ বক্তা ছিলেন-মল্লিক নওশের আলী, আব্দুর রহিম খানসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। সম্মেলনে প্রধান অতিথি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে পেশাজীবী শ্রমিক লীগের নেতাকর্মীদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। বাংলাদেশ যখন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়ন অদম্যগতিতে এগিয়ে চলছে, ঠিক তখনই উন্নয়নের ধারাকে ব্যাহত করতে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি সাম্প্রদায়িক ও উগ্র মৌলবাদীগোষ্ঠী দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা, হামলা, অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে। তাই দেশের উন্নয়নধারা অব্যাহত রাখতে এবং এ অপশক্তিকে কঠোর হস্তে প্রতিহত করতে এদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে শ্রমিকলীগের নেতৃত্বে ও পেশাজীবী শ্রমিকলীগের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে মাস্টার আতাহার উদ্দিনকে সভাপতি ও মোল্লা মাহাবুবুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে ৪১ সদস্য বিশিষ্ট কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্যান্যরা হলেন-কার্যকরী সভাপতি মোঃ নূর ইসলাম হাওলাদার, সহ-সভাপতি মোঃ কামাল হোসেন, মোঃ মোশাররফ হোসেন, মোঃ আল আমিন গাজী, মোঃ রোকনুজ্জামান রোকন, মোঃ মাসুম মল্লিক, মোঃ সুমন হাওলাদার, মোঃ হযরত আলী গাজী, মোঃ ইউসুফ আলী খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ আনোয়ার হোসেন, মোঃ মনির হোসেন, সহ-সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাজ্জাদ হোসেন, মোঃ মাসুদ রানা, মোঃ আবু সাঈদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ রবিউল ইসলাম রাবু, মোঃ জামাল উদ্দিন বাবু, মোঃ আবুল বাশার খোকন, মোঃ শহিদুল ইসলাম শহিদ, প্রচার সম্পাদক মোঃ সাগর মোল্লা, মোঃ খোকন সিকাদার, মোঃ বাবু, দপ্তর সম্পাদক অশোক কুমার রায়, শ্রম সম্পাদক মোঃ আমিরুল ইসলাম পলাশ, সমাজকল্যাণ সম্পাদক মোঃ মণ্টু শেখ, আইন বিষয়ক সম্পাদক আনসার আলী মোহরী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মোঃ কবির হোসেন, ক্রীড়া সম্পাদক মোঃ আব্দুর রাজ্জাক পাঠান, ধর্ম ও শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মোঃ কাওছার শেখ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক মোঃ শরিফুল ইসলাম, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মোঃ তুহিন, কার্যকরী সদস্য মোঃ জালাল মোল্লা, মোঃ নূর ইসলাম শেখ, মোঃ হাবিবুল্লাহ, মোঃ হান্নান তালুকদার।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভায় হেফাজতের তাণ্ডবে শত কোটি টাকার ক্ষতি : পৌর মেয়র

ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতের তাণ্ডবে পৌরসভার প্রায় শত কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। তাণ্ডবের ঘটনা পার হওয়ার ৬ষ্ঠ দিনে দেওয়া আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার মেয়র নায়ার কবীর এসব কথা জানান। আজ শনিবার দুপুরে তার বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মলনে এ মন্তব্য করেন তিনি।

পৌরমেয়র নায়ার কবির বলেন,‘ গত ২৬ মার্চ আমরা মহান স্বাধীনতা দিবসের বিভিন্ন কর্মসূচিতে ব্যস্ত ছিলাম। ওই দিন বিকেল ৪টার দিকে বিভিন্ন মাদ্রাসার একদল সংঘবদ্ধ ছাত্র বিভিন্ন স্লোগানে আকস্মিকভাবে বঙ্গবন্ধু স্কয়ারে উপস্থিত হয়। এসময় তারা স্বাধীনতা দিবসের ব্যানার ফেস্টুন ভেঙে আগুন ধরিয়ে দেয়। হামলাকালে তারা শাবল দিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ক্ষত-বিক্ষত করে।

দ্বিতীয় দফায় ২৮ মার্চ হেফাজত ইসলামের হরতাল চলাকালীন সময়ে স্থানীয় কিছু নেতাকর্মীর সঙ্গে বিএনপি-জামায়াত জোটের স্থানীয় নেতা-কর্মী এবং বিগত পৌর নির্বাচনে পরাজিত আমার ( মেয়রের) নিকটতম দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর অনুগত একদল উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি বেলা ১১টার দিকে পুনরায় বঙ্গবন্ধু স্কয়ারে এসে হামলা করে। তারা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ও স্থাপনায় ব্যাপক ভাঙচুর করে, এরপর পৌরভবন এবং সুর সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ পৌর মিলনায়তনে গান পাউডার ও পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।

এ সময়ে ভীত স্বতন্ত্র পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পার্শ্ববর্তী সুইপার কলোনিতে পালিয়ে জীবন রক্ষা করেন। পরে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলাকারীরা অফিসের সব ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে এবং বিপুল সংখ্যক ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্কজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। এ সময় আগুনে পুরে পৌরভবন ও পৌর মিলনায়তন ভবন পুড়ে ছাই হয়। আগুনে বিভিন্ন গুদাম ও নথিপত্র সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত পুড়তে থাকে।

লিখিত বক্তব্যে পৌর মেয়র আরও বলেন, হেফাজতে ইসলাম ও তার সমর্থকরা মেয়রের কক্ষ, সচিবের কক্ষ, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কক্ষ, প্রধান সহকারীর কক্ষ, হিসাব রক্ষকের কক্ষ, ক্যাশিয়ার কক্ষ, পিএ কক্ষে প্রবেশ করে গানপাউডার ছড়িয়ে-ছিটিয়ে অগ্নিসংযোগ করে। চারতলা বিশিষ্ট পৌর কমপ্লেক্স ভবন ও পৌর কার্যালয়ে রক্ষিত সকল কাগজপত্র, আলমারি, কম্পিউটার, ফটোকপি মেশিন, ল্যাপটপ, এসি এবং পৌরসভার নিচতলার রাখা সব গাড়ি ও জনসেবায় নিয়োজিত সংরক্ষণ শাখা, বিদ্যুৎ শাখা, যান্ত্রিক শাখা, সাধারণ শাখা এবং স্বাস্থ্য শাখার স্টোররুমে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালায়। এতে প্রায় শত কোটি টাকার ক্ষতি হয়।

তিনি বলেন, আমার বাসভবনের নিচতলাতেও তারা জোর তরে ঢুকে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালায়। বাসার নিচতলায় ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের মালামাল লুট করে নিয়ে যায় এবং বাসার নিচতলায় আমার গাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

মেয়র বলেন, ‘পৌরসভার নিয়মিত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যক্তিগত নথি, চাকরি বহি (বই)সহ অনেকের ব্যক্তিগত কাগজপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে তারা ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এছাড়া পৌর এলাকাধীন বিভিন্ন সরকারি দফতরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়।

নায়ার কবীর বলেন, দেড়শ বছরেরও পুরনো ঐতিহ্যবাহী এই প্রাচীনতম পৌরসভার সব রেকর্ডপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ায় যে ক্ষতি হয়েছে তা অপূরণীয়। পৌরসভার বিভিন্ন নাগরিক সেবা প্রদান কার্যক্রম বর্তমানে বন্ধ আছে।

এসময় পৌরসভার সব কার্যক্রম সচল করতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সরকারি দফতর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার সব নাগরিকের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন পৌরমেয়র। পাশাপাশি আগুন সন্ত্রাসীদের যথাযথ বিচার দাবি করেন। যেন ভবিষ্যতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এধরনের নারকীয় ঘটনা আর না ঘটে।

রোববার থেকে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ শুরু

ঢাকা : ‘মুজিববর্ষে শপথ নেবো, জাটকা নয় ইলিশ খাবো’ এ স্লোগান নিয়ে আগামী ৪ এপ্রিল (রোববার) থেকে শুরু হচ্ছে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ ২০২১। আগামী ১০ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের জাটকা সম্পৃক্ত ২০টি জেলায় জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ পালন করা হবে।

শনিবার (৩ এপ্রিল) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহে উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সপ্তাহ সামনে রেখে করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় সীমিত পরিসরে কর্মসূচি গ্রহণ করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

এর মধ্যে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সপ্তাহের উদ্বোধনী দিন ৪ এপ্রিল মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলন করবেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

একই দিন জাতীয় দৈনিকে ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে। কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন ৫ এপ্রিল সীমিত পরিসরে জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ ২০২১ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় অন্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মৎস্য অবতরণকেন্দ্র, মাছের আড়ত, বাজারসহ জনাকীর্ণ স্থানে জাটকা সংরক্ষণের গুরুত্ব ও এ সংক্রান্ত আইন বিষয়ে প্রচার কার্যক্রম, টেলিভিশনে জাটকা সংরক্ষণের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠান প্রচার, গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের সহায়তায় ঢাকাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ভিডিও চিত্র প্রদর্শন, জাটকা সংরক্ষণে হাট-বাজার ও আড়তে মোবাইল কোর্ট ও অভিযান পরিচালনা এবং ইলিশ আহরণে সম্পৃক্ত প্রকৃত মৎস্যজীবীদের মধ্যে বিকল্প কর্মসংস্থানের উপকরণ বিতরণ কর্মসূচি।

এছাড়া জেলা-উপজেলা কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে জেলেদের মধ্যে নৌকা বাইচ, সাঁতার ইত্যাদি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন, জাটকা সমৃদ্ধ এলাকায় ভিডিওচিত্র প্রদর্শন ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, মৎস্যজীবী ও জেলেপল্লীতে সচেতনতামূলক ও উদ্বুদ্ধকরণমূলক পথ নাটক, আঞ্চলিক সংগীত ও লোক সংগীত পরিবেশন এবং জাটকা রক্ষায় জেলা-উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটির মাধ্যমে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা। তবে, করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় এ বছর সব কর্মসূচি সীমিত পরিসরে পালন করা হবে।
জাটকা সংরক্ষণের জন্য ০১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দুই মাস দেশের ৬টি জেলার ৫টি ইলিশ অভয়াশ্রমে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ নিষেধাজ্ঞার আওতায়: বরিশাল, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, ভোলা, শরীয়তপুর ও পটুয়াখালী জেলার ইলিশ অভয়াশ্রম সংশ্লিষ্ট নদ-নদীতে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ রয়েছে। এ বছর নিষিদ্ধ সময়ে অভয়াশ্রম সংশ্লিষ্ট ৬টি জেলার জাটকা আহরণে বিরত থাকা ২ লাখ ৪৩ হাজার ৭৭৮ জন জেলেদের জন্য মাসে ৪০ কেজি করে দুই মাসে ৮০ কেজি হারে মোট ১৯ হাজার ৫০২ মেট্রিক টন ভিজিএফ চাল প্রদান করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নেওয়ার পর যুক্তরাজ্যে ৭ জনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক : অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নেওয়ার পর রক্ত জমাট বেঁধে যুক্তরাজ্যে সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দেশটির ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে।

সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, করোনার টিকা নেওয়ার পর সাত জনের দেহে রক্ত জমাট বেঁধেছিল। এদের মধ্যে সাত জনের মৃত্যু হয়েছে।

নেদারল্যান্ডসে টিকা নেওয়ার পর নারীসহ পাঁচ জনের রক্ত জমাট বেঁধে যায়। এদের মধ্যে এক জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার পর শুক্রবার দেশটি ষাট বছর বয়সী ব্যক্তিদের টিকা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে জার্মানিও একই ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

অবশ্য ইউরোপিয়ান মেডিসিনস এজেন্সি এর আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে জানিয়েছিল, অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নিরাপদ। নতুন পরিস্থিতিতে সংস্থাটি আগামী ৭ এপ্রিল নতুন নির্দেশনা দিতে পারে।

যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা জানিয়েছে, টিকা নেওয়ার পর অধিকাংশের ক্ষেত্রেই সেরিব্রাল ভেনাস সাইনাস থ্রোম্বোসির ঘটনা ছিল। মস্তিস্কে রক্ত জমাট বাঁধতে শুরু করলে বিরল এই পরিস্থিতি দেখা দেয়। আটটি ক্ষেত্রে দেখা গেছে, টিকা নেওয়া ব্যক্তি থ্রোম্বোসিস ও প্লাটিলেটের মাত্রা কমে যাওয়ার সমস্যায় পড়েছিলেন। এটিও রক্ত জমাট বাঁধতে সহযোগিতা করে।