লকডাউনে সব ধরনের মাদ্রাসা বন্ধ রাখার নির্দেশ

ঢাকা ডেস্ক: করোনাভাইরাস মোকাবিলায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এতিমখানা বাদে কওমি মাদ্রাসাসহ সব ধরনের মাদ্রাসা (আবাসিক ও অনাবাসিক) বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

আজ মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসাশিক্ষা বিভাগ এক প্রজ্ঞাপনে এই নির্দেশ জারি করে বলেছে, নির্দেশ পালনে কোনোরূপ শৈথিল্য দেখানো যাবে না। এর আগে গত ২৯ মার্চ করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ১৮ দফা নির্দেশনা দিয়েছিল। এর মধ্যে একটি নির্দেশনা হচ্ছে, সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অর্থাৎ প্রাক-প্রাথমিক থেকে শুরু করে প্রাথমিক, মাদ্রাসা, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় ও কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখতে হবে। তখন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি জানিয়েছিলেন, কওমি মাদ্রাসাগুলোও এর অন্তর্ভুক্ত থাকবে। কারিগরি ও মাদ্রাসাশিক্ষা বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ওই নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে বলা হয়, বর্তমানে দেশে লকডাউন বলবৎ আছে। কিন্তু সরকারি নির্দেশ সত্ত্বেও দেশের বিভিন্ন স্থানে কিছু আবাসিক ও অনাবাসিক মাদ্রাসা এখনো খোলা রয়েছে বলে জানা যায়, যা করোনা প্রদূার্ভাব পরিস্থিতিতে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। তবে বিশেষ অনুরোধে গত বছরের আগস্ট মাসে কওমি মাদ্রাসাগুলো চালুর অনুমতি দিয়েছিল সরকার। সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের স্কুল-কলেজ আগামী ২৩ মে খোলার কথা। আর বিশ্ববিদ্যালয় খোলার কথা রয়েছে ২৪ মে।

পাইকগাছায় যৌন নিপীড়নের অভিযোগে যুবক আটক

পাইকগাছা প্রতিনিধি:
পাইকগাছায় জোরপুর্বক যৌন নিপীড়নের অভিযোগে নুরুজ্জামান গুড্ডু (২৭) নামে এক যুবককে পুলিশে সোপর্দ করেছে এলাকাবাসি। গুড্ডু পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের আব্দুল বিশ্বাসের ছেলে। সোমবার রাত পৌনে ৯ টায় গুড্ডু প্রতিবেশী হাসান আলীর বাথরুমের পাশে অন্ধকারে ওৎপেতে ছিল। হাসানের স্ত্রী ঐ সময় বাথরুমে গেলে গুড্ডু তাকে মুখ চেপে ধরে স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দিয়ে যৌন নিপীড়ন করে। এসময় তার ধস্তাধস্তি ও চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এসে তাকে ধরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।
পাইকগাছা থানার ওসি এজাজ শফী জানান, গ্রেফতারকৃত নুরুজ্জামান গুড্ডুর নামে ভুক্তভোগী বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছে। গুড্ডুর নামে থানায় ভুয়া পুলিশ সেজে চাঁদাবাজীর ঘটনায় আরো একটি মামলা রয়েছে বলে জানান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।

লকডাউনে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার দাবীতে সাতক্ষীরায় বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন

সাতক্ষীরা প্রতিনিধিঃ পূর্ব ঘোষিত লকডাউনের দ্বিতীয় দিনে সাতক্ষীরায় দোকান খোলা রাখা, শ্রমিকদের বেতন-বোনাস ঠিকমত পরিশোধসহ বিভিন্ন দাবীতে সাতক্ষীরায় বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করেছে বস্ত্র ব্যবসায়ী কর্মচারী শ্রমিকরা। মঙ্গলবার দুপুরে শহরের বড়বাজার সংলগ্ন ফাল্গুনি বস্ত্রালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে। পরে তারা সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামেন মানববন্ধন করে।
এসময় তারা “আমাদের দাবী মানতে হবে, মানতে হবে, দ্বিতীয় দফা লকডাউন মানিনা, মানবো না” বলে শ্লোগান দিতে থাকে। মানবন্ধনে বক্তব্য রাখেন, বস্ত্র ব্যবসায়ী কর্মচারী সমিতির সভাপতি কবির হোসেন, মোহিনী বস্ত্রালয়ের কর্মচারী সুজন ও মেহেদী প্রমুখ। বক্তারা বলেন, গতবারের লকডাউনে আমাদের মানবের জীবন কাটাতে হয়েছে। কোন প্রকার সাহায্য সহযোগীতা আমরা পায়নি। এ সময় তারা সকাল ৮ থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত স্বাস্থবিধি মেনে ব্যবসা করার অনুমতি পান সে জন্য সরকারের কাছে জোরদাবী রাখেন ।
এদিকে, আইন অমান্য করে দোকান খোলা রাখার অপরাধে শহরের ফাল্গুনি বস্ত্রালয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করার সময় শ্রমিকদের বাঁধার মুখে পড়েন সাতক্ষীরা সদর সহকারী ভূমি অফিসার আসাদুজ্জামান। পরে সেখানে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।
এ ব্যাপারে সদর সহকারী ভূমি অফিসার আসাদুজ্জামান জানান, বস্ত্র ব্যবসায়ী কর্মচারী শ্রমিকরা তাদের কিছু দাবীর কথা তাকে জানালে তাদের ব্যবসায়ী সংগঠনের পক্ষে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত ভাবে বিষয়টি জানানোর কথা বলা হয়েছে।

বটিয়াঘাটায় ট্রাকের সাথে অটোর সংঘর্ষে আহত ১

বটিয়াঘাটা প্রতিনিধি : বটিয়াঘাটা উপজেলার জলমা ইউনিয়নের ঝড়ভাঙ্গা রেল লাইন ক্রাসিং রাস্তায় ইট বুঝায় ট্রাকের সাথে অটো গাড়ি মুখোমুখি সংঘর্ষে অটো চালক রক্তাত্ব জখম হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে । প্রর্তখ্যদর্শী সূত্রে জানা যায়, খুলনা থেকে বিউটি ব্রিকসের MBB নামের ইট বুঝায় খুলনা মেট্রো-ট১১ – ১২৯৫ নং এর একটি ট্রাকের সাথে বটিয়াঘাটা থেকে ছেড়ে আসা অটো গাড়ি মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় । সংঘর্ষে উপজেলার তেঁতুলতলা গ্ৰামের সেলিম সিকদারের পুত্র মোঃ সাইফুল ইসলাম (৩০) নামের অটো চালক রক্তাত্ত্ব জখম হয় । স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যায় । তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান । এসময় অটো গাড়িটি দুমড়ে মুচড়ে যায় এবং ঘাতক ট্রাকটির ড্রাইভার ও হেলপার পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় ।

ফরিদপুরের নাশকতা পরিকল্পিত: ইউএনও

সালথা প্রতিনিধি, ফরিদপুরঃ
ফরিদপুরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে লক ডাউন বাস্তবায়ন করতে যাওয়া লোকজনের সঙ্গে ‘বাগবিতণ্ডার জেরে’ আগুন-হামলার ঘটনা পরিকল্পিত বলে প্রশাসন ও পুলিশের ভাষ্য।
সালথার উপজেলার ইউএনও হাসিব সরকার বলেন, “গুজব ছড়িয়ে পরিকল্পিতভাবে এই নাশকতা চালানো হয়েছে।”
সোমবার রাত ৮ টা থেকে ১১ টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টা ধরে উপজেলা কমপ্লেক্স, উপজেলার সহকারী কমিশনারের (ভূমি) দপ্তর তছনছ করার পাশাপাশি আগুন দেয় ‘হাজারো’ মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সাত শতাধিক গুলি করেন। এ ঘটনায় জুবায়ের হোসেন (২০) নামে এক তরুণ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। ঘটনার পর পুলিশ তিনজনকে আটক করলেও এখনও মামলা হয়নি।
ইউএনও বলেন, “করোনাভাইরাস সংক্রমণ বাড়তে থাকায় সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সোমবার বিকালে রামকান্তপুর এলাকায় লক ডাউন বাস্তবায়ন করতে যাই। সেখানে মানুষের জটলা সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় আমি ফিরে আসি। সেখানে পুলিশের একটি দল পাঠানো হয়। পরে স্থানীয়দের সঙ্গে পুলিশের বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পুলিশের এসআই মিজানুর রহমানের ওপর স্থানীয়রা হামলা চালালে মিজানুর রহমানের মাথা ফেটে যায়।
“পুলিশ চলে আসার পর স্থানীয় একটি চক্র গুজব রটায় যে, পুলিশের গুলিতে স্থানীয় কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে এবং বাহিরদিয়া মাদ্রাসার দুই হুজুরকে গ্রেপ্তারের পর মারধর করা হচ্ছে। এর জেরে রাত ৮ টা থেকে ১১ টা পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ উপজেলা চত্বরে লাঠিসোটা নিয়ে প্রবেশ করে বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। ইউএনওর ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) গাড়ি ও তিনটি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয় তারা।”
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সালথা থানা পুলিশের পাশাপাশি ফরিদপুর, বোয়ালমারি, ভাঙ্গা ও নগরকান্দার পুলিশসহ র‌্যাব ও আনসার সদস্যরা যোগ দেন।
জেলার পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান বলেন, “মিথ্যা গুজবেই মধ্যযুগীয় কায়দায় হামলা চালানো হয়। রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সালথা থানা পুলিশের পাশাপাশি আশপাশের থানা থেকে পুলিশ সদস্যসহ র‌্যাব ও আনসার সদস্যরা এসে ৫৮৮ রাউন্ড শর্ট গানের গুলি, ৩২ রাউন্ড গ্যাস বুলেট, ২২টি সাউন্ড গ্রেনেড ও ৭৫ রাউন্ড রাইফেলের গুলি ছোড়ে। আইশৃঙ্খলা বাহিনীর আট সদস্যসহ আহত হন কমপক্ষে ২০ জন।”
তিনি বলেন, ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে। আর মামলার প্রস্তুতিও চলছে।
বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও পুরো এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে।

করোনা থেকে বাঁচতে শুধু নিজে নয় অন্যকেও সচেতন করতে হবে -খুলনার পুলিশ সুপার

ফুলতলা (খুলনা) প্রতিনিধিঃ
খুলনা জেলা পুলিশ সুপার মাহবুব হাসান বলেছেন, করোনা ভাইরাস ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়ছে। শুধু নিজে সচেতন হলে রক্ষা পাওয়া যাবে না, অন্যকেও সচেতন করতে হবে। স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা ও মাস্ক ব্যবহার এবং সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে হবে।
মঙ্গলবার বিকালে ফুলতলা বাজারের বিভিন্ন সড়ক ও মার্কেটে করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত সচেতনামুলক প্রচারণা ও মাস্ক বিতরণকালে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় অন্যান্যের উপস্থিত ছিলেন খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাঃ খায়রুল আলম (বি সার্কেল), ওসি মাহাতাব উদ্দিন, ওসি (তদন্ত) মোস্তফা হাবিবুল্লাহ, বাজার বণিক কল্যাণ সোসাইটির সভাপতি এস রবিন বসু, প্রেসক্লাব সভাপতি তাপস কুমার বিশ্বাস, উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি শামসুল আলম খোকন, এসআই আবুল কাইয়ুম, এসআই মধুসূধন পান্ডে, এসআই মাহমুদ হোসেন, এসআই তাপস দত্ত, সোসাইটির সহ-সাধারণ সম্পাদক সাঈদ আলম মোড়ল, দপ্তর সম্পাদক মোঃ আবুল খায়ের, সদস্য মোঃ জুলহাস আহমেদ প্রমুখ।

 

বটিয়াঘাটায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান

বটিয়াঘাটা প্রতিনিধিঃ বটিয়াঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ নজরুল ইসলাম এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আব্দুল হাই সিদ্দিকী মঙ্গলবার পৃথক পৃথক দুটি ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন। তারা উভয়েই ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা কালে করোনা সচেতনামূলক প্রচারণা ও মাস্ক বিতরণের পাশাপশি ৮ টি মামলা রুজু পূর্বক ৮ হাজার ৫ শত টাকা জরিমানা আদায় করেন। আদালত পরিচালনাকালে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মোংলায় সাংবাদিকের ওপর দুর্বৃত্তের হামলা

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি : মোংলায় কর্মরত এক সাংবাদিকের ওপর হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে আলী আজিম (২৮) নামে ওই সাংবাদিকের হাত ভেঙ্গে গেছে। সোমবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। আলী আজিম ঢাকা থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক গনকন্ঠের’ মোংলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এদিকে এ ঘটনায় একজনকে আসামি করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই সাংবাদিক।
অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে মোংলা থানার এএসআই মোঃ নাসির বলেন, আলী আজিম নামে ওই সাংবাদিক গতকাল রাত সাড়ে ৯টার সময় পেশাগত কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় মিলন নামে এক ব্যক্তি তাকে বেধড়ক মারপিট করে রাস্তায় ফেলে রেখে চলে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেন। থানায় দায়ের হওয়া অভিযোগে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয় বলেও জানান তিনি।
মোংলা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় তদন্ত করে এর কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাংবাদিক আলী আজিমের ওপর হামলাকারী মোঃ মিলন পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের মোর্শেদ সড়কের মোঃ হারুনের ছেলে বলে জানা গেছে।

মোংলায় দোকানপাট খোলা রাখার দাবী ব্যবসায়ীদের

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি : মোংলায় ঢিলেঢালা ভাবে চলছে লকডাউন। লকডাউনের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার সকাল থেকে পৌর শহরের সকল ধরণের দোকানপাট আংশিক খোলা রেখেছে ব্যবসায়ীরা। এদিকে সকাল ৮ থেকে বিকেল ৪টা কিংবা রাত ৮ টা পর্যন্ত থেকে সকল ধরণের দোকানপাট পুরোপুরো খোলা রাখার দাবীতে শহরে লকডাউন বিরোধী মৌন প্রতিবাদ জানিয়েছেন তারা। এরপর মোংলা বন্দর বণিক সমিতির নেতৃবৃন্দসহ শতাধিক ব্যবসায়ী তাদের এ দাবী উপজেলা নির্বাহী অফিসার কমলেশ মজুমদারের কাছে উত্থাপন করেন। তাদের দাবীর বিষয়টি প্রত্যাখান করে সরকার ঘোষিত বিধি নিষেধ মানার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহবাণ জানিয়েছেন। এদিকে লকডাউন কার্যকরে প্রশাসনের কর্তাদের মাঠ পর্যায়ে তেমন কোন তদারকী চোখে পড়েনি।

মোংলায় সরকারী হাসপাতালের ষ্টাফকে লাঞ্চিত

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি : মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওটি এটেনডেনট মহিউদ্দিন খাঁনকে লাঞ্চিত করেছে গুডলাক ওষুধ কোম্পানীর রিপ্রেজেনটেটিভ সৌরভ হালদার। মঙ্গলবার সকালে ওষুধ কোম্পানীর ওই প্রতিনিধি হাসপাতালে গিয়ে হাসপাতালের স্বাভাবিক কাজ কর্মে বাঁধা সৃষ্টি করলে তা থেকে তাকে বিরত থাকার জন্য বলা হলে হাসপাতালের ষ্টাফ মহিউদ্দনকে লাঞ্চিত করেন তিনি।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, গুডলাক ওষুধ কোম্পানীর রিপ্রেজেনটেটিভ সৌরভ হালদার দীর্ঘদিন ধরে বেআইনিভাবে হাসপাতালের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে জরুরী বিভাগসহ বিভিন্ন জায়গায় যাওয়া রোগীদের নানাভাবে বিরক্ত ও হয়রানী করে আসছিলেন। মঙ্গলবারও তিনি জরুরী বিভাগের সামনে অবস্থান নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীদের টেনে হিচড়ে হাসপাতালের সামনের একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় তার এ ধরণের কাজ কর্ম থেকে বিরত থাকার জন্য বলেন হাসপাতালের ওটি এটেনডেনট মহিউদ্দিন খাঁন। মহিউদ্দিন খাঁন তাকে বাঁধা দেয়ায় তিনি তাকে সেখানে লাঞ্চিত করেন। এ নিয়ে হাসপাতালের অন্যান্য ষ্টাফদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে তিনি দ্রুত সেখান থেকে সরে পড়েন। ওষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধি সৌরভ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই হাসপাতাল অভ্যন্তরে যত্রতত্র প্রবেশ, রোগীদের ভাগিয়ে নেয়া, বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে দেয়ার নামে প্রতারণার মাধ্যমে রোগীদের কাছ থেকে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিয়ে আসছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। সৌরভ ওষুধ বিক্রয় প্রতিনিধির পাশাপাশি হাসপাতালের সামনের একটি প্রাইভেট ক্লিনিকের ম্যানেজারেরও দায়িত্বে রয়েছেন। ওই ক্লিনিকে রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সেবা দেয়ার কথা বলে হাসপাতালে আসা রোগীদের সেখানে নিয়ে যেয়ে থাকেন। হাসপাতালের ষ্টাফরা বলেন, সৌরভ মুলত একজন দালাল। ওষুধ বিক্রয় প্রতিনিধির আড়ালে তিনি মুলত রোগীদের অন্যত্র ভাগিয়ে নিয়ে তাদের সাথে প্রতারণার করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।
হাসপাতালের ষ্টাফ মহিউদ্দিন খাঁন বলেন, সে সব সময় হাসপাতালের অভ্যন্তরে এসে আমাদের স্বাভাবিক কাজ কর্মে ব্যাঘাত ঘটিয়ে থাকে। তাকে মানা করায় আমাকে লাঞ্চিত করেছে। বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে সৌরভ হালদার বলেন, যিনি আমাকে মানা করেছেন তিনি মানা করার কে, মানা করলে হাসপাতালের টিএইচও মানা করবে। যার কারণে এ ঘটনা! তিনি আরো বলেন, আমারও একটি প্রতিষ্ঠান আছে ‘সেবা ডায়গনেস্টিক সেন্টার’ যার কারণে আমি হাসপাতালের ভিতরে যাই।
বাগেরহাট জেলা সিভিল সার্জন কেএম হুমায়ুন কবির বলেন, এ বিষয়ে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: জীবিতেষ বিশ্বাসের সাথে কথা বলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।