ফুলতলায় একাডেমিক সুপার ভাইজার ফারজানা আক্তারের পিতা’র মৃত্যুতে শোক

ফুলতলা (খুলনা) প্রতিনিধিঃ ফুলতলা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপার ভাইজার ফারজানা আক্তারের পিতা অবসরপ্রাপ্ত মাধ্যমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক জালাল আহমেদ এর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ ও শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা ও এলাকার শিক্ষকবৃন্দ।

বিবৃতিদাতারা হলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা বেগম, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস, অধ্যক্ষ অজয় কুমার চক্রবর্তী, প্রধান শিক্ষক মনিরা পারভীন, মোর্শারফ হোসেন মোড়ল, পীর মোহাম্মদ, এস এম মোশারফ হোসেন, এমএ হালিম, মোঃ জাকির হোসেন, তাপস কুমার বিশ্বাস, সহকারী অধ্যাপক মোঃ নেছার উদ্দিন, সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ আশরাফ হোসেন, শিক্ষক টুকুরুল ইসলাম, নিরঞ্জন প্রসাদ বিশ্বাস, মহিতলাল মল্লিক, রিপন বৈরাগী, মোঃ ইয়াছিন মোল্যা, মঈন উদ্দিন ময়না, মনির হোসেন প্রমুখ। উল্লেখ্যঃ বুধবার সকালে খুলনার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।

 

মোংলায় ৮শ পরিবার পানি বন্ধী, তলিয়েছে সুন্দরবনের দুলবার চর ও করমজল

মোংলা প্রতিনিধি : জলোচ্ছ্বাসে মোংলার প্রায় সাড়ে ৮শ পরিবার পানিবন্ধী হয়ে পড়েছেন। তাদের উদ্ধার তৎপরতার পাশাপাশি ও খাদ্য সহায়তার কাজ শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন। এছাড়া মোংলার কাইনমারী স্লুইস গেইট উপচে পানি পৌর শহরে প্রবেশ করছে। পৌরসভার মধ্যে পানি ঢুকছে মাছমারা এলাকার রাস্তা ছাপিয়ে।
জলোচ্ছ্বাসে সুন্দরবনের দুবলার চর এলাকা ৫/৬ ফুট পানিতে তলিয়ে গেছে। ঝড়ে ভেঙ্গে গেছে বনবিভাগের দুবলা জেলে পল্লী টহল ফাঁড়ির কাঁচা ঘরও। দুবলার সুন্দরবনের ভিতরে পানি বাড়ায় প্রায় ৬ শ থেকে ৭শ হরিণ আশ্রয় নিয়েছে দুবলা মিষ্টি পুকুর পাড়ে বলে জানিয়েছে দুবলা জেলে পল্লী টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রহ্লাদ চন্দ্র রায়। পানিতে তলিয়ে গেছে সুন্দরবনের করমজল পর্যটন ও বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র।

সুন্দরবন প্লাবিত : দুটি মৃত হরিণ উদ্ধার, আরো মৃত্যুর আশঙ্কা

শরণখোলা প্রতিনিধি : ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে সুন্দরবন প্লাবিত হয়ে হরিণসহ বন্যপ্রাণির ব্যাপক মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে দুটি মৃত হরিণ উদ্ধার করা হয়েছে। বনের মধ্যে আরো বণ্যপ্রাণি মরে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে বনবিভাগ।
বনবিভাগ জানায়, বুধবার দুপুরে দুবলা জেলেপল্লী টহল ফাঁড়ির কোস্টগার্ড অফিসরে সামনে একটি মৃত হরিণ ভেসে আসে। এছাড়া, বিকেল ৩টার দিকে শরণখোলা উপজেলার বলেশ্বর নদে ভেসে আসা আরো একটি মৃত হরিণ উদ্ধার করে জেলেরা।
শরণখোলার রায়েন্দা ইউনিয়নের রাজেশ্বর গ্রামের জেলে ফোরকান মিয়া জানান, বিকলে ৩টার দিকে তারা কয়েকজন জেলে বলেশ্বর নদে চিংড়ি পোণা ধরছিলেন। এমন সময় তাদের পাশ থেকে মৃত হরিণটি ভেসে যাওয়ার সময় সেটি উদ্ধার করেন তারা। স্থানীয় সমাজকর্মী রিয়াদ হোসেন জানান, মৃত হরিণ উদ্ধারের খবর মোবাইল ফোনে তিনি বনবিভাগকে জানান।
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. জয়নাল আবেদীন জানান, মৃত হরিণ দুটি স্ত্রী প্রজাতির। একটির পেটে বাচ্চা রয়েছে। সন্ধ্যা ৬টার দিকে রেঞ্জ অফিস চত্বরে হরিণ দুটি মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের জলোচ্ছ্বাসে হরিণ দুটি মারা গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এসিএফ জানান, ইয়াসের জলোচ্ছ্বাসে বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী সুন্দরবনের দুবলা, আলোরকোল, নারকেলবাড়িয়া, টিয়ারচর, শ্যালার চর, কটকা, কচিখালী, সুপতিসহ ব্যাপক এলাকার বনভূমি প্লাবিত হয়। স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে অন্তত ৭-৮ফুট উচ্চতায় বনের এসব এলাকা থেকে পানি প্রবাহিত হয়েছে। পানির স্রোতে আরো বন্যপ্রাণি মারা যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট বন অফিসের বনরক্ষীদের খোঁজ নিতে বলা হয়েছে।

দাকোপে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ভেঙে গেছে বাঁধ : ৩ হাজার পরিবার পানিতে নিমজ্জিত

আজগর হোসেন ছাব্বির : ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে উপকুলিয় উপজেলা দাকোপের কামিনিবাসীয়ায় ভেঙে গেছে বাঁধ। জোয়ারের তোড়ে বাঁধ ছাপিয়ে চালনা পৌরসদরসহ বেশ কিছু এলাকায় পানি ঢুকে বসত ভিটে ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিমজ্জিত হয়েছে। উপজেলায় প্রায় ৩ হাজার পরিবার ব্যাপক ক্ষতির মুখে। এলাকাবাসী এই বিপর্যয়ের জন্য পাউবোর উদাসীনতাকে দায়ী করেছেন।
স্থানীয় নদ নদীতে স্বাভাবিক জোয়ার অপেক্ষা আনুমানিক ৩ ফুট পানি বৃদ্ধি পায়। চারিপাশে নদী বেষ্টিত উপজেলার ৯ টি ইউনিয়ন ও চালনা পৌর এলাকার ১০/১২ টি স্থানে ওয়াপদা বাঁধ ছাপিয়ে প্রত্যন্ত এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ঢাকী নদীর পানির চাপে তিলডাঙ্গা ইউনিয়নের কামিনিবাসিয়া সোনার বাংলা কলেজ এলাকার বেড়ীবাঁধ বুধবার দুপুরের জোয়ারে ভেঙে যায়। ফলে তিলডাঙ্গা ইউনিয়নসহ ৩১ নং পোল্ডার পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। উপজেলার কালাবগী, নলিয়ান, সুতারখালী, বটবুনিয়া বাজার, ঝালবুনিয়া, পানখালী জাবেরের খেয়াঘাট, পানখালী পুরাতন ফেরী ঘাট, খোনা, লক্ষিখোলা পিচের মাথা, চালনা পৌরসভার গোড়কাটি এবং খলিষা এলাকার বাঁধ ছাপিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে যায়। এর মধ্যে গোড়কাটি, পুরাতন ফেরীঘাটসহ বেশ কয়েকটি এলাকার বেড়ীবাধ অত্যান্ত ঝুকির মুখে আছে। কালাবগী ফকির কোনা, ঝুলনপাড়া, নলিয়ান বাজার, পানখালী জাবেরের খেয়াঘাট, চালনা পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডসহ বেশ কিছু এলাকায় ওয়াপদা বেড়ীবাঁধের বাইরে বসবাসকারী প্রায় ৩ হাজার পরিবার পানিতে পুরোপুরি নিমজ্জিত। দাকোপ উপজেলা চেয়ারম্যান মুনসুর আলী খান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিন্টু বিশ^াস, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ¦ শেখ আবুল হোসেন, চালনা পৌর মেয়র সনত কুমার বিশ^াস এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শেখ আব্দুল কাদের ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেছেন। উপজেলা প্রশাসন তাৎক্ষনিক ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে শুকনো খাবার বিতরন করেছেন। উপজেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং ইউনিয়ন পরিষদের তত্বাবধানে ঝুঁকিপূর্ন এলাকাসহ ভেঙে যাওয়া বাঁধ নির্মানের কাজ চলছে বলে জানা গেছে। উপজেলার কামিনিবাসিয়া এবং পানখালী এলাকায় প্রায় ৮ শ’ শ্রমিক কাজ করছে। এ ছাড়া অন্যান্য এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদের তত্বাবধানে মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ রক্ষার জন্য প্রানপন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। চলমান পরিস্থিতিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড কিছু জিও ব্যাগ দিয়ে দ্বায় সেরেছেন বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ পানি উন্নয়ন বোর্ড দীর্ঘদিন ঝুঁকিতে থাকা এ সকল বাঁধ নির্মানে এগিয়ে না আসায় এ অবস্থা। চলমান পরিস্থিতির জন্য তাদের উদাসীনতাকে দায়ী করেছেন তারা। এ ব্যাপারে পাউবোর দায়িত্বশীল পর্যায়ের গতানুগতিক উত্তর বরাদ্দ না থাকায় তাদের করনীয় কিছুই ছিলনা।

বটিয়াঘাটার জলমা-কচুবনিয়াএলাকায় শহররক্ষা বেড়িবাঁধ হুমকিতে

ইন্দ্রজিৎ টিকাদার, বটিয়াঘাটা (খুলনা) : বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় যশ এর প্রভাবে খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার নদী উপকূলীয় অঞ্চলের ভাঙ্গন কবলিত মানুষ রয়েছে হুমকির সম্মুখীন ‌। গত দুইদিন যাবৎ ঘুর্ণিঝড় যশের প্রভাবে নদীর স্রোতের ও ঢেউয়ের তোড়ে উপজেলার জলমা ইউনিয়নের জলমা- কচুবনিয়া পুরোতন ফেরিঘাট সংলগ্ন শহররক্ষা বেড়িবাঁধ রয়েছে হুমকির মুখে । ভেঙ্গে গেলে প্লাবিত হতে পারে জলমা ইউনিয়ন সহ খুলনা শহরের জনগুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা । এছাড়াও উপজেলার নদী উপকূলীয় স্পর্শ কাতর বেড়িবাঁধ গুলোর মধ্যে জলমার তেঁতুলতলা , পুটিমারী,মাথাভাঙ্গা,সুরখালীর বারোআড়িয়া , রায়পুর,গঙ্গারামপুরের বরনপাড়া, দ্বিপবরনপাড়া, ভান্ডাকোটের হালিয়া,শিয়ালীডাঙ্গা, বালিয়াডাঙ্গার বুঝবুনিয়া, বিরাট,আমীরপুরের শেওলাবুনিয়া এবং বটিয়াঘাটা সদর ইউনিয়নের বাজারসদর, ফুলতলা,হোগলবুনিয়া সহ বিভিন্ন এলাকা । গত দুইদিন বুধবার সারা রাত ধরে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই গাইন নেতৃত্বে স্থানীয় লোকজন শহররক্ষা বেড়িবাঁধ মেরামতের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল । খবর পেয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের জেলা প্রকৌশলী মোঃ সাইদুর রহমান ঘটনা স্থলে আসেন এবং ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে বালু ভরা কোম্বলের বস্তা ফেলে প্রাথমিক বাঁধটি সাময়িক ভাবে ঠেক দিয়েছে । তবে পূর্ণিমায় ও চন্দ্রগ্ৰহন থাকায় নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে । রাতে পানি আরো বৃদ্ধি পেয়ে স্পর্শ কাতর বেড়িবাঁধ ভেঙে ও উপচে পড়ে বিস্তির্ণ এলাকা প্লাবিত হবার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান এলাকার সচেতন মহল ‌। অপরদিকে ইয়াস ঘুর্ণিঝড়কে সামনে রেখে উপজেলা প্রসাশনের পক্ষ থেকে অগ্ৰীম ব্যাপক প্রস্তূতি গ্ৰহন করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে । মাইকিংয়ের মাধ্যমে সাইক্লোন শেল্টার গুলিতে নদী উপকূলীয় এলাকার ও মাটির ঘরের মানুষদের আশ্রয় দেয়া, কন্ট্রোল রুম খোলা, খাদ্য সহ বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে । এছাড়াও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নজরুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার ( ভূমি) আব্দুল হাই সিদ্দিকী, থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ রবিউল কবীর, উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইন্দ্রজিৎ টিকাদার, ইউপি সদস্য বিপ্রদাস টিকাদার কার্তিক, মহিলা ইউপি সদস্য তপতী বিশ্বাস সহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা,ব্লু- গোল্ডের কর্মকর্তা , জনপ্রতিনিধি ও আসন্ন ইউপি নির্বাচনে অংশ নেবে সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে নেমে ব্যাপক খোঁজ খবর নেন । এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের জেলা প্রকৌশলী মোঃ সাইদুর রহমানের কাছে শহররক্ষা বেড়িবাঁধের ভাঙ্গন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে শহররক্ষা বেড়িবাঁধটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বালুর বস্তা দিয়ে ঠেক দেয়া হচ্ছে । উক্ত শহররক্ষা বেড়িবাঁধটি স্থায়ীভাবে করতে জাইকা ব্লোকের বরাদ্দ দিয়েছে । আগামীতে টেন্ডার দেয়া হবে এবং টেন্ডার দেয়া হলে বাঁধটির স্থায়ীভাবে ব্লোলকের কাজ শুরু হবে ।

বটিয়ঘাটার বিভিন্ন ভেঁড়িবাধ চরম হুমকির সম্মুখীন

বটিয়াঘাটা প্রতিনিধি : ঘূর্ণিঝড় ইয়াস এর প্রভাব ও চলমান পূর্নিমার জোঁগার গোনে কাজিবাছা নদী সহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপকূলবর্তী এ উপজেলার বিভিন্ন ভেঁড়িবাধ চরম হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। উপজেলার বাজার সদর রক্ষা বাঁধ সহ কিসমত ফুলতলা, বরণপাড়া, হোগলবুনিয়া এলাকার ভেঁড়িবাধ রয়েছে চরম হুমকির সম্মুখীন। চলমান গোঁগার গোনে নদ-নদীর পানি ফেঁপে ওঠায় ও স্রোতের তোড়ে ভেঁড়িবাধ উঁপচে পড়ে দোকানপাট ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঢুঁকে পড়ে ক্ষতিসাধন করছে। ওভারফ্লো হয়ে যাওয়া স্থানগুলি হচ্ছে পুরাতন ফেরীঘাট, খেওয়াঘাট, সাহা মোড়, কালীমন্দির, কিসমত ফুলতলার বরইতলা, বরণপাড়া, হোগলবুনিয়া এলাকা।

ওই সকল এলাকার চরম ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ ভেঙ্গে গিয়ে ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হয়ে দাকোপ-বটিয়াঘাটা দুই উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ার সমূহ সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ইতিপূর্বে নদী ভাঙ্গনে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে স্ব- স্ব স্থানীয়দের অনেক জায়গা। পানি উন্নয়ন বোর্ড অসময়ে ভেঁড়িবাধ দিয়ে বয়ে যাওয়া খুলনা- চালনা মহাসড়কের কিছু কিছু জায়গায় তাঁদের মনোনীত ঠিকাদার দিয়ে নামকা ওয়াস্তা ফাইলিং এর কাজ করলেও কাজগুলি মানসম্মত ও টেঁকসই না হওয়ায় গোটা উপজেলার ওই স্পটগুলি এখন চরম হুমকীর সন্মুখীন। নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় স্রোতের তোঁড়ে বর্তমানে বাঁধ সীমানা ভেঙ্গে উপজেলা সদর রক্ষাবাঁধ, উপজেলা পরিষদ ও সকল প্রশাসনিক ভবন, হেতালবুনিয়া, হাটবাটী, হোগলবুনিয়া, কিসমত ফুলতলা, বরইতলা, মাইটভাঙ্গা, ভেন্না বুনিয়া, বসুরাবাদ, দেবিতলা, মাইল মারা, বাদামতলা, আউষখালি সহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। একে তো চলমান ঘূর্ণিঝড় ইয়াস এর আতঙ্কে রয়েছে এলাকাবাসী তাঁরপর মরার পরে খাঁড়ার ঘাঁ অব্যাহত নদী ভাঙ্গন। খবর পেয়ে জাতীয় সংসদের হুইপ পঞ্চানন বিশ্বাস এমপি বটিয়াঘাটা বাজার সদর, কিসমত ফুলতলার বরইতলা, বরণপাড়া এলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, আলীগ নেতৃবৃন্দদের সাথে নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলি সরেজমিন পরিদর্শন করেন এবং এলাকাবাসীর আগাম ক্ষয়- ক্ষতি রোধ নিরসনকল্পে এলাকা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে তাৎক্ষনিক ঔচ্ছিক সরকারী তহবিল থেকে অর্থ বরাদ্ধের আশ্বাস প্রদান করেন। এছাড়াও তিনি জরুরী ভিত্তিতে শ্রমিক লাগিয়ে ও স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে এলাকা সুরক্ষায় সকলকে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানান। সকল স্পটগুলিতে তাঁর সাথে উপস্থিত ছিলেন থানার ওসি মোঃ রবিউল ইসলাম, আলীগনেতা অধ্যাঃ মনোরঞ্জন মন্ডল, অবঃ সহকারী শিক্ষক গৌর হরি বৈরাগী, হুইপ তনয় সহকারী শিক্ষক পল্লব বিশ্বাস রিটু, ইউপি সদস্য বিপুল কুমার ইজাদ্দার, সমাজসেবক দুলাল বৈরাগী, প্রদ্যুৎ বৈরাগী, রবি ইজাদ্দার, অংশুপতি মন্ডল, বিকাশ কুন্ডু প্রমূখ।

ডুমুরিয়ায় বৃদ্ধি পেয়েছে জোয়ারের পানি : হুমকিতে রক্ষাবাঁধ

সুজিত মল্লিক, ডুমুরিয়া (খুলনা) : ঘুর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে ডুমুরিয়ায় প্রচন্ড আকারে বৃদ্ধি পেয়েছে জোয়ারের পানি। চরাঞ্চল ও নদীর তীরের রক্ষাবাঁধ গুলো রয়েছে হুমকির মুখে। পানির প্রভাবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা হয়েছে নিমর্জ্জিত।
জানা গেছে, অতি প্রবল ঘুর্ণিঝড় ইয়াস আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করায় দেশের উপকুলীয় অঞ্চল জুড়েই বিরাজ করছিল ছিল বিপদ সীমা। সেদিক দিয়ে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলাও ছিল হুমকির মুখে। তবে ঘুর্ণিঝড় ঘণিভূত হয়ে ভারতের পশ্চিম-বঙ্গ ও উড়িষ্য দিকে অগ্রসর হওয়ায় পরিস্থিতিটা ছিল কিছুটা বিপদমুক্ত। তারপরও মঙ্গলবার থেকে দুইদিন ব্যাপি প্রবাহিত হয় ঝড়োবাতাস। তবে উপজেলার অভ্যন্তরীন নদী গুলোতে অস্বাভাবিক হারে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। যার প্রভাবে হুমকিতে রয়েছে সাহস ইউনিয়নের লতাবুনিয়া বাশতলা, চটচটিয়া, শোভনা ইউনিয়নের বাগআচড়া বাদুরগাছা, কদমতলা, বারুইকাঠি, পাতিবুনিয়া, জিয়ালতলা, ভান্ডারপাড়া ইউনিয়নের আবাসন, জাবড়া, তেলিখালি, ধানিবুনিয়া বকুলতলা, শরাফপুর ইউনিয়নের চাঁদগড় জালিয়াখালী, আসাননগর, মাগুরখালীর শিবনগর, খোরেরাবাদ, আটলিয়ার বরাতিয়া, কুলবাড়িয়া, খর্ণিয়ার রাজার সংলগ্ন এলাকা ও রানাই গ্রাম অঞ্চল, রুদাঘরার শোলগাতিয়া, চহেড়ার গেট ও ডুমুরিয়া সদরের ট্রলারঘাট এলাকা। এরমধ্যে উপজেলা সদরের আইতলা জেলেপল্লী, ট্রলারঘাট এলাকায় জোয়ারের পানি ওঠানামা করছে। এ বিষয়ে ভান্ডারপাড়া আবাসন পল্লীর অবস্থা নিয়ে ইউপি সদস্য শেখ মাহাবুর রহমান বলেন, গত ২/৩ দিন ধরে নদীর পানি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় লোকজন নিয়ে বাঁধ দিয়ে কোন রকমে পানি আটকাতে পেরেছি। তবে পারাপারের জন্য বাঁশের শাকোটি পানির তোড়ে ভেসে গেছে। শোভনার বাদুরগাছা-বাগআচড়া নিয়ে ইউপি সদস্য দেবব্রত সরদার বলেন, এখানকার রক্ষাবাঁধের অবস্থা খুবই খারাপ। যেকোন সময় বাঁধ ভেসে যেতে পারে। শরাফপুর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ রবিউল ইসলাম রবি বলেন, ইউনিয়নের চাঁদগড়, জালিয়াখালি, বৃত্তিবিড়ালা, আসাননগর এলাকার অবস্থা মোটেই ভালো না। বাঁধ ছুই ছুই জোয়ারের পানি। রুদাঘরার চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোস্তফা কামাল খোকন বলেন, ইউনিয়নের চহেড়া স্লাইচ গেট ও শোলগাতিয়া বাজারে সংলগ্ন এলাকা হুমকিতে রয়েছে। বিশেষ করে চহেড়ার গেটে কিছু হলে চরম বিপদ হয়ে যাবে।
বিষয়টি নিয়ে উপজেলা ত্রাণ ও প্রকল্প বাস্তবায়ণ কর্মকর্তা মোঃ আশরাফ হোসেন বলেন, ঘুর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে আগাম প্রস্তুতি হিসেবে আমরা উপজেলার সকল সাইক্লোন সেন্টারে মানুষের আশ্রয়ের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। সেখানে দুর্যোগ কবলিত মানুষরা অবস্থান করবে।
এ বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আবদুল ওয়াদুদ বলেন, ইয়াসের প্রভাবে ডুমুরিয়া উপজেলার কোথাও তেমন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে উপজেলার অভ্যন্তরীন নদী গুলোতে জোয়ারের পানির প্রচন্ড চাপ। আমরা স্ব-স্ব এলাকার জনপ্রতিনিধিদের সতর্ক থেকে কাজ করতে বলেছি। আর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন এলাকা পরির্দশন করে তাৎক্ষণিক ভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে।
ডুমুরিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গাজী এজাজ আহমেদ বলেন, ঘুর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে এখানে ঝড়োবাতাস হচ্ছে। এখনো পর্যন্ত বড় আকারে ঝড়ের খবর পাওয়া যায়নি। বৃষ্টিও হচ্ছে থেমে থেমে। তবে নদীর জোয়ারের পানি বেড়েছে অনেক বেশি। বিশেষ করে নদীর চর ও অপদার বাহিরে বসবাস করা মানুষের অবস্থা মোটেও ভালো না।

চট্টগ্রামে ডিএনসি’র পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ আটক ৪

নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি)’র পৃথক অভিযান চালিয়ে ৫ হাজার ৮শ পিস ইয়াবাসহ ৪ মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছেন। আটককৃতরা হচ্ছে মোঃ নুরনবী (১৭), মোঃ আমিন (২০), মোঃ আমিন (২৫) ও মোঃ জামাল হোসেন (৪২)। বুধবার দিনব্যাপী চট্ট্রগ্রামে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করেন।
চট্টগ্রাম মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি)’র সূত্র মতে, বুধবার (২৬ মে)  মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মেট্রো কার্যালয়ের উপ পরিচালক মোঃ রাশেদুজ্জামান এর সার্বিক তত্বাবধানে ও সহকারী পরিচালক মোঃ এমদাদুল হক এর সমন্বয়ে পাঁচলাইশ, ডবলমুরিং  ও পাহাড়তলী সার্কেল  পরিদর্শক এর নেতৃত্বে পাঁচলাইশ সার্কেল পরিদর্শক তপন কান্তি শর্মা সকালে চট্টগ্রাম মহানগরীর চকবাজার থানাধীন ৩৮/এ চট্টেশ্বরী রোড এলাকা হতে মোঃ হামিদ এর পুত্র  মোঃ নুরনবীকে ৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ  গ্রেফতার করে চকবাজার থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন। অপর অভিযানে পাঁচলাইশ সার্কেলর একই টীম খুলশী থানাধীন দামপাড়া সৌদিয়া বাস কাউন্টার এর সামনে রাস্তার উপর হতে মো: কাদির হোসেনের পুত্র মোঃ আমিনকে ১ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার  করে পাঁচলাইশ  সার্কেলর সহকারী উপ পরিদর্শক    মোঃ মনির হোসেন  বাদী হয়ে খুলশী  থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন। অন্যদিকে অভিযানে ডবলমুরিং সার্কেলর উপ পরিদর্শক মোঃ আব্দুল মতিনের নেতৃত্বে ডবলমুরিং থানাধীন ৩১৫ দেওয়ান বিল্ডিং, দেওয়ান হাট রোডের সাদেকস পয়েন্ট নামীয় ফটোকপির দোকানের সামনে রাস্তার উপর হতে মৃত মো: আব্বাস এর পুত্র মোঃ আমিনকে ৮শ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে ডবলমুরিং সার্কেল উপ পরিদর্শক মোঃ আব্দুল মতিন বাদী হয়ে ডবলমুরিং থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন। এছাড়া পাহাড়তলী সার্কেলের উপ পরিদর্শক মোঃ জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে  বাকলিয়া থানাধীন বশরুজ্জামান চত্বরের পশ্চিম পাশে বিআরটিসি বাস কাউন্টার এর সামনে রাস্তার উপর হতে মৃত নাজেম গোলদারের পুত্র মোঃ জামাল হোসেন (৪২) কে ১ হাজার   পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করে বাকলিয়া থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।

দেশজুড়ে গুম ও খুনের বিচার পেতে হলে সকলকে জালিম সরকারকে বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে-খুলনা জেলা বিএনপির সভাপতি

ফুলতলা (খুলনা) প্রতিনিধিঃ খুলনা জেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাড. শফিকুল আলম মনা বলেছেন, জনবিচ্ছিন্ন সরকার প্রশাসনকে দলীয়করণ, স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ে সীমাহীন দুর্ণীতি, পাটকল বন্ধ করে পাট শিল্পকে ভারতের হাতে তুলে দেয়ার নীলনকশার বাস্তবায়ন অন্যদিকে লক্ষ লক্ষ শ্রমিককে বেকার করেছে। বিচারহীনতার কারণে রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক, জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন পেশাজীবি গুম ও খুন হলেও তার কোন বিচার হয় না। তরুণ প্রজন্মের আইকন সরদার আলাউদ্দিন মিঠু হত্যার চার বছর পার হলেও তার কোন বিচার হয়নি। এ সরকারের আমলে জনগন বিচার পাবে না। সকল গুম ও খুনের বিচার পেতে হলে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এ জালিম সরকারকে হটাতে হবে।

মঙ্গলবার বিকালে ফুলতলা উপজেলার বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে খুলনা জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফুলতলা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সরদার আলাউদ্দিন মিঠুর চতুর্থ শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক ও প্রয়াত নেতা সরদার আলাউদ্দিন মিঠুর ভাই মোঃ সেলিম সরদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ¦ আমির এজাজ খান, জেলা বিএনপির সহসভাপতি এস এ রহমান বাবুল, মোল্যা খায়রুল ইসলাম। বিএনপি নেতা শেখ আঃ সালামের পরিচালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন জেলা বিএনপি নেতা এ্যাড. শহিদুল আলম, মোঃ রুম্মান আজাদ, মোঃ হেমায়েত হোসেন, ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আবুল বাশার, শেখ লুৎফর রহমান, আনোয়ার হোসেন বাবু, গাজী ফজলুল হক, জিএম শফিকুল ইসলাম, শেখ বকতিয়ার উদ্দিন, কাজী শফিক আহমেদ মেজবা, মোঃ জামাল হোসেন ভুইয়া, শেখ মোঃ মহিউদ্দিন, শেখ আফছার উদ্দিন, মোঃ আকতার হোসেন, মহির উদ্দিন, শেখ আঃ হালিম, মোঃ শহিদুল ইসলাম, আঃ হালিম বিশ^াস ফয়সাল হোসেন, তুষার বেগ, মোঃ তুষার মোল্যা, মোঃ ইদ্রিস মোল্যা, ইব্রাহীম সরদার, সিরাজ মোড়ল, আনোয়ার হোসেন, টিটো জমাদ্দার, মোঃ নাসির উদ্দিন, আনিছুর রহমান রনি, মোঃ আলমগীর হোসেন, সৈয়দ আল শাকিল, আলামিন সানা, আইরিন সুলতানা প্রমুখ। প্রসঙ্গতঃ ২০১৭ সালের ২৫ মে রাত সাড়ে ৯টায় তরুণ উদীয়মান নেতা ও জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি সরদার আলাউদ্দিন মিঠু ফুলতলা নতুনহাটস্থ নিজ কার্যালয়ে অস্ত্রধারী দুর্বৃত্তদের গুলিতে নির্মমভাবে নিহত হন।

চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও সার্কেলের সার্ভেয়ার নাজমুলের বিরুদ্ধে ১২ লক্ষ ঘুষ দাবির অভিযোগ

চট্টগ্রাম ব্যুরো: ভূমি অফিসের দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য ভূমিমন্ত্রী চট্টগ্রামসহ সারা বাংলাদেশ ভূমি অফিসের একাধিক ঝটিকা অভিযান চালানোর পরও দুর্নীতি থামানো যায়নি।  ভূমি মন্ত্রীর অভিযানের কয়েকজন সার্ভেয়ারকে বদলি করলেও দুর্নীতির দায়ে এখনো পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে দুদকের মামলা হয়নি।  চট্টগ্রামের এল এ শাখা সহ একাধিক ভূমি অফিসের সার্ভেয়ারদের দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে কোন প্রকার শাস্তি মূলক ব্যবস্থা করেনি জেলা প্রশাসক।  চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার নাজমুলের রয়েছে নামে-বেনামে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ। তিনি এসিল্যান্ডের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রতিনিয়ত প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি করল ভুক্তভোগীরা ভয়ে তার বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস পায়না।

জানা যায় সম্প্রতি চট্টগ্রাম নগরীর ভূমি অফিস চান্দগাঁও সার্কেলের এসিল্যান্ড ও সার্ভেয়ারের বিরুদ্ধে ১২ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ পাওয়া গেলেও উক্ত ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য উচ্চ পর্যায়ে তদবির চালাচ্ছেন সার্ভেয়ার নাজমুল।  ঘুষ দাবির ঘটনায় এসিল্যান্ড ও সার্ভেয়ারের বিরুদ্ধে গত ৩ এপ্রিল জসিম উদ্দীন নামের এক ব্যক্তি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানায়, নগরীর পশ্চিম ষোলশহরস্থ বিবির হাট তাজমহল কমিউনিটি সেন্টারটি দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে নিজস্ব জায়গায় জসিম উদ্দীন পরিচালনা করে আসছে। কমিউনিটি সেন্টারটি সংস্কার করার জন্য সিডিএ থেকে ৬ তলার প্ল্যানও অনুমোদন নেয়। জসিম উদ্দীনের নামে ওয়াসা, বিদ্যুৎ, ট্রেড লাইসেন্স, হোল্ডিং টেক্সসহ যাবতীয় কাগজ পত্র রয়েছে। চান্দগাঁও সার্কেলের সহকারী কমিশনার ভূমি মামনুন আহমেদ অনীক ও সার্ভেয়ার নাজমুল হাসান ভূমি অফিসে আসা লোকজনকে জিম্মি করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। পাঁচলাইশ থানাধিন পশ্চিম ষোলশহরস্থ বিবির হাট এলাকার মৃত ইউসুফের পুত্র তাজমহল কমিউনিটি সেন্টারের মালিক মো. জসিম, মো, কাউসার, মো. নাঈমের বিরুদ্ধে জায়গা জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া এলাকার জোহরা বেগম(৪০), মো. জাহেদ(১৮)এর পক্ষ থেকে এডিএম কোর্ট (মহানগর) চট্টগ্রাম ২০১৮ সালের ১৬ আগস্ট মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দেন। গত ২০২০ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি সার্ভেয়ার নাজমুল হাসান ও তৎকালিন চান্দগাঁও সার্কেল সহকারী কমিশনার(ভূমি) মো. ফোরকান এলাহি অনুপম সরেজমিন তদন্ত করে একটি প্রতিবেদন দেন। এর আগে আদালতের নির্দেশে পাঁচলাইশ থানার মর্ডেল থানার তৎকালিন এস আই নুরুল আলম মিয়া ২০১৯ সালের ১১ মার্চ উভয় পক্ষের কাগজ পত্র পর্যালোচনা করে সরেজমিন তদন্তের প্রেক্ষিতে একটি প্রতিবেদন দেন।

উক্ত প্রতিবেদনের পর গত ২২ মার্চ একই স্থানের সার্ভেয়ার নাজমুল হাসান ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মামনুন আহমেদ অনীক আগের প্রতিবেদনের বিপরীত আর একটি প্রতিবেদন দেন। উক্ত প্রতিবেদন দেয়ার আগে সার্ভেয়ার নাজমুল হাসান ও এসিল্যান্ড ১২ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। প্রতিবেদন পক্ষে দিতে হলে এসিল্যান্ড এবং অফিসের লোকজনকে ১২ লাখ টাকা দাবি করে।  এছাড়াও রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া ইউপি চেয়ারম্যানের কাছ থেকে গত ২০১৮ সালে আইয়ুব আলীর পরিবারের তথ্য গোপন করে ওয়ারিশন সনদ নেন। উক্ত সনদে পরিবারের ৭ সদস্যদের মধ্যে ১ম স্ত্রী লাকী আকতারের তথ্য গোপন করায় গত ১২ জানুয়ারি আগের ওয়ারিসন সনদ বাতিল করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান দিদারুল আলম আর একটি সনদ দেন। তথ্য গোপন করে মামলা করার ঘটনায় জোহরা বেগম ও জাহেদের দায়েরকৃত মামলাটি খারিজ করে দেন। এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার জসিম উদ্দীনকে ভূমি অফিসের লোকজন ও যার পক্ষে রির্পোট দিয়ে তারা বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়ে আসছে। অভিযোগ প্রত্যাহার করার জন্য চাপ দিয়ে আসছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে জসিম উদ্দীন জানান, উক্ত জায়গায় যাবতীয় কাগজ পত্র এবং দখল প্রায় তিন যুগ ধরে আমাদের পক্ষে এবং আমার কমিউনিটি সেন্টার আছে। এসিল্যান্ড ও সার্ভেয়ার সরেজমিন তদন্তে এসে সবার সামনে আমার কাছে স্বীকার করে যান সব কিছু আমার পক্ষে। অফিসে যাওয়ার পর বিভিন্ন মাধ্যমে খবর পাঠান এবং আমার কাছে ১২ লাখ টাকা লাগবে বলে দাবি করেন সার্ভেয়ার নাজমুল হাসান, টাকা না পেলে নাকি এসিল্যান্ড স্বাক্ষর করবে না এবং ডিসি অফিসেও কিছু টাকা দিকে হবে বলে ঘুষ দাবি করেন।

এ বিষয়ে জানার জন্য চান্দগাঁও ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার নাজমুল হাসানের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ার পর তাহার কমেন্টস নেওয়ার জন্য হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা পাঠানো হলো তিনি কোন প্রকার যোগাযোগ করেননি।

এ বিষয়ে চান্দগাঁও সার্কেল সহকারী কমিশনার (ভূমি) মামনুন আহমেদ অনীকের সাথে টেলিফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে ফোন রিসিভ করেনি।

চান্দগাঁও ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায় সার্ভেয়ার নাজমুল হাসান লক্ষ টাকার নিচে ঘুষ নেয় না। তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থাকলেও টাকার বিনিময়ে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে তিনি বহাল তবিয়তে রয়েছে।
তার গ্রামের বাড়ি ও চট্টগ্রাম শহরে রয়েছে শত কোটি টাকার সম্পদ। নামে-বেনামে রয়েছে একাধিক ফ্ল্যাট ও কোটি কোটি টাকার ব্যাংক ব্যালেন্স।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, এসিল্যান্ড ও সার্ভেয়ারের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অভিযোগটি আসার পর তদন্ত চলছে, করোনাকালিন অফিস ছুটি হওয়ার কারণে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি।  উল্লেখ্য চান্দগাঁও সার্কেল ভূমি অফিসের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে বিভিন্ন একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।