পুলিশকে হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে আসামির পলায়ন

রাজশাহী প্রতিবেদক :
রাজশাহীর চারঘাটে এক আসামিকে ধরতে গিয়েছিলেন পুলিশের দুই এসআই। কিন্তু তাঁরা আর ওই আসামিকে ধরতে পারেননি। তাঁদের মধ্যে একজনকে হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে ও অপরজনকে গলা টিপে আসামি পালিয়ে গেছেন। বুধবার দুপুরে চারঘাটের থানাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পলাতক আসামির নাম ফারুক হোসেন (৩০)। তাঁর বাড়ি চারঘাট উপজেলার থানাপাড়া গ্রামে। হামলায় আহত দুজন হলেন চারঘাট থানার উপপরিদর্শক এসআই) আশরাফুল ইসলাম ও ফরোয়ার হোসেন। তাঁদের চারঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ফারুক হোসেন একটি মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি। নিজ বাসায় কাজ করছেন, এমন খবর পেয়ে দুই এসআই বুধবার বেলা দুইটার দিকে আসামি ফারুকের বাসায় যান। এ সময় আসামির হাতে ছোট হাঁসুয়া ছিল। হাঁসুয়ার আঘাতে এসআই ফরোয়ার হোসেনের হাত কেটে যায়। এসআই আশরাফুল আসামিকে ধরার চেষ্টা করলে আসামিসহ পরিবারের লোকজন তাঁর গলা টিপে ধরেন।

খবর পেয়ে চারঘাট মডেল থানার এক দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তবে অতিরিক্ত পুলিশ আসার আগেই আসামি পালিয়ে যান।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এসআই আশরাফুল ইসলাম জানান, আসামি যে তাঁদের সঙ্গে এ রকম মারমুখী আচরণ করবেন, এটা তাঁরা চিন্তাই করতে পারেননি। এ ধরনের মামলার আসামি সাধারণত ধরে আদালতে সোপর্দ করা হয়। তাঁরা জামিনে বের হয়ে আসেন। গ্রেপ্তার করতে গেলে তাঁরা সসম্মানে পুলিশের সঙ্গে চলে আসেন। কিন্তু আসামি তাঁর গলা টিপে ধরেছেন। আসামির সঙ্গে তাঁর মা, বাবাসহ সবাই তাঁকে ধরেছেন।

চারঘাট থানার এসআই আশরাফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চারঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তিনি রাজশাহীতে আছেন। মামলার ব্যাপারে আলাপ–আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সাতক্ষীরায় করোনার সর্বোচ্চ উর্দ্ধগতি, সনাক্ত ৫৯ শতাংশ, উপসর্গে মৃত ৪

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :
সীমান্ত জেলা সাতক্ষীরায় লকডাউনের ৫ম দিনে করোনা সংক্রমণের হার সবেংাচ্চ উর্দ্ধগতি হয়েছে। সর্বশেষ ফলাফলে গত ২৪ ঘন্টায় ১৮২ জনের শরীরে নমুনা পরীক্ষায় ১০৮ জনের করোনা পজেটিভ শনাক্ত হয়েছে। পরীক্ষা বিবেচনায় হার ৫৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ। জেলায় একদিনে এটি করোনা সংক্রমনের সর্বোচ্চ হার। এনিয়ে জেলায় আজ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছেন ২ হাজার ৯৭ জন। এদিকে, করোনার উপসর্গ নিয়ে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আরো ৪ জন মারা গেছেন। মৃত ব্যক্তিরা হলেন, সাতক্ষীরা শহরের রাজার বাগান এলাকার নাজির আলী মিস্ত্রী (৭০), শ্যামনগর উপজেলার নৈকাটি গ্রামের সামাদ শেখ (৫৫), একই উপজেলার জয়নগর গ্রামের এল.এম বকসো (৮০) ও সদর উপজেলার আখড়াখোলা গ্রামের মিজানুর রহমান (৫০)। এনিয়ে জেলায় করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন কমপক্ষে ২৩৬ জন। আর করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন জেলায় মোট ৪৮ জন।
এমন পরিস্থিতিতে করোনার লাগাম টানতে প্রশাসনকে কিছুটা কঠোর হতে দেখা গেছে। মোড়ে মোড়ে চলছে তল্লাশী। শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশি চেকপোস্ট বসিয়ে চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে। স্বাস্থ্য বিধি মানতে চলছে মাংকিং। বন্ধ রয়েছে দুরপাল্লার বাসসহ সকল ধরনের গনপরিবহন। করোনা সংক্রমনের হার বৃিদ্ধর মধ্যেও শহর ও গ্রামাঞ্চলে অবাধে মানুষ যাতায়াত করছেন। তারা কোন রকমেই মানতে চাচ্ছেননা স্বাস্থবিধি। ভোমরা স্থলবন্দরেও সীমিত পরিসরে চলছে আমদানী-রপ্তানী কার্যক্রম। তবে ভারতীয় চালক ও হেলপাররা যাতে খোলামেলা ঘুরে বেড়াতে না পারেন সে জন্য পুলিশ ও বিজিবির নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়া লকডাউনের মধ্যে দোকানপাট খোলা রাখা, স্বাস্থ্যবিধি না মানাসহ বিভিন্ন অপরাধে জেলার বিভিন্ন স্থানে চলছে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান।

নিখিলের সঙ্গে সহবাস করতাম, বিয়ে করি নি, তাই বিচ্ছেদের প্রশ্নই নেই: সাংসদ নুসরাত

নিখিলের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কই নেই তাঁর, একটি বিবৃতি জারি করে এমনইটাই দাবি করলেন অভিনেত্রী-সাংসদ।

নিজস্ব প্রতিবেদন: কয়েকদিন ধরেই নুসরত জাহানের বৈবাহিক সম্পর্ক ও তাঁর সন্তানসম্ভবা হওয়া নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এবার তা নিয়েই মুখ খুললেন নুসরত জাহান। নিখিলের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্কই নেই তাঁর, একটি বিবৃতি জারি করে এমনইটাই দাবি করলেন অভিনেত্রী-সাংসদ।

তুরস্কে বিয়ে সম্পর্কে নুসরত বলেন, ”তুরস্কের বিবাহ আইন অনুযায়ী এটা অবৈধ। হিন্দু-মুসলিম বিবাহের ক্ষেত্রে বিশেষ বিবাহ আইন অনুসারে বিয়ে রেজিস্ট্রেশনও হয়নি।ফলে এটা আইনত সিদ্ধ নয়। নুসরত জাহান বলেন, নিখিলের সঙ্গে আমি লিভ-ইন সম্পর্কে ছিলাম। এটা বিয়েই নয়। সুতরাং বিচ্ছেদের প্রশ্নই ওঠে না।” এমনকী অভিনেত্রীর সমস্ত গয়না, জামাকাপড়ও নিখিলের কাছেই রয়েছে বলে দাবি নুসরতের।

নুসরতের দাবি, তাঁর সমস্ত ব্যাঙ্কের নথিপত্রও নিখিলের কাছে ছিল এবং নিখিল তা ব্যবহার করতেন। আলাদা হয়ে যাওয়ার পরেও নুসরতের টাকা ব্যবহার করেছেন নিখিল।

নিজের বোনের পড়াশোনার সমস্ত খরচও নুসরতই চালাচ্ছেন বলে দাবি করলেন। প্রসঙ্গত, বেশকিছুদিন ধরেই নুসরতের সন্তানের বাবা কে তাই প্রশ্ন উঠেছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। সেই সঙ্গে নিখিলের সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ ও যশের সঙ্গে সম্পর্কের কথাও উঠে আসে। এবার তা নিয়েই মুখ খুললেন নুসরত জাহান।

প্রসঙ্গত, তুরস্কের বোদরুমে জাঁকজমক করে বিয়ে করেছিলেন নুসরত জাহান ও নিখিল জৈন। কলকাতার আইটিসি হোটেলে বসেছিল তাঁদের রিসেপশন পার্টি। এমনকী সাংসদ হওয়ার পর শপথ নেওয়ার সময়ও নিজের নাম নুসরত জাহান রুহি জৈন বলেছিলেন অভিনেত্রী। সুরুচি সংঘের দুর্গাপুজোর মণ্ডপে একসঙ্গে আরতিও করেন তাঁরা। ইস্কনে খোদ মুখ্যমন্ত্রী বলেন নুসরত জামাই নিয়ে এসেছে। এতকিছুর পর এই মন্তব্যে তোলপাড় টলিপাড়া।

নিখিল দেওয়ানি কোর্টে গিয়েছেন নুসরতের সঙ্গে তাঁর বৈবাহিক সম্পর্ক বাতিল করতে। তাঁরও বক্তব্য ছিল, স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্ট অনুযায়ী তাঁদের বিয়ে হয় নি, তাই এই বিয়ে অ্যানালমেন্টের মাধ্যমে ‘নাল অ্যান্ড ভয়েড’ হতে পারে। বুধবার নুসরতও সেই পথেই হাঁটলেন। স্পষ্ট করে জানালেন যে, তিনি নিখিল জৈনের সঙ্গে সহবাস করতেন, তাই বিবাহ-বিচ্ছেদের প্রসঙ্গই ওঠে না। তবে নিখিলের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ আনলেন সাংসদ-অভিনেত্রী। নিখিলের ঘনিষ্ঠ মহল জি ২৪ ঘণ্টাকে জানিয়েছিল যে, নিখিল জৈনের ফোর্ড গাড়ি এখনও ব্যবহার করছেন নুসরত। এমনকী নুসরত এখন যে ফ্ল্যাটে থাকেন, তাতে ৬০ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন নিখিল। নুসরতের বোনের বিদেশে পড়াশোনার যাবতীয় স্পনসর করছিলেন নিখিল, তবে নিখিলের তরফ থেকে এও জানানো হয়েছে যে, নুসরত তাঁকে ছেড়ে চলে যাওয়ার পর সেই দায়িত্ব থেকে তিনি অব্যাহতি নেন।

বুধবার এক বিবৃতি জারি করে নিখিলের পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুবান্ধবের যাবতীয় দাবি নস্যাৎ করলেন নুসরত। তাঁর দাবি, বরং ‘বড়লোক’ হিসাবে যাঁর কথা বলা হচ্ছে, তিনিই (নিখিলের নাম না করে) নুসরতের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে তাঁকে না জানিয়ে টাকা তুলেছেন। প্রয়োজনে সেই প্রমাণপত্রও প্রকাশ্যে আনেন বলে দাবি করেন নুসরত। তিনি আরও বলেন, তাঁর নিজের পরিবারের যাবতীয় ব্যয়ের দায়িত্ব তাঁর নিজের। এখন যিনি নিজেকে ‘সাধারণ’ বলে দাবি করছেন, তিনি আসলে নুসরতের জনপ্রিয়তাকেই কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন।  বিয়েই যেখানে হয় নি, সেখানে বিচ্ছেদের প্রশ্নই ওঠে না, বলে জানিয়েছেন সাংসদ-অভিনেত্রী।

সোর্সঃ জী২৪ঘন্টা

সরকারের ভূমি ও গৃহহীনদের জমিসহ ঘর প্রদান বর্তমানে বিশ্বে অনন্য দৃষ্টান্ত-প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক

তাপস কুমার বিশ্বাস, খুলনাঃ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক মোঃ মহিবুল হাসান বলেছেন, বর্তমান সরকার ভূমি ও গৃহহীনদের জমিসহ ঘর প্রদান বিশ্বে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। রাষ্ট্র ক্ষমতায় থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুঃস্থ ও অসহায়দের মুখে হাসি ফুঁটাতে গৃহীত মহাপরিকল্পনা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলায় অসহায়, গৃহহীন ও কর্মহীন মানুষ থাকবে না।

বুধবার বেলা ২টায় খুলনার ফুলতলা উপজেলার বুড়িয়ারডাঙ্গা ও গাড়াখোলা মুক্তেশ্বরী এলাকায় ভূমি ও গৃহহীনদের নির্মানাধীন ঘর পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোছাঃ শাহানাজ পারভীন, ইউএনও সাদিয়া আফরিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুলী বিশ্বাস, ইউপি চেয়ারম্যান শরীফ মোহাম্মদ ভুইয়া শিপলু, শেখ আবুল বাশার, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ আফরুজ্জামান, আইসিটি কর্মকর্তা পুষ্পেন্দু দাশ, প্রেসক্লাব ফুলতলা সভাপতি তাপস কুমার বিশ্বাস, উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি শামসুল আলম খোকন, সাংবাদিক শেখ মনিরুজ্জামান, সহকারী অধ্যাপক মোঃ নেছার উদ্দিন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

তিনি নির্মানাধীন ঘর পরিদর্শন ও কাজের গুনগতমানে সন্তোষ প্রকাশ করেন। পরে তিনি প্রথম পর্যায়ের প্রদত্ত ভূমি ও গৃহহীনদের জমিসহ ঘর পরিদর্শন ও ঘর প্রাপ্তদের সাথে মতবিনিময় করেন। এ সময় ভূমিহীন ঘর মালিকদের মধ্যে বিধবা শাহীনুর বেগম, দিনমজুর শাহাজাহান মোড়ল, বিধাব মর্জিনা বেগম, দিনমজুর রুমিচা বেগম, ভ্যানচালক মোঃ ইয়াকুব হোসেন, দিনমজুর শমসের সরদার, বিধবা সাহিদা বেগম, অসহায় হালিমা বেগম ও দিনমজুর মিনারা বেগম উপস্থিত ছিলেন।

তালায় প্রতিপক্ষের হামলায় নারীসহ আহত ৩

তালা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার তালায় জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় মধ্যবয়সী এক নারীসহ ৩ জন আহত হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে উপজেলার চাঁদকাটি গ্রামে উক্ত ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন চাঁদকাটি গ্রামের মোহাম্মদ আলী বিশ্বাসের স্ত্রী রহিমা বেগম(৪৫), মৃত পীর আলী বিশ্বাসের ছেলে মোহাম্মদ আলী বিশ্বাস (৫০) ও মোহাম্মদ আলী বিশ্বাসের ছেলে জাহিদ বিশ্বাস (২৫)। এরমধ্যে রহিমা বেগম গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

আহত জাহিদ বিশ্বাস জানান, সামাদ বিশ্বাসের স্ত্রী মরিয়ম বেগমের সাথে মঙ্গলবার বিকালে একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটি হয়। পরে রাত ১০ টার দিকে প্রতিপক্ষ মৃত আরশাদ আলী বিশ্বাসের ছেলে সামাদ বিশ্বাসের নেতৃত্বে মকের আলী বিশ্বাসের ছেলে সেলিম বিশ্বাস, শহিদুল বিশ্বাসের ছেলে মাহমুদুল বিশ্বাস, সেলিম বিশ্বাসের ছেলে রনি বিশ্বাস, সামাদ বিশ্বাসের স্ত্রী মরিয়ম বেগমসহ কয়েকজন  তাদের বাড়ির ভিতর প্রবেশ করে রহিমা বেগমের ওপর অর্তিকিত হামলা চালায়। এ সময় জাহিদ বিশ্বাস ও তার পিতা মোহাম্মদ আলী বিশ্বাস ঠেকাতে আসলে তাদের উপরও হামলা চালায়। অর্তিকিত হামলা রহিমা বেগমের বাম হাত ভেঙ্গে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদেরকে তালা হাসপাতালে ভর্তি করা হলে রহিমা বেগমের অবস্থার অবনতি দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে স্থানন্তর করেন।

তালা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ আব্দুল্লাহ আল-আমিন সোহান জানান, আহত রহিমা বেগমের বাম হাত ভেঙ্গে যাওয়ায় তাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

তবে প্রতিপক্ষ সামাদ বিশ্বাস জানান, ঝগড়া ইতোপূর্বে হয়েছে এবং মঙ্গলবার রাতে একটু হয়েছে। তবে বাড়ির ভিতরে না সামনে রাস্তার উপরে হয়েছে।

তালা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী রাসেল জানান, এ বিষয়ে এখনও কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

করোনার টিকা গ্রহণে শয্যাশায়ী বাগেরহাটের বিষ্ণু প্রসাদ চক্রবর্তী

মুকুল রায়: কিছুদিন আগেও যার পদচারণায় মুখরিত হয়ে থাকত বাগেরহাটের অলি-গলি। খবর সংগ্রহে ছুটে বেড়াতেন দিন-রাত। সেই বিষ্ণুপ্রসাদ চক্রবর্তী আজ অসহনীয় যন্ত্রণা ও মানবেতর জীবন যাপন করে সময় পার করছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে স্বাভাবিক অবস্থায় তিনি করোনার টিকা গ্রহণ করার এক ঘন্টার মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েন। দেশের নামি-দামী চিকিৎসালয়ে চিকিৎসা নিয়েও গত চার মাসে সুস্থ হতে পারেন নি তিনি। বর্তমানে বাগেরহাটের শালপাড়ার নিজ বাড়িতে শয্যাশায়ী বিষ্ণুপ্রসাদ চক্রবর্তী।
বাগেরহাটের ৭১ টিভির জেলা প্রতিনিধি বিষ্ণুপ্রসাদ চক্রবর্তী গত ৭ ফেব্রুয়ারি ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের উৎপাদিত করোনা টিকা (অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেন) গ্রহণ করে মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। দেশের বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা করেও আশানারূপ ফল না পেয়ে হতাশায় ভুগছেন ভুক্তভোগী পরিবার। এ পর্যন্ত নিজ খরচে তিনি বাগেরহাট, খুলনা, ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গার নামী-দামী চিকিৎসালয়ে চিকিৎসালয়ে করিয়ে সর্বশান্ত হতে বসেছেন। এ পর্যন্ত ১০০এর অধিক প্যাথলজি রিপোট ও একাধিক স্বনামধন্য ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়েছেন। ভুক্তভোগীর পরিবার সরকারি সহযোগিতা ও বিদেশে পাঠানোর দাবি জানিয়েছেন। সর্বশেষ বিষ্ণুপ্রসাদকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে চিকিৎসা করা হচ্ছিল। বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় সর্বোচ্চ আন্তরিকতায় মেডিকেল বোর্ড গঠন করে তাকে পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু সেখানেও কোনোরূপ রোগ নির্ণয় কিংবা অবস্থার উন্নতি আশানুরূপ না হওয়ায় নিরাশা নিয়ে বিষ্ণুপ্রসাদ বাড়িতে ফিরে আসেন। বাগেরহাটের সিভিল সার্জন এ ব্যাপারে জানান, অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেন টিকার তেমন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আমাদের দেশে পরিলক্ষিত হয় নি। তার (বিষ্ণুপ্রাসাদ) ব্যাপারে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তাকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠিয়ে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তবে তিনি চিকিৎসা শেষ না করে বাগেরহাটে ফিরে আসেন। তাকে আবারও বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে যাওয়ার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। আশাকরি সেখান থেকে ভালো কোনো ফলাফল আসবে। এ বিষয়ে বাগেরহাট জেলা প্রশাসক মোঃ আজিজুর রহমান বলেন, অ্যাস্ট্রাজেন টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আমাদের দেশে একটি বিরল ঘটনা। এটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়ে হবে এবং তার বিদেশে চিকিৎসার ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় যে নির্দেশনা দিবেন সে বিষয়ে বাগেরহাট জেলা প্রশাসন সব রকম সহযোগিতা করবেন।
বিষ্ণুপ্রসাদ বলেন, জ্বর আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে। তবে খুব বেশি শারীরিক দুর্বলতা অনুভব করছি। তিনি আবারও নিজ পেশায় ফেরার আশাবাদী। তিনি সকলের দোয়া, আশীর্বাদ কামনা করেছেন।