ফুলতলায় করোনা মোকাবেলায় স্বাস্থ্য শিক্ষা সেবা প্যাকেজ প্রচারণা কার্যক্রমের উদ্বোধন

ফুলতলা (খুলনা) প্রতিনিধিঃ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যুরোর লাইফইস্টাল হেলথ এন্ড প্রমোশন কার্যক্রমের আওতায় দেশব্যাপী করোনা মহামারীর সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে স্বাস্থ্য শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টায় ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চত্বরে কার্যক্রমটির উদ্বোধন করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ জেসমিন আরা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডাঃ উত্তম কুমার দেওয়ান, প্রেসক্লাব ফুলতলা সভাপতি তাপস কুমার বিশ^াস, সিনিয়র সাংবাদিক শেখ মনিরুজ্জামান, সহকারী অধ্যাপক মোঃ নেছার উদ্দিন, প্রধান হিসাব রক্ষক মোঃ কুরবার আলী, মোঃ আজিজুর রহমান প্রমুখ। পরে ফুলতলা উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে লোকগান, নাটিকা, বিজ্ঞাপন ও ক্যারাভ্যান প্রদর্শন ও লিফলেট বিতরণ করা হয়।

কুষ্টিয়ায় শিশুসহ তিনজনকে গুলি করে হত্যা

ইউনিক ডেক্সঃ কুষ্টিয়ায় গুলি করে শিশুসহতিনজনকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সৌমেন কুমার রায় গতকাল (রোববার) ভোরেই বাসে করে খুলনার ফুলতলা থেকে কুষ্টিয়ায় আসেন। এ সময় তিনি তাঁর সরকারি পিস্তল ও দুটি ম্যাগাজিনে ১২টি গুলি সঙ্গে নিয়ে আসেন। তারপরই কথা–কাটাকাটির এক পর্যায়ে একে একে তিনজনকে গুলি করেন।

কুষ্টিয়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) ফরহাদ হোসেন খান জানান, পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এএসআই সৌমেন এমন তথ্য দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, পিস্তল–গুলি সরকারি কাজ ব্যতীত নিজ দায়িত্ব এলাকার বাইরে নিয়ে যাওয়ার কোনো নিয়ম নেই।

রোববার বেলা ১১টার দিকে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের পাশে শহরের পিটিআই সড়কের মুখে তিনতলা ভবনের সামনে আসমা খাতুন (২৫) ও তাঁর পাঁচ বছর বয়সী ছেলে রবিন এবং শাকিল (২৮) নামের এক যুবককে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ আসমার স্বামী এএসআই সৌমেন কুমার রায়কে পিস্তলসহ আটক করেছে। সৌমেন কুমার রায় খুলনার ফুলতলা থানায় কর্মরত। তিনি মাগুরা সদর উপজেলার আসবা গ্রামের সুনীল রায়ের পুত্র।

জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সৌমেন কুমার রায় বলেছেন, তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী আসমার সঙ্গে শাকিলের সম্পর্ক ছিল। এ জন্য তিনি তাঁর স্ত্রীর ওপর বেশ কিছু দিন ধরেই ক্ষিপ্ত ছিলেন। রোববার ভোরে তিনি খুলনার ফুলতলা থেকে বাসযোগে কুষ্টিয়ায় আসেন। এ সময় তিনি তাঁর পিস্তল ও দুটি ম্যাগাজিনে ১২টি গুলি সঙ্গে নিয়ে রওনা দেন।

তিনি (সৌমেন) আরও বলেছেন, রোববার সকালে তিনি কুষ্টিয়া শহরের বাবর আলী গেটে আসমার মায়ের বাসায় পৌঁছান। এর আগে রাতেই আসমাকে তাঁর গ্রামের বাড়ি থেকে কুষ্টিয়া শহরে আসার কথা বলেছিলেন। সকালে আসমা ও তাঁর ছেলেকে নিয়ে খুলনায় যাওয়ার কথা বললে আসমা যেতে অস্বীকার করেন। আসমা তাঁকে জানান, তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক রাখবেন না, এমনকি শাকিলের সঙ্গেও না। এ সময় তিনি শাকিলকে ফোনে শহরের কাস্টমস মোড়ে আসতে বলেন। এদিকে আসমা ছেলেকে নিয়ে রিকশাযোগে কাস্টমস মোড়ে পৌঁছায়। সেখানে কথা–কাটাকাটির একপর্যায়ে প্রথমে শাকিলকে গুলি এরপর আসমাকে গুলি করেন। এ সময় শিশু রবিন দৌড়ে পালাতে গেলে তাকেও গুলি করেন। একটি ম্যাগাজিনের গুলি শেষ হয়ে গেলে আরেকটি ম্যাগাজিন ব্যবহার করেন।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিনটি গুলি উদ্ধার করেছে। হত্যায় ব্যবহৃত পিস্তল ও দুটি ম্যাগাজিনও জব্দ করা হয়েছে। রাতে তাঁকে কুষ্টিয়া ডিবি কার্যালয়ে রাখা হয়েছে। সোমবার তাঁকে আদালতে নেওয়া হতে পারে বলে জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে গুলিতে নিহত শিশু সন্তানসহ ঐ নারী ও শাকিলের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। রোববার বিকেলে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে লাশগুলোর ময়নাতদন্ত করার পর চিকিৎসক জানান, তিনজনকেই দুটি করে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।। বিকালে লাশ তিনটির ময়নাতদন্ত করেন কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক আরএমও ডাঃ তাপস কুমার সরকার। তিনি আরও বলেন, তিনজনকে দুটি করে ছয়টি গুলি করা হয়েছে। প্রত্যেকের মাথায় কাছ থেকে গুলি করা হয়েছে।

আসমার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আসমার আগে দুটি বিয়ে হয়েছিল। রবিন তাঁর দ্বিতীয় স্বামীর সন্তান। পাঁচ বছর আগে এএসআই সৌমেনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। সৌমেন কয়েক মাস ধরে আসমাকে নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ পরিবারের।

কুষ্টিয়ায় প্রকাশ্যে গুলি করে তিনজনকে হত্যার ঘটনায় আটক এএসআই সৌমেন কুমার রায়কে রোববার বিকেলে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এদিকে এ ঘটনায় খুলনা রেঞ্জ থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। খুলনা রেঞ্জের দুজন পুলিশ কর্মকর্তাসহ কুষ্টিয়ায় এক পুলিশ কর্মকর্তা তদন্ত কমিটির সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। এদিকে খুলনা জেলার পুলিশ সুপার মাহবুব রহমান বলেন, ঘটনা জানার পর সৌমেন কুমার রায়কে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এরপর তদন্ত শেষে তাঁর বিরুদ্ধে সর্বশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ সূত্র জানায়, সৌমেন রায় ২০১৫ সালে কনস্টেবল থেকে এএসআই পদে উন্নীত হন। পরে ২০১৬ সালে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানায় যোগ দেন। সেখান থেকে জেলার অন্যান্য থানায়ও কর্মরত ছিলেন। সর্বশেষ মিরপুর থানার হালসা ক্যাম্পে ছিলেন। এরপর বাগেরহাট হয়ে খুলনা ফুলতলা থানায় যোগ দেন। এ ঘটনায় শাকিল খানের পিতা মেজবার রহমান বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় সৌমেন কুমার রায়কে একমাত্র আসামি করে মামলার এজাহার দাখিল করেন।