ফুলতলায় লকডাউনে প্রশাসনের কঠোর নজরদারী

ফুলতলা (খুলনা) প্রতিনিধিঃ খুলনার ফুলতলা উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুশিশের কঠোর নজরদারী ও নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে লকডাউনের প্রথম দিন আজ (মঙ্গলবার অতিবাহিত হয়েছে। এ সময় স্বাস্থ্যবিধি ও লকডাউনের নির্দেশনা অমান্য করায় ইউএনও সাদিয়া আফরিন ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ১ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ২ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য ও আদায় করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে করোনা সংক্রমন রোধে জেলা প্রশাসন ঘোষিত সপ্তাহব্যাপী কঠোর লকডাউনের প্রথম দিন মঙ্গলবার খুলনা জেলা পুলিশ সুপার মাহাবুব হাসান, ফুলতলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিয়া আফরিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুলী বিশ্বাস, ওসি মোঃ মাহাতাব উদ্দিনসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ খুলনা যশোর মহাসড়কে ব্যারিকেট বসিয়ে তল্লাশিসহ নতুনহাট, বেজেরডাঙ্গা, শিরোমনি বাজারে পুলিশের কঠোর নিরাপত্তা ও নজরদারী অব্যাহত ছিল। বিকালে পুলিশের কঠোর অভিযানে বেশ কয়েকটি মটরসাইকেল জব্দ করা হয়।

ফুলতলায় প্রতিপক্ষের হামলায় গৃহবধু গুরুতর জখম

ফুলতলা (খুলনা) প্রতিনিধিঃ জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় গৃহবধুসহ ২ জন আহত মামলায় ৪দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ বাকী আসামীদের আটক করতে পারেনি। গুরুতর জখম নিলুফার বেগম এখনও ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ফুলতলার ঢাকুরিয়া গ্রামের মোঃ রফিকুল ইসলামের সাথে পাশ^র্বতীর্ জুলহাজ মোল্যার সাথে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। তারই জের ধরে গত শনিবার সন্ধ্যায় প্রতিপক্ষ জুলহাজগং রফিকুল ইসলাম ও তার স্ত্রী নিলুফার বেগম (৪০) এর উপর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে রফিকুল ও তার স্ত্রী নিলুফার বেগম গুরুতর জখম হলে তাদেরকে ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমেপ্লক্সে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় মোঃ রফিকুল ইসলাম বাদি হয়ে ৬ জনকে আসামী করে ফুলতলা থানায় মামলা (নং—১০) দায়ের করেন। আসামীরা হলো ঢাকুরিয়া গ্রামের মোঃ জহুরুল ইসলাম মোল্যার পুত্র মোঃ জুলহাজ মোল্যা (৪০), মৃতঃ আব্দুল খালেক মোল্যার পুত্র মোঃ রবিউল ইসলাম মোল্যা (৪০) ও আঃ রশিদ মোল্যা (৫৫), মৃতঃ রোকন মোল্যার পুত্র জহুরুল ইসলাম মোল্যা (৬৫), আঃ রশিদ মোল্যার পুত্র মোঃ হাসিব মোল্যা (২৫) ও ইছাক গোলবারের পুত্র ইনু গোলবার (২৮)। মামলার এজহার নামীয় জুলহাজ মোল্যা ও রবিউল ইসলামকে আটক করা হয়েছে। বাকি আসামীদের আটকের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোস্তফা হাবিবুল্লাহ জানিয়েছেন।

বটিয়াঘাটায় কঠোর বিধি নিষেধ বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থানে প্রশাসন

বটিয়াঘাটা প্রতিনিধি : বটিয়াঘাটা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সপ্তাহ ব্যাপী স্বাস্থ্য বিধি লক ডাউন কার্যকর করতে মঙ্গলবার প্রথম দিনেই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ব্যবস্হা গ্রহণের মধ্যে বটিয়াঘাটা বাজারে সাপ্তাহিক হাটবারের দিনে তা বন্ধ সহ জরুরী সেবাগুলো ছাড়া নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সকাল ৭ টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত খোলা রাখার নির্দেশ প্রদান। তবে ওই সময়ে ক্রেতা- বিক্রেতা উভয়কে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে মাস্ক ব্যবহার কেনা-কাঁটা করতে বলা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নজরুল ইসলাম নিজেই উপস্হিত থেকে সার্বিক হাট বন্ধের পাশাপাশি স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে উপজেলা ব্যাপী মাইকিংয়ের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালান। এ সময় তাঁর পক্ষ থেকে মাস্কও বিতরণ করা হয়। জনসমাগম এলাকায় মানুষ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য ক্রয় করতে আসা মানুষদের মাঝে এ মাস্ক বিতরণ করা হয়।এ ছাড়াও বিনা প্রয়োজনে মাস্কবিহীন অজথা ঘোরাঘুরি করা ও জরুরী সেবার বাইরে দোকান খোলায় ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ৭ ব্যক্তিকে সংক্রামক রোগ প্র.নি ও নি.আইন ২০১৮ এর ২৫(২) ধারায় ৩০০০ টাকা জরিমানা আদায় করেন । এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা মনোরঞ্জন মন্ডল, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি প্রতাপ ঘোষ, সাংবাদিক পরিতোষ কুমার রায়, সাংবাদিক বিপ্রদাস রায়, সাংবাদিক বুদ্ধদেব মন্ডল, সাংবাদিক মোঃ ইমরান হোসেন সহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যবৃন্দ ।

জামাত-শিবিরের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালে চলছে চিকিৎসার নামে ডাকাতি

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রামে জামাত-শিবিরের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালে চলছে চিকিৎসার নামে ডাকাতি, আইসিইউতে এক রাত চিকিৎসাধীন থাকা রোগীকে ৯৬ হাজার টাকার বিল ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। তবে হাসপাতালের কর্মকর্তারা বলছেন, করোনা সন্দেহে রোগীর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রয়োগের কারণে টাকার পরিমাণ বেড়েছে।

জানা গেছে, জামাত-শিবিরের অধ্যায়নের প্রতিষ্ঠিত বহুল আলোচিত  চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালে হাবিবুর রহমান নামের ওই রোগী ২০ জুন রাত ১১টায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালে ভর্তি হন। বর্তমানে ওই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতাল থেকে সোমবার (২১ জুন) সকালে ৯৫ হাজার ৯৮২ টাকার একটি বিল দেওয়া হয়।

এতে দেখা যায়, একরাতের বেড চার্জ বাবদ রাখা হয়েছে ৯ হাজার টাকা, কনসালটেশন ফি ৭ হাজার ৩৭০ টাকা, ওষুধ বাবদ ৩১ হাজার ৭২২ টাকা, অক্সিজেন চার্জ ৫ হাজার ৫০০ টাকা, প্যাথলজি বাবদ ১৩ হাজার ৬৩০ টাকা, রেডিওলজি বিল ৭ হাজার ৬২ টাকা এবং সার্ভিস চার্জ রাখা হয়েছে ১৫  হাজার ৯৯৭ টাকা। এছাড়া সিবিসি, অভ্যন্তরীণ কনসালটেশন চার্জ, নেবুলাইজেশন চার্জ, অ্যাম্বুলেন্স চার্জ বাবদ বিল করা হয়েছে।

রোগীর ছেলে অ্যাডভোকেট গোলাম মাওলা মুরাদ বলেন, রোববার (২০ জুন) রাতে হাসপাতালে বাবাকে ভর্তি করিয়েছি। চিকিৎসকরা কোভিড সন্দেহ করছেন। কিন্তু মাত্র ১২ ঘণ্টায় বিল এসেছে ৯৫ হাজার ৯৮২ টাকা। এত কম সময়ে এতবড় বিল অবিশ্বাস্য। এমন অবস্থা হলে চিকিৎসা করাতে সাধারণ মানুষের হিমশিম খেতে হবে।

অভিযোগের বিষয়ে মেট্রোপলিটন হাসপাতালের জিএম মোহাম্মদ সেলিম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘হাসপাতালে বিল কোনোভাবেই বেশি রাখার সুযোগ নেই। রোগীর শারীরিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। ওই রোগীর শারীরিক অবস্থা তেমন ভালো ছিল না। তাই হাই ফ্লো অক্সিজেন দিতে হয়েছে। এছাড়া করোনার ওষুধগুলো খুবই দামি। এজন্য হয়তো বিল বেশি এসেছে’

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে উপজেলা প্রশাসনের অধীন ৪টি ঘাটের ৩টি’র ইজারা নেই

সরকার হারাচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সন্দ্বীপ উপজেলা প্রশাসনের অধীন ৪টি ঘাটের ৩টিরই ইজারা নেই দীর্ঘদিন ধরে। ফলে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। ১টি মাত্র ঘাট যেটি কালাপানিয়া ফেরী ঘাট হিসেবে পরিচিত। সেটি চলতি বছরেও ৬ লক্ষ টাকার উপরে বাৎসরিক ইজারার বিনিময় স্থানীয় মনিরুজ্জামান আরমান চালাচ্ছেন।

সন্দ্বীপ উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে-সন্দ্বীপ উপজেলা প্রশাসনের অধীন দক্ষিণ সন্দ্বীপের সারিকাইত ইউনিয়নের দূর্গাচরণ মাছ ঘাট, পুরাতন ধুপির খাল মাছ ঘাট, ইজারা নিয়ে স্থানীয় দ্বন্ধের কারণে হাইকোট পর্যন্ত মামলা গড়ালে দীর্ঘদিন যাবৎ বাৎসরিক ইজারা পক্রিয়া বন্ধ রয়েছে। ফলে সে দুটি মাছ ঘাট থেকে সরকার তার প্রাপ্ত ইজারা মূল্য না পেয়ে যেনোতেনো ভাবে খাস কালেকশন পাচ্ছে। এতে করে সরকার প্রতিবছর প্রচুর রাজস্ব হারাচ্ছে।

অন্যদিকে উত্তর সন্দ্বীপের বর্তমান চলমান দুটি ফেরী ঘাট রয়েছে যার একটি কালাপানিয়া ফেরী ঘাট সেটি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছর নির্দিষ্ট অংকে ইজারা প্রদান করা হয়ে থাকে। এ বছরও স্থানীয় মনিরুজ্জামান আরমান ৬ লক্ষেরও বেশী মূল্যে বাৎসরিক ইজারা নিয়ে ঘাট পরিচালনা করছেন। তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন-দীর্ঘাপাড় ইউনিয়নে ২ বছর আগে থেকে নতুন সৃজিত সন্দ্বীপ টু উড়িরচর ফেরী ঘাটটি সম্পূর্ণ অবৈধভাবে এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসন থেকে কোন প্রকার অনুমোদন ছাড়া খাস কালেকশনের বিনিময়ে পরিচালনা করা হচ্ছে। ফলে সরকার এখানেও তার নির্দিষ্ট অংকের প্রাপ্য রাজস্ব হারাচ্ছে।

এ ছাড়া এ ঘাটের কারনে পাশর্^বর্তী আমানউল্যা ও তেলির হাটের রাস্তার মাথায় ফেরী ঘাট দুটিও, যেগুলো ইতিপূর্বে বাৎসরিক ইজারার বিনিময়ে পরিচালিত হতো সেগুলোও বন্ধ হয়ে গেছে। আরমান আরো বলেন-দীর্ঘাপাড়ের ফেরী ঘাটটি সরকারি অনুমোদন ছাড়া সম্পূর্ণ অবৈধভাবে একটি স্বার্থান্বেষী মহলের যোগসাজসে পরিচালিত হওয়ায় তা বন্ধে গত ২৪/০৫/২০২১ ইং তারিখ সুপ্রীম কোর্টের হাইকোট ডিভিশনে একটি রীট পিটিশন দাখিল করেছেন। এর আগে ১৩/০৪/২০২১ তারিখে সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে দীর্ঘাপাড় হতে উড়িরচর নৌ-রুটে অবৈধভাবে যাত্রী পারাপার বন্ধে আরো একটি দরখাস্ত প্রদান করেছেন।

এ প্রসঙ্গে দীর্ঘাপাড় ফেরী ঘাট পরিচালনাকারী আনোয়ার হোসেন টিটু’র বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন-ঘাট সৃজনের পর, পর পর ৩ বছর খাস কালেকশান প্রদানের বিনিময়ে ঘাট পরিচালনা করা যায় বলে তিনি জেনেছেন। তবে তিনি সরকারি ইজারাদার নন বলে জানান। তিনি ২০১৯ সালে ১ বছরের খাস কালেকশন এক সাথে প্রদানের বিনিময়ে অদ্যাবধি সেই নিয়মেই ঘাট পরিচালনা করে আসছেন। তিনি আরো বলেন-আমার ঘাটটি সন্দ্বীপের উত্তর মাথায় সর্বশেষ ইউনিয়ন দীর্ঘাপাড়ে অবস্থিত। এর দক্ষিণে আরো ৩টি ইউনিয়নে ঘাট রয়েছে। যেগুলো থেকে আমার ঘাটের দূরত্ব প্রায় ৬/৭ মাইল। দীর্ঘপাড়, সন্তোষপুর, আমানউল্যা এই তিনটি ইউনিয়নের অধিকাংশ লোকজনের উড়িরচরে যাতায়াতের সুবিধার্থে উপজেলা পরিষদের সভায় একটি নতুন ঘাট সৃজনের প্রয়োজনীয়তার কথা উত্থাপণ করলে উপজেলা পরিষদের সভায় রেজুলেশনের মাধ্যমে আমাকে ঘাট সৃজনের দায়িত্ব দেওয়া হয়। যেটি এমপি মহোদয়, উপজেলা চেয়ারম্যান উপস্থিত থেকে উদ্বোধন করেন বলে তিনি দাবী করেন।

এ ব্যাপারে সন্দ্বীপ উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী অফিসার জে পি দেওয়ানের সাথে কথা হলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন-নতুন ঘাট সৃজন হলে সাধারনত ১ বৎসরের জন্য খাস কালেকশনের বিনিময়ে কাউকে পরিচালনার সুযোগ দেয়া হয়। কিন্তু তারপরের বছরই ইজারা বিনিময়ে ঘাট পরিচালনা করতে হবে। এটিই সরকারি নীতিমালা। এর ব্যত্যয় ঘটলে সরকার অবশ্যই নির্দিষ্ট অংকের ইজারার টাকা পাওনা থেকে সরকার বঞ্চিত হবে। এছাড়া খাস কালেশনের বিনিময়ে কেউ ঘাট পরিচালনা করলে সে তার ইচ্ছানুযায়ী খাস কালেকশন প্রদান করার সুযোগ পেয়ে যায়। ফলে এ ক্ষেত্রে ফাঁকিঝুকি দেওয়ারও সুযোগ তৈরি হয়। তিনি উপজেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণাধীন ঘাটগুলোর সরকারি প্রক্রিয়ায় ইজারার বিষয়গুলো দেখবেন বলে জানান।