বটিয়াঘাটার বীরমুক্তিযোদ্ধা নির্মল অধিকারী আর নেই

বটিয়াঘাটা প্রতিনিধিঃ ‘৭১ এর রনাঙ্গনের এক সময়ের লড়াকু সৈনিক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকুরীজীবি বীরমুক্তিযোদ্ধা নির্মল চন্দ্র অধিকারী (৭০) আর নেই! তিঁনি বৃহষ্পতিবার বেলা একটায় শ্বাসকষ্ট জনিত রোগ নিয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে বেশ কয়েকদিন যাবত চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় না ফেরার দেশে পাঁড়ি জমান। মৃত্যুকালে তিঁনি স্ত্রী, এক প্ত্রু কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তা রাজীব অধিকারী, দুই কন্যা সন্তান ও এক পুত্রবধূ সহকারী শিক্ষক চৈতালি রায় সহ অসংখ্য আত্মীয়- স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। এদিকে তাঁর মরদেহ চক্রাখালী গ্রামের বাড়িতে আনলে বিকাল ৪ টায় পুলিশের একটি চৌকস দল তাঁকে শেষবারের মতো গার্ড অব অনার প্রদান করেন। এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল হাই সিদ্দিকী, থানার এসআই অনিশ, ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই গাইন, ইউপি চেয়ারম্যান মনোরঞ্জন মন্ডল, বীরমুক্তিযোদ্ধা যথাক্রমে নিরঞ্জন রায়, বিকাশ কুসুম মন্ডল, প্রশান্ত গোলদার, বিধান দত্ত, দুলাল রায়, কুমুদ গোলদার, এসএম দেলোয়ার হোসেন, মনোরঞ্জন কবিরাজ, ইউপি সদস্য কার্তিক টিকাদার ও তপতী বিশ্বাস, বীরমুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের অমরেশ বিশ্বাস, বিশ্বজিৎ সরকার, সঞ্জয় মন্ডল, অনিমেষ মন্ডল, মিঠুন রায় প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন। পরে তাঁর মরদেহ চক্রাখালী মহাশ্মশান ধামে দাহ করা হয়। এদিকে তাঁর আত্মার শান্তি কামনা ও শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বিবৃতি প্রদান করছেন উপজেলা প্রেসক্লাবের কর্মকর্তাবৃন্দ।

কেশবপুরে চেয়ারম্যান প্রার্থী সুজনের গনসংযোগ

রাজীব চৌধুরী, কেশবপুরঃ যশোর জেলার কেশবপুরে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কেশবপুর উপজেলার ০১নং ত্রিমোহিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী জাহাঙ্গীর আলম খান সুজন। তিনি ০১নং ত্রিমোহিনী ইউনিয়নের গরিব ,অসহায় মানুষের পাশে থাকা পরিচিত একটি মুখ।জাহাঙ্গীর আলম খান সুজন ০১ নং ত্রিমোহিনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী হিসেবে ০১ নং ত্রিমোহিনী ইউনিয়নের বিভিন্ন স্হানে উঠান বৈঠক,প্রচার প্রচারণা এবং গণসংযোগ করেছেন । গণসংযোগ করে তিনি সকলের কাছে দোয়া ও সমর্থন চেয়েছেন এবং বলেছেন ০১ নং ত্রিমোহিনী ইউনিয়নের অন্তর্গত মানুষের সুখে-দুঃখে পূর্বেও পাশে ছিলেন এবং আগামীতেও পাশে থাকবেন এবং দল যদি তাকে মনোনয়ন দেয় তাহলে তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হবেন এমন আশাবাদী ।তিনি ০১ নং ত্রিমোহিনী ইউনিয়নের অন্তর্গত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও রাস্তাঘাটের উন্নয়ন সহ ইউনিয়ন বাসির জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে কাজ করবেন।জাহাঙ্গীর আলম খান সুজন ০১ নং ত্রিমোহিনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্থানে সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহন ও গণসংযোগ করে নিজেকে ০১ নং ত্রিমোহিনী ইউনিয়নের অন্যতম জনপ্রিয় একজন প্রার্থী হিসেবে নিজেকে দাঁড় করেছেন।

খুলনায় আলোচিত কোকেন মামলায় ১ জনকে মৃত্যুদন্ড, ৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা

ইউনিক প্রতিবেদক :
খুলনায় আলোচিত কোকেন মামলার বিচারে একজনকে মৃত্যুদন্ড ও অপর পাঁচজনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করেছে জেলা ও দায়রা জজ আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মশিউর রহমান চৌধুরী রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণা কালে ০৬ জন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন, বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দায়রা জজ আদালতের পিপি এনামুল হক।

রায়ে আসামী বিকাশ চন্দ্র বিশ্বাসকে মৃত্যুদন্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা ধার্য্য করা হয়েছে। অপর পাঁচ আসামী সোহেল রানাকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা, আরিফুর রহমান ছগিরকে ১৫ বছর সশ্রম কারাদন্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে ২ বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড, বিকাশ চন্দ্র মন্ডল ও এস এম এরশাদ হোসেন ও ফজলুর রহমান ফকিরকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও ২৫ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে।

রাষ্ট্র পক্ষের কৌসুলি পিপি এনামুল হক বলেন, ‘বিজ্ঞ আদালতের রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। আমরা আসামীদের অপরাধ প্রমাণ করতে পেরেছি। মামলায় ২৭ জন স্বাক্ষীর মধ্যে ২৪ জন স্বাক্ষী সাক্ষ্য প্রদান করেছেন।’

অপরদিকে আসামী পক্ষের উকিল এ্যাড. আসাদুজ্জামান লিটন বলেন, ‘আমরা রায়ে সন্তুষ্ট নই। আমরা এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপীল করবো।’

আদালত সূত্র জানান, ২০১৭ সালের ১১ আগস্ট রাত সাড়ে ১০ টার দিকে র‌্যাব-৬ খুলনার একটি দল নগরীর হাদিস পার্কের সামনে অবস্থান কালে দলটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে ময়লাপোতা মোড়ের পাশে একটি চক্র মাদক বেচাকেনা করছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে দলটি নগরীর ময়লাপোতা মোড়ের আল আরাফা ইসলামী ব্যাংক এটিএম বুথের সামনে হতে সোহেল রানা নামের এক ব্যক্তিকে ২শ’ ৩০ গ্রাম কোকেন সহ আটক করেন। যার অনুমানিক মূল্য ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

গ্রেফতারকৃত সোহেলের থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গগনবাবু রোডের একটি বাড়ি থেকে কোকেন বিক্রির মূল হোতা আরিফুর রহমান ছগিরকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে ছগিরের দেওয়া তথ্য মোতাবেক দাকোপ উপজেলায় রাত তিনটার দিকে অভিযান চালিয়ে বিকাশ চন্দ্র মন্ডল ও ফজলুর রহমান ফকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী টুটপাড়ায় থেকে এস এম এরশাদ আলীকে গ্রেপ্তার এবং তাদের দেওয়া তথ্যমতে রূপসা উপজেলার রাজাপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিকাশ চন্দ্র বিশ্বাসকে কোকেনের তিনটি প্যাকেটসহ গ্রেপ্তার করা হয়। যার মধ্যে ২ কেজি ২০ গ্রাম কোকেন পাওয়া যায়। এ মাদক চক্র থেকে মোট সোয়া দুই কেজি কোকেন জব্দ করা হয় যার আনুমানিক বাজার মূল্য ২২ কেটি ৫০ লাখ টাকা।

পরবর্তীতে ১২ আগস্ট ২০১৭ সালে র‌্যাবের ওয়ারেন্ট অফিসার মোঃ রবিউল ইসলাম বাদী হয়ে ছয় জনের নাম উল্লেখ করে রূপসা থানায় মাদক আইনে মামলা দায়ের করেন যার নং ২২৪/১৭। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার বজলুর রশীদ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭ সালে ০৬ জনকে আসামী করে চার্জসীট দাখিল করেন।

কেশবপুরে চেয়ারম্যান প্রার্থী মফিজুর রহমানের গনসংযোগ 

রাজীব চৌধুরী,কেশবপুরঃ যশোর জেলার কেশবপুরে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে  কেশবপুর সদর (০৬ নং)  ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মফিজুর রহমান মফিজ। তিনি কেশবপুর   সদর ০৬ নং ইউনিয়নের গরিব ,অসহায় মানুষের পাশে থাকা পরিচিত একটি মুখ।মফিজুর রহমান কেশবপুর সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী হিসেবে ০৬ নং  ইউনিয়নের বিভিন্ন  স্হানে উঠান বৈঠক,প্রচার প্রচারণা এবং গণসংযোগ  অব্যাহত রেখেছেন । গণসংযোগ করে তিনি সকলের কাছে দোয়া ও সমর্থন চেয়েছেন এবং বলেছেন  কেশবপুর সদর ইউনিয়নের অন্তর্গত মানুষের  সুখে-দুঃখে পূর্বেও পাশে ছিলেন এবং আগামীতেও পাশে  থাকবেন এবং দল যদি তাকে মনোনয়ন দেয় তাহলে তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হবেন এমন আশাবাদী ।তিনি কেশবপুর সদর ইউনিয়নের অন্তর্গত বিভিন্ন  শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও রাস্তাঘাটের উন্নয়ন সহ ইউনিয়ন বাসির জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে কাজ করবেন।মফিজুর রহমান কেশবপুর সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান  পদপ্রার্থী হিসেবে ইউনিয়নের বিভিন্ন  ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্থানে সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহন ও গণসংযোগ করে নিজেকে কেশবপুর সদর ইউনিয়নের অন্যতম  জনপ্রিয় একজন প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করেছেন।

জেনারেল হাসপাতালে করোনা টেস্টের ফি আত্মসাতের পরিমান ১৯ কোটি!

বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তিন সদস্য কমিটি গঠন

তদন্তে  আতংকে মধ্যে হাসপাতালের কয়েকজন কর্মকর্তা

গত ১৬ দিনেও খোজ মেলেনি ল্যাব টেকনোলজিস্ট প্রকাশের

কামরুল হোসেন মনি :
২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে করোনা টেস্টের ২ কোটি ৫৭ লাখ ৫৭ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাতের ঘটনায় খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে তিন সদস্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। হাসপাতালের প্যাথলজিস্ট ইনচার্জ মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট প্রকাশ কুমার দাস করোনা টেস্টের আত্মসাতের ঘটনার পর থেকে লাপাত্তা রয়েছে। গত ১৬ দিনেও তার কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। এদিকে কাগজ-কলমে করোনা টেস্টের আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনা উৎঘাটন হলেও বাস্তবে এর পরিমান ১৯ কোটি টাকা বলে গুঞ্জন রয়েছে। এ কারণে সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হলে বেরিয়ে আসতে পারে থলের বিড়াল। এ কারণে তদন্তে আতংকে মধ্যে রয়েছে হাসপাতালের কতিপয় কয়েকজন কর্মকর্তারা।
খুলনা বিভাগীয় (স্বাস্থ্য) পরিচালক ডা: জসিম উদ্দিন হাওলাদার গতকাল বুধবার দুপুরে এ প্রতিবেদককে বলেন, ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ল্যাব টেকনোলজিস্ট প্রকাশ কুমার দাসের বিরুদ্ধে করোনা টেস্টের আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় তিন সদস্য একটি তদন্ত কমিটি বোর্ড গঠন করে দিয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা: মো: মনজুরুল মুরশিদকে প্রধান করে তিন সদস্য এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
উপ-পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা: মো: মনজুরুল মুরশিদ এ প্রতিবেদককে বলেন, ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে টেস্টের ফি আত্মসাতের ঘটনায় গত ৩০ সেপ্টেম্বর তাকে প্রধান করে তিন সদস্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটিতে অন্য দুই সদস্যরা হচ্ছেন সহকারি পরিচালক (প্রশাসন) ডা: সৈয়দ রেজাউল ইসলাম অপরজন হচ্ছেন সহকারি পরিচালক ( মেডিকেল সাব ডিপো) ডা: মো: রফিকুল ইসলাম গাজী। আগামী ১৫ কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত   প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশনা রয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) খুলনার উপ-পরিচালক মোঃ নাজমুল হাসান এ প্রতিবেদককে বলেন, মামলার জন্য এখনো কোন দিক নির্দেশা আসেনি। আগামী ২-১ দিনের মধ্যে কোন নির্দেশনা আসার সম্ভবনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। খুলনা সিভিল সার্জনের দায়ের করা জিডি ও লিখিত অভিযোগটি ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
খুলনা সিভিল সার্জন ডা: নিয়াজ মোহাম্মদ গতকাল বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় এ প্রতিবেদককে, এখনো ল্যাব টেকনোলজিস্ট প্রকাশ কুমার দাসের হদিস পাওয়া যায়নি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের থেকে তিন সদস্য তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন বলে তিনি জানতে পেরেছি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে বিষয়টি আমাকে অবহিত করেছেন। আমি ঢাকা থেকে খুলনা উদ্দেশ্যে রওনা দিছি। সিভিল সার্জন বলেন, করোনা টেস্টের ফি টাকা জমা দেওয়ার বিষয়ে আমি নিজ উদ্যোগে এই অনিয়মের বিষয়টি খুটিয়ে খুটিয়ে বের করি। পরে বিষয়টি আমার সন্দেহ হলে তদন্ত কমিটি গঠন করি। এর পরই তো উম্মোচন হলো টেস্টের ফি টাকা আত্মসাতের ঘটনা। তিনি বলেন, আমি তো এখানে যোগদান করেছি কয়েক মাস হলো। কিন্তু হাসপাতালে করোনা টেস্টের ফি নেয়া শুরু হয়েছে অনেক আগে থেকেই। এখন তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে, তদন্তে যে দোষী সাভ্যস্ত হবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন। সে যে-ই হোক না কেনো।
হাসপাতালের নির্ভরযোগ্য সূত্র মতে, করোনা শুরুর প্রথম দিকে সদর হাসপাতালে করোনা টেস্টের জন্য সাধারণ মানুষদের বাসায় গিয়ে করোনা টেস্টের জন্য শ্যাম্পল কালেকশনের জন্য নেয়া হতো ১ হাজার টাকা করে এবং হাসপাতালে টেস্টের জন্য নেওয়া হতো ৫০০ টাকা।  পরবর্তীতে নেয়া শুরু করে ৩০০ ও ৫০০ টাকা। এছাড়া বিদেশগামীদের সাড়ে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা করোনা টেস্টের জন্য নেওয়া হতো। এসব কিছুর দায়িত্বে ছিলেন ল্যাব ইনচার্জ মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট প্রকাশ কুমার দাসের। পাশাপাশি তিনি হাসপাতালের ল্যাব ইনচার্জের দায়িত্ব পালন করতেন। কাগজ-কলমে তদন্তে বেরিয়ে আসে ২০২০ সালের জুলাই থেকে চলতি (২০২১) বছরের জুলাই মাস পর্যন্ত করোনা পরীক্ষার ইউজার ফি বাবদ মোট ৪ কোটি ২৪ লাখ ৯৩ হাজার টাকা আদায় হলেও সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে মাত্র ১ কোটি ৬৬ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। ল্যাব টেকনোলজিস্ট ও ল্যাব ইনচার্জ প্রকাশ কুমার দাস বাকি ২ কোটি ৫৭ লাখ ৯৭ হাজার টাকা জমা দেননি। ওই সূত্র মতে, টেস্টের ফি টাকার রশিদ প্রথমদিকে অধিকাংশই সাধারণ রোগীদেরকে দেওয়া হতো না। এমনিক বাসায় গিয়ে করোনা টেস্টের জন্য শ্যাম্পল কালেকশন এর জন্য ১ হাজার টাকা রোগীদের কাছ থেকে নিতো সেই রশিদও দেওয়া হতো না। এমনকি টাকা জমার রশিদ’ও ভুয়া তৈরি করা হয়েছিলো। যার ফলে ওই সব টেস্টের ফি কতো টাকা তা কাগজ-কলমে কোন প্রমানও নেই। যা হাসপাতালে অনেকই বিষয়টি আচ করতে পেরেছেন। যার কারণে কাগজ কলমে আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনা উম্মোচন হলেও বাস্তবে এর পরিমান ১৯ কোটি টাকা বলে সূত্রটির দাবি।
সূত্র মতে, এসব বিষয়ে মাথায় নিয়ে তদন্ত কমিটি সুষ্ঠ ও  নিরপেক্ষ তদন্ত করলে হাসপাতালে অনেকই জড়িয়ে পড়বেন। এর মধ্যে হাসপাতালের আরএমও ডা: এস এম মুরাদ হোসেন। কারণ করোনা শুরু থেকেই যাবতীয় টেস্টের বিষয়ে তার দেখার দায়িত্ব ছিলো। এছাড়া হাসপাতালের ক্যাশিয়ার তপতী সরকার ওই সব অনিয়ম বুঝতে পেরে নিজেও চুপচাপ ছিলেন। কারণ তিনিও ওই অনিয়মের ঘটনায় সহযোগিতায় ছিলেন। তা না হলে তিনি শুরু থেকেই এই বিষয়ে কেনো অভিযোগ দেননি। সাবেক হাসপাতালের প্রধান সহকারি কাম হিসাবরক্ষক মো: শাহিন মোল্ল্যাও টাকার অনিয়মের বিষয়টিও জানতেন। কারণ তাকে হাসপাতালের ক্যাশিয়ার তপতী সরকার তাকে বিষয়টি অবহিত করেছিলেন। যার কারণে এই টাকার আত্মসাতের সম্পৃক্ততা ঘটনায় মো: শাহিন মোল্ল্যাও জড়িয়ে পড়তে পারেন।
জানা গেছে, বর্তমান সিভিল সার্জন ডা: নিয়াজ মোহাম্মদ করোনা টেস্টের ফি এর টাকা গড়মিলের বিষয়টি আচ করতে পারে নিজ উদ্যোগে এ বিষয়ে তদারিক শুরু করেন। তখন থেকেই প্যাথলজি বিভাগের সম্পৃক্ততা সকলের টনক নড়ে। তখন আস্তে আস্তে বেরিয়ে আসতে থাকে টেস্টের ফি টাকা নিয়ে ব্যাপক দুর্ণীতি ও অনিয়মের ঘটনা। এরই ধারাবাহিকতায় হাসপাতালের ইউজার ফি সঠিকভাবে নিরুপনের জন্য গত চলতি বছরের গত ২২ আগষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। খুলনা সিভিল সার্জন ডা: নিয়াজ মোহাম্মদকে প্রধান করে ৫ সদস্য তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। গঠিত কমিটি গত ১৬ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিল করে। তদন্তে বেরিয়ে আসে ল্যাব টেকনোলজিস্ট ও ল্যাব ইনচার্জ প্রকাশ কুমার দাস বাকি ২ কোটি ৫৭ লাখ ৯৭ হাজার টাকা জমা দেননি। ওই টাকা কেন সরকারি কোষাগারে জমা দেননি তার জবাব দেয়ার জন্য গত ২০ সেপ্টেম্বর কৈফিয়ত তলব করা হয়। কিন্তু দু’দিন অতিবাহিত হওয়ার পর গত ২৩ সেপ্টেম্বর দুপুরের পর থেকে মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট (ল্যাব:) প্রকাশ কুমার দাস গা ঢাকা দেন। ওইদিনের পর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইলও বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর গত ১৬ দিন অতিবাহিত হলেও তার কোন হদিস পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, করোনা শুরুর প্রথম দিকে সদর হাসপাতালে করোনা টেস্টের জন্য সাধারণ মানুষদের বাসায় গিয়ে করোনা টেস্টের জন্য শ্যাম্পল কালেকশনের জন্য নেয়া হতো ১ হাজার টাকা করে এবং হাসপাতালে টেস্টের জন্য নেওয়া হতো ৫০০ টাকা।  পরবর্তীতে নেয়া শুরু করে ৩০০ ও ৫০০ টাকা। এছাড়া বিদেশগামীদের সাড়ে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা করোনা টেস্টের জন্য নেওয়া হতো। এসব কিছুর দায়িত্বে ছিলেন ল্যাব ইনচার্জ মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট প্রকাশ কুমার দাসের। পাশাপাশি তিনি হাসপাতালের ল্যাব ইনচার্জের দায়িত্ব পালন করতেন।