ফুলতলায় এসডিজি ফোরামের ইন্টারেক্টিভ সভা অনুষ্ঠিত

ফুলতলা (খুলনা) প্রতিনিধি// রূপান্তরের উদ্যোগে উপজেলা পর্যায়ে এসডিজি ফোরামের ইন্টারেক্টিভ সভা সোমবার দুপুরে ফুলতলা উপজেলা অডিটরিয়ামে এসডিজি ফোরামের উপজেলা আহবায়ক ও প্রধান শিক্ষক তাপস কুমার বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ফুলতলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিয়া আফরিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন দিঘলিয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মমতাজ শিরিন ময়না, মুক্তিযোদ্ধা কাজী জাফর উদ্দিন, দিঘলিয়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শেখ মনিরুজ্জামান, ফুলতলা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফারহানা ইয়াসমিন। স্বাগত বক্তৃতা করেন দিঘলিয়া এসজিডি ফোরামের আহবায়ক শেখ মনিরুল ইসলাম।

এসডিজি প্রকল্পের প্রজেক্ট অফিসার গোলাম মোস্তফার পরিচালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন সাংবাদিক শেখ মনিরুজ্জামান, শামসুল আলম খোকন, সহকারী অধ্যাপক মোঃ নেছার উদ্দিন, শিক্ষক নীলরতন মন্ডল, টুকুরুল ইসলাম এবং দিঘলিয়া উপজেলা থেকে বক্তৃতা করেন সাংবাদিক আকরামুজ্জামান হোসেন লিপু, রাজীবুল ইসলাম, সদস্য সচিব মোঃ আবুল কাশেম, শিক্ষক মেহেদী হাসান, নারী নেত্রী ফাতেমা বেগম, ইসমাইল হোসেন, ইউপি সদস্য নাজমুল হোসেন প্রমুখ।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রূপান্তরের প্রকল্প সমন্বয়কারী মনজুরুল ইসলাম, প্রজেক্ট অফিসার বিপুল রায়, ধনঞ্জয় সাহা বাপি, মাসুদ রানা, কামরুনাহার বৃষ্টি, ফাতেমা তুজ জোহরা টুম্পা।

 

দাকোপে হামলার শিকার ইউপি সদস্যকে ফের হুমকি

দাকোপ প্রতিনিধি : দাকোপের পানখালী ইউপির নব-নির্বাচীত সদস্য মারপিটের শিকার হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করায় ফের হুমকির মুখে। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারন ডায়েরী করেছেন তিনি।
ভূক্তভোগীর থানায় লিখিত জিডি ও এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, উপজেলার ১নং পানখালী ইউনিয়নে লক্ষ্মীখোলা ৫ নং ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত ইউপি সদস্য মোঃ হানজালা শেখ গত ৯ অক্টোবর শনিবার সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৬ টায় দিকে লক্ষ্মীখোলা পিচের মাথায় ওয়াপদার বেড়ীবাঁধের ভাঙন দেখতে যায়। এ সময় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে একই এলাকার মৃত মোকাম শেখের পুত্র মহিবুল শেখ (৩৮) তার উপর অতর্কিত হামলা করে। উপস্থিত এলাকাবাসী আহত ইউপি সদস্যকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এসে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। হামলার ঘটনায় তিনি দাকোপ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেয়। যে কারনে হামলাকারী অন্যান্য ১২/১৪ সহযোগীদের নিয়ে ওই দিন রাত ৯ টার দিকে ফের ইউপি সদস্যের বাড়ীতে গিয়ে ইউপি সদস্যকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি প্রদর্শন করে। এ সময় ইউপি সদস্যের ভাইপো ইমরান শেখ ও নাজমুল শেখ গালিগালাজের কারন জিজ্ঞাসা করলে তাদেরকে ও দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এ ঘটনায় নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ইউপি সদস্য হানজালা শেখ বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখসহ আরো ১২/১৪ জনকে অজ্ঞাত দেখিয়ে দাকোপ থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন। যার নং- ৩৮৫, তারিখ-১০/১০/২০২১ ইং। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দাকোপ থানা পুলিশ বিষয়টি তদন্তে ঘটনাস্থলে অবস্থান করছিল বলে থানা সুত্রে জানা গেছে।

দাকোপ থানা পুলিশের সভা

দাকোপ প্রতিনিধি : আসন্ন শারদীয় দূর্গা পূজায় আইনশৃংক্ষলা পরিস্হিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন ইউনিট থেকে আগত পুলিশ সদস্যদের নিয়ে সভা করেন দাকোপ থানা পুলিশ। সোমবার সকালে দাকোপ থানা চত্বরে তাদের উদ্দেশ্যে দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দাকোপ সি সার্কেল রাশেদ হাসান। এ সময় আর উপস্হিত ছিলেন দাকোপ থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ সেকেন্দার আলী, ওসি তদন্ত আশরাফুল ইসলাম। সভায় সরকার নির্দেশিত স্বাস্হ্য বিধি মেনে দূর্গা উৎসবে সঠিক ভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহবান জানানো হয়।

খুলনা জাল সার্টিফিকেটর অভয়ারণ্য : টাকা দিলেই মেলে জাল সনদ

আবারও জালিয়াতির চক্রের দুই সদস্য আটক : সরঞ্জাম উদ্ধার

খুলনা অফিস : জাল সার্টিফিকেট. বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান, ভোটার আইডি কার্ড, স্কুল-কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের জাল সার্টিফিকেট তৈরি করা হচ্ছে। এমনকি এমবিবিএস কোর্সের সার্টিফিকেটও মিলছে অহরহ। নগরীতে যেন জাল সার্টিফিকেট অভয়ারণ্যে পরিণম হয়েছে।
র‌্যাব-৬ অভিযান চালিয়ে অপরাধীদের আটক করছেন। কিন্তু তাতেও থেমে নেই জাল সার্টিফিকেট তৈরির সিন্ডিকেট। প্রতিদিন আড়ালে আবডোলে চলছে অবৈধ এ রমরমা ব্যবসা। খুবই গোপনে বিভিন্ন কৌশল আর প্রযুক্তি ব্যবহার করে কিছু অসাধু চক্র দিনের পর দিন অবৈধ এ কর্মকা- চালিয়ে যাচ্ছে। রোববার ( ১০ অক্টোবর) র‌্যাব-৬ নগরীর কেডি ঘোষ রোডস্থ কেসিসি সুপার মার্কেটে একটি দোকানে অভিযান চালিয়ে জাল সনদ ও পরিচয়পত্র জালিয়াতি চক্রের দুই সদস্যকে আটক করেছেন। আটককৃতরা হচ্ছে আম্মেদ শরীফ (৩২) এবং জুবায়ের আহম্মেদ (২৬)। এ সময়ে প্রতারণা কাজে ব্যবহৃত ১টি সিপিইউ, ১টি মনিটর, ১টি কিবোর্ড, ১টি মাউস, ১টি স্কেনার, ১টি প্রিন্টার, ১টি ভিজিএ ক্যাবল, ১টি পাওয়ার ক্যাবল, ১টি মডেম ও ২টি মোবাইল উদ্ধার করে।
এর আগে র‌্যাব-৬ গত ৪ অক্টোবর নগরীর সোনাডাঙ্গা মডেল থানাধীন বয়রা বাজারস্থ প্রত্যাশা প্লাজার ২য় তলায় অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময়ে রনি ওয়ান লাইন সলিউশন এবং অয়ন কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার নামক দুইটি দোকানে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে জাল সনদ ও পরিচয়পত্র জালিয়াতি চক্রের ২ সদস্যকে আটক করেছিলেন।
র‌্যাব-৬ জানায়, রোববার ( ১০ অক্টোবর) তাদের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে খুলনা সদর থানাধীন কেডি ঘোষ রোডস্থ কেসিসি সুপার মার্কেওে ১০৯নং দোকানে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময়ে জালিয়াতি চক্রের দুই সদস্য আটক করেছেন। আটককৃতরা হচ্ছেন রূপসা উপজেলা মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা মৃত ওজিয়ার রহমানের পুত্র আহম্মেদ শরীফ এবং দক্ষিণ খাজাডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা মৃত আ: রাজ্জাক সরদারের পুত্র মো: জুবায়ের আহমেদ। তাদের কাছ থেকে প্রতারণার বিভিন্ন উপকরণ জব্দ করা হয়। র‌্যাবের কাছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামীরা জালিয়াতি করে নাগরিকদের সাথে প্রতারনা করে এবং বিভিন্ন মানুষকে এসব সনদের প্রলোভন দেখিয়ে সর্বশান্ত করার বিষয়টি স্বীকার করে।
র‌্যাব-৬ জানায়, ওই সব জালিয়াতি চক্রটি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সনদপত্র, বিভিন্ন সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের ভূয়া পরিচয়পত্র, জালকৃত জন্ম নিবন্ধন ইত্যাদি প্রস্তুত করে বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নেয়। এছাড়াও বিভিন্ন মেডিকেল সার্টিফিকেট, ট্রেড লাইসেন্স এবং বিভিন্ন প্রকার সনদপত্র তৈরী করে দেশের সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারনা করে আর্থিক ভাবে লাভবান হয়। র‌্যাব-৬ এর একটি চৌকশ আভিযানিক দল উক্ত গ্রুপটির প্রতারনা মূলক কার্যক্রমের উপর নজরদারী বৃদ্ধি করে।
শফিকুল ইসলাম (ছদ্মনাম)। জাল সার্টিফিকেট দিয়ে দেড় বছর ধরে একটি বাস কোম্পানিতে সুপারভাইজার হিসেবে চাকরি করছেন। এখন পর্যন্ত তার কোনো সমস্যা হয়নি। শুধু শফিকুল ইসলাম নয়, নগরীতে এরকম অনেক যুবকই জাল সার্টিফিকেটে চাকরি করছেন। নগরীর কেসিসি কেন্দ্রিক একটি সংঘবদ্ধ চক্র জাল সার্টিফিকেট তৈরিতে সহায়তা করছে। নানা কারণে সেটা জানা-বুঝার উপায় থাকে না চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের।
উল্লেখ্য, র‌্যাব -৬ গত ৪ অক্টোবর নগরীর সোনাডাঙ্গা মডেল থানাধীন বয়রা বাজারস্থ প্রত্যাশা প্লাজার ২য় তলায় অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময়ে রনি ওয়ান লাইন সলিউশন এবং অয়ন কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার নামক দুইটি দোকানে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে জাল সনদ ও পরিচয়পত্র জালিয়াতি চক্রের ২ সদস্যকে আটক করেছেন। আটককৃতরা হচ্ছে সোনাডাঙ্গা থানার বয়রা বাজার ১৬ নং ওয়ার্ডের মোঃ আব্দুর রহিম মোল্লার ছেলে ইয়াসিন হোসেন (২৮) এবং একই থানার বুড়ারবাড়ি সবুরের মোড় বয়রা বাজার সংলগ্ন এলাকার মৃত কালিপদ মন্ডলের ছেলে শীবপদ মন্ডল (৪৩)। তাদের কাছ থেকেও প্রতারণা কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এ ব্যাপারে খুলনা র‌্যাব-৬ এর পরিচালক লে: কর্ণেল মুহাম্মদ মোসতাক আহমদ (বিএসপি, পিএসসি) র‌্যাবের কার্যালয়ে প্রেস বিফ্রিং করেছিলৈন। র‌্যাব-৬ এর পরিচালক লে: কর্ণেল মুহাম্মদ মোসতাক আহমদ ওই সময় বলেন, ওই চক্রটি মুলহোতা এবং কারা কারা জড়িত রয়েছে তাদেরকে খুজে বের করার জন্য র‌্যাবের গোয়েন্দাটিম মাঠে রয়েছেন।

বটিয়াঘাটায় মহা ষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসব

ইন্দ্রজিৎ টিকাদার, বটিয়াঘাটা : সারা দেশের ন্যায় বটিয়াঘাটায় ৯৭ টি দুর্গা মন্দিরে সোমবার মহা ষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয়া দুর্গোৎসব । যা আগামী ১৫ অক্টোবর শুক্রবার মহা “বিজয়া”র মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হবে । অন্যদিকে শারদীয় দুর্গোৎসবকে উৎসবে প্রাণবন্ত করতে বিভিন্ন পূজা উদযাপন কমিটি সপ্তাহব্যাপী নানা অনুষ্ঠানমালায় সাজিয়েছে বলে জানা যায় । অনুষ্ঠান সূচির মধ্যে রয়েছে, আরতী-উলুধ্বনী-শঙ্খধ্বনী-নৃত্য প্রতিযোগীতা, যাদু প্রদর্শনী, পৌরানিক ধর্মীয় নাটক, আলোকসজ্জা ও মহাদশমীর বিজয়া উপলক্ষ্যে মেলা । পূজাকে ঘিরে আসন্ন সম্ভাব্য প্রার্থীরা পূজা মন্দির পরিদর্শন, কূশল বিনিময় ও অনুদান প্রদান করার সকল প্রস্তুতি গ্রহন করেছে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র । অপরদিকে সরকারি স্বাস্থ্য বিধি মেনে উপজেলা প্রশাসনের সকল নির্দেশনা বাস্তবায়নে পূজা কমিটি গুলো বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছে, চক্রাখালী দক্ষিণপাড়া মল্লিকের মোড় সার্বজনীন দূর্গা পূজা কমিটির সভাপতি গৌর পদ মল্লিক । এব্যাপারে থানা অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শাহ্ জালাল জানান, পূজায় আইন শৃংঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সর্বদা সতর্ক রয়েছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বে আনসার, পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ র‌্যার ও সাদা পোশাকে বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা একযোগে কাজ করবে বলে তিনি জানান । এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মমিনুর রহমান জানান, খুলনা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান তালুকদার এর নির্দেশনা মোতাবেক আইন শৃংঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার ব্যবস্থা ও রাখা হয়েছে । তিনি প্রত্যেক পূজা কমিটিকে স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করে সকলকে সহযোগিতার আহবান জানান।

বিজ্ঞানীদের বিশ্ব র‍্যাংকিং তালিকায় খুবি উপাচার্য

ইউনিক প্রতিবেদক :

২০২১ সালে বিশ্ব বিজ্ঞানীদের তালিকায় মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান লাভ করেছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি এন্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের শিক্ষক, গবেষক বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেন।

গতকাল রবিবার এডি সাইন্টিফিক ইনডেক্স নামের আন্তর্জাতিক খ্যাতনামা সংস্থা সারা বিশ্বের ২০৬ দেশের ১৩ হাজার ৫৩১ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাত লক্ষাধিক বিজ্ঞানীর সাইটেশান এবং অন্যান্য ইনডেক্সের ভিত্তিতে এই র‍্যাংকিং তালিকা প্রকাশ করেছে।

এই র‍্যাংকিং করার ক্ষেত্রে বিশ্বের ৭ লক্ষ ৮ হাজার ৪৮০ জন, এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের ১ লক্ষ ৫৩ হাজার ২৬২ জন, বাংলাদেশের ১ হাজার ৭৯১ জন এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৯ জন খুলনা অতিরি বিজ্ঞানীর সংশ্লিষ্ট বিষয়ে চলতি এসএম আশি বছরসহ গত ৫ বছরের সাইটেশন আমলে নেওয়া হয়।

এর মধ্যে গবেষক প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি ও ফরেস্ট্রিতে এবং পৃথকভাবে ফরেস্ট্রি উভয় ক্যাটাগরিতে ১ম, দেশে ফরেস্ট্রি বিজ্ঞানীদের মধ্যে ৪র্থ, এশিয়ার বিজ্ঞানীদের মধ্যে ১৫১ তম এবং সারা বিশ্বের বিজ্ঞানীদের মধ্যে ৮২৫ তম স্থান লাভ করেছেন।

ড. মাহমুদ হোসেন একজন নিবেদিতপ্রাণ গবেষক। বন, কৃষি, মৃত্তিকা, পরিবেশ, প্রতিবেশ ও পর্যটনের ক্ষেত্রে রয়েছে তাঁর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গবেষণা যা খ্যাতনামা জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। সুন্দরবনের ওপর রয়েছে তাঁর নানাধর্মী গবেষণা। এছাড়া তিনি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে একজন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিশেষজ্ঞ।

দেশের মধ্যে প্রথম খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে সয়েল আর্কাইভ তাঁর উদ্যোগে ও প্রচেষ্টায় স্থাপিত হয়েছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার ওপর সবিশেষ জোর দিয়েছেন।

ইতোমধ্যে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের গবেষণায় আকৃষ্ট করতে স্কলারশিপের পরিমাণ ও সংখ্যা বৃদ্ধি করা ছাড়াও গবেষণা ল্যাব উন্নয়নে পদক্ষেপ নিয়েছেন। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও ২৮ জন শিক্ষক-গবেষক এই র‍্যাংকিং তালিকায় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে স্থান লাভ করেছেন।

উপাচার্য তাঁদেরকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এক অভিনন্দন বার্তায় তিনি বলেন, এই অর্জন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে গবেষণায় অনুপ্রেরণা যোগাবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেবে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বমানের উন্নীত করা এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান তৈরিতে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের নিরন্তরভাবে গবেষণার মাধ্যমে দেশর কল্যাণে দিকনির্দেশনা প্রদান ও নতুন নতুন উদ্ভাবনার আহবান জানান।

এদিকে এডি ইনডেক্সের র‍্যাংকিংয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেন বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান লাভ করায় তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোসাম্মাৎ হোসনে আরা, ডিনবৃন্দ, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত), ডিসিপ্লিন প্রধানবৃন্দ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ও অফিসার্স কল্যাণ পরিষদ।

শেখ রাসেল দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে প্রস্তুতি সভা

ইউনিক প্রতিবেদক :

আগামী ১৮ অক্টোবর শেখ রাসেল দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে এক প্রস্তুতি সভা রবিবার বিকেলে খুলনার জেলা প্রশাসক মোঃ মনিরুজ্জামান তালুকদারের সভাপতিত্বে তাঁর সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

দিবসটি উপলক্ষ্যে ১৮ অক্টোবর আলোচনা সভা, নগরীর সকল মসজিদে মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠান এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে আলোচনা অনুষ্ঠানে আয়োজনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। খুলনা জেলা তথ্য অফিস দিবসটি পালনের অংশ হিসেবে নগরীর জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে শেখ রাসেল এবং জাতির পিতার জীবন ও কর্ম নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে।

প্রত্নতত্ত অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় জাদুঘরে ঐ দিন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য বিনামূল্যে প্রবেশের সুবিধা থাকবে। এছাড়া শেখ রাসেল শিশু প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, দেয়ালিকা প্রকাশ ও বৃক্ষ রোপন করা হবে।

সভায় জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী মোঃ আছাদুজ্জামান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ ইউসুপ আলী, খুলান সিটি কর্পোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মোঃ মনোয়ার হোসেনসহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন

ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, যাত্রীদের নিরাপত্তায় জানালায় লাগানো হচ্ছে নেট

ইউনিক প্রতিবেদক:

চলতি বছরের এ পর্যন্ত ট্রেনে দুষ্কৃতকারীদের পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে ১১০ বার। এতে ট্রেনের গ্লাস ভেঙেছে ১০৩টি, আহত হয়েছেন ২৯ জন। তাই ট্রেন, যাত্রী, চালকসহ সকলের সার্বিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে জানালায় নেট লাগানোর পরিকল্পনা করেছেন রেল মন্ত্রণালয়। ৫ সেপ্টেম্বর রেল ভবনে এ কথা জানান রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন।

এতে শুধু পাথর নিক্ষেপ নয়; জানলা থেকে মোবাইল ফোন, ব্যাগ ছিনতাই, অবৈধ যাত্রী প্রবেশ এবং যন্ত্রাংশ চুরিও একইসাথে বন্ধ হবে।

রেলওয়ে সূত্র মতে, রেলমন্ত্রীর পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকা থেকে পঞ্চগড় রুটে চলাচলকারী একতা এক্সপ্রেসের প্রতিটি জানালায় নেট লাগানো সম্পন্ন হয়েছে। ধীরে ধীরে সকল ট্রেনের জানালায় নেট লাগানো হবে।

এদিকে শনিবার ফুলতলায় খুলনা রেলওয়ে পুলিশ সুপার মোঃ রবিউল ইসলাম, ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আবুল বাসার এবং এলাকার ইমাম, শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ এর উপস্থিতিতে চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ প্রতিরোধে জনসচেতনতা সভা করা হয়।

খুলনা রেলওয়েতে রেলমন্ত্রীর এমন পদক্ষেপের বিষয়ে জানতে চাইলে খুলনা রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মানিক চন্দ্র সরকার বলেন, ‘আমাদের রেলওয়ে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর একটি দল প্রতিদিন খুলনা বিভাগের মধ্যে নির্দিষ্ট স্টেশন ও স্থানে যাচ্ছে এবং আজকেও গিয়েছে। রেলমন্ত্রীর পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ওই সকল স্টেশনের পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সাঙ্গে এ বিষয়ে যৌথ মিটিং করা হচ্ছে।’

খুলনা নিরাপত্তা বাহিনীর চিফ ইনস্পেক্টর মনির হোসেন রাহাত বলেন, ‘আমরা রেলওয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করনের জন্য প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি। বর্তমানে ট্রেনে ঢিল নিক্ষেপের মাত্রা অনেক বেড়ে গেছে এবং অধিকাংশ কিশোর গ্যাং এ ধরণের কাজ অপরাধমূলক কাজ করছে। এ জন্য আমরা কিছু রেল নিকটস্থ বাজার, গ্রাম, রেল স্টেশনে (দৌলতপুর, যশোর, বেজেরডাঙা, ফুলতলা) সচেতনতামূলক কর্মসূচী যেমন: লিফলেট বিতরণ, মাইকিং, সমাবেশ এবং চেয়ারম্যান, গ্রাম-বাজারের মাতব্বরদের মাধ্যমে এ অপরাধ সম্পর্কে অভিভাবকদের এবং কিশোরদের বোঝানো হচ্ছে। আমাদের এমন সচেতনমূলক কর্মসূচী চলছে এবং চলমান থাকবে।’

১ সেপ্টেম্বর উপবন এক্সপ্রেস নামের ট্রেনে পাথর ছুড়ে মারায় নরসিংদীর দুজনসহ ট্রেনটির অন্তত চারজন যাত্রী আহত হয়েছে। রাত পৌনে ১০টার দিকে গাজীপুরের টঙ্গী রেলস্টেশনে পৌঁছার আগমুহূর্তে এ ঘটনা ঘটে। ৩ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনে দুষ্কৃতকারীদের পাথর নিক্ষেপের ফলে আহত হন সহকারী চালক কাওছার আহম্মদ। কাচের টুকরায় চোখে আঘাত পান।

দেশের নানান রুটে প্রায়ই ঘটছে এরকম ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা। সম্প্রতি ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা বেড়েছে উদ্বেগজনক হারে। এমন পরিস্থিতিতে বেশকিছু পরিকল্পনা নিয়েছে মন্ত্রণালয়। এরই মধ্যে পূর্বাঞ্চলের ৪টি ও পশ্চিমাঞ্চলের ১০টি জেলা ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত হয়েছে। তাই ওই সব চিহ্নিত এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।

চলতি বছরে ১১০টি পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় ২৯ জন আহত হলেও কাউকে বিচারের মুখোমুখি করতে পারেননি রেলওয়ে পুলিশ বা রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী।