বিআরবি আজগড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ কাজের উদ্বোধন

ইউনিক প্রতিবেদক :
খুলনার তেরখাদা উপজেলার আজগড়া ইউনিয়নের বি.আর.বি আজগড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় চত্বরে শহীদ মিনার নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন করেছেন খুলনার জেলা প্রশাসক মোঃ মনিরুজ্জামান তালুকদার। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় বিদ্যালয় চত্বরে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি শহীদ মিনার ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি সাংবাদিক মল্লিক সুধাংশুর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে খুলনা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আছাদুজ্জামান, তেরখাদা উপজেলার চেয়ারম্যান শেখ শহীদুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবিদা সুলতানা, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম, দৈনিক পুর্বাঞ্চলের নির্বাহী সম্পাদক আহমদ আলী খান বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন। স্বাগত বক্তৃতাকরেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রমেন্দ্র নাথ মল্লিক। এছাড়াও স্বাস্থ্যবিধি মেনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে জেলা-উপজেলার পদস্থকর্মকর্তাবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, মুক্তিযোদ্ধা, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, অভিভাবক এবং এলাকার বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় খুলনার জেলা প্রশাসক মোঃ মনিরুজ্জামান তালুকদার বলেছেন, প্রতিটি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার থাকা খুবই জরুরী। শহীদ মিনার থাকলে শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা আরো বৃদ্ধি পাবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিকশিত হবে। তিনি বলেন, বর্তমান সকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে আন্তরিক। আশা করি সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রতিটি বিদ্যালয় আজগড়া বিআরবি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মতো দৃষ্টান্ত স্থাপন করতের সক্ষম হবে।
উত্তর খুলনার আজগড়া ইউনিয়নের আজগড়া গ্রামে স্থাপিত এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিবছর মহান ২১ শে ফেব্রুয়ারিতে কলাগাছ দিয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ তৈরি করে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে আসছে। বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ২৭ বছর পর শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোগের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীসহ এলাকার সর্বস্থরের মানুষে প্রত্যাশা পুরন হতে যাচ্ছে। ইতমধ্যে বিদ্যালয় চত্বরে গণহত্যার স্মৃতিফলক স্থাপিত হয়েছে। মুজিববর্ষকে স্মরণীয় করে রাখার লক্ষ্যে ‘বঙ্গবন্ধু স্টেটম্যান অব দ্যা সেন্সুরি’ শিরোনামে জাতির পিতার একটি ম্যুরাল নির্মাণের কাজ চলছে। আর আজ মঙ্গলবার শহীদ মিনার নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হচ্ছে।

ইস্কনের অন্নকূট মহোৎসবে মেয়র রেজাউল করিম সম্প্রীতি নষ্ট করা ইসলাম সমর্থন করে না

চট্টগ্রাম ব্যুরো: ইস্কনের অন্নকূট মহোৎসবে মেয়র রেজাউল করিম সম্প্রীতি নষ্ট করা ইসলাম সমর্থন করে না।দেশ স্বাধীন করতে সব ধর্মের মানুষকে যুক্ত করেছে। এদেশ কারো একার রক্তে স্বাধীন হয়নি। এই ভূখ- সকল ধর্মের মানুষের। কাজেই যার যার ধর্ম সে সে পালনের অধিকার রয়েছে। এই অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে এমন ঘটনা কেন ঘটছে তা খতিয়ে দেখে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তিনি বলেন, আমরা যে যার যার ধর্ম পালন করলেও অসাম্প্রদায়িক চেতনা লালন করি। সুতরাং এমন কিছু করা উচিত হয়, প্রতিবেশী যে ধর্ম পালন করেছে তার ওপর আঘাত আসে। চিহ্নিত সাম্প্রদায়িক অপশক্তি ইসলামের নামে দেশব্যাপী অনৈসলামিক কর্মকা- পরিচালনা করছে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদেরকে বিভ্রান্ত করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার পায়তাঁরা চালাচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষ ধর্মভীরু কিন্তু ধর্মান্ধ নয়। পবিত্র ধর্মের ফতোয়া দিয়ে মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি নষ্ট করা ইসলাম সমর্থন করে না।

আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইস্কন) চট্টগ্রাম আয়োজিত ইস্কনের বিভাগীয় প্রধান কার্যালয় নন্দনকাননস্থ শ্রীশ্রী রাধামাধব মন্দির প্রাঙ্গণে আজ ০৮ নভেম্বর গিরি গোবর্ধন পূজা, অন্নকূট মহোৎসব ও ইস্কন প্রতিষ্ঠাতা আচার্য শ্রীল অভয়চরণাবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদের ৪৪ তম তিরোভাব তিথি মহোৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিটি মেয়র এম. রেজাউল করিম চৌধুরী উপরোক্ত মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ ইস্কনের সিনিয়র সহ সভাপতি ভক্তিপ্রিয়ম্ গদাধর গোস্বামী মহারাজের পৌরহিত্যে এবং নন্দনকানন ইস্কন মন্দিরের অধ্যক্ষ শ্রীপাদ প-িত গদাধর দাস ব্রহ্মচারীর সভাপতিত্বে উদ্বোধক ছিলেন বাংলাদেশ জন্মাষ্টমী উদ্যাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি সুকুমার চৌধুরী। বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম ইস্কন বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক ও পুন্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী, বাংলাদেশ জন্মাষ্টমী উদ্যাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী প্রবীর কুমার সেন, মহানগর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এড. নিতাই প্রসাদ ঘোষ, জন্মাষ্টমী কেন্দ্রীয় পরিষদের সাবেক সহ-সভাপতি শচীনন্দন গোস্বামী, মহানগর পূজা কমিটির সাবেক সভাপতি এড. চন্দন তালুকদার, মহানগর পূজা কমিটির সভাপতি আশীষ ভট্টাচার্য্য, বনগোপাল চৌধুরী, পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিল্লোল সেন উজ্জ্বল, ইস্কন মোহরা মন্দিরের অধ্যক্ষ সর্বমঙ্গল গৌর দাস ব্রহ্মচারী, নন্দনকানন ইস্কন মন্দিরের সহসভাপতি অকিঞ্চন গৌর দাস ব্রহ্মচারী, সাধারণ সম্পাদক তারন নিত্যানন্দ দাস ব্রহ্মচারী, যুগ্ম সম্পাদক মুকুন্দ ভক্তি দাস ব্রহ্মচারী, সুবল সখা দাস ব্রহ্মচারী, অপূর্ব মনোহর দাস ব্রহ্মচারী, শেষরুপ দাস ব্রহ্মচারী, সত্যতীর্থ দাস, শ্রীপ্রকাশ দাশ অসিত, কিশোর দাস প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, শ্রীল প্রভুপাদ ৭০ বছর বয়সে ১৯৬৫ সালে প্রথম আমেরিকা পদাপর্ণ করে বৈদিক সংস্কৃতি প্রাচাত্য দেশে প্রচার করেন। শ্রীল প্রভুপাদ আমেরিকায় ১৯৬৬ সালে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইস্কন) প্রতিষ্ঠা করেন। বারো বছরে সারা পৃথিবী ১৪ বার পরিভ্রমণ করে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশে ইস্কন মন্দির ও প্রচারকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করে সারাবিশ্বে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মহিমা প্রচারের নিমিত্তে ১০৮টি বড় মন্দির সহ বৈদিক গুরুকূল, ফার্ম কমিউনিটি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭৭ সালে শ্রীল প্রভুপাদ এই পবিত্র দিনে নিত্যধাম গমন করেন। প্রভুপাদের তিরোভাব তিথি ও পরমেশ্বর ভগবান গিরি গোবর্ধন পূজা, অন্নকূট মহোৎসব সারাবিশ্বে সমাদৃত। শ্রীল প্রভুপাদ সারাবিশ্বে দিকভ্রান্ত যুব গোষ্ঠী ও সর্বস্তরের মানুষদের বৈদিক সংস্কৃতির আলোকে উদ্ভাসিত করে সঠিক পথে পরিচালিত করার প্রয়াস করেছেন। তাই তিনি বিশ্বে বরেণ্য ব্যক্তিত্বে পরিচিত হয়েছে। এমন নিরমৎসর ব্যক্তি ও তাঁর প্রতিষ্টিত বিশ^নন্দিত আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন)কে নিয়ে সাম্পদায়িক গোষ্টি উদেশ্যমূলক বিভিন্ন মিথ্যাচার ও শারদীয় দূর্গোৎসব উপলক্ষে দেশব্যাপী সাম্প্রদায়িক হামলার জন্য বক্তাগণ তীব্র নিন্দা জানান এবং দুষ্কৃতিকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়। দিনব্যাপি অনুষ্ঠানে প্রায় দশ হাজার ভক্তদের প্রসাদ বিতরণ করা হয়।