ঘূর্ণিঝড়ের মতই লন্ডভন্ড সিডরের জীবন

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি : ২০০৭ সালের প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় সিডর লন্ডভন্ড করে দিয়েছিল পুরো দক্ষিণ উপকূলীয় এলাকা। সেই ক্ষত এখনও বয়ে বেড়াচ্ছেন উপকূলের মানুষেরা। আর ওই সকল মানুষদের থেকে বাদ পড়েননি সিডর সরকারও। সেই ঘূর্ণিঝড়ের রাতে মোংলার একটি আশ্রয় কেন্দ্রে জন্মগ্রহণ করা সিডর সকারের জীবনও এখন লন্ডভন্ড অবস্থার মধ্যদিয়ে চলছে। বিভিন্ন সময়ে অনেক গণ্যমাধ্যমের শিরোনামও হয়েছেন সিডর সরকার। তবে তাতে তার ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটেনি মোটেও। তা নিয়েও ক্ষোভ-আক্ষেপ রয়েছে তার পরিবার এবং গ্রামবাসীর। দরিদ্র দিনমজুর ও জেলে পিতার ঘরে জন্ম নেয়া সিডরের মাও চলে গেছেন অন্যত্র। বাবাও কাজের সন্ধানে থাকেন ঘরের বাহিরে বাহিরে। মা নেই, আর বাবা থেকেও না থাকার মতই অবস্থা। এমতাবস্থায় সিডর থাকেন দাদীর কাছে। পরিবারের ¯েœহ মমতা থেকে বঞ্চিত সিডরের ভবিষ্যৎও এখন অন্ধকারের দিকে। কষ্টের মধ্যে থেকেও লেখাপড়া শেখার আগ্রহ থাকা সিডরের নতুন বছরে নতুন স্কুলে ভর্তি হওয়াটাও এখন অনিশ্চিত। লেখাপড়া করতে না পারলে বাবার মতই নদীতে জাল ধরতে হবে অদম্য মেধাবী সিডরকে।
সিডর সরকার (১৪)। মোংলার কানাইনগর গ্রামের জেলে ও দিনমজুর পিতা জর্জি সরকারের (৩৮) একমাত্র সন্তান। ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর প্রলয়ংকারী সুপার সাইক্লোন সিডরের রাতে সেখানকার একটি আশ্রয় কেন্দ্রে জন্ম হয় তার। ঝড়ের রাতেই জন্ম হওয়ায় পরিবার তার নাম রাখেন সিডর। শত অভাব অনটনের মধ্যে পিতা জর্জি সিডরকে গ্রামের সেন্ট লুকস প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করান। সেখানে তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশুনার পর সিডরকে দেন খুলনার দাকোপ উপজেলার বাজুয়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে। সেখানে গিয়ে ৪র্থ শ্রেণীতে ভর্তি হয়ে হোস্টেলে থেকে ৭ম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশুনা করে আসছিল সিডর। কিন্তু হোস্টেলের খরচ মিটাতে না পারায় কয়েক মাস আগে সেখান থেকে বাড়ীতে চলে আসে সিডর। ব্যয় বহনের সামর্থ্য না থাকায় সেখানে আর ফিরে যাওয়ার সুযোগও নেই তার। তাই গ্রামে থেকে শহরেরই কোন একটি স্কুলে নতুন করে ভর্তি হতে হবে সিডরকে। নতুন স্কুলে ভর্তি করিয়ে পড়াশুনা চালিয়ে যাওয়ার মত কোন ব্যবস্থাই নেই দিনমজুর পিতার। অভাবে পিতা জর্জি গেছেন দুবলার চরে জেলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে। সেখান থেকে এখনও কোন খরচ পাঠাতে পারেনি পিতা জর্জি। তাই খেয়ে না খেয়ে এবং ধার দেনা ও বাকীতে সদাই কিনে কোন রমক দিন যাচ্ছে সিডর ও তার দাদীর। তাই এ অবস্থায় তার ভর্তি হওয়াটাও অনিশ্চিত। এরমধ্যে আবার বাবা দূরে দূরে, মা নেই কাছে। চার বছর আগে মা সাথী সরকার (৩৪) ছেলে সিডরকে ফেলে চলে গেছেন অন্যত্র। অন্যত্র সংসার করা মা কোন খোঁজখবরই নেন না সিডরের। দু:খ ভরা সিডরের শেষ আশ্রয়স্থল দাদী। দাদী রিভা সরকার (৫৫) ও চাচা সাগর সরকার (২৮) চরম দুশ্চিন্তায় সিডরের লেখা পড়া নিয়ে। তারা অভাবের মধ্যদিয়ে কিভাবে পড়াবেন সিডরকে তা ভেবে কুলকিনারা পাচ্ছেন না। তাই সিডরের লেখাপড়া ও কোনভাবে বেঁচে থাকার জন্য সমাজের বিত্তবানদের সাহায্য সহযোগীতা চেয়েছেন তার পরিবার।
সিডরের দাদী রিভা সরকার (৫৫) বলেন, আমাদের পরিবারের অবস্থা খুবই খারাপ। আমার নাতিকে নিয়ে খুবই কষ্টে আছি। সিডরের বাবাও অসুস্থ্য একটা হাত ভাঙ্গা, তারপরও আয়ের জন্যে সাগরে গেছে। সিডরের লেখাপড়া শেখার খুব আগ্রহ আছে। কিন্তু আমি পারছিনা, বাজুয়া যেখানে ছিল সেখানে খরচ দিতে না পারায় এখন বাড়ী এসে বসে আছে। এতো কষ্ট এখন ওকে খাওয়াবো না পড়াবো কোনটা করবো। সবাই যদি একটু সহায়তা করে তাহলে ওকে পড়ালেখা করানো সম্ভব হবে।
সিডরের চাচা সাগর সরকার (২৮) বলেন, সিডর খুবই মেধাবী, লেখাপড়ায়ও অনেক আগ্রহ রয়েছে। তার শহরের স্কুলে ভর্তি, বই-খাতা, পোশাকের পাশাপাশি প্রয়োজন বাইসাইকেল ও এ্যাসাইনমেন্ট’র জন্য মোবাইল ফোনেরও। এ সকল সহায়তা পেলে লেখাপড়া শিখে ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার ইচ্ছা রয়েছে সিডরের। বিভিন্ন সময়ে নানানজন সিডরকে সহায়তা প্রদাণের আশ্বাস দিলেও এ পর্যন্ত কেউ তার কিছুই করেনি। ১৫ নভেম্বর আসলে শুধু সাংবাদিকেরাই তার খোঁজখবর নিয়ে রিপোর্ট করে থাকেন। কিন্তু তাতে তো তার ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হচ্ছেনা। কিভাবে লেখাপড়া চালিয়ে যাবে তারও কোন ব্যবস্থা নেই। তাই সমাজের বিত্তবানের এগিয়ে আসলে সিডরের ভর্তি ও পড়াশুনা সম্ভব হবে।
সিডর সরকার (১৪) বলেন, আগে আমি বাজুয়ায় হোস্টেলে থাকতাম। বাবা ও দাদী খরচ দিতে না পারায় সেখান থেকে ৪ মাস হলো বাড়ীতে চলে এসেছি। বাবাতো ঠিক মত খাওয়াতেই পারছেনা, তা লেখাপড়া কিভাবে শিখবো। পড়াশুনা শিখতে না পারলে তো আমাকে জাল টেনে ও কাজ করে খেতে হবে। আমি তা করতে চাই না আমি পড়তে চাই।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কমলেশ মজুমদার বলেন, সিডরের কথা তো এক সময়ে খুব শোনা গেছে, এখনও শোনা যাচ্ছে। তবে আমি যতটুকু জানতার সে বাজুয়ার একটি স্কুলে পড়তো। আমি এখানে আসার পর সিডরের বিষয়ে সাহায্য সহযোগীতার জন্য সে কিংবা তার পরিবার কোন আবেদন করেননি। তবে জানতে পেরেছি তার লেখাপড়ার বিঘœ ঘটেছে। সে যদি এই উপজেলার মধ্যে কোন স্কুলে ভর্তি হতে চায় আমি তার ব্যবস্থা করে দিবো। আর তার পারিবারি সমস্যার ক্ষেত্রে যদি আবেদন করে তাও সমাধানের চেষ্টা করবো।
জন্মের পর থেকেই প্রায় প্রতিবছরই বিভিন্ন গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়ে আসছে সিডর। শিরোনাম দেখে সেই সময়ে বিভিন্নজন তার পাশে দাঁড়ানো ও সাহায্য সহযোগীতার আশ্বাস দিলেও তা কেউই কখন বাস্তবায়ন করেনি। তাই এ নিয়ে ক্ষোভ-আক্ষেপ রয়েছে সিডরের পরিবারের। সমাজের বিত্তবানদের সহায়তাই বদলে দিতে পারে সিডরের ভবিষ্যৎ জীবনটাকে।

শেখ রাজিয়া নাছেরের ১ম মৃত্যুবার্ষিকী খুলনা মহানগর আ’লীগের কর্মসূচি

বিজ্ঞপ্তি :
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাতৃবধু, শহীদ শেখ আবু নাছেরের সহধর্মিনী, প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনার চাচি, শেখ হেলাল উদ্দিন এমপি, সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল এমপি, শেখ সোহেল, শেখ জালাল উদ্দিন রুবেল, শেখ বেলাল উদ্দিন বাবু’র মা শেখ রাজিয়া নাছের এর ১ম মৃত্যু বার্ষিক উপলক্ষে কর্মসূচি গ্রহণ করেছে খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ। কর্মসূচির মধ্যে আগামীকাল মঙ্গলবার দলীয় কার্যালয়ে দিনব্যাপী কোরআনখানি এবং বাদ মাগরিব স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল। কর্মসূচিতে মহানগর, থানা ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ এবং সকল সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী সহ নির্বাচিত দলীয় কাউন্সিলরদের যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষ আহবান জানিয়েছেন খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সিটি মেয়র আলহাজ¦ তালুকদার আব্দুল খালেক এবং সাধারণ সম্পাদক এমডিএ বাবুল রানা।

খুলনায় শিশু তানিশা হত্যায় সৎ মায়ের মৃত্যুদন্ড

ইউনিক প্রতিবেদক :
খুলনার তেরখাদা উপজেলার আড়কান্দি গ্রামের আলোচিত শিশু তানিশা হত্যা মামলায় সৎ মা তিথী আক্তার মুক্তাকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (১৫ নভেম্বর) খুলনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মশিউর রহমান চৌধুরী এ রায় দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন এ্যাড. মোঃ এনামুল হক এবং এ মামলায় তাকে সহায়তা করেছেন এপিপি সেখ ইলিয়াস হোসেন ও মোসাঃ শাম্মি আক্তার। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
আদালতের সূত্র জানায়, তানিশা আড়কান্দি গ্রামের ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্য মো: খাজা শেখের কন্যা। আগের স্ত্রীর সাথে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর খাজা ২০২০ সালের ২৯ জানুয়ারি ফকিরহাট উপজেলার আট্রাকি গ্রামের দক্ষিণপাড়া এলাকার মৃত হোসেন আলী শেখের মেয়ে মুক্তাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর স্ত্রী মুক্তা মোবাইলে বিভিন্ন ব্যক্তির সাথে ইমো ও ম্যাসেঞ্জারে কথা বলতো। এ নিয়ে খাজা স্ত্রীকে সন্দেহ করে আসছিল।
২০২০ সালের ২ এপ্রিল ইমোতে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। এতে স্বামী খাজা শেখ তাকে তালাকের হুমকিও দেয়। পরে ইমোতে খাজা তার প্রথম স্ত্রীর গর্ভে জন্ম নেওয়া মেয়েকে আদর সোহাগ করে ডাকতে থাকে। এ নিয়ে মুক্তার মধ্যে জ্বালা যন্ত্রণা আরও বেড়ে যায়। একপর্যায়ে সৎ মেয়ে তানিশাকে হত্যার পরিকল্পনা করতে থাকে মুক্তা।
এদিকে তানিশা রাতে মুক্তার সঙ্গে একই বিছানায় ঘুমাতো। ঘটনার দিন (৬ এপ্রিল) রাতে তাদের মধ্যে আবারও ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে খাজা শেখ এলাকায় বিষয়টি জানিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেয়। স্বামীকে উচিত শিক্ষা দেওয়ার জন্য মুক্তা এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে বলে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে।
জবানবন্দিতে তিনি আরও জানায়, ঘটনার দিন রাতে একটি দা নিয়ে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে মুক্তা। সে সময় তানিশা খাটে ঘুমিয়ে ছিল। ঘুমন্ত তানিশাকে দা দিয়ে গলায় ও মাথায় কুপিয়ে জখম করে। দাপাদাপির শব্দ শুনতে পেয়ে দাদী ও চাচা এগিয়ে এলে দরজা খুলে ঘরের বাইরে চলে আসে মুক্তা। পরে পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় মুক্তাকে আটক করে। জব্দ করা হয় হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত দা।
এদিকে শিশুটিকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে তেরখাদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তানিশাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ব্যাপারে নিহতের দাদা বাদি হয়ে তিথী আক্তার মুক্তাকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই বছরের ৩১ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই শফিকুল ইসলাম তিথী আক্তার মুক্তাকে আসামি করে এ হত্যা মামলার চার্জশিট দাখিল করেন। আদালতে মোট ২২ জন স্বাক্ষ্য দিয়েছেন।