সাংবাদিক জুয়েলের উপর হামলার প্রতিবাদে দাকোপে মানববন্ধন

দাকোপ প্রতিনিধি : রুপসা উপজেলা সদর ৪ নম্বর টিএস বাহিরদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান চিহ্নিত সন্ত্রাসী জাহাঙ্গীর শেখ ও তার ভাই কর্তৃক বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ঢাকা, সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) ঢাকা, সাব এডিটর কাউন্সিলের সদস্য, দৈনিক আজকের সংবাদের সিনিয়র রিপোর্টার, সাংবাদিক বুদ্ধদেব হালদার জুয়েলের উপর সস্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে দাকোপ প্রেসক্লাবের উদ্যোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় দাকোপ প্রেসক্লাবের সামনে প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি কুমারেশ বিশ^¦াসের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোজাফ্ফার হোসেনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধন প্রতিবাদ সভায় বক্তৃতা করেন দাকোপ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শচীন্দ্রনাথ মন্ডল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজগর হোসেন ছাব্বির, জি.এম রেজা, সাবেক আহবায়ক গোবিন্দ বিশ^াস, বিধান চন্দ্র ঘোষ, গাজী আবুল বাশার, জাহিদুর রহমান সোহাগ, পারুল বেগম, মামুনুর রশিদ, মজনু ফকির, গোলাম রসুল সানি, ফারুক গাজী, নূর মোহাম্মদ, মনির হোসেনসহ আরো অনেকে। মানববন্ধনে বক্তারা প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে সাংবাদিক জুয়েলের উপর হামলার ঘটনায় নিয়মিত মামলা গ্রহনসহ ঘটনায় জড়িত সকল সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির জোর দাবি জানান।

কেশবপুর সদর ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী মফিজের গণসংযোগ

রাজীব চৌধুরী,কেশবপুরঃ আসন্ন কেশবপুর  সদর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মফিজুর রহমান মফিজ দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে নিয়ে প্রতিদিন গণসংযোগ করে চলেছেন।এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার দিনব্যাপী কেশবপুর সদর ইউনিয়নের ব্যাসডাঙ্গা গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে ভোটারদের নিকট দোয়া চেয়ে ব্যাপক গণসংযোগ করেন। কেশবপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী মফিজুর রহমান মফিজ-এর সাথে গণসংযোগকালে উপস্থিত ছিলেন কেশবপুর সদর ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক তৌহিদুর রহমান, যুগ্ম-আহ্বায়ক আব্দুল গফুর, কেশবপুর সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক উজ্জ্বল মজুমদার, ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ কামাল মোড়ল, ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মৃণাল কান্তি দাস, ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বুলু, আকতার হোসেন, কামরুজ্জামান, গোবিন্দ দাস সহ আরও অনেকে।গণসংযোগকালে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মফিজুর রহমান মফিজ কেশবপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নের জন্য সকলের নিকট দোয়া/ আশির্বাদ প্রার্থনা করেন।গণসংযোগ শেষে রাত্রিতে  তিনি কেশবপুরের সদর ইউনিয়নের অন্তর্গত মূলগ্রামে কার্তিক পূজা পরিদর্শন করেন এবং নগদ অনুদান প্রদান করেন।

ফুলতলায় সরকারি খাদ্য গুদামে চাল চুরির ঘটনায় দুই শ্রমিক কারাগারে মুল হোতারা ধরা ছোঁয়ার বাইরে

ফুলতলা (খুলনা) প্রতিনিধি// ফুলতলা সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে চুরি করে চাল বিক্রির ঘটনায় দুই লেবার কারাগারে গেলেও মূল হোতারা এখনও ধরা ছোঁয়ার বাইরে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় জেলা সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা এর নেতৃত্বে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি খাদ্য গুদাম পরিদর্শন করেন। এ সময় খাদ্য গুদামে নিয়োজিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পৃথকভাবে সাক্ষ্য গ্রহন করেন।

ভারপ্রাপ্ত খাদ্য কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসানের নির্দেশে গত মঙ্গলবার সকালে সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে ফুলতলা সদর ইউনিয়নে সরকারি কর্মসূচির আওতায় ৫১২ বস্তা ভিজিডি চাল বের করার সময় রহস্যজনকভাবে গুদাম শ্রমিকেরা অতিরিক্ত ২ মেট্্িরক টন চাল চুরি করে বিক্রির জন্য বের করা হয়। পরে চুরিকৃত ওই চাল অভয়নগরে বিক্রির নেয়ার সময় যুগ্নিপাশা এলাকায় জনতার হাতে আটকের পর পুলিশ সেটি জব্দ এবং মামলা করে। ওই মামলায় নসিমন চালক শহিদুল জমাদ্দার, গুদাম শ্রমিক আইয়ুব আলী এবং অভয়নগরের চাল ব্যবসায়ী আল আমিনকে আসামি করে মামলা হয়। এদের মধ্যে শহিদুল ও আইয়ুব আলীকে আটক, আদালতের জবানবান্দ শেষে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। তবে চাল পাচারের নির্দেশদাতা ভারপ্রাপ্ত খাদ্য কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসানের নামে এখনও মামলা হয়নি এবং তিনি রয়েছেন বহাল তবিয়াতে। এদিকে খুলনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ বাবুল হোসেন বলেন, গুদামের চাল চুরি ঘটনা জানতে পেওে তিনি জেলা সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রন কর্মকর্তা মোঃ জাহিদুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন কারিগরি খাদ্য পরিদর্শক মোঃ নোমান এবং ফুলতলা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ মিজানুর রহমান। তদন্ত কমিটি বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে তদন্ত কাজ শুরু করেছে । তিন কর্ম দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন পেশ করতে বলা হয়েছে।

এদিকে প্রথম দিনের তদন্ত শেষে কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয় গতকাল সকালে খাদ্য গুদাম পরিদর্শন, খামাল ও ষ্টক লেজার মিলানো হয়। পরে ভারপ্রাপ্ত খাদ্য কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান, নিরাপত্তা প্রহরী মোঃ জাকারিয়া, মোজাম্মেল হক, আমিনুল ইসলাম, এবং শ্রমিক সরদার আঃ মান্নানের লিখিত সাক্ষ্য গ্রহন করা হয়েছে। খাদ্য গুদামের নিরাপত্তায় স্থাপিত সিসি ক্যামেরায় আট ভ্যানযোগে ভিজিডির ৫১২ বস্তা চালের সাথে এক নসিমনে প্লাষ্টিকের বস্তায় ৪০ বস্তা চাল গুদাম থেকে বের হতে দেখা যায়। তবে বিষয়টি তদন্তধীন বিধায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার পূর্বে এ বিষয়ে কিছু বলা যাবে না বলে জানিয়েছেন তদন্ত কমিটির সদস্য উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ মিজানুর রহমান।

খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রত্যক্ষ নির্দেশনা ছাড়া একদানা শস্য লোড বা আনলোড হয় না বলে জানালেন ফুলতলা সরকারি খাদ্য গুদামে কর্মরত শ্রমিকেরা। তারই নির্দেশনায় ওই দিন ৫১২ বস্তা ভিজিডির সাথে সরকারি চাল অতিরিক্ত ২ মেট্্িরক টন চাল গুদাম থেকে বের করা হয়। অপরদিকে ভারপ্রাপ্ত খাদ্য কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, এক হাজার মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতার খাদ্য গুদাম এখন তিন হাজার মেট্রিক টন  গুদামে রুপান্তরিত হয়েছে, ফলে চাপ একটু বেশি। তাছাড়া বিষয়টি যেহেতু এখন তদন্তধীন। সেহেতু এ বিষয়ে এখন মন্তব্য করা যাবে না।