তালুকদার আব্দুল খালেকের নেতৃত্বে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকলে অচিরেই খুলনা একটি সমৃদ্ধ নগরীতে পরিণত হবে : সিলেট সিটি মেয়র

ইউনিক প্রতিবেদক:

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, খুলনা সিটি মেয়র আলহাজ¦ তালুকদার আব্দুল খালেক দেশের বর্তমান মেয়রদের মধ্যে অন্যতম প্রবীণ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তি। কর্মবীর এ মেয়রের কাছ থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে। তাঁর নেতৃত্বে খুলনা মহানগরীতে উন্নয়নের যে ধারা সূচিত হয়েছে তা অব্যাহত থাকলে অচিরেই খুলনা একটি সমৃদ্ধ নগরীতে পরিণত হবে।
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট, এ্যাসফল্ট প্লান্ট, ই-গভর্ণ্যান্স ও উদ্ভাবন কর্মপরিকল্পনা এবং রাজস্ব আদায় কার্যক্রম বিষয়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশন থেকে আগত প্রতিনিধি দলের সাথে শনিবার দুপুরে নগর ভবনের শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত কেসিসি পরিবারের এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সিলেট সিটি মেয়র এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি আরো বলেন, নাগরিকদের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সেবা সিটি কর্পোরেশন থেকে দেয়া হয়। তবে উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও সেবাদানের ক্ষেত্রে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানসমূহের সাথে সমন্বয় না থাকায় অনেক সময় অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়। উভয় সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে পারস্পারিক পরামর্শ ও অভিজ্ঞতা আদান-প্রদান করা গেলে উদ্ভুত সমস্যা সমাধানে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা সিটি মেয়র আলহাজ¦ তালুকদার আব্দুল খালেক।
সভাপতির বক্তৃতায় কেসিসি মেয়র আগত অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, সিলেট একটি সমৃদ্ধ নগরী। সে তুলনায় খুলনা ছিল অনেকটাই অবহেলিত। ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর থেকে মূলত: এ অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত হয়। তিনি মোংলা বন্দর, মোংলা ইপিজেড, খান জাহান আলী সেতু, খুলনা মোংলা রেল লাইন ও রেল সেতুসহ খুলনা মহানগরীর উন্নয়নে প্রায় ১৪’শ কোটি টাকার বরাদ্দের বিষয়ে উল্লেখ করে বলেন, এ সকল প্রকল্পে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং এ অঞ্চলের মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন ঘটেছে। উভয় সিটি কর্পোরেশনের অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহযোগিতা আদান-প্রদান সম্ভব হলে উভয় শহরের নাগরিকবৃন্দ উপকৃত হবেন বলেন সিটি মেয়র আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, সিলেট সিটি মেয়রের নেতৃত্বে ৪৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ৩ দিনের এক্সচেঞ্জ ভিজিটে বর্তমানে খুলনা সফর করছেন। সভায় সিলেট সিটি মেয়র কেসিসি মেয়রসহ কাউন্সিলর ও কর্মকর্তাদের সিলেট ভ্রমণের আমন্ত্রণ জানান।
সভার শুরুতে কেসিসি মেয়র সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও মেয়র পত্নী শ্যামা হক চৌধুরী’কে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান এবং উভয় মেয়র পরস্পর পরস্পরকে শুভেচ্ছা স্মারক হিসেবে ক্রেস্ট উপহার দেন। এছাড়া আগত মেয়র প্যানেলের সদস্য, কাউন্সিলর, সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর ও কর্মকর্তাদের কেসিসি’র মেয়র প্যানেলের সদস্য, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর ও কর্মকর্তাগণ ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান। সভায় কেসিসি’র বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের একটি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়।
কেসিসি’র সচিব মো: আজমুল হক এর সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় নিজ নিজ সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্যানেলের সদস্য এ্যাড. রোকসানা বেগম শাহনাজ, কাউন্সিলর মো: আজম খান ও এস এম শওকত আমীন তৌহিদ, কেসিসি’র মেয়র প্যানেলের সদস্য এ্যাড. মেমরী সুফিয়া রহমান শুনু ও কাউন্সিলর শেখ হাফিজুর রহমান হাফিজ বক্তৃতা করেন। স্বাগত বক্তৃতা করেন কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লস্কার তাজুল ইসলাম। কেসিসি’র মেয়র প্যানেলের সদস্য মো: আলী আকবর টিপুসহ উভয় সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর, সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর ও কর্মকর্তাগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সাতক্ষীরায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ বোর্ড বাতিল!
ইউনিক প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা :
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার খেজুরডাঙা আর কে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের তিন শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের বোর্ড বাতিল করা হয়েছে। সদর উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহিদুর রহমানের তদারকিতে শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় দক্ষিণ কাটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪০ লাখ টাকা লেনদেনের বিনিময়ে এ পাতানো নিয়োগ বোর্ড হচ্ছিল। খবর পেয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এ নিয়োগ বোর্ড বাতিল করে দিয়েছেন।
শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দক্ষিণ কাটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বেশ কিছু অচেনা লোকের আনা-গোনা দেখে স্থানীয়রা বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান। খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে ওই বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণীকক্ষে দুই নারীসহ ১১জনকে বসে থাকতে দেখা যায়। তাদের কাছে পরীক্ষা সংক্রান্ত প্রবেশপত্র ছিল। তবে তারা কোন বিষয়ে পরীক্ষা দেবেন তা নিয়ে তাৎক্ষণিক কেউ মুখ খোলেননি।
সেখানকার দায়িত্বপালনকারী জনৈক হাবিবুর রহমান নিজেকে খেজুরডাঙা আর কে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উল্লেখ করে বলেন, এখানে একটা মিটিং হচ্ছে। কিসের মিটিং হচ্ছে জানতে চাইলে ওই বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহিদুর রহমানের সঙ্গে কথা বলতে বলেন।
একপর্যায়ে প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান তার বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইদ্রিস আলীর কাছে ফোন ধরিয়ে দিয়ে তার সঙ্গে কথা বলতে বলেন। ইদ্রিস আলী বলেন, সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে একজনের স্থায়ীকরণ, একজন প্রহরী ও একজন পরিচ্ছন্নতা কর্মীর নিয়োগ পরীক্ষা সেখানে অনুষ্ঠিত হবে।
একপর্যায়ে বিষয়টি প্রকাশ হয়ে গেলে রাগতস্বরে প্রধান শিক্ষক বলেন, তিনি আশাশুনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মোস্তাকিমের চাচাত ভাই। তার বোন ফারজানা আক্তার কারিমা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। তাই সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহিদুর রহমান নিয়োগ বোর্ডের সবাইকে ম্যানেজ করেই আগে থেকে প্রহরী পদে ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী পদে তাহমিদ ও জাহিদকে নিশ্চয়তা দিয়েই বিশেষ প্রক্রিয়ায় কোরাম পূর্ণ করে এ পরীক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। নিয়োগের ব্যাপারে স্থানীয় কাফেলা ও একটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয় বলে জানান তিনি। দক্ষিণ কাটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে তিনি সেখানে পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছেন। বিষয়টি নিয়ে পত্রিকায় সংবাদ পরিবেশন না করার জন্য তিনি অনুরোধ করেন।
আগে থেকে ঠিক করে রাখা সহকারী প্রধান শিক্ষক গোপীনাথপুরের দেবেন গাইন বলেন, তিনি ১৯৯৫ সালের পহেলা জানুয়ারি থেকে ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে এমপিওভুক্ত। তার বেসিক বেতন ২২ হাজার টাকা। বর্তমানে তিনি সহকারী প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করলেও অনুমোদিত না হওয়ায় সহকারী প্রধান শিক্ষকের বেতন অনুযায়ী বেসিক ২৩ হাজার টাকা বেতন পাচ্ছেন না। তাই সবার সহযোগিতায় তিনি ওই পদে নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অনুমোদন পাওয়ার জন্য এ পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। তবে কোরাম পূরণের জন্য প্রধান শিক্ষকের বোন কারিমা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ফারজানা আক্তার ও বাঁশদহা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক তৃপ্তি রানীকে আনা হয়েছে।
খেজুরডাঙা গ্রামের কণ্ঠরাম সরকারের ছেলে প্রবেশ সরকার বলেন, তাকে প্রহরী পদে নিয়োগ দেওয়ার জন্য দাবিকৃত আট লাখ টাকার পরিবর্তে ছয় লাখ টাকা নিলেও চাকরির বয়স নেই দেখিয়ে তাকে পরীক্ষার কার্ড দেওয়া হয়নি।
খেজুরডাঙা গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান সাজু বলেন, পাঁচ মাস আগে পাতানো নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে একজন প্রহরী নেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন। মামলার কারণে ওই সময় পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যায়। এখন প্রধান শিক্ষক উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে সমঝোতা করে তিনজনের কাছ থেকে কমপক্ষে ৪০ লাখ টাকা নিয়ে পাতানো নিয়োগ বোর্ডের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে তিনি জেনেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক বলেন, এধরনের পাতানো নিয়োগ বোর্ডের আয়োজনে বেশ দক্ষ সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহিদুর রহমান। শুক্রবারের এ নিয়োগে তিনি ৫ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন।
সাতক্ষীরা সদরের খেজুরডাঙা আর কে মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি লাবসা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আলীম সাংবাদিকদের বলেন, পরীক্ষা হওয়ার কথা তিনি জানেন। তবে কোথায় হচ্ছে এটা তাকে অবহিত করা হয়নি। এতে অর্থনৈতিক লেনদেন এর অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।
দক্ষিণ কাটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নবনির্বাচিত সভাপতি জুনায়েত হোসেন বায়রন বলেন, তাদের বিদ্যালয়ে নিয়োগ পরীক্ষা হচ্ছে এমনটি তাকে কেউ অবহিত করেনি।
সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষাক কর্মকর্তা জাহিদুর রহমান বলেন, নিয়ম মেনেই নিয়োগ বোর্ড পরিচালনা করা হচ্ছে। কেন গোপনে বোর্ড বসানো হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে প্রথমে তিনি বলেন, সভাপতি আসতে দেরি করাতে বোর্ড বাতিল হয়েছে। সভাপতি বোর্ড বসানোর স্থান সম্পর্কে জানেন না, এমন কথা জানানো হলে তিনি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। তবে ৫ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেছেন।
সাতক্ষীরা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বিষয়টি তাকে অবহিত করা হয়নি। তবে খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পাতানো নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

নিলামে উঠছে মোংলা বন্দরে পড়ে থাকা ১৩২ টি গাড়ি

ইউনিক প্রতিবেদক : মোংলা বন্দরে দীর্ঘদিন পড়ে আছে আমদানি হওয়া ২ হাজার ৮৮৪ টি রিকন্ডিশন গাড়ি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খারিজ না হওয়ায় এসব গাড়ির মধ্যে বিভিন্ন মডেলের ১৩২টি গাড়ি নিলামে উঠছে। ১৮ জানুয়ারি এই নিলাম অনুষ্ঠিত হবে। মোংলা কাস্টমস হাউসের নিলাম শাখার রাজস্ব কর্মকর্তা আবু বাসার সিদ্দিকী এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, নিলামে ওঠা ১৩২ টির মধ্যে হাইয়েস, নোহা, প্রাডো, নিশান পেট্রলসহ ১৬ টি ব্র্যান্ডের গাড়ি রয়েছে। মোংলা বন্দরে আমদানি হওয়া এসব গাড়ি নির্দিষ্ট ৩০ দিনের মধ্যে খারিজ করাতে ব্যার্থ হয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাই নিয়মানুযায়ী নিলামে উঠছে এসব গাড়ি।

এর আগে গত বছর ২১ বার নিলামে ওঠে প্রায় দুই হাজার গাড়ি। নিলামে অংশ নেওয়া সর্বোচ্চ দরদাতার তালিকা প্রকাশের পর বিক্রির আদেশ দেওয়া হবে, যোগ করেন রাজস্ব কর্মকর্তা আবু বাসার সিদ্দিকী।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী ট্রাফিক ম্যানেজার মো. কুদরত আলী শেখ বলেন, মোংলা বন্দরে ২০০৯ সালের ৩ জুন ২৫৫টি রিকন্ডিশন গাড়ির আমদানি শুরু হয়। হক-বে অটোমোবাইল কোম্পানি প্রথম এই বন্দরে গাড়ি আমদানি করে। এ পর্যন্ত এক লাখ ৪৬ হাজার ১৬৩ টি গাড়ি আমদানি হয়েছে এই বন্দরে। এক লাখ ৪৩ হাজার ২৭৯ টি গাড়ি বিক্রি ও নিলামের মধ্যে দিয়ে ডেলিভারি হয়। বর্তমানে বন্দর জেটির বিভিন্ন শেডে দুই হাজার ৮৮৪ টি গাড়ি রক্ষিত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশ রিকন্ডিশন ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বারবিডা) সভাপতি আব্দুল হক বলেন, করোনার কারণে গত দুই বছর তাদের সদস্যর চার হাজার বিক্রয়কেন্দ্র বন্ধ ছিল। এতে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন তারা। এই অবস্থায় বন্দরে পড়ে থাকা গাড়িগুলোর নিলাম বন্ধের দাবি জানান তিনি।

প্রতিশোধ নিতে ব্যাংকে আগুন

ইউনিক প্রতিবেদক : রেগে গেলে কিংবা প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য মানুষ কত কিছুই না করে। তবে ব্যাংকে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার ঘটনা বেশ বিরল। ঋণ পেতে ব্যাংকটিতে আবেদন করেছিলেন একজন ব্যক্তি। কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। এই খবর শুনে রাগের মাথায় ব্যাংকের ওই শাখায় আগুন ধরিয়ে দেন তিনি। এই অপরাধে আটক করা হয়েছে ওই ব্যক্তিকে। তাঁর নামে মামলা করেছে পুলিশ।

ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য কর্ণাটকের ঘটনা। গতকাল মঙ্গলবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজ্যের হাভেরি জেলায় বায়াদগি তালুকের হেদিগোন্দা গ্রামে কানাড়া ব্যাংকের একটি শাখায় গত শনিবার রাতে এ ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম ওয়াসিম হযরতসাব মোল্লাহ (৩৩)।

পুলিশ জানায়, ব্যাংকটির ওই শাখায় ঋণের জন্য আবেদন করেছিলেন ওয়াসিম। তবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর গত শনিবার তাঁর সেই আবেদন বাতিল করে দেয়। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন তিনি। প্রত্যাখ্যানের প্রতিশোধ নিতে রাতের আঁধারে পেট্রল নিয়ে ব্যাংকটিতে ফিরে আসেন ওয়াসিম। এরপর জানালা দিয়ে তা ভবনের ভেতরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন তিনি।

এই ঘটনায় প্রায় ১৬ লাখ রুপির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ব্যাংকটির কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ব্যাংকটির কাউন্টার ও কেবিন—দুই জায়গাই আগুনে পুড়েছে। পাঁচটি কম্পিউটার, সিসিটিভি সিস্টেম, স্ক্যানার, ফ্যান, প্রিন্টারসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সামগ্রী এবং কিছু আসবাব ও নথিপত্র পুড়ে ছাই হয়েছে। তবে ব্যাংকটিতে থাকা নগদ অর্থ আগুনে পোড়েনি।

অগ্নিকাণ্ডের পরপরই দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন ওয়াসিম। এ সময় স্থানীয় লোকজন তাঁকে আটক করেন। পরে পুলিশের হাতে তাঁকে তুলে দেওয়া হয়। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৩৬, ৪৭৭ ও ৪৩৫ ধারা মোতাবেক অভিযোগ আনা হয়েছে। এই ঘটনার তদন্ত চলছে।

জাতীয়, উন্মুক্ত ও ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টিকা দিতে ‘বিশেষ সপ্তাহ’ নির্ধারণ

ইউনিক প্রতিবেদক : জাতীয়, উন্মুক্ত ও ইসলামি আরবি এ তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যেসব শিক্ষার্থী এখনো করোনার টিকা নিতে পারেননি, তাঁদের টিকার আওতায় আনতে ‘বিশেষ সপ্তাহ’ পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ১৬ জানুয়ারি থেকে এই সপ্তাহ শুরু হবে।

শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির সঙ্গে ওই তিন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। সভায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এই সভা হয়।

সভায় উপস্থিত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বিশেষ সপ্তাহ’ চলার সময়ে প্রতিটি উপজেলা বা থানায় শিক্ষার্থীদের টিকা নেওয়ার জন্য নির্ধারিত কেন্দ্র (বুথ) করা হবে। সেখানে উল্লিখিত তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা টিকা নিতে পারবেন। তবে এ জন্য শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র দেখাতে হবে।

সভায় জানানো হয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, তাদের মোট শিক্ষার্থী ৩৪ লাখ ২৫ হাজার ৮৩২ জন। এর মধ্যে গত বছরের অক্টোবর পর্যন্ত আট লাখের মতো শিক্ষার্থী টিকা নিয়েছেন, এমন তথ্য জেনেছে বিশ্বববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সেই হিসাবে এখনো ২৬ লাখের মতো শিক্ষার্থী টিকার বাইরে। তবে গত দুই মাসে আরও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী টিকা নিয়েছেন বলে ধারণা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। এখন সেই তথ্য হালনাগাদ করা হচ্ছে।

ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত মাদ্রাসাগুলোর শিক্ষার্থী প্রায় দুই লাখ। এর মধ্যে এক লাখের মতো শিক্ষার্থী এখনো টিকা নেননি। আর উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের টিকাসংক্রান্ত তথ্য জানা যায়নি।

গত সোমবার শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী ৭৫ লাখ ৫৪ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীকে ৩১ জানুয়ারির মধ্যে করোনার টিকা দেওয়া হবে। এই টিকা দিতে শিক্ষার্থীদের টিকা নিবন্ধনের নিয়মও শিথিল করা হয়েছে।

সাতক্ষীরায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীর গোপন নিয়োগ বোর্ড বাতিল!

ইউনিক প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা :
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার খেজুরডাঙা আর কে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের তিন শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের বোর্ড বাতিল করা হয়েছে। সদর উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহিদুর রহমানের তদারকিতে শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় দক্ষিণ কাটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪০ লাখ টাকা লেনদেনের বিনিময়ে এ পাতানো নিয়োগ বোর্ড হচ্ছিল। খবর পেয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এ নিয়োগ বোর্ড বাতিল করে দিয়েছেন।
শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দক্ষিণ কাটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বেশ কিছু অচেনা লোকের আনা-গোনা দেখে স্থানীয়রা বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান। খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে ওই বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণীকক্ষে দুই নারীসহ ১১জনকে বসে থাকতে দেখা যায়। তাদের কাছে পরীক্ষা সংক্রান্ত প্রবেশপত্র ছিল। তবে তারা কোন বিষয়ে পরীক্ষা দেবেন তা নিয়ে তাৎক্ষণিক কেউ মুখ খোলেননি।
সেখানকার দায়িত্বপালনকারী জনৈক হাবিবুর রহমান নিজেকে খেজুরডাঙা আর কে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উল্লেখ করে বলেন, এখানে একটা মিটিং হচ্ছে। কিসের মিটিং হচ্ছে জানতে চাইলে ওই বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহিদুর রহমানের সঙ্গে কথা বলতে বলেন।
একপর্যায়ে প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান তার বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইদ্রিস আলীর কাছে ফোন ধরিয়ে দিয়ে তার সঙ্গে কথা বলতে বলেন। ইদ্রিস আলী বলেন, সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে একজনের স্থায়ীকরণ, একজন প্রহরী ও একজন পরিচ্ছন্নতা কর্মীর নিয়োগ পরীক্ষা সেখানে অনুষ্ঠিত হবে।
একপর্যায়ে বিষয়টি প্রকাশ হয়ে গেলে রাগতস্বরে প্রধান শিক্ষক বলেন, তিনি আশাশুনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মোস্তাকিমের চাচাত ভাই। তার বোন ফারজানা আক্তার কারিমা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। তাই সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহিদুর রহমান নিয়োগ বোর্ডের সবাইকে ম্যানেজ করেই আগে থেকে প্রহরী পদে ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী পদে তাহমিদ ও জাহিদকে নিশ্চয়তা দিয়েই বিশেষ প্রক্রিয়ায় কোরাম পূর্ণ করে এ পরীক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। নিয়োগের ব্যাপারে স্থানীয় কাফেলা ও একটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয় বলে জানান তিনি। দক্ষিণ কাটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে তিনি সেখানে পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছেন। বিষয়টি নিয়ে পত্রিকায় সংবাদ পরিবেশন না করার জন্য তিনি অনুরোধ করেন।
আগে থেকে ঠিক করে রাখা সহকারী প্রধান শিক্ষক গোপীনাথপুরের দেবেন গাইন বলেন, তিনি ১৯৯৫ সালের পহেলা জানুয়ারি থেকে ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে এমপিওভুক্ত। তার বেসিক বেতন ২২ হাজার টাকা। বর্তমানে তিনি সহকারী প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করলেও অনুমোদিত না হওয়ায় সহকারী প্রধান শিক্ষকের বেতন অনুযায়ী বেসিক ২৩ হাজার টাকা বেতন পাচ্ছেন না। তাই সবার সহযোগিতায় তিনি ওই পদে নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অনুমোদন পাওয়ার জন্য এ পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। তবে কোরাম পূরণের জন্য প্রধান শিক্ষকের বোন কারিমা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ফারজানা আক্তার ও বাঁশদহা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক তৃপ্তি রানীকে আনা হয়েছে।
খেজুরডাঙা গ্রামের কণ্ঠরাম সরকারের ছেলে প্রবেশ সরকার বলেন, তাকে প্রহরী পদে নিয়োগ দেওয়ার জন্য দাবিকৃত আট লাখ টাকার পরিবর্তে ছয় লাখ টাকা নিলেও চাকরির বয়স নেই দেখিয়ে তাকে পরীক্ষার কার্ড দেওয়া হয়নি।
খেজুরডাঙা গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান সাজু বলেন, পাঁচ মাস আগে পাতানো নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে একজন প্রহরী নেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন। মামলার কারণে ওই সময় পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যায়। এখন প্রধান শিক্ষক উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে সমঝোতা করে তিনজনের কাছ থেকে কমপক্ষে ৪০ লাখ টাকা নিয়ে পাতানো নিয়োগ বোর্ডের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে তিনি জেনেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক বলেন, এধরনের পাতানো নিয়োগ বোর্ডের আয়োজনে বেশ দক্ষ সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহিদুর রহমান। শুক্রবারের এ নিয়োগে তিনি ৫ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন।
সাতক্ষীরা সদরের খেজুরডাঙা আর কে মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি লাবসা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আলীম সাংবাদিকদের বলেন, পরীক্ষা হওয়ার কথা তিনি জানেন। তবে কোথায় হচ্ছে এটা তাকে অবহিত করা হয়নি। এতে অর্থনৈতিক লেনদেন এর অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।
দক্ষিণ কাটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নবনির্বাচিত সভাপতি জুনায়েত হোসেন বায়রন বলেন, তাদের বিদ্যালয়ে নিয়োগ পরীক্ষা হচ্ছে এমনটি তাকে কেউ অবহিত করেনি।
সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষাক কর্মকর্তা জাহিদুর রহমান বলেন, নিয়ম মেনেই নিয়োগ বোর্ড পরিচালনা করা হচ্ছে। কেন গোপনে বোর্ড বসানো হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে প্রথমে তিনি বলেন, সভাপতি আসতে দেরি করাতে বোর্ড বাতিল হয়েছে। সভাপতি বোর্ড বসানোর স্থান সম্পর্কে জানেন না, এমন কথা জানানো হলে তিনি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। তবে ৫ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেছেন।
সাতক্ষীরা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বিষয়টি তাকে অবহিত করা হয়নি। তবে খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পাতানো নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

সরকারের নির্দেশনা মেনে চললে লকডাউনের প্রয়োজন হবে না : স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক

ইউনিক প্রতিবেদক, ,মানিকগঞ্জ : 

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, সরকারের ১১টি গাইড লাইন মেনে চললে আমাদের লকডাউনের প্রয়োজন হবে না। প্রয়োজনে লকডাউনের চিন্তা করা হবে।

আজ শনিবার দুপুরে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে সিটি স্ক্যান মেশিন ও ডায়ালাইসিস ইউনিট উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এই কথা বলেন।

জাহিদ মালেক বলেন, সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও করোনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। গতকালের হিসাবে একদিনে চার হাজার চারশ জন সংক্রামিত হয়েছে। এ হিসাবে সংক্রমণের হার প্রায় ১৩ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। প্রতিদিন ৩ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ অবস্থায় আমাদের সবাইকে মাস্ক পড়তে হবে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। সবাইকে টিকা নিতে হবে।

তিনি বলেন, আমাদের টিকার কোনো ঘাটতি নেই। এরই মধ্যে সোয়া ১৪ কোটি ডোজ টিকা দেয়া হয়েছে। আর প্রায় ৭০ লাখ শিক্ষার্থী টিকা পেয়েছে।

মন্ত্রী আরো বলেন, প্রতিটি জেলা হাসপাতালে সিটি স্ক্যান মেশিন ও দশ বেডের ডায়ালাইসিস ইউনিট স্থাপন করা হবে।

টেকসই বেড়িবাঁধ পুনঃনির্মাণ ও সুপেয় পানির দাবীতে শ্যামনগরে মানববন্ধন

ইউনিক প্রতিবেদক, শ্যমানগর, সাতক্ষীরা : 

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাব চত্ত্বরে লিডার্স এর সহযোগিতায় শ্যামনগর উপজেলা জলবায়ু অধিপরার্শ ফোরাম, শ্যামনগর উপজেলা যুব ফোরাম, সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলন এর আয়োজনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে উপকূলীয় এলাকায় টেকসই বেড়িবাঁধ পুনঃনির্মান ও সুপেয় পানির নিশ্চয়তার দাবীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয় ।

শনিবার সকাল ১০ টায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন শ্যামনগর উপজেলা জলবায়ু অধিপরামর্শ ফোরামের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাস্টার নজরুল ইসলাম, মানববন্ধনে বক্তৃতা করেন ফোরামের সদস্য ও শ্যামনগর আতরজান মহিলা মহাবিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মানবেন্দ্র দেবনাথ, উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এস. এম জাহিদ সুমন, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম. কামরুজ্জামান, সমাজ সেবক কুমুদ রঞ্জন গায়েন, যুব ফোরামের সভাপতি মমিনুর রহমান, সিডওি ইয়থ টিমের সংগঠক হাফিজুর রহমান, সামিউল ইসলাম মুন্না, মোঃ আবুজার, স্বরুপ ইয়থ টিমের প্রতিষ্ঠা পরিচালক জান্নাতুল নাইম, লিডার্স এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার এস.এম. মনোয়ার হোসেন, মনিটরিং অফিসার রনজিৎ কুমার মন্ডল প্রমুখ।

মানবনন্ধনে বক্তারা বলেন, “বৈশি^ক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারনে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ক্রমবর্ধমান হারে বেড়ে চলেছে। উচ্চ জোয়ারের প্রভাবে দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় বেড়িবাঁধ ভেঙে লোনা পানিতে মানুষের জীবন-জীবিকা, সম্পদ, খাদ্য, পানি, বাসস্থানসহ অন্যান্য সংকট সৃষ্টি করেছে। ২০২১ সালে ২৬ মে সাইক্লোন ইয়াস এর প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় উচ্চ জোয়ারের কারনে সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর, আশাশুনি, কালিগঞ্জ উপজেলা, খুলনা জেলার কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলা এবং বাগেরহাট জেলার শরণখোলা, মোড়লগঞ্জ ও মংলা উপজেলা বেড়িবাঁধ উপচিয়ে পানি ভিতরে প্রবেশ করে ভয়াবহ ক্ষতি সাধন করেছে। বর্ষা মৌসুম নদীর খর স্রোত ও উচ্চ জোয়ারের কারনে বেড়িবাঁধ ভেঙে আবারও প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। ফলে মানুষের জীবন-জীবিকা, সম্পদ, খাদ্য, পানি, বাসস্থানসহ অন্যান্য সংকট আরও বৃদ্ধি পাবে।

সম্প্রতি সরকার ২টি মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে যা এ এলাকার মানুষের দাবী ছিল। কিন্তু উক্ত প্রকল্পের কাজ এখনও শুরু হয়নি। তাছাড়া এই ২টি প্রকল্প দিয়ে সকল ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ নির্মানও সম্ভব নয়। এ এলাকার মানুষের রক্ষার জন্য দ্রুত টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মানের জন্য দাবী করছি। পানি উন্নয়ন বোর্ড যেন মেগা প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থ সঠিকভাবে বেড়িবাঁধের জন্য ব্যয় করেন উপকূলের মানুষের এই দাবী। আমাদের দাবী সমূহঃ ১. জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগকে মাথায় রেখে সকল পোল্ডারে স্থায়ী ও মজবুত বেড়িবাঁধ পুনঃনির্মান করতে হবে, ২. উপকূলীয় সকল মানুষের খাবার পানির টেকসই ও স্থায়ী সমাধান করতে হবে, ৩. “একটি বাড়ি একটি শেল্টার” ডিজাইন তৈরি করে মডেল বাড়ি নির্মান ও এই বাড়ি নির্মানে প্রনোদনা দিতে হবে।”