ফুলতলায় হাত বাঁধা অবস্থায় সিএনজি চালকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

ফুলতলা (খুলনা) প্রতিনিধি// ফুলতলায় হাত বাঁধা অবস্থায় মাসুদ রানা (২৮) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার রাত ৯টায় উপজেলা ফুলতলা ইউনিয়নের রাড়ীপাড়া গ্রামের হরমুজ খাঁর ভাড়া বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মাসুদ রানা যশোর সদরের মোঃ রফিকুল ইসলামের পুত্র।

ফুলতলা ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আবুল বাশার বলেন, সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে লোকমুখে খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের আড়ার সাথে মাসুদ রানার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান। তার পা ছিল মেঝেতে লাগানো এবং হাত দুটি রশি দিয়ে পেছনে বাঁধা ছিল। মাসুদের স্ত্রী মুসলিমা খাতুন (২২) বলেন, সোমবার সকালে স্বামী ও নয়মাস বয়সী পুত্র সন্তানকে নিয়ে যশোর কোতয়ালী এলাকায় এনায়েতপুরে বাবার বাড়িতে বেড়াতে যাই। দুপুরে খাওয়ার পর মাসুদ ফুলতলায় ফিরে আসতে বলে। কিন্তু আমি থেকে যেতে চাইলে সে অভিমান করে একাই চলে যায়। সন্ধায় আত্মহত্যার কথা জানতে পারি।

ফুলতলা থানার ওসি (তদন্ত) এস এম শাহাদাত হোসেন বলেন, আত্মহত্যার খবর পেয়ে রাত ৯টায় হরমুজ খাঁর বাড়িতে গিয়ে সিএনজি চালক মাসুদ রানার লাশের সুরতহাল রিপোর্ট শেষে থানায় আনা হয়। ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। রিপোর্ট পেলেই হত্যা নাকি আত্মহত্যা সেটি নিশ্চিত হওয়া যাবে। মাসুদ ৬মাস ধরে ওই বাড়িতে স্ত্রী ও সন্তানসহ ভাড়া থাকতেন। এ ব্যাপারে ফুলতলা থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

ফুলতলায় শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালন

ফুলতলা (খুলনা) প্রতিনিধি// ফুলতলায় আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার ৪২তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ¦ শেখ আকরাম হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি বিএমএ সালাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এস মৃনাল হাজরা, বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আশরাফ হোসেন আশু। শহিদুল্লাহ প্রিন্সের সঞ্চালনায় বক্তৃতা করেন জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক কৃষি বিষয়ক সম্পাদক মোঃ আসলাম খান, উপজেলা যুগ্ম সাধারন সম্পাদক নেতা আবু তাহের রিপন, মোশারফ হোসেন মোড়ল, কামরুজ্জামান নান্নু, জেলা যুবলীগ নেতা সরদার জাকির হোসেন, আলী আযম মোহন, ইসমাইল হোসেন বাবলু, ইউপি চেয়ারম্যান শরীফ মোহাম্মাদ ভুইয়া শিপলু, এসকে আলী ইয়াছিন, শেখ মিজানুর রহমান, রবিন বসু, শামসুন্নাহার বেগম, শাপলা সুলতানা লিলি, ইদ্রিস আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা সুবোধ কুমার বসু, সৈয়দ তুরান, মোঃ মাহাবুব হোসেন, মোঃ জাহিদ বিশ্বাস, আঃ সাত্তার মামুন, আশরাফুল আলম কচি, রবিউল ইসলাম, প্রদ্যুৎ বিশ্বাস, জাসেম আল জাবেদ, খায়রুজ্জামান সবুজ, রেদোয়ান রেদো, মঈনুল ইসলাম নয়ন, মিরাজুল ইসলাম বাধন, সাদমান খান সুপ্ত প্রমুখ। দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা ফজলুল করিম।

দাকোপে অবিক্রিত তরমুজ এখন গো খাদ্য চাষিদের বোবা কান্না

আজগর হোসেন ছাব্বির, দাকোপঃ চৈত্রের তীব্র তাপদাহ উপেক্ষা করে ঘাম ঝরানো শ্রম আর সমিতি ও মহাজন থেকে সুদে নেওয়া লক্ষ লক্ষ টাকা বিনিয়োগে উৎপাদিত তরমুজ এখন গো খাদ্য। পাইকারী বাজারে চাহিদা না থাকায় খুলনার দাকোপের অধিকাংশ মাঠেই পড়ে আছে লক্ষ টাকার তরমুজ। ফলে ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে দিশেহারা চাষিদের চোখে মুখে বোবা কান্নার ছাপ।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, শষ্য ভান্ডারখ্যাত দাকোপে এবার ৭ হাজার ৬০৫ হেক্টর জমিতে তরমুজ উৎপাদন হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগন। কিন্তু অধিক শ্রম আর বিনিয়োগের মাধ্যমে উৎপাদিত তরমুজ এখন চাষিদের গলার কাটা হয়ে দাড়িয়েছে। খুচরা বাজারে ভোক্তারা ৪০/৫০ টাকা কেজি দরে যখন মৌসুমী এই ফল কিনতে বাধ্য হচ্ছে। অথচ পাইকারী আড়ৎ গুলোতে এর যেন কোন মূল্যই নেই। গত বছর ১ বিঘা জমির ফলন বিক্রি হয়েছিল লক্ষাধীক টাকায়। অথচ এ বছর মাঠ পর্যায়ে কোন বেপারীর দেখাই মিলছেনা। ফলে মাঠের পর মাঠ অবিক্রিত তরমুজ এখন গো খাদ্যে পরিনত হয়েছে। পুঁজি বাঁচানোর শেষ চেষ্টা হিসাবে অনেক চাষি তরমুজ নিয়ে ছুটছেন রাজধানী ঢাকা চট্রগ্রাম রাজশাহী বগুড়াসহ দেশের বিভিন্ন পাইকারী বাজারে। উপজেলার লক্ষিখোলা গ্রামের চাষি বায়েজিদ শেখ দাবী করেছেন, সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা খরচে ১০ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। ক্রেতা না পাওয়ায় পুঁজি বাঁচাতে নিজেই মাল নিয়ে যান গাজীপুর পাইকারী আড়তে। সেখানে টানা ৪ দিনের প্রচেষ্টায় যে টাকায় মাল বিক্রি করেছেন সেটা দিয়ে পুঁজি ফিরে পাওয়া দূরে থাক। ফের বাড়ী থেকে টাকা নিয়ে গাড়ী ভাড়া পরিশোধ করতে হয়েছে। যে কারনে ক্ষেতে থাকা অবশিষ্ট মাল নিয়ে আড়তে যাওয়ার সাহস পাচ্ছেননা তিনি। চালনার বাসুদেব মন্ডল জানায়, তারা দু’জনে মিলে ১ লাখ ৬৬ হাজার টাকা খরচে ৬ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছিলেন। মাঠে ফড়িযা না পেয়ে বিক্রির জন্য মাদারীপুরের ভোরঘাটা মোকামে নিয়ে যায়। ৫ হাজার পিচ তরমুজ পরিবহনে দুই ট্রাকের ভাড়া সাড়ে ৩৮ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হয়। মাল বিক্রি করেছেন ৪২ হাজার ৪৩০ টাকায়। আড়তদারী খাজনা, ট্রাক ভাড়া ও কমিশন মিলে ৪২ হাজার ৪৩০ টাকার বিপরীতে তার নিকট পাওনা হয় ৪৬ হাজার ২৯৩ টাকা। নিরুপায় চাষি আড়তদারের হাতে পায়ে ধরে ১ হাজার টাকা দিয়ে বাড়ী ফিরে আসে।
দরপতনের কারন অনুসন্ধানে জানা গেছে, এবার দেরীতে উৎপাদিত ফলন রমজান মাসে বিক্রি উপযোগী না হওয়ায় মৌসুমী এই ফলের চাহিদা অনেকটাই কমে যায়। সংকটের বড় কারন অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা। পাইকারী বাজারে নেওয়ার উপযোগী ভারী ট্রাক বা লরি সরাসরি দাকোপে প্রবেশে আরোপিত বিধি নিষেধের কারনে মাঠ থেকে ছোট ট্রাক বা পিকাপ যোগে বটিয়াঘাটাতে এনে ভারী ট্রাকে লোড দিতে হয়েছে। ফলে গাড়ী প্রতি অতিরিক্ত ২৫/৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। অপরদিকে স্থানীয় এক শ্রেনীর দালালচক্র সিন্ডিকেট গড়ে তুলে পরিবহন ট্রাক লরি ব্যবসা নিয়ন্ত্রন করে। যে কারনে ১০ হাজার টাকার গাড়ী চাষিরা তাদের মাধ্যমে দ্বিগুন ভাড়ায় নিতে বাধ্য হয়। অর্থাৎ ১ গাড়ী মাল ক্ষেত থেকে পাইকারী আড়ত পর্যন্ত পৌছাতে সব মিলে ৪০/৫০ হাজার টাকা খরচ পড়ে যায়। যার প্রভাবে শ্রম ও বিনিয়োগের নায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত চাষিরা।
উপজেলা কৃষি অফিসার মেহেদী হাসান খান বলেন, নানা কারনে এবার সারা দেশে তরমুজ উৎপাদন অনেক বেশী হয়েছে। অর্থাৎ চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ বেশী থাকায় ক্রেতা সংকট দেখা দেয়। তাছাড়া দাকোপের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় পরিবহন খরচ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। অপরদিকে আম, লিচু বাজারে আসলে তরমুজের চাহিদা কমে যায়। সব কিছু মিলেই এবার তরমুজের দর পতন হয়েছে।
সাদা সোনা খ্যাত চিংড়ী চাষ বন্দ হওয়ার পর কৃষিকে ঘিরে উপকুলিয় উপজেলা দাকোপের অর্থনীতি আবার ঘুরে দাড়াতে শুরু করে। সম্ভবনাময় তরমুজ চাষের সাথে যুক্ত হয় দাকোপের প্রায় ৯০ ভাগ মানুষ। কিন্তু চলতি বছরের লোকসান অধিকাংশ চাষিদের নিঃস্ব করেছে। এনজিও সমিতি অথবা মহাজনি ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে দিশেহারা চাষিরা সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন। যে কোন মূল্যে প্রনোদনার আওতায় এনে দাকোপের চাষিদের বাঁচানোর আকুতি জানিয়েছেন তারা।

গম রপ্তানিতে ভারতের নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশের জন্য নয়

ইউনিক ডেস্কঃ ভারত গম রপ্তানি নিষিদ্ধ করেছে- সম্প্রতি এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশে খাদ্য সংকট তৈরি অথবা দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাপ্রকাশ করেছেন অনেকে। তবে এ নিয়ে খুব বেশি দুশ্চিন্তার কিছু নেই। কারণ প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশে ভারতের গম রপ্তানি বন্ধ হচ্ছে না। রোববার (১৫ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য নিশ্চিত করেছে ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভারতে গম রপ্তানির ওপর ‘নিষেধাজ্ঞা’র খবর প্রকাশিত হয়েছে। অভ্যন্তরীণ খাদ্যের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা, খাদ্যমূল্যের সঙ্গে সম্পর্কিত মূল্যস্ফীতি কমানো এবং ভারতের প্রতিবেশী ও খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকিতে থাকা অন্য দেশগুলোর চাহিদা পূরণে সহায়তার জন্য এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় হাইকমিশনের দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ভারতে গম রপ্তানির ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ এরই মধ্যে চুক্তিবদ্ধ চালানের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। এই নির্দেশাবলী ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলোতেও গম রপ্তানি আটকাবে না।
পাশাপাশি, অন্য যেসব দেশ অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে ভারতীয় গম আমদানি করতে ইচ্ছুক, সেসব দেশের সরকারের অনুরোধ সাপেক্ষেও গম রপ্তানি চলবে।
এর আগে, দেশীয় বাজারে দাম কমানোর লক্ষ্যে গত শুক্রবার গম রপ্তানি নিষিদ্ধ করে ভারত। দেশটির ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেডের (ডিজিএফটি) জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভারত সরকার দেশের সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং প্রতিবেশী ও অন্যান্য অরক্ষিত দেশগুলোর চাহিদাকে সমর্থনের জন্য এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, যেসব রপ্তানি চালানের ঋণপত্র (এলসি) বিজ্ঞপ্তির আগেই ইস্যু করা হয়েছে, সেগুলো যেতে পারবে। এছাড়া সরকারি অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ভারত সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে অন্য দেশেও গম রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হবে। শুক্রবার ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হয় এ নিষেধাজ্ঞা।
পরিমাণ ও মূল্য উভয় দিক থেকে ভারতীয় গমের সবচেয়ে বড় ক্রেতা বাংলাদেশ। ২০২০-২১ অর্থবছরে ভারতের মোট গম রপ্তানির ৫৪ শতাংশই এসেছে বাংলাদেশে। ওই বছর ভারতীয় গমের শীর্ষ ১০ ক্রেতা ছিল বাংলাদেশ, নেপাল, সংযুক্ত আরব আমিরাত, শ্রীলঙ্কা, ইয়েমেন, আফগানিস্তান, কাতার, ইন্দোনেশিয়া, ওমান ও মালয়েশিয়া।
বিশ্বের মোট গম রপ্তানির ২৯ শতাংশই সরবরাহ করে রাশিয়া ও ইউক্রেন। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি দুই দেশের মধ্যে সংঘাত শুরুর পর থেকে আন্তর্জাতিক ভোগ্যপণ্যের বাজারে রীতিমতো আগুন লেগেছে। হু হু করে দাম বেড়েছে গমেরও।
যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনের রপ্তানি বন্ধ আর রাশিয়ার ওপর পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশ্বব্যাপী ভারতীয় গমের চাহিদা বেড়েছে। ভারতের গম রপ্তানিকারকরা জানিয়েছেন, রাশিয়া-ইউক্রেনের বিকল্প হিসেবে অনেক ক্রেতাই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।
এ অবস্থায় বৈশ্বিক চাহিদা ও মূল্যের ঊর্ধ্বগতি বিবেচনায় এ বছর রেকর্ড পরিমাণ গম রপ্তানির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল ভারত। সপ্তাহখানেক আগেই দেশটি জানিয়েছিল, গম রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। তবে স্থানীয় বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে শেষপর্যন্ত সেই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হলো দেশটি।