৩৬ বোতল ফেন্সিডিল এবং ২০০ গ্রাম গাঁজাসহ ০২ জন গ্রেফতার

গত ২৪ ঘন্টায় খুলনা মহানগর পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী ১) মোঃ সজিব(২৫), পিতা-মোঃ ইসরাফিল, সাং-ঠাকুরপুর, থানা-দামুড়হুদা, জেলা-চুয়াডাঙ্গা এবং ২) মোসাঃ আলো(৩৫), পিতা-চাঁন শরিফ ঢালী, সাং-ধনই, থানা-ডামুড্যা, জেলা-শরীয়তপুরদ্বয়’কে খুলনা মহানগরীর খুলনা ও হরিণটানা থানা এলাকা হতে গ্রেফতার করা হয়েছে। উপরোক্ত মাদক ব্যবসায়ীদ্বয়ের নিকট হতে ৩৬ বোতল ফেন্সিডিল এবং ২০০ গ্রাম গাঁজা আলামত হিসেবে উদ্ধার করা হয়েছে। এ সংক্রান্তে গ্রেফতারকৃত মাদক ব্যবসায়ীদ্বয়ের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় ০২ টি মাদক মামলা রুজু করা হয়েছে।

সাতক্ষীরায় নদীর বেড়িবাধ ভেঙে ২০০ বিঘা মৎস্য ঘের প্লাবিত

সাতক্ষীরায় বঙ্গপোসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত, খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাধ ভেঙে ২০০ বিঘা মৎস্য ঘের প্লাবিত, স্বেচ্ছাশ্রমে সংস্কার
মোঃ কামাল উদ্দীন সরদার, সাতক্ষীরাঃ বঙ্গপোসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে সাতক্ষীরায় গতকাল থেকে মাঝে মধ্যে ঝড়ো হাওয়ার সাথে সাথে হালকা ও মাঝারী ধরনের বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে উপকূলীয় উপজেলা আশাশুনি ও শ্যামনগরের বেশ কয়েকটি নদ-নদীর পানি স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ১ থেকে ২ ফুটের অধিক উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিস। উপকূলীয় অঞ্চলে তিন নম্বর সর্তকতা সংকেত জারি করা হয়েছে। নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকার জরাজীর্ণ ৩৫ টি পয়েন্টে প্রায় ৬২ কিলোমিটার বেঁড়িবাধ ঝুকির মধ্যে রয়েছে। এদিকে, আশাশুনির খাজরা ইউনিয়নের গদাইপুরে খোলপেটুয়া নদীর ৬-৭ হাত বেড়িবাধ ভেঙে ২০০ বিঘা মৎস্য ঘের প্লাবিত হয়। পরে তা স্থানীয় চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে স্বেচ্ছাশ্রমে সংস্কার করা হয়েছে।
আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউপি চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ ডালিম জানান, তার ইউনিয়নের গদাইপুর এলাকার আব্দুল মান্নান মাষ্টারের মৎস্যঘের সংলগ্ন এলাকায় ৭/২ নং পোল্ডারে সোমবার বেলা ১১ টার দিকে খোলপেটুয়া নদীর ৬-৭ হাত জরাজীর্ণ বেড়িবাধ ভেঙে যায়। এতে প্রায় ২০০ বিঘা মৎস্য ঘের পানিতে তলিয়ে যায়। পরে দুপুরের মধ্যে তিনি স্থানীয়দের নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে তা সংস্কার করতে সক্ষম হয়েছেন। তবে, পরবর্তী জোয়ারে কি হবে তা বলা যাচ্ছেনা বলে তিনি আরো জানান।
উপকূলীয় উপজেলা শ্যামনগরের দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরার ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম জানান, গতকাল থেকেই থেমে থেমে হালকা, মাঝারি ও ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। ইতিমধ্যে ভারী বর্ষনের কারনে শতাধিক ঘের পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এছাড়া গাবুরা, নাপিতখালি, জেলেখালি, তিন নম্বর পোল্ডারসহ বিভিন্ন এলাকায় উপকূল রক্ষা বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে যেতে পারে। ইতিমধ্যে নদীর পানি অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। জোয়ারের সময় বাঁধের কানায় কানায় পানি উঠছে।
সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড-সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুটি বিভাগের আওতায় মোট ৮০০ কিলোমিটার বেড়িবাধে মধ্যে জরাজীর্ণ ৩৫ টি পয়েন্টে প্রায় ৬২ উপকূল রক্ষা বেড়িবাধ ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। তবে, ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ সংস্কার অনেক জায়গায় চলমান রয়েছে।
সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন জানান, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে ঝড়ো হাওয়াসহ হালকা ও মাঝারী ধরনের বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকার নদ-নদীতে স্বাভাবিকের চেয়ে ১ থেকে ২ ফুট উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বঙ্গপোসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে উপকূলের কাছাকছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। আগামী ২-১ দিন আবহাওয়ার এমন পরিস্থিতি থাকবে তারপর থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে জানিয়ে তিনি আরো জানান, গত ২৪ ঘন্টায় ৫৯.৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের সাথে নতুনধারার সংহতি ও ‘অবরুদ্ধ কর্মসূচি’র ঘোষণা

প্রেস বিজ্ঞপ্তিঃ সড়কপথ দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থী আলী হোসেনসহ সকল নিহতর ঘটনায় বিচার ও  পথদুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবিতে শিক্ষার্থীদের সাথে সংহতি প্রকাশ করেছেন নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবি নেতৃবৃন্দ।
১৩ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯ টায় তেজগাঁও সরকারি বিজ্ঞান স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে সংহতি প্রকাশ করেন নতুনধারার চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদী। এসময় তিনি বলেন, দেশে সড়ক- রেল ও নৌপথ এখন যেন মৃত্যুর ফাঁদ। এই ফাঁদ থেকে ছাত্র-যুব-জনতাকে রক্ষার জন্য নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবির রাজনীতিকগণ সচেতনতা তৈরিতে কাজ করছে। সাধারণ মানুষ, চালক-মালিক-শ্রমিক সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন মনে করি পথকে দুর্ঘটনা মুক্ত করার জন্য। একই সাথে যাত্রী হিসেবে নয়; দেশের নাগরিক হিসেবে, মানুষ হিসেবে মৌলিক অধিকার হিসেবে আমরা দুর্ঘটনামুক্ত পথ বাস্তবায়ন দ্রুত হবে বলেও আশা করছি। যার জন্য বিআরটিএর চেয়ারম্যানসহ সকল কর্মকর্তা-কর্মচারিকে সার্বক্ষণিক সক্রিয় থাকতে হবে। তারা দায়িত্ব পালনে গাফলতি করলেই ঝরছে আমাদের প্রাণঅতএব, সরকারের বেতনভূক্ত জনগণের কর্মচারি হিসেবে বিআরটিএসহ সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠান-দপ্তরের সকলকে অবৈধ চালককে চিহ্নিতকরণ, প্রশিক্ষণ প্রদান এবং রুট পারমিটহীন বাহন নিয়ন্ত্রণসহ সকল দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের আহবান জানাচ্ছি। তা না হলে, আর একটি প্রাণও পথদুর্ঘটনায় ঝরলে বিআরটিএ, বিআরটিসি, বিআইডব্লিউটিএ, সড়ক ও সেতু ভবন ঘেরাও কর্মসূচি দিয়ে এসকল প্রতিষ্ঠানের প্রধানদেরকে ‘অবরুদ্ধ কর্মসূচি’ ঘোষণা করা হবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডিয়াম মেম্বার বীর মুুিক্তযোদ্ধা ফজলুল হক, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা, ভাইস চেয়ারম্যান একরামুল হক গাজী লিটন, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নিপুন মিস্ত্রী প্রমুখ।

প্রাথমিক সরকারি শিক্ষার উপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছে অভিভাবকগণ

আশরাফুল ইসলাম, গাইবান্ধাঃ গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার ব্যাপক অনিয়ম করায় ও লেখাপড়া মানসম্মত না হওয়া অভিভাবকগণ চিন্তিত। উপজেলার মোস্তফাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গিয়ে দেখা যায়,সকাল ৯ টা ৪১ মিনিটে পতাকা উড়লেও বিদ্যালয়ের মুল গেটে তালা ঝুলছে। ৯ টা ৪৫ মিনিটের সময় সহকারি শিক্ষক উপস্থিত হলেন। এরপর ৯ টা ৫৫ মিনিটের সময় উপস্থিত হলেন প্রধান শিক্ষক নুরনাহার সরকার। তিনি জানালেন উপজেলা প্রকৌশলীর নিকট যাওয়ার জন্য রওনা দিয়েছিলেন। সাংবাদিকদের উপস্থিত হওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে আবারো ফিরিয়ে আসলেন। বিদ্যালয়ে স্নিপের বরাদ্দ পেয়েছেন ৫০ হাজার,শিশু উপকরণ ক্রয় বাবদ ১০ হাজার,বিদ্যালয় মেরামত বাবদ পেয়েছেন ২ লাখ। প্রাপ্ত সকল বরাদ্দ দিয়ে শুধু বিদ্যালয়ের দুটি রুমে মেঝেতে টাইলস লাগিয়েছেন একটি বেসিন তৈরীতে সব বরাদ্দ শেষ করেছেন। তবে কাজের ষ্টিমিটের সাথে বাস্তবতার কোন মিল নেই। শহীদ মিনার নির্মাণের নির্দেশনা থাকলেও মানেনি প্রধান শিক্ষক নুরনাহার সরকার।

এরপর বিদ্যালয়ের উপস্থিত হলো কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের নিকট জানা গেলো শিক্ষার্থীরা আসেন সাড়ে নয়টা হতে দশটায় আর শিক্ষকগণ আসেন সাড়ে দশটায় ক্লাস শুরু হয় ১১ টায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক বলেন,বিদ্যালয়টিতে প্রতিনিয়ত এরকম শিক্ষকগণ দেরিতে আসেন। লেখাপড়ার মান খুব খারাপ। তারা আরো বলেন,শুধু মাত্র তদারকির অভাবে এমন বেহাল অবস্থা।

প্রধান শিক্ষক নুরনাহার সরকার বলেন,মাত্র দুই জন শিক্ষক, ২ শিফটে বিদ্যালয়টি পরিচালনা হয় যার রুটিনে সকাল ৯ টা হতে ক্লাস শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বিদ্যালয়টি দুঃখজনক ভাবে ৯ টার পর খোলা পড়েছে৷ বিদ্যালয়ের চাবি না থাকায় খুলতে দেরি হয়েছে৷
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নাজমা বেগম বলেন, বিদ্যালয় দেরিতে খোলা এবং সংস্কার ও উন্নয়ন কাজের অনিয়মের ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে মুঠোফোনে জানান।।

দাকোপে ৪৪০ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত

দাকোপ প্রতিনিধিঃ দাকোপে মৎস্য অধিদপ্তরের রাজস্ব বাজেটের আওতায় উপজেলার ৪০টি প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে ৪৪০ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১ টায় উপজেলা হেড কোয়ার্টার জামে মসজিদের পুকুরে পোনা অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুনসুর আলী খান। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিন্টু বিশ^াস, উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান গৌরপদ বাছ্ড়া, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সেলিম সুলতান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শেখ আব্দুল কাদেরসহ উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, সাংবাদিকবৃন্দ।

নগরীতে লিটন স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে ফ্রি চক্ষু সেবা অনুষ্ঠিত

প্রেস বিজ্ঞপ্তিঃ নগরীর রায়পাড়া রোডস্থ লিটন স্মৃতি সংসদ (সাবেক কস্মস্ একাদশ) এর উদ্যোগে এলাকার অসহায় দরিদ্র চক্ষু রোগে আক্রান্তদের ফ্রি চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে। সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ক্লাব প্রাঙ্গণে রেভারেন্ড আব্দুল ওয়াদুদ মেমোরিয়াল হাসপাতালের সহযোগিতায় এ চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়।
লিটন স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুজ্জামান চৌধুরী বাবু’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহ্াজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক, বিশেষ অতিথি ছিলেন মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এমডিএ বাবুল রানা, সাবেক কাউন্সিলর অধ্যাপক রুনু ইকবাল বিথার, সাবেক কাউন্সিলর রুমা খাতুন, দৈনিক প্রবাহ পত্রিকার সম্পাদক মো. আশরাফ হোসেন, মহানগর যুবলীগের সদস্য কাজী কামাল হোসেন ও সিএসএস এর পরিচালক স্বাস্থ্য সাজ্জাদুর রহিম পান্ত। চিকিৎসা সেবায় ছিলেন ডা. মাহামুদুল হাসান, সমন্বয়কারী নান্টু গোপাল দে ও সেবিকা এঞ্জেলিকা বৈরাগী।
ক্লাবের সহ-সাধারন সম্পাদক সাব্বির ওসমানীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি ফরিদ আহমেদ খোকন, সহ-সাধারন সম্পাদক শেখ নাজমুল কবির সাদী, এনামুল হক, আকরাম হোসেন, শহিদুল ইসলাম কালু, খায়রুল আলম বাবলু, জার্জিস উল্লাহ, ফারহাদ নেওয়াজ টিপু, আব্দুস সামাদ কচি, এনামুল হক, ইমরানুল হক চেীধুরী হিমু, বিকাশ চন্দ্র রায় চৌধুরী, সমীর কুমার দেব, এম এ জলিল, জয়নুল আবেদিন সাগর, কিংকর দাস, মুকুল দাস, মিজানুর রহমান নাজু, রাজা, কাকন খলিফা, টুলু, পারভেজ, আনোয়ার, এ আর রাজিব, অহিদুল, সুমন, ফয়সাল, সেলিম, শ্যাম পোদ্দার, রাজু, শংকরসহ ক্লাবের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সদস্যবৃন্দ।

 

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে রাজাকার কমান্ডার আলি হোসেনের বিচার দাবি

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত অভিযোগ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে রাজাকার কমান্ডার আলি হোসেনের বিচার দাবি
ফুলবাড়ীগেট প্রতিনিধিঃ মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বীরমুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা ,বসত বাড়ি ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট এর অভিযোগে বর্তমানে খুলনার খানজাহান আলী থানা এলাকার বাসিন্দা, বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মৌভোগ গ্রামের আলী হোসেন এর বিরুদ্ধে গত ৩ আগষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল ও গত ৮ সেপ্টেম্বর বাগেরহাট জেলা প্রশাসক এর নিকট লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন ফকিরহাটের নলধা মৌভোগ ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ দেলোয়ার শেখ । লিখিত অভিযোগে জানা যায় , মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালিন সময়ে মোঃ আলি হোসেন উরফে আলিম উদ্দিন শিকদার (দফাদার) পিতা ফটিক শিকদার উরফে আজিজ সিকদার মৌভোগ মধ্যপাড়া জিল্লাল মোড়লের স্কুলের পাশে সুরে মাষ্টার ও হিরো বালা ঠাকুরকে গুলি করে হত্যা করে। এর পর রাজাকার আলী হোসেনের নেতৃত্বে মালশা বাজার, মৌভোগ, উত্তর মৌভোগ, কামটা, নলধা, আড়ুয়াডাঙ্গা ঢুকে ব্যাপক লুটপাট চালায়, অভিযোগকারী বসতবাড়ি সহ বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফার হাওলাদার, হানিফ মোল্লা, মোনতাজ শেখ,সহ বেশ কয়েকজনের বসত বাড়িতে রাজাকার আলী হোসেন আগুন ধরিয়ে দেয় এবং বসতবাড়ির মালামাল লুটপাট করে। আলী হোসেন ছিলো বাগেরহাট রাজাকার কমান্ডার রজব আলী ও সিরাজউদ্দিন এর একান্ত সহযোগি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরদিনই বাগেরহাট ডাকবাংলোতে রাজাকার কমান্ডার রজব আলী গনপিটুনিতে মারা যায়। এবং আলী হোসেন পালিয়ে খুলনার ফুলতলা উপজেলার খানজাহান আলী থানা এলাকার আটরা গিলাতলা ইউনিয়নের ০৬ নং ওয়ার্ডে এসে বসবাস শুরু করে। গত ২৫ জুলাই বিভিন্ন পত্রিকায় রাজাকার আলী হোসেনের মুক্তিযোদ্ধের সময় দেশবিরোধী কাজে লিপ্ত ছিলো বলে সংবাদ প্রকাশ হলে নড়েচড়ে বসে রাজাকার আলী হোসেন ২ দিন পরেই ২৭ জুলাই আলী হোসেন প্রায় ১০ থেকে ১৫ জন লোক নিয়ে এসে মালশা বাজারে যায় এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাকে এসব বিষয়ে মুখ বন্ধ রাখার অনুরোধ করে, রাজি না হলে তাকে ২ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেই। তাতেও রাজি না হলে মুক্তিযোদ্ধাকে বিভিন্ন হুমকি প্রদান করে । পরবর্তিতে স্থানিয় ইউপি চেয়ারম্যান সরদার আমিনুর রহমান ও ইউপি সদস্য মোঃ জাহাঙ্গির হোসেন এর নিকট মহান স্বাধীনতার যুদ্ধের সময় সে রাজাকার ছিলোনা মর্মে পত্যায়ন আনতে যাই, সেখান থেকে সেটা না পেয়ে বেশ ক্ষিপ্ত হয় , রাজাকার আলী হোসেনর পুত্র মালেশিয়া প্রবাসী মোঃ লিটন বিদেশে থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন ভাবে বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার শেখকে হুমকি দিচ্ছে বলে লিখিত অভিযোগে জানানো হয়। অভিযোগ এর সুত্রে আরো জানা যায় ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন ৬ নং নলধা মৌভোগ ইউনিয়ন থেকে ২ জন রাজাকার এর তালিকা দেওয়া হয়েছিলো তারমধ্যে ৮ নং ওয়ার্ডে ছিলো মোঃ শাহাজান শেখ (ওরফে ওমুর) এবং ৩ নং ওয়ার্ডে আলিমউদ্দিন সিকদার উরফে আলী হোসেন (দফাদার) পিতা ফটিক সিকদার উরফে আজিজ সিকদার। রাজাকার আলী হোসেন সুরে মাষ্টার নামে যাকে হত্যা করে তার কাছে তৎকালীন সময়ে সে প্রাইভেট পড়তো । ফকিরাহাট উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার আলতায় হোসেন টিপু বলেন অনেক বিলম্বে হলেও বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার আওয়ামীলীগ সরকার একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করছে । এর মাধ্যমে ইতিহাসের দায়মুক্তি হচ্ছে ।তিনি বলেন সেদিনের দৃশ্যগুলো আজো আমার চোখে ভাসছে, রাজাকার, আলবদর ও আলশামস্ বাহিনীর সদস্য আলী হোসেন পাকিস্থানী হানাদার বাহিনীর ছায়াতলে থেকে বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মৌভোগ এলাকাতে গুলি করে সুরে মাষ্টার, হিরো বালা ঠাকুর কে হত্যা , মা-বোনদের ওপর যে নির্মম নির্যাতন চালিয়েছিলো তা তরুণ প্রজন্ম শুনলে রক্ত টগবগ করে ফুটে ওঠবে। অকথ্য যৌন নির্যাতন, শ্লীলতাহানি এবং অনেকের সম্পদ লুটপাটসহ মানবতা বিরোধী সকল অপরাধ সংগঠিত করেছিলো আলি হোসেন। তিনি বলেন রাজাকার আলী হোসেন বর্তমানে খুলনার ফুলতলা উপজেলাধীন খানজাহান আলী থানা এলাকার আটরা গিলাতলা ইউনিয়নের ০৬ নং ওয়ার্ডে বসবাস করছে , এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফুলতলা উপজেলা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ শেখ আকরাম হোসেন বলেন আলী হোসেন গিলাতলা এলাকাতে বিয়ে করেছেন এবং এখানে পরিচয় গোপন করে বসবাস করতেন ফকিরহাটের লোকজন এখানে এসে খোজ খবর নিলে বিষয়টি এতদিন পর জানাজানি হয় , সে যে ওই এলাকাতে রাজাকার এর কমান্ডার ছিলো এতদিনে আমরা জানতে পারিনি অত্যন্ত গোপনে সে এখানে পরিচয় গোপন করে বসবাস করতো। অভিযোগকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার শেখ বলেন একাত্তরে নির্যাতিত অসংখ্য নারী স্বাধীন দেশে ঘর বাধার স্বপ্ন হারিয়েছে। অনেকে কুমারী মাতা হয়ে সমাজের কাছে উল্টো লাঞ্ছিত হয়েছে।অথচ সেই কুখ্যাত রাজাকার কমান্ডার এখন খুলনার খান জাহান আলী থানার গিলাতলাতে থেকেই বিভিন্নভাবে আমাকে হুমকি ধামকি দিচ্ছে, তিনি বলেন এখন প্রকৃত অর্থে সময় এসেছে সেই অপরাধী রাজাকার আলী হোসেনের বিচার করার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট তদন্তপুর্বক প্রচলিত আইন অনুযায়ি রাজাকার আলী হোসেনের বিচার এর দাবি জানান তিনি । এদিকে স্থানিয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উদ্যেগে আগামি ১৬ সেপ্টেম্বর মালশা বাজারে রাজাকার আলী হোসেন ও তার প্রবাসী পুত্র লিটন বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়ার প্রতিবাদ , আলী হোসেন এর মানবতাবিরোধী অপরাধ কর্মকান্ড তদন্তপুর্বক গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবিতে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হবে অনুষ্ঠিত হবে ।