দিঘলিয়ায় নবজাতকের লাশ উদ্ধার

প্রকাশঃ ২০২৬-০৩-০৪ - ১৯:৩৪

দিঘলিয়া প্রতিনিধি : দিঘলিয়া উপজেলায় একটি পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে ২২ দিনের নবজাতক মোনতাসির শেখের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।গত মঙ্গলবার আনুমানিক রাত ১০টার দিকে বারাকপুর ইউনিয়নের লাখোহাটি গ্রামে মাটিচাপা অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির পিতা ঘাতক শেখ নাহিদুর রহমান (৩০)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নাহিদুর উপজেলার সেনহাটি গ্রামের শেখ মাসুদুর রহমান পুত্র। পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় বছর আগে বারাকপুর ইউনিয়নের লাখোহাটি গ্রামের মিজানুর রহমানের মেয়ে মুর্শিদা আক্তার (মৌ)এর সঙ্গে নাহিদুরের বিবাহ সম্পন্ন হয়। গত ২২ দিন আগে তাদের একটি পুত্রসন্তান জন্ম নেয়। তার নাম রাখা হয় মোনতাসির শেখ। সন্তান জন্মের পর মৌ বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। গত ২ মার্চ বিকেলে নাহিদুর লাখহাটি শ্বশুরবাড়িতে যান। পরদিন সকালে তিনি শিশুটিকে কোলে নিয়ে ঘরের বাইরে বের হন। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় কোনো এক পর্যায়ে তিনি শিশুটিকে হত্যা করে পাশের একটি পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংকের ভেতর মাটিচাপা দিয়ে রাখেন। পরে তিনি ঘরে ফিরে স্ত্রীকে জানান, শিশুকে বাড়িতে রেখে এসেছেন। এরপর স্ত্রীকে মোটরসাইকেলে তুলে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথে তিনি জানান, শিশুকে ফরিদপুরে পাওয়া যাবে। ফরিদপুরের কাছাকাছি গেলে নাহিদুর অসুস্থ বোধ করলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর তিনি হাসপাতাল থেকে পালানোর চেষ্টা করলে স্ত্রী চিৎকার করে অভিযোগ করেন যে, তার স্বামী তাদের সন্তানকে হত্যা করেছেন। এ সময় হাসপাতালের স্টাফরা তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। ফরিদপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশ দিঘলিয়া থানাকে জানায়। দিঘলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সেপটিক ট্যাংকের ভেতর মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করে। দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শাহ আলম দৈনিক জন্মভূমি প্রতিনিধিকে জানান, প্রাথমিকভাবে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাহিদুর নিজের শিশুসন্তানকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মরদেহ সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন।