১৭৫ ফুটবল মাঠের সমান হ্রদের বাঁধভাঙার শঙ্কা, নেপালে উচ্চ সতর্কতা

প্রকাশঃ ২০২৬-০৮-২৮ - ১৮:৪৮

ডেস্ক রিপোর্ট : হিমবাহধসে প্রলয়ংকারী বন্যায় বিপর্যস্ত পবর্তের দেশ নেপাল। এখন পর্যন্ত প্রায় অর্ধ-সহস্র মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। নিখোঁজ রয়েছে এক হাজারেরও বেশি। তাদের মধ্যেে শত শত বিদেশি নাগরিক বলে জানিছে নেপাল কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি চরম বিপর্যস্ত।

এমতাবস্থায় যেন মরার উপর খাড়ার ঘাঁ হয়ে উঠেছে নেপাল-চীন সীমান্তের উজানে তিব্বতে থাকা ব্যারিয়ার লেক। ইতোমধ্যে হ্রদটির বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ফলে উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে নেপাল।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ব্যারিয়ার লেক উপচে পড়ে বা বাঁধ ভেঙে নতুন মারাত্মক প্লাবন ঘটাতে পারে এমন আশঙ্কায় সীমান্ত এলাকায় উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেছে চীন ও নেপাল।

সিএনএন জানিয়েছে, দুদেশের সীমান্তের প্রায় ১০ কিলোমিটার উজানে তিব্বতে আবর্জনা, শিলা ও মাটি জমে সৃষ্ট কৃত্রিম এই হ্রদটিতে বর্তমানে প্রায় ২৫ লাখ ঘনমিটারের বেশি পানি জমা হয়েছে, যা অন্তত এক হাজার অলিম্পিক আকারের সুইমিং পুলের পানির সমপরিমাণ। অন্য এক হাজার সুইমিং পুলের হিসাবে ধরলে হ্রদটির আয়তন দাঁড়াবে ১৭৫টি আদর্শ ফুটবল মাঠের সমান।

চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম সিসিটিভি ও নেপালের স্থানীয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে যে, হ্রদটি অবিরাম উপচে পড়তে শুরু করেছে। ফলে যে কোনো মুহূর্তে আকস্মিক বন্যা বা দ্বিতীয় দফায় পাহাড়ি ধসের তীব্র ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ জন্য সেনাসদস্য ও উদ্ধারকারী দলগুলোকে জিরং বন্দর সংলগ্ন মূল ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে সরিয়ে নিরাপদ দূরত্বে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

পরিস্থিতির ভয়াবহতার মুখে নেপালের রসুয়া জেলায় পরিচালিত হেলিকপ্টার উদ্ধার অভিযান পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি নদী তীরবর্তী অধিবাসীদের উঁচু পাহাড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে দেখা গেছে।

এদিকে লাসা বেসের চায়না আনেং ইঞ্জিনিয়ারিং রেসকিউ টিমের সদস্য চেন হানশাও জানান, প্রায় ১৫০ মিটার দীর্ঘ এবং ৪০ থেকে ৫০ মিটার উঁচু মাটি-পাথরের আলগা বাঁধটি অত্যন্ত ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। এলাকাটি পর্যবেক্ষণের সময় বেশ কয়েকবার দ্বিতীয় পর্যায়ের ধস নেমেছে, যা মূল বাঁধটির ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করছে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংকা ট্যাংক স্টিমসন সেন্টারের সিনিয়র ফেলো অস্টিন লর্ড জানান, বিশেষজ্ঞরা বর্তমানে এলাকায় দুটি নবসৃষ্ট কৃত্রিম হ্রদের গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। এর মধ্যে একটি হিমবাহের ফাটলের ঠিক নিচে তৈরি হয়েছে।

অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে যদি পানি বৃদ্ধি পায় এবং এই বাঁধগুলো হঠাৎ ভেঙে পড়ে, তবে মূল নদীপথে উদ্ধারকাজে নিয়োজিত কর্মীদের জীবন মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে। আপাতত উদ্ধারকাজে অগ্রাধিকার না দিয়ে ড্রোন ও বিশেষ পর্যবেক্ষণ দলের মাধ্যমে হ্রদের ঝুঁকি বিশ্লেষণ এবং পানির স্তর পরিমাপের ওপর জোর দিচ্ছে দুই দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ।