শহীদদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার বদ্ধপরিকর: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশঃ ২০২৬-০৮-২৯ - ১৬:১৮

ডেস্ক রিপোর্ট : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জুলাইযোদ্ধা ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছে তাদের প্রত্যাশা পূরণে সরকার সর্বোচ্চটা দিয়ে কাজ করবে। আমরা কোনোভাবে পিছপা হবো না। তাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার বদ্ধপরিকর।

শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে গুম-খুনের শিকার এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ৭৪ পরিবারের সদস্যদের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, কেউ হয়তো বলছেন সরকার তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। আমি অন্যভাবে বলতে চাই যে গুম-খুন ও শহীদ পরিবারের সহযোগিতা ও সমর্থন আছে বলেই তাদের আকাঙ্খা পূরণে সরকার কাজ করতে পারছে।

খুন-গুন ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের যে অপূরণীয় ক্ষতি তা হয়তো কোনোভাবে পূর্ণ করা সম্ভব নয়। তারপরও এতটুকু বলবো আমাদের অবস্থান থেকে আপনাদের পাশে ছিলাম, আছি থাকবো। আমরাও চাই আপনারাও আমাদের সহযোগিতা করবেন। আমাদের উৎসাহ দেবেন। যাতে আমরা শহীদসহ সকল আত্মত্যাগী গণতান্ত্রিক যোদ্ধা যারা আছেন তাদের যে প্রত্যাশা দেশ ও জাতিকে নিয়ে সে প্রত্যাশা পূরণে কাজ করতে পারি। আপনার সর্বাত্মক সমর্থন যেনো আমরা পাই।

আবেগময় কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের এই অনুষ্ঠানটি আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমরা এমন কিছু মানুষকে স্মরণ করছি, যাদের আজ আমাদের মাঝে থাকার কথা ছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তারা নেই। তাদের এই মহান ত্যাগের বিনিময়েই আজ দেশের ২০ কোটি মানুষ ফ্যাসিস্ট শাসনব্যবস্থা থেকে মুক্তি পেয়েছে।

তিনি বলেন, আজ যারা আমাদের মধ্যে অনুপস্থিত তারা কোথায় কি অবস্থায় আছে একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামিন জানেন। আমাদের উচিত হবে দু’হাত তুলে আল্লাহর দরবারে তাদের জন্যে দোয়া করা যাতে আল্লাহ সে মানুষগুলোকে সর্বোচ্চ ভালো অবস্থায় রাখেন।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে স্বাধীনতাত্তোর বিভিন্ন সময়ের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম এবং সর্বশেষ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আত্মদানকারীদের কথা উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, ১৯৭১ সালের বীর মুক্তিযোদ্ধা, দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বিভিন্ন সময়ে গুম-খুন ও নির্যাতনের শিকার হওয়া ব্যক্তিবর্গ এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও ক্ষতিগ্রস্তদের যে লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষা ছিল-এই সরকার তা বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। হয়তো বিভিন্ন বাস্তবতার কারণে অনেক সময় দ্রুত সবকিছু সম্ভব হয় না, কিন্তু আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাভাবিকভাবে বড় কিছু অর্জন করতে গিয়ে যারা বড় ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তারা অনেকেই আজ আমাদের মাঝে নেই। যারা আছে তাদের বলবো, আপনারা এ দেশের মানুষের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করবে, আপনারা যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে নিজেদের জীবন বাজি রেখেছেন, সেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে।

সংগ্রামীদের আত্মত্যাগকে সরকারের কাজের মূল প্রেরণা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেকে বলতে পারেন সরকার এই পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু আমি বলব- আপনাদের এই ত্যাগ, সমর্থন ও সহযোগিতার কারণেই সরকার পূর্ণ উদ্যমে কাজ করার সাহস পাচ্ছে। আপনারাই আমাদের শক্তি ও উদ্দীপনার মূল উৎস।

শহীদ পরিবারের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনুষ্ঠানে গুম-খুনের শিকার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য রাখেন। এ সময় তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন— মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, উপ প্রেস-সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, হাসান শিপলু. সুজাউদ্দৌলা, শাহাদাৎ স্বাধীন, সহকারি প্রেস সচিব একেএম নাজমুল হক, শাহরিয়ার পামির, আমরা বিএনপি পরিবারের সদস্য মোকছেদুল মোমিন মিথুন প্রমুখ।