সাতক্ষীরায় রেল লাইন কাজের অগ্রগতি আলোর পথে

প্রকাশঃ ২০২৬-০৮-২৯ - ২০:২০

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরা রেললাইন কাজের অগ্রগতি আলোর পথে বলে বিভিন্ন সূত্রথেকে খবর পাওয়া যাচ্ছে অতি দ্রুতই হতে পারে টেন্ডার শুরু হতে পারে কাজ এমনটাই জানিয়েছেন রেল অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা। কর্মকর্তারা জানান নাভারন সাতক্ষীরা মুন্সিগঞ্জ রেললাইনের কাজ অতি দ্রুতই শুরু হতে পারে কাগজপত্র সবকিছু প্রস্তুত করা হয়েছে শুধুমাত্র অনুমোদনের অপেক্ষায় অনুমোদন পেলেই টেন্ডার দেওয়া হবে টেন্ডারের পরেই ২৭ সালের জানুয়ারিতে কাজ শুরু হতে পারে।
১৮৬২ সালের ১৫ নভেম্বর দর্শনা-জগতি রেললাইন মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রথম রেলওয়ের সূচনা হয়। সেন্ট্রাল রেলওয়ে নামে পরিচিত বনগাঁ-যশোর-খুলনা ব্রডগেজ রেললাইন নির্মাণ করা হয় ১৮৮২-৮৪ সালে । এ সময় নাভারনে রেলওয়ে স্টেশনও নির্মাণ করা হয়। ১৯১৪ সালে ভাইসরয় অব বৃটিশ ইন্ডিয়া কলকাতা থেকে নাভারণ হয়ে সাতক্ষীরার মধ্য দিয়ে সুন্দরবন পর্যন্ত রেল লিংক স্থাপনের নির্দেশ দেন এবং সেটি অনুমোদনও করেন। ১৯৫৮ সালে সাতক্ষীরা ভেটখালী সড়ক নির্মাণের সময়েও রেলের জায়গা রেখে জমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা নেওয়ার কথা শোনা যায়। কালেক্রমে দেশে ২ হাজার ৮৭৭ কি. মি. রেল লাইন নির্মাণ করা হয়। রেল নেটওয়ার্কে দেশের ৪৪টি জেলা সংযুক্ত হয়। কিন্তু সাতক্ষীরা থেকে যায় অবহেলিত।
দেশের অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এবং বাণিজ্য নির্ভর ও অর্থনীতির সুতিকাগার হিসেবে সাতক্ষীরা বিশেষভাবে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচিত করেছে। জেলার বিশলক্ষাধীক মানুষের যাতায়াত এবং যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহনের একমাত্র মাধ্যম সড়ক পথ আর তাই জেলাবাসির দীর্ঘদিনের দাবী প্রত্যাশা আর বাস্তবতার নিরিখে যথাযথ প্রত্যাশা রেলপথ, রেল যোগাযোগ। এই মাধ্যমটি যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থার পাশাপাশি পণ্য পরিবহনে খরচ অনেকাংশে কম, সাতক্ষীরা বৈদেশিক বাণিজ্যের ঘনিষ্ট ভাবে সম্পৃক্ত। এবং অভ্যন্তরীন বানিজ্য নির্ভর। এই জেলায় উৎপাদিত চিংড়ী বিশ্ব বাজারে রপ্তানীর মাধ্যমে দেশ প্রতিবছর শত শত কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন করে, এই চিংড়ী পণ্য পরিবহনে রেল যোগাযোগ, রেলপথ কাঙ্খিত ভূমিকা পালন করতে পারে বিশেষত পণ্য পরিবহনে খরচ কম সহ হিমায়িত বিষয় গুলোতে সুবিধা পাবে। দেশের অন্যতম স্থল বন্দর সাতক্ষীরার ভোমরায় অবস্থিত। দেশের বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা ভোমরা বন্দর ব্যবহারে বিশেষ উৎসাহিত হতো যদি জেলায় রেলপথ থাকতো। আর এ ক্ষেত্রে আমদানী ও রপ্তানী কৃত পণ্য সামগ্রী ট্রাকের পরিবর্তে রেলে নিলে পণ্য পরিবহন খরচ অনেকাংশে হ্রাস পাবে। বেনাপোল সহ দেশের অপরাপর বন্দর গুলো রেলযোগাযোগ সুবিধা পেয়ে আসছে। সাতক্ষীরা কৃষি প্রধান এলাকা এই জেলাকে শস্য ভান্ডার বলা হয়। কৃষক তার ক্ষেতে উৎপাদিত পণ্য ট্রাকের পরিবর্তে রেলে আনা নেওয়া করলে পণ্য পরিবহন খরচ অনেকাংশে কমবে। অন্যদিকে সাধারন ব্যবসায়ীরা আড়ৎদার ও পাইকারী ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন যাবৎ রাজধানী ঢাকা বা অন্যান্য শহর হতে পণ্য সামগ্রী ট্রান্সপোর্টের মাধ্যমে আনা নেওয়া করে থাকে যা অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হয়। সাম্প্রতিক সময় গুলোতে ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ীরা পণ্য সামগ্রী আনা নেওয়া ক্ষেত্রে কোন কোন ক্ষেত্রে নিজেদের খেয়াল খুশি মত মূল্য নির্ধারন করে গ্রাহকদের অস্বস্তিতে ফেলছে। রেলগাড়ী দৃশ্যতঃ বিপুল সংখ্যক যাত্রী এবং ব্যাপক ভিত্তিক পণ্য সামগ্রী বহনে ও পরিবহনে প্রস্তুত বিধায় যাতায়াত যোগাযোগের ক্ষেত্রে রেল গাড়ীর বিকল্প কেবলই রেলগাড়ী। সাতক্ষীরা মুন্সিগঞ্জ টু বেনাপোল, যশোর, খুলনা রেল যোগাযোগের বিষয়টি যেমন সময়ের দাবী অনুরুপ ভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দাবীর যৌক্তিকতার সাথে সহমত ও পোষন করেছে। সরকারের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ সহ একনেকের বৈঠকেও রেল যোগাযোগ তথা সাতক্ষীরা রেলপথে আনার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে কিন্তু এখনও পর্যন্ত দৃশ্যতঃ কোন কাজ শুরু হইনি। জেলাবাসি আশা অবিলম্বে রেললাইন নির্মান কাজ শুরু হোক। সাতক্ষীরার অর্থনীতি এবং ব্যবসা বানিজ্যের নবদিগন্তের ক্ষেত্র নিশ্চিত করবে রেলপথ অন্যদিকে রেলপথের অভাব হেতু সাতক্ষীরার কাঙ্খিত উন্নয়ন মুখ থুবড়ে পড়েছে। রেলযোগাযোগ কেবল যাতায়াত যোগাযোগ এবং অর্থনীতির গতিশীলতা বিনির্মান করবে তা নয় নগরায়ন, সভ্যতা, নতুন নতুন হাট বাজার ও মোকাম সৃষ্টি করবে, গ্রামের মেঠো পথ নগরায়নের ছোয়া পাবে, আলোকিত হবে গ্রামীন জনপথ সব মিলে রেলপথ সংযুক্ত সাতক্ষীরা হবে আধুনিক, উন্নয়ন নির্ভর ব্যবসা সফল আর অর্থনীতির আলোকিত সাতক্ষীরা। কিন্তু সেই সুসময় সম্ভব কেবল মাত্র রেল পথের মাধ্যমেই। সাতক্ষীরার বিশলক্ষাধীক মানুষের আশার প্রতীক রেল পথ কতদূর?
১১১ বছর পূর্ব থেকে সাতক্ষীরার মানুষ রেলের স্বপ্ন দেখছে। কৃষি উৎপাদন, মৎস্য চাষ, সুন্দরবন ও পর্যটন, ভারতের সাথে ব্যবসা—বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সাতক্ষীরার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এখানকার মোট কৃষি জমির এক—তৃতীয়াংশের বেশি জমিতে বাণিজ্যিক চিংড়ি চাষ হয়। জেলায় মাছের চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত প্রায় ৯০ হাজার মেট্রিক টন মাছের এর একাংশ বিদেশে রপ্তানি এবং অবশিষ্ট মাছ দেশের অন্যান্য এলাকায় সরবরাহ হয়। সাতক্ষীরার আম এখন বিশ্ববাজারে জনপ্রিয়, কুল, ধানসহ শাক সবজির ক্ষেত্রেও সাতক্ষীরা জেলা উদ্বৃত্ত খাদ্য শস্য উৎপাদন করে। এই উদ্বৃত্ত খাদ্য শস্য দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবহন করা হয়। যার একটা বড় অংশ দেশের বিভিন্নস্থান ছাড়াও দেশের বাইরে রপ্তানী হয়। সড়ক পথে সুন্দরবন ভ্রমনের একমাত্র সুযোগ রয়েছে সাতক্ষীরা জেলায়। ঢাকা বা দেশের অন্যান্য স্থান থেকে যে কোন যানবাহনে সাতক্ষীরা শহরের উপর দিয়ে শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জ পৌছালেই চুনকড়ি নদীর ওপারে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন। পর্যটনে কক্সবাজারের পরেই সুন্দরবন হতে পারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্পট। বাংলাদেশ—ভারতের মধ্যকার ২৭২কি.মি. সীমান্ত রয়েছে সাতক্ষীরা জেলায়। এখানকার ভোমরা স্থল বন্দর থেকে মাত্র ৮০কি.মি. দূরত্বে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোলকাতা শহর অবস্থিত। কোলকাতা সমুদ্র বন্দরের সবচেয়ে নিকটে রয়েছে অধুনালুপ্ত সাতক্ষীরার বসন্তপুর নৌবন্দর। এটিই বাংলাদেশ ভারতের মধ্যকার ব্যবসা—বানিজ্যের সেতুবন্ধনকারী একমাত্র নৌবন্দর। এবছর সাতক্ষীরায় উৎপাদিত আম কুরিয়ারে ঢাকায় পাঠাতে কেজি প্রতি খরচ হয়েছে ১২ থেকে ১৫ টাকা। প্যাকিংসহ অন্যান্য খরচ যোগ করলে প্রতি কেজির খরচ ২০ টাকার কম নয়। একই আম চাপাইনবাবগঞ্জ থেকে রেলওয়ের মাধ্যমে ঢাকায় পাঠাতে প্রতি কেজির খরচ হয়েছে ১টাকা ৩১ পয়সা। রেলে ঝুক্কি—ঝাকি কম হওয়ায় প্যাকিংসহ অন্যান্য খরচ কম। ফলে রেলে আম পরিবহনে প্যাকিংসহ খরচ গড়ে ৫টাকার বেশি নয়। সাতক্ষীরা এবং চাপাইনবাবগঞ্জের এই আম পরিবহনের খরচের পার্থক্য গড়ে প্রায় ১৫ টাকা। সেক্ষেত্রে সাতক্ষীরার আম তুলনামূলক সুস্বাদু হওয়া সত্বেও পরিবহন ব্যয়ের এই পার্থক্যের কারনে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে পিছিয়ে পড়ছে।
আশির দশকের মধ্যভাগ পর্যন্ত সাতক্ষীরার যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিশেষ করে পন্য পরিবহনের সিংহভাগ ছিল নদী কেন্দ্রীক। তখন সড়ক পথে খুলনায় যেতে হতো যশোর হয়ে এবং সাতক্ষীরা থেকে ঢাকায় যেতে সময় লাগতো ১৫/২০ ঘন্টা। নৌপথ বন্ধ হওয়ার পর সারাদেশের সাথে সাতক্ষীরার যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এখন সড়ক পথ। সারাদেশে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুগন্তরকারী উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। কিন্তু তুলনামূলকভাবে সাতক্ষীরায় সড়ক উন্নয়ন হয়েছে কম। এর অন্যতম প্রধান কারন মনে করা হয় সাতক্ষীরা বাংলাদেশের দক্ষিণ—পশ্চিমাঞ্চলের সর্বশেষ জেলা।
প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে অস্ট্রেলিয়ার ক্যানারেইল কোম্পানি লিমিটেড সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কার্যক্রম সম্পন্ন করে এবং এ সম্পর্কিত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেয়। নাভারণ—সাতক্ষীরা—মুন্সিগঞ্জ রেললাইনের সম্ভাব্যতা ম্যাপে নাভারণ থেকে সাতক্ষীরা হয়ে শ্যামনগরের মুন্সীগঞ্জ গ্যারেজ পর্যন্ত ৯৮ দশমিক ৪২ কিলোমিটার এলাকায় মোট আটটি স্টেশনের কথা বলা হয়। স্টেশনগুলোর সম্ভাব্য স্থান নির্ধারণ করা হয় নাভারণ, বাগআচড়া, কলারোয়া, সাতক্ষীরা, পারুলিয়া, কালিগঞ্জ, শ্যামনগর ও মুন্সীগঞ্জে। এছাড়া ম্যাপে বাঁকাল, লাবণ্যবতী, সাপমারা খাল ও কাকশিয়ালী নদীর ওপর রেল সেতু নির্মাণের স্থান নির্ধারণ করা হয়। প্রস্তাবনা অনুযায়ী, নাভারন থেকে বাগআচড়া স্টেশনের দূরত্ব ১২ দশমিক ৪ কিলোমিটার, বাগআচড়া থেকে কলারোয়া ১২ দশমিক ৬৮, কলারোয়া থেকে সাতক্ষীরা ১৪ দশমিক ২৩, সাতক্ষীরা থেকে পারুলিয়া ১৫ দশমিক ১১, পারুলিয়া থেকে কালিগঞ্জ ১৮ দশমিক ৩৭, কালিগঞ্জ থেকে শ্যামনগর ১৩ দশমিক ৮২ ও শ্যামনগর থেকে মুন্সীগঞ্জ স্টেশনের দূরত্ব হবে ১১ দশমিক ৮১ কিলোমিটার। প্রকল্পটি মুন্সিগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডের পরিবর্তে আরও ১০ কি.মি. বাদ দিয়ে শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জ গ্যারেজ বাজার পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয় এবং সেটিরই পিডিপিপি প্রণয়ন করা হয়।
এর আগে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে ‘কন্সট্রাকশন অব নিউ বিজি ট্র্যাক ফর্ম নাভারন টু সাতক্ষীরা’ প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ৩২৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা চীনের কাছে থেকে ঋণ সহায়তা চাওয়া হয়। প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ১ হাজার ৬৬২ কোটি ২৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৩৩২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। পাকিস্তান শাসন আমলে ১৯৫৮ সালে সাতক্ষীরা—ভেটখালী সড়ক নির্মাণের সময়ও রেললাইনের জায়গা ধরে জমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা করা হয়। তখনও রেলের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়। কিন্তু সে প্রক্রিয়া বেশিদুর যায়নি।
এই পরিস্থিতির অবসানে জরুরিভাবে নাভারন—সাতক্ষীরা—মুন্সিগঞ্জ রেল লাইন নির্মাণ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সরকারের আশু হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। আর সেজন্য প্রয়োজন সাতক্ষীরার রাজনীতিবীদ, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, নাগরিক সমাজসহ সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ। প্রতিশ্রুতি, নির্দেশনা আর সরকারি পদক্ষেপে ফাইলবন্ধি সাতক্ষীরা বাসির স্বপ্নের রেল পথ। বাজেট আসে আর যায় কিন্তু রেল আসেনা। ১১১ বছর পূর্ব থেকে সাতক্ষীরার মানুষ রেলের স্বপ্ন দেখছে। কৃষি উৎপাদন, মৎস্য চাষ, সুন্দরবন ও পর্যটন, ভারতের সাথে ব্যবসা-বানিজ্যের ক্ষেত্রে সাতক্ষীরার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এখানকার মোট কৃষি জমির এক-তৃতীয়াংশের বেশি জমিতে বাণিজ্যিক চিংড়ি চাষ করা হয়। জেলায় মাছের চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত প্রায় ৯০ হাজার মেট্রিক টন মাছের এর একাংশ বিদেশে রপ্তানি এবং অবশিষ্ট মাছ দেশের অন্যান্য এলাকায় সরবরাহ করা হয়। আম, কুল, ধানসহ শাক সবজির ক্ষেত্রেও সাতক্ষীরা জেলা উদ্বৃত্ত খাদ্য শস্য উৎপাদন করে। এই উদ্বৃত্ত খাদ্য শস্য দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবহন করা হয়। যার একটা বড় অংশ দেশের বিভিন্নস্থান ছাড়াও দেশের বাইরে রপ্তানী হয়। সড়ক পথে সুন্দরবন ভ্রমনের একমাত্র সুযোগ রয়েছে সাতক্ষীরা জেলায়। ঢাকা বা দেশের অন্যান্য স্থান থেকে যে কোন যানবাহনে সাতক্ষীরা শহরের উপর দিয়ে শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জ পৌছালেই চুনকড়ি নদীর ওপারে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন। পর্যটনে কক্সবাজারের পরেই সুন্দরবন হতে পারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্পট। বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার ২৭২কি.মি. সীমান্ত রয়েছে সাতক্ষীরা জেলায়। এখানকার ভোমরা স্থল বন্দর থেকে মাত্র ৮০কি.মি. দূরত্বে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোলকাতা শহর অবস্থিত। কোলকাতা সমুদ্র বন্দরের সবচেয়ে নিকটে রয়েছে অধুনালুপ্ত সাতক্ষীরার বসন্তপুর নৌবন্দর। এটিই বাংলাদেশÑভারতের মধ্যকার ব্যবসা-বানিজ্যের সেতুবন্ধনকারী একমাত্র নৌবন্দর। এবছর সাতক্ষীরায় উৎপাদিত আম কুরিয়ারে ঢাকায় পাঠাতে কেজি প্রতি খরচ হয়েছে ১২ থেকে ১৫ টাকা। প্যাকিংসহ অন্যান্য খরচ যোগ করলে প্রতি কেজির খরচ ২০ টাকার কম নয়। একই আম চাপাইনবাবগঞ্জ থেকে রেলওয়ের মাধ্যমে ঢাকায় পাঠাতে প্রতি কেজির খরচ হয়েছে ১টাকা ৩১ পয়সা। রেলে ঝুক্কি-ঝাকি কম হওয়ায় প্যাকিংসহ অন্যান্য খরচ কম। ফলে রেলে আম পরিবহনে প্যাকিংসহ খরচ গড়ে ৫টাকার বেশি নয়। সাতক্ষীরা এবং চাপাইনবাবগঞ্জের এই আম পরিবহনের খরচের পার্থক্য গড়ে প্রায় ১৫ টাকা। সেক্ষেত্রে সাতক্ষীরার আম তুলনামূলক সুস্বাদু হওয়া সত্বেও পরিবহন ব্যয়ের এই পার্থক্যের কারনে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে পিছিয়ে পড়ছে।
অনুমোদন পাওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিনেও বাস্তবায়ন না হওয়া নাভারণ থেকে মুন্সিগঞ্জ পর্যন্ত ব্রডগেজ রেলপথের দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন করেছে সাতক্ষীরার সর্বস্তরের জনসাধারণ। গত মঙ্গলবার (৩ জুন) বেলা ১১টায় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করে সাতক্ষীরা জেলার সর্বস্তরের জনগণ। পরে একই দাবিতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
আশির দশকের মধ্যভাগ পর্যন্ত সাতক্ষীরার যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিশেষ করে পন্য পরিবহনের সিংহভাগ ছিল নদী কেন্দ্রীক। তখন সড়ক পথে খুলনায় যেতে হতো যশোর হয়ে এবং সাতক্ষীরা থেকে ঢাকায় যেতে সময় লাগতো ১৫/২০ ঘন্টা। নৌপথ বন্ধ হওয়ার পর সারাদেশের সাথে সাতক্ষীরার যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এখন সড়ক পথ। সারাদেশে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুগন্তরকারী উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। কিন্তু তুলনামূলকভাবে সাতক্ষীরায় সড়ক উন্নয়ন হয়েছে কম। এর অন্যতম প্রধান কারন মনে করা হয় সাতক্ষীরা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্বশেষ জেলা। বাংলাদেশে প্রথম রেলওয়ের সূচনা হয় ১৮৬২ সালের ১৫ নভেম্বর দর্শনা-জগতি রেললাইন নির্মাণের মাধ্যমে। ১৮৮২-৮৪ সালের মধ্যে সেন্ট্রাল রেলওয়ে নামে পরিচিত বনগাঁ-যশোর-খুলনা ব্রডগেজ রেললাইন নির্মাণ করা হয়। এসময় নাভারনে রেলওয়ে স্টেশন নির্মাণ করা হয়। ১৯১৪ সালে ভাইসরয় অব বৃটিশ ইন্ডিয়া কলকাতা থেকে নাভারণ হয়ে সাতক্ষীরার মধ্য দিয়ে সুন্দরবন পর্যন্ত রেল লিংক স্থাপনের নির্দেশ দেন এবং সেটি অনুমোদনও করেন। ১৯৫৮ সালে সাতক্ষীরা ভেটখালী সড়ক নির্মাণের সময়েও রেলের জায়গা রেখে জমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা নেওয়ার কথা শোনা যায়। কালেক্রমে দেশে ২ হাজার ৮৭৭ কিঃমিঃ রেল লাইন নির্মাণ করা হয়। রেল নেটওয়ার্কে দেশের ৪৪টি জেলা সংযুক্ত হয়। অগ্রগতি যেটুকু হয়েছে সেটি গত ১০ বছরে সম্ভাব্যতা যাচাই, নাভারন থেকে সাতক্ষীরা এবং সাতক্ষীরা থেকে মুন্সিগঞ্জ পর্যন্ত দুটি পৃথক প্রকল্প তৈরী, পিডিপিপি প্রণয়ন এবং অর্থের জন্য দাতা অনুসন্ধানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। সবকিছুই এখন দাতা খোঁজার প্রক্রিয়ার মধ্যেই ফাইল বন্দি।
প্রবাসী নেটওয়ার্কে যোগদিন
প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে অস্ট্রেলিয়ার ক্যানারেইল কোম্পানি লিমিটেড সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কার্যক্রম সম্পন্ন করে এবং এ সম্পর্কিত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেয়। নাভারণ-সাতক্ষীরা-মুন্সিগঞ্জ রেললাইনের সম্ভাব্যতা ম্যাপে নাভারণ থেকে সাতক্ষীরা হয়ে শ্যামনগরের মুন্সীগঞ্জ গ্যারেজ পর্যন্ত ৯৮ দশমিক ৪২ কিলোমিটার এলাকায় মোট আটটি স্টেশনের কথা বলা হয়। স্টেশনগুলোর সম্ভাব্য স্থান নির্ধারণ করা হয় নাভারণ, বাগআচড়া, কলারোয়া, সাতক্ষীরা, পারুলিয়া, কালিগঞ্জ, শ্যামনগর ও মুন্সীগঞ্জে। এছাড়া ম্যাপে বাঁকাল, লাবণ্যবতী, সাপমারা খাল ও কাকশিয়ালী নদীর ওপর রেল সেতু নির্মাণের স্থান নির্ধারণ করা হয়। প্রস্তাবনা অনুযায়ী, নাভারন থেকে বাগআচড়া স্টেশনের দূরত্ব ১২ দশমিক ৪ কিলোমিটার, বাগআচড়া থেকে কলারোয়া ১২ দশমিক ৬৮, কলারোয়া থেকে সাতক্ষীরা ১৪ দশমিক ২৩, সাতক্ষীরা থেকে পারুলিয়া ১৫ দশমিক ১১, পারুলিয়া থেকে কালিগঞ্জ ১৮ দশমিক ৩৭, কালিগঞ্জ থেকে শ্যামনগর ১৩ দশমিক ৮২ ও শ্যামনগর থেকে মুন্সীগঞ্জ স্টেশনের দূরত্ব হবে ১১ দশমিক ৮১ কিলোমিটার। প্রকল্পটি মুন্সিগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডের পরিবর্তে আরও ১০ কি.মি. বাদ দিয়ে শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জ গ্যারেজ বাজার পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয় এবং সেটিরই পিডিপিপি প্রণয়ন করা হয়।
এর আগে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে ‘কন্সট্রাকশন অব নিউ বিজি ট্র্যাক ফর্ম নাভারন টু সাতক্ষীরা’ প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ৩২৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা চীনের কাছে থেকে ঋণ সহায়তা চাওয়া হয়। প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ১ হাজার ৬৬২ কোটি ২৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৩৩২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। পাকিস্তান শাসন আমলে ১৯৫৮ সালে সাতক্ষীরা-ভেটখালী সড়ক নির্মাণের সময়ও রেললাইনের জায়গা ধরে জমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা করা হয়। তখনও রেলের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়। কিন্তু সে প্রক্রিয়া বেশিদুর যায়নি।
এই পরিস্থিতির অবসানে জরুরিভাবে নাভারন-সাতক্ষীরা-মুন্সিগঞ্জ রেল লাইন নির্মাণ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সরকারের আশু হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। আর সেজন্য প্রয়োজন সাতক্ষীরার রাজনীতিবীদ, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, নাগরিক সমাজসহ সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ।
এবিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ জানান, সাতক্ষীরা বাসির স্বপ্নের রেল পথ বাস্তবায়নের জন্য বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পেলে কাজ শুরু হবে।দেশের মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক রেলসেবা পৌঁছে দিতে বড় পরিসরে রেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দীর্ঘদিন ধরে রেলসেবাবঞ্চিত ১০টি জেলাকে জাতীয় রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এটি বাস্তবায়িত হলে বর্তমানে রেল যোগাযোগ থাকা ৪৯ জেলার সঙ্গে নতুন আরও ১০টি জেলা যুক্ত হবে। এতে দেশের ৫৯টি জেলা সরাসরি রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আসবে এবং পর্যায়ক্রমে ৬৪ জেলাকে রেল যোগাযোগের আওতায় আনার সরকারি লক্ষ্য পূরণের পথে বড় অগ্রগতি হবে।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিকভাবে মেহেরপুর, শেরপুর, মাগুরা, সাতক্ষীরা, বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পিরোজপুর ও লক্ষ্মীপুরকে নতুন রেল সংযোগের জন্য বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। স্বাধীনতার পাঁচ দশকের বেশি সময় পরও এসব জেলায় সরাসরি রেল যোগাযোগ গড়ে ওঠেনি। নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম, দক্ষিণাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকার কোটি মানুষের যাতায়াত সহজ হবে, পাশাপাশি কৃষি, শিল্প, পর্যটন, মৎস্য, আমদানি-রপ্তানি ও আঞ্চলিক বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জাতীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে বলেন, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দেশের রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণ, চলমান প্রকল্প এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সেখানে তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য দেশের সব ৬৪টি জেলাকে পর্যায়ক্রমে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনা।
রেলমন্ত্রী বলেন, নতুন প্রকল্পগুলোতে শুধু রেললাইন নির্মাণ নয়, একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় লোকোমোটিভ, যাত্রীবাহী কোচ, মালবাহী ওয়াগন, আধুনিক সিগন্যালিং ব্যবস্থা এবং জনবল নিয়োগের ব্যবস্থাও রাখা হবে। ফলে অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হওয়ার পরপরই ট্রেন চালু করা সম্ভব হবে।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের মোট নেটওয়ার্কের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ হাজার ৩৬০ কিলোমিটার, যার মধ্যে ব্রডগেজ, মিটারগেজ ও ডুয়েলগেজ রেললাইন রয়েছে। দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৪৯টিতে রেল যোগাযোগ থাকলেও ১৫টি জেলা এখনো রেলসেবার বাইরে রয়েছে। নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে রেলবঞ্চিত জেলার সংখ্যা কমে পাঁচটিতে নেমে আসবে। সরকারের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য দেশের প্রতিটি জেলাকে জাতীয় রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করা।
যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়কপথের তুলনায় রেলপথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের খরচ কম, জ্বালানি সাশ্রয় বেশি এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তুলনামূলক কম। একই সঙ্গে কম কার্বন নিঃসরণের কারণে রেল পরিবহন পরিবেশবান্ধব। তাই জাতীয় অর্থনীতি, আঞ্চলিক সংযোগ এবং টেকসই পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তুলতে রেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ সময়োপযোগী উদ্যোগ বলে মনে করেন তারা।
বিশেষ করে বরিশাল বিভাগ দীর্ঘদিন ধরে রেল যোগাযোগের বাইরে রয়েছে। বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি ও পিরোজপুরে রেল সংযোগ স্থাপিত হলে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগে নতুন গতি আসবে। একইভাবে মেহেরপুর, মাগুরা ও সাতক্ষীরায় রেললাইন নির্মিত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি ও শিল্প তথা অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। লক্ষ্মীপুর ও শেরপুরেও রেল সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে আঞ্চলিক যোগাযোগের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিদিন ৪শ’র বেশি যাত্রী ও মালবাহী ট্রেন চলাচল করে। বছরে প্রায় ৯ থেকে ১০ কোটি যাত্রী রেলপথে ভ্রমণ করেন এবং ৮০ থেকে ৯০ লাখ টন পণ্য পরিবহন করা হয়। নতুন রেললাইন নির্মাণের ফলে এই সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, রেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিদ্যমান অবকাঠামো আধুনিকায়নের কাজও এগিয়ে নিচ্ছে সরকার। আখাউড়া-সিলেট ও সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথ প্রকল্প, ধীরাশ্রমে ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো (আইসিডি), টঙ্গী-আখাউড়া ও লাকসাম-সিলেট রুটে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণ এবং ঢাকা-কুমিল্লা কর্ড লাইন নির্মাণের মতো প্রকল্পগুলোও এই পরিকল্পনার অংশ। ঢাকা-কুমিল্লা কর্ড লাইন বাস্তবায়িত হলে দুই শহরের মধ্যে রেলপথের দূরত্ব প্রায় ৮০ থেকে ৮২ কিলোমিটার কমে আসবে।
এ ছাড়া রাজধানীকেন্দ্রিক কমিউটার ট্রেন সেবা সম্প্রসারণেরও পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা-মানিকগঞ্জ রেল সংযোগ স্থাপনের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে, যা বাস্তবায়িত হলে কর্মজীবী মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতে নতুন সুবিধা তৈরি হবে।
পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, রেল নেটওয়ার্কের এই সম্প্রসারণ বাস্তবায়িত হলে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আঞ্চলিক বৈষম্য ও পরিবহন খরচ কমবে এবং কৃষি, শিল্প, পর্যটন ও বাণিজ্য খাত নতুন গতি পাবে। একই সঙ্গে জাতীয় অর্থনীতিতে রেলপথের অবদানও আরও বাড়বে।
এ বিষয়ে রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, ‘সরকার শুধু নতুন রেললাইন নির্মাণে নয়, সেই রেলপথে কার্যকর ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। অতীতে অনেক ক্ষেত্রে রেললাইন নির্মিত হলেও পর্যাপ্ত লোকোমোটিভ ও কোচের অভাবে যাত্রীদের প্রত্যাশিত সেবা দেওয়া সম্ভব হয়নি। এবার নতুন রেলপথ নির্মাণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় লোকোমোটিভ ও ক্যারেজ সংগ্রহের সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার।’
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্য শুধু নতুন জেলা যুক্ত করা নয়; বরং এমন একটি আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য রেলব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে রেললাইন চালুর সঙ্গে সঙ্গেই প্রয়োজনীয় ট্রেন, কোচ ও লোকোমোটিভও পরিচালনায় থাকবে। এতে যাত্রীসেবার মান বাড়বে এবং রেলভ্রমণ আরও আরামদায়ক ও সময়োপযোগী হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের জেলার মধ্যে কমিউটার ট্রেন সেবা সম্প্রসারণ, গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোর আধুনিকায়ন, রেল লেভেল ক্রসিং উন্নয়ন, নতুন আন্ডারপাস ও ওভারপাস নির্মাণ এবং দীর্ঘমেয়াদে রেল নেটওয়ার্ককে ব্রডগেজে রূপান্তরের পরিকল্পনা নিয়ে সরকার কাজ করছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের রেল যোগাযোগে একটি নতুন যুগের সূচনা হবে।’